তুরস্ক এবং সঊদী আরব যৌথ উদ্যোগে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ তৈরির মাধ্যমে নিজেদের বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হ’ল যুদ্ধবিমান সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর নির্ভরতা কমানো এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইস্রাঈলের বিমানবাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করা।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের প্রাথমিক চুক্তি থাকলেও, ইস্রাঈলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার স্বার্থে আরোপিত বিভিন্ন মার্কিন বিধিনিষেধের কারণে রিয়াদ বিকল্প প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত অবস্থানের পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আস্থার সংকট তৈরি করেছে। ফলে তারা এখন তুরস্ক, পাকিস্তান, চীন বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বিকল্প দেশ থেকে কম শর্তে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র সংগ্রহে আগ্রহী হয়ে উঠছে। তবে তুরস্কের এই নির্মাণ কাজে সঊদী আরবের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং এই বিমান ক্রয়ে দেশটির আগ্রহের খবরে ওয়াশিংটনে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের এই যুদ্ধবিমান প্রকল্পে রিয়াদের অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ সঊদী আরবের নিজস্ব সামরিক শিল্পকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তুরস্কের উন্নত প্রযুক্তির বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে। এর মাধ্যমে আগামী দিনে সঊদী আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সম্ভবত মিসরকে নিয়ে একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।