গত ২৯শে জুন’১৭ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়েছে। যা ১লা জুলাই’১৭ থেকে কার্যকর হবে। বাজেটের প্রধান দিকগুলি নিম্নরূপ।-

(১) রাজস্ব আয় ২ লাখ ৮৭ হাযার ৯৯১ কোটি টাকা। (২) অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় ২ লাখ ৩৪ হাযার ১৩ কোটি টাকা। (৩) ঘাটতি ১ লাখ ১২ হাযার ২৭৬ কোটি টাকা। (৪) দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৪ শতাংশ। যা গত বাজেটে ছিল ৭.২ শতাংশ। (৫) ব্যাংকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের উপর কোন শুল্ক নয়। ১-৫ লাখ পর্যন্ত আমানতের উপর আবগারি শুল্ক ১৫০ টাকা। ৫-১০ লাখ পর্যন্ত ৫০০ টাকা। ১০ লাখ-১ কোটি পর্যন্ত ২৫০০ টাকা। ১-৫ কোটি পর্যন্ত ১২০০০ টাকা। ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে ২৫০০০ টাকা।

(৬) নতুন ভ্যাট (উৎসে কর) আইনে প্রায় সবক্ষেত্রে একক ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করার যে প্রস্তাব করা হয়েছিল, সেটি দু’বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে ২০১২ সাল থেকে কার্যকর ভ্যাট হারই বহাল থাকবে। (৭) তৈরী পোষাক খাতের উপর উৎসে কর ১ শতাংশ বহাল।

মোট বরাদ্দের (১) শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১৬.৪ শতাংশ (২) জনপ্রশাসন খাতে ১৩.৬ শতাংশ (৩) পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ১২.৫ শতাংশ (৪) সূদ প্রদান খাতে ১০.৪ শতাংশ (৫) স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৬.৯ শতাংশ (৬) প্রতিরক্ষা খাতে ৬.৪ শতাংশ (৭) কৃষি খাতে ৬.১ শতাংশ (৮) সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৬ শতাংশ (৯) জনশৃংখলা ও নিরাপত্তা খাতে ৫.৭ শতাংশ (১০) জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫.৩ শতাংশ (১১) স্বাস্থ্য খাতে ৫.২ শতাংশ (১২) শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস খাতে ১ শতাংশ (১৩) বিবিধ ব্যয় খাতে ২.৭ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সরকারী দল বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে। বিএনপি বাজেটকে ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ বাজেট বলেছে এবং এটি পাসের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বাসদ নেতারা একে ‘লুণ্ঠনের বৈধতা দেওয়া’র বাজেট বলে আখ্যায়িত করেছে। অর্থনীতিবিদগণ বাজেটের ঘাটতি মোকাবিলা কঠিন হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে নতি স্বীকারকে ‘রাজনীতির কাছে অর্থনীতির পরাজয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।







আরও
আরও
.