১. ইসলামী জাগরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৬ : ইজতেমার আগের দিন ১লা এপ্রিল বুধবার বাদ আছর থেকে রাত সাড়ে ১১-টা পর্যন্ত মারকাযের পূর্ব পার্শ্বস্থ প্যান্ডেলে ‘ইসলামী জাগরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। আল-হেরা শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় পরিচালক ও ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাক্বীবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় যুববিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশীদ আখতার, দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম প্রমুখ। অতিথিগণ স্ব স্ব ভাষণে উদ্যোক্তাদের স্বাগত জানান এবং জাগরণীর মাধ্যমে তাওহীদী সমাজ গড়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে কুরআন তেলাওয়াত করে আব্দুল্লাহ আল-ফাহীম (কুষ্টিয়া) ও অলিউল্লাহ (রাজশাহী)। জাগরণী পেশ করে মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান (জয়পুরহাট), রাক্বীবুল ইসলাম (মেহেরপুর), তানভীরুয্যামান (মেহেরপুর), রোকনুয্যামান (সাতক্ষীরা), আব্দুল মুন‘ঈম (রাজশাহী), কেরামত আলী (পাবনা), রাতুল ইসলাম (রাজশাহী), ওবায়দুল্লাহ (গাইবান্ধা), মীর বখতিয়ার (যশোর), এনামুল হক (নওগাঁ), আব্দুর রহমান, ফরীদুল ইসলাম (গাইবান্ধা), আব্দুল্লাহ আল-ফাহাদ (কুমিল্লা) ও শামীম রেযা (চাঁপাই নবাবগঞ্জ)।
২. আহলেহাদীছ উদ্যোক্তা মিট-আপ : ইজতেমার ১ম দিন বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফীর শিক্ষক মিলনায়তনে ‘আহলেহাদীছ পেশাজীবী ফোরাম’-এর উদ্যোগে আহলেহাদীছ উদ্যোক্তা মিট-আপ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব।
‘পেশাজীবী ফোরাম’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. শওকত হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ডা. মুহাম্মাদ ছাবিত, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মুহিবুল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ তারেক ও ‘যুবসংঘে’র সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আসাদুল্লাহ মিলন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন আল-হেরা শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক কেন্দ্রীয় পরিচালক ও ‘যুবসংঘে’র সাবেক কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ আজমাল।
৩. প্রবাসীদের সাথে মতবিনিময় : ইজতেমার ২য় দিন শুক্রবার সকাল ৭-টায় আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফীর শিক্ষক মিলনায়তনে ‘আন্দোলন’-এর প্রবাসী সংগঠন সমূহের দায়িত্বশীল, কর্মী ও সুধীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের পক্ষে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম। ‘আন্দোলন’ সঊদী আরব শাখার সহ-সভাপতি হাফেয মুহাম্মাদ আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন, সিঙ্গাপুর প্রবাসী আব্দুল মুকীত (কুষ্টিয়া), সঊদী আরব প্রবাসী আতাউল হক (ময়মনসিংহ), কাতার প্রবাসী আব্দুল হক (ঝিনাইদহ) প্রমুখ। অবশেষে অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য পেশ করেন ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব ও ‘আন্দোলন’ সঊদী আরব শাখার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল হাই। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম।
৪. শিক্ষক সমাবেশ : ইজতেমার ২য় দিন শুক্রবার সকাল ৮-টায় মারকাযের পূর্ব পার্শ্বস্থ প্যান্ডেলে ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন শিক্ষাবোর্ড’-এর উদ্যোগে শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ‘শিক্ষাবোর্ড’-এর চেয়ারম্যান ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মাওলানা ছফিউল্লাহ ও ঢাকা ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ‘ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেল’-এর এডিশনাল ডিরেকটর জুনায়েদ মুনীর।
অতঃপর ‘জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় হাদীছ ফাউন্ডেশন শিক্ষা বোর্ড প্রণীত বইয়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দেশব্যাপী অত্র শিক্ষাবোর্ড অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণের অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতার জন্য ৩ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। এতে ১ম স্থান অধিকার করেন রংপুর-দিনাজপুর জোনের কো-অর্ডিনেটর মাওলানা আবু তাহের, ২য় স্থান অধিকার করেন চট্টগ্রাম-কুমিল্লা জোনের কো-অর্ডিনেটর মাওলানা জামীলুর রহমান ও ৩য় স্থান অধিকার করেন জামালপুর-ময়মনসিংহ জোনের কো-অর্ডিনেটর জাহাঙ্গীর আলম। অতঃপর উৎসাহ পুরস্কার প্রদান করা হয় ঢাকা জোনের কো-অর্ডিনেটর হাফেয খায়রুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জোনের ড. মুহাম্মাদ মুহসিন, বরিশাল জোনের কায়েদ মাহমূদ ইমরান, বগুড়া জোনের আব্দুর রঊফ ও সিলেট জোনের তোফায়েল আহমাদকে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ পেশ করেন ‘শিক্ষাবোর্ডে’র সচিব জনাব শামসুল আলম এবং সঞ্চালক ছিলেন ‘শিক্ষাবোর্ড’-এর সাবেক সহকারী পরিদর্শক মুহাম্মাদ ফেরদাঊদ।
৫. যুব সমাবেশ : ইজতেমার ২য় দিন শুক্রবার সকাল ৯-টায় মারকাযের পূর্ব পার্শ্বস্থ প্যান্ডেলে ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যুব সমাবেশ প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফায়ছাল মাহমূদ। অতঃপর বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ড. আহমাদ আবদুল্লাহ ছাকিব, যুববিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশীদ আখতার, শূরা সদস্য অধ্যাপক জালালুদ্দীন, ‘যুবসংঘে’র সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ড. নূরুল ইসলাম, ‘যুবসংঘে’র বর্তমান কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমাদুল্লাহ, অর্থ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আল-গালিব, প্রচার সম্পাদক আব্দুন নূর, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুর রঊফ ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হাফেয আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ প্রমুখ।
যেলা সভাপতি ও দায়িত্বশীলদের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন (১) রংপুর-পশ্চিম যেলা সভাপতি মতীউর রহমান (২) দিনাজপুর-পশ্চিম যেলা সভাপতি মীযানুর রহমান (৩) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মামূন (৪) বাগেরহাট যেলা সভাপতি ওবায়দুর রহমান (৫) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আকরাম হোসাইন (৬) ঢাকা কলেজের সভাপতি মুকাররম হোসাইন (৭) বরিশাল যেলা সভাপতি মা‘ছূম বিল্লাহ (৮) চাঁদপুর যেলা সভাপতি অলিউল্লাহ (৯) কুষ্টিয়া-পশ্চিম যেলা সভাপতি মুহাম্মাদ আজবাহার ও (১০) কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য আব্দুল্লাহ আল-মুছাদ্দিক। সমাবেশে ‘যুবসংঘে’র বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হাফেয আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ।
৬. আহলেহাদীছ পেশাজীবী ফোরাম : ইজতেমার ২য় দিন শুক্রবার বেলা ৩-টায় মারকাযের পূর্ব পার্শ্বস্থ প্যান্ডেলে ‘আহলেহাদীছ পেশাজীবী ফোরাম’-এর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। ‘পেশাজীবী ফোরাম’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. শওকত হাসান (রাজশাহী)-এর সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ডা. মুহাম্মাদ ছাবিত (কুষ্টিয়া)-এর সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দু’টি অধিবেশনে বিভক্ত সমাবেশের ১ম অধিবেশনে বক্তব্য পেশ করেন বিভিন্ন যেলার দায়িত্বশীলগণ। অতঃপর ২য় অধিবেশনে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলগণের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ‘পেশাজীবী ফোরাম’-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. যুবায়ের ইসলাম (চাঁপাই নবাবগঞ্জ), সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার তারেক আহমাদ (নাটোর), শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হোসাইন মাহমূদ (সাতক্ষীরা), সমাজকল্যাণ সম্পাদক ডা. নাজমুছ ছাকিব (সাতক্ষীরা), পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল ওয়াহহাব (জয়পুরহাট) প্রমুখ। অতঃপর বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য পেশ করেন ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব। অনুষ্ঠানে বিগত বছরের কার্যক্রমের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা, ফেনী, রাজশাহী-সদর, জয়পুরহাট, ঢাকা-দক্ষিণ ও রাজশাহী-পূর্ব এই ৬টি সাংগঠনিক যেলাকে পুরস্কৃত করা হয়।
৭. আল-‘আওন-এর ডোনার সমাবেশ : একইদিন শুক্রবার বাদ মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত মারকাযের পূর্ব পার্শ্বস্থ প্যান্ডেলে আল-‘আওনে’র কেন্দ্রীয় উদ্যোগে স্বে^চ্ছাসেবী ও ডোনার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আল-‘আওন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. আব্দুল মতীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক জালালুদ্দীন, ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আব্দুন নূর, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাক্বীবুল ইসলাম, আহলেহাদীছ পেশাজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. শওকত হাসান, হাদীছ ফাউন্ডেশন শিক্ষাবোর্ড-এর সচিব শামসুল আলম। সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য পেশ করেন আল-‘আওন-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাফেয আহমাদ আব্দুললাহ শাকির। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন আল-‘আওন-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ আবুদাঊদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ যেলা আল-‘আওনের সভাপতি ডা. জাহিদুল ইসলাম, বরিশাল যেলা সভাপতি মুহাম্মাদ মা‘ছূম বিল্লাহ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন আল-‘আওন-এর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মাদ হাফীযুর রহমান। অনুষ্ঠানে ২০২৫ বর্ষে ৪২টি কার্যকর যেলার মধ্যে রক্তদানসহ অন্যান্য সাংগঠনিক কার্যক্রম বিবেচনায় ‘নারায়ণগঞ্জ’ যেলা কর্মপরিষদকে ‘শ্রেষ্ঠ কর্মপরিষদ’ হিসাবে মনোনীত করা হয়। এছাড়া ফযলুল হক (সভাপতি, নীলফামারী)-কে ‘শ্রেষ্ঠ দায়িত্বশীল’ হিসাবে মনোনীত করা হয়।
৮. ইজতেমার পরিচালকবৃন্দ : দু’দিন ব্যাপী তাবলীগী ইজতেমার বিভিন্ন অধিবেশনে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন (১) ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক (২) সাংগঠনিক সম্পাদক (৩) প্রচার সম্পাদক (৪) প্রশিক্ষণ সম্পাদক (৫) সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং (৬) যুববিষয়ক সম্পাদক।
৯. সঞ্চালকবৃন্দ : এবারের ইজতেমায় পর্যায়ক্রমে সঞ্চালক ছিলেন (১) ড. নূরুল ইসলাম (মারকায) (২) আব্দুর রশীদ আখতার (কুষ্টিয়া) (৩) কাযী হারূণুর রশীদ (ঢাকা) (৪) আব্দুল ওয়াদূদ (ঢাকা) (৫) জামীলুর রহমান (কুমিল্লা) (৬) আব্দুল মান্নান (রাজশাহী) (৭) ক্বামারুয্যামান বিন আব্দুল বারী (জামালপুর) (৮) অধ্যাপক জালালুদ্দীন (নরসিংদী) (৯) মুহাম্মাদ রবীউল ইসলাম (মারকায) ও (১০) নাজমুন নাঈম (মারকায)।
১০. প্যান্ডেলের মুওয়াযযিনবৃন্দ : (১) খালিদ (সাতক্ষীরা) বৃহস্পতিবার (ফজর); (২) হাফেয হুযায়ফা (ছাত্র, মারকায) যোহর; (৩) আহনাফ মুবাশশির (ছাত্র, মারকায) আছর; (৪) রোকনুয্যামান (মেহেরপুর) মাগরিব; (৫) শাহীনুর রহমান (শিবগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ) এশা (৬) হাফেয ওবায়দুল্লাহ (শিক্ষক, মারকায) ২য় দিন ফজর; (৭) আব্দুল বারী (মুওয়াযযিন, মারকায) জুম‘আ; (৮) আরযুল ইসলাম (ছাত্র, মারকায) আছর; (৯) রাক্বীবুল ইসলাম (মেহেরপুর) মাগরিব; (১০) হাফেয আব্দুল আলীম (দিনাজপুর) এশা (১১) হাফেয ওবায়দুল্লাহ (শিক্ষক, মারকায) শেষ দিন শনিবার ফজর।
১১. প্যান্ডেলের ইমামগণ : (১) হাফেয মুহাম্মাদ যাকারিয়া (শিক্ষক, মারকায) বৃহস্পতিবার ফজর; (২) ক্বারী আবু সীনা (শিক্ষক, মারকায) যোহর; (৩) হাফেয মশীউর রহমান (শিক্ষক, মারকায) আছর; (৪) ক্বারী আব্দুল আঊয়াল (শিক্ষক, মক্তব বিভাগ, মারকায) মাগরিব; (৫) হাফেয মুহাম্মাদ আখতার, এশা ও ২য় দিন ফজর এবং জুম‘আ (৮) ক্বারী আব্দুর রহীম (শিক্ষক, মক্তব বিভাগ, মারকায) আছর; (৯) হাফেয আব্দুল্লাহ আল-আল-মা‘রূফ (শিক্ষক, মারকায) মাগরিব; (১০) হাফেয আহমাদ আব্দুললাহ শাকির (সহ-পরিচালক, হিফয-মক্তব বিভাগ, মারকায) এশা; (১১) হাফেয ওবায়দুল্লাহ (শিক্ষক, হিফয বিভাগ, মারকায); শেষ দিন ফজর।
১২. অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত : (১) হাফেয ছাকিবুল হাসান (ছাত্র, মারকায বৃহস্পতিবার বাদ ফজর); (২) হাফেয ওবায়দুল্লাহ (শিক্ষক, হিফয বিভাগ, মারকায; বাদ আছর) (৩) হাফেয আব্দুল্লাহ আল-ফাহীম (ছাত্র, মারকায; বাদ মাগরিব) (৪) ক্বারী আব্দুল আউয়াল (শিক্ষক, মারকায; বাদ এশা) (৫) হাফেয আহনাফ মুবাশশির (শুক্রবার বাদ আছর); (৬) হাফেয নাজমুছ ছাকিব (গোপালগঞ্জ; বাদ মাগরিব) (৭) হাফেয আব্দুল আলীম (দিনাজপুর; বাদ এশা)।
১৩. জাগরণী : আল-হেরা শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য (১) মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান (জয়পুরহাট) (২) রাক্বীবুল ইসলাম (মেহেরপুর) (৩) তানভীরুয্যামান, (ঐ) (৪) রোকনুয্যামান, (সাতক্ষীরা) (৫) আব্দুল্লাহ আল-মামূন (ঐ) (৬) কেরামত আলী (পাবনা) (৭) আব্দুল্লাহ আল-ফাহাদ (কুমিল্লা) (৮) ওবায়দুল্লাহ (গাইবান্ধা) (৯) মীর বখতিয়ার (যশোর) (১০) এনামুল হক (নওগাঁ) (১১) আবূবকর (রাজশাহী) ও (১২) তাওহীদ (সাতক্ষীরা)। (১৩) হাফেয আহমাদ আব্দুললাহ শাকির (মারকায)।
১৪. প্যান্ডেল : (১) মূল প্যান্ডেল ছিল নওদাপাড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের দক্ষিণ-পশ্চিম পার্শ্বস্থ ময়দান। যার আয়তন ছিল ৩০০´৪৬৫ ফুট। (২) তার পশ্চিম-উত্তর পার্শ্বে ছিল বৃহদায়তন খাদ্য প্যান্ডেল ও পৃথক খাদ্য ব্যবস্থাপনা প্যান্ডেল। যেখানে স্বল্প মূল্যে সকালের নাশতা এবং দুপুর ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা ছিল। (৩) তাছাড়া উত্তর-পূর্ব পার্শ্বস্থ ভবনে ছিল স্বেচ্ছাসেবকদের থাকার ব্যবস্থা। (৪) মহিলা প্যান্ডেল : আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফীর (বালিকা শাখা) ময়দানে ইজতেমার মহিলা প্যান্ডেল করা হয়। যার আয়তন ছিল ১২০´২০০ ফুট। সেখানে ‘আহলেহাদীছ মহিলা সংস্থা’র উদ্যোগে পৃথকভাবে মহিলাদের প্রোগ্রাম হয়। (৫) এছাড়াও ছিল মারকাযের পূর্ব পার্শ্বস্থ একাডেমিক ভবন ময়দানে বিশেষ প্যান্ডেল। যেখানে ইজতেমার বিভিন্ন প্রোগাম বাস্তবায়িত হয়। প্রতিটি প্যান্ডেল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।
১৫. বুক স্টল : ইজতেমার মূল প্যান্ডেলের উত্তর পার্শ্বে ৩২টি ও মারকাযের পূর্ব পার্শ্বস্থ গেট সংলগ্ন ১টি বুক স্টল ছিল।
১৬. আল-‘আওন : মূল প্যান্ডেলের দক্ষিণ পার্শ্বে বুক স্টল সংলগ্ন বিশেষ স্টলে আল-‘আওন রাজশাহী-সদর সাংগঠনিক যেলার উদ্যোগে ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পিংয়ে ১৪৭ জনের ব্লাড গ্রুপিং করা হয় এবং ৫২ জন ডোনার তালিকাভুক্ত হন। উক্ত ক্যাম্পিংয়ে কেন্দ্র সহ বিভিন্ন যেলার দায়িত্বশীলগণ অংশগ্রহণ করেন।
১৭. যরূরী চিকিৎসা কেন্দ্র : মূল প্যান্ডেলের উত্তর পার্শ্বে যরূরী চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। ‘আহলেহাদীছ পেশাজীবী ফোরামে’র চিকিৎসকগণ সেখানে ফ্রী চিকিৎসা প্রদান করেন। পাশাপাশি পৃথক বুথে হোমিও চিকিৎসকদের মাধ্যমেও চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ইজতেমা কমিটির পক্ষ থেকে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র সরবরাহ করা হয়।
১৮. দেওয়াল পত্রিকা : তাবলীগী ইজতেমা’২৬ উপলক্ষ্যে ‘সোনামণি’ মারকায শাখার পক্ষ থেকে ‘সোনামণি প্রতিভা’ নামে দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
১৯. ফৎওয়া বুথ : গতবারের ন্যায় এবারও ফৎওয়া বুথের ব্যবস্থা করা হয়। ইজতেমার মূল প্যান্ডেলের উত্তর পার্শ্বে স্থাপিত ফৎওয়া বুথে বিভিন্ন যেলা থেকে আগত কর্মী ও সুধীবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ‘দারুল ইফতা’র সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম ও ‘যুবসংঘে’র সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ড. মুখতারুল ইসলাম। ইজতেমার ১ম দিন বাদ আছর থেকে রাত ১২-টা পর্যন্ত এবং ২য় দিন বাদ আছর থেকে রাত ১২-টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
২০. নিরাপত্তা : ইজতেমা ময়দানের ১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। সেই সাথে ৩টি গেইটে ছিল ১০টি মেটাল ডিটেকটর। সংগঠনের ৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবক দু’দিন আগে থেকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ছিল পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যগণের নিয়মিত তদারকি।
২১. যানবাহন : অন্যান্য বারের ন্যায় এবারও বিভিন্ন যেলা থেকে মুছল্লীগণ বাস, ট্রেন, মাইক্রো, বিমান ও অন্যান্য যানবাহনে করে ইজতেমায় আগমন করেন। বিভিন্ন যেলা থেকে আগত মোট বাসের সংখ্যা ২২১টি ও মাইক্রোর সংখ্যা ২২টি। সবচেয়ে বেশী বাস আসে সাতক্ষীরা থেকে (৫৫টি) এবং বগুড়া থেকে ৪৫টি। এছাড়া সঊদী আরব, সিঙ্গাপুর, কাতার সহ বিভিন্ন দেশ থেকে সদ্য দেশে আগত অনেক প্রবাসী কর্মী ও সুধী ইজতেমায় যোগদান করেন। উল্লেখ্য এবছর তেল সংকটের কারণে অনেক যেলা থেকে বাস রিজার্ভ করা আসা সম্ভব হয়নি।
২২. সাইকেল উপহার : অন্যান্য বারের ন্যায় এবারও সাইকেল যোগে ইজতেমায় আগমন করার কথা ছিল সাতক্ষীরা যেলার তালা উপযেলার বর্তমানে মানিকহার গ্রামের আব্দুল বারীর (৬৮)। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ২৪ বার তিনি বাইসাইকেল যোগে সাতক্ষীরা থেকে প্রায় ৩০০ কি.মি. পথ পাড়ি দিয়ে রাজশাহী তাবলীগী ইজতেমায় আসেন। কিন্তু তাকে ঢাকা-উত্তর সাংগঠনিক যেলার পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয় যে, তাকে সাইকেল উপহার দেয়া হবে। তাই তিনি বাস যোগে আসেন। অতঃপর ইজতেমার ২য় দিন মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের রাতের ভাষণের পূর্বে ঢাকা-উত্তর সাংগঠনিক যেলার পক্ষ থেকে ইজতেমার স্টেজে তাকে একটি নতুন সাইকেল উপহার দেয়া হয়।
২৩. সোনামণি র্যালি : তাবলীগী ইজতেমা’২৬ উপলক্ষে ‘সোনামণি’ কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে ১লা এপ্রিল বুধবার বাদ আছর সোনামণি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।