গত ১৩ই সেপ্টেম্বর ভোলার তজুমদ্দিন উপযেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দীন আহমদ বলেন, আমাদের এ দেশ... অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারী কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরী, লুটপাট এসব করে। ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। বিগত সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে শত শত বাড়ী করেছেন। সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী; লন্ডনেই তাঁর ৩৬০টা বাড়ী পাওয়া গেছে। দুবাইয়ে বাড়ী আছে, আমেরিকায় বাড়ী আছে। সব বাংলাদেশের সম্পদ, আপনার-আমার টাকা, জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে তারা এভাবে নিয়ে গেছে।
ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে স্পিকার বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি চায় না বাংলাদেশ ভালো থাকুক। বরং তারা আমাদেরকে একটি করদ রাজ্য বানানোর চেষ্টা করছে। বিগত ১৬-১৭ বছরে পূর্ববর্তী সরকার দেশের স্বার্থ না দেখে বিনা শুল্কে ট্রানজিট সুবিধা, চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় জাহাযকে অগ্রাধিকার প্রদান ইত্যাদি অসম চুক্তির মাধ্যমে প্রতিবেশীর স্বার্থই রক্ষা করেছে। এখানে তারা বিনা শুল্কে কিংবা নামমাত্র শুল্কে তাদের পণ্য পরিবহন করছে। এর ফলে আমাদের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ সারা বিশ্বব্যাপী শুল্ক দিয়ে মালামাল নিতে হয়। আমাদের সীমান্তে প্রতিদিন তো লোক হত্যা করছে তারা। পাকিস্তানের সঙ্গেও তাদের বর্ডার আছে। ওখানে তো কাউকে কোন দিন গুলি চালানো হয় না’।
এছাড়াও গত ১৫ই সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরে সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, আমাদের রাজনীতিবিদদের কাজ হ’ল বক্তৃতা দেওয়া। আর সরকারী চাকুরীজীবীদের কাজ হ’ল কিছু চুরি করা, কিছু কাজ করা’।
[জনগণের নির্বাচিত মন্ত্রীদের যদি কাজ হয় কেবল বক্তৃতা দেওয়া ও সরকারী কর্মতাদের সমালোচনা করা, তাহ’লে এদের সামলাবে কে? মন্ত্রীরা যদি অপারগ হন, তাহ’লে তাদের উচিত পদত্যাগ করা। জনগণের পয়সায় মন্ত্রীত্ব করে জনস্বার্থে কাজ করতে না পারা তাদের জন্য লজ্জার বিষয় নয় কি? (স.স.)]
-স্পিকার হাফিজ উদ্দীন