মারকাযী জমঈয়তে আহলেহাদীছ পাকিস্তান-এর মাননীয় আমীর, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাবেক সিনেটর প্রফেসর সাজিদ মীর গত ৩রা মে শনিবার লাহোরের স্থানীয় একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেঊন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তাঁর স্পাইন ও হার্ট বাইপাস সার্জারী হয়েছিল। তারপর তিনি কয়েকমাস যাবৎ অসুস্থ ও শয্যাশায়ী অবস্থায় ছিলেন।
প্রফেসর সাজিদ মীর ১৯৩৮ সালের ২রা অক্টোবর পাকিস্তানের শিয়ালকোট শহরে এক খ্যাতনামা ধর্মপ্রাণ কাশ্মীরী রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিশিষ্ট আলেম এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাওলানা ইব্রাহীম মীর শিয়ালকোটির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছিলেন। তাঁর পিতা জনাব আব্দুল কাইয়ুম মীর ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা।
১৯৬০ সালে তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে মাস্টার্স এবং ১৯৬৯ সালে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি জিন্নাহ ইসলামিয়া কলেজ, শিয়ালকোটে ইংরেজী বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন এবং এসময় তিনি কুরআন হিফয সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি রাজনীতি, অর্থনীতি, আরবী ও মনোবিজ্ঞান বিষয়ে বি,এ ডিগ্রী এবং একাধিক ফাযিল ডিগ্রী অর্জন করেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে অসংখ্য একাডেমিক পুরস্কার ও স্কলারশিপ অর্জন করেন।
পেশাজীবনে তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইংরেজী এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শিক্ষাদান করেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি ফেডারেল গভর্নমেন্ট অব নাইজেরিয়ার সিনিয়র এডুকেশন অফিসার সহ দেশটির একাধিক সরকারী পদে দায়িত্বপালন করেন।
১৯৭৩ সালে তিনি মারকাযী জমঈয়তে আহলেহাদীছ পাকিস্তান-এর নাযেমে আ‘লা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯২ সালের ২রা মে তিনি এর আমীর হিসাবে নির্বাচিত হন এবং চলতি বছরে সপ্তমবারের মতো আমীর নির্বাচিত হন। সবমিলিয়ে প্রায় ৩২ বছর যাবৎ তিনি এদায়িত্ব পালন করেন।
তিনি রাবেতা আলমে ইসলামী-এর নির্বাহী পরিষদ এবং মাজলিসে ফিক্বহে ইসলামী-এর সদস্য ছিলেন। ১৯৯৪ সালে তিনি পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়ায (পিএমএল-এন) থেকে সিনেটর হিসাবে নির্বাচিত হন এবং ধারাবাহিকভাবে ছয়বার এই পদে নির্বাচিত হন।
তিনি বেশ কয়েকটি বইয়ের অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন। এছাড়া সাপ্তাহিক তর্জুমানুল হাদীস, আহলেহাদীস ও আল-ইসলাম সহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করতেন।
তার মৃত্যুতে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়ায শরীফ গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি ছিলেন এমন একজন নির্ভীক ও নিষ্ঠাবান নেতা, যিনি ইসলাম ও পাকিস্তানের জন্য অমূল্য অবদান রেখেছেন।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৩২ বছর যাবৎ পাকিস্তান জমঈয়তে আহলেহাদীছের আমীর হিসাবে বিশুদ্ধ দ্বীনের প্রচার ও প্রসারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে ভারত উপমহাদেশে আহলেহাদীছ আন্দোলনের এক উজ্জ্বল দেউটি নিভে গেল।
উল্লেখ্য যে, প্রফেসর সাজিদ মীর ও আমীরে জামা‘আত ১৯৯২ সালের ১৯-২২শে জানুয়ারী কুয়েতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন এবং ২১শে জানুয়ারী জমঈয়তে এইয়াউত তুরাছিল ইসলামীর পক্ষ হ’তে আয়োজিত বাংলাদেশ সহ ৭টি দেশের আহলেহাদীছ নেতৃবৃন্দকে সম্বর্ধনা প্রদান সভায় তাঁরা একত্রে উপস্থিত ছিলেন।
[আল্লাহ রাববুল আলামীন তাঁর গোনাহ খাতা মাফ করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নছীব করুন- আমীন! (সম্পাদক)]