ভূমিকা :
ইসলাম একটি শাশ্বত, সহজ ও মানবিক জীবনবিধান। মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ইবাদতের যেমন সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, তেমনি অস্বাভাবিক বা কষ্টকর মুহূর্তেও ইসলাম দিয়েছে বিশেষ ছাড় বা ‘রুখছত’। মুসাফিরের জন্য ছালাত ক্বছর (সংক্ষিপ্ত করা) এবং প্রয়োজনে জমা (একত্রিত) করা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক অনন্য উপহার। উম্মতের কষ্ট লাঘবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সফরের এই বিধানগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমল করেছেন। তবে বর্তমান যান্ত্রিক যুগে সফরের ধরন ও বাহনে পরিবর্তন আসায় ক্বছরের মাসআলা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন জাগে। কতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করলে ছালাত ক্বছর করতে হবে? কতদিন অবস্থানের নিয়ত করলে মুসাফির থাকা যায়? কিংবা বিমানে বা দ্রুতগামী বাহনে সফরের বিধান কি? আলোচ্য নিবন্ধে আমরা পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ এবং ছাহাবীগণের আমলের আলোকে ছালাত ক্বছর ও জমা করার বিধান এবং এতদসংশ্লিষ্ট মাসআলাগুলোর একটি বস্ত্তনিষ্ঠ পর্যালোচনা উপস্থাপন করব।
ছালাত ক্বছরের বিধান :
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنَّ الْكَافِرِينَ كَانُوا لَكُمْ عَدُوًّا مُبِينًا، ‘আর যখন তোমরা সফর কর, তখন ছালাতে ‘ক্বছর’ (সংক্ষেপ) করায় তোমাদের কোন দোষ নেই, যদি তোমরা আশংকা কর যে, কাফেররা তোমাদের উত্যক্ত করবে। নিশ্চয়ই কাফেররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’ (নিসা ৪/১০১)। অত্র আয়াত দ্বারা ক্বছরের ছালাতের বিধান প্রবর্তিত হয়। এতে চার রাক‘আত ফরয ছালাত দু’রাক‘আত পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ভীতির ছালাত হিসাবে অত্র বিধান নাযিল হ’লেও একই বিধান স্বাভাবিক অবস্থায় সফরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যাতে কোন সুন্নাত-নফল নেই। এছাড়া এতে জমা ও ক্বছরের বিধানও রাখা হয়, যা ছহীহ হাদীছ সমূহ দ্বারা প্রমাণিত (ইবনু কাছীর)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন,
فَدَلَّ قَوْلُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أَنَّ الْقَصْرَ فِي السَّفَرِ بِلَا خَوْفٍ صَدَقَةٌ مِنَ اللهِ، وَالصَّدَقَةُ رُخْصَةٌ لَا حَتْمٌ مِنَ اللهِ أَنْ يَقْصُرُوا، وَدَلَّ عَلَى أَنْ يَقْصُرُوا فِي السَّفَرِ بِلَا خَوْفٍ إِنْ شَاءَ الْمُسَافِرُ، وَإِنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ: كُلُّ ذَلِكَ فَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَـ ، أَتَمَّ فِي السَّفَرِ وَقَصَرَ،
‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বাণী প্রমাণ করে যে, ভীতিহীন অবস্থায় সফরে ছালাত ক্বছর করা হ’ল আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ছাদাক্বাহ (উপহার)। আর এই ছাদাক্বাহ একটি অনুমতি মাত্র। আল্লাহ তা‘আলা মুসাফিরদের ওপর ক্বছর করাকে অবধারিত (ফরয) করে দেননি। এটি আরও প্রমাণ করে যে, মুসাফির চাইলে ভীতিহীন অবস্থায় সফরে ছালাত ক্বছর করতে পারে (এটি তার ইচ্ছাধীন)। আর আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সবগুলোই করেছেন। তিনি সফরে পূর্ণ ছালাতও পড়েছেন এবং ক্বছরও করেছেন।[1]
عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ: قُلْتُ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ: (لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ، إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا) فَقَدْ أَمِنَ النَّاسُ، فَقَالَ: عَجِبْتُ مِمَّا عَجِبْتُ مِنْهُ، فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: صَدَقَةٌ تَصَدَّقَ اللهُ بِهَا عَلَيْكُمْ، فَاقْبَلُوا صَدَقَتَهُ-
(১) ইয়া‘লা বিন উমাইয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম (পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে) ‘তখন ছালাতে ক্বছর (সংক্ষেপ) করায় তোমাদের কোন দোষ নেই, যদি তোমরা আশংকা কর যে, কাফেররা তোমাদের উত্যক্ত করবে’ (নিসা ৪/১০১)। অথচ এখন তো মানুষ নিরাপদ হয়ে গেছে। ওমর (রাঃ) উত্তরে বললেন, ‘তুমি যে বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছ, আমিও সে বিষয়ে বিস্মিত হয়েছিলাম। অতঃপর আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘এটি (ক্বছর) একটি ছাদাক্বাহ, যা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে দান করেছেন। অতএব তোমরা তাঁর ছাদাক্বাহ গ্রহণ করো’।[2]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: فَرَضَ اللهُ الصَّلَاةَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْحَضَرِ أَرْبَعًا، وَفِي السَّفَرِ رَكْعَتَيْنِ، وَفِي الْخَوْفِ رَكْعَةً-
(২) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের নবীর ভাষায় ছালাত ফরয করেছেন বাড়ীতে (অবস্থানকালে) চার রাক‘আত, সফরে দুই রাক‘আত এবং ভয়ের অবস্থায় (যুদ্ধের ময়দানে) এক রাক‘আত’।[3]
ইবনু কুদামাহ (রহঃ) বলেন, সফরে ছালাত ক্বছর করা একটি রুখছত বা অবকাশ। অন্যান্য সাধারণ অনুমতির মতই মুসাফিরের জন্য এটি গ্রহণ করা বা না করার ব্যাপারে ইখতিয়ার রয়েছে’।[4]
জমহূর বা অধিকাংশ বিদ্বানের মত:
অধিকাংশ বিদ্বানের মতে, সফর অবস্থায় চার রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাত ক্বছর করা পূর্ণ আদায় করার চেয়ে উত্তম।[5]
ছালাত ক্বছরের দূরত্ব ও সময়সীমা :
ছালাত ক্বছর করা জায়েয হওয়ার জন্য কতদূরে সফর করতে হবে এমর্মে প্রধানত দু’টি অভিমত রয়েছে।
(ক) জমহূর বিদ্বানের অভিমত : জমহূর বিদ্বানগণ মনে করেন কেউ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৮০ কি.মি. দূরে সফর করলে সে ছালাত ক্বছর করতে পারবে। এটি ইবনু আববাস ও ইবনু ওমর (রাঃ)-এর মত। এ মত গ্রহণ করেছেন ইমাম মালেক, আল-লায়ছ, ইবনু সা‘দ, ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ)।[6]
عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ، وَعَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ كَانَا يُصَلِّيَانِ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ، وَيُفْطِرَانِ فِي أَرْبَعَةِ بُرُدٍ فَمَا فَوْقَ ذَلِكَ-
(১) আতা ইবনু আবি রাবাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর ও আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) চার বুরদ বা তার বেশী দূরত্বে গেলে দুই রাক‘আত করে ছালাত আদায় করতেন এবং ছিয়াম ভেঙে দিতেন।[7]
(২) ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, كَانَ ابْنُ عُمَرَ وَابْنُ عَبَّاسٍ رضى الله عنهم يَقْصُرَانِ وَيُفْطِرَانِ فِى أَرْبَعَةِ بُرُدٍ وَهْىَ سِتَّةَ عَشَرَ فَرْسَخًا، ‘ইবনু ওমর ও ইবনু আববাস (রাঃ) চার বুরদের দূরত্বে ছালাত ক্বছর করতেন এবং ছিয়াম ভেঙে দিতেন।[8] চার বুরদ অর্থ ছাহাবাদের হিসাবে প্রায় ১৬ ফারসাখ বা ৪৮ মাইল যা আনুমানিক ৮০-৮৮ কিলোমিটার। এই দূরত্ব অতিক্রমকারীকে তাঁরা মুসাফির হিসাবে গণ্য করতেন। মুসাফির হ’লে তাঁরা চার রাক‘আতের ছালাত দুই রাক‘আত আদায় করতেন।[9]
(খ) কতিপয় বিদ্বানের অভিমত :
১. ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেছেন, শরী‘আতে বা আরবী ভাষায় যে সকল শব্দের কোন সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি, সেগুলোর অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মানুষের প্রচলিত প্রথা বা সামাজিক ধারণার (উরফ) ওপর নির্ভর করতে হবে। (অর্থাৎ সামাজিকভাবে যাকে মানুষ সফর বা ভ্রমণ বলে গণ্য করে, সেটিই সফর। আর যাকে মানুষ সফর বলে গণ্য করে না, সেটি সফর নয়)। এর অর্থ হ’ল আপনি যখন কোন নির্দিষ্ট শহরে যাওয়ার নিয়ত করেন, তখন নিজেকে প্রশণ করুন, আপনি কি বলেন যে ‘আমি অমুক শহরে যাচ্ছি, নাকি বলেন যে, আমি অমুক শহরে সফরে যাচ্ছি’?[10] এজন্য দেখা যায় যে, রাসূল (ছাঃ) একেক সময় একেক দূরত্ব অতিক্রম করলে ছালাত ক্বছর করেছেন। যেমন-
عَنْ يَحْيَى بْنِ يَزِيدَ الْهُنَائِيِّ، قَالَ: سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، عَنْ قَصْرِ الصَّلَاةِ، فَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَرَجَ مَسِيرَةَ ثَلَاثَةِ أَمْيَالٍ، أَوْ ثَلَاثَةِ فَرَاسِخَ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ-
(১) ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াযীদ আল-হুনায়ী (রহঃ) বলেন, ‘আমি আনাস ইবনে মালেক (রাঃ)-কে ছালাত ক্বছর করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন তিন মাইল অথবা তিন ফারসাখ (পথ) ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বের হ’তেন, তখন তিনি দুই রাক‘আত (ক্বছর) ছালাত আদায় করতেন।[11] এক ফারসাখ সমান তিন মাইল। অর্থাৎ ৯ মাইল দূরে গিয়েই রাসূল (ছাঃ) ছালাত ক্বছর করেছেন।
عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، قَالَ: خَرَجْتُ مَعَ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ إِلَى قَرْيَةٍ عَلَى رَأْسِ سَبْعَةَ عَشَرَ، أَوْ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ مِيلًا، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، فَقُلْتُ لَهُ: فَقَالَ: رَأَيْتُ عُمَرَ صَلَّى بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ، فَقُلْتُ لَهُ: فَقَالَ: إِنَّمَا أَفْعَلُ كَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُ-
(২) জুবাইর ইবনে নুফায়ের (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি শুরাহবীল ইবনে সিমতব-এর সাথে সতেরো বা আঠারো মাইল দূরে অবস্থিত একটি গ্রামের উদ্দেশ্যে বের হ’লাম। সেখানে তিনি (শুরাহবীল) দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করলেন । আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি ওমর (রাঃ)-কে যুল-হুলায়ফাতে দুই রাক‘আত ছালাত আদায় করতে দেখেছি। আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে যা করতে দেখেছি, আমিও ঠিক তেমনই করেছি।[12]
عَنْ أَنَسٍ رضى الله عنه أَنَّ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِالْمَدِينَةِ الظُّهْرَ أَرْبَعًا، وَالْعَصْرَ بِذِى الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ، وَسَمِعْتُهُمْ يَصْرُخُونَ بِهِمَا جَمِيعًا-
(৩) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) মদীনায় যোহরের ছালাত চার রাক‘আত আদায় করলেন এবং যুল-হুলায়ফাতে পৌঁছে আছরের ছালাত দুই রাক‘আত আদায় করলেন’।[13] মদীনা থেকে যুল-হুলায়ফার দূরত্ব মাত্র ১৩ কি.মি।
ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘মুসাফির ব্যক্তি প্রত্যেক সফরেই ছালাত ক্বছর করবেন। তবে শর্ত হ’ল, ভ্রমণকে প্রচলিত প্রথা বা উরফ অনুযায়ী সফর হিসাবে গণ্য হ’তে হবে। যেমন যে ভ্রমণের জন্য সফরের প্রস্ত্ততি গ্রহণ করতে হয়। কুরআন ও সুন্নাহর দলীল সমূহে দীর্ঘ সফর এবং সংক্ষিপ্ত সফরের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হয়নি।[14]
ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন,وَلَمْ يَحُدَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأُمَّتِهِ مَسَافَةً مَحْدُودَةً لِلْقَصْرِ وَالْفِطْرِ، بَلْ أَطْلَقَ لَهُمْ ذَلِكَ فِي مُطْلَقِ السَّفَرِ وَالضَّرْبِ فِي الْأَرْضِ، ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর উম্মতের জন্য ক্বছর এবং ছিয়াম ভঙ্গের জন্য কোন নির্দিষ্ট দূরত্ব নির্ধারণ করে দেননি। বরং তিনি সাধারণভাবে সফর এবং ভ্রমণের ক্ষেত্রে একে নিঃশর্ত রেখেছেন’।[15]
হাফেয ইবনু হাজার আসকবালানী (রহঃ) বলেন,إِنَّ الصَّحِيحَ فِي ذَلِكَ أَنَّهُ لَا يَتَقَيَّدُ بِمَسَافَةٍ بَلْ بِمُجَاوَزَةِ الْبَلَدِ الَّذِي يَخْرُجُ مِنْهَا، ‘নিশ্চয়ই এই বিষয়ে বিশুদ্ধতম মত হ’ল এটি (ক্বছর করা) কোন নির্দিষ্ট দূরত্বের সাথে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি কেবল সেই জনপদ অতিক্রম করার সাথে সম্পৃক্ত যেখান থেকে মুসাফির বের হচ্ছে’।[16]
ইমাম শানকবীতী (রহঃ) বলেন, فَكُلُّ مَا كَانَ يُطْلَقُ عَلَيْهِ اسْمُ السَّفَرِ فِي لُغَةِ الْعَرَبِ يَجُوْزُ الْقَصْرُ فِيهِ، لِأَنَّهُ ظَاهِرُ النُّصُوصِ وَلَمْ يَصْرِفْ عَنْهُ صَارِفٌ مِنْ نَقْلٍ صَحِيحٍ ‘আরবী ভাষায় যাকে সফর বলা হয়, এমন প্রতিটি ক্ষেত্রেই (ছালাত) ক্বছর করা জায়েয। কারণ শরী‘আতের প্রমাণাদি থেকে এটাই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। কোন ছহীহ দলীলের মাধ্যমে এই সাধারণ অর্থ থেকে ফিরে আসার বা একে সীমাবদ্ধ করার কোন প্রমাণ নেই’।[17]
ইমাম উছায়মীন (রহঃ) বলেন,فالصحيح أنه لا حد للمسافة، وإنما يرجع في ذلك إلى العرف، ‘সুতরাং বিশুদ্ধতম মত হ’ল (ক্বছরের জন্য) দূরত্বের কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই; বরং এই বিষয়ে ‘উরফ’ বা প্রচলিত প্রথার দিকেই ফিরে যেতে হবে’।[18]
তবে এই দ্বিতীয় মতটিই (অর্থাৎ দূরত্বের সীমা নেই, বরং প্রচলিত প্রথার ওপর নির্ভরশীল) অধিক গ্রহণযোগ্য। কারণ এর প্রমাণাদি অত্যন্ত শক্তিশালী।
সফরে কতদিন অবস্থানের নিয়ত করলে একজন ব্যক্তি মুসাফির হিসাবে গণ্য হন?
এ ব্যাপারে একাধিক অভিমত রয়েছে। কতিপয় বিদ্বান বলেন, কেউ সফরে ১৯ দিনের কম সময় থাকার নিয়ত করে বের হ’লে ছালাত ক্বছর ও জমা করতে পারবে। তারা দলীল হিসাবে রাসূল (ছাঃ)-এর মক্কা বিজয়ে ১৯ দিন অবস্থান এবং তাঁর ক্বছর করার বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন।[19] যদিও এই হাদীছটি ১৯ দিনের দলীল হিসাবে যথেষ্ট নয়। কারণ রাসূল (ছাঃ) মক্কা বিজয়ের দিন জানতেন না যে তাকে কতদিন সেখানে অবস্থান করতে হবে। আর সময়কাল নির্দিষ্ট না হ’লে অনির্দিষ্টকাল একজন ব্যক্তি মুসাফির হিসাবে গণ্য হবে এবং ছালাত ক্বছর করতে পারবে।[20] আরেকদল মনে করেন, ২০ দিনের কম সময় সফরে অবস্থান করলে ছালাত ক্বছর করতে পারবে। কারণ রাসূল (ছাঃ) তাবূকের যুদ্ধে ২০ দিন অবস্থান করেছিলেন।[21] তবে এটিও দলীল হিসাবে যথেষ্ট নয়। কারণ রাসূল (ছাঃ) তাবূকের যুদ্ধের দিন জানতেন না তাকে কতদিন সেখানে অবস্থান করতে হবে। আর সময়কাল নির্দিষ্ট না হ’লে অনির্দিষ্টকাল একজন ব্যক্তি মুসাফির হিসাবে গণ্য হবে এবং ছালাত ক্বছর করতে পারবে।[22] কতিপয় বিদ্বানের মতে, দশ দিনের কম সময় অবস্থানের নিয়ত করে সফর করলে ছালাত ক্বছর করা যাবে। কারণ আনাস (রাঃ) বলেন, আমরা মক্কায় ১০ দিন অবস্থান করেছিলাম। সেখানে আমরা ছালাত ক্বছর করেছিলাম।[23] এখানেও তিনি অবস্থানের সময়কাল নির্দিষ্টভাবে জানতেন না। আবার কেউ ১৫ দিনের কথা বলেছেন। এগুলো কোনটির সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে হজ্জের দিন রাসূল (ছাঃ) চারদিন অবস্থান করেছিলেন এবং ছালাত ক্বছর করেছিলেন।
মালিকী ও শাফেঈ মাযহাবসহ বিদ্বানদের একটি বড় অংশের মতে এটিই অধিক গ্রহণযোগ্য। তাদের মতে, কোন ব্যক্তি যদি কোথাও টানা চার দিন বা অধিক দিন অবস্থানের নিয়ত করে, তবে সে ছালাত পূর্ণ আদায় করবে। আর এই চার দিনের হিসাব থেকে বাদ যাবে পৌঁছানোর দিন এবং ফেরার দিন। অর্থাৎ এই দিনগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে না।
এর পক্ষে দলীল হ’ল আল্লাহ তা‘আলা ছালাত ক্বছর করার অনুমতি দিয়েছেন ‘যমীনে ভ্রমণের’ শর্তে। কিন্তু যে ব্যক্তি কোথাও অবস্থানের নিয়ত করে ফেলেছে, সে আর ভ্রমণকারী হিসাবে গণ্য নয়। আর তিন দিনের অতিরিক্ত সময়কে তারা ‘অবস্থান’ বা ইক্বামা হিসাবে নির্ধারণ করেছেন বুখারী ও মুসলিমের সেই হাদীছ থেকে, যেখানে নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, يُقِيمُ الْمُهَاجِرُ بِمَكَّةَ بَعْدَ قَضَاءِ نُسُكِهِ ثَلَاثًا ‘মুহাজিরগণ তাদের হজ্জের কাজ শেষ করার পর মক্কায় তিন দিন অবস্থান করতে পারবেন’।[24] আর এই মতকে গ্রহণ করেছেন ইমাম মালেক, শাফেঈ এবং ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ)।
ইমাম মাওয়ার্দী বলেন, وَإِنْ نَوَى مُقَامَ أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سِوَى الْيَوْمِ الَّذِي دَخَلَ فِيهِ وَالْيَوْمِ الَّذِي يَخْرُجُ مِنْهُ لَزِمَهُ أَنْ يُتِمَّ لَمْ يَجُزْ لَهُ أَنْ يَقْصُرَ، وَبِهِ قَالَ مِنَ الصَّحَابَةِ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَمِنَ التَّابِعِينَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَمِنَ الْفُقَهَاءِ مَالِكٌ، ‘আর যদি কেউ (সফরে থাকাকালীন কোন স্থানে) প্রবেশ করার দিন এবং বের হওয়ার দিন বাদ দিয়ে পূর্ণ চার দিন অবস্থানের নিয়ত করে, তবে তার জন্য ছালাত পূর্ণ করা আবশ্যক এবং ক্বছর করা বৈধ নয়। ছাহাবী ওছমান ইবনে আফফান (রাঃ), তাবেঈ সাঈদ ইবনুল মুসায়িইব এবং ফকবীহদের মধ্যে ইমাম মালেক (রহঃ) এই মতটিই পোষণ করেছেন’।[25]
ইবনু আব্দিল বার্র (রহঃ) বলেন,وَاخْتَلَفُوا فِي مُدَّةِ الْإِقَامَةِ فقال مالك والشافعي والليث وَالطَّبَرِيُّ وَأَبُو ثَوْرٍ إِذَا نَوَى إِقَامَةَ أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ أَتَمَّ وَهُوَ قَوْلُ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ فِي رِوَايَةِ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ عَنْهُ، ‘আর তারা বিদ্বানগণ ইক্বামাহ বা অবস্থানের মেয়াদের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক, শাফেঈ, লায়ছ, তাবারী এবং আবু ছাওর বলেছেন, যখন কেউ চার দিন অবস্থানের নিয়ত করবে, তখন সে (ছালাত) পূর্ণ করবে। আর এটিই আত্বা আল-খুরাসানি বর্ণিত তাবেঈ সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের মত।[26]
ইবনু কুদামাহ (রহঃ) বলেন,أَنَّهُ إذَا نَوَى إقَامَةَ أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ أَتَمَّ، وَإِنْ نَوَى دُونَهَا قَصَرَ. وَهَذَا قَوْلُ مَالِكٍ، وَالشَّافِعِيِّ، وَأَبِي ثَوْرٍ؛ لِأَنَّ الثَّلَاثَ حَدُّ الْقِلَّةِ، بِدَلِيلِ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقِيمُ الْمُهَاجِرُ بَعْدَ قَضَاءِ مَنْسَكِهِ ثَلَاثًا. وَلَمَّا أَخْلَى عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَهْلَ الذِّمَّةِ، ضَرَبَ لِمَنْ قَدِمَ مِنْهُمْ تَاجِرًا ثَلَاثًا، فَدَلَّ عَلَى أَنَّ الثَّلَاثَ فِي حُكْمِ السَّفَرِ، وَمَا زَادَ فِي حُكْمِ الْإِقَامَةِ. ‘নিশ্চয়ই যখন কেউ চার দিন অবস্থানের নিয়ত করবে, তখন সে (ছালাত) পূর্ণ করবে। আর যদি এর কম সময়ের জন্য নিয়ত করে, তবে সে ক্বছর করবে। এটিই ইমাম মালেক, শাফেঈ এবং আবু ছাওর-এর মত। এর কারণ হ’ল, ‘তিন’ সংখ্যাটি হ’ল স্বল্পতার সীমা। এর প্রমাণ হ’ল নবী করীম (ছাঃ)-এর বাণী- ‘মুহাজিরগণ তাদের হজ্জের কাজ শেষ করার পর (মক্কায়) তিন দিন অবস্থান করতে পারবেন’। এছাড়া হযরত ওমর (রাঃ) যখন যিম্মীদের (অমুসলিম নাগরিক) এলাকা থেকে বের করে দিয়েছিলেন, তখন তাদের মধ্যে যারা ব্যবসায়ী হিসাবে আসত, তাদের জন্য তিন দিন সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এটিই প্রমাণ করে যে, তিন দিন পর্যন্ত অবস্থানের সময়টি সফরের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। আর এর অতিরিক্ত সময়টুকু ‘ইক্বামা’ বা স্থায়ী অবস্থানের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত।[27]
ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন,إذَا نَوَى أَنْ يُقِيمَ بِالْبَلَدِ أَرْبَعَةَ أَيَّامٍ فَمَا دُونَهَا قَصَرَ الصَّلَاةَ كَمَا فَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا دَخَلَ مَكَّةَ. فَإِنَّهُ أَقَامَ بِهَا أَرْبَعَةَ أَيَّامٍ يَقْصُرُ الصَّلَاةَ. وَإِنْ كَانَ أَكْثَرَ فَفِيهِ نِزَاعٌ. وَالْأَحْوَطُ أَنْ يُتِمَّ الصَّلَاةَ. ‘যদি কেউ কোন শহরে (বা এলাকায়) চার দিন বা এর কম সময় অবস্থানের নিয়ত করে, তবে সে ছালাত ক্বছর করবে। যেমনটি নবী করীম (ছাঃ) মক্কায় প্রবেশ করার পর করেছিলেন। কেননা তিনি সেখানে চার দিন অবস্থান করেছিলেন এবং ছালাত ক্বছর করেছিলেন। আর যদি এর চেয়ে বেশী সময় (অবস্থানের নিয়ত) হয়, তবে সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে সতর্কতামূলক আমল হ’ল (ছালাত) পূর্ণ করা।[28]
শায়খ বিন বায (রহঃ) বলেন,هذه أربعة أيام قد عزم على إقامتها، فيقصر فيها الصلاة كما قصر النبي صلى الله عليه وسلم، فإذا نوى أكثر من ذلك أتم، لأن الأصل هو الإتمام، الواجب هو إتمام الصلاة. ‘এই যে (সর্বমোট) চার দিন, যা সে অবস্থানের দৃঢ় সংকল্প করেছে, সে এতে ছালাত ক্বছর করবে; যেমনটি নবী করীম (ছাঃ) ক্বছর করেছিলেন। কিন্তু যখন সে এর চেয়ে বেশী (সময় অবস্থানের) নিয়ত করবে, তখন সে (ছালাত) পূর্ণ করবে। কারণ মূল বিধান হ’ল (ছালাত) পূর্ণ করা এবং ছালাত পূর্ণ করাই হ’ল ওয়াজিব।[29] আর এটাই ছিল মদীনাবাসীর আমল।[30]
অতএব সফরে ক্বছরের সময়সীমা হিসাবে ৪ দিনকে একটি গ্রহণযোগ্য মানদন্ড হিসাবে গ্রহণ করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য যে, এ ব্যাপারে তিনজন ছাহাবীর তিন রকম আমল পাওয়া যায়। যেমন-(১) ইবনু আববাস (রাঃ) সফরে ১৯/১৭ দিনের বেশী অবস্থান করলে ছালাত পূর্ণ করতেন। এর কম সময় থাকলে ছালাত ক্বছর করতেন।[31] (২) ইবনু ওমর ১৭/১৫ দিনের বেশী সময় সফরে অবস্থান করলে ছালাত পূর্ণ করতেন এবং এর কম হ’লে ছালাত ক্বছর করতেন। (৩) আর আনাস (রাঃ) দশ দিনের কম সময় সফরে অবস্থান করলে ছালাত ক্বছর করতেন।[32]
সুতরাং এরূপ ইজতেহাদী মাসআলার ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি যদি উপরোক্ত যে কোন একটি অভিমত অনুযায়ী আমল করে তাহ’লে কোন দোষ হবে না ইনশাআল্লাহ।
অনিশ্চিত গন্তব্য ও মেয়াদহীন সফরে ছালাত ক্বছরের বিধান :
যে ব্যক্তি নিজের কোন প্রয়োজন বা কাজ শেষ করার জন্য (কোন স্থানে) অবস্থান করছে এবং সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার কোন নির্দিষ্ট নিয়ত করেনি, সে ব্যক্তি ছালাত ক্বছর করবে; যদিও তার অবস্থানের সময়কাল অনেক দীর্ঘ হয়।
(১) ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, أَقَامَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم تِسْعَةَ عَشَرَ يَقْصُرُ নবী করীম (ছাঃ) মক্কা বিজয়ের সময় ঊনিশ দিন অবস্থান করেছিলেন এবং তিনি ছালাত ক্বছর করেছিলেন।[33]
(২) হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, أَنَّ أَصْحَابَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقَامُوا بِرَامَهُرْمُزَ تِسْعَةَ أَشْهُرٍ يَقْصُرُونَ الصَّلَاةَ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছাহাবীগণ (ইরানের) রামহুরমুয নামক স্থানে নয় মাস অবস্থান করেছিলেন এবং তারা ছালাত ক্বছর করেছিলেন।[34]
(৩) নাফে‘ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, ইবনু ওমর (রাঃ) আযারবাইজানে ছয় মাস অবস্থান করেছিলেন এবং তিনি ছালাত ক্বছর করেছিলেন।[35]
আলক্বামাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, غَزَوْنَا خُرَاسَانَ فِي زَمَنِ مُعَاوِيَةَ فَإِنَّا لَمُحَاصِرُونَ حِصْنًا مِنْ حُصُونِ خُوَارِزْم، وَأَقَمْنَا سَنَتَيْنِ نُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ আমরা মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর যুগে খোরাসান যুদ্ধে গিয়েছিলাম। আমরা খাওয়ারিযমের (Khwarizm) দুর্গগুলোর মধ্যে একটি দুর্গ অবরোধ করে রেখেছিলাম। সেখানে আমরা দীর্ঘ দুই বছর অবস্থান করেছিলাম এবং আমরা দুই রাক‘আত করেই ছালাত আদায় করেছি।[36]
বিদ্বানগণ এই বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, একজন মুসাফির ততক্ষণ পর্যন্ত ছালাত ক্বছর করতে পারবেন, যতক্ষণ না তিনি (একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে) অবস্থানের দৃঢ় সংকল্প করছেন। এমনকি যদি তার অবস্থানের সময়কাল দীর্ঘও হয়।[37]
সফরে ছালাত জমা করার বিধান :
সফরে ছালাত ক্বছর করা যেমন জায়েয তেমনি জমা তাকবদীম ও জমা তা’খীর করাও জায়েয। অর্থাৎ সফরে যোহর-আছর একই সময়ে ও মাগরিব-এশার ছালাত একই সময়ে একত্রে আদায় করা যায়। যেমন হাদীছে এসেছে,
(১) মু‘আয (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ، فَكَانَ يُصَلِّي الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا، وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে তাবূক যুদ্ধে বের হ’লাম। সেখানে তিনি যোহর ও আছর একত্রে এবং মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করেন।[38]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى بِالْمَدِينَةِ سَبْعًا، وَثَمَانِيًا، الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ، وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ-
(২) ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মদীনায় সাত রাক‘আত এবং আট রাক‘আত ছালাত আদায় করেছেন। অর্থাৎ যোহর ও আছর একত্রে আট রাক‘আত এবং মাগরিব ও এশা একত্রে সাত রাক‘আত ছালাত আদায় করেছেন।[39]
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِى غَزْوَةِ تَبُوكَ إِذَا ارْتَحَلَ قَبْلَ زَيْغِ الشَّمْسِ أَخَّرَ الظُّهْرَ إِلَى أَنْ يَجْمَعَهَا إِلَى الْعَصْرِ فَيُصَلِّيهِمَا جَمِيعًا وَإِذَا ارْتَحَلَ بَعْدَ زَيْغِ الشَّمْسِ عَجَّلَ الْعَصْرَ إِلَى الظُّهْرِ وَصَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا ثُمَّ سَارَ وَكَانَ إِذَا ارْتَحَلَ قَبْلَ الْمَغْرِبِ أَخَّرَ الْمَغْرِبَ حَتَّى يُصَلِّيَهَا مَعَ الْعِشَاءِ وَإِذَا ارْتَحَلَ بَعْدَ الْمَغْرِبِ عَجَّلَ الْعِشَاءَ فَصَلاَّهَا مَعَ الْمَغْرِبِ
(৩) মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাবূক যুদ্ধের সময় সূর্য ঢলে পড়ার আগে রওনা দিলে যোহরকে পিছিয়ে আছরের ওয়াক্তে নিয়ে যেতেন এবং যোহর ও আছর একত্রে আদায় করতেন। আর যদি সূর্য ঢলে পড়ার পর রওনা হ’তেন, তবে আছরকে এগিয়ে এনে যোহরের সাথে একত্রে আদায় করে নিতেন এবং তারপর যাত্রা শুরু করতেন। একইভাবে তিনি যদি মাগরিবের আগে রওনা হ’তেন, তবে মাগরিবকে পিছিয়ে এশার সাথে একত্রে আদায় করতেন। আর যদি মাগরিবের পর রওনা হ’তেন, তবে এশাকে এগিয়ে এনে মাগরিবের সাথে একত্রে আদায় করে নিতেন’।[40]
সফরে ছালাত জমা‘ করে আদায় করার শর্তসমূহ :
১. সফরের ছালাত ক্বছর এবং জমা‘ করার জন্য শর্ত হ’ল-ক্বছর করার সমপরিমাণ দূরত্বে সফর করা।
২. অধিকাংশ বিদ্বানের মতে সফরটি হ’তে হবে বৈধ। সুতরাং কেউ যদি ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে, অশ্লীল কাজে অথবা অন্য কোন পাপকাজে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে সফর করে, তবে তার জন্য মুসাফিরের কোন বিশেষ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা জায়েয হবে না।[41]
৩. এক বড় সংখ্যক বিদ্বানের মতে, সফরে অবস্থান করার নিয়ত চার দিন অথবা তার কম সময়ের জন্য হ’তে হবে। যদি কেউ এর চেয়ে বেশী সময় অবস্থান করার নিয়ত করে, তবে সে মুসাফিরের জন্য নির্ধারিত বিশেষ সুবিধাগুলো (ছিয়াম ভঙ্গ করা এবং ছালাত ক্বছর ও জমা‘ করা) গ্রহণ করতে পারবে না।[42]
৪. সফরে বিশেষ সুযোগ-সুবিধাগুলো গ্রহণ করা শুরু করবে না, যতক্ষণ না সে তার শহর (বা নিজ এলাকা) থেকে বের হয়।[43]
৫. অধিকাংশ বিদ্বানের মতে শর্ত হ’ল জমা‘ তাক্বদীম-এর ক্ষেত্রে দুই ছালাতের মাঝে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। অর্থাৎ দুই ছালাতের মাঝে দীর্ঘ বিরতি না দেওয়া। তবে শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়াহ (রহঃ)-এর মতে, দীর্ঘ বিরতি না দেওয়া কোন শর্ত নয়’।[44]
৬. ছালাত জমা করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ওয়াজিব। অর্থাৎ প্রথমে যোহর এবং এরপর আছর পড়বে। একইভাবে প্রথমে মাগরিব এরপর এশা পড়বে। জমা তাকবদীম হোক বা জমা তা’খীর হোক উভয় ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য’।[45]
উল্লেখ্য যে, মুসাফিরের জন্য দুই ছালাত একত্রে পড়া (জমা করা) অথবা প্রত্যেক ছালাত তার নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা উভয়টিরই সুযোগ রয়েছে। তবে উত্তম হ’ল ছালাত একত্রে না পড়া, যতক্ষণ না প্রত্যেক ছালাত তার নির্ধারিত সময়ে আদায় করতে কোন কষ্টের সম্মুখীন হ’তে হয়। কিন্তু একটি বিষয়ে সতর্ক করা প্রয়োজন যে, মুসাফিরের উপরও জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করা ওয়াজিব। তাই একা একা ছালাত জমা ও ক্বছর করার উদ্দেশ্যে জামা‘আত ত্যাগ করা জায়েয নয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, কেউ প্রয়োজনে বাড়ীতে বা সফরে দুই ওয়াক্তের ছালাত জমা করলে এই দুয়ের মধ্যে কোন সুন্নাত ছালাত আদায় করতে হবে না। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِي الله عَنْهمَا قَالَ جَمَعَ النَّبِيُّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِجَمْعٍ ( أي في مزدلفة) كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا بِإِقَامَةٍ وَلَمْ يُسَبِّحْ بَيْنَهُمَا وَلا عَلَى إِثْرِ كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا-
(১) ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) (মুযদালিফায়) মাগরিব ও এশার ছালাত একত্রে আদায় করলেন। এর প্রত্যেকটির জন্য আলাদা আলাদা ইক্বামত দেওয়া হয়েছিল। তিনি এই দুই ছালাতের মাঝখানে কোন নফল (সুন্নাত) পড়েননি এবং এদের কোনটির পরেও সুন্নাত পড়েননি।[46]
عن جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: سَارَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَتَى عَرَفَةَ فَوَجَدَ الْقُبَّةَ قَدْ ضُرِبَتْ لَهُ بِنَمِرَةَ فَنَزَلَ بِهَا حَتَّى إِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ أَمَرَ بِالْقَصْوَاءِ فَرُحِلَتْ لَهُ حَتَّى إِذَا انْتَهَى إِلَى بَطْنِ الْوَادِي خَطَبَ النَّاسَ ثُمَّ أَذَّنَ بِلالٌ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الْعَصْرَ وَلَمْ يُصَلِّ بَيْنَهُمَا شَيْئًا-
(২) জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) চলতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি আরাফাতের ময়দানে পৌঁছলেন। সেখানে তিনি দেখলেন তাঁর জন্য নামিরা নামক স্থানে একটি তাবু খাটানো হয়েছে। তিনি সেখানে অবস্থান নিলেন। অতঃপর যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ল (অর্থাৎ যোহরের সময় হ’ল), তিনি তাঁর কাছওয়া নামক উটটিকে প্রস্ত্তত করার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি তাতে আরোহণ করে উপত্যকার মাঝখানে পৌঁছে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে খুৎবা প্রদান করলেন। তারপর বেলাল (রাঃ) আযান দিলেন এবং এরপর ইক্বামত দিলেন। অতঃপর নবী করীম (ছাঃ) যোহরের ছালাত আদায় করলেন। এরপর আবার ইক্বামত দেওয়া হ’ল এবং তিনি আছরের ছালাত আদায় করলেন। আর এই দুই ছালাতের মাঝখানে তিনি অন্য কোন (নফল বা সুন্নাত) ছালাত আদায় করেননি।[47]
সফর অবস্থায় নফল ও সুন্নাত ছালাত পড়ার বিধান :
সফরে সুন্নাতে রাতেবা বা সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ ছালাত আদায় করতে হবে না। বরং এগুলো না পড়াই সুন্নাত। তবে ফজরের দুই রাক‘আত সুন্নাত, বেতর ছালাত ও অন্যান্য নফল ছালাত যেমন তাহাজ্জুদ, ছালাতুল ইশরাক্ব বা ছালাতুয যোহা আদায় করা যাবে। যেমন হাদীছে এসেছে,
(১) হাফছ ইবনে আছিম (রাঃ) বলেন, ‘আমি একবার অসুস্থ হয়ে পড়লাম। তখন ইবনু ওমর (রাঃ) আমাকে দেখতে এলেন। আমি তাকে সফরে নফল (সুন্নাত) ছালাত আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, صَحِبْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي السَّفَرِ، فَمَا رَأَيْتُهُ يُسَبِّحُ আমি সফরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সঙ্গী ছিলাম, কিন্তু তাঁকে (ফরযের আগে-পরে) নফল (সুন্নাত) ছালাত পড়তে দেখিনি। তিনি আরও বললেন, আমি যদি নফল ছালাত পড়তামই, তবে আমি পূর্ণ চার রাক‘আত আদায় করতাম। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যেই তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।[48]
(২) হাফছ ইবনে আছিম (রাঃ) বলেন, ‘আমি মক্কার পথে ইবনু ওমর (রাঃ)-এর সঙ্গী হ’লাম। তিনি আমাদের নিয়ে যোহরের ছালাত দুই রাক‘আত আদায় করলেন। এরপর তিনি এগিয়ে চললেন এবং আমরাও তাঁর সাথে চললাম, যতক্ষণ না তিনি তাঁর বিশ্রামস্থলে পৌঁছলেন। তিনি বসলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে বসলাম। হঠাৎ তিনি যেখানে ছালাত আদায় করেছিলেন সেদিকে তাকালে কিছু লোককে সুন্নাত পড়তে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এরা কি করছে? আমি বললাম, তারা সুন্নাত আদায় করছে। তিনি বললেন, আমি যদি নফল আদায় করতামই, তবে আমি আমার (ফরয) ছালাত পূর্ণ আদায় করতাম। হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আমি সফরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সঙ্গী ছিলাম, আল্লাহ তাঁর মৃত্যু না দেওয়া পর্যন্ত তিনি সফরে দুই রাক‘আতের বেশী (ফরযের আগে-পরে সুন্নাত) পড়েননি। আমি আবুবকর (রাঃ)-এর সঙ্গী ছিলাম; মৃত্যু পর্যন্ত তিনিও সফরে দুই রাক‘আতের বেশী পড়েননি। আমি ওমর (রাঃ)-এর সঙ্গী ছিলাম; মৃত্যু পর্যন্ত তিনিও সফরে দুই রাক‘আতের বেশী পড়েননি। এরপর আমি ওছমান (রাঃ)-এর সঙ্গী ছিলাম। তিনিও মৃত্যু পর্যন্ত সফরে দুই রাক‘আতের বেশী পড়েননি। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যেই তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ’।[49]
(৩) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ عَلَى شَيْءٍ مِنَ النَّوَافِلِ أَشَدَّ مُعَاهَدَةً مِنْهُ عَلَى رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الصُّبْحِ নবী করীম (ছাঃ) সুন্নাত ছালাতগুলোর মধ্যে ফজরের পূর্বের দুই রাক‘আতের মতো অন্য কোনটির প্রতি এত বেশী যত্নবান বা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলেন না’।[50]
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي السَّفَرِ عَلَى رَاحِلَتِهِ حَيْثُ تَوَجَّهَتْ بِهِ يُومِئُ إِيمَاءً صَلاةَ اللَّيْلِ إِلا الْفَرَائِضَ وَيُوتِرُ عَلَى رَاحِلَتِهِ-
(৪) ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) সফরে থাকাকালীন তাঁর সওয়ারির পিঠে আরোহণ করেই ছালাত আদায় করতেন, বাহনটি তাঁকে যেদিকেই নিয়ে যেত সেদিকে মুখ করেই (ইশারায়)। তিনি রাতের ছালাত (তাহাজ্জুদ ও নফল) ইশারার মাধ্যমে সম্পন্ন করতেন, তবে ফরয ছালাতগুলোর ক্ষেত্রে এমনটি করতেন না। আর তিনি তাঁর সওয়ারির পিঠেই বিতরের ছালাত আদায় করতেন।[51]
শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেছেন,وَيُوتِرُ الْمُسَافِرُ وَيَرْكَعُ سُنَّةَ الْفَجْرِ وَيُسَنُّ تَرْكُهُ غَيْرَهُمَا وَالْأَفْضَلُ لَهُ التَّطَوُّعُ فِي غَيْرِ السُّنَنِ الرَّاتِبَةِ ‘মুসাফির ব্যক্তি বিতর ছালাত এবং ফজরের সুন্নাত আদায় করবে। তবে এই দু’টি ছাড়া অন্যান্য সুন্নাত যেমন, যোহর, মাগরিব ও এশার সুন্নাত বর্জন করা সুন্নাত। আর সুন্নাতে রাতেবা বাদে অন্যান্য নফল ছালাত
আদায় করা মুসাফিরের জন্য উত্তম।[52]
উপসংহার :
ছালাত ক্বছর ও জমা করার বিধানটি মূলত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য এক বিশেষ রহমত ও সহজীকরণ। ইসলামের শাশ্বত সৌন্দর্য এই যে, মানুষের সাধ্যাতীত কোন বোঝা চাপিয়ে দেয় না; বরং দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর সফরেও যেন ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সেজন্যই এই চমৎকার ছাড় দেওয়া হয়েছে।
আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, সফর অবস্থায় ক্বছর করা কেবল সুযোগ নয়, বরং এটি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুন্নাহর অনুসরণ। ছাহাবীগণের আমল থেকেও আমরা দেখি যে, তারা সফরের এই সহজতাকে আল্লাহর ছাদাক্বা হিসাবে গ্রহণ করতেন। তবে এই বিধান ব্যবহারের ক্ষেত্রে শারঈ দূরত্বের সীমা ও সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলি মেনে চলা আবশ্যক, যাতে ইবাদতের মূল কাঠামোটি সংরক্ষিত থাকে। দ্বীনের এই সহজতা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতেও যেন আমরা ছালাতের মত মহান ইবাদত থেকে বিচ্যুত না হই। সুতরাং সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সফরের এই বিধানগুলো যথাযথভাবে পালন করাই হোক একজন মুমিনের ঐকান্তিক লক্ষ্য। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন- আমীন!!
[1]. বায়হাকবী, সুনানুল কুবরা হা/৫৪২১।
[2]. মুসলিম হা/৬৮৬; মিশকাত হা/১৩৩৫।
[3]. মুসলিম হা/৬৮৭; মিশকাত হা/১৩৪৯।
[4]. আল-মুগনী, ৩/১২২-১২৩।
[5]. আল-মুগনী ৩/১২৫।
[6]. ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, ২/১৮৮।
[7]. বায়হাকবী, সুনানুল কুবরা হা/৫৩৯৭; ইরওয়া হা/৫৬৮।
[8]. বুখারী ৪/৩৩০।
[9]. ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূউল ফাতাওয়া ২৪/১২৪।
[10]. মাজমূউল ফাতাওয়া ২৪/৪০-৪১।
[11]. মুসলিম হা/৬৯১।
[12]. মুসলিম হা/৬৯২।
[13]. বুখারী হা/১৫৪৮; মুসলিম হা/৬৯০।
[14]. মাজমূউল ফাতাওয়া ২৪/১৩,১৫ ও ৩৫।
[15]. যাদুল মা‘আদ ১/৪৬৩।
[16]. ফাৎহুল বারী ২/৫৬৭।
[17]. তাফসীরে আযওয়াউল বায়ান ১/২৭৩।
[18]. আশ-শারহুল মুমতে‘ ৪/৩৫২।
[19]. ইবনু মাজাহ হা/১০৭৫।
[20]. বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/২৭৫।
[21]. ছহীহ ইবনু হিববান হা/২৭৪৯।
[22]. ইরওয়া হা/৫৭৭।
[23]. ইরওয়া হা/৫১৩, সনদ ছহীহ।
[24]. মুসলিম হা/১৩৫২।
[25]. আল-হাভীল কাবীর ২/৩৭১।
[26]. আত-তামহীদ ১১/১৮১।
[27]. আল-মুগনী ২/২১২।
[28]. মাজমূউল ফাতাওয়া ২৪/১৭।
[29]. ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৩/৩৬।
[30]. মুয়াত্তা মালেক হা/১৩৩২-৩৪।
[31]. বুখারী হা/১০৮০।
[32]. বুখারী হা/৪২৯৭; ইবনু মাজাহ হা/১০৭৭।
[33]. বুখারী হা/১০৮০।
[34]. বায়হাকবী, সুনানুল কুবরা হা/৫৪৮০; ইরওয়া হা/৫৭৬।
[35]. ইরওয়া হা/৫৭৭।
[36]. সুনান সাঈদ ইবনু মানছূর হা/২৫৮১।
[37]. তিরমিযী হা/৫৪৮; ইবনু আব্দিল বার্র, আল-ইস্তিযকার ২/২৪২; ইবনুর রুশদ, বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/১৭০।
[38]. মুসলিম হা/৭০৬।
[39]. বুখারী হা/৫৪৩; মুসলিম হা/৭০৫।
[40]. আবুদাউদ হা/১২২০; তিরমিযী হা/৫৫৩।
[41]. আল-মাওসূ‘আতুল ফিকবহিয়া ২৭/২৭৬।
[42]. ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৮/১১৩-১১৪।
[43]. আল-মাওসূ‘আতুল ফিকবহিয়া ২৭/২৭৯।
[44]. মাজমূঊল ফাতাওয়া ২৪/৫৪।
[45]. ফাতাওয়া লাজনাহ-দায়েমাহ ৮/১৩৯।
[46]. বুখারী হা/১৬৭৩।
[47]. মুসলিম হা/১২১৮।
[48]. আহযাব ৩৩/২১; মুসলিম হা/৬৮৯।
[49]. আহযাব ৩৩/২১; মুসলিম হা/৬৮৯।
[50]. মুসলিম হা/৭২৪।
[51]. বুখারী হা/১০০০; মিশকাত হা/১৩৪০।
[52]. আল-ইখতিয়ারাতুল ফিকহিয়া ১/৪৩৫।