টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপযেলার গারো বাজার সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সবুজের সমারোহ। এ যেন এক কলার রাজ্য। প্রায় সাড়ে সাতশ’ একর জমির উপর বাতাসের তালে দুলছে প্রায় সাত লক্ষ কলা গাছ। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পিছনে রয়েছে এক পরিবারের ৩৫ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম, সততা আর দূরদর্শীতার এক অসাধারণ গল্প। শুধু কৃষি উৎপাদনই নয়, পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য নযীরও স্থাপন করেছে আব্দুর রশীদের পরিবার। এর সূচনা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৩৫ বছর আগে ১৯৮৯ সালে। ঘাটাইল উপযেলার আব্দুর রশীদ মাত্র ৫ টাকা দরে ৫০০টি ‘মেহের সাগর’ কলার চারা ক্রয় করেন। নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় স্বল্প পরিসরে শুরু করেন কলা চাষ। প্রথমবারেই আসে অভাবনীয় সাফল্য। উৎপাদিত কলা বিক্রি করে প্রায় তিনগুণ মুনাফা অর্জন করেন তিনি।

সেই শুরু, এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আব্দুর রশীদকে। তার এই সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হন তার ৯ ভাই। পরবর্তীতে তাদের সন্তান ও ভগ্নিপতিরাও এই কৃষি উদ্যোগে যোগ দেন। সময়ের সাথে সাথে তাদের প্রচেষ্টা আর পরিশ্রমের ফসল হিসাবে গড়ে উঠেছে এই বিশাল কলা বাগান। পারিবারিক এই প্রকল্পটি আজ এক বৃহৎ কৃষি উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে এই প্রকল্পে কলা গাছের পাশাপাশি লেবু, ড্রাগন, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফলেরও চাষ করা হচ্ছে। বিশাল এই খামার ব্যবস্থাপনার জন্য বছরে প্রায় ২৬ কোটি টাকা খরচ হয়। বছরে গড়ে প্রায় ১০ লক্ষ মেট্রিক টন কলা উৎপাদন হয়, যা থেকে আয় হয় প্রায় ৩৯ কোটি টাকা। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় এক সহস্রাধিক শ্রমিকের, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে একটি বড় অবদান রাখছে।

আব্দুর রশীদের এই সাফল্য শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমান সময়ে যেখানে পারিবারিক সম্পর্কগুলো সহজেই ভেঙ্গে পড়ছে, সেখানে এই পরিবারটি সততা, আন্তরিকতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসকে পুঁজি করে যৌথভাবে সফল ব্যবসা পরিচালনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, পারিবারিক বন্ধন অটুট রেখেও কিভাবে বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

স্থানীয় কৃষকদের জন্য আব্দুর রশীদের পরিবার এখন এক অনুপ্রেরণার নাম। তাদের এই কৃষি খামারটি কেবল টাঙ্গাইলের ঘাটাইল নয়, সারাদেশের জন্যই এক অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠেছে। তাদের গল্প বলে দেয়, সঠিক পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম এবং পারিবারিক একতা থাকলে যেকোন কাজেই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

[ব্যাংক থেকে বা দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সূদে ঋণ না নিয়ে হালাল পথে এরূপ বৈধ উপার্জনে তরুণরা এগিয়ে আসুক, আমরা সেই দো‘আ করি (স.স.)]






বিদেশে বাংলাদেশী তিন হাফেযের সাফল্য!
ভারতীয় বিমান বাহিনীতে দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ
ভারতে প্রতিদিন গড়ে ৪শ’ লোক নিহত হয় সড়ক দুর্ঘটনায়
ভারত আমাদের শত্রু বুঝতে পারাই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বড় অর্জন - -নূরুল কবীর
ভালোবাসার অভাবে ভয়ানক ‘অভিমান’
৩৭০ ও ৩৫-ক ধারা বাতিল হ’লে স্বাধীনতার দাবীতে আন্দোলন - -ফারূক আব্দুল্লাহ
৩৯ বছরে ৪৪ সন্তানের জননী মরিয়ম
স্বদেশ-বিদেশ
২৫ বছরের মধ্যে বিয়ে না করলে শাস্তি
বায়ু দূষণে শীর্ষে লাহোর, চতুর্থ ঢাকা
ভারতের বন্ধুত্ব চাই দাসত্ব নয় (‘শাপলার রক্ত আল্লামা শফি ভুলে গেলেও জনগণ ভোলেনি’) - -বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম)
দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশী ঘুষের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
আরও
আরও
.