ঢাকা শহরে সন্তান জন্মদানের জন্য অনেকেরই লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। অনেকে সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন বলেও পত্রিকায় রিপোর্ট এসেছে। অথচ মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা এক স্কুলশিক্ষিকার দুই সন্তানের জন্মে খরচ হয়েছে মাত্র ৭৫ টাকা! প্রথমটিতে ১০ টাকা এবং দ্বিতীয়টিতে যরূরী সেবা নিতে হওয়ায় ৬৫ টাকার টিকিট কাটতে হয়েছিল বলে খরচ সামান্য বেড়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত ‘মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার এবং ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতাল’-এর ভেতরে প্রবেশ করলেই পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস, সবুজ মাঠ আর গাছপালা যেন রোগীদের চোখ জুড়িয়ে দেয়। অন্যান্য সরকারী হাসপাতালের চিরচেনা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অপরিচ্ছন্নতা কিংবা দালালদের দৌরাত্ম্য এখানে একেবারেই অনুপস্থিত। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের আন্তরিক ব্যবহারে মুগ্ধ সেবাগ্রহীতারা। হাসপাতালটিতে স্বাভাবিক প্রসবেই বেশী উৎসাহ দেওয়া হয়। তবে কারও অবস্থা সংকটাপন্ন হ’লে তখন চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের কথা ভাবেন। প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে এক হাযার রোগী এখান থেকে প্রসূতি, টিকাদান ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুনীরুয্যামান সিদ্দিকী জানান, সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে এখানে কোন অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় না। এর মধ্যে আউটডোর টিকিট ৫ টাকা এবং ভর্তি হ’লে ১০ টাকার টিকিট কাটতে হয়। আর যদি কেবিন ভাড়া নিতে হয় তবে খাবারসহ ২৫০ টাকা। কেবিনে থাকা অবস্থায় যদি স্বাভাবিক প্রসব হয় তাহ’লে কোন চার্জ হবে না। কেবলমাত্র অস্ত্রোপচার হ’লে অপারেশন থিয়েটারের জন্য সরকার নির্ধারিত ২ হাযার টাকা খরচ হয়। অপরদিকে সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা কোন নারীর অস্ত্রোপচারের জন্য কোন খরচ দিতে হবে না, সব ফ্রি। আলট্রাসনোগ্রাম ১২০ টাকা। রাজধানীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য এই হাসপাতালটি এক বড় আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে।