সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাব সমূহ :

সম্মেলনের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা সমূহ পেশ করা হয়। ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফায়ছাল মাহমূদ প্রস্তাবনা পাঠ করেন ও উপস্থিত সকলে তা সমর্থন করেন।-

১. বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিকে পরিপূর্ণভাবে ইসলামের আলোকে ঢেলে সাজাতে হবে। অহি-র আলোকে রাষ্ট্র ও প্রশাসন পরিচালনায় নীতিগত সহায়তার জন্য যোগ্য ও নিরপেক্ষ আলেমদের সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করতে হবে।

২. আধুনিক জাহেলিয়াত ও আধিপত্যবাদী শক্তির যেকোন আগ্রাসন থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশের তরুণ সমাজকে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

৩. মানব রচিত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ও বৈষম্যমূলক আইনের করাল গ্রাস থেকে বিচার বিভাগকে মুক্ত করতে হবে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ‘শারঈ বিচারব্যবস্থা’ চালু করতে হবে।

৪. শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও বিজাতীয় মতবাদের জাহেলিয়াত দূর করে সর্বস্তরে বিশুদ্ধ ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকে রাসূল (ছাঃ)-এর সীরাত অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নৈতিক অবক্ষয় রোধে সহশিক্ষা ব্যবস্থা বাতিল করে মেয়েদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক ও নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৫. মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণের শিরকী প্রথা এবং ভিনদেশী অপসংস্কৃতির আগ্রাসণ রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। তরুণ সমাজকে ধ্বংসকারী আধুনিক জাহেলিয়াত তথা অনলাইন জুয়া, পর্ণোগ্রাফি রুখতে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।

৬. ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, মজুতদারী, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করতে হবে। খাদ্যে ও ওষুধে ভেজাল প্রদানকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে মানুষের খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে সূদমুক্ত ইসলামী অর্থনীতি চালু করতে হবে।

৭. ভিনদেশী আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে এবং পানি আগ্রাসনের মতো আধিপত্যবাদী আচরণ রুখে দিতে রাষ্ট্রকে আপসহীন হ’তে হবে। ফিলিস্তীন ও ভারতসহ বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মুসলিমদের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।

৮. ইসলামের নামে জঙ্গীবাদ ও চরমপন্থাকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। পাশাপাশি কাদিয়ানী, হিজবুত তাওহীদসহ সকল বাতিল ফের্কা এবং সমাজে অনুপ্রবেশকারী শিরক-বিদ‘আতের অন্ধকার দূর করতে রাষ্ট্রকে আপসহীন পদক্ষেপ নিতে হবে।

৯. দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহতা দূর করতে হবে। অর্থাৎ খুন, ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের শাস্তি নিশ্চিতে রাষ্ট্রকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই সম্মেলন থেকে আমরা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যাদুর্গত মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং তাদের পুনর্বাসনে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি।

১০. যুবসমাজকে বেকারত্বের অভিশাপ ও হতাশাপূর্ণ জীবন থেকে রক্ষার্থে তাদেরকে বাস্তবমুখী শিক্ষা, কারিগরী ও আইটি খাতে দক্ষ করতে হবে এবং দেশেই তাদের হালাল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদেরকে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরী করে দিতে হবে।

সম্মেলনের অন্যান্য রিপোর্টসমূহ :

জুম‘আর খুৎবা : এবারের কর্মী সম্মেলন উপলক্ষে ‘আন্দোলন’, ‘যুবসংঘ’ ও ‘সোনামণি’র দায়িত্বশীলগণ ঢাকা শহরের ২০টি মসজিদে জুম‘আর খুৎবা প্রদান করেন।

কর্মী উপস্থিতি : দেশের সকল যেলা থেকে প্রায় এক হাযার আটশত কর্মী ও সুধী উক্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, মূল অডিটোরিয়ামে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেকেই বাইরে চেয়ারে বসে বক্তব্য শ্রবণ করেন।

স্টল সমূহ : সম্মেলনে বাইরের মূল গেইটের ডান পার্শ্বে ‘আল-‘আওন’-এর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে ব্লাড গ্রুপিং ও রক্তদাতা সদস্য সংগ্রহ ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পিং পরিচালনা করেন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ যেলার দায়িত্বশীলবৃন্দ। উক্ত ক্যাম্পিংয়ে ১৮ জনের ব্লাড গ্রুপিং ও ২৩ জন রক্তদাতা সদস্য বা ‘ডোনার’ তালিকাভুক্ত হন।

এছাড়াও ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ বিক্রয় বিভাগের জন্য বুকস্টল ও ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে সংগঠনের পরিচিতি বিষয়ক স্টল স্থাপন করা হয় এবং সেখান থেকে সাংগঠনিক বই, পরিচিতি, যুবসংঘে’র মনোগ্রাম সম্বলিত গেঞ্জি, চাবির রিং, কলম ও প্যাড ইত্যাদি বিতরণ ও বিক্রয় করা হয়।







আরও
আরও
.