তাক্বওয়ার ফযীলত ও গুরুত্ব

‘তাক্বওয়া’ বা আল্লাহভীতি মুমিন জীবনের অন্যতম মহৎ গুণ। যে গুণের মাধ্যমে বান্দা দুনিয়াতে যাবতীয় পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারে। তেমনি তাক্বওয়াশীলতার জন্য পরকালে রয়েছে মহা পুরস্কার। প্রত্যেক নবী-রাসূল ও আল্লাহর সকল নেক বান্দা এ গুণের অধিকারী ছিলেন। বস্ত্ততঃ তাক্বওয়া ব্যতীত বান্দার কোন আমল আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। আলোচ্য প্রবন্ধে তাক্বওয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

‘তাক্বওয়া’র পরিচয় : ‘তাক্বওয়া’ (التقوي) শব্দটি وقى মূল ধাতু থেকে উদ্গত একটি আরবী শব্দ। আভিধানিক অর্থ আল্লাহর ভয়, পরহেযগারিতা, দ্বীনদারী, ধার্মিকতা ইত্যাদি।[1] ব্যবহারিক অর্থে ‘কোন কিছুকে অন্য কিছুর দ্বারা তাড়িয়ে দেওয়া’। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে আগুন থেকে বাঁচাও এক টুকরা খেজুর দিয়ে হ’লেও’।[2] শরী‘আতের পরিভাষায় ‘তাক্বওয়া’ অর্থ হ’ল, ‘আল্লাহর ভয়ে নিষিদ্ধ বস্ত্ত সমূহ হ’তে দূরে থেকে ইসলাম নির্দেশিত পথে চলা। অথবা যে কাজ করার কারণে মানুষকে আল্লাহর শাস্তির সম্মুখীন হ’তে হবে, তা থেকে নিজেকে রক্ষা করা। আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত করুণা, ভালবাসা, দো‘আ ও অনুগ্রহ হারানোর ভয় অন্তরে সদা জাগ্রত থাকার নাম ‘তাক্বওয়া’।[3]

আলী ইবনু আবী ত্বালেব (রাঃ) তাক্বওয়ার পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন,التَّقْوَى هِيَ الْخَوْفُ مِنَ الْجَلِيْلِ وَالْعَمَلُ بِالتَّنْزِيْلِ وَالْقَنَاعَةُ بِالْقَلِيْلِ وَالاِسْتِعْدَادُ لِيَوْمِ الرَّحِيْلِ- ‘তাক্বওয়া’ হ’ল, মহান আল্লাহকে ভয় করে চলা, কুরআন অনুযায়ী আমল করা, অল্পে তুষ্ট থাকা এবং মৃত্যুর দিনের জন্য সদা প্রস্ত্তত থাকা’।[4]

ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) একবার উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-কে বললেন, ‘আপনি তাক্বওয়া সম্পর্কে আমাকে বলুন’। জবাবে তিনি বললেন, ‘আপনি কি কখনো কাঁটা বিছানো পথে চলেছেন?’ ওমর (রাঃ) বললেন, ‘হ্যাঁ’। কা‘ব (রাঃ) বললেন, ‘সেখানে আপনি কিভাবে চলেছেন?’ ওমর (রাঃ) বললেন, ‘কাপড়-চোপড় গুটিয়ে অত্যন্ত সাবধানে চলেছি’। কা‘ব (রাঃ) বললেন, ‘ওটাই তো তাক্বওয়া’।[5]

তাক্বওয়ার গুরুত্ব ও ফযীলত :

শরী‘আতে তাক্বওয়ার গুরুত্ব ও ফযীলত অপরিসীম। তাক্বওয়ার কারণে মানুষের আচরণ পরিশীলিত হয়, ভাষা মার্জিত হয়, কর্মকান্ড সুন্দর হয় এবং তার দ্বারা দেশ ও জাতি উপকৃত হয়। ফলে সে দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ লাভ করে। তাক্বওয়ার গুরুত্বের কতিপয় দিক নিম্নে উল্লেখ করা হ’ল।-

(১) তাক্বওয়া অবলম্বন করা আল্লাহর নির্দেশ : তাক্বওয়া অবলম্বনের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের প্রতি নির্দেশ রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, وَلَقَدْ وَصَّيْنَا الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَإِيَّاكُمْ أَنِ اتَّقُوا اللهَ ‘আর নিশ্চিতভাবে আমরা আদেশ করেছিলাম তোমাদের পূর্ববর্তী কিতাবধারীদের প্রতি এবং তোমাদের প্রতি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর’ (নিসা ৪/১৩১)। এ আয়াত মানবজাতির জন্য আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে পূর্বাপর সকল মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অছিয়ত। যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ তাদের উম্মতদেরকে এ বিষয়ে অছিয়ত করেছেন’।[6]

(২) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপদেশ হ’ল তাক্বওয়া অবলম্বন করা : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পক্ষ থেকে ছাহাবীদের প্রতি তাক্বওয়ার বিশেষ অছিয়ত ছিল। আতা ইবনে ইয়ামার (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) যখন মু‘আয (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠান, তখন মু‘আয (রাঃ) বলেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমাকে কিছু অছিয়ত করুন। নবী করীম (ছাঃ) বললেন, عليكَ بتقوى اللهِ، ‘তোমার জন্য আবশ্যক হ’ল তাক্বওয়া অবলম্বন করা’।[7] আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমি সফরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছি, অতএব আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন,عَلَيْكَ بِتَقْوَى اللهِ وَالتَّكْبِيرِ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ، ‘অবশ্যই তুমি আল্লাহভীতি অবলম্বন করবে এবং প্রতিটি উচ্চ জায়গায় যাওয়ার সময় তাকবীর ধ্বনি দিবে’।[8]

এমনকি তিনি কোন সৈন্যদল প্রেরণের সময়ও তাক্বওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দিতেন। সুলায়মান ইবনু বুরায়দা (রাঃ) হ’তে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন,كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا بَعَثَ أَمِيرًا عَلَى جَيْشٍ أَوْصَاهُ فِي خَاصَّةِ نَفْسِهِ بِتَقْوَى اللهِ وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا، ‘যখন কোন লোককে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কোন বাহিনীর আমীর করে পাঠাতেন তখন তাকে বিশেষ করে আল্লাহভীতির উপদেশ দিতেন এবং তার সাথের মুসলিমদের সাথে সৎ ও কল্যাণময় আচরণের নির্দেশ দিতেন’।[9] এছাড়া ছাহাবীগণ উপদেশ চাইলেও তিনি তাক্বওয়ার উপদেশ দিতেন। ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদিন ফজরের ছালাতের পর আমাদের দিকে ফিরে বসে মর্মস্পশী বক্তব্য দিলেন, যাতে (আমাদের) সকলের চোখ অশ্রুসজল হ’ল এবং অন্তর ভীত হ’ল। কোন একজন বলল, এ তো বিদায়ী নছীহত। হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আপনি আমাদেরকে আর কি উপদেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন,أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدٌ حَبَشِيٌّ، ‘আমি তোমাদেরকে আল্লাহকে ভয় করার এবং (নেতার আদেশ) শ্রবণ ও মান্য করার উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে (নেতা) হাবশী ক্রীতদাস হয়ে থাকে’।[10]

(৩) তাক্বওয়া পূর্বসূরীদের অছিয়ত : নবী-রাসূলগণের পরে যুগে যুগে আল্লাহর সৎ বান্দাগণ তাক্বওয়ার অছিয়ত করতেন। আলী (রাঃ) বলেন,أوصيكم بتقوى الله في الغيب والشَّهادة، وكلمة الحقِّ في الرِّضا والغضب، والقصد في الغِنَى والفقر، والعدل في الصَّديق والعدو، والعمل في النَّشَاط والكسل، ‘আমি তোমাদেরকে গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করার, সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি উভয় অবস্থায় সত্য কথা বলার, সচ্ছলতা ও অসচ্ছলতায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করার, শত্রু-মিত্র উভয়ের প্রতি ন্যায়বিচার করার এবং উদ্যম ও অলসতা উভয় অবস্থায় কর্মনিষ্ঠ হওয়ার উপদেশ দিচ্ছি’।[11]

আতা ইবনু আবী রাবাহ (রহঃ) বলেন, ওয়ালীদ ইবনু উবাদাহ ইবনে ছামেতকে মৃত্যুকালে তার পিতা উপদেশ দিয়ে বলেন,يأ بني، أوصيك بتقوى الله، واعلم أنك لن تتقي الله عز وجل حتى تؤمن بالله، واعلم أنك لن تؤمن بالله ولن تطعم طعم حقيقة الإيمان، ولن تبلغ العلم، حتى تؤمن بالله وتؤمن بالقدر كله خيره وشره. ‘হে বৎস! আমি তোমাকে আল্লাহভীতির উপদেশ দিচ্ছি। আর জেনে রাখ, তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত তাক্বওয়া অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করবে। আর ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে ও ঈমানের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে না এবং জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না তুমি আল্লাহর প্রতি ও তাক্বদীরের ভাল-মন্দের প্রতি পূর্ণরূপে ঈমান আনবে’।[12]

আববাসীয় খলীফা আবু জা‘ফর আল-মানছূর স্বীয় সন্তান মাহদীকে উপদেশ দিয়ে বলেন,إِنَّ الْخَلِيفَةَ لاَ يُصْلِحُهُ إِلاَّ التَّقْوَى، وَالسُّلْطَانَ لاَ يُصْلِحُهُ إِلاَّ الطَّاعَةُ. وَالرَّعِيَّةَ لاَ يُصْلِحُهَا إِلاَّ الْعَدْلُ، وَأَوْلَى النَّاسِ بِالْعَفْوِ أَقْدَرُهُمْ عَلَى الْعُقُوبَةِ، وَأَنْقَصُ النَّاسِ عَقْلاً مَنْ ظَلَمَ مَنْ هُوَ دُونَهُ، ‘তাক্বওয়া ব্যতীত খলীফা সফলতা অর্জন করতে পারে না, আনুগত্য ব্যতীত বাদশাহ সফল হয় না, ন্যায়পরায়ণতা ব্যতীত কোন কিছু জনসাধারণকে ঠিক করতে পারে না। ঐ ব্যক্তি ক্ষমা করার অধিক যোগ্য, যিনি শাস্তি দানে অধিক যোগ্য। সবচেয়ে জ্ঞানহীন ঐ ব্যক্তি, যে তার অধঃস্তনের উপর যুলুম করে’।[13]

আলী ইবনুল মাদীনী (রহঃ) বলেন, আমি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ)-কে কিছু উপদেশ দিতে বললে তিনি বললেন, اجْعَلِ التَّقْوَى زَادَكَ، وانْصُبِ الآخِرَةَ أَمَامَكَ، ‘তুমি তাক্বওয়াকে সম্বল হিসাবে গ্রহণ কর এবং আখেরাতকে তোমার সম্মুখে স্থাপন কর’।[14]

(৪) জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাক্বওয়া অবলম্বন করা ওয়াজিব : তাক্বওয়া মানুষকে পার্থিব জীবনের নানা জটিলতা থেকে মুক্ত করে, সংকট দূর করে, জীবিকা বৃদ্ধি করে, তাই জীবনের সর্বক্ষেত্রে তাক্বওয়া অবলম্বন করা যরূরী। আবূ যার (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে বলেছেন, اتَّقِ اللهَ حَيْثُمَا كُنْتَ ‘তুমি যেখানেই থাক আল্লাহকে ভয় কর’।[15] ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, والتقوى واجبة على الخلق، وقد أمر الله بها ووصى بها في غير موضع، وذم من لا يتقي الله ومن استغنى عن تقواه توعده، ‘সৃষ্টির উপরে তাক্বওয়া অর্জন করা ওয়াজিব। যে ব্যাপারে আল্লাহ একাধিক স্থানে নির্দেশ ও উপদেশ দিয়েছেন। যে ব্যক্তি তাক্বওয়া অর্জন করে না আল্লাহ তার নিন্দা করেছেন। আর যে তাক্বওয়া অর্জন থেকে অমুখাপেক্ষী হয়, তাকে শাস্তি দেওয়া হয়’।[16]

(৫) মুত্তাক্বী ছাড়া আমল কবুল করা হয় না : আমল কবুলের অন্যতম শর্ত হ’ল আল্লাহকে ভয় করা ও তাঁর জন্যই আমল করা। মহান আল্লাহ আদম সন্তানদের কুরবানী সম্পর্কে বলেন, إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাক্বীদের নিকট থেকে কবুল করেন’ (মায়েদাহ ৫/২৭)। আলী (রাঃ) বলেন,كونوا ‌لقبول ‌العمل ‌أشد ‌اهتماما ‌منكم ‌بالعمل، فإنّه لن يقلّ عمل مع التّقوى، وكيف يقلّ عمل متقبّل؟ ‘তোমরা আমল করার চেয়ে আমল কবুল হওয়ার ব্যাপারে অধিক গুরুত্ব দাও। কেননা তাক্বওয়ার সাথে সম্পাদিত কোন আমল অল্প হয় না, তাহ’লে কবুলযোগ্য আমল কিভাবে অল্প হবে’?[17]

(৬) তাক্বওয়া হিদায়াতের পথ দেখায় : মুমিনের অন্যতম চাওয়া-পাওয়া হচ্ছে ছিরাতে মুস্তাক্বীম তথা সরল পথ (ফাতিহা ১/৫)। আর তাক্বওয়া সরল পথে চলা সহজ করে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন,فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى، وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى، فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى، ‘অতঃপর যে ব্যক্তি দান করে ও তাক্বওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করে, অচিরেই আমরা তাকে সরল পথের জন্য সহজ করে দেব’ (লায়েল ৯২/৫-৭)। যায়েদ বিন আসলাম বলেন, ‘সরল পথ’ বলতে জান্নাতের পথকে বুঝানো হয়েছে।[18] আর মহাগ্রন্থ আল-কুরআন থেকে কেবল তাক্বওয়াশীলরাই হেদায়াত লাভ করতে পারে। মহান আল্লাহ বলেন, ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ ‘এই কিতাব, যাতে কোনই সন্দেহ নেই। যা আল্লাহভীরুদের জন্য পথ প্রদর্শক’ (বাক্বারাহ ২/২)

(৭) কুরআন কেবল তাক্বওয়াশীলদের জন্য উপদেশ গ্রন্থ : কুরআন উপদেশ গ্রন্থ (ইউনুস ১০/৫৭; হিজর ১৫/৯)। আর এই উপদেশ ঐ ব্যক্তির জন্য, যার মধ্যে অনুধাবন করার মত অন্তর রয়েছে এবং যে মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে (ক্বাফ ৫০/৩৭)। আর কুরআন মুত্তাক্বীর জন্য উপদেশ গ্রন্থ। মহান আল্লাহ বলেন, وَإِنَّهُ لَتَذْكِرَةٌ لِلْمُتَّقِينَ ‘নিশ্চয়ই এটি আল্লাহভীরুদের জন্য উপদেশ গ্রন্থহ’ (হাক্বাহ ৬৯/৪৮)। ইমাম তাবারী বলেন, ‘যারা ফরয আদায়ের মাধ্যমে ও পাপ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহকে ভয় করে, কুরআন তাদের জন্যই উপদেশ গ্রন্থ’।[19]

(৮) তাক্বওয়া সকল সমস্যার সমাধান করে : আল্লাহভীতি অর্জন করলে মুত্তাক্বীর সকল সমস্যা আল্লাহ সমাধান করে দেন। মহান আল্লাহ বলেন,وَمَنْ يَتَّقِ اللهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا، وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ‘বস্ত্ততঃ যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উপায় বের করে দেন। আর তিনি তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে রিযিক প্রদান করে থাকেন’ (তালাক ৬৫/২-৩)

(৯) তাক্বওয়া পাপ থেকে বাঁচিয়ে রাখে : দুনিয়ার কোন আইন, কোন প্রশাসন মানুষকে পাপ থেকে পরিপূর্ণরূপে বাঁচাতে পারে না। বরং আল্লাহর যথাযথ ভয়ই মানুষকে পাপ থেকে বিরত রাখতে পারে। পূর্ব যুগে পাহাড়ের গুহায় আটকে পড়া তিন যুবকের একজন তার প্রেমিকার সাথে অন্যায় কাজে লিপ্ত হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে মেয়েটি বলেছিল, يَا عَبْدَ اللهِ اتَّقِ اللهَ،হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় কর’। এই কথায় যুবকটি আল্লাহকে ভয় করে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত হয়।[20]

(১০) তাক্বওয়াশীলের কাজ আল্লাহ সহজ করে দেন : আল্লাভীরু ব্যক্তির জন্য দুনিয়ার সকল কিছু সহজ হয়ে যায়। মহান আল্লাহ বলেন, وَمَنْ يَتَّقِ اللهَ يَجْعَلْ لَهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য কর্ম সহজ করে দেন’ (তালাক ৬৫/৪)। মানুষের মহান সফলতা জান্নাত (আলে ইমরান ৩/১৮৫) লাভের জন্য ছিরাতে মুস্তাক্বীম চলার পথও সহজ করে দেন। মহান আল্লাহ বলেন,فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى، وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى، فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى، ‘অতঃপর যে ব্যক্তি দান করে ও আল্লাহভীরু হয় এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করে, অচিরেই আমরা তাকে সরল পথের জন্য সহজ করে দেব’ (লায়েল ৯২/৫-৭)

(১১) তাক্বওয়া কর্মসমূহকে সংশোধন করে : তাক্বওয়াশীল ব্যক্তির কর্মকান্ড আল্লাহ সংশোধন করে দেন। মহান আল্লাহ বলেন,يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا- ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তাহ’লে তিনি তোমাদের কর্মসমূহকে সংশোধন করে দিবেন ও তোমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা করবেন’ (আহযাব ৩৩/৭০-৭১)

(১২) তাক্বওয়া উপকারী জ্ঞান লাভের মাধ্যম: পরহেযগার ব্যক্তিকে আল্লাহ উপকারী জ্ঞান দান করেন। মহান আল্লাহ বলেন, وَاتَّقُوا اللهَ وَيُعَلِّمُكُمُ اللهُ وَاللهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ، ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তোমাদেরকে (বিধান সমূহ) শিক্ষা দিচ্ছেন। বস্ত্ততঃ আল্লাহ সকল বিষয়ে অবগত’ (বাক্বারাহ ২/২৮২)

(১৩) তাক্বওয়াশীলকে আল্লাহ ভালবাসেন : মুত্তাক্বীকে আল্লাহ ভালবাসেন। মহান আল্লাহ বলেন,بَلَى مَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ وَاتَّقَى فَإِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ ‘হ্যাঁ, যে ব্যক্তি তার অঙ্গীকার পূর্ণ করে এবং আল্লাহকে ভয় করে, সে অবস্থায় আল্লাহ অবশ্যই মুত্তাক্বীদের ভালবাসেন’ (আলে ইমরান ৩/৭৬)। অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাক্বীকে ভালবাসেন’ (তওবা ৯/৪, ৭)। সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাছ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْعَبْدَ التَّقِيَّ الْغَنِيَّ الْخَفِيَّ، ‘আল্লাহ তা‘আলা মুত্তাক্বী, আত্মনির্ভরশীল ও লোকালয় হ’তে নির্জনে বাসকারী বান্দাকে ভালোবাসেন’।[21]

ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেছেন,جمع النبى بَين تقوى الله وَحسن الْخلق لِأَن تقوى الله يصلح مَا بَين العَبْد وَبَين ربه وَحسن الْخلق يصلح مَا بَينه وَبَين خلقه فتقوى الله توجب لَهُ محبَّة الله وَحسن الْخلق يَدْعُو إِلَى محبته، ‘নবী করীম (ছাঃ) আল্লাহভীতি ও উত্তম চরিত্রের মাঝে সমন্বয় করেছেন। কেননা তাক্বওয়া বান্দা ও তার রবের মাঝে সম্পর্ক দৃঢ় করে। আর উত্তম চরিত্র বান্দা ও সৃষ্টিকুলের মাঝে সম্পর্কের বন্ধন মযবূত করে। ফলে তাক্বওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর ভালবাসা অর্জিত হয়। আর উত্তম চরিত্র তাকে সৃষ্টির ভালবাসার দিকে টেনে নিয়ে যায়’।[22]

(১৪) আল্লাহ তাক্বওয়াশীলদের সাথে থাকেন : আল্লাহ মুত্তাক্বীদের সাথে থাকেন বলে কুরআনের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, وَاعْلَمُوا أَنَّ اللهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ ‘আর জেনে রেখ যে, আল্লাহ মুত্তাক্বীদের সঙ্গে আছেন’ (বাক্বারাহ ২/১৯৪; তওবা ৯/১২৩)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, إِنَّ اللهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ، ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন যারা আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মপরায়ণ’ (নাহল ১৬/১২৮)

আল্লাহ সাথে থাকার অর্থ হ’ল, আল্লাহ বান্দাদের সাথে তাদের সাহায্য, সমর্থন, সহযোগিতা, তাওফীক্ব ও হিদায়াত দানের মাধ্যমে থাকেন। যেমন হাদীছে কুদসীতে আল্লাহ বলেন, وَلاَيَزَالُ عَبْدِىْ يَتَقَرَّبُ إِلَىَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبُّهُ فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِىْ يَسْمَعُ بِهِ وَبَصَرَهُ الَّذِىْ يَبْصِرُ بِهِ وَيَدَهُ الَّتِى يَبْطِشُ بِهَا وَرِجْلَهُ الَّتِى يَمْشِى بِهَا، ‘বান্দা সর্বদা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে থাকলে অবশেষে আমি তাকে ভালবেসে ফেলি। তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে শুনে। তার চোখ হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে দেখে। তার হাত হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে ধারণ করে। তার পা হয়ে যাই যার মাধ্যমে সে হাটে’।[23] সাথে থাকা বলতে সত্তাগতভাবে সাথে থাকা নয়। যেমন আমরা অনেকে বলে থাকি, তুমি এ কাজ কর আমি তোমার সাথে আছি। এখানে সাথে থাকা অর্থ হ’ল সমর্থন করা, সাহায্য ও সহযোগিতা করা ইত্যাদি।

এছাড়া আরবরা বলে থাকে اَلْقَمَرُ مَعَنَا ‘চন্দ্র আমাদের সাথে’। অথচ চন্দ্র থাকে আকাশে আর মানুষ থাকে যমীনে। আমরা সফরের দো‘আয় বলে থাকি,اَللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِى السَّفِر وَالْخَلِيْفَةُ فِى الْأَهْلِ، ‘হে আল্লাহ আপনি আমাদের সফরের সাথী ও পরিবারের প্রতিনিধি’।[24]

(১৫) তাক্বওয়া বান্দার পাপ মোচন করে : তাক্বওয়া বা আল্লাহকে ভয় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং বান্দার পাপ মোচনের অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَمَنْ يَتَّقِ اللهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُعْظِمْ لَهُ أَجْرًا، ‘বস্ত্ততঃ যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার পাপসমূহ মোচন করেন ও তাকে মহা পুরস্কারে ভূষিত করেন’ (তালাক ৬৫/৫) অন্যত্র তিনি বলেন,يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَتَّقُوا اللهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَانًا وَيُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ، ‘হে ঈমানদারগণ! যদি তোমরা আল্লাহভীরু হও, তাহ’লে তিনি তোমাদেরকে ‘ফুরক্বান’ তথা সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করার শক্তি দান করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন ও তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। বস্ত্ততঃ আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল’ (আনফাল ৮/২৯)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন,وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأَدْخَلْنَاهُمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ، ‘যদি আহলে কিতাবগণ ঈমান আনতো ও আল্লাহভীতি অবলম্বন করত, তাহ’লে আমরা অবশ্যই তাদের সকল পাপ মোচন করে দিতাম এবং তাদেরকে নে‘মতপূর্ণ জান্নাতে প্রবেশ করাতাম’ (মায়েদাহ ৫/৬৫)। এছাড়া আল্লাহ সূরা আহযাবের ৩৫নং আয়াতে আট শ্রেণীর লোককে ক্ষমা করার ঘোষণা দিয়েছেন তাদের একজন হ’ল আল্লাহভীরু পুরুষ ও নারী।

(১৬) তাক্বওয়া বরকত লাভের মাধ্যম : প্রত্যেক কল্যাণ ও বরকত আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে। তিনি কতক স্থানে, কতক সময়ে, কতক বস্ত্ততে ও কতক কাজে বরকত রেখেছেন। তাক্বওয়া বরকত লাভের অন্যতম মাধ্যম। মহান আল্লাহ বলেন,وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، ‘অথচ জনপদের অধিবাসীরা যদি বিশ্বাস স্থাপন করত ও আল্লাহভীরু হ’ত, তাহ’লে আমরা তাদের উপর আকাশ ও পৃথিবীর বরকতের দুয়ারসমূহ খুলে দিতাম’ (আ‘রাফ ৭/৯৬)

(১৭) আল্লাহর রহমত লাভ : বান্দা আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী। আল্লাহর রহমত প্রত্যেক বস্ত্তকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছে (আ‘রাফ ৭/১৫৬)। আর তাঁর রহমত তাঁর গযব অপেক্ষা অগ্রগ্রামী।[25] আল্লাহর রহমত পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হ’ল তাক্বওয়া। মহান আল্লাহ বলেন, وَاتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ، ‘আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও’ (হুজুরাত ৪৯/১০)

(১৮) শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি : শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শক্র (আ‘রাফ ৭/২২; ফাতির /৬)। শয়তান মানুষের মনে বিভিন্নভাবে কুমন্ত্রণা দিয়ে থাকে। আর কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার অন্যতম পথ হ’ল তাক্বওয়া। মহান আল্লাহ বলেন, إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوْا فَإِذَا هُمْ مُبْصِرُوْنَ، ‘নিশ্চয়ই যারা আল্লাহকে ভয় করে, শয়তানের কুমন্ত্রণা স্পর্শ করার সাথে সাথে তারা সচেতন হয়ে যায় এবং তাদের জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়’ (আ‘রাফ ৭/২০১)

(১৯) আল্লাহর সাহায্য লাভ : আল্লাহর সাহায্য লাভের অন্যতম মাধ্যম হ’ল তাক্বওয়া। বদর যুদ্ধের অবস্থা বর্ণনা করে মহান আল্লাহ বলেন,بَلَى إِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُمْ مِنْ فَوْرِهِمْ هَذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُمْ بِخَمْسَةِ آلَافٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُسَوِّمِينَ، ‘হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর ও আল্লাহভীরু হও এবং প্রতিপক্ষ তোমাদের উপর হঠাৎ আপতিত হয়, তাহ’লে তোমাদের পালনকর্তা পাঁচ হাযার চিহ্নিত ফেরেশতা দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন’ (আলে ইমরান ৩/১২৫)

(২০) তাক্বওয়াশীলরাই সম্মানী : আল্লাহভীতি দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত হওয়ার মাধ্যম। যে ব্যক্তি যতবেশী আল্লাহভীরু তিনি আল্লাহর নিকটে তত বেশী সম্মানিত। মহান আল্লাহ বলেন,إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقَاكُمْ ‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত ঐ ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক আল্লাহভীরু’ (হুজুরাত ৪৯/১৩)। উকবাহ্ ইবনু আমের (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের বংশ পরিচয় এমন জিনিস নয় যে, তোমরা এর কারণে অন্যকে মন্দ বলবে। তোমরা সবাই এক আদমের সন্তান। পাল্লার দু’দিক সমান। কোন একদিক পূর্ণ করে নিতে পারো না। দ্বীন ও আল্লাহভীতি ছাড়া তোমাদের কারো ওপর কারো মর্যাদা নেই।[26] আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,قِيْلَ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَنْ أَكْرَمُ النَّاسِ قَالَ أَتْقَاهُمْ، ‘হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! মানুষের মাঝে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে অধিক মুত্তাক্বী’।[27] বিদায় হজ্জের ভাষণেও এই মর্মে বর্ণিত হয়েছে, জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আইয়ামে তাশরীক্বের মধ্যবর্তী দিনে আমাদের উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণ দিয়ে বলেন, يا أيُّها الناسُ إنَّ ربَّكمْ واحِدٌ ألا لا فضلَ لِعربِيٍّ على عجَمِيٍّ ولا لِعجَمِيٍّ على عربيٍّ ولا لأحمرَ على أسْودَ ولا لأسودَ على أحمرَ إلَّا بالتَّقوَى إنَّ أكرَمكمْ عند اللهِ أتْقاكُمْ، ‘হে জনগণ! নিশ্চয়ই তোমাদের পালনকর্তা মাত্র একজন। তোমাদের পিতাও মাত্র একজন। মনে রেখ! আরবের উপর অনারবের, অনারবের উপর আরবের, লালের উপর কালোর এবং কালোর উপর লালের কোনরূপ প্রাধান্য নেই তাক্বওয়া ব্যতীত। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকটে সর্বাধিক সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক তাক্বওয়াশীল’।[28] সামুরাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত অন্য হাদীছে নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, الْحَسَبُ الْمَالُ وَالْكَرَمُ التَّقْوَى، ‘ধন-সম্পদ হ’ল আভিজাত্যের প্রতীক এবং তাক্বওয়া হ’ল সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক।[29]

আবুবকর ছিদ্দীক্ব (রাঃ) বলেন,‌وجدنا ‌الكرم ‌في ‌التقوى والغنى في اليقين والشرف في التواضع، ‘আমরা সম্মান পেয়েছি তাক্বওয়ার মাঝে, স্বচ্ছলতা পেয়েছি দৃঢ় ঈমানের মাঝে এবং মর্যাদা পেয়েছি বিনয়ের মাঝে’।[30] ইবরাহীম বিন শায়বান (রহঃ) বলেন,الشَّرْفُ فِي التَّوَاضُعِ وَالْعِزُّ فِي التَّقْوَى وَالْحُرِّيَّةُ فِي القَنَاعَةِ، ‘মর্যাদা রয়েছে বিনয়ের মধ্যে, সম্মান রয়েছে তাক্বওয়ার মধ্যে এবং স্বাধীনতা রয়েছে অল্পে তুষ্টির মধ্যে’।[31]

(২১) তাক্বওয়াশীলরা রাসূল (ছাঃ)-এর বন্ধু ও নিকটতর : আল্লাহভীরু ব্যক্তিরা যেমন আল্লাহর কাছে সম্মানিত, মানুষের কাছে নন্দিত বরিত তেমনি তারা রাসূল (ছাঃ)-এরও নিকটতর লোক। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,إنَّ أوْلى الناسِ بِيَ الْمُتَّقُونَ، مَنْ كانُوا وحيْثُ كانُوا، ‘আমার সবচেয়ে কাছের লোক তারাই যারা তাক্বওয়াশীল, তারা যেই হোক না কেন এবং যেখানেই থাকুক না কেন’।[32] আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, إنَّ أوليائي يومَ القيامةِ المتقونَ وإن كان نَسَبٌ أقربَ من نَسَبٍ، ‘আমার বন্ধু হবে ক্বিয়ামতের দিন কেবল মুত্তাক্বীগণ। যদিও এক বংশ অন্য বংশের চাইতে নিকটবর্তী হবে’।[33]

(২২) তাক্বওয়াশীলকে সত্য-মিথ্যার প্রার্থক্য করার ক্ষমতা দিবেন : কুরআন সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী (বাক্বারাহ ২/১৮৫) যা ন্যায়-অন্যায়, হালাল-হারামের মধ্যে পার্থক্য করে। আর তাক্বওয়াশীলকে আল্লাহ তা‘আলা এই পার্থক্যকারী শক্তি দান করেন। মহান আল্লাহ বলেন,يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَتَّقُوا اللهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَانًا وَيُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ، ‘হে ঈমানদারগণ! যদি তোমরা আল্লাহভীরু হও, তাহ’লে তিনি তোমাদের সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করার শক্তি দান করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন ও তোমাদের ক্ষমা করে দিবেন। বস্ত্ততঃ আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল’ (আনফাল ৮/২৯)

(২৩) তাক্বওয়া সকল কল্যাণের মূল : পার্থিব জীবনে যাবতীয় কল্যাণের চাবিকাঠি হচ্ছে তাক্বওয়া অর্জন করা। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, এক লোক তার নিকট এসে বলল, আমাকে উপদেশ দিন। তখন তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে এ বিষয়ে তোমার পূর্বে বলেছিলাম। তখন তিনি বললেন, হে আবু সাঈদ! أُوصيكَ بِتَقْوى اللهِ فإنَّهُ رَأْسُ كلِّ شيءٍ، ‘আমি তোমাকে আল্লাহভীরুতার উপদেশ দিচিছ। নিশ্চয়ই তাক্বওয়াই হচ্ছে সব কিছুর মূল’।[34]

(২৪) তাক্বওয়াশীলরাই বন্ধু হওয়ার যোগ্য : বন্ধুর চরিত্রেই মানুষ প্রভাবিত হয়ে উঠে।[35] তাই তাক্বওয়াশীলরাই বন্ধু হওয়ার যোগ্য। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন,لَا تُصَاحِبْ إِلَّا مُؤْمِنًا، وَلَا يَأْكُلْ طَعَامَكَ إِلَّا تَقِيٌّ، ‘তুমি মুমিন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গী হবে না এবং তোমার খাদ্য যেন তাক্বওয়াশীল লোক ব্যতীত কেউ না খায়’।[36]

ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন,لَا تَعْتَرِضْ لِمَا لَا يَعْنِيكَ وَاعْتَزِلْ عَدُوَّكَ وَاحْذَرْ صَدِيقَكَ إِلَّا الْأَمِينَ مِنَ الْأَقْوَامِ، وَلَا أَمِينٌ إِلَّا مَنْ خَشِيَ اللهَ، وَلَا تَصْحَبْ الْفَاجِرَ فَيُعَلِّمْكَ مِنْ فُجُورِهِ، وَلَا تُطْلِعْهُ عَلَى سِرِّكَ وَاسْتَشِرْ فِي أَمْرِكَ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ اللهَ، ‘তুমি অনর্থক কোন কিছুতে জড়াবে না। তোমার শত্রুকে এড়িয়ে চলবে। বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছাড়া কাউকে বন্ধু বানানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করবে। আর তাক্বওয়াশীল ছাড়া কেউই বিশ্বস্ত নয়। তুমি পাপিষ্ঠ ব্যক্তির সাথে চলাফেরা করবে না। অন্যথা সে তোমাকে পাপের বিষয় শিক্ষা দিবে এবং তাকে তোমার গোপনীয় বিষয় জানাবে না। আর যারা আল্লাহকে ভয় করে তাদের সাথে তোমার বিষয়ে পরামর্শ করবে’।[37]

(২৫) তাক্বওয়ার কাজে সহযোগিতা করা আল্লাহর নির্দেশ : তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতির কাজে সহযোগিতা করার জন্য মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ‘তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তি দানকারী’ (মায়েদাহ ৫/২)

(২৬) তাক্বওয়ার পোষাকই সর্বোত্তম : মানুষের লজ্জাস্থান ঢেকে রেখে তাদের ইয্যত-আব্রু রক্ষা করার জন্য মহান আল্লাহ পোষাক নাযিল করেন। তবে তিনি তাক্বওয়ার পোষাককে উত্তম বলেছেন। মহান আল্লাহ বলেন,يَابَنِي آدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَى ذَلِكَ خَيْرٌ ذَلِكَ مِنْ آيَاتِ اللهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ، ‘হে আদম সন্তান! আমরা তোমাদের উপর পোষাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান সমূহকে আবৃত করে এবং অবতীর্ণ করেছি বেশভূষার উপকরণ সমূহ। তবে আল্লাহভীতির পোষাকই সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্যতম। যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে’ (আ‘রাফ ৭/২৬)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন,خير الدنيا والآخرة في خمس خصال غنى النفس وكف الأذى وكسب الحلال ولباس التقوى والثقة بالله عز وجل على كل حال- ‘দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ পাঁচটি বিষয়ে নিহিত থাকে। (১) মনের প্রাচুর্য (২) কাউকে কষ্ট না দেওয়া (৩) হালাল উপার্জন (৪) তাক্বওয়ার পোষাক এবং (৫) সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা করা’।[38]

(২৭) তাক্বওয়া বান্দার সর্বোত্তম পাথেয় : হজ্জের সফরের জন্য পাথেয় সঙ্গে নেওয়ার নির্দেশ দানের পর তাক্বওয়ার পাথেয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন,وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى، ‘আর তোমরা পাথেয় সঙ্গে নাও। নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হ’ল তাক্বওয়া’ (বাক্বারাহ ২/১৯৭)। আনাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ)-এর কাছে এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমি সফরে যাওয়ার ইচ্ছা করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন, زَوَّدَكَ اللهُ التَّقْوَى ‘আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে তাক্বওয়ার পাথেয় দান করুন’। সে বলল, আরো বেশী দিন। তিনি বললেন, তোমার গুনাহ আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করুন। সে বলল, আমার মাতা-পিতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক! আমাকে আরো বেশী দান করুন। তিনি বললেন, তিনি তোমার জন্য মঙ্গলকে সহজতর করুন, তুমি যেখানেই থাক’।[39]

(২৮) তাক্বওয়াশীলরা আল্লাহর বন্ধু : মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি। মহান আল্লাহ স্রষ্টা হয়েও মানুষের মধ্যে মুত্তাক্বীদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেন। আল্লাহ বলেন, وَاللهُ وَلِيُّ الْمُتَّقِينَ ‘আর আল্লাহ হ’লেন মুত্তাক্বীদের বন্ধু’ (জাছিয়া ৪৫/১৯)। আল্লাহর বন্ধুদের পরকালীন জীবনে ভীতিহীন ও চিন্তামুক্ত অবস্থানের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ، الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ، ‘মনে রেখ (আখেরাতে) আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তান্বিত হবে না। যারা ঈমান আনে ও সর্বদা আল্লাহকে ভয় করে’ (ইউনুস ১০/৬২-৬৩)

(২৯) তাক্বওয়াশীলরা সর্বোত্তম : যারা আল্লাহকে ভয় করে তারা নম্র-ভদ্র, সুন্দর ভাষা ব্যবহারকারী হয়। তারা কোন মানুষের উপরে যুলুম করে না। কারো সম্পদ আত্মসাৎ করে না। মোটকথা তারা হয় সর্বোত্তম মানুষ। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলা হ’ল, কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি বলেন,كُلُّ مَخْمُومِ الْقَلْبِ صَدُوقِ اللِّسَانِ‏.‏ قَالُوا صَدُوْقُ اللِّسَانِ نَعْرِفُهُ فَمَا مَخْمُومُ الْقَلْبِ قَالَ‏ هُوَ التَّقِيُّ النَّقِيُّ لاَ إِثْمَ فِيهِ وَلاَ بَغْىَ وَلاَ غِلَّ وَلاَ حَسَدَ،‏ ‘প্রত্যেক বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী সত্যভাষী ব্যক্তি। তারা বলেন, সত্যভাষীকে তো আমরা চিনি, কিন্তু বিশুদ্ধ অন্তরের ব্যক্তি কে? তিনি বলেন, সে হ’ল তাক্বওয়াশীল, পূত-পবিত্র নিষ্কলুষ চরিত্রের মানুষ যার কোন গুনাহ নেই, নেই কোন দুশমনি, হিংসা-বিদ্বেষ, আত্মহমিকা ও কপটতা’।[40]

(৩০) ক্ষমতা লাভের জন্য তাক্বওয়ার প্রয়োজন: দুনিয়াতে আল্লাহ মুমিন ও নেক আমলকারীদেরকে যেমন খিলাফত দান করবেন (নূর ২৪/৫৫) তেমনি তাক্বওয়াশীলকেও প্রতিষ্ঠা দান করবেন। মহান আল্লাহ বলেন,وَلَنُسْكِنَنَّكُمُ الْأَرْضَ مِنْ بَعْدِهِمْ ذَلِكَ لِمَنْ خَافَ مَقَامِي وَخَافَ وَعِيدِ ‘তাদের পরে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে দেশে প্রতিষ্ঠিত করব। এটা তাদের জন্য যারা আমার সম্মুখে দন্ডায়মান হওয়াকে এবং আমার শাস্তিকে ভয় পায়’ (ইব্রাহীম ১৪/১৪)। মূসা (আঃ) তার কওমের

লোকদের বলল, তোমরা আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা কর ও ধৈর্যধারণ কর। এই পৃথিবীর মালিকানা আল্লাহর। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে চান এর উত্তরাধিকারী করেন। আর শুভ পরিণাম কেবল তাক্বওয়াশীলদের জন্যই’.. শ্রীঘ্রই তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের শক্রকে ধ্বংস করবেন এবং জনপদে তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন’ (আ‘রাফ ৭/১২৮-১২৯)

(৩১) তাক্বওয়া শক্রদের চক্রান্ত থেকে রক্ষা করে : মহান আল্লাহ মুত্তাক্বীদেরকে শত্রুদের শত্রুতা ও দুশমনের দুশমনি হ’তে রক্ষা করেন। আল্লাহ বলেন,وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا إِنَّ اللهَ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ، ‘কিন্তু যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর ও আল্লাহভীরু হও, তাহ’লে ওদের চক্রান্ত তোমাদের কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয়ই তারা যা কিছু করে, সবই আল্লাহ বেষ্টন করে আছেন’ (আলে ইমরান ৩/১২০)

(৩২) তাক্বওয়া আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করে : দুনিয়াতে আল্লাহ বান্দাকে অনেক কারণে আযাব দিয়ে থাকেন। আর তাক্বওয়া দুনিয়ার আযাব থেকে রক্ষা করে। মহান আল্লাহ বলেন, وَأَنْجَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ ‘আর যারা ঈমান এনেছিল ও আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করেছিল, তাদেরকে আমরা রক্ষা করেছিলাম’ (নামল ২৭/৫৩)। ছালেহ (আঃ)-কে ধ্বংস থেকে রক্ষা প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন,وَنَجَّيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ، ‘আর আমরা রক্ষা করলাম তাদেরকে যারা ঈমান এনেছিল এবং আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করেছিল’ (হা-মীম-সাজদাহ ৪১/১৮)

[ক্রমশঃ]

  মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদুদ

তুলাগাঁও নোয়াপাড়া, দেবিদ্বার, কুমিল্লা।


[1]. ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, মু‘জামুল ওয়াফী, পৃ. ৩১০।

[2]. বুখারী হা/১৪১৭, মুসলিম হা/১০১৬।

[3]. ইসলামী বিশ্বকোষ, ১২শ খন্ড (ঢাকা : ইফাবা ১৯৯২), পৃঃ ১০৭।

[4]. শানক্বীত্বী, লাওয়ামি‘উদ দুরার, পৃঃ ১১০; কাওছারুল মা‘আনী আদ-দারারী, পৃঃ ৪০১; সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, পৃঃ ৪২১।

[5]. আলাউদ্দীন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-বাগদাদী, লুবাতুত তাবীল ফী মা‘আনিত তানযীল, ১ম খন্ড (বৈরূত : দারুল ফিকর, ১৯৭৯ খৃঃ), পৃঃ ২৮।

[6]. কুরআনুল কারীম (বঙ্গানুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তাফসীর) মদীনা: বাদশাহ্ ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স, ১/৪৮৯।

[7]. সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩৩২০।

[8]. তিরমিযী হা/৩৪৪৫; ইবনু মাজাহ হা/২৭৭১।

[9]. মুসলিম হা/১৭৩১; তিরমিযী হা/১৪০৮।

[10]. তিরমিযী হা/২৬৭৬; ইবনু মাজাহ হা/৪২।

[11]. ছা‘আলাবী, আল-ই‘জায ওয়াল ঈ‘জায, পৃ. ৪৩।

[12]. ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম, তাক্বওয়া, পৃ. ৪৫-৪৬; গৃহীত: লালকাঈ ই‘তিক্বাদ আহলিস সুন্নাহ, ২/২১৮; ফিরইয়াবী, আল-ক্বদর, পৃঃ ৪২৫; আবুবকর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-আজরী, আশ-শরী‘আহ ৪/৮৯।

[13]. ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১০/১২৬।

[14]. ইবনুল জাওযী, মানাক্বিবুল ইমাম আহমাদ, পৃঃ ২০০।

[15]. তিরমিযী হা/১৯৮৭; আলবানী: ছহীহ আত-তারগীব হা/২৬৫৫।

[16]. শরহু উমদাতুল আহকাম ৩/৬২৭ পৃ.। গৃহীত. ড. মুহাম্মদ কাবীরুল ইসলাম, তাক্বওয়া, পৃ. ৯।

[17]. হিলয়াতুল আওলিয়া ১/৭৫; সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ১১/২৯৯।

[18]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, সূরা লায়েল ৭ নং আয়াতের তাফসীর দ্র.।

[19]. তাফসীরে ত্বাবারী ২৩/৫৯৫, হাক্কাহ ৪৮ আয়াতের ব্যাখ্যা দ্র:

[20]. বুখারী হা/২৩৩৩, ৩৪৬৫।

[21]. মুসলিম হা/২৯৬৫।

[22]. ইবনুল ক্বাইয়িম, আল-ফাওয়াইদ, পৃ. ৫৪।

[23]. বুখারী, হা/৬৫০২; মিশকাত হা/২২৬৬।

[24]. মুসলিম, রিয়াযুছ ছালেহীন হা/৯৭২।

[25]. বুখারী হা/৭৮০৪; মুসলিম হা/৭১৪৫

[26]. আহমাদ ৪/১৪৫; ‘বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান ৫১৪৬; ছহীহাহ ১০৩৮; মিশকাত হা/৪৯১০।

[27]. বুখারী হা/৩৩৫৩।

[28]. বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৫১৩৭; ছহীহাহ হা/২৭০০।

[29]. তিরমিযী হা/৩২৭১; ইবনু মাজাহ হা/৪২১৯; ইরওয়া হা/১৮৭০।

[30]. গাযালী, ইহইয়াউ ‘উলূমিদ্দীন ৩/৩৪৩।

[31]. ইবনুল ক্বাইয়িম, মাদারিজুস সালেকীন ২/৩৩০।

[32]. আহমাদ হা/২২০৫২; ছহীহুল জামে হা/২০১২।

[33]. আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৮৯৭; ত্বাবরাণী কাবীর হা/৪৫৪৪।

[34]. আহমাদ হা/১১৭৭৪; ছহীহাহ হা/৫৫৫; ছহীহুল জামে‘ হা/২৫৪৩।

[35]. বুখারী হা/২১০১, মুসলিম হা/২৬২৮।

[36]. তিরমিযী হা/২৩৯৫; আবূদাঊদ হা/৪৮৩২; ছহীহুত তারগীব হা/৩০৩৬।

[37]. মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৩৪৪৫০, সনদ হাসান, তাহক্বীক্ব : আব্দুস সালাম বিন মুহসিন।

[38]. ইমান নববী, বুস্তানুল ‘আরেফীন, পৃ. ৩১।

[39]. তিরমিযী হা/৩৪৪৪; ইবনু খুযাইমা হা/২৫৩২।

[40]. ইবনু মাজাহ হা/৪২১৬; ছহীহাহ হা/৯৪৮।






বিষয়সমূহ: আমল
আল-কুরআনে আক্বীদার পাঠ - ড. আব্দুল্লাহিল কাফী মাদানী
আল্লাহর সাথে আদব সমূহ - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
মানবাধিকার ও ইসলাম - শামসুল আলম
কুরআনের আলোকে ভূমি জরিপ ও ভূমি ব্যবস্থাপনা - মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
মাসায়েলে কুরবানী - আত-তাহরীক ডেস্ক
পরকীয়া : কারণ ও প্রতিকার - মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদূদ
সকল সৃষ্টির ইবাদত ও আনুগত্য - রফীক আহমাদ - বিরামপুর, দিনাজপুর
সফরের আদব - মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদূদ
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ঈমান (৩য় কিস্তি) - হাফেয আব্দুল মতীন - পিএইচ.ডি গবেষক, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মালয়েশিয়া
সিজদায় গমনকালে আগে হাঁটু রাখতে হবে নাকি হাত? - আহমাদুল্লাহ - সৈয়দপুর, নীলফামারী
নফসের উপর যুলুম - ইহসান ইলাহী যহীর
নফল ছিয়াম সমূহ - আত-তাহরীক ডেস্ক
আরও
আরও
.