মানুষ

-মুস্তাফীযুর রহমান*

\ এক \

চৌধুরী ছাহেবের সঙ্গে আমার পরিচয় অনেক দিনের। সুন্দর চেহারা, মুখে দাড়ি, পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতে অভ্যস্ত তিনি। সমাজে জনসেবক হিসাবে বেশ নামডাক আছে। সেদিন সোমবার। আছরের ছালাতের পর চৌধুরী ছাহেবের বাড়ীতে গিয়ে হাযির হ’লাম। ভদ্রলোক বৈঠকখানায় বসে তাসবীহ পাঠ করছিলেন। আমাকে দেখে ভারি খুশী হ’লেন।

হাঁক ডাক ছাড়লেন, কুলছূম! এই কুলছূম, জলদি আয়! একটু পর বছর সাতেক বয়সের একটি মেয়ে এসে উপস্থিত হ’ল। মেয়েটির পরনে অনেকগুলো তালি দেওয়া পুরনো কাপড়, মাথার চুল রুক্ষ আর উষ্কখুষ্ক। কিন্তু এই মলিন রূপের আড়ালেও তার গায়ের রং ও চেহারাখানি ভারি মায়াবী। চৌধুরী ছাহেব ধমক দিয়ে বললেন, হা করে দাঁড়িয়ে কি দেখছিস? সালাম কর! উনি আমার বন্ধু, চাচা বলে ডাকবি, বুঝলি?

কুলছূম ভয়ার্ত চোখে ‘জ্বী’ বলে কদমবুচি করতে এল। আমি বাধা দিয়ে বললাম, কদমবুচি করতে নেই মা, সালাম দেওয়াই যথেষ্ট।

চৌধুরী ছাহেব আবার ধমকালেন, যা, ভেতর থেকে কিছু নাশতা নিয়ে আয়। মেয়েটি মাথা নিচু করে ভেতরে চলে গেল। আমার মনটা ব্যথায় ভারি হয়ে উঠল। বললাম, মেয়েটাকে অন্তত একটু ভালো কাপড়-চোপড় পরালেই তো পারেন! ওকে কোথাও কুড়িয়ে পেয়েছেন নাকি?

চৌধুরী ছাহেব নির্বিকার ভঙ্গিতে বললেন, না ভাই, এমনিতেই এসে জুটেছে। ওর মায়ের সাথে পাশের পীর ছাহেবের বাড়ীতে থাকত। মুরীদরা এসে কুলছূমকে কোলে নিয়ে খুব আদর-সোহাগ করত, বলত হুজুরের মতো চেহারা পেয়েছে। এই জ্বালা সইতে না পেরে পীরের স্ত্রী ওদের বের করে দেয়। পরে ওর মা করোনায় মরে গেল। সেই থেকেই ও আমার এখানে।

\ দুই \

আরেক দিন মাগরিবের ছালাত পড়ে আমরা কয়েকজন বৈঠকখানায় বসে গল্পে মশগূল। চৌধুরী ছাহেব চোখ বন্ধ করে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে তাসবীহ জপছেন। এমন সময় অন্দরমহল থেকে ভেসে এল সপাসপ বেত্রাঘাতের শব্দ আর এক করুণ আর্তনাদ। চিনতে পারলাম, এ কুলছূমের গলা।

ভেতর থেকে বিবি ছাহেবের তীক্ষ্ণ কণ্ঠ কানে ভেসে এল, হারামজাদী! চোরের হদ্দ! ছয়টা মোরববার মধ্যে একটা তুই চুরি করে গিললি? সেজন্যই তো আমার ছেলে-মেয়ের ভাগে কম পড়ল! আজ তোর একদিন কি আমার একদিন! আমরা থমকে গেলাম, কিন্তু চৌধুরী ছাহেব নির্বিকার। তাসবীহ পড়া শেষ করে তিনি অত্যন্ত শান্ত পায়ে ভেতরে গেলেন। একটু পর ফিরে এসে হাসিমুখে বললেন, কিছু না ভাই। বাড়ীতে ঐ যে একটা ‘মানুষ’ আছে না- ঐ যে হারামজাদী কুলছূম! চোর

*গাবতলী, বগুড়া।

একটা, মোরববা চুরি করে খেয়েছে। তাই বিবি ছাহেব একটু শাসন করছেন। আর ওকেই বা কি দোষ দিব? ওর মা-ইতো ছিল একটা হারামজাদী। সেই চুরি করে খাইয়ে মেয়ের জিভ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্য বন্ধুরা তখন সায় দিয়ে বলে উঠল, ঠিকই তো, ছোটলোকের জাতই চোর!

কিন্তু আমি পরে আসল ঘটনাটি জানতে পেরেছিলাম। কুলছূম নিজের জন্য মোরববা চুরি করেনি। চৌধুরী ছাহেবের তিন বছরের ছেলে খোকা নিজে অর্ধেকটা খেয়ে বাকীটা ভালোবেসে কুলছূমের মুখে গুঁজে দিয়েছিল। বিবি ছাহেব দূর থেকে সেটা দেখেই ভুল বোঝেন। কুলছূম একটিবারও খোকার নাম মুখে নেয়নি, পাছে বিবি ছাহেব নিজের ছেলেকেও বকা দেন! মার খাওয়ার পর রাতে যখন কুলছূম ফুঁপিয়ে কাঁদছিল, ছোট্ট খোকা চুপিচুপি এসে তার আধো আধো বোলে কুলছূমের চোখের পানি মুছে দিয়েছিল।

আমি ভাবতাম, নিজেদের সন্তানদের জন্য হিসাব করে মোরববা ও সন্দেশ থাকলেও এই বয়সের ইয়াতীম কুলছূমদের জন্য কোন বরাদ্দ থাকে না কেন? আল্লাহ সবার মুখে সমান জিভ দিয়েছেন, অথচ এই চৌধুরী ছাহেবরা এত নিষ্ঠুর হয় কি করে!

\ তিন \

আরেক দিনের ঘটনা। চা-নাশতা শেষে চৌধুরী বাড়ী থেকে উঠব উঠব করছি। এমন সময় অন্দরমহল থেকে আবার সেই সপাসপ শব্দ আর কুলছূমের আর্তনাদ। সঙ্গে বিবি ছাহেবের গর্জন- হারামজাদী! তুই জাদু করছিস, নইলে আমার পেটের ছেলে আমারই পর হয়ে যায়?

কুলছূমের অপরাধ ছিল তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। খোকার জন্মের পর থেকে তাকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছে কুলছূম। তার পেশাব-পায়খানা পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে তাকে ঘুম পাড়ানো-সবই সে করত। বিবি ছাহেবের হুকুম ছিল, কুলছূম খাইয়ে-দাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে খোকাকে তাঁর বুকে দিয়ে আসবে। কিন্তু মুশকিল হ’ল, মাঝরাতে খোকার ঘুম ভাঙলেই সে মায়ের বদলে কুলছূমের কোলে যাওয়ার জন্য চিৎকার জুড়ে দিত। নিজের ছেলের এই টান বিবি ছাহেবের সহ্য হ’ত না। আর তার সব রাগ গিয়ে পড়ত ঐ ইয়াতীম মেয়েটার ওপর। বিবি ছাহেব কুলছূমকে তাদের ‘চাকরানি’ বা নিচু জাতের মানুষ ভাবলেও খোকা সেই কৃত্রিম বিভেদ মানতে চাইত না। সে মায়ের দামী আচলের চেয়ে কুলছূমের ছেঁড়া আচলের গন্ধেই বেশী শান্তি পেত।

এমনি করে পাঁচ বছর কেটে গেল। অন্দরে কুলছূমের আর্তনাদ এখন সবার গা-সওয়া হয়ে গেছে। কুলছূম এখন অনেক বড় হয়েছে। একদিন তাকে একা পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কেমন আছ মা? জবাব দেওয়ার পরিবর্তে তার দুই চোখ অশ্রুতে টলমল করছে। সে তাড়াতাড়ি তার পরনের ছেঁড়া ওড়না দিয়ে হাতের একটা পোড়া দাগ ঢাকার চেষ্টা করল। কোন শব্দ না করে শুধু চোখ মুছতে মুছতে ভেতরে চলে গেল। তার সেই নীরব কান্না আমাকে বুঝিয়ে দিল, এই পাঁচ বছরে তার কষ্টের কোন উপশম হয়নি।

\ চার \

কয়েক দিন পরের ঘটনা। গভীর রাতে হঠাৎ গ্রামের নিস্তব্ধতা ভেঙে চারিদিক থেকে চিৎকার ভেসে এল- আগুন! আগুন! চৌধুরী বাড়ীতে আগুন! আমি ধরফর করে বিছানা থেকে উঠে দৌড়ালাম। গিয়ে দেখি, চৌধুরী ছাহেবের সাজানো গোছানো বিশাল অন্দরমহল দাউদাউ করে জ্বলছে। চারিদিকে প্রচন্ড ধোঁয়া আর মানুষের হাহাকার। চৌধুরী ছাহেব তখন উঠোনে দাঁড়িয়ে হাঁপাচ্ছেন, তাঁর একহাতে টাকার সিন্দুক আর অন্যহাতে কিছু দলিলপত্র। বিবি ছাহেবও কোনমতে গা বাঁচিয়ে বাইরে এসে হাঁপ ছাড়ছেন। আমি ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, টাকাকড়ি কিছু বাঁচানো গেল?

বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বললেন, ঘরগুলোই যা পুড়ল ভাই! তবে সময় থাকতে গোয়ালঘরের গরু-বাছুরগুলোর দড়ি কেটে দিতে পেরেছিলাম। টাকার সিন্দুকটাও বের বের করতে পেরেছি। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিবি ছাহেবের সম্বিত ফিরল। নিজের শূন্য কোলের দিকে তাকিয়ে তিনি চিৎকার করে উঠলেন, ওগো! আমার খোকা কই? খোকা তো ভেতরে ঘুমাচ্ছিল!

মুহূর্তের মধ্যে পুরো উঠোন স্তব্ধ হয়ে গেল। আগুনের উত্তাপ তখন এতটাই তীব্র যে ভেতরে ঢোকার সাহস কারও নেই। ঠিক সেই সময়, ধোঁয়ায় কাশতে কাশতে পেছনের দিক থেকে ছুটে এল কুলছূম। বিবি ছাহেবের আর্তনাদ শুনে সে থমকে দাঁড়াল। কুলছূমের চোখে কোন দ্বিধা দেখা গেল না। বিবি ছাহেবের দিকে তাকিয়ে শান্ত কিন্তু দৃঢ় গলায় বলল, ভয় পাইয়েন না আম্মা, আমি খোকা ভাইরে লইয়া আসতাছি।

না রে মা, যাস না! পুড়ে মরবি! বিবি ছাহেবের মুখ থেকে এবার আর ‘হারামজাদী’ বা ‘চোর’ শব্দ বের হ’ল না, এক চরম অপরাধবোধ আর মাতৃস্নেহ থেকে ‘মা’ ডাকটা বেরিয়ে এল। কিন্তু কুলছূম ততক্ষণে জ্বলন্ত ধোঁয়ার কুন্ডলীর ভেতর অদৃশ্য হয়ে গেছে।

বাইরে আমরা সবাই শ্বাসরুদ্ধ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ অন্দরের জ্বলন্ত জানালার পর্দা ছিঁড়ে উঠোনে এসে পড়ল কাপড়ে জড়ানো একটি পুঁটলি। আমরা সবাই ছুটে গেলাম। কাপড়ের বাঁধন খুলতেই দেখা গেল, খোকা দিব্যি বেঁচে আছে! কুলছূম নিজের গায়ের ভেজা কাপড় দিয়ে খোকাকে এমনভাবে জড়িয়ে ছুঁড়ে দিয়েছিল যে, আগুনের একটা অাঁচও তার গায়ে লাগেনি।

কিন্তু খোকাকে ছিঁটকে ফেলার ঠিক পরের মুহূর্তেই, এক বিকট শব্দে জ্বলন্ত ছাদটি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে কুলছূম দাঁড়িয়ে ছিল। একটা আর্তনাদ করার সুযোগও পেল না মেয়েটি।

\ পাঁচ \

পরদিন সকালে আগুন পুরোপুরি নিভে গেছে। চারিদিকে শুধু কালো ছাই আর কয়লা। চৌধুরী ছাহেব তখনো পুড়ে যাওয়া ঘরের এক কোণে তাঁর বেঁচে যাওয়া টাকার হিসাব করছেন। কিন্তু বিবি ছাহেব সম্পূর্ণ বদলে গেছেন। তিনি খোকাকে বুকে জড়িয়ে ধরে যেখানে ছাদ ভেঙে পড়েছিল, সেই ছাইয়ের স্তূপের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। বিবি ছাহেব দুই হাতে সেই তপ্ত ছাই মুঠো করে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলেন, আমি ওরে এক টুকরো মোরববা চুরির অপবাদে পশুর মতো পিটিয়েছি...। আর ও নিজের কলিজা দিয়ে আমার মানিকরে ফিরায়ে দিল! হায় আল্ল­াহ, আমি কারে ছোটলোক ভাবলাম, আর কারে মানুষ ভাবলাম! এই পাপ আমি কই রাখব?

তাঁর চোখের পানি তপ্ত ছাইয়ের ওপর পড়ে বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছিল। আমার দু’চোখ দিয়েও অঝোরে অশ্রু ঝরতে লাগল। চৌধুরী ছাহেবের ঐ কয়লা হয়ে যাওয়া আলিশান বাড়ীর দিকে তাকিয়ে আমি মনে মনে বললাম, বাহ্যিক রূপ আর বিত্ত-বৈভবে মোড়ানো এই প্রাসাদে সত্যি বলতে ওই একটি মেয়েই প্রকৃত ‘মানুষ’ ছিল।

শিক্ষণীয় :

১. অনেক বিত্তশালী মানুষের বাহ্যিক দ্বীনদারীর আড়ালে তাদের নিষ্ঠুরতা লুকিয়ে থাকে। বাইরের পৃথিবীতে তার দান-ছাদাক্বা কেবলই আত্মপ্রচারণা বৈ কিছুই নয়।

২. ইয়াতীম ও অসহায় শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা এবং নিজ সন্তান ও আশ্রিত সন্তানের মাঝে বৈষম্য করা চরম অমানবিকতা ও বড় ধরনের পাপ।

৩. কেবল জন্ম দিলেই মা হওয়া যায় না। মাতৃত্ব হ’ল নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার নাম।

৪. ছোটরা তাদেরকেই পসন্দ করে, যারা তাদের বেশী ভালোবাসা দিতে পারে।

৫. চরম বিপদের মুহূর্তে মানুষের সঞ্চিত ধন-সম্পদ, টাকা-পয়সা বা বিত্তবৈভব কোন কাজে আসে না; বরং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবিকতাই মানুষের ত্রাণকর্তা হিসাবে আবির্ভূত হয়।

৬. প্রকৃত মনুষ্যত্ব পোষাক, বংশমর্যাদা বা সম্পদের মাঝে নিহিত নয়; বরং নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ, ক্ষমা ও অন্যের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই তা নিহিত।

৭. আমরা যাদেরকে অবহেলা বা অপসন্দ করি অনেক সময় আল্লাহ তার অসীলাতেই আমাদেরকে বড় কোন বিপদ থেকে মুক্তি দিতে পারেন।

 

 

 

 

আদর্শের শক্তিতে নিয়মের পূর্ণতা

-সারওয়ার মিছবাহ

আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন আদব-আখলাক, পড়াশোনার আগ্রহ, শৃংখলা ইত্যাদির বেশ ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। আখেরাতমুখী চিন্তাধারার অভাব এবং পশ্চিমাপ্রেম ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। আর এগুলো সমাধান করতে আমরা নতুন নতুন নিয়ম-কানুন তৈরী করছি। তবে অনেকগুলো নিয়ম তৈরী করার পরেও যেন সমস্যা দূর হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে, নিয়ম প্রয়োগ করতে গেলে শিক্ষার্থীরা মানিয়ে নিতে পারছে না। পরিবেশের সাথে খাপ খাচ্ছে না। নিয়ম নিয়েই যেন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। মনে হচ্ছে, আমরা সবাই মিলে বাইন মাছ শিকারে নেমেছি। চাপ দিয়ে ধরতে গেলেই পিছলে যাচ্ছে। তখন আমরা ভাবছি, আমাদের নিয়ম-কানুনে সমস্যা। অথবা আমরা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে দুর্বল। তাছাড়া এমন হবে কেন! আমাদের মনে হয়, এই পরিস্থিতিগুলো আমাদের একটু ভিন্নভাবে মোকাবেলা করা প্রয়োজন।

এই সফরের শুরুতেই আমাদের শান্ত ও ধীরস্থীর হ’তে হবে। বুকের ভেতরে ঠিক অনেকটা ধৈর্য, শক্তি ও সাহস নিয়ে নতুনভাবে কাজ শুরু করতে হবে। দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ হওয়ার পরে এমন কোন সমস্যা থাকার কথা নয়, যার সমাধান ইসলামে নেই। তাই সব আধুনিক সমস্যার আধুনিক সমাধান না খুঁজে কিছু ক্ষেত্রে নতুন সমস্যার পুরনো সমাধান খুঁজতে হবে। যে ধারা আল্লাহ প্রদত্ত, যে ধারা সালাফে ছালেহীন গ্রহণ করেছেন, যে ধারা হাযার বছরের পরীক্ষিত; সেই ধারার কার্যক্ষমতা বরাবরই বেশী হবে। এটাই স্বাভাবিক। আমরা আজ তেমনই একটি ধারা নিয়ে আলোচনা করব। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও আদর্শিক ক্লান্তিলগ্নে যার সুন্দর প্রয়োগ বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় খুবই প্রয়োজন।

আমরা জানি, নিয়ম মানুষকে বেঁধে রাখতে পারে; আকৃষ্ট করতে পারে না। লিখিত নিয়মের শৃংখল মানুষকে কেবল ভালোলাগার অভিনয় করাতে পারে। ভালোবাসাতে পারে না। কোন কাজ মন থেকে করাতে পারে না। কারণ নিয়ম হ’ল লিখিত শিকল। অদৃশ্য শিকল, যা দেখা যায় না। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হ’ল শিক্ষার জায়গা। এটা কোন জেল-হাজত নয়। মানুষ শিখতে ভালোবাসে। অনুসরণ করতে ভালোবাসে। কাউকে অনুসরণ করতে গিয়ে সে সকল কষ্ট সহ্য করতে পারে।

আমরা একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাব যে, ইসলাম মানুষের কাঁধে নিয়মের বোঝা চাপিয়ে দেয়নি। ইসলাম একটি আদর্শকে সামনে রেখে শুধু অনুসরণ করতে বলেছে। কারণ মানুষ সর্বদা দেখে দেখে শেখে। মানুষ অপরের সুখ-দুঃখের বাটখারা দিয়ে নিজের সুখ-দুঃখ মাপে। অপরকে দেখে সব পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। এজন্যই একটা সংকীর্ণ জীবন ব্যবস্থা একজনের জন্য কষ্টকর হ’লেও একসাথে একশজনের জন্য কষ্টকর হয় না। সবাই বাকী নিরানববই জনকে দেখে নিজেকে শান্তনা দিয়ে সেটার ওপরেই অভ্যস্ত হয়ে যায়। একসময় তারা এতটুকুর মাঝে সুখও খুঁজে নেয়। মানুষকে মূলত তৈরীই করা হয়েছে এভাবে।

এখন আমরা চাচ্ছি, নিয়মের বেড়াজালে ফেলে সবাইকে ভাল বানিয়ে ছাড়ব। কিন্তু ভাল হওয়ার আগ্রহ আসে অনুশোচনা থেকে। আর নিয়ম কখনো মানুষের অনুশোচনা তৈরী করতে পারে না। মানুষের আবেগকে ধাক্কা দিতে পারে না। ফলে নিয়মের চাপে মানুষ ভাল হয় না। আমরা যদি বুঝতে পারি যে, উত্তম আদর্শই মানুষকে ভেতর থেকে পরিবর্তন করতে পারে। তবে আমাদের সময় ও শ্রম নষ্ট না করে সেই আদর্শকেই গুরুত্ব দেয়া দরকার। এর মাঝেই আমাদের সকল সমস্যার সমাধান খোঁজা দরকার। তা না করে আমরা পড়ে আছি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে আর নিত্যদিনে হাযার নিয়মের পসরা সাজিয়ে নিয়ে। যা কেবল আমাদের শ্রমই নষ্ট করছে।

তাই বলা যায়, সমস্যা আমাদের নিয়মে নয়। সমস্যা হ’ল, আমাদের ব্যর্থতা। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের সামনে আদর্শিক ভিত্তি রাখতেই পারিনি। আদর্শিক আলোচনায় হয়ত আমাদের বিচারই সবার আগে করা দরকার হবে। কারণ আমরা কথায় কথায় অভিযোগ করি, আমাদের শিক্ষার্থীরা এমন কেন? তারা কেন বে-আদব হয়ে যাচ্ছে? তারা কেন পড়াশোনায় রাত্রি জাগরণ করছে না? তাদের পোশাক-আশাক কেন এমন? তাদের মুখের ভাষা কেন এমন? অথচ আমরা এই আলোচনা কখনো সামনে আনি না যে, শিক্ষক হিসাবে তাদের সামনে আমরা কতটুকু আদবের পরিচয় দিয়েছি। আমার ছাত্রদের সামনে আমি আমার শিক্ষকের সাথে কেমন আচরণ করেছি? দারস, অনুষ্ঠান, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা কেমন পোশাকে তাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি? প্রচন্ড রাগের মাথায় তাদের সামনে কেমন ভাষায় কথা বলেছি?

বরং এমন হয়েছে যে, সুন্দর আদব যে কেমন হয় এটা তারা কখনো দেখেইনি। নরম-মিষ্টি কথা যে কেমন হয় তা কখনো তারা শোনেইনি। তারা কখনো কাউকে রাত জেগে পড়তে দেখেনি। তারা তাদের যুবক শিক্ষককে মাদ্রাসার বৃদ্ধ ঝাড়ুদার বা দারোয়ানের সাথে সম্মান বজায় রেখে কথা বলতে দেখেনি। তারা তাদের শিক্ষকদের কখনো কাঁদতে দেখেনি। না দো‘আয়, না আলোচনায়। তারা তাদের শিক্ষকদের কখনো তাহাজ্জুদের ছালাতে দাঁড়াতে দেখেনি। তারা তাদের শিক্ষকদের কথাবার্তায় কখনো পশ্চিমা বিদ্বেষ শোনেনি। এখানে দোষ কার? অবশ্যই আমাদের। এজন্য আমাদের বিচারই সবার আগে হওয়া দরকার। কারণ শিক্ষক হয়ে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের আদব শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছি।

আমরা যদি নিয়ম করে দেই যে, বড়দের দেখলে সালাম দিতেই হবে। তবে এই কাজ শুধু তারা মাদ্রাসার ভেতরে করবে, বাইরে করবে না। কারণ এটা নিয়মের মধ্যে পড়ে। তার আদর্শের মধ্যে পড়ে না। যদি বলি, বাধ্যতামুলক ফজরের আগে তাহাজ্জুদ পড়তেই হবে। দো‘আ করতেই হবে। তবে এই নিয়ম পালনে হয়ত কিছু ছাত্র শেষ রাতে উঠে ওযু ছাড়াই ছালাত আদায় করবে। বা ছালাত-দো‘আর অভিনয় করবে। প্রকৃতার্থে সে কোনদিন তাহাজ্জুদে আকৃষ্ট হবে না। কারণ তাহাজ্জুদের যে সৌন্দর্য রয়েছে, দো‘আর মাঝে যে স্নিগ্ধতা রয়েছে তা অবলৌকন ব্যতীত একজন মানুষ তাতে আকৃষ্ট হওয়া সম্ভব নয়। সুন্নাতী লেবাসের মাঝে যে উৎকৃষ্টতা রয়েছে তা অনুভব করা ছাড়া কেউ কখনোই তা মন থেকে গ্রহণ করতে পারবে না। 

এজন্য আমরা যে ভাল কাজগুলো আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখতে চাই সেগুলো নিয়মের ভেতরে না এনে সেগুলোর সৌন্দর্য তুলে ধরাই অধিক ফলদায়ক হবে। কারণ সৌন্দর্যকে মানুষ উপেক্ষা করতে পারে না। আজ বা কাল, শিক্ষার্থীরা সেগুলো গ্রহণ করবেই! সেগুলোর জন্য তারা সর্বোচ্চ কষ্টও সহ্য করবে ইনশাআল্লাহ। আমরা বেশ অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান দেখেছি। এমনও প্রতিষ্ঠান দেখেছি, যেখানে ছাত্ররা পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত তো জামা‘আতে আদায় করেই পাশাপাশি তাহাজ্জুদও আদায় করে। তবে মাদ্রাসায় এমন কোন লিখিত নিয়ম নেই যে, তাহাজ্জুদ আদায় করতেই হবে।

আমরা বাংলাদেশী ছাত্রকে বাংলার চেয়ে বেশী উর্দূকে ভালোবাসতে দেখেছি। ভালোবেসে উর্দূ চর্চা করতে দেখেছি। অথচ মাদ্রাসায় এমন কোন লিখিত নিয়ম নেই যে, উর্দূ চর্চা করতেই হবে। তাদেরকে আমরা রাত জেগে আরবী চর্চা করতে দেখেছি। অনেককে তীব্র গরমে সারাদিন পাগড়ী পরিধান করে থাকতে দেখেছি। অথচ এটাও প্রতিষ্ঠানের কোন লিখিত নিয়ম নয়। পাগড়ীর কথা শুনেই কওমী প্রতিষ্ঠানের কথা ভাবার প্রয়োজন নেই। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল পড়ুয়াদের কথাই বলছি। আপনিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলোতে খেয়াল করলে জুববা- পাগড়ী পরা হুযুরদের বিচরণ দেখতে পাবেন। তবে কার্যত তারা হুযুর নয়। এগুলো তাদের প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম নয়। তারপরেও এগুলো তারা কেন করছে? কারণ এগুলোর সৌন্দর্য তাদেরকে দেখানো হয়েছে। তারা এগুলোকে ভালোবেসে ফেলেছে।

পক্ষান্তরে আমাদের শিক্ষার্থীরা উল্টো জিনিসগুলোকে ভালোবাসে। এর কারণ হ’ল, শিক্ষার্থীদের হৃদয়ের জমিতে আমরা ভুল বীজ বপন করেছি। এই ভুল আমাদের মাধ্যমেই হয়েছে। যখন গাছে ফল এসেছে তখন আমরা ‘নিয়ম’ নামের বালাইনাশক দিয়ে গাছের ফল পরিবর্তন করার বৃথা চেষ্টা করেছি। কিন্তু বালাইনাশক দিয়ে কি তেঁতুল গাছে আম ধরানো সম্ভব? না। গাছের ফল পরিবর্তন করতে হ’লে বীজের কৌটা পরিবর্তন করতে হবে। যে ফল আমরা চাই, সেই ফলের চাষ আর কারা কোথায় করে, সেটা জানতে হবে। তারা কোন বীজ ব্যবহার করে, সেই বীজ আমাদেরকেও সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া দামী ফলের চাষ সম্ভব নয়।

আমরা অবশ্য বীজ বপনের পদ্ধতি সম্পর্কেও পূর্ণ ওয়াকেফহাল নই। আমরা মনে করি, বীজ জমিতে ফেলার পরে জমিকে বলতে হবে যে, ‘চারা তৈরীর কাজ শুরু কর’। তবে বাস্তবতায় জমিকে কিছুই বলতে হয় না। শুধু সঠিক বীজটা দিতে হয়। ঠিক তেমনই শিক্ষার্থীদের বলতে হয় না যে, ‘এটা কর’। কারণ তারা কাজ করার জন্যই এসেছে। শুধু তাদেরকে দেখাতে হবে যে, কি করতে হবে। শিক্ষকগণ যদি নিজেদের মাঝে আরবীতে কথা বলেন তবে শিক্ষার্থীদের বলতে হবে না যে, তোমরাও আরবী বল। শিক্ষকগণ যদি আতরওয়ালা হন, তবে শিক্ষার্থীদের মাঝে হাযার রকম সুবাস এমনিতেই ছড়িয়ে পড়বে।

আমার ছাত্রজীবনে শিক্ষক আমাদের সাথেই থাকতেন। বড় রুমের একপাশে তার থাকার জায়গাটা পর্দা দিয়ে ঘেরা ছিল। আমরা পর্দার এপাশে থাকতাম। তিনি থাকতেন ভেতরে। শেষ রাতে চাপা কান্নার শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যেত। আমরা পর্দার বাইরে থেকে শিক্ষকের রোনাজারীর শব্দ বেশ ভালভাবেই শুনতে পেতাম। সত্যি কথা বলতে তখন আর আমরা ঘুমিয়ে থাকতে পারতাম না। আমাদের মনে হ’ত, তিনি এত ভাল মানুষ। তারপরেও এত কান্নাকাটি করে দো‘আ করছেন। আমরা তো সারাদিন শুধু গুনাহই করি। না! একটু উঠি। তারপর আমরাও একে একে উঠে ওযু করে ছালাতে দাঁড়াতাম। আমরাও কান্না করতাম। অন্তরে জমে থাকা চাপা কষ্ট-গ্লানি সব পরিস্কার হয়ে যেত। একটি প্রফুল্ল ও উদ্যমী হৃদয় নিয়ে আমরা ফজরের ছালাতে উপস্থিত হ’তাম। এটাই হ’ল বীজ বপনের নিয়ম।

আমাদের হয়ত বুঝাতে পেরেছি যে, মানুষ গড়তে আদর্শিক ভিত্তির বিকল্প নেই। আর নিয়ম তো কখনোই আদর্শের বিকল্প হ’তে পারে না। তাই আমাদের শিক্ষকদের এখন থেকেই ‘আদর্শ’ হয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। আদর্শের আলোচনা শিক্ষকগণের মুখে মুখে থাকবে। ক্লাসে ক্লাসে এগুলো আলোচিত হবে। শিক্ষার্থীদের আখলাক ও চিন্তাধারা গঠনে ‘মাসিক চিন্তা সেমিনার’-এর আয়োজন করা যেতে পারে। সেখানে চিন্তার আদান-প্রদান করা হবে। যারা চিন্তাধারায় মযবূত, তারা সেখানে আলোচনা রাখবেন। আর তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়ম যদি করতে হয়, আরবীতে কথা বলার নিয়ম যদি করতে হয়, ঢিলাঢালা সুন্নাতী পোশাকের নিয়ম যদি করতে হয়, তবে শিক্ষকের জন্য করতে হবে। কারণ শিক্ষকগণ যদি এগুলোতে অভ্যস্ত হোন তবে শিক্ষার্থীরা সেগুলো এমনিতেই নিজেদের মাঝে নিয়ে নিবে। এভাবে ধীরে ধীরে হয়ত আমরা একসময় আমাদের শুকনো ঠনঠনে পরিবেশের বুকে এক পশলা বৃষ্টি নিয়ে উপস্থিত হ’তে পারব ইনশাআল্লাহ।

পরিশেষে আমরা আমাদের সবটুকু শ্রদ্ধা একত্রিত করে আমাদের শিক্ষকগণের প্রতি আবেদন রাখব, তারা যেন তাদের প্রতিটি পদচিহ্ন এমনভাবে রাখেন, যা নির্দ্বিধায় অনুসরণ করা যায়। তারা যেন শিক্ষার্থীদের জন্য হ’তে পারেন ‘উসওয়াতুন হাসানাহ’। তাদের মাধ্যমে যেন শিক্ষার্থীদের তাক্বওয়া, সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা, যোগ্য হওয়ার তীব্র বাসনা, দ্বীনের খিদমতে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়ার শক্ত মানসিকতার বীজ বপিত হয়। শিক্ষার্থীরা যেন ভালোবেসেই সব ভাল গুণগুলোকে নিজের মাঝে স্থান দেয়।

আমরা জানি, এই কাজ অনেক কঠিন। একটা পাহাড় বহন করে স্থানান্তর করার চেয়েও হয়ত কঠিন। কারণ নীতি-নৈতিকতা, আমল-আখলাক শুধু শিক্ষার্থীরাই হারায়নি। আমরাও হারিয়েছি। তাই আমাদের এখন থেকেই দো‘আ এবং আত্মপরিচর্যা বাড়াতে হবে। একটি ব্যক্তিগত কাঠগড়া তৈরী করতে হবে। যে কাঠগড়ায় সকাল-সন্ধা নিজেকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে। প্রতিনিয়ত কমিয়ে ফেলতে হবে ঐ কাজগুলো, যেগুলো আমার শিক্ষার্থীরা করলে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। প্রতিনিয়ত বাড়াতে হবে সুন্দর কথা, কাজ ও চিন্তার বীজ বপন। আজ থেকে যদি এগুলো বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারি, তবে কিছুদিন পরে হয়ত আমরাই হয়ে উঠব যোগ্য মালী।

এই কঠিন সফরে আমি সকল শিক্ষকের জন্য দো‘আ করি। আর আমিও একজন শিক্ষক। তাই এই লেখার মাধ্যমে আমার সকল পাঠকের নিকটে আমিও খাছ দো‘আ চাই, আল্লাহ যেন আমাদেরকে এই শক্তি ও সামর্থ্য দান করেন। আল্লাহ যেন আমাদের অন্তরের কথাগুলো আমাদের আমলের মাঝে মিশিয়ে দেন। যেমনভাবে দুধের সাথে চিনি মিশে গিয়ে দুধকে মিষ্টি করে তোলে। আমাদের আশাগুলো আমাদের পদচিহ্নের সাথে যেন এমনভাবে মিশে যায়, যেভাবে বৃষ্টির পানি তৃষ্ণার্ত মাটির সাথে মিশে নতুন প্রাণের জন্ম দেয়। আল্লাহ আমাদের সকলের সুন্দর প্রচেষ্টাগুলোকে কবূল করুন। আমীন।

 

 

টুথব্রাশ ব্যবহারে অসাবধানতায় হ’তে পারে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস

অনেকেই পুরনো টুথব্রাশ মাসের পর মাস ব্যবহার করেন। আবার কেউ কেউ ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতই অন্যের টুথব্রাশ ব্যবহার করেন! এই সামান্য অবহেলাই ডেকে আনতে পারে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো ভয়ংকর সমস্যা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, টুথব্রাশ হ’ল শরীরকে সংক্রমণ ও রোগ থেকে রক্ষা করার প্রথম সারির রক্ষাকবচ। চিকিৎসকদের মতে, মানুষের মুখে থাকে প্রায় ৭০০ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া। নিয়মিত দাঁত না মাজলে এসব ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে প্লাক তৈরি করে, যা মাড়ির প্রদাহের মূল কারণ। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন, এই ব্যাকটেরিয়া ও প্রদাহজনক অণুগুলো রক্তপ্রবাহে ঢুকে গেলে তা হৃদয়, লিভার ও অগ্ন্যাশয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ সৃষ্টি করে।

ডায়াবেটিসের সঙ্গে মুখের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক : ২০২০ সালে প্রকাশিত ডায়াবেটোলজিয়া জার্নালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে অন্তত তিনবার বা তার বেশী দাঁত ব্রাশ করেন তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি, যারা দিনে মাত্র একবার বা একবারও ব্রাশ করেন না তাদের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কম।[1] এর পেছনের অন্যতম কারণ হ’ল ডায়বেটিসে আক্রান্তদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে। ফলে মুখে সংক্রমণ হ’লে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। ইনসুলিনই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই দাঁতের যত্ন না নিলে ডায়াবেটিস আরও জটিল হ’তে পারে।

মাড়ির প্রদাহ বাড়ায় হৃদরোগের ঝুঁকি : মাড়ির দীর্ঘস্থায়ী ইনফ্লামেশন শুধু রক্তপাত ঘটায় না, বরং ধমনীগুলোকেও শক্ত করে ফেলে। যাকে বলে অ্যাথেরোস্কেলরোসিস। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত চিকিৎসাব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনস হপকিন্স মেডিসিন জানায়, এটি ধমনীর ভেতরে প্লাক জমে যাওয়ার ফলে হয়, যা হার্টঅ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিন মুখের প্রদাহ চলতে থাকলে হৃদয়ের প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। যাদের অনিয়ন্ত্রিত মাড়ির রোগ আছে, তাদের হার্ট ডিজিজের আশঙ্কা প্রায় দ্বিগুণ।

সুস্থ থাকতে করণীয় :

১. দিনে দুইবার দাঁত মাজুন: প্রতিদিন কমপক্ষে দুইবার, সকালে খাওয়ার পর এবং ঘুমানোর পূর্বে ভালোভাবে দাঁত মাজুন। এসময় আঙুল বা ব্রাশ দিয়ে জিহবা পরিষ্কার ও মাড়িতে আলতোভাবে ম্যাসাজ করে নিতে হবে। এছাড়া প্রতিবার ছালাতে ওযূ করার সময় মেসওয়াক করতে পারেন। নিয়মিত ব্রাশ করলে শরীর ও মন উভয়ই ভালো থাকে।

২. নিয়মিত ফ্লস করুন : যাদের দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকে, তাদের ডেন্টাল ফ্লস বা ইন্টার ডেন্টাল ব্রাশে অভ্যস্ত হ’তে হবে। দাঁতের ভেতরের পৃষ্ঠে পাথর এবং চর্বণে ব্যবহৃত পৃষ্ঠ ও দুই দাঁতের মধ্যবর্তী পৃষ্ঠে ক্ষয় বেশী হয়। কারণ এসব স্থান পর্যাপ্ত পরিষ্কার হয় না।

৩. বছরে অন্তত দুইবার ডেন্টাল চেকআপ করুন : দাঁতের যত্নে সবচেয়ে বড় সাবধানতা হ’ল- কোন সমস্যাকে অবহেলা না করা। দাঁতে সামান্য শিরশির অনুভূতি, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বা হালকা ব্যথা যেকোন লক্ষণ দেখা দিলেই অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। কোন দৃশ্যমান সমস্যা না থাকলেও প্রতি ছয় মাসে একবার ডেন্টাল চেক-আপ করানো উচিত। এতে করে সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আগেই তা সমাধান করা সম্ভব হয়।

৪. সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন : দাঁতের সুস্থতার জন্য সুষম খাদ্যের গুরুত্ব অনেক। কারণ এটি দাঁত ও মাড়িকে শক্তিশালী করে এবং গহবর (Cavity) ও অন্যান্য সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ডি, ভিটামিন সি এবং ফ্লোরাইড জাতীয় পুষ্টি উপাদান দাঁতের এনামেল মযবূত করতে অপরিহার্য। যা খাদ্যের মাধ্যমেই পূরণ হয়। এছাড়াও দৈনন্দিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

কতদিন পর টুথব্রাশ বদলাবেন : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি তিন মাসে একবার টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। কারণ পুরনো টুথব্রাশে জীবাণু জমে যায় এবং এর ব্রিসল বা আঁশ বাঁকিয়ে যায়। ফলে তা দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা প্লাক বা ব্যাকটেরিয়া পুরোপুরি তুলতে পারে না।

ব্রাশের যত্নে বাড়তি সতর্কতা : ব্যবহারের পর টুথব্রাশ খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে পানি ঝরার জন্য সবসময় সোজা বা খাড়া করে রাখুন। অন্য ব্রাশের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখবেন না, খোলা বাতাসে শুকাতে দিন। পাশাপাশি ভেতরে জমে থাকা অদৃশ্য জীবাণু ধ্বংস করতে সপ্তাহে অন্তত এক দিন গরম পানি দিয়ে ব্রাশ পরিষ্কার করতে হবে।

যে খাবারগুলো পরিহার করতে হবে : চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাদ্য মুখের স্বাস্থ্যকে যেমন হুমকিতে ফেলে, তেমনি রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও হ্রাস করে। ছোটবেলা থেকে চিনির প্রতি দুর্বলতা কমাতে শিশুদের উৎসাহিত করতে হবে। ধূমপান, জর্দা, গুল প্রভৃতি নেশা জাতীয় দ্রব্য দাঁতের সুস্থতার জন্য বিপজ্জনক। এছাড়াও অতিরিক্ত টকজাতীয় খাবার, যেমন লেবু, তেঁতুল ও ক্যান্ডি দাঁতের সংস্পর্শে যত কম রাখা যায়, ততই ভালো।

শেষ কথা : নিয়মিত ও সঠিক সময়ে দাঁত মাজা শুধু মুখের নয়, পুরো শরীরের স্বাস্থ্যের জন্য যরূরী। দাঁতের অযন্ত্রে আমরা যে রোগ ও ভোগান্তিগুলোতে ভোগী তা খুবই কষ্টকর। তাই ছোট এই অভ্যাসটাই ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ দাঁতের নানা জটিলতা থেকে সুরক্ষা পেতে সাহায্য করতে পারে।

 

 

 

 

 

কাদা নয়, কাঁধে কাঁধ

-আবূ রায়হান, বাগাতিপাড়া, নাটোর।

ওরে মূঢ় ভাই, কেন আজ এই কাদা ছোড়াছুড়ি খেলা!

বিদ্বেষ-বিষ বুকে তুলে নিয়ে কেন এই অবহেলা!

কাদা ছুড়ে যদি কর কলুষিত নিজ ভাইয়ের দেহ

তোমারও হাতে লেগে যাবে দাগ ঘুচাবে না তা কেহ।

শোনো হে নবীন, তরুণের দল! ছিঁড়ে ফেল হীন পাশ

এসো এক হয়ে কাঁধে কাঁধ রেখে গড়ি সুন্দর আবাস।

কাদা মেখে ভাই লভিবে কি ফল, মিছে এই ক্ষোভ যেদ,

সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দাও, ভুলে যাও ভেদাভেদ!

আকাশের চাঁদ ছিনিয়ে আনতে চালাও অভিযান।

উদারতা ও সহিষ্ণুতার বর্ম পরে হও আগুয়ান।

পিছনের গ্লানি ভুলে গিয়ে আজ গাও সাম্যের গান,

মহীয়ান হয়ে জাগো এক সাথে হে কামেল ইনসান!

সহযোগিতার মন্ত্রে জাগাও অন্তরে নব জোর,

কাদামাটি নয়, ফুটাব গোলাপ আসিবে নতুন ভোর!

কাদা ছোড়াছুড়ি নয়, রাখি হাতে হাত গড়তে এ সমাজ

জাতি গঠনে ঐক্য হয়ে সবে মিলে করি কাজ।

বিভেদ ভুলিয়া এক সাথে চল, কর দৃপ্ত পণ,

কাদা মেখে নয়, প্রেম দিয়ে জয় করব সবার মন!

বিচারের পাল্লা

-মুহাম্মাদ রিযওয়ানুল হক

চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।

বড়দের অপরাধ লঘু হয়ে যায়,

ছোটদের ভুলগুলো পাহাড় বানায়।

একই অপরাধে কেন ভিন্ন বিচার?

কোথায় ন্যায়-নীতি ইনছাফ সুবিচার?

নেতারা সহজে আজ পেয়ে যান ছাড়,

কর্মীরা বয়ে চলে শাস্তির ভার।

ক্ষমতার ছায়া যার মাথার উপর,

নিরাপদ থাকে তার আপন সে ঘর।

নত হয়ে ছোটরাই করে সমঝোতা,

ত্যাগের খাতায় লেখে জীবনের কথা।

বিচারের পাল্লাটি টলে যায় যবে,

সমতা ও সুবিচার উড়ে যায় তবে।

ক্ষমতাবানরা শুধু সুযোগটি পায়,

দুর্বলেরা বারবার শুধু হেরে যায়।

ন্যায়ের সুপথে হোক অটল সবাই,

দ্বিমুখী নীতির কোন স্থান নাই।

একই সে অপরাধে একই বিচার,

এটাই তো দাবী আজ কুল মানবতার।

 

স্টেশন

-মুবাশশির সা‘দ

নওদাপাড়া, রাজশাহী।

স্টেশনে বসে ভাবি যাত্রার শুরু ও শেষ

নবজাতকের ক্রন্দন, বৃদ্ধের কেশ।

জীবনের স্টেশনে মানুষ রেলগাড়ী

এইতো এসে থামে আবার যায় ছাড়ি।

মাঝে শুধু কিছু স্মৃতি কিছু কোলাহল

কিছু রূযী আর সঞ্চিত কিছু আমল।

ধীরে ধীরে যবে পৌঁছে মৃত্যুর বন্দরে

রূহ ছেড়ে দেহ তার পড়ে থাকে গোরে।

এক চোখে দেখি কত তরুণেরা হাসে

ভিন্ চোখে দেখি কাতরায় মৃত্যুশ্বাসে।

দেখি কত রেল যায় কত রেল আসে

কিছু ধুম্র আবহ রেখে যায় বাতাসে।

যদি অমলান হ’তে চাও গোরে ও ভবে

আগে আমলের প্রতি মন দাও তবে।

 

স্বদেশ

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপযেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপযেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত ২৬ জুলাই এক পরিপত্রের মাধ্যমে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশটি জারী করেন উপযেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষ। এর মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো এবং শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলা রক্ষা করা। পরিপত্রে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের মাঝে মোবাইল আসক্তি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এটি তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই সুন্দর ভবিষ্যতের স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাঠদানে মনোযোগ ধরে রাখতে ক্লাস চলাকালীন শিক্ষকদেরও মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকার আদালতপাড়ায় ভাড়ায় মেলে আসামী

রাজধানীর ঢাকার আদালতপাড়ায় টাকার বিনিময়ে প্রকৃত আসামীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করানোর এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। উত্তরা-পূর্ব থানার একটি প্রতারণা মামলায় এক নারী আসামীর পরিবর্তে তার এক আত্মীয় অর্থের বিনিময়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান। পরে জামিন শুনানীর সময় বাদীপক্ষের আপত্তির পর বিষয়টি আদালতের নযরে আসে। আদালতের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে। ঘটনার পর আদালত এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আদালতপাড়াকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রতারণা চালিয়ে আসছে। আদালতের আশপাশের কয়েকটি ফটোকপির দোকানকে কেন্দ্র করে তাদের কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। অভিযোগ রয়েছে আদালতের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহযোগিতায় বিচারকের স্বাক্ষর, সীল ও স্মারক নম্বর ব্যবহার করে জাল নথিপত্র তৈরি করে এ চক্রটি প্রতারণা করে থাকে।

আন্তর্জাতিক জার্নালে জালিয়াতি : বাংলাদেশী গবেষকদের ৩২৫টি গবেষণাপত্র বাতিল

সম্প্রতি জালিয়াতি, চৌর্যবৃত্তি (পে­জিয়ারিজম), ভুয়া বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন ও তথ্যের অসংগতির অভিযোগে বিভিন্ন স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে বাংলাদেশী গবেষকদের অন্তত ৩২৫টি গবেষণাপত্র বাতিল করা হয়েছে। যা বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গবেষকদের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত সময়ে এসব গবেষণাপত্র বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া এসব গবেষণাপত্রের সাথে দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৪৪টি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ৪২টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২টি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০টি গবেষণাপত্র রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থাগুলোর তদন্তে উঠে এসেছে যে পদোন্নতি, প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক প্রণোদনা এবং অনৈতিক সুবিধার লোভে অনেক গবেষক কাল্পনিক উপাত্ত ব্যবহার, অর্থের বিনিময়ে লেখকস্বত্ব কেনাবেচা এবং গবেষণায় ভুয়া তথ্য যুক্ত করেছেন। এমনকি বৈশ্বিক র‍¨vঙ্কিং বাড়াতে সঊদী আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সুবিধার লোভেও অনেকে মানহীন গবেষণা প্রকাশ করেছেন। এই গুরুতর অনিয়মের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক বা গবেষকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রথমত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর তারা ব্যর্থ হ’লে ইউজিসি সরাসরি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিশ্বে খেলাপি ঋণে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পর বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ বাংলাদেশ। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে জানা যায়, দেশের ব্যাংক খাতের মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই (৩২.২৬ শতাংশ) এখন খেলাপি। বৈশ্বিক তালিকায় ৩৭.৩৫ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ইউক্রেন। এরপরই বাংলাদেশের অবস্থান। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এই হার ৬ থেকে ১৫ গুণ বেশী হওয়ায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হার এখন সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, দেশের ব্যাংক খাতে মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ২৫ হাযার কোটি টাকা। এর মধ্যে মার্চ’২৬ পর্যন্ত তিন মাসেই খেলাপি ঋণ ৩১ হাযার কোটি টাকার বেশী বেড়ে বর্তমানে মোট ৫ লাখ ৮৯ হাযার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া পুনঃতফসিল করা ঋণ ও স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টস যুক্ত করলে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ লাখ ২০ হাযার কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের প্রায় ৬১ শতাংশ। ব্যাংকার ও বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, ঋণ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবই এর প্রধান কারণ।

দেশের অর্ধেকের বেশী কৃষকের বছরে আয় ৩৪ হাযার টাকারও কম

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘ক্ষুদ্র খাদ্য উৎপাদনকারীদের আয় ও উৎপাদনশীলতা জরিপ ২০২৫’-এর তথ্যমতে, দেশের মোট কৃষকের ৫৩.৬৫ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষক। তাদের বার্ষিক গড় আয় মাত্র ৩৩ হাযার ৬৩৯ টাকা। অন্যদিকে বৃহৎ কৃষকদের গড় আয় ১ লাখ ২৯ হাযার ৯৫৬ টাকা। দেশের আটটি বিভাগের ১২ হাযার ৮৭৯টি পরিবারের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায়, জমির পরিমাণ, গবাদিপশুর সংখ্যা ও কৃষি আয়ের ভিত্তিতে চিহ্নিত নিচের ৪০ শতাংশ ক্ষুদ্র উৎপাদকের গড় জমির পরিমাণ মাত্র ৩৩.৫ শতাংশ, যেখানে বড় কৃষকদের রয়েছে ১২৩.৫ শতাংশ। ফলে জাতীয় গড় আয়ের হিসাব মূলত ক্ষুদ্র কৃষকদের বাস্তব আর্থিক দৈন্যকে আড়াল করে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, বাজার ব্যবস্থার সিন্ডিকেট এবং স্বল্প আয়ের কারণে ক্ষুদ্র কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ও নতুন বিনিয়োগে পিছিয়ে পড়ছেন। ফলে অনেকেই কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। কৃষকদের এই আয় বৈষম্য দূর করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না হ’লে ভবিষ্যতে দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিদেশ

ইউরোপে তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১৬ হাযার মৃত্যু, তবু এসি ব্যবহারে রাযী নন অধিকাংশ ইউরোপীয়

ইউরোপে সাম্প্রতিক ভয়াবহ তাপদাহে মাত্র এক সপ্তাহে ১৬ হাযারের বেশী মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হ’লেও এসি ব্যবহারে চরম অনীহা দেখাচ্ছেন স্থানীয়রা। জুনের শেষদিকে বেলজিয়ামের দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেলে গত ২৮ জুন একদিনেই ৩১৩ জনের মৃত্যু হয়, যা করোনা মহামারির রেকর্ডকেও হার মানিয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না এবং মৃতদের ৮৫ শতাংশেরই বয়স ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে। এত বিপুল প্রাণহানির পরও এসি ব্যবহারের প্রতি ইউরোপীয়দের নেতিবাচক মনোভাব বদলায়নি। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়ীতে এসি রয়েছে, সেখানে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলোতে এসি ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ৪-৬ শতাংশ। ইউরোপীয়দের বদ্ধমূল ধারণা, এসি ব্যবহারে অসুস্থতা ও জীবাণু ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের চরম ক্ষতি হয়। এছাড়া ব্যাপকভাবে এসি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক চাপ পড়বে এবং নির্গত গরম বাতাসে শহরগুলো উল্টো আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। এ কারণে সরকারী কর্তৃপক্ষও এসির বিকল্প হিসাবে পরিবেশবান্ধব আবাসন সংস্কার ও বিশেষ ‘কুলিং স্পেস’ তৈরির ওপর বেশী জোর দিচ্ছে।

মরুভূমির বিস্তার রোধে সরকারীভাবে ৬৬০০ কোটি গাছ লাগিয়েছে চীন

চীনের গোবি ও তাকলামাকান মরুভূমির বিস্তার রোধে ১৯৭৮ সাল থেকে ‘সবুজ মহাপ্রাচীর’ প্রকল্পের আওতায় ৬৬ বিলিয়ন অর্থ্যাৎ ৬ হাযার ৬০০ কোটিরও বেশী গাছ রোপণ করেছে চীন সরকার। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, রোপণকৃত এই গাছগুলো প্রাকৃতিক বনের গাছের তুলনায় ৬৬ শতাংশ দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০৫০ সালের মধ্যে আরও ৩৪ বিলিয়ন গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষের। বিজ্ঞানীদের মতে, ইউক্যালিপটাস বা পপলারের মতো দ্রুত বর্ধনশীল প্রজাতির ব্যবহার এবং মানুষের নিয়মিত পরিচর্যার কারণে গাছগুলোকে আলো, বাতাস ও পানির জন্য লড়াই করতে হয় না। ফলে এগুলো দ্রুত বেড়ে উঠছে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, স্বল্পমেয়াদী কার্বন শোষণের জন্য রোপিত এই বন শক্তিশালী হাতিয়ার হ’লেও দীর্ঘমেয়াদী কার্বন সঞ্চয় ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রাকৃতিক বনের কোন বিকল্প নেই।

বিয়েতে মাকে দাওয়াত না দেওয়ায় চাকরী গেল ছেলের, চাকরী পেলেন মা

চীনের হেনান প্রদেশে নিজের বিয়েতে জন্মদাত্রী মাকে আমন্ত্রণ না জানানোয় এক কর্মীকে বরখাস্ত করেছেন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রেন প্রস্ত্ততকারী ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান চুই পেইজুন কর্মীর বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখেন বরের বৃদ্ধা মা আয়োজনে নেই। তিনি কারখানার পাশে একা বসে আছেন। কর্মীর কাছে কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, মায়ের সাধারণ চেহারা অতিথিদের সামনে তাকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে ভেবেই তিনি মাকে আমন্ত্রণ জানাননি। শৈশবে বাবা মারা যাওয়ার পর যে মা একাকী হাড়ভাঙা খাটুনি করে ছেলেকে মানুষ করেছেন, তার প্রতি এমন চরম অকৃতজ্ঞতায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধান তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বরখাস্ত করেন। ঐ কর্মী পরে ক্ষমা চাইলেও তিনি সিদ্ধান্ত বদলাননি। বরং সাফ জানিয়ে দেন, ‘যে ব্যক্তি জন্মদাত্রী মাকে সম্মান দিতে পারে না, প্রতিষ্ঠানে তার কোন স্থান নেই’। উল্টো ঐ বৃদ্ধা মায়ের আর্থিক সুরক্ষার জন্য তাকে ছেলের সমপরিমাণ বেতনে প্রতিষ্ঠানের লজিস্টিকস বিভাগে চাকরী দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বসের এমন মানবিক ও নৈতিক সিদ্ধান্তের যেমন ব্যাপক প্রশংসা হচ্ছে, তেমনি ব্যক্তিগত কারণে চাকরিচ্যুতির বিষয়টি শ্রম আইনের পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে কিছুটা বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে।

[ধন্যবাদ প্রতিষ্ঠান প্রধানকে। এটিই হ’ল ইসলামের বিধান। যেখানে মায়ের পায়ের তলে সন্তানের জান্নাত বলা হয়েছে (নাসাঈ হা/৩১০৪)। এই ঘটনার মধ্যে সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। (স.স.)]

মুসলিম জাহান

 

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম এআই হাব হ’তে যাচ্ছে তুরস্ক

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হাব হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে ২০২৬-২০৩০ সাল মেয়াদী নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে তুরস্ক। প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন ও উদ্ভাবনী সমাধানের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সম্প্রতি এই রূপরেখায় স্বাক্ষর করেছেন। পরিকল্পনার আওতায় আগামী দুই বছরে দেশের ৮১টি প্রদেশের ৫০ লাখ নাগরিককে এআই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১০ হাযার উচ্চ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ ও ১ লাখ এআই পেশাজীবী তৈরী করা হবে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারগুলোর সক্ষমতা ১ গিগাওয়াটে উন্নীত করা, বেসরকারী খাতে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বাজেটের অন্তত ২ শতাংশ এআই প্রকল্পে ব্যয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য তুর্কী ভাষাগোষ্ঠীর দেশগুলোকে নিয়ে একটি অভিন্ন বৃহৎ ভাষা মডেল (LLM) এবং নিজস্ব রোবটিক প্রযুক্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর মতে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজস্ব মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মানবজাতির কল্যাণে এআইয়ের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে লাগাতে চায় তুরস্ক।

বিজ্ঞান ও বিস্ময়

 

চীনের রাস্তায় এবার এআই রোবট ট্রাফিক পুলিশ!

রোবট প্রযুক্তিতে চীনের অভাবনীয় অগ্রগতির এক নতুন নিদর্শন হিসাবে জেজিয়াং প্রদেশের হাংঝৌ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রথমবারের মতো ১৫টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মানবসদৃশ রোবট ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চাকাযুক্ত প­্যাটফর্মের উপর দাঁড়ানো এবং উজ্জ্বল ইউনিফর্ম পরিহিত এই রোবটগুলো সত্যিকারের পুলিশের মতোই নিখুঁত অঙ্গভঙ্গিতে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরা পর্যটকদের পথ দেখানো, নিয়ম ভঙ্গকারীদের সতর্ক করা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করছে। সবচেয়ে নিবেদিত মানব ট্রাফিক পুলিশের পক্ষেও এসব কাজ টানা আট ঘণ্টা ধরে করে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন। রোদ-বৃষ্টি বা দূষণের মাঝেও দীর্ঘক্ষণ ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করতে পারা এই রোবটগুলোকে মানব পুলিশরাও আনন্দের সাথেই তাদের নতুন সহকর্মী হিসাবে গ্রহণ করেছেন।

আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ

 

 

আন্দোলন

মাসিক ইজতেমা

১৭ই জুলাই শুক্রবার রংপুর : অদ্য বাদ আছর যেলার সদর থানাধীন মুসলিমপাড়া শেখ জামালুদ্দীন আহলেহাদীছ জামে মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে মাসিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আব্দুল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইজতেমায় কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম ও অর্থ সম্পাদক মুহাম্মাদ বাহারুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি মতীউর রহমান।

৩১শে জুলাই শুক্রবার সন্তোষপুর, রাজশাহী : অদ্য বাদ মাগরিব যেলার শাহ মখদুম থানাধীন সন্তোষপুর-পশ্চিমপাড়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক মাসিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। অত্র মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা মকবূল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত মাসিক ইজতেমায় কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহীর শিক্ষক সোহেল বিন আকবর।

১৪ই আগষ্ট শুক্রবার উত্তর নওদাপাড়া, রাজশাহী : অদ্য বাদ মাগরীব যেলার শাহ মাখদুম থানাধীন উত্তর নওদাপাড়া নতুন (তাহরীক চত্তর) আহলেহাদীছ মসজিদে এক মাসিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। অত্র মসজিদ কমিটির সভাপতি ও আত-তাহরীক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইজতেমায় বক্তব্য পেশ করেন আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়ার শিক্ষক সোহেল বিন আকবর, রাজশাহী-সদর আন্দোলন’-এর প্রচার সম্পাদক মাওলানা শামসুল হুদা প্রমুখ।

তা‘লীমী বৈঠক

২৪শে জুলাই শুক্রবার শুকলপট্টি, নাটোর : অদ্য বাদ মাগরিব যেলার সদর থানাধীন শুকলপট্টি আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক তা‘লীমী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অত্র মসজিদের খতীব হাফেয গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত তা‘লীমী বৈঠকে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল বারী।

৭ই আগস্ট শুক্রবার ভিটামাটি, গোমস্তাপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ : অদ্য বাদ আছর যেলার গোমস্তাপুর থানাধীন ভিটামাটি আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক তা‘লীমী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অত্র মসজিদের সভাপতি মুজীবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত তা‘লীমী বৈঠকে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আনোয়ারুল ইসলাম।

প্রশিক্ষণ

৮ই আগস্ট শনিবার জাতআমরুল, আত্রাই, নওগাঁ : অদ্য সকাল ১০-টায় যেলার আত্রাই উপযেলাধীন জাতআমরুল আহলেহাদীছ জামে মসজিদে উপযেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক কর্মী ও দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। উপযেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আলাউদ্দীন সিরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম ও ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক মুহাম্মাদ এহসান। অন্যান্যের মধ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুস সাত্তার, সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ আফযাল হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শহীদুল আলম। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উপযেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম।

তাবলীগী সভা

লক্ষ্মীপুর সদর, লক্ষ্মীপুর ২৪ জুলাই শুক্রবার : অদ্য বাদ মাগরিব লক্ষীপুর যেলা সদরের ২নং ওয়ার্ডে প্রতিষ্ঠিত আল-‘মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী’ জামে মসজিদে এক তাবলীগী সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মোস্তফা মাহতাবুদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত তাবলীগী সভায় প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন। অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আহলেহাদীছ পেশাজীবী ফোরাম’-এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মুহাম্মাদ মশিউর রহমান সাগর, ‘আন্দোলন’ ঢাকা যেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব তাসলীম সরকার, বর্তমান সেশনের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ অলী হাসান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর দারুল উলূম কামিল মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক মাওলানা মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান, প্রিন্সিপাল কাজী ফারূকী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক মাওলানা আলাউদ্দীন ওমর প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন ‘যুবসংঘ’ লকক্ষ্মীপুর যেলার সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ তারেকুর রহমান।

দেবিদ্বার, কুমিল্লা ৭ই আগস্ট শুক্রবার : অদ্য বাদ জুম‘আ যেলার দেবিদ্বার থানা সদরের গোমতী আবাসিক এলাকায় প্রতিষ্ঠিত বাইতুল আক্বছা সালাফিইয়া জামে মসজিদে এক তাবলীগী সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপযেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আলী হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত তাবলীগী সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, যেলা ‘আন্দোলন’-এর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আতীকুর রহমান, অত্র মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী মুহাম্মাদ তাজুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন, যেলা ‘যুবসংঘ-এর সেক্রেটারী মুহাম্মাদ আল-আমীন। অনুষ্ঠানে যেলা ও উপযেলা আন্দোলন ও যুবসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলগণ উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় দাঈর সফর

‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় দাঈ অধ্যাপক মুহাম্মাদ আব্দুল হামীদ গত ৩-৯ই আগস্ট রাজশাহী-পশ্চিম সাংগঠনিক যেলার তানোর থানাধীন কৃষ্ণপুর, কচুয়া, জিতপুর, কুন্দাই, দেবীপুর, সেলামপুর, লালপুর, বিলশহর, বানিয়াল, চাঁদপুর, নারায়ণপুর, গোকুল, চাপড়া, ধানতৈড়, কুঠিপাড়া, গুবিরপাড়া ও তানোর বাজার এলাকায় তাবলীগী সফর করেন।

 

 

‘তারুণ্যের আত্মপাঠ ও সমাজচিন্তা’ শীর্ষক সেমিনার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ২১শে আগস্ট শুক্রবার : অদ্য বিকাল ৪-টা থেকে ৬-টা পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ গ্যালারী-১-এ ‘তারুণ্যের আত্মপাঠ ও সমাজচিন্তা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ‘যুবসংঘ’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুদ্দাছির ছাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক এবং ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন শিক্ষা বোর্ড’-এর চেয়ারম্যান ড. আহমাদ আব্দুল্ল­াহ ছাকিব। সেমিনার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগ-এর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবুবকর ছিদ্দীক। সেমিনারে গবেষণাপত্র পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মুছাদ্দিক।

সেমিনারে আলোচনা পেশ করেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার সাবেক কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মাদ হেদায়েত উল্লাহ, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ ওছমান মেহেদী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক যাকারিয়া খান, ‘আহলেহাদীছ পেশাজীবী ফোরাম’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. শওকত হাসান, ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমাদুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুন নূর, ইসলামী দাঈ ও উদ্যোক্তা আহমাদ আরেফীন, এক্সিস গ্রুপের সিইও ইঞ্জিনিয়ার হাফীযুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন ‘যুবসংঘ’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সম্পাদক যহূরুল ইসলাম।

আলোচকগণ সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্মের আত্মবিকাশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা নিয়ে গভীর ও তথ্যবহুল আলোচনা উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ অধিবেশনে প্যানেল আলোচনা ও উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেন এবং আলোচকবৃন্দ সেগুলোর উত্তর প্রদান করেন।

 
  

 

 

‘উপমহাদেশে আহলেহাদীছ আক্বীদা ও মানহাজ প্রসারে মিয়াঁ নাযীর হুসাইন দেহলভীর অবদান’ শীর্ষক সেমিনার

২৯শে জুলাই বুধবার নওদাপাড়া, রাজশাহী : নগরীর নওদাপাড়াস্থ আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফীর শিক্ষক মিলনায়তনে অদ্য বিকাল ৫-টায় ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর গবেষণা বিভাগের উদ্যোগে ‘উপমহাদেশে আহলেহাদীছ আক্বীদা ও মানহাজ প্রসারে মিয়াঁ নাযীর হুসাইন দেহলভীর অবদান’ শীর্ষক মাসিক গবেষণা সেমিনার-২ অনুষ্ঠিত হয়। ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক এবং হাফাবা গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন গবেষণা বিভাগের সিনিয়র গবেষণা সহকারী ও মারকাযের ভাইস প্রিন্সিপাল ড. নূরুল ইসলাম। সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম এবং মারকাযের প্রিন্সিপাল হাফেয মুহাম্মাদ আখতার। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর জুনিয়র গবেষণা সহকারী এবং কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মাদ আব্দুর রঊফ।

 
  

 

 

দাখিল পরীক্ষা ২০২৬-এর ফলাফল

আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহী :

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী গৌরবোজ্জ্বল ফলাফল অর্জন করেছে। এবছর সাধারণ ও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৫০জন ছাত্র ও ৪৪জন ছাত্রীসহ সর্বমোট ৯৪জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

তন্মধ্যে ৪১জন জিপিএ ৫ (A+) (এর মধ্যে ১২জন গোল্ডেন (A+), ৪৪জন A ও ৯জন A-গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

মোট ৫০ জন ছাত্রের মধ্যে ১৮জন জিপিএ ৫ (A+) (এর মধ্যে ৩জন গোল্ডেন (A+)), ২৪জন A গ্রেড ও ৮জন A-গ্রেড পেয়েছে। মোট ৪৪জন ছাত্রীর মধ্যে ২৩জন জিপিএ ৫ (A+) (এর মধ্যে ৯জন গোল্ডেন (A+), ২০জন A গ্রেড ও ১জন A-গ্রেড পেয়েছে। বি. দ্র. সারাদেশে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির গড়ে দেশের সেরা ৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মারকাযের অবস্থান ২য়। ফালিল্লাহিল হামদ

দারুলহাদীছ আহমাদিয়া সালাফিইয়াহ, বাঁকাল, সাতক্ষীরা : ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তন্মধ্যে ১জন জিপিএ ৫.০০ (A+), ৬জন (A), ৩জন A-, ৫জন (B) ও ৩জন (C) গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

 
  

 

 

‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ পাবনা যেলার অর্থ সম্পাদক ও আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী (বিনা)-তে কর্মরত মুহাম্মাদ আকরাম হোসাইন (৫৯) গত ৯ই আগস্ট রোজ রবিবার বিকাল ৪-টায় তীব্র বুকের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্ল­া-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজে‘ঊন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ পুত্র ও ২ কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও সাংগঠনিক সাথী রেখে যান। ঐদিন রাত সাড়ে ৯-টায় ঈশ্বরদী উপযেলাধীন অরণকোলা হাট জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা ময়দানে তার জানাযার ছালাত অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ আলী শাহান মাস্টার। জানাযা শেষে তাকে ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। জানাযায় যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাবেক সভাপতি মাওলানা বেলালুদ্দীন, মুহাম্মাদ সোহরাব আলী, বর্তমান সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ আফতাবুদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক এস. এম তারিক হাসান, ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি হাফেয শরীফুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি হাসান আলীসহ যেলা ‘আন্দোলন’, ‘যুবসংঘ’, ‘সোনামণি’র দায়িত্বশীল ও কর্মীবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

[আমরা তার রূহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি- সম্পাদক]

প্রশ্ন (১/৪৪১) : একটি হাদীছে নারীদের দ্বীনের কমতি হায়েযের কারণে বলা হয়েছে। অথচ হায়েয তো নারীদের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। বরং সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য। তাহ’লে এটিকে কিভাবে দ্বীনের কমতি বলা হয়? অন্য হাদীছে ছালাতে মনোযোগ নষ্ট হওয়ার প্রসঙ্গে গাধা ও কালো কুকুরের সঙ্গে নারীদের কথা এসেছে। এ ধরনের হাদীছ পড়ে আমার মনে সংশয় সৃষ্টি হয় যে, ইসলামে নারীর মূল্য কি সত্যিই কম? নাকি এসব হাদীছের অন্য কোন ব্যাখ্যা রয়েছে?

-আরিফ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : হায়েযের কারণে দ্বীনের কমতি বলতে নারীর ঈমান, মর্যাদা বা আল্লাহর কাছে মূল্য কম বুঝানো হয়নি; বরং শারঈ বিধানের কারণে কিছু ইবাদত সাময়িকভাবে মওকূফ হওয়াকে বুঝানো হয়েছে। শায়েখ বিন বায (রহঃ) বলেন, ‘নারীর আকল বা মেধার এই ঘাটতিটি মূলত তার স্মরণশক্তি বা মুখস্থ রাখার দুর্বলতার দিক থেকে বিবেচিত। আর এই কারণেই (আদালতে) তার সাক্ষ্যকে অপর একজন নারীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে সুদৃঢ় বা পরিপূরক করা হয়। আর এটি করা হয়েছে সাক্ষ্যের বিষয়টিকে নিখুঁত ও সংরক্ষিত রাখার স্বার্থে। যেমনটি মহান আল্লাহ স্বয়ং এরশাদ করেছেন... (বাক্বারাহ ২/২৮২)

আর নারীর দ্বীনের ঘাটতির বিষয়টি হ’ল সে যখন হায়েয অবস্থায় থাকে, তখন সে ছালাত ত্যাগ করে এবং পরবর্তীতে তাকে এই ছালাতগুলোর ক্বাযা আদায় করতে হয় না। মূলত এটিই হ’ল দ্বীনের ঘাটতি। তবে এই ঘাটতির কারণে সে কোনভাবেই অপরাধী বা গুনাহ্গার হবে না। বরং এই ঘাটতিটি স্বয়ং মহান আল্লাহর বিধানের আলোকেই সাধিত হয়েছে, যা তিনি কেবল নারীর প্রতি দয়া ও তার কষ্ট লাঘব করার জন্যই করেছেন (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৪/২৯২; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৩/২৫০)

একইভাবে নারী, গাধা ও কালো কুকুর মুছল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রমের হাদীছও নারীর অবমূল্যায়নের জন্য নয়; বরং ছালাতের একটি নির্দিষ্ট ফিক্বহী বিধান বর্ণনার জন্য। এখানে পরনারী থেকে পর্দার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সুৎরার বাইরের অংশ দিয়ে অতিক্রম করলে ছালাত নষ্ট হবে না। এজন্য দেখা যায় যে, রাসূল (ছাঃ) ছালাত আদায় করতেন আর আয়েশা (রাঃ) পা মেলে শুয়ে থাকতেন। রাসূল (ছাঃ) যখন সিজদা দিতেন তিনি পা সরিয়ে নিতেন। আবার দাঁড়িয়ে গেলে পা মেলে দিতেন (বুখারী হা/৩৮২; মিশকাত হা/৭৮৬)। তাই এসব হাদীছকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়; বরং সামগ্রিক শারঈ প্রেক্ষাপটে বুঝতে হবে। ইসলামে নারীর সম্মান ও মর্যাদা কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ বলেন, ‘তারা তোমাদের পোষাক এবং তোমরা তাদের পোষাক’ (বাক্বারাহ ১৮৭)

প্রশ্ন (২/৪৪২) : ছিফফীনের যুদ্ধে যারা নিহত হয়েছেন তাদেরকে শহীদ বলা যাবে কি?

-শোয়াইব মুনীরী, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।

উত্তর : উভয় পক্ষের নিহত ছাহাবীদের ব্যাপারে শাহাদাতের আশা করা যায়। তবে ষড়যন্ত্রকারী খারেজীদের ব্যাপারে নয়। কারণ ছাহাবীরা উভয় পক্ষই নিজেদের ইজতিহাদের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে সঠিক মনে করেছিলেন। সেজন্য আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত এই বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, ওছমান (রাঃ)-এর শাহাদাতের পর ছাহাবীদের মধ্যে যেসমস্ত ফিৎনা ও যুদ্ধবিগ্রহ সংঘটিত হয়েছিল, সেগুলো নিয়ে তাদের সমালোচনা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। উভয় পক্ষের নিহতদের জন্য মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তাঁদের সবার প্রতি আল্লাহর রহমত কামনা করা আবশ্যক। সেই সাথে ছাহাবীগণের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, ঈমানের ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রগামী হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা এবং তাঁদের গুণাবলী ও প্রশংসা উম্মতের মাঝে প্রচার করা কর্তব্য। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের এবং আমাদের ভাইদের ক্ষমা কর, যারা আমাদের পূর্বে ঈমান এনেছে। আর ঈমানদারগণের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না (হাশর ১০)

ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, উষ্ট্র ও ছিফফীনের যুদ্ধের দিন যা ঘটেছিল, তার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। কারণ আলী (রাঃ) এই যুদ্ধগুলোর ফলাফল বা রক্তপাতে বিন্দুমাত্র আনন্দ প্রকাশ করেননি; বরং তাঁর থেকে গভীর দুঃখ ও অনুশোচনা প্রকাশ পেয়েছিল। তিনি পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করেছিলেন যে, তিনি তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদ বা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের আলোকেই এই যুদ্ধ করেছিলেন (মাজমূউল ফাতাওয়া ২০/৩৯৫)। তিনি আরো বলেন, উষ্ট্রের যুদ্ধের দিন এই সমস্ত ছাহাবীগণের কারোরই যুদ্ধ করার কোন উদ্দেশ্য ছিল না; বরং এই যুদ্ধবিগ্রহ ও রক্তপাত তাঁদের নিজেদের ইচ্ছা বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তৃতীয় পক্ষ ঘাতকদের গোপন হামলার কারণে ঘটে গিয়েছিল (মিনহাজুস সুন্নাহ ৪/৩১৬)। ইবনে হাযম (রহঃ) বলেন, ‘আর উষ্ট্রের যুদ্ধে ছাহাবীগণের শরীক হওয়ার ব্যাপারটি হ’ল তাঁরা কখনোই আলী (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ইচ্ছা বা সংকল্প করেননি এবং আলী (রাঃ)ও তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নিয়ত করেননি। তাঁরা মূলত মদীনা থেকে বছরায় সমবেত হয়েছিলেন ওছমান (রাঃ)-এর হত্যাকারীদের বিষয়ে একটি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য এবং তাদের ওপর আল্লাহর হদ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ওছমান হত্যাকারীরা নিজেদের ওপর আল্লাহর হদ কার্যকর হওয়ার ভয়ে ভীত ছিল আর তাদের সংখ্যাও ছিল বিশাল। তারা গোপনে অতর্কিত হামলা চালায়। ফলে উভয় পক্ষই যখন দেখল যে তলোয়ার তাদের ওপর আঘাত হানতে শুরু করেছে, তখন তারা প্রত্যেকেই পরিস্থিতির শিকার হয়ে স্রেফ নিজেদের জীবন রক্ষার্থে যুদ্ধে লিপ্ত হ’তে বাধ্য হন (আল-ইহকাম ফী উছুলিল আহকাম ২/৮৫)

প্রশ্ন (৩/৪৪৩) : সূরা বাক্বারাহ ২৫৬ আয়াতে উল্লেখ আছে ধর্মের ব্যাপারে কোন যবরদস্তি নেই। তাহ’লে ইসলামী আইনে ধর্মত্যাগীদের যে শাস্তির কথা বলা হয়েছে, সেটা উক্ত আয়াতের সাথে কিভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে?

-ইব্রাহীম, ফার্মগেট, ঢাকা।

উত্তর : এ দু’টির মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কারণ ‘দ্বীনের ব্যাপারে যবরদস্তি নেই’ (বাক্বারাহ ২/২৫৬) আয়াতটি কাউকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য না করার নীতি বর্ণনা করে। আর মুরতাদের শাস্তি হ’ল এমন ব্যক্তির ব্যাপারে, যে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করার পর ইসলাম ত্যাগ করেছে। তাই বিষয় দু’টি ভিন্ন (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২১/২৩১-২৩৪)। বিষয় দু’টি হ’ল : (১) ইসলামে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোন অমুসলিমকে বাধ্য করা যাবে না। (২) ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেলে একজন মুসলিম যেমন একদিকে আল্লাহদ্রোহী হয়, অপরদিকে সে ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিক চুক্তি লঙ্ঘন করে। যা ধর্মদ্রোহ এবং দেশদ্রোহিতার শামিল, যার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে, তোমরা তাকে হত্যা করো’ (বুখারী, মিশকাত হা/৩৫৩৩)

উক্ত আয়াতের তাফসীরে ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, দ্বীনে প্রবেশ করার জন্য কাউকে বাধ্য করা যাবে না। কারণ এই দ্বীন অত্যন্ত স্পষ্ট। এর প্রমাণ ও নিদর্শনসমূহ অতিশয় প্রকট। সুতরাং এতে প্রবেশের জন্য কাউকে বাধ্য করার কোন প্রয়োজন নেই। বরং আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইসলামের দিকে হেদায়াত দান করেন, যার বক্ষকে উন্মুক্ত করে দেন এবং যার অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করেন, সে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে এতে প্রবেশ করে। আর আল্লাহ যার অন্তরকে অন্ধ করে দিয়েছেন এবং তার কান ও চোখের উপর আবরণ টেনে দিয়েছেন, তাকে বাধ্য বা যবরদস্তি করে দ্বীনে প্রবেশ করালে সে অন্তরে মুনাফিকই থেকে যাবে, যা কোন উপকারে আসে না (তাফসীর ইবনু কাছীর)

আর মুরতাদের শাস্তির পেছনে মূল হিকমত হ’ল ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষা করা। যদি ধর্মত্যাগের কোন শাস্তি না থাকত, তবে লোকেরা সহজে ইসলামে প্রবেশ করত এবং পরক্ষণেই বের হয়ে যেত। এতে দ্বীনের ভাবমূর্তি নষ্ট হ’ত এবং মুসলিম সমাজে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙন তৈরী হ’ত। সুতরাং এই আইনটি মূলত একটি ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’, যা মানুষকে দ্বীন নিয়ে খামখেয়ালী কর্ম করতে বাধা দেয় এবং মুসলিম সমাজের সংহতি রক্ষা করে। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) এ বিষয়ে বলেন, মুরতাদ ব্যক্তিকে যদি হত্যা করা না হ’ত, তবে লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করে আবার তা থেকে ইচ্ছামত বের হয়ে যেত। সুতরাং তাকে হত্যা করার বিধান মূলত দ্বীন এবং দ্বীনদারদের হেফাযত করার মাধ্যম। কারণ এই বিধান দ্বীনের মধ্যে কোন ঘাটতি বা ভাঙন তৈরী হওয়া রোধ করে এবং মানুষকে দ্বীন থেকে বের হয়ে যেতে বাধা দেয়। তবে যে ব্যক্তি আদৌ দ্বীনে প্রবেশই করেনি, তার বিষয়টি এর বিপরীত অর্থাৎ তাকে বাধ্য করা হয় না’ (মাজমূউল ফাতাওয়া ২০/১০২)। মোটকথা ইসলামী শরী‘আতে কাউকে মুসলিম হ’তে বাধ্য করার বিধান যেমন নেই, তেমনি মুসলিম হওয়ার পর কাউকে ইসলামের ভিত্তি ও সমাজ কাঠামোকে ভেঙে ফেলার কোন অধিকারও দেওয়া হয় না।

উল্লেখ্য যে, ‘দ্বীনের ব্যাপারে যবরদস্তি নেই’-এর অর্থ এই নয় যে, মুসলিমরা দ্বীন প্রচারে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। বরং এর অর্থ হ’ল দ্বীন গ্রহণে কাউকে জোর করা যাবে না; তবে যুক্তি, সুন্দর আচরণ ও ভালোবাসার মাধ্যমে অমুসলিমদের কাছে ইসলামী সত্যতার দাওয়াত পৌঁছানোর কাজ সবসময় জারী রাখতে হবে।

প্রশ্ন (৪/৪৪৪) : কবর খননের সময় প্রথম কোদালের মাটি মৃত ব্যক্তির ডান বা বাম পাশে রাখার কোন শারঈ বিধান আছে কি? কবর খননের সময় যদি পূর্বের কোন কবরের হাড় পাওয়া যায়, তাহ’লে সেগুলো কি করতে হবে?

-বেলায়েত, কাপাসিয়া, গাযীপুর।

উত্তর :প্রথমত কবর খননের সময় প্রথম কোদালের মাটি মৃত ব্যক্তির ডান বা বাম পাশে রাখার বিশেষ কোন বিধান শরী‘আতে নেই। তাই এটিকে সুন্নাত বা বিশেষ নিয়ম মনে করা বিদ‘আত হবে। দ্বিতীয়ত কবর খননের সময় যদি পূর্ববর্তী কোন মৃত ব্যক্তির হাড় বা দেহাবশেষ পাওয়া যায়, তাহ’লে তা যথাসম্ভব সম্মানের সঙ্গে এক পাশে রেখে একই কবরে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে একটি জানাযার ছালাতে শরীক হ’তে বের হ’লাম। আমরা যখন কবরের কাছে পৌঁছালাম, তখন দেখা গেল কবরটি খনন করার কাজ তখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই নবী (ছাঃ) কবরের এক পাশে বসলেন এবং আমরাও তাঁর চারপাশে বসলাম। এমন সময় কবর খননকারী ব্যক্তি কবরের ভেতর থেকে একটি মানুষের হাড়, পায়ের নলা অথবা হাতের বাহুর হাড় বের করল এবং সে সেটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিল। তখন নবী (ছাঃ) বললেন, ‘এটি ভেঙো না! কারণ মৃত মানুষের হাড় ভেঙে ফেলা, জীবিত মানুষের হাড় ভেঙে ফেলার মতোই। বরং সেটিকে কবরের এক পাশে যত্নসহকারে দাফন করে দাও’ (আবুদাউদ হা/৩২০৭; আওনুল মা‘বূদ ৯/১৮; মির‘আত ৫/৪৪৯;)

প্রশ্ন (৫/৪৪৫) : তিন তালাকের পর আগের স্বামীর কাছে ফিরে আসার জন্য নারীকে অন্য পুরুষকে বিবাহ করা এবং স্বাভাবিক সংসার হওয়া আবশ্যক। এক্ষণে শরী‘আতে এরূপ শর্তারোপের তাৎপর্য কি?

*-শফীউল্লাহ, নাটোর।

*[ছফিউল্লাহ নাম রাখুন (স.স.)]

উত্তর : আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ) শরী‘আতের বিধান বর্ণনা করে দিয়েছেন। অতঃপর কোনটির হিকমত বর্ণনা করেছেন, আবার কোনটির হিকমত বর্ণনা করেননি। মুমিনের কাজ হচ্ছে দ্বিধাহীন চিত্তে শরী‘আতের বিধান মেনে চলা। তবে বিদ্বানগণ তালাককে তিন সংখ্যায় সীমিত করার কিছু হিকমত বর্ণনা করেছেন। তালাককে কঠিনভাবে নিরুৎসাহিত করাই মূল উদ্দেশ্য হলেও আরো কিছু হিকমত রয়েছে। যেমন-

১. শরী‘আত তিন তোহরে তিন তালাক প্রদানকে বিধিবদ্ধ করেছে। এক তালাক দেওয়ার পর যাতে নিজের ভুল সংশোধন করতে পারে সেজন্য রাজা‘আতের সুযোগ রাখা হয়েছে। এরপরেও যদি সিদ্ধান্ত নিতে অপারগ হয় তাহলে আরেক তালাক দিয়ে চিন্তা ও পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপরেও যদি ইতিবাচক সিন্ধান্ত নিতে না পারে তাহ’লে জানতে হবে যে, কোনভাবেই উক্ত মেয়ের সাথে সংসার করা সম্ভব নয়। এক্ষণে যে মেয়ের সাথে সংসার করা সম্ভব নয় বলে তৃতীয় তালাক দেওয়া হ’লে তাকে আবার ফিরিয়ে নেওয়ার মধ্যে কোন যুক্তি নেই। বরং অন্যত্র বিবাহ হলে এবং স্বাভাবিকভাবে তালাক তালাকপ্রাপ্তা হলে অতঃপর উভয়ের বিবাহ হ’লে দু’জন নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে সংসার করবে বলে আশা করা যায়।

২. তিন তালাকের পরেও রাজা‘আতের সুযোগ থাকলে লোকেরা তালাকের বিধানকে অনেক হালকা মনে করত এবং স্ত্রীকে অসংখ্যবার তালাক দিত এবং ফিরিয়ে নিত।

৩. তালাক বিষয়টি স্ত্রীর জন্য অনেক কষ্টদায়ক। সেজন্য তাদের কষ্ট লাঘব করার জন্য তিনের অধিক তালাক দিয়ে ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

৪. নারীর অন্যত্র বিবাহের সুযোগ রাখা। কোন পুরুষ যাতে স্ত্রীর সাথে বছরের পর বছর ছলনা করতে না পারে সেজন্য এই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

৫. এছাড়া স্বামীর আত্মসম্মানবোধ পরীক্ষা করার জন্য এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। স্বামী যাতে তিন তালাক দেওয়ার পূর্বে ভালোভাবে চিন্তা করে যে, স্ত্রীকে আর ফিরিয়ে পাওয়া যাবে না। পাওয়া গেলেও অন্যের শয্যাগ্রহণকারীকে পুনরায় স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করতে হবে (তাফসীরে সা‘দী; তাফসীরে রাযী, ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ ২/২১৫; ইবনু ‘আশূর, আত-তাহরীর ওয়াত-তানভীর ২/৪১৫)। দ্র. বড় কথা হ’ল ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ এর যথার্থ ব্যাখ্যা বুঝতে পারেন।

প্রশ্ন (৬/৪৪৬) : চার বছর অবৈধ সম্পর্কের পর হারাম বুঝতে পেরে মায়ের অমতে বিবাহ করি। মা আমাকে বদ দো‘আ দেন। বিবাহের ১৮ দিন পর দুর্ঘটনায় আমার হাঁটু, পা, কোমর ভেঙ্গে যায়। ১ বছর যাবৎ আমি হাঁটতে পারি না। মায়ের কারণে স্ত্রীকে পিতার বাসায় থাকতে হয়। মা আমাকে তালাক দিতে বাধ্য করতে চাইছেন। স্ত্রী আমার সাথে থাকতে চায়। এক্ষণে আমার করণীয় কি?

-আহমাদ শরীফ, রাজশাহী।

উত্তর : পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে বিবাহ করা উচিৎ। তবে বিবাহের ক্ষেত্রে ছেলে নিজেই নিজের সিদ্ধান্তগ্রহণকারী। সেজন্য কোন ছেলে পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে তা শরী‘আত বিরোধী নয়। সুতরাং মায়ের উচিৎ হবে না ছেলের সিদ্ধান্তে বাধা হয়ে দাঁড়ানো। আর ছেলের উচিৎ হবে পিতা-মাতাকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। ইবনু আববাস ও আবুদ্দারদা (রাঃ)-কে পিতা-মাতার আদেশে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হ’লে তারা বলেন, ‘আমি তোমাকে স্ত্রী তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারছি না আবার পিতা-মাতার অবাধ্যতা করারও আদেশ করছি না। প্রশ্নকারী বললেন, তাহ’লে আমি এই নারীর ব্যাপারে কি করব? ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, (স্ত্রীকে রেখেই) পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ কর’ (ইবনু আবী শায়বাহ হা/১৯০৫৯, ১৯০৬০; হাকেম হা/২৭৯৯; ছহীহুত তারগীব হা/২৪৮৬, ইবনু আববাস বর্ণিত হাদীছটি হাসান ও আবুদ্দারদা বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ)

ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ)-কে জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, ‘আমার পিতা আমার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য আমাকে আদেশ দিচ্ছেন। (আমি কি করব?) তিনি বললেন, তুমি তালাক দিয়ো না। বর্ণনাকারী বলল, ওমর (রাঃ) কি তার ছেলে আব্দুল্লাহকে স্বীয় স্ত্রীকে তালাক দিতে বলেননি। তিনি বললেন, তোমার বাবা কি ওমরের মত হয়েছেন’? (মুহাম্মাদ ইবনু মুফলেহ, আল-আদাবুশ শারঈয়া ১/৪৪৭)

অর্থাৎ সব পিতা-মাতার আদেশে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যাবে না। একদিন প্রখ্যাত তাবেঈ আত্বা (রহঃ)-কে একজন লোক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’ল, যার স্ত্রী ও মা রয়েছেন। আর তার মা তার স্ত্রীর প্রতি অসন্তুষ্ট। তিনি বললেন, ‘সে যেন তার মায়ের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং মায়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে’। তাকে বলা হ’ল, সে কি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিবে? তিনি বললেন, না। তাকে বলা হ’ল, মা যে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া ব্যতীত খুশি নন। তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট না করুন। স্ত্রী তার হাতে রয়েছে, সে যদি তালাক দেয় তাতেও কোন দোষ নেই। আবার না দিলেও কোন দোষ নেই’ (মারওয়াযী, আল-বির্রু ওয়াছ ছিলাহ হা/৫৮, সনদ হাসান)

শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ)-কে মায়ের কথায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হ’লে তিনি বলেন, ‘তার জন্য স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হালাল হবে না। বরং তার জন্য আবশ্যক হ’ল মায়ের সাথে সদাচরণ করা। আর স্ত্রীকে তালাক দেওয়া সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত নয়’ (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ৩৩/১১২)। অতএব স্পষ্ট শারঈ কারণ ছাড়া পিতা-মাতার আদেশে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যাবে না।

প্রশ্ন (৭/৪৪৭) : হজ্জব্রত পালনের আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ এ কথা বলে যে, হজ্জ তো পরে করলেও হবে। এই ধারণায় হজ্জ আদায় না করে শুধু ওমরাহ পালন করলে সে গোনাহগার হবে কি?

-মামূনুর রশীদ, মিরপুর-১২, ঢাকা।

উত্তর :  কেবল ওমরা পালন করে হজ্জের ফরযিয়াত আদায় হবে না। সুতরাং সামর্থ্য হওয়ার পর হজ্জ পালনে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করলে গোনাহগার হ’তে হবে’ (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৬/৩৫৪)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা হজ্জ আদায়ে তাড়াতাড়ি কর; কেননা তোমাদের কেউ জানে না, পরে তার কি প্রতিবন্ধকতা এসে পড়বে (আহমাদ হা/২৮৬৯; ছহীহুল জামে‘ হা/২৯৫৭)। ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি বিভিন্ন শহরে লোক পাঠাই। তারা দেখবে, যাদের হজ্জ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্জ করেনি, তাদের ওপর জিযিয়া আরোপ করবে। কারণ তারা প্রকৃত মুসলিম নয়, তারা প্রকৃত মুসলিম নয় (আবুবকর খাল্লাল, আস-সুন্নাহ ১৫৭১)

প্রশ্ন (৮/৪৪৮) : এক ব্যক্তির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর ছেলেরা জুম‘আর দিন মসজিদে বিরিয়ানীর আয়োজন করে। এ বিষয়ে ইমাম ছাহেব বলেন, এটি জায়েয নয়; বরং বিদ‘আত। এটা সঠিক কি? তবে খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তিনি নিয়ত পরিবর্তন করে সাধারণ খাবার হিসাবে তা বিতরণ করার পরামর্শ দেন। এভাবে বিতরণকৃত খাবার খাওয়া কি জায়েয হবে?

-ইমরান ঈমান, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : ইমাম ছাহেবের বক্তব্য সঠিক। যদি কোন ব্যক্তির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষভাবে জুম‘আর দিন মসজিদে বিরিয়ানী বা অন্য কোন খাবারের আয়োজন করা হয় তাহ’লে এটি বিদ‘আত, যা বর্জন করা আবশ্যক। কারণ কুরআন-সুন্নাহ বা ছাহাবায়ে কেরামের আমলে মৃত্যুবার্ষিকী পালন কিংবা এ উপলক্ষে বিশেষ খাবারের আয়োজনের কোন প্রমাণ নেই। আর রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এ দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন চালু করবে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/১৪০)। এক্ষণে রান্নাকৃত খাবার অপচয় রোধে সত্যিকার অর্থে নিয়ত পরিবর্তন করে সাধারণ ছাদাক্বা হিসাবে বিতরণ করা ও তা গ্রহণ করা যাবে। তবে এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

প্রশ্ন (৯/৪৪৯) : কোন বৈঠক বা সম্মেলনের শেষে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে মুনাজাত করা যাবে কি?

-আহমাদুল্লাহ, কুড়িগ্রাম

উত্তর : কোন অনুষ্ঠান বা সম্মেলন শেষে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে মুনাজাত করা ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। অতএব এভাবে দো‘আ করা বিদ‘আত (বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ১৩২-৩৩ পৃঃ)। বরং এসময় মজলিস ভঙ্গের শরী‘আত নির্দেশিত দো‘আটি পাঠ করবে (তিরমিযী হা/৩৪৩৩)

প্রশ্ন (১০/৪৫০) : বিবাহের সময় কনে মেকআপ নষ্ট হওয়ার ভয়ে ওযূর পরিবর্তে তায়াম্মুম করে ছালাত আদায় করলে তার ছালাত শুদ্ধ হবে কি?

-নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : ছালাত শুদ্ধ হবে না। কারণ পানি মওজূদ থাকতে এবং তা ব্যবহারে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কেবল প্রসাধনী নষ্ট হওয়ার ভয়ে শরী‘আতে তায়াম্মুম বৈধ নয়। আল্লাহ তা‘আলা কেবল পানি না পাওয়ার শর্তে বা অসুস্থতার কারণে তায়াম্মুম করার অনুমতি দিয়েছেন (মায়েদাহ ৫/৬)

প্রশ্ন (১১/৪৫১) : নবী করীম (ছাঃ) আছর ও ফজর ছালাত ব্যতীত অন্যান্য ছালাতে মুক্তাদীদের দিকে ফিরে বসতেন না। এরকম কোন হাদীছ আছে কি?

-ফযলুর রহমান, বড়াইগ্রাম, নাটোর।

উত্তর : এরূপ বক্তব্যের কোন ভিত্তি নেই। বরং রাসূল (ছাঃ) ফজর ও আছর ছালাতসহ প্রত্যেক ছালাতে মুছল্লীদের দিকে ফিরে বসতেন (বুখারী হা/১৩৮৬; মুসলিম হা/২২৭৫; মিশকাত হা/৪৬২১)। সামুরাহ (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ)-এর নিয়ম ছিল, যখন তিনি ছালাত শেষ করতেন, তখন তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন’ (বুখারী হা/৮৪৫)। ছাহেবে মির‘আত বলেন, আর এই হাদীছগুলোর মধ্যে ছালাত সমাপ্ত করার পর মুক্তাদীদের মুখোমুখি হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। আর তা নিয়মিত ও ধারাবাহিক বজায় রাখারও প্রমাণ পাওয়া যায়; কারণ ‘কানা’ (كَانَ) শব্দটি সাধারণত ধারাবাহিকতা ও নিয়মিত অভ্যাসের অর্থ প্রকাশ করে (মির‘আতুল মাফাতীহ ৩/৩০০)। তাছাড়া রাসূল (ছাঃ) সকল ছালাতের সালামান্তে মুছল্লীদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন বলে একাধিক ছহীহ হাদীছ রয়েছে (বুখারী হা/১৩৮৬; মুসলিম হা/৪২৪; মিশকাত হা/৯৪৪)

প্রশ্ন (১২/৪৫২) : পারিবারিকভাবে বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর আক্বদ সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত পাত্র-পাত্রীর পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বৈধ কি? বাস্তবে এ ধরনের যোগাযোগ অনেক সময় হালালের মোড়কে হারাম সম্পর্কের রূপ ধারণ করে। এ বিষয়ে শরী‘আতের বিধান কি?

 -মেহেদী হাসান, চর বাগডাঙ্গা, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত পাত্র-পাত্রী পরস্পরের জন্য গায়ের মাহরাম। সুতরাং তাদের মধ্যে অবাধ যোগাযোগ, একান্তে কথা বলা, প্রেমালাপ, বারবার ফোনে বা মেসেজে আলাপ, ভিডিও কল, সাক্ষাৎ বা ঘোরাঘুরি করা কোনটাই বৈধ নয়। কারণ কেবল বিয়ের প্রতিশ্রুতি বা বাগদান কোন নারীকে পুরুষের জন্য হালাল করে না। আল্লাহ বলেন, তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং অত্যন্ত নিকৃষ্ট পথ’ (ইসরা ১৭/৩২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, কোন পুরুষ কোন পরনারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করবে না। কেননা তখন তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান (তিরমিযী হা/১১৭১; ছহীহুত তারগীব হা/১৯০৮)। তবে যদি তা বিবাহ সংক্রান্ত কল্যাণে হয় এবং তার পিতা-মাতা ভাই অথবা অন্য কোন মাহরামের উপস্থিতিতে হয়। তবে এতে কোন বাধা বা গোনাহ নেই (বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ২০/১০৮)

প্রশ্ন (১৩/৪৫৩) : হানাফী মাযহাবের অনুসারী এক ব্যক্তি রাগের মাথায় প্রথমে এক তালাক দেন। অতঃপর তিনদিন পর আবার তালাক দেন। কয়েকমাস পর স্ত্রীর এক অপরাধের কারণে তিনি পুনরায় এক তালাক দেন। প্রতিবারই তিনি রুজূ‘ করেন এই ধারণায় যে, রুজূ‘ করলে পূর্বের তালাকের গণনা আর বহাল থাকে না। পরে জানতে পারেন, তিন তালাক সম্পন্ন হয়ে গেছে। এরপর উভয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ করেন। বর্তমানে তাদের সন্তানদের কথা বিবেচনা করে তিনি প্রথম স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করতে চান। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন এবং সেই সংসারেও সন্তান রয়েছে। এ অবস্থায় শরী‘আতের দৃষ্টিতে প্রথম স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করার কোন সুযোগ আছে কি?

-আব্দুল আলীম, ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : প্রত্যেক তালাকের পর রুজূ করলেও পূর্বে সংঘটিত তালাকের সংখ্যা বাতিল হয়নি। ফলে তিনবার পৃথক তালাক সংঘটিত হওয়ায় তৃতীয় তালাকের মাধ্যমে বৈবাহিক সম্পর্ক চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। সেকারণে উক্ত স্ত্রীকে এ অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে উক্ত স্ত্রীর যদি অন্যত্র বিবাহ হয় এবং স্বাভাবিকভাবে তালাকপ্রাপ্তা হয় বা বিধবা হয় তাহ’লে ইদ্দত পালন শেষে নতুন বিবাহের মাধ্যমে সংসার করতে পারবে (বাক্বারাহ ২/২৩০; বিস্তারিত দ্র. ‘তালাক ও তাহলীল’ বই)

প্রশ্ন (১৪/৪৫৪) : জিন-শয়তানদের সংখ্যা কত? তাদেরও কি বংশবৃদ্ধি হয়? যদি হয়ে থাকে, তাহ’লে তাদের সন্তানরা কি জন্মগতভাবেই শয়তান হয়, নাকি তাদের মধ্যেও ঈমান ও সৎপথ গ্রহণের সুযোগ থাকে?

-আফরোজা, ঢাকা।

উত্তর : জিন-শয়তানের সংখ্যা সম্পর্কে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। তাদেরও বংশ বৃদ্ধি হয় এবং তাদের সন্তানেরাও ইসলামী ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে। আল্লাহ বলেন, আমি জিন ও ইনসানকে সৃষ্টি করেছি কেবল এজন্য যে, তারা আমার ইবাদত করবে (যারিয়াত ৫১/৫৬)। জিনদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘আর (কুরআন শোনার পরেও) আমাদের মধ্যে কিছু রয়েছি মুসলিম ও কিছু রয়েছি কাফের’ (জিন ৭২/১৪)। তিনি আরো বলেন, জিনেরা বলল, আমাদের মধ্যে কতক রয়েছে সৎকর্মশীল। আর কতক রয়েছে এর বিপরীত। আমরা তো বিভিন্ন তরীকায় বিভক্ত’ (জিন ৭২/১১)

প্রশ্ন (১৫/৪৫৫) : এক ব্যক্তি দ্বিতীয় বিবাহের পর দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করেননি। পরে দ্বিতীয় স্ত্রী মারা গেলে তিনি প্রথম স্ত্রীকে আবার নিজের কাছে ফিরিয়ে নিতে চান। কিন্তু প্রথম স্ত্রী ফিরে যেতে রাযী নন। উল্লেখ্য, তাঁদের মধ্যে কখনো তালাক হয়নি। এমতাবস্থায় প্রথম স্ত্রী স্বামীর কাছে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি গোনাহগার হবেন কি? উভয়ের করণীয় কি?

-আব্দুল করীম, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : শারঈ দৃষ্টিতে যেহেতু এখনো তালাক হয়নি, তাই প্রথম স্ত্রী তাঁর বৈধ স্ত্রী। স্বামীর উপর তাঁর স্ত্রীকে ভরণ-পোষণ, বাসস্থান ও অন্যান্য দাম্পত্য অধিকার প্রদান করা ফরয ছিল। ২৫ বছর স্ত্রীকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা অন্যায় ও গুনাহের কাজ হয়েছে, যদি এর পিছনে শারঈ কোন ওযর না থাকে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন কর’ (নিসা ৪/১৯)। এক্ষণে স্ত্রীর করণীয় হচ্ছে স্বামীর ডাকে সাড়া দিয়ে সংসার করা। স্ত্রী সংসার করতে না চাইলে সে খোলা‘ তালাক নেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিতে পারে। আর স্বামীর কর্তব্য হচ্ছে- স্ত্রী সংসার করতে না চাইলে সুন্দরভাবে বিদায় করে দিবে। আল্লাহ বলেন, ‘সদ্ভাবে স্ত্রীকে রেখে দাও, নতুবা সুন্দরভাবে বিদায় দাও’ (বাক্বারাহ ২/২২৯)

প্রশ্ন (১৬/৪৫৬) : এক ব্যক্তি পূর্বে আন্তর্জাতিক খেলাধুলা নিয়ে খুবই আগ্রহী ছিলেন। বর্তমানে দ্বীনের দাওয়াত পেয়ে তিনি সে ধ্যান-ধারণা থেকে অনেকটাই ফিরে এসেছেন। তবে জীবিকার প্রয়োজনে তিনি একটি ক্রীড়া নিউজ পোর্টালে রিপোর্টার হিসাবে কাজ করেন এবং নিজ কণ্ঠে খেলাধুলার সংবাদ উপস্থাপন করেন। তার এ কাজের জন্য প্রাপ্ত পারিশ্রমিক কি হালাল হবে?

-শরীফুল আলম, মিরসরাই, চট্টগ্রাম।

উত্তর : বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিকতা যদি হারাম বিষয়ের প্রচার, প্রসার বা সৌন্দর্য বর্ধনের মাধ্যম হয়ে থাকে, তাহ’লে সে কাজে যুক্ত হওয়া এবং তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বৈধ নয়। তবে যদি কোন নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজটি এসব হারাম উপাদান থেকে মুক্ত থাকে, তাহ’লে তার হুকুমও সেই বাস্তবতার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। তাই প্রতিটি ক্ষেত্র আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল না করে। আর যারা তা করবে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত’ (মুনাফিকূন ৬৩/৯)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মানুষের সব ধরনের খেল-তামাশা অনর্থক; তবে তিনটি বিষয় ব্যতীত: তীরন্দাজির অনুশীলন করা, ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং স্ত্রীর সঙ্গে আনন্দ করা, এসব বৈধ’ (আহমাদ হা/১৭৩৩৮ সনদ হাসান; মিশকাত হা/৩৮৭২)

প্রশ্ন (১৭/৪৫৭) : মিসওয়াকে মৃত্যু ছাড়া সকল রোগের আরোগ্য রয়েছেহ হাদীছটি কি ছহীহ?

-নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : উক্ত মর্মে কোন হাদীছ বর্ণিত হয়নি। বরং এটি কালোজিরার ফযীলতে বর্ণিত হয়েছে (বুখারী হা/৫৬৮৮; আহমাদ হা/২৫১৭৬)। আর মিসওয়াকের ফযীলতে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা সাধনকারী এবং রবের সন্তুষ্টির কারণ’ (নাসাঈ হা/৫; ছহীহুত তারগীব হা/২০৯)। তিনি আরো বলেন, ‘বান্দা যখন মিসওয়াক করে ছালাতে দাঁড়ায়, তখন একজন ফেরেশতা এসে তার পিছনে দাঁড়িয়ে মনোযোগ দিয়ে তার তিলাওয়াত শোনেন। তিনি বান্দার এতই নিকটে আসেন যে তাঁর মুখমন্ডল বান্দার মুখের ওপর স্থাপন করেন। এর ফলে বান্দার মুখ থেকে কুরআনের যে অংশই বের হয়, তা সরাসরি সেই ফেরেশতার পেটে প্রবেশ করে। সুতরাং তোমরা কুরআন তিলাওয়াতের জন্য নিজেদের মুখমন্ডলকে পবিত্র রাখো’ (ছহীহাহ হা/১২১৩; ছহীহুল জামে‘ হা/৭২৩)

প্রশ্ন (১৮/৪৫৮) : সূরা কাহফের ৪৬ নম্বর আয়াতে উল্লেখিত আল-বাক্বিয়াতুছ ছালিহাতু (الباقياتالصالحات) বলতে কি বুঝানো হয়েছে?

 -শহীদুল ইসলাম, কালিহাতী, টাঙ্গাইল।

উত্তর : আল্লাহ বলেন, ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য মাত্র। অথচ চিরস্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার প্রভুর নিকটে প্রতিদান হিসাবে উত্তম এবং কাংখিত হিসাবেও উত্তম’ (কাহফ ১৮/৪৬)। এর ব্যাখ্যায় রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের ঢাল (আত্মরক্ষার হাতিয়ার) গ্রহণ কর। ছাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! শত্রু কি আক্রমণ করেছে? তিনি বললেন, না। বরং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার ঢাল গ্রহণ করো। তোমরা বল, ‘সুবহানাল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওলা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার’। কারণ এই যিকিরগুলো ক্বিয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী, অগ্রগামী, পশ্চাদ্গামী ও রক্ষক হিসাবে উপস্থিত হবে। আর এগুলোই হ’ল স্থায়ী সৎকর্ম বা আল-বাক্বিয়াতুছ ছালিহাত (ছহীহুত তারগীব হা/১৫৬৭; ছহীহুাহ হা/৩২৬৪)। এ ব্যাপারে একাধিক ছাহাবী থেকে ছহীহ সনদে একাধিক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। তবে এর দ্বারা কেবল এই চারটি যিকিরই সীমাবদ্ধ নয়। বরং সকল নেক আমল বুঝায়, যা আখেরাতে মানুষের জন্য স্থায়ী ছওয়াব হিসাবে থেকে যায়। যেমন, ছালাত, ছিয়াম, যিকর, ছাদাক্বা, কুরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য সৎকর্ম সমূহ। হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, প্রকাশ্য ও অগ্রাধিকারযোগ্য মত হ’ল, আল-বাক্বিয়াতুছ ছালিহাত বলতে প্রত্যেক সৎকর্মকেই বুঝানো হয়েছে। সুতরাং এটিকে কেবল কয়েকটি নির্দিষ্ট আমলের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার যৌক্তিকতা নেই (ইবনু কাছীর, অত্র আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য)

প্রশ্ন (১৯/৪৫৯) : বর্তমানে কিছু জেনারেল শিক্ষিত ভাই অল্প দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করেই দাওয়াতী কাজ শুরু করেন এবং মসজিদে জুম‘আর খুৎবা প্রদান করেন। পর্যাপ্ত ইলম অর্জনের আগে এভাবে দাওয়াত ও খুৎবা দেওয়া কতটুকু শরী‘আতসম্মত? একজন ব্যক্তির দাওয়াতী কাজ ও খুৎবা প্রদানের জন্য ন্যূনতম কি পরিমাণ দ্বীনী জ্ঞান থাকা প্রয়োজন?

-*অনিক, হারাগাছ, রংপুর।

[আরবীতে সুন্দর ইসলামী নাম রাখুন (স.স.)]

উত্তর : জুম‘আর খুৎবা প্রদান এবং মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য সার্টিফিকেটধারী আলিম হওয়া শর্ত নয়। তবে যে বিষয়ের দিকে দাওয়াত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান থাকা আবশ্যক। তাই একজন সাধারণ মুসলিম তাওহীদ, রিসালাত, আখেরাত, ছালাত, নৈতিকতা ইত্যাদি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে যা জানে, তা প্রচার করতে পারে; কিন্তু মতভেদপূর্ণ বা জটিল ফিক্বহী মাসআলা, আক্বীদার সূক্ষ্ম বিষয় বা ফৎওয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ আলেমদের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি বল এটাই আমার পথ। আমি ও আমার অনুসারীরা জাগ্রত জ্ঞান সহকারে আল্লাহর দিকে আহবান করি’ (ইউসুফ ১২/১০৮)। তিনি বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না’ (ইসরা ১৭/৩৬)। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কথা বলো না, যে বিষয়ে তোমরা কিছু জানো না’ (আ‘রাফ ৭/৩৩)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘অতঃপর যখন কোন আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদেরকে নেতা বানাবে। তাদের কাছে প্রশ্ন করা হবে, তারা জ্ঞান ছাড়াই ফৎওয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে’ (বুখারী হা/১০০; মুসলিম হা/২৬৭৩)। অতএব, অল্প দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করেই নিয়মিত জুম‘আর খুৎবা দেওয়া বা জটিল মাসআলায় বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। তবে যে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা আছে, তা মানুষকে পৌঁছে দেওয়া সুন্নাত। আর খুৎবা ও দাওয়াতের প্রকৃত ভিত্তি হ’ল বিশুদ্ধ ইলম, প্রজ্ঞা ও জাগ্রত জ্ঞান।

প্রশ্ন (২০/৪৬০) : ফজরের জামা‘আত শুরু হয়ে যাওয়ার পর সুন্নাত আদায়ের বিষয়ে ফক্বীহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, জামা‘আতে এক রাক‘আত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আগে সুন্নাত আদায় করতে হবে। এ বিষয়ে সঠিক মাসআলা জানতে চাই।

-রাশেদুল ইসলাম, নরসিংদী।

উত্তর : ফজরের জামা‘আত শুরু হয়ে গেলে প্রথমে জামা‘আতে শরীক হওয়াই কর্তব্য। জামা‘আত ছেড়ে ফজরের দুই রাক‘আত সুন্নাত আদায় করা উচিত নয়, বিশেষত যদি এতে তাকবীরে তাহরীমা বা জামা‘আতের অংশ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যখন ফরয ছালাতের ইক্বামত দেওয়া হয়, তখন ফরয ছাড়া আর কোন ছালাত নেই’ (মুসলিম হা/৭১০; মিশকাত হা/১০৫৮)। একদা ফজরের ছালাতের ইক্বামত দেওয়া হ’ল। তখন রাসূল (ছাঃ) এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন যে, মুওয়াযি্যন যখন ইক্বামত দিচ্ছে, তখন সে সুন্নাত ছালাত আদায় করছে। ছালাত শেষে রাসূল (ছাঃ) তাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি কি ফজরের ছালাত চার রাক‘আত আদায় করেছ? (মুসলিম হা/৭১১)। শায়েখ বিন বায (রহঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করবে যখন ইমাম ফজরের ফরয ছালাত শুরু করে দিয়েছেন, তার জন্য ওয়াজিব হ’ল সে ইমামের সাথে ছালাতে শরীক হয়ে যাবে। ছুটে যাওয়া সুন্নাতকে ফরয ছালাতের পর অথবা সূর্যোদয়ের পর পর্যন্ত বিলম্বিত করতে পারবে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/৩৭১)। উছায়মীন (রহঃ) বলেন, ‘আর ছালাতের ইক্বামত হয়ে যাওয়ার পর কারো জন্যই নতুন করে কোন সুন্নাত ছালাত শুরু করা হালাল নয়। সুতরাং কেউ যদি তা করে, তবে সে রাসূল (ছাঃ)-এর অবাধ্যতা করল। কোন মুছল্লী যদি তা করেই ফেলে, তবে ঐ ছালাত বাতিল বা অকার্যকর বলে গণ্য হবে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৫/১০১)

প্রশ্ন (২১/৪৬১) : আমি একটি মাদ্রাসায় শরহে বেকায়া জামা‘আতে পড়ি। আসন সংকটের কারণে এক সহপাঠীর সঙ্গে একই খাটে থাকতে হয়। তবে আমাদের শরীর একে অপরের সঙ্গে স্পর্শ করে না এবং প্রত্যেকে পৃথক কম্বল ব্যবহার করি। এভাবে একই খাটে থাকতে পারবো কি?

-হাসান আলী, শেরপুর।

উত্তর : মধ্যে আড়াল রেখে একই বিছানায় দু’জন থাকা যাবে। কারণ কম্বল আলাদা ব্যবহার করায় পরস্পরের শরীরে স্পর্শ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আর রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কোন পুরুষ অন্য পুরুষের সঙ্গে এক কাপড়ের নীচে থাকবে না এবং কোন নারী অন্য নারীর সঙ্গে এক কাপড়ের নীচে থাকবে না (মুসলিম হা/৩৩৮; তিরমিযী হা/২৭৯৩)। নববী (রহঃ) বলেন, ‘সুতরাং যদি তাদের উভয়ের মাঝে কোন আড়াল বা বাধা না থাকে, তবে তা হারাম বা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হিসাবে গণ্য হবে (শরহু মুসলিম ৪/৩১)। অতএব আলাদা বিছানায় ঘুমানো উত্তম। তবে স্থান সংকটের কারণে একই বিছানায় পৃথক পোষাকে ঘুমাতে পারে।

প্রশ্ন (২২/৪৬২) : বর্তমানে আমের পাইকারী ব্যবসায়ীরা সাধারণত ৪৮ কেজিকে এক মণ ধরে আম ক্রয় করেন। কিন্তু বিক্রয়ের সময় ৪০ কেজিকে এক মণ হিসাবে বিক্রি করেন। তাদের দাবী, সংরক্ষণ ও পরিবহনের কারণে আমের ওযন কমে যায়। এভাবে এক হিসাবে ক্রয় করে ভিন্ন হিসাবে বিক্রয় করা কি শরী‘আতসম্মত?

-যাকারিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : ক্রয়ের সময় ৪৮ কেজি এবং বিক্রয়ের সময় ৪০ কেজিকে এক মণ হিসাবে গণ্য করা হারাম নয়, যদি উভয় লেনদেনের সময় ব্যবহৃত একক, প্রকৃত ওযন ও মূল্য ক্রেতা-বিক্রেতার কাছে সম্পূর্ণ স্পষ্ট থাকে এবং কোন পক্ষকে বিভ্রান্ত করা না হয়। তবে মণ শব্দের প্রচলিত অর্থ ব্যবহার করে এক পক্ষকে ৪০ কেজি এবং অন্য পক্ষকে ৪৮ কেজির হিসাব গোপনে চাপিয়ে দেওয়া প্রতারণা ও ধোঁকার অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহ বলেন, হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করোনা পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসা ব্যতীত’ (নিসা ৪/২৯)

প্রশ্ন (২৩/৪৬৩) : নিফাস শেষ হওয়ার পর তা সঠিকভাবে বুঝতে না পারার কারণে যদি ২-৩ ওয়াক্ত ছালাত ক্বাযা হয়ে যায়, তাহ’লে সেগুলো কি পরে আদায় করতে হবে? এছাড়া যদি গভীর রাতে হায়েয বা নিফাস থেকে পবিত্র হওয়া যায়, তাহ’লে তখনই গোসল করে এশার ছালাত আদায় করা আবশ্যক, নাকি ফজর পর্যন্ত বিলম্ব করা যাবে?

-সালমা অখতার, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।

উত্তর :প্রথমত যদি কোন নারী নিফাস শেষ হওয়া বুঝতে না পারার কারণে ২-৩ ওয়াক্ত ছালাত আদায় না করেন, তাহ’লে তিনি যখন নিশ্চিতভাবে পবিত্র হওয়ার বিষয়টি জানতে পারবেন, তখন ঐ ছালাতগুলোর ক্বাযা আদায় করবেন। কারণ পবিত্র হওয়ার পর থেকেই ছালাত ফরয হয়ে যায়। অজ্ঞতা বা ভুলবশত সময়মতো আদায় না করলে স্মরণ হওয়ার পর তা আদায় করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন ছালাত ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে যায়, তার কাফফারা হ’ল যখন স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করা (মুসলিম হা/৬৮৪; মিশকাত হা/৬০৩)। নববী বলেন, হায়েয বন্ধ হওয়া এবং পবিত্রতা অর্জিত হওয়ার লক্ষণ হ’ল: রক্ত নিঃসরণ এবং হলুদ ও ঘোলাটে স্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়া। সুতরাং যখন এগুলো বন্ধ হয়ে যাবে, তখন সে মহিলা পবিত্র বলে গণ্য হবে, চাই এরপর সাদা স্রাব বের হোক কিংবা না হোক (আল-মাজমূ‘ ২/৫৬২)দ্বিতীয়ত যদি ফজরের আগে, এমনকি গভীর রাতেও হায়েয বা নিফাস শেষ হয়ে যায় এবং এশার সময় তখনো অবশিষ্ট থাকে, তাহ’লে গোসল করে এশার ছালাত আদায় করবে। ফজর পর্যন্ত বিলম্ব করা বৈধ নয়। কারণ পবিত্র হওয়ার পর ছালাতের সময় অবশিষ্ট থাকলে তা আদায় করা ফরয। আর যদি ফজরের ওয়াক্তে পবিত্র হন এবং এশার সময় ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গিয়ে থাকে, তবে কেবল ফজরের ছালাত আদায় করবেন (ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী ১/২৮৭)

প্রশ্ন (২৪/৪৬৪) : ফরয ছালাত ও অন্যান্য যেকোন ছালাতেরপর একাকী হাত তুলে দো‘আ করা যাবে কি? হাত তুলে দো‘আ করার বিশেষ কোন গুরুত্ব আছে কি?

-শিহাব চৌধুরী, দিনাজপুর।

উত্তর : যেকোন ছালাতের পর একাকী হাত তুলে দো‘আ করা যাবে। তবে এটা নিয়ম বানিয়ে নেওয়া যাবে না। কারণ রাসূল (ছাঃ) বা ছাহাবায়ে কেরাম যে ইবাদত যে স্থানে নিয়মিত করেননি বা করার ব্যাপারে নির্দেশনা দেননি তা নিয়মিত করা যাবে না। বরং সাধারণভাবে করবে (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/১৬৮)। আর হাত তুলে দো‘আ করা মুস্তাহাব। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের রব অত্যন্ত লজ্জাশীল ও মহান দাতা। বান্দা যখন তাঁর দিকে দুই হাত তোলে, তখন তিনি তা শূন্য ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন’ (আবুদাউদ হা/১৪৮৮, সনদ ছহীহ; মিশকাত হা/২২৪৪)

প্রশ্ন (২৫/৪৬৫) : বিতরের ছালাতে দো‘আ কুনূতের সঙ্গে কুরআন-হাদীছে বর্ণিত অন্য কোন দো‘আ পাঠ করা যাবে কি?

-মোস্তাফীযুর রহমান, রাজশাহী।

উত্তর : কুনূতে বর্ণিত মাসনূন দো‘আর সঙ্গে প্রয়োজন ও পরিস্থিতির উপযোগী অতিরিক্ত দো‘আ যোগ করা যায়। কেননা এটি মূলত দো‘আর স্থান, আর দো‘আর বিষয়টি ব্যাপক। নববী (রহঃ) বলেন, কুনূতের দো‘আ সীমাবদ্ধ নয়। যারা সীমাবদ্ধ বলেছেন তারা ভুল বুঝেছেন (আল-মাজমূ‘ ৩/৪৪৭-৪৮)। উছায়মীন বলেন, এর সঙ্গে (মাসনূন কুনূতের দো‘আর সঙ্গে) আরও কিছু দো‘আ যোগ করলে কোন অসুবিধা নেই। কেননা এটি দো‘আর স্থান (আশ-শারহুল মুমতে‘ ৪/৫২)। সুতরাং কুনূতের দো‘আর সঙ্গে ছালাতে বৈধ এমন যেকোন দো‘আ সংযোজন করা জায়েয (আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়াহ ৩৪/৬৩)

প্রশ্ন (২৬/৪৬৬) : কোন ব্যক্তি যদি বারবার মদ্যপান করে তাহ’লে তাকে কি হত্যা করতে হবে, যেমন আবুদাউদের হাদীছ বর্ণিত হয়েছে?

রিয়ায, নিয়ামতপুর, নওগাঁ।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মদ পান করবে তাকে বেত্রাঘাত কর। আবার পান করলে বেত্রাঘাত কর। আবার পান করলে বেত্রাঘাত কর। এরপরও যদি পান করে, তবে তাকে হত্যা কর’(আবুদাউদ হা/৪৪৮২, সনদ ছহীহ)। উক্ত হাদীছটি নিম্নের হাদীছ দ্বারা মানসূখ হয়েছে। উপরোক্ত হাদীছটি বর্ণনা করার পর ক্বাবীছা (রাঃ) বলেন, পরবর্তীতে নবী করীম (ছাঃ) এর নিকট এক লোককে আনা হ’ল, যে মদ পান করেছিল; তিনি তাকে বেত্রাঘাত করলেন। এরপর তাকে আবার আনা হ’লে তিনি তাকে বেত্রাঘাত করলেন। পুনরায় আনা হ’লে তিনি আবার বেত্রাঘাত করলেন। তারপর চতুর্থবার তাকে আনা হ’লে তিনি আবারও বেত্রাঘাত করলেন এবং মৃত্যুদন্ড তুলে নিলেন। আর এটি মুসলিমদের জন্য একটি ছাড় হিসাবে গণ্য হ’ল (আবুদাউদ হা/৪৪৮৫, সনদ দুর্বল)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, বারবার মদ্যপানের কারণে মৃত্যুদন্ডের বিধানটি এই হাদীছ ও অন্যান্য হাদীছের দ্বারা মনসূখ হয়ে গেছে। আর আমার জানা মতে, এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোন মতভেদ নেই (কিতাবুল উম্ম ৭/৩৬৫)। ইমাম তিরমিযী বলেন, এ বিধান ইসলামের প্রাথমিক দিকে ছিল। পরবর্তীকালে তা রহিত করা হয়েছে (তিরমিযী হা/১৪৪৪-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। তবে বিচারক মনে করলে তা‘যীর বা শাস্তি হিসাবে মারাত্মক ও নিয়মিত মদ্যপানকারীকে মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত দিতে পারে (আলবানী, ছহীহাহ হা/১৩৬০-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

প্রশ্ন (২৭/৪৬৭) : জানাযার ছালাত মসজিদে পড়ানো জায়েয কি? মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বায় বর্ণিত আছে যে, আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক নু‘মান ইবনে বাশীর (রাঃ)-এর জানাযার ছালাত মসজিদে পড়ানো হয়েছিল। এ বর্ণনাটি কি ছহীহ এবং এ বিষয়ে মুহাদ্দিছগণের ব্যাখ্যা কি?

-শাহীদুল ইসলাম, কালিহাতী, টাঙ্গাইল।

উত্তর : মসজিদের মধ্যে জানাযার ছালাত আদায় করা যাবে। আয়েশা (রাঃ) ও অন্যান্য উম্মাহাতুল মুমিনীন মসজিদে নববীর মধ্যে সা‘দ বিন আবু ওয়াকক্বাছ (রাঃ)-এর লাশ আনিয়ে নিজেরা জানাযা পড়েছিলেন (মুসলিম হা/৯৭৩, মিশকাত হা/১৬৫৬; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১৮২)। কিছু লোক মসজিদে জানাযার ছালাত আদায়ে আপত্তি জানালে আয়েশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সুহায়েল বিন বায়যা ও তার ভাই সাহলের জানাযা মসজিদে নববীতে আদায় করেছিলেন (মুসলিম হা/৯৭৩; মিশকাত হা/১৬৫৬)। ইমাম আবূদাউদ (রহঃ) অধ্যায় রচনা করেছেন, ‘মসজিদে জানাযার ছালাত আদায়ের বিধান’। অতঃপর উপরোক্ত হাদীছটি পেশ করেন (আবুদাউদ হা/৩১৮৯-৯০)। আর নূ‘মান বিন বাশীরের জানাযা আয়েশা (রাঃ) মসজিদে পড়েছেন, এটা পুরোপুরি ভুল। কারণ আয়েশা (রাঃ) মারা যান ৫৭ হিজরীতে এবং নূমান বিন বাশীর শাহাদাত বরণ করেন ৬৪ হিজরীতে (ইবনু হাজার, আল-ইছাবাহ ৬/৩৪৭)

উল্লেখ্য যে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মসজিদের ভেতরে জানাযার ছালাত আদায় করল, তার জন্য কোন ছওয়াব নেই (আবুদাউদ হা/৩১৯১; ইবনু মাজাহ হা/১৫১৭, সনদ হাসান, আলবানী)প্রথমত উক্ত হাদীছ ছহীহ নয় (আরনাউত্ব, আহমাদ হা/৯৭২৮, ১০৫৬৮)দ্বিতীয়ত বর্ণনাটি ছহীহ ধরা হ’লে এর অর্থ হবে মসজিদে জানাযা আদায় করার কারণে তার অতিরিক্ত কোন ছওয়াব নেই (ছহীহাহ হা/২৩৫১-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। 

প্রশ্ন (২৮/৪৬৮) : মায়ের মামা তথা নানীর আপন ভাইয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে কি?

-আব্দুল্লাহ বাসসাম, কুমিল্লা।

উত্তর : নানীর ভাই বা বোনকে বিবাহ করা যাবে না। কারণ তারা স্থায়ী মাহরামের মধ্যে গণ্য (নিসা ৪/২৩)। তাছাড়া মায়ের মামা নিজ মামার মতোই গণ্য হন। ফলে তিনি বংশগত সূত্রে ঐ নারীর জন্য স্থায়ী মাহরাম হিসাবে পরিগণিত হবেন (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৭/৩৮৭)

প্রশ্ন (২৯/৪৬৯) :হাত থেকে কুরআন পড়ে গেলে করণীয় কি?

-রোকসানা, বড়াইগ্রাম, নাটোর।

উত্তর : উক্ত অবস্থায় অনুতপ্ত হয়ে ‘ইন্নালিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেঊন’ পড়া যায় (বাক্বারাহ ২/১৫৬)। সেই সাথে সতর্ক থাকতে হবে যেন এমনটি পুনরায় আর না ঘটে। উল্লেখ্য যে, পড়ে গেলে তুলে চুমো দেওয়া বা চাল বিতরণ করা ভিত্তিহীন প্রথা মাত্র।

প্রশ্ন (৩০/৪৭০) : আমাদের দেশে বিশেষ বিশেষ জায়গায় টোল নেয়া হয়, হিজড়ারা কিংবা কিছু মানুষ হাতির মাধ্যমে জোর করে চাঁদা আদায় করে। এদের চাঁদা দেওয়ার বিধান কী? না দিলে কি গোনাহ হবে? চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাদের পক্ষ থেকে ক্ষতির আশঙ্কা হ’লে করণীয় কি?

-আব্দুল মালেক, নওদাপাড়া, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : যদি কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক, ভয়-ভীতি দেখিয়ে বা রাস্তা আটকে টাকা আদায় করে, তাহ’লে তা শরী‘আতের দৃষ্টিতে অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ এবং এক প্রকার যবরদস্তি ও চাঁদাবাজি। এ ধরনের চাঁদা দাবী করা হারাম। আবার স্বেচ্ছায় তাদের এ কাজকে সমর্থন করে চাঁদা দেওয়া বৈধ নয়। কিন্তু যবরদস্তি, মারধর, ক্ষতি বা বড় ধরনের অনিষ্টের আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য টাকা দিতে হ’লে দাতার কোন গোনাহ নেই। গোনাহ হবে অন্যায়ভাবে আদায়কারীর’ (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূউল ফাতাওয়া ৩১/২৮৭; আব্দুর রহমান মুবারকপুরী, তোহফাতুল আহওয়াযী ৪/৪৭১)। আর সরকার বা বৈধ কর্তৃপক্ষ সেতু, মহাসড়ক বা নির্দিষ্ট অবকাঠামো ব্যবহারের বিনিময়ে যে নির্ধারিত টোল বা ফি গ্রহণ করে, তা বৈধ বা জায়েয। কিন্তু কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বৈধ অনুমোদন ছাড়া রাস্তা আটকে অর্থ আদায় করলে তা যবরদস্তিমূলক চাঁদাবাজি হিসাবে গণ্য হবে।

প্রশ্ন (৩১/৪৭১) : হাদীছে হাফেয হওয়ার যে মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে, তা কি যেকোন পরিমাণ হিফযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না কেবল পুরো কুরআন হিফয করলেই সেই মর্যাদা লাভ করা যাবে? ভালো হাফেয তৈরীর উদ্দেশ্যে সন্তানকে কোন বিদ‘আতী প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো যাবে কি?

-মুহাম্মাদ ছাকিব, ঢাকা।

উত্তর :প্রথমত কুরআন হিফযের পূর্ণ ফযীলত পেতে হ’লে সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করতে হবে। কেউ যদি পুরো কুরআন হিফয না করে কিছু অংশ হিফয করেন, তিনিও হিফয করা অংশের কারণে ছওয়াব ও মর্যাদা লাভ করবেন। কিন্তু যে মর্যাদা বা বিশেষ উপাধি সম্পূর্ণ কুরআনের হাফেয হওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সেটি আংশিক হিফয দ্বারা অর্জিত হবে না (মির‘আত ৭/২০৯; তোহফাতুল আহওয়াযী ৮/১৮৭)দ্বিতীয়ত সন্তানকে কুরআনের ভালো হাফেয বানানো অবশ্যই প্রশংসনীয় কাজ। কিন্তু কোন বিদ‘আতী প্রতিষ্ঠানে তাকে ভর্তি করে সেই লক্ষ্য অর্জন করা শরী‘আতসম্মত হবে কি-না, তা নির্ভর করবে সেখানে প্রচলিত বিদ‘আত ও তার প্রভাবের ওপর। মূলনীতি হ’ল ভালো উদ্দেশ্য হারাম বা অবৈধ পদ্ধতিকে বৈধ করে না। সন্তানকে কুরআন হিফয করানোর পাশাপাশি তাকে ছহীহ আক্বীদা ও সুন্নাতসম্মত দ্বীনী শিক্ষা দেয়া পিতামাতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

প্রশ্ন (৩২/৪৭২) : কোন মাসবূক ব্যক্তি ইমামের সালাম ফেরানোর পর নিজের ছালাত পূর্ণ করার সময়, পরে আগত অন্য কোন ব্যক্তি কি তার ইমামতিতে জামা‘আতে শরীক হ’তে পারবেন?

-কায়েদ মাহমূদ ইমরান, বরিশাল।

উত্তর : কোন মাসবূক ব্যক্তিকে ইমাম বানিয়ে তার পিছনে ছালাত আদায় করা জায়েয। কারণ ছালাতের শুরু থেকেই ইমামতির নিয়ত থাকা শর্ত নয়। তাছাড়া একজন ছালাত আদায়কারী একাকী অবস্থা থেকে ইমামে রূপান্তরিত হওয়া, ইমাম থেকে মুক্তাদীতে রূপান্তরিত হওয়া এবং এর বিপরীত হওয়া জায়েয হওয়ার বিশুদ্ধ দলীল রয়েছে (আহমাদ হা/১৯১২; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/১৪৮; উছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ২/৩০৮-৩১০)। তবে মাসবূকের অনুসরণ না করে আলাদাভাবে অন্য ইমামের সাথে জামা‘আতে ছালাত আদায় করাই উত্তম (উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ২/৮)

প্রশ্ন (৩৩/৪৭৩) : বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে সব ধর্মাবলম্বীদের জন্য যৌথ ইবাদতখানা রাখা হয়, যেখানে কোন পৃথক ব্যবস্থা থাকে না। আবার কোন কোন প্রেয়ার রুমে বাইবেল, গীতা প্রভৃতি অন্যান্য ধর্মগ্রন্থও রাখা থাকে। এ ধরনের প্রেয়ার রুমে মুসলিমদের ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-হারূনুর রশীদ, খুলনা।

উত্তর : যদি কোন কক্ষে বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা ইবাদত করে, কিন্তু সেখানে ক্রুশ, মূর্তি, দেব-দেবীর ছবি বা অন্য কোন ধর্মীয় প্রতীক স্থাপন করা না থাকে, তাহ’লে সেখানে ছালাত আদায় করা জায়েয। স্থায়ী মসজিদ বা মুসলিমদের জন্য পৃথক ছালাতের স্থান না পাওয়া গেলে, অমুসলিমদের সঙ্গে একই ছাদের নীচে হ’লেও সেখানে ইবাদত জায়েয মর্মে বিদ্বানগণ একমত (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২/৮০-৮১)

প্রশ্ন (৩৪/৪৭৪) : বিয়ের সময় আমার শাশুড়ী আমাকে একটি স্বর্ণের হার উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু তিন বছর পর তিনি সেটি ফেরত চাইছেন। এ অবস্থায় উপহার হিসাবে পাওয়া বস্ত্ত কি ফেরত দিতে বাধ্য, নাকি তা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানো যাবে?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : উপহার দিয়ে তা ফেরত নেয়া জায়েয নয়। কেবল পিতামাতা তার সন্তানকে দেওয়া উপহার ফেরত চাইতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘কোন ব্যক্তির জন্য তার দেওয়া দান বা উপহার ফিরিয়ে নেওয়া বৈধ নয়; তবে পিতা তার সন্তানকে যা দিয়েছেন, তা ব্যতীত (আবুদাউদ হা/৩৫৩৯; মিশকাত হা/৩০২১, সনদ ছহীহ)। তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি তার উপহার ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ কুকুরের মতো, যে বমি করে আবার নিজের বমি চেটে খায়’ (বুখারী হা/২৫৮৯; মিশকাত হা/৩০১৮)

প্রশ্ন (৩৫/৪৭৫) : মানুষের শরীর থেকে প্রবাহিত রক্ত শরীর বা কাপড়ে লাগলে তা কি নাপাক গণ্য হবে? এ অবস্থায় ছালাত আদায় করা যাবে কি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : এরূপ অল্প রক্ত নির্গত হ’লে এবং শরীরে বা পোষাকে লাগলে তা নাপাক হবে না। বরং এরূপ অবস্থায় ছালাত আদায় করবে। শায়েখ বিন বায বলেন, শরীর থেকে বেশী রক্ত গড়িয়ে পড়লে তা বন্ধ হওয়ার পর সতর্কতা হিসাবে নতুন করে ওযূ করে নেওয়াই উত্তম। আর রক্তের পরিমাণ যদি সামান্য বা কম হয়, তবে তা কেবল মুছে ফেললেই যথেষ্ট হবে; এর ফলে ওযূ ভাঙবে না এবং তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হবে (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ৫/১৯৮)

প্রশ্ন (৩৬/৪৭৬) : একটি হাদীছে এসেছে, যে নারীর প্রথম সন্তান কন্যা হয়, তিনি অধিক বরকতময়। এ হাদীছটি কতটুকু ছহীহ? হাদীছটির সঠিক ব্যাখ্যা কি?

-মারিয়া, ঢাকা।

উত্তর : উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি জাল (আলবানী, যঈফুল জামে‘ হা/৫২৯৩)। তবে কন্যা সন্তান লালন পালনের ফযীলতে একাধিক ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কাউকে যদি কন্যা সন্তান দিয়ে পরীক্ষা করা হয় এবং সে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে, তবে তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড়াল বা ঢাল হয়ে দাঁড়াবে’ (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/৪৯৪৯)

প্রশ্ন (৩৭/৪৭৭) : আমার পিতা-মাতা আমার আক্বীক্বা না করেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এ অবস্থায় আমি নিজের পক্ষ

থেকে আক্বীক্বা করতে পারব কি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : শিশু জন্মের সপ্তম দিনে আক্বীক্বা দেওয়া সুন্নাত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক শিশু তার আক্বীক্বার সাথে বন্ধক থাকে। অতএব জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে পশু যবেহ করতে হয়, নাম রাখতে হয় ও তার মাথা মুন্ডন করতে হয়’ (আবুদাউদ হা/২৮৩৯; ইবনু মাজাহ হা/৩১৬৫; মিশকাত হা/৪১৫৩)। রাসূল (ছাঃ) তাঁর নাতি হাসান ও হুসাইনের আক্বীক্বাও সপ্তম দিনে করেছিলেন (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৫৩১১, সনদ হাসান)। অতএব সক্ষম ব্যক্তি সপ্তম দিনেই আক্বীক্বা করবে। এক্ষণে পিতামাতা সন্তানের আক্বীক্বা না করে থাকলে সন্তান নিজের আক্বীক্বা নিজেই করবে (ছহীহাহ হা/২৭২৬)। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহঃ) বলেন, ‘আমি যদি জানতে পারতাম যে আমার পক্ষ থেকে আক্বীক্বা করা হয়নি, তবে আমি নিজেই নিজের পক্ষ থেকে আক্বীক্বা করতাম’ (ইবনু আবী শায়বাহ হা/২৪২৩৬; বিস্তারিত দ্র. ‘মাসায়েলে কুরবানী ও আক্বীকা’ বই)

প্রশ্ন (৩৮/৪৭৮) : বিয়ের পর স্ত্রী যদি পাগল হয়ে যায় এবং বন্ধ্যা হয়, তাহ’লে শুধু এ কারণেই তাকে তালাক দেওয়া যাবে কি?

-আব্দুল আহাদ, নোয়াখালী।

উত্তর : এরূপ নারীদের মানবিক কারণে তালাক দেওয়া উচিৎ নয়। বরং তাদের নিরাপদে রেখে প্রয়োজনে একাধিক বিয়ে করবে। তালাককে ইসলামে নিকৃষ্টতম হালাল বলা হয়েছে (আবুদাউদ হা/২১৭৮; মিশকাত হা/৩২৮০, মর্ম ছহীহ)। তবে স্বামী বিশেষ কারণে স্ত্রীকে তালাক দিতে পারে (ছহীহাহ হা/২০০৭)

প্রশ্ন (৩৯/৪৭৯) :বয়স্ক পুরুষের সঙ্গে অল্পবয়সী কুমারী মেয়ের বিবাহে ইসলামের দৃষ্টিতে কোন বাধা আছে কি?

-নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : বাধা নেই। কারণ রাসূল (ছাঃ)-এর বয়স যখন ৫২-৫৩ বছর তখন তিনি আয়েশা (রাঃ)-কে বিয়ে করেন। এসময়ে আয়েশা (রাঃ)-এর ছিল মাত্র ৬-৭ বছর (বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ২০/১৩৮)

প্রশ্ন (৪০/৪৮০) : আযান ব্যতীত ছালাত আদায় করলে ছালাত আদায় হবে কি?

 -ড. আযীযুল্লাহ, নওদাপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর : ছালাতের জন্য আযান দেওয়া সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা বা ফরযে কেফায়াহ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যখন ছালাতের সময় উপস্থিত হবে, তখন তোমাদের মধ্য থেকে একজন আযান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বয়সে বড়, সে তোমাদের ইমামতি করবে’ (বুখারী হা/৬২৮; মিশকাত হা/৬২৩)। তবে আযান বা ইক্বামত ছাড়া কেউ ছালাত আদায় করলেও ছালাত হয়ে যাবে। আসওয়াদ ও আলক্বামা (রহঃ) বলেন, আমরা ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর বাড়ীতে গেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের পিছনে কি তারা ছালাত আদায় করেছে? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন, তাহ’লে তোমরা দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করো। কিন্তু তিনি আমাদের আযান কিংবা ইক্বামতের নির্দেশ দেননি (মুসলিম হা/৫৩৪; বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ৬/৩৩৩; নববী, শরহ মুসলিম উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা)

 

 

 

সম্পাদকীয় : ১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি নিষিদ্ধ করুন! (অক্টোবর’২৫)২. কুফরীর সাথে ইসলামের কোন আপোষ নেই (নভেম্বর’২৫)৩. ভূমিকম্প : সতর্কবার্তা ও আত্মশুদ্ধিতার আহবান (ডিসেম্বর’২৫)৪. বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল চেতনাকে ধারণ করুন! (জানুয়ারী’২৬)৫. লক্ষ্যহীন গতানুগতিক নির্বাচন (ফেব্রুয়ারী’২৬)৬. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আগামীর গন্তব্য (মার্চ’২৬) ৭. মিডিয়া, মতাদর্শ ও সমাজ গঠনের লড়াই (এপ্রিল’২৬)৮. আদর্শিক নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীলতা (মে’২৬) ৯. সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ ও আমাদের আত্মপরিচয়ের লড়াই (জুন’২৬) ১০. মানবতার বিপর্যয় : ইসলামী বিচার ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছার অপরিহার্যতা (জুলাই’২৬)১১. দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা : সেনাবাহিনীর প্রস্ত্ততি ও আমাদের প্রত্যাশা (আগস্ট’২৬)১২. মক্কা চুক্তি : মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সম্মিলিত নিরাপত্তার নতুন দিগন্ত (সেপ্টেম্বর’২৬)

দরসে কুরআন : ১. মুনাফিকের পরিচয় ও আলামত (অক্টোবর’২৫) -মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব২. কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক রাজনীতি (নভেম্বর’২৫) -ঐ

দরসে হাদীছ : ১. গোরাবা কারা? (অক্টোবর’২৫) -মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব২. মানুষের সন্তুষ্টি বনাম আল্লাহর সন্তুষ্টি (নভেম্বর’২৫) -ঐ. নেতৃত্বের লোভ (ডিসেম্বর’২৫) -মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালি

প্রবন্ধ : (১) অক্টোবর’২৫ :১. বিবাহ সম্পর্কিত কতিপয় রীতি-নীতি (পূর্বে প্রকাশিতের পর)(২৯/)- মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক২. দ্বীনী খেদমত : কৃতিত্ব নয় সৌভাগ্য -ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব ৩. ইলম অনুযায়ী আমল না করার পরিণাম (২৯/১-২) -আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ

(২) নভেম্বর’২৫ :১. কর্মময় ও বরকতপূর্ণ জীবন গঠনের উপায় -ড. ইহসান ইলাহী যহীর২. দ্বীনদার জীবনসঙ্গী লাভের উপায় ও করণীয় -ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব

(৩) ডিসেম্বর’২৫ : ইলম ও আমলের মাঝে সমন্বয় করবেন যেভাবে -আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ ২. মুসলিম জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য (২৯/৩-৪)-মুহাম্মাদ রাফাত আনাম

(৪) জানুয়ারী’২৬ :১. আধুনিক শিক্ষা কাঠামোতে হাদীছ পাঠদানের উদ্ভাবনী পন্থা -ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব২. আধুনিক সমাজে তাওহীদী চেতনার গুরুত্ব -আব্দুল্লাহ বিন বেলাল ৩. ইলম ও আমলের মাঝে সমন্বয় করবেন যেভাবে (পূর্ব প্রকাশিতের পর) -আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ৪. আন্তঃধর্ম সংলাপ : একটি গভীর ষড়যন্ত্র -সাজিদুর রহমান

(৫) ফেব্রুয়ারী’২৬ : ১. রামাযান মাসের ফাযায়েল ও প্রয়োজনীয় মাসায়েল -মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদূদ. ইসলামে একাধিক বিবাহ : বিধান, তাৎপর্য ও শর্তাবলী -ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব৩. যেমন ছিল সালাফদের রামাযান -আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ ৪. জুম‘আর দিনের মর্যাদা : করণীয় ও বর্জনীয় -মুহাম্মাদ রাফাত আনাম

(৬) মার্চ’২৬ : ১. যাকাতের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও তা আদায় না করার পরিণতি -মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব২. শাওয়াল মাসের করণীয় -ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম৩. ঈদুল ফিৎর নিছক আনন্দ নয় ইবাদত -মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদূদ৪. লায়লাতুল ক্বদরের ফযীলত লাভের উপায় -আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ৫. পারস্পরিক দূরত্ব ও মান-অভিমান নিরসনের কার্যকর উপায় ও কৌশল -ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব

(৭) এপ্রিল’২৬ :১. রিয়া : কারণ ও প্রতিকার (২৯/৭-৮) -ড. নূরুল ইসলাম ২. হাদীছ ও সুন্নাহর মধ্যে পৃথকীকরণের চেষ্টা : একটি পর্যালোচনা -ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব৩. কিভাবে অন্তরকে মসজিদমুখী করবেন? -আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ৪. মিসওয়াকের গুরুত্ব ও তাৎপর্য -মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদূদ।

(৮) মে’২৬ : ১. হজ্জ সফরে ধৈর্যের পরীক্ষা -ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন ২. যেমন ছিল সালাফদের হজ্জ-ওমরাহ -আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ৩. মাসায়েলে কুরবানী -আত-তাহরীক ডেক্স

(৯) জুন’২৬ : ১. রিয়া-র ভয়াবহতা ও ক্ষতি -ড. নূরুল ইসলাম ২. ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ : আত্মশুদ্ধির সোপান ও প্রশান্তির চাবিকাঠি -ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব৩. গোপন পাপ : ঈমান বিধ্বংসী এক নীরব ঘাতক -আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ

(১০) জুলাই’২৬ :১. রিয়া-র বিধিবিধান -ড. নূরুল ইসলাম ২. গোপন পাপ থেকে বাঁচার উপায় -আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ ৩. বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামিক দিক-নির্দেশনা -রাফাত আনাম ৪. শী‘আ মতবাদ ও তাদের ভ্রান্ত আক্বীদা -মুজাহিদুল ইসলাম

(১১) আগস্ট’২৬ : ১. আযান ও ইক্বামতের গুরুত্ব ও ফযীলত -মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদূদ২. ফজর ছালাত : গুরুত্ব ও ফযীলত -আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ৩. মার্কসের দর্শন বনাম ইসলাম : ভ্রান্ত তত্ত্ব বনাম শাশ্বত সত্য -ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব৪. আহলে বায়ত : পরিচয় ও মর্যাদা -মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম

(১২) সেপ্টেম্বর’২৭ :. সালাফে ছালেহীন যেভাবে রিয়া থেকে বেঁচে থাকতেন -ড. নূরুল ইসলাম২. ডারউইনবাদ : বিজ্ঞানের আড়ালে নাস্তিকতার রাজনীতি -ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব৩. হাদীছ অনুযায়ী আমল -মাওলানা বেলায়েত আলী আযীমাবাদী ৪. ফজর ছালাতের গাফিলতি : পরিণাম ও প্রতিকার -আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ৫. জবাবদিহিতা : ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণের -মামূন বিন হাশমত

প্রচ্ছদ রচনা : ১. পূজামন্ডপ পাহারা : ইসলামী দৃষ্টিকোণ (নভেম্বর’২৫)-ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন ২. সুদানে গণহত্যা : বন্ধ হোক ক্ষমতার লড়াই (ডিসেম্বর’২৫)-আত-তাহরীক ডেস্ক৩. আর কত রক্ত প্রয়োজন? কবে আসবে প্রকৃত স্বাধীনতা? (জানুয়ারী’২৬) -ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন ৪. ক্ষমতার দম্ভে অবরুদ্ধ মানবতা : মুসলিম বিশ্বের করণীয় (ফেব্রুয়ারী’২৬) -ঐ৫. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : একটি বিশ্লেষণ (মার্চ’২৬) -ঐ ৬. জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য : তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের হাতছানি (এপ্রিল’২৬)-ঐ ৭. হজ্জের অন্তর্নিহিত তাৎপয (মে’২৬)-ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব ৮. আশূরা উপলক্ষে শী‘আদের বিকৃত শোকসংস্কৃতি (জুন’২৬) -ঐ৯. ইসলামী বিচারব্যবস্থা কি মধ্যযুগীয়? তথাকথিত আধুনিকতা বনাম এলাহী সমাধান (জুলাই’২৬) -ঐ ১০. বাংলাদেশের বন্যা : বাস্তবতা ও করণীয় (আগস্ট’২৬)-ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন

সময়ের ভাবনা :১. আদর্শের কোন বিকল্প হয় না (মার্চ’২৬) -ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব২. বিশ্বকাপের মোহে বেহুঁশ তারুণ্য : একটি আত্মজিজ্ঞাসা (আগস্ট’২৬)-মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান

অর্থনীতির পাতা : ১. তাওহীদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা : বিশ্বাস ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব (মে’২৬)-আব্দুল্লাহ আল-মুছাদ্দিক

দিশারী : ১. জানাযার ছালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ : একটি বিশ্লেষণ (ফেব্রুয়ারী’২৬)-মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম ২. ছালাত ক্বছর ও জমা করার বিধান : একটি পর্যালোচনা (এপ্রিল’২৬) -ঐ ৩. দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর শারঈ বিধান : একটি পর্যালোচনা (জুন’২৬) -ঐ

ছাহাবী চরিত :১. ওছমান বিন মাযঊন (রাঃ) (২৯/১০-১১)-ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন

আত্মচিন্তা : ১. দুনিয়ার খেলাঘর (ডিসেম্বর’২৫) -সারওয়ার মিছবাহ২. ইবাদতে লৌকিকতা (জানুয়ারী’২৬) -ঐ৩. অধিনস্থদের প্রতি ইহসান (ফেব্রুয়ারী’২৬) -ঐ ৪. আল্লাহকে ভালোবাসি (জুন’২৬) -ঐ

শিক্ষাঙ্গন :১. শিক্ষকতায় মু‘আশারাত (অক্টোবর’২৫)-সারওয়ার মিছবাহ ২. দাওরাতুল হাদীছ : চূড়ান্ত প্রস্ত্ততির স্থান (নভেম্বর’২৫)-ঐ মিছবাহ ৩. কি পড়ব? কিভাবে পড়ব? (ডিসেম্বর’২৫)-ঐ ৪. আদর্শ অভিভাবক (জানুয়ারী’২৬)-ঐ ৫. শিক্ষা সহজীকরণ (ফেব্রুয়ারী’২৬)-ঐ ৬. শিক্ষার্থীর রামাযান (মার্চ’২৬)-ঐ ৭. রোজনামচা : লেখালেখির হাতেখড়ি (এপ্রিল’২৬)-ঐ ৮. প্রবন্ধ রচনা : কলাকৌশল ও চর্চা (মে’২৬)-ঐ ৯. প্রাইভেট নাকি সেল্ফ এডুকেশন (জুন’২৬)-ঐ ১০. আসুন, মানুষ গড়ি! (জুলাই’২৬)-ঐ ১১. এডুকেশন বিজনেস (আগস্ট’২৬)-ঐ ১২. আদর্শের শক্তিতে নিয়মের পূর্ণতা (সেপ্টেম্বর’২৬)-ঐ

সাহিত্যাঙ্গন : ১. আত্মার দিনলিপি (এপ্রিল’২৬)-মুহাম্মাদ মুবাশ্শিরুল ইসলাম

সন্তান পরিচর্যা :১. পরিবারে অগ্রাধিকার ব্যবস্থাপনা (অক্টোবর’২৫) -জাহিদ হাসান২. উঠতি বয়সে বন্ধু-বান্ধবজনিত সমস্যা : উত্তরণের পথ (নভেম্বর’২৫) -মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান৩. শিশুদের আদব : পারিবারিক শিক্ষার প্রথম পাঠ (ডিসেম্বর’২৫) -ঐ ৪. আগামীর নক্ষত্র গড়ে উঠুক বিনয়ের আলোয়! (জানুয়ারী’২৬) -ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব৫. শিশুদের ছিয়াম : কেন, কখন ও কিভাবে অভ্যস্থ করবেন? (ফেব্রুয়ারী’২৬) -মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান৬. ভাই-বোনদের পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ়করণ ও হিংসা দূরীকরণে করণীয় (মার্চ’২৬) -৭. সন্তান আমার আয়না (আগস্ট’২৬)-জাহিদ হাসান ৮. ঘুমহীন রাত, বিধ্বস্ত প্যারেন্টিং (সেপ্টেম্বর’২৬)-ঐ

ইতিহাস-ঐতিহ্য :১. ঐতিহাসিক বাগদাদের মর্মান্তিক পতন (ডিসেম্বর’২৫)-মুহাম্মাদ আব্দুর রঊফ২. যুগে যুগে কুরবানী : আত্মত্যাগের চিরন্তন ইতিহাস (মে’২৬)-ঐ

মহিলা অঙ্গন : ১. স্বামীর আনুগত্য : সুখী দাম্পত্য জীবনের সোপান (অক্টোবর’২৫ ২৯/১-২)-ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম২. নারীর ভরণ-পোষণের বিধান ও ফযীলত (ডিসেম্বর’২)-ঐ৩. ইসলামে শাশুড়ি ও পুত্রবধুর সম্পর্ক (জানুয়ারী’২৬) -ঐ৪. আমরা কেন তাহাজ্জুদ থেকে বঞ্চিত হই? (জুলাই’২৬)-আয়েশা হুমায়রা

নবীনদের পাতা :১. ছিয়ামের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য (ফেব্রুয়ারী’২৬)-আরাফাত যামান২. ইন্টারনেট ব্যবহারে সতর্কতা (জুন’২৬)-হাসীবুর রশীদ ৩. স্মার্টফোন আসক্তি : সময় ও মেধার নীরব ঘাতক (আগস্ট’২৬) -

ইতিহাসের পাতা থেকে :১. স্বামীর জীবনে নেককার স্ত্রীর প্রভাব (জুলাই’২৬)-আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ২. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)-এর দৃঢ়তা (আগস্ট’২৬)-ড. নূরুল ইসলাম ৩. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আবুবকর ও ওমর (রাঃ) (সেপ্টেম্বর’২৬)-ঐ

করণীয়-বর্জনীয় : ১. বর্ষবরণ উৎসব ও বিজাতীয় সংস্কৃতির থাবা (এপ্রিল’২৬) -মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান২. তাহিইয়াতুল মাসজিদ আদায়ে অভ্যস্ত হৌন! (জুন’২৬)-ড. ইহসান ইলাহী যহীর

দো‘আ ও যিকর : ১. নিঃস্বের আর্তনাদ ও এলাহী সাহায্য : মূসা (আঃ)-এর ঐতিহাসিক দো‘আ (ফেব্রুয়ারী’২৬)-ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব২. ক্ষমার চাদরে নিজেকে জড়ানোর আকুতি : আল্ল-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুববুন... (মার্চ’২৬)-ঐ৩. কিছু হারানোয় বা যেকোন বিপদে মুমিনের সান্ত্বনা : এক অনন্যসাধারণ দো‘আ (জুন’২৬)- ৪. যে দো‘আটিতে লুকিয়ে আছে জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া (জুলাই’২৬) -

হাদীছের গল্প :১. রাসূলের আতিথেয়তা ও মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন (অক্টোবর’২৫)-আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ

গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান :১. পথহারা পথিক যেভাবে আলোর পথে (অক্টোবর’২৫)-সাজিদুর রহমান২. উত্তম ফায়ছালা (ফেব্রুয়ারী’২৬) -শিহাব চৌধুরী বিন দুলাল৩. হালাল রিযিকের চাবিকাঠি : আল্লাহর ফায়ছালায় সন্তুষ্টি ও ধৈর্য (মার্চ’২৬)-হাসীবুর রশী৪. মানুষ (সেপ্টেম্বর’২৬) -মুস্তাফীযুর রহমান।  সালাফদের জীবন থেকে :  -আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ(নভেম্বর’২৫)

চিকিৎসা জগৎ :১. হামের প্রাদুর্ভাব : কারণ, লক্ষণ ও করণীয় (মে’২৬)-ডা. মেহেদী হাসান মনিম

স্বাস্থ্যকথা :১. নীরব ঘাতক হাঁটু ক্ষয় : প্রতিরোধের উপায় -আত-তাহরীক ডেস্ক (অক্টোবর’২৫) ২. নীরব প্রহরী কিডনী : সুস্থ রাখতে করণীয় (নভেম্বর’২৫)৩. রামাযানে ছায়েমদের বিশেষ স্বাস্থ্য পরামর্শ (ফেব্রুয়ারী’২৬)-ডা. মহিদুল হাসান মা‘রূফ৪. সফরকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা (মার্চ’২৬) -ঐ৫. টুথব্রাশ ব্যবহারে অসাবধানতায় হ’তে পারে হৃদরোগ ও ডায়বেটিস (সেপ্টেম্বর’২৬)

ক্ষেত খামার : বাংলাদেশে প্যাপেইন উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক রূপরেখা (জুলাই’২৬)

বিশেষ সংবাদ :১. সঊদী আরবের গ্রান্ড মুফতী ও দীর্ঘ ৩৪ বছরের হজ্জের খতীব শায়েখ আব্দুল আযীয আলে-শেখ-এর মৃত্যু (নভেম্বর’২৫)২. সঊদী আরবের নতুন গ্রান্ড মুফতী শায়খ ছালেহ বিন ফাওযান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওযান (ডিসেম্বর’২৫)৩. মারকায পরিদর্শনে সঊদী আরবের বিশিষ্ট আলেম শায়খ ফুআদ আব্দুর রহমান আর-রশীদ (ফেব্রুয়ারী’২৬)৪. চলে গেলেন প্রসিদ্ধ আহলেহাদীছ আলেম মাওলানা শামসুদ্দীন সিলেটী (রহ.) (জুন’২৬) ৫. আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশগ্রহণ ও প্রবন্ধ উপস্থাপন (জুলাই’২৬) ৬. দীর্ঘ ২৫ বছর পর উদ্ধার হ’ল বগুড়াস্থ নারুলী আহলেহাদীছ জামে মসজিদ কমপ্লেক্স (জুলাই’২৬)৭. নতুন প্রিন্সিপালের দায়িত্ব গ্রহণ (আগস্ট’২৬)

       
  

বাৎসরিক সর্বমোট হিসাব

১. সম্পাদকীয়-১২টি . দরসে কুরআন-২টি ৩. দরসে হাদীছ-৩টি ৪. প্রবন্ধ-৪৩টি ৫. প্রচ্ছদ রচনা-১০টি ৬. সময়ের ভাবনা-২টি ৭. অথনীতির পাতা-১টি ৮. দিশারী-৩টি ৯. ছাহাবী চরিত-১টি ১০. আত্মচিন্তা-৪টি ১১. শিক্ষাঙ্গন-১২টি ১২. সাহিত্যাঙ্গন-১টি ১৩. সন্তান পরিচর্যা-৮টি ১৪. ইতিহাস-ঐতিহ্য-৮টি ১৫. মহিলা অঙ্গন-৪টি ১৬. নবীনদের পাতা-৩টি ১৭. ইতিহাসের পাতা থেকে-৩টি ১৮. করণীয়-বর্জনীয়-২টি ১৯. দো‘আ ও যিকর -৪টি ২০. হাদীছের গল্প-১টি ২১. গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান-৪টি ২২. সালাফদের জীবন থেকে-১টি ২৩. চিকিৎসা জগৎ-১টি ২৪. স্বাস্থ্যকথা-৫টি ২৫. কবিতা-৪০টি ২৬. বিশেষ সংবাদ-৭টি ২৭. প্রশ্নোত্তর-৪৮০টি। স্বদেশ-বিদেশ, মুসলিম জাহান, বিজ্ঞান ও বিস্ময়, সংগঠন সংবাদ ইত্যাদি কলামগুলি উক্ত হিসাবের বাইরে।

 
 
  
 
  

বর্ষশেষের নিবেদন : ২৮তম বর্ষ শেষে আমরা আমাদের সকল পাঠক-পাঠিকা, লেখক-লেখিকা, এজেন্ট ও গ্রাহক, বিজ্ঞাপন দাতা এবং দেশী ও প্রবাসী সকল শুভানুধ্যায়ীকে আন্তরিক মুবারকবাদ জানাচ্ছি। আল্লাহ তাঁর দ্বীনদার বান্দাদের হৃদয় সমূহকে এ মহান আন্দোলনের প্রতি রুজূ করে দিন- আমীন! [সম্পাদক]

 

 
 
   

 

 

 

 

 

 

[1]. জাগো নিউজ অনলাইন, https://surl.li/uuuidl






আরও
আরও
.