গত ১লা জুন বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী মাযারের দীঘির সংরক্ষিত মহিলা ঘাট থেকে আনুমানিক ৭-৮ বছর বয়সী ফাতেমাকে কুমির টেনে নিয়ে যায়। পরেরদিন ভোরে শিশুটির মরদেহ ভেসে ওঠে দীঘির পূর্ব পার্শ্বে। এরপর জননিরাপত্তার স্বার্থে ৩ জুন প্রশাসন ও বন বিভাগের যেŠথ দল মাযারের দীঘি থেকে একমাত্র নারী কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করে।
উল্লেখ্য, শিশুটির মৃত্যুর প্রায় দুই মাস আগে এখানে একটি কুকুরকে আক্রমণ করেছিল কুমিরটি। তখন প্রশ্ন উঠেছিল লোকালয়ের একটি দীঘিতে এমনভাবে কুমির রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে। এর আগেও ১৯৬০ ও ১৯৭০ সালে মাযারের দুই খাদেম কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। প্রশাসনের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে কুমিরকে কেন্দ্র করে মাযারের খাদেম ও কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের মানত, তাবীয বিক্রি ও অর্থ উপার্জনের মতো অনৈতিক ব্যবসা এবং কুসংস্কার স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, মাযার-সংশ্লিষ্ট একটি অংশ সাড়ে ৬ শত বছরের প্রাচীন ‘ঐতিহ্য’ ধরে রাখার অজুহাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কুমিরটিকে পুনরায় দীঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
[‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ নামে দু’টি নর ও মাদী কুমির ছেড়ে দিয়ে কবর ব্যবসায়ীরা বহু পূর্ব থেকেই এখানে বসে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করে যাচ্ছে। এই কুমির দু’টির কেরামতি নিয়ে এখানকার খাদেমরা বহু পুস্তিকা বিতরণ করে থাকে। তাতে ভুলে গিয়ে বহু মানুষ ধর্মের নামে এখানে দৈনিক শত শত মোরগ-মুরগী, গরু-খাসি ও টাকা-পয়সা মানত করে। এভাবে তারা ধর্মের নামে ভক্তদের পকেট ছাফ করে। সচেতন আলেমগণ সর্বদা এসবের প্রতিবাদ করে থাকেন। কিন্তু খাদেমরা সর্বদা প্রশাসনকে খুশী করেই কবর ব্যবসা চালিয়ে থাকে। দেশের প্রায় সকল মাযার এরূপ ব্যবসা চলছে। এখানেও সেটি চলছিল যুগ যুগ ধরে। আল্লাহর হাযার শোকর এবার এখান থেকে একটি মেয়ের জীবনের বিনিময়ে সেটি দূর হ’ল। পুনরায় যেন প্রশাসন দুর্বল না হয়ে যায়, আমরা আল্লাহর নিকট সেটাই প্রার্থনা করি। সাথে সাথে দেশের অন্যান্য মাযার থেকেও সকল প্রকার কুসংস্কার দূরীকরণের আহবান জানাই! (স.স.)]