সুন্নাহর প্রহরী
-মুহাম্মাদ আলী আকবর
বদরগঞ্জ, রংপুর।
সুন্নাহর পথে অবিচল থাকি
দ্বীনের কাজে না দিই ফাঁকি
বুকে জ্বালিয়ে ঈমান
মিথ্যা প্রথার শৃঙ্খল টুটে
হকের নিশান ধরি শক্ত হাতে
মানি নবীর ফরমান।
ফৎওয়াবাজির মোহজাল ছিঁড়ে
ফিরে আসি কুরআন-সুন্নাহর নীড়ে
সুদৃঢ় দ্বীনের নিশানায়,
যতই আসুক বাধা-তুফান
সুন্নাহর তরে সঁপে দেব জান
নির্ভীক আমি সব সীমানায়।
ওহে মুসলিম জাগো তবে আজ
সুন্নাহর সাজে সাজাও সমাজ
অহি-র জ্ঞানে বুক ভরিয়া,
বাতিল শক্তি করো দলন
সুন্নাহর পথে করো বিচরণ
যাও পুলছিরাত তরিয়া।
পিতা-মাতার সেবা
-আব্দুল্লাহ আন-নোমান, সিরাজগঞ্জ।
পিতা-মাতা আছে যাদের শোন দিয়ে মন,
পিতা-মাতার সেবাই হ’ল সর্বশ্রেষ্ঠ ধন।
মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত রাসূলের ফরমান,
পিতা খুশি হ’লেই খুশি স্বয়ং রহমান।
না খেয়ে মা খাইয়েছিল রাত জেগেছে কত,
পিতা সয়েছে রৌদ্র-দহন লুকিয়ে কত ক্ষত।
জোয়ান হয়ে ভাবিস বুঝি সব করেছিস জয়?
পিতা-মাতার চোখের পানি তোর যে পরাজয়!
ভুলিস যদি তাদের ব্যথা অহংকারের ঘোরে,
আল্লাহর আযাব তখন হানবে আঘাত তোরে!
অট্টালিকা, ধন-সম্পদ, সবই হবে ছাই,
পিতা-মাতার দো‘আর চেয়ে দামী কিছু নাই।
তাই তো বলি, ওরে যুবক তরুণ ওরে প্রাণ!
পিতা-মাতার সেবায় যদি কাটাস দিনমান,
খুশী হয়ে তারা যদি দো‘আ করে যায়,
জান্নাতী সুখ পাবি তবে উভয় দুনিয়ায়।
আহলেহাদীছ পরিচয়
-আবূ রায়হান, বাগাতিপাড়া, নাটোর।
আমি বিপ্লবী বীর পথ চলি আমি নবীর সুন্নাহ ধরি
শিরক ও কুফর, বিদ‘আতি প্রথা সব করি খান-খান!
ভ্রান্তির পথে পা না বাড়িয়ে চলি আল্লাহ্কে স্মরি
আগা-গোড়া আমি আহলেহাদীছ এটাই তো সম্মান!
অন্ধ অনুকরণ করি না কভু মানি না অহী ছাড়া
রাসূলের চেয়ে বড় কোন পীর দুনিয়ার বুকে নাই!
কুরআন ও ছহীহ হাদীছ এই দুই ধ্রুবতারা
ছিরাতুল মুস্তাক্বীম খুঁজে পেতে শুধু এই দু’টো চাই।
মানুষের গড়া ফৎওয়া যখন ঢেকে দেয় হকের পথ
বিদ্রোহ করি হাতে তুলে নিই দলীলের তলোয়ার!
যে পথে চলেছেন সালাফ মোদের সেই পথ মোর পথ
তন্ত্র-মন্ত্র পিছে ফেলে করি সত্যের বিস্তার।
ওহে মুসলিম! কেন ভুলে যাস রবের সে পয়গাম?
মিথ্যা মোহেতে মজিয়া আছিস ভুলে গিয়ে নিজ দ্বীন
আহলেহাদীছ যুগে যুগে করে সুন্নাহর এহতেমাম
হকের আলোতে মুছে দেয় তারা বিজাতীয় সব দ্বীন।
গর্বিত আমি ছহীহ পথের পেয়েছি যে সন্ধান
নবীর চরণ-চিহ্ন ধরেই পার হবো পুলছিরাত
আহলেহাদীছ পরিচয়ে মোর জুড়িয়েছে আজ প্রাণ
আল্লাহর রাহে সঁপে দিলাম আমার এই জীবন!
স্বদেশ
দাদনের ফাঁদে নিঃস্ব প্রান্তিক পোলট্রি খামারীরা
সরকারী সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে মহাজনদের উচ্চ সূদের দাদনের ফাঁদে পড়ে আজ প্রায় নিঃস্ব দেশের প্রান্তিক পোলট্রি খামারীরা। প্রতিটি ডিম উৎপাদনে সাড়ে ৯ টাকা খরচ হ’লেও দাদনের কঠিন শর্তে তা মাত্র ৬ টাকায় সেই মহাজনদের কাছেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এই অব্যাহত লোকসান ও ঋণের চাপে পুঁজি হারিয়ে গত পাঁচ বছরে গাযীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের মতো প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ খামারী ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। অনেকেই দিশেহারা হয়ে ফেরারী জীবন কাটাচ্ছেন। এমনকি কেউ কেউ আত্মহত্যার পথও বেছে নিচ্ছেন। এদিকে ডিমের উৎপাদনকারী না হয়েও দাদন ব্যবসায়ীরা মহাজন, দাদনের ফড়িয়া ও পাইকারী বিক্রেতা-এই তিন স্তরের শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। দাদনের শর্তের বেড়াজালে আটকে খামারীরা সরাসরি ঢাকার বড় আড়তে ডিম বিক্রি করতে পারছেন না। খামারী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ও বাজার তদারকির অভাবে প্রান্তিক খামারীরা আজ ধ্বংসের মুখে এবং পুরো পোলট্রি খাতটি ধীরে ধীরে করপোরেট কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া দখলে চলে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সাধারণ ভোক্তাদের জন্যও ডিমের দামে চরম সংকট ডেকে আনবে।
[মাছ-মাংসের এই দুর্মূল্যের গরীবের প্রোটিনের একমাত্র উৎস ডিমকে সূদী কারবারিদের বাঁচানো সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কঠোর ভূমিকা আশা করছি (স.স.)]
পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র¨ বিমোচনে ভূমিকা রাখা সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, লক্ষ্যভিত্তিক ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত বণ্টন করা গেলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র¨ বিমোচন করা সম্ভব। গত ৭ই মার্চ শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইয়াতীম শিশু ও ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে সরকারের পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে বছরে ২০-২৫ হাযার কোটি টাকার অধিক যাকাত আদায় হ’লেও অপরিকল্পিত বণ্টনের কারণে তা দারিদ্র¨ দূরীকরণে পুরোপুরি কাজে আসছে না। ধনী-দরিদ্র মিলিয়ে দেশে বর্তমানে কমবেশী ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে ৫ লক্ষ পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা করে যাকাত দেওয়া হ’লে তারা দ্রুত স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। আশা করা যায়, পরের বছর তাদের আর যাকাত গ্রহণের প্রয়োজন হবে না। পরিশেষে তিনি কুরআন-হাদীছের আলোকে ইয়াতীমদের হক আদায়ের প্রতি সমাজের বিত্তবানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এক মসজিদে ই‘তিকাফে ১৬০০ মুছল্লী!
যশোরের সতীঘাটায় অবস্থিত আশরাফুল মাদারিস মসজিদে এবারে রামাযানে প্রায় ১ হাযার ৬০০ জন মুছল্লীর অংশগ্রহণে বিশাল পরিসরে ই‘তিকাফ সম্পন্ন হয়েছে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আটটি দেশের ৭৫ জন বিদেশী নাগরিকও রয়েছেন। মূলত শায়খুল হাদীছ মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহির অনুসারীরা এবং বিশেষত দক্ষিণ আফ্রিকার শায়েখ ইব্রাহীম আফ্রীকীর উপস্থিতির কারণে দেশ-বিদেশের এত বিপুলসংখ্যক আলেম ও ধর্মপ্রাণ মুসলিম এখানে সমবেত হয়েছেন। মুছল্লীদের নিরবচ্ছিন্ন ইবাদতের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইফতার ও সাহারীসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মাদ্রাসার প্রায় ১৮০০ শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করছেন।
বিদেশ
টানা চার বছর কমল জনসংখ্যা : জন্মহার বাড়াতে মরিয়া চীন
চীনে ২০২৫ সালেও টানা চতুর্থ বছরের মতো জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে এবছর ৩৩ লাখ ৯০ হাযার কমেছে। ফলে দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা ১৪০ কোটি ৫০ লাখে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর জন্মহার ১৭ শতাংশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখে পৌঁছেছে, যা ১৯৬৮ সালের পর সর্বোচ্চ। মূলত দীর্ঘদিনের এক সন্তান নীতি, বিয়েতে তরুণ প্রজন্মের অনীহা এবং জীবনযাত্রার অত্যধিক ব্যয়ের কারণে জন্মহার এমন আশঙ্কাজনক হারে কমছে। যার ফলে দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সামগ্রিক অর্থনীতি ও পেনশন ব্যবস্থার ওপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই গভীর বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় এবং জন্মহার বাড়াতে মরিয়া চীন সরকার ইতিমধ্যে অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রায় ২ হাযার ৫৮০ কোটি ডলারের বিশাল অর্থনৈতিক প্রণোদনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যার আওতায় জাতীয় শিশু ভাতা প্রদানসহ গর্ভবতীদের আইভিএফ ও অন্যান্য সব চিকিৎসা খরচ সরকারিভাবে বহন করা হবে।
[ভারতের মধ্য প্রদেশে একই অবস্থা শুরু হয়েছে। সেখানে সন্তান বৃদ্ধির জন্য মায়েদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। আল্লাহর বিধান অগ্রাহ্য করলে তার শাস্তি এমনিভাবেই দুনিয়াতে নেমে আসে। সন্তান হ’ল সম্পদ, জঞ্জাল নয়। সর্বাগ্রে এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে (স.স.)]
ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ : সবচেয়ে বেশী মূল্য দিতে হবে বিশ্বের দরিদ্র মানুষকে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই বহুমাত্রিক সংকটে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন দরিদ্র ও অসহায় মানুষ। কারণ নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দাম, প্রবাসী শ্রমিকদের কাজ হারানো এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তা হ্রাসের ফলে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া দুবাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া এবং পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ত্রাণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একইসাথে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সার সরবরাহ বন্ধ থাকায় কৃষিখাত এবং জেনারেটর খরচ বৃদ্ধিতে চিকিৎসাসেবা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। লাখো মানুষের বাস্ত্তচ্যুত হওয়া এবং দরিদ্র দেশগুলোর সরাসরি দুর্ভিক্ষের দিকে ধাবিত হওয়ার এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় নিরাপদ ত্রাণ পারাপারের পাশাপাশি ধ্বংসাত্মক এই যুদ্ধের অবিলম্বে অবসান ঘটানোই এখন সবচেয়ে যরূরী।
বিজ্ঞান ও বিস্ময়
উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করল মানুষ
কয়েক শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে প্রথমবারের মতো উদ্ভিদের শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের গবেষকরা। ‘স্টোমাটা ইন-সাইট’ নামক প্রযুক্তির সহায়তায় উচ্চ রেজল্যুশনের মাইক্রোস্কোপ ও উন্নত মেশিন-লার্নিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে তারা পাতার ক্ষুদ্র ছিদ্র বা স্টোমাটার কার্যপ্রণালি ভিডিওতে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এই অভাবনীয় উদ্ভাবনের ফলে এখন কোষীয় স্তরে সরাসরি দেখা সম্ভব হচ্ছে যে, কিভাবে উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং একই সাথে প্রস্বেদনের মাধ্যমে জলীয় বাষ্পের ভারসাম্য বজায় রাখে। বিজ্ঞানীরা এখন নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারছেন ঠিক কোন মুহূর্তে এবং কেন একটি গাছ তার ‘মুখ’ বন্ধ করে দেয়। যা ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় খরা-সহনশীল ও অধিক উৎপাদনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে যেখানে লবণাক্ততা বা খরার কারণে প্রায়ই ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়, সেখানে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবিত উন্নত বীজ কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
চীনের নতুন আবিষ্কার : মরুভূমিতেও হবে সবুজ ফসল
মরুভূমিকে উর্বর জমিতে পরিণত করার এক যুগান্তকারী পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। যার মাধ্যমে মাত্র ১০ থেকে ১৬ মাসের মধ্যেই আলগা বালুকে আবাদযোগ্য মাটিতে রূপান্তর করা সম্ভব। চাইনিজ একাডেমী অব সায়েন্সেসের গবেষকদের এই গবেষণায় তাকলামাকান মরুভূমিতে ‘সায়ানোব্যাকটেরিয়া’ নামক এক বিশেষ অণুজীব ব্যবহার করা হয়েছে। এই অণুজীব বালুর ওপর একটি কালো জৈব আস্তরণ তৈরি করে বালুকণাগুলোকে আঠার মতো আটকে রাখে, যা মাটির পানি ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায় এবং বাষ্পীভবন রোধ করে চারাগাছ গজাতে সাহায্য করে। এছাড়া এই আস্তরণ বাতাস থেকে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সংগ্রহ করে মাটির পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে এবং বাতাসে বালু উড়ার হার ৯০ শতাংশেরও বেশী কমিয়ে ধূলিঝড় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। সব মিলিয়ে এই আবিষ্কার মরুভূমিকে ধীরে ধীরে সবুজে ভরিয়ে তোলার নতুন আশা দেখাচ্ছে।
[বাংলাদেশে নদী সমূহের চরাঞ্চলে সাধারণ কৃষকরাই বালুর উপর ব্যাপক চাষাবাদ করছে। এছাড়া লবনাক্ত ভূমিতে এখন চাষাবাদ চলছে। এমনকি শ্যাওলার উপরে মাচান বানিয়ে তার উপরে চাষাবাদ চলছে। প্রয়োজনের তাকীদে সাধারণ কৃষকরা যা পারে, অনেক সময় বড় বড় বিজ্ঞানীরা তাদের কাছে হার মানে। ‘প্রয়োজন সকল আবিষ্কারের মূল’। সর্বোপরি আল্লাহ রূযীর মালিক। তিনি তার যে কোন বান্দার মাধ্যমে রূযীর যোগান দিয়ে থাকেন (স.স.) ]
দেশে প্রথম ব্রেইল পদ্ধতিতে দাওরায়ে হাদীছ পরীক্ষা দিচ্ছে দু’জন অন্ধ শিক্ষার্থী
দেশের ইতিহাসে এক অনন্য নযীর স্থাপন করে প্রথমবারের মতো ব্রেইল পদ্ধতিতে অভিন্ন প্রশ্নে দাওরায়ে হাদীছ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন দুই মেধাবী দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান ও জুবায়ের। আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমীয়ার অধীনে দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় তারা রাজধানীর ‘মাদ্রাসাতুর রহমান আল-আরাবিয়া’ থেকে অংশগ্রহণ করছেন। চোখের আলো না থাকলেও তারা প্রবল ইচ্ছাশক্তি দিয়ে আত্মস্থ করেছেন কুরআন ও হাদীছের অমিয় বাণী। এই দুই অদম্য মেধাবীর ইতিহাস গড়ার লড়াইকে সম্মান জানিয়ে পরীক্ষা শেষে তাদের জন্য বিশেষ উপহার হিসাবে রাখা হয়েছে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে মেধা ও সাধনার পথে বাধা হ’তে পারে না, আব্দুর রহমান ও জুবায়ের আজ তাই প্রমাণ করে দেখালেন।
ভুল ছাড়া এক বৈঠকে পুরো কুরআন মুখস্থ
শোনালেন ১১ বছরের ২ শিশু
রাজধানী ঢাকার ডেমরাস্থ ‘মাদরাসাতু আহমাদ’-এর দুই বালক লাবীব আব্দুল্লাহ ও উসাইদ মুহিববুল্লাহ মাত্র ১১ বছর বয়সেই এক অনন্য নযীর স্থাপন করেছে। তারা কোন প্রকার ভুল ছাড়াই এক বৈঠকে পূর্ণ ৩০ পারা কুরআন শুনিয়েছে। অনন্য প্রতিভার অধিকারী লাবীব আব্দুল্লাহর বাড়ী নরসিংদী এবং উসাইদ মুহিববুাল্লাহর বাড়ী চাঁদপুর যেলায়। এই অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের দিয়েছে রাজকীয় সংবর্ধনা। পুরস্কার হিসাবে তারা পেয়েছে ঢাকা টু কক্সবাজার বিমান ভ্রমণের সুযোগ। মাদরাসার পরিচালক যুবায়ের আহমাদ জানান, তারা শিক্ষার্থীদের দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরী শিক্ষায় দক্ষ করে তুলছেন। কুরআনের আলো বুকে নিয়ে আধুনিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ এই খুদে হাফেযদের সাফল্য আগামীর প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করবে।
সমুদ্রপথে হজ্জ-ওমরাহ : চালু হ’ল মালয়েশিয়া-সঊদী যৌথ ‘হালাল ক্রুজ’ সেবা
সঊদী আরব ও মালয়েশিয়ার যৌথ উদ্যেগে এবং ‘অরোয়া ক্রুজেস’-এর ব্যবস্থাপনায় হজ্জ ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্য বিশ্বের প্রথম হালাল-সার্টিফায়েড ক্রুজ সেবা চালু হয়েছে। যা আকাশপথের বিকল্প হিসাবে সমুদ্রপথে ভ্রমণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং থেকে জেদ্দা পর্যন্ত ১৫ রাতের এই বিলাসবহুল ও ইসলামী ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ যাত্রাপথে ইন্দোনেশিয়ার বান্দা আচেহ, মালদ্বীপ ও ওমানের মাসকাটের মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ থাকছে। ৩,৪০০ যাত্রী ধারণক্ষমতার এই জাহাযে ইবাদতবান্ধব পরিবেশ এবং আলেমদের তত্ত্বাবধানে ধর্মীয় আলোচনার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগামী ৩রা ফেব্রুয়ারী ২০২৬ থেকে শুরু হ’তে যাওয়া এই যাত্রায় জেদ্দায় পৌঁঁছানোর পর যাত্রীরা স্থলপথে মক্কায় গমন করবেন। মূলত সউদী আরবের ধর্মীয় পর্যটন সম্প্রসারণের অংশ হিসাবে গৃহীত এই উদ্যেগটি ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে যাওয়া হালাল পর্যটন বাজারে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে পূরণে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
[চীনে অবতরণকারী প্রথম ছাহাবী হযরত সা‘দ বিন আবু ওয়াক্কাছ (রাঃ)-এর বাহিনীর অবতরণ ধন্য চীনের গুয়াংজু সমুদ্রবন্দর, আরাকানের আকিয়াব, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, ভারতের মুম্বাই ও পাকিস্তানের করাচী সমুদ্র বন্দর হয়ে জেদ্দা পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়ার প্রস্তাব রইল। সেই সাথে ‘হালাল’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘সাকীনাহ (প্রশান্তি) ক্রুজ’ নাম রাখা ভাল। কেননা ‘হালাল’ শব্দটি কেবল খাদ্যের সঙ্গে যুক্ত (স.স.)]
যুদ্ধের রমরমায় অস্ত্র নির্মাতাদের আয়ে রেকর্ড
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামরিক খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেকর্ড ৬৭৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপরি)-এর মতে, এই আয় আগের বছরের তুলনায় ৫.৯ শতাংশ বেশী।
সিপরি জানায়, গাযা ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে অস্ত্রের চাহিদা তুঙ্গে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কোম্পানীগুলো সবচেয়ে বেশী লাভবান হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আয় ৩.৮% বেড়ে ৩৩৪ বিলিয়ন ডলার এবং ইউরোপের আয় ১৩% বেড়ে ১৫১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানীগুলোর আয় যথাক্রমে ৪০% ও ৩১% বাড়লেও, দুর্নীতি ও অনিশ্চয়তার কারণে চীনা কোম্পানীগুলোর আয় ১০% কমেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে গাযা যুদ্ধের ফলে ইস্রাঈলী কোম্পানীগুলোর আয় ১৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। ড্রোন প্রযুক্তির সুবাদে তুরস্কও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া চলমান যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন (৪১% বৃদ্ধি) এবং নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাশিয়ার (২৩% বৃদ্ধি) প্রতিরক্ষা খাতের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সিপরির মতে, চলমান যুদ্ধ এবং বাড়তি সামরিক ব্যয়ের প্রবণতা বিশ্বকে ক্রমশ আরও অস্ত্রনির্ভর যুগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
[আমরা সর্বনাশা প্রতিযোগিতার অবসান চাই। তার বদলে পরস্পর সহাবস্থানের মাধ্যমে মানবিক বিশ্ব কামনা করি (স.স.)]
আফগানিস্তানে কমেছে আফিম চাষ
আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার পর দেশটিতে আফিম উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ২০২২ সালে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর ২০২৫ সালে এসে আফিম চাষ প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ২০২২ সালের আগে আফগানিস্তান বিশ্বের ৮০ শতাংশেরও অধিক আফিম উৎপাদন করত, যা থেকে তৈরি হ’ত ইউরোপের ৯৫ শতাংশ হেরোইন। কিন্তু ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান ২০২২ সালের এপ্রিলে আফিম চাষ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। আফিমকে শরী‘আত বিরোধী ও ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ কৃষক অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়েছেন। অনেকেই এখন গমসহ বিভিন্ন শস্য চাষ করছেন, যদিও আফিম চাষ এখনো অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক বেশী লাভজনক। চলতি বছর আফিম চাষের জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাযার ২০০ হেক্টর। অথচ ২০২২ সালের আগে এর পরিমাণ ছিল ২ লাখ হেক্টরেরও অধিক। এদিকে বালখ, ফারাহ, লাঘমান ও উরুজগান এই চারটি প্রদেশ চলতি বছর আফিমমুক্ত ঘোষণা করেছে তালেবান সরকার। প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানের কঠোর পদক্ষেপ আফিম উৎপাদনের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলগুলোতেও চাষ প্রায় সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করেছে।
[প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদেরকে আল্লাহ এর বিনিময়ে উত্তম প্রতিদান দান করুন- আমীন! (স.স.)]
সমুদ্রপথে হজ্জ-ওমরাহ : চালু হ’ল মালয়েশিয়া-সঊদী যৌথ ‘হালাল ক্রুজ’ সেবা
সঊদী আরব ও মালয়েশিয়ার যৌথ উদ্যেগে এবং ‘অরোয়া ক্রুজেস’-এর ব্যবস্থাপনায় হজ্জ ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্য বিশ্বের প্রথম হালাল-সার্টিফায়েড ক্রুজ সেবা চালু হয়েছে। যা আকাশপথের বিকল্প হিসাবে সমুদ্রপথে ভ্রমণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং থেকে জেদ্দা পর্যন্ত ১৫ রাতের এই বিলাসবহুল ও ইসলামী ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ যাত্রাপথে ইন্দোনেশিয়ার বান্দা আচেহ, মালদ্বীপ ও ওমানের মাসকাটের মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখার সুযোগ থাকছে। ৩,৪০০ যাত্রী ধারণক্ষমতার এই জাহাযে ইবাদতবান্ধব পরিবেশ এবং আলেমদের তত্ত্বাবধানে ধর্মীয় আলোচনার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগামী ৩রা ফেব্রুয়ারী ২০২৬ থেকে শুরু হ’তে যাওয়া এই যাত্রায় জেদ্দায় পৌঁঁছানোর পর যাত্রীরা স্থলপথে মক্কায় গমন করবেন। মূলত সউদী আরবের ধর্মীয় পর্যটন সম্প্রসারণের অংশ হিসাবে গৃহীত এই উদ্যেগটি ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে যাওয়া হালাল পর্যটন বাজারে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে পূরণে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
[চীনে অবতরণকারী প্রথম ছাহাবী হযরত সা‘দ বিন আবু ওয়াক্কাছ (রাঃ)-এর বাহিনীর অবতরণ ধন্য চীনের গুয়াংজু সমুদ্রবন্দর, আরাকানের আকিয়াব, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, ভারতের মুম্বাই ও পাকিস্তানের করাচী সমুদ্র বন্দর হয়ে জেদ্দা পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়ার প্রস্তাব রইল। সেই সাথে ‘হালাল’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘সাকীনাহ (প্রশান্তি) ক্রুজ’ নাম রাখা ভাল। কেননা ‘হালাল’ শব্দটি কেবল খাদ্যের সঙ্গে যুক্ত (স.স.)]
যুদ্ধের রমরমায় অস্ত্র নির্মাতাদের আয়ে রেকর্ড
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামরিক খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেকর্ড ৬৭৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপরি)-এর মতে, এই আয় আগের বছরের তুলনায় ৫.৯ শতাংশ বেশী।
সিপরি জানায়, গাযা ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে অস্ত্রের চাহিদা তুঙ্গে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কোম্পানীগুলো সবচেয়ে বেশী লাভবান হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আয় ৩.৮% বেড়ে ৩৩৪ বিলিয়ন ডলার এবং ইউরোপের আয় ১৩% বেড়ে ১৫১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানীগুলোর আয় যথাক্রমে ৪০% ও ৩১% বাড়লেও, দুর্নীতি ও অনিশ্চয়তার কারণে চীনা কোম্পানীগুলোর আয় ১০% কমেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে গাযা যুদ্ধের ফলে ইস্রাঈলী কোম্পানীগুলোর আয় ১৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। ড্রোন প্রযুক্তির সুবাদে তুরস্কও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া চলমান যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন (৪১% বৃদ্ধি) এবং নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাশিয়ার (২৩% বৃদ্ধি) প্রতিরক্ষা খাতের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সিপরির মতে, চলমান যুদ্ধ এবং বাড়তি সামরিক ব্যয়ের প্রবণতা বিশ্বকে ক্রমশ আরও অস্ত্রনির্ভর যুগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
[আমরা সর্বনাশা প্রতিযোগিতার অবসান চাই। তার বদলে পরস্পর সহাবস্থানের মাধ্যমে মানবিক বিশ্ব কামনা করি (স.স.)]
আফগানিস্তানে কমেছে আফিম চাষ
আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার পর দেশটিতে আফিম উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ২০২২ সালে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর ২০২৫ সালে এসে আফিম চাষ প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ২০২২ সালের আগে আফগানিস্তান বিশ্বের ৮০ শতাংশেরও অধিক আফিম উৎপাদন করত, যা থেকে তৈরি হ’ত ইউরোপের ৯৫ শতাংশ হেরোইন। কিন্তু ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান ২০২২ সালের এপ্রিলে আফিম চাষ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। আফিমকে শরী‘আত বিরোধী ও ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ কৃষক অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়েছেন। অনেকেই এখন গমসহ বিভিন্ন শস্য চাষ করছেন, যদিও আফিম চাষ এখনো অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেক বেশী লাভজনক। চলতি বছর আফিম চাষের জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাযার ২০০ হেক্টর। অথচ ২০২২ সালের আগে এর পরিমাণ ছিল ২ লাখ হেক্টরেরও অধিক। এদিকে বালখ, ফারাহ, লাঘমান ও উরুজগান এই চারটি প্রদেশ চলতি বছর আফিমমুক্ত ঘোষণা করেছে তালেবান সরকার। প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবানের কঠোর পদক্ষেপ আফিম উৎপাদনের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলগুলোতেও চাষ প্রায় সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করেছে।
[প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদেরকে আল্লাহ এর বিনিময়ে উত্তম প্রতিদান দান করুন- আমীন! (স.স.)]
আন্দোলন
মাহে রামাযান উপলক্ষে দেশব্যাপী কর্মী প্রশিক্ষণ, আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল
পবিত্র মাহে রামাযান উপলক্ষে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে দেশব্যাপী কর্মী প্রশিক্ষণ, আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিল সমূহে ‘আন্দোলন’, ‘যুবসংঘ’, ‘সোনামণি’, ‘আল-‘আওন’ ও ‘আহলেহাদীছ পেশাজীবী ফোরামে’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং মনোনীত দায়িত্বশীলগণ অংশগ্রহণ করেন। কেন্দ্রীয় প্রোগ্রাম সমূহের সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট নিম্নরূপ।-
৪ঠা রামাযান ২২শে ফেব্রুয়ারী রবিবার মান্দা, নওগাঁ : অদ্য সকাল ১০-টায় যেলার মান্দা থানাধীন পাঁজরভাঙ্গা আহলেহাদীছ জামে মসজিদে নওগাঁ যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এলাকা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ ফেরদাঊসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম।
৫ই রামাযান ২৩শে ফেব্রুয়ারী সোমবার মানিকগঞ্জ : অদ্য বাদ যোহর যেলার সদর থানাধীন নওখন্ডা বায়তুর রহমান আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জামীল আহমাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দাঈ অধ্যাপক আব্দুল হামীদ ও ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক মুহাম্মাদ ইহসান।
৬ই রামাযান ২৪শে ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার রংপুর-পশ্চিম : অদ্য বাদ আছর যেলা শহরের মুসলিম পাড়াস্থ শেখ জামালুদ্দীন আহলেহাদীছ জামে মসজিদে রংপুর-পশ্চিম সাংগঠনিক যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আব্দুল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম ও ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম।
৭ই রামাযান ২৫শে ফেব্রুয়ারী বুধবার কাউনিয়া, রংপুর-পূর্ব : অদ্য বাদ যোহর যেলার কাউনিয়া থানাধীন ভায়ারহাট আহলেহাদীছ জামে মসজিদে রংপুর-পূর্ব সাংগঠনিক যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ যিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম ও ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক আব্দুন নূর।
৮ই রামাযান ২৬শে ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার নেত্রকোণা : অদ্য বাদ আছর যেলার কলমাকান্দা থানাধীন কালিহালা আহলেহাদীছ জামে মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দাঈ অধ্যাপক আব্দুল হামীদ ও ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক মুহাম্মাদ ইহসান।
৯ই রামাযান ২৭শে ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সুনামগঞ্জ : অদ্য বাদ জুম‘আ যেলার সদর থানাধীন নিসর্গ হাসননগর গোরাবায়ে আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক প্রশিক্ষণ ও বাদ আছর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আবু আব্দুল্লাহ আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিলে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমাদুল্লাহ।
৯ই রামাযান ২৭শে ফেব্রুয়ারী শুক্রবার কিশোরগঞ্জ : অদ্য বাদ জুম‘আ যেলার সদর থানাধীন মহিনন্দ গালিমগাযী দারুস সালাম সালাফিইয়াহ মাদ্রাসা ও ইয়াতীমখানায় যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি অধ্যাপক এস. এম নূরুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দাঈ অধ্যাপক আব্দুল হামীদ ও ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক মুহাম্মাদ ইহসান।
৯ই রামাযান ২৭শে ফেব্রুয়ারী শুক্রবার মুন্সিপাড়া, নীলফামারী-পশ্চিম : অদ্য বাদ জুম‘আ যেলা শহরের মুন্সিপাড়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদে নীলফামারী-পশ্চিম সাংগঠনিক যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ও বাদ আছর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ডা. মুস্তাফীযুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম ও ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক আব্দুন নূর।
৯ই রামাযান ২৭শে ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বিরামপুর, দিনাজপুর-পূর্ব : অদ্য বাদ জুম‘আ যেলার বিরামপুর থানাধীন চাঁদপুর আহলেহাদীছ জামে মসজিদে দিনাজপুর-পূর্ব সাংগঠনিক যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ও বাদ আছর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আনোয়ারুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিলে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবুল কালাম।
৯ই রামাযান ২৭শে ফ্রেব্রুয়ারী শুক্রবার ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ : অদ্য বেলা ১১-টায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ময়মনসিংহ-দক্ষিণ যেলার উদ্যোগে ফুলবাড়িয়া থানাধীন ছনকান্দা দক্ষিণপাড়া বায়তুস সালাম আহলেহাদীছ জামে মসজিদে প্রশিক্ষণ ও বাদ আছর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা শফীকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন ও ঢাকা যেলা আন্দোলন-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব তাসলীম সরকার।
৯ই রামাযান ২৭শে ফেব্রুয়ারী শুক্রবার ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ : অদ্য বাদ আছর যেলার ধোবাউড়া থানাধীন মেকিয়ারকান্দা বাজারস্থ আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী জামে মসজিদে ময়মনসিংহ- উত্তর সাংগঠনিক যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ ইব্রাহীম খলীলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন।
৯ই রামাযান ২৭শে ফেব্রুয়ারী শুক্রবার রাজবাড়ী : অদ্য বাদ জুম‘আ যেলার সদর থানাধীন সূর্যনগর আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা মাকবূল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক মুহাম্মাদ বাহারুল ইসলাম।
৯ই রামাযান ২৭শে ফেব্রুয়ারী শুক্রবার শেরপুর : অদ্য বাদ জুম‘আ যেলার সদর থানাধীন বাজিতখিলা আহলেহাদীছ জামে মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ডা. এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম ও ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক আব্দুন নূর।
১০ই রামাযান ২৮শে ফেব্রুয়ারী শনিবার কুষ্টিয়া-পূর্ব : অদ্য বাদ যোহর যেলার সদর থানাধীন ১০০ ঝিনাইদহ রোডস্থ রিযিয়া সা‘দ ইসলামিক সেন্টারে এক প্রশিক্ষণ ও বা‘দ আছর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ডা. আলী মুর্তাযার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা দুররুল হুদা ও ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আল-গালিব।
১০ই রামাযান ২৮শে ফেব্রুয়ারী শনিবার ইসলামপুর, জামালপুর-উত্তর : অদ্য বাদ যোহর যেলার ইসলামপুর থানাধীন খাবুলিয়া ঢেংগারগড় সুরেরপাড় আহলেহাদীছ জামে মসজিদে জামালপুর-উত্তর সাংগঠনিক যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা মাসঊদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম ও ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক আব্দুন নূর।
১০ই রামাযান ২৮শে ফেব্রুয়ারী শনিবার সিরাজগঞ্জ : অদ্য বাদ যোহর যেলার সদর থানাধীন জগতগাঁতী আহলেহাদীছ জামে মসজিদে সিরাজগঞ্জ যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ শফীউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মুহাম্মাদ তরীকুযযামান, ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাকীবুল ইসলাম ও আল-‘আওনে’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাফেয আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির।
১০ই রামাযান ২৮শে ফেব্রুয়ারী শনিবার, বরিশাল-পশ্চিম : অদ্য বাদ আছর যেলার সদর থানাধীন কাশিপুর দারুলহাদীছ সালাফিইয়াহ মাদ্রাসায় এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা ইব্রাহীম কাওছার সালাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় দাঈ রাক্বীবুল ইসলাম ও ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আরাফাত যামান।
১১ই রামাযান ১লা মার্চ রবিবার ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম-উত্তর : অদ্য বাদ আছর যেলার ভুরুঙ্গামারী থানাধীন আন্ধারীঝাড় আহলেহাদীছ জামে মসজিদে কুড়িগ্রাম-উত্তর সাংগঠনিক যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম ও ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক আবু তাহের মেছবাহ।
১১ই রামাযান ১লা মার্চ রবিবার, পুঠিয়া, রাজশাহী-পূর্ব : অদ্য সকাল ১০-টায় যেলার পুঠিয়া উপযেলাধীন বানেশ্বর দারুলহাদীছ সালাফিইয়াহ মাদ্রাসায় এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা দুররুল হুদা ও ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আল-গালিব।
১১ই রামাযান ১লা মার্চ রবিবার সরিষাবাড়ী, জামালপুর-দক্ষিণ : অদ্য বাদ যোহর যেলার সরিষাবাড়ী থানাধীন সাতপোয়া আরামনগর কামিল মাদ্রাসা জামে মসজিদে জামালপুর-দক্ষিণ সাংগঠনিক যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি অধ্যাপক বযলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম ও ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক আব্দুন নূর।
১১ই রামাযান ১লা মার্চ রবিবার মাদারীপুর : অদ্য বাদ আছর যেলা সদরের দরগা শরীফ রোডস্থ তাক্বওয়া কালার ভবনের নীচতলায় এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ কামাল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় দাঈ রাক্বীবুল ইসলাম।
১২ই রামাযান ২রা মার্চ সোমবার শরীয়তপুর : অদ্য বাদ আছর যেলা শহরের শরীয়তপুর কনভেনশন সেন্টারে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব এবং কেন্দ্রীয় দাঈ রাকীবুল ইসলাম। উল্লেখ্য, শরীয়তপুর শহরে অনুষ্ঠিত ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এটাই প্রথম অনুষ্ঠান।
১২ই রামাযান ২রা মার্চ সোমবার পাবনা : অদ্য বাদ যোহর যেলার সদর থানাধীন চর প্রতাপপুর আহলেহাদীছ জামে মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আলী শাহান মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিলে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম ও ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবুল কালাম।
১২ই রামাযান ২রা মার্চ সোমবার কুড়িগ্রাম-দক্ষিণ : অদ্য বা‘দ আছর লালমণিরহাট যেলা শহরের সেলীমনগর আহলেহাদীছ জামে মসজিদে কুড়িগ্রাম-দক্ষিণ সাংগঠনিক যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম ও ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক আবু তাহের মেছবাহ।
১৩ই রামাযান ৩রা মার্চ মঙ্গলবার, দিনাজপুর-পশ্চিম : অদ্য বা‘দ যোহর যেলা শহরের স্টেশন রোড আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ ও বাদ আছর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মফীযুদ্দীন আহমাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবুল কালাম, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ‘যুবসংঘে’র সাবেক সভাপতি ড. মীযানুর রহমান ও ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক নাজমুন নাঈম।
১৪ই রামাযান ৪ঠা মার্চ বুধবার দৌলতপুর, কুষ্টিয়া-পশ্চিম : অদ্য বেলা ১১-টায় যেলার দৌলতপুর থানাধীন ধর্মদহ মধ্যপাড়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক প্রশিক্ষণ ও বাদ আছর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ মুহসিন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা দুররুল হুদা ও যুববিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশীদ আখতার।
১৪ই রামাযান ৪ঠা মার্চ বুধবার রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও : অদ্য বাদ আছর যেলার রাণীশংকৈল থানাধীন ভরমিয়াহাট উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি যিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দাঈ অধ্যাপক আব্দুল হামীদ, ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য আব্দুল্লাহ আল-মামূন ও ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক মুহাম্মাদ ইহসান।
১৪ই রামাযান ৪ঠা মার্চ বুধবার লক্ষ্মীপুর : অদ্য বাদ আছর যেলা শহরের তরীকায়ে মুহাম্মাদ (ছাঃ) মসজিদে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুছতফা মাহতাবুদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম ও আল-‘আওনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক হাফীযুর রহমান।
১৫ই রামাযান ৫ই মার্চ বৃহস্পতিবার ফেনী : অদ্য বাদ আছর যেলা শহরের জমিদার ভবনস্থ দারুলহাদীছ সালাফিইয়াহ মাদ্রাসা ও মসজিদ কমপ্লেক্সে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি সৈয়দ মহিউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম ও আল-‘আওনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক হাফীযুর রহমান।
১৫ই রামাযান ৫ই মার্চ বৃহস্পতিবার ফরিদপুর : অদ্য বাদ আছর যেলার সালথা থানাধীন সালথা আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত ইফতার মাহফিলে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মুহাম্মাদ তরীকুয্যামান এবং ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাকীবুল ইসলাম।
১৫ই রামাযান ৫ই মার্চ বৃহস্পিতবার বাঁকাল, সাতক্ষীরা : অদ্য সকাল ১০-টায় যেলা শহরের উপকণ্ঠে বাঁকাল ব্রীজ সংলগ্ন দারুলহাদীছ আহমাদিয়া সালাফিইয়াহ মসজিদে সাতক্ষীরা যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আলতাফ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণ ও ইফতার মাহফিলে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম ও ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক আব্দুর রঊফ।
মাহে রামাযানের আগমন উপলক্ষে র্যালি
১৫ই ফেব্রুয়ারী রবিবার সাহেব বাজার, রাজশাহী : অদ্য বিকাল সাড়ে ৪-টায় যেলা শহরের সাহেব বাজারে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ রাজাশাহী-সদর সাংগঠনিক যেলার উদ্যোগে মাহে রামাযানের আগমন উপলক্ষে এক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি রাণীবাজার মাদ্রাসা ইশাআতুল ইসলাম আস-সালাফিইয়্যাহ থেকে শুরু হয়ে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট হয়ে আলুপট্টি যায়। সেখান থেকে আবার জিরো পয়েন্ট হয়ে সোনাদিঘীর মোড় ঘুরে বাটার মোড় গিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়। রাজাশাহী-সদর সাংগঠনিক যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা দুররুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম, রাজশাহী-সদরের সাধারণ সম্পাদক মুস্তাকীম আহমাদ ও দফতর সম্পাদক ডা. মুহাম্মাদ মুহসিন প্রমুখ।
১৭ই ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার হাটগাঙ্গোপাড়া, বাগমারা, রাজশাহী : অদ্য বাদ যোহর যেলার বাগমারা থানাধীন হাটগাঙ্গোপাড়া বাজারে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ বাগমারা-পশ্চিম উপযেলার উদ্যোগে মাহে রামাযানের আগমন উপলক্ষে এক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি হাটগাঙ্গোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় হাট গাঙ্গোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়। বাগমারা-পশ্চিম উপযেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি এস. এম সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম, রাজশাহী-পূর্ব সাংগঠনিক যেলার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ যিল্লুর রহমান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সুলতান মাহমূদ প্রমুখ।
১৭ই ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সাতক্ষীরা : অদ্য বাদ আছর যেলা শহরে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ সাতক্ষীরা যেলার উদ্যোগে মাহে রামাযানের আগমন উপলক্ষে এক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি শহরের আব্দুর রাযযাক পার্ক থেকে শুরু হয়ে নাজমুল হক স্মরণী হয়ে নারিকেল মোড় যায়। সেখান থেকে খুলনা রোড মোড় হয়ে নিউ মার্কেট চত্বর দিয়ে পুনরায় আব্দুর রাযযাক পার্কে ফিরে এসে শেষ হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আলতাফ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি মাওলানা ফযলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুফলেহুর রহমান, যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক সভাপতি মুজাহিদুর রহমান, যেলা ‘সোনামণি’র পরিচালক আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ও বাঁকাল দারুলহাদীছ আহমাদিয়া সালাফিইয়াহর পরিচালক অধ্যক্ষ আযীযুর রহমান প্রমুখ।
১৮ই ফেব্রুয়ারী বুধবার বুড়িচং, কুমিল্লা : অদ্য বাদ আছর যেলার বুড়িচং থানা সদরে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ কুমিল্লা যেলার উদ্যোগে মাহে রামাযানের আগমন উপলক্ষে এক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি বুড়িচং বাজার আহলেহাদীছ জামে মসজিদ থেকে শুরু হয়ে সরকারী হাসপাতাল রোড হয়ে উপযেলা চত্বর দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক মার্কেটের সামনে গিয়ে পথসভা করে। সেখান থেকে পুনরায় বুড়িচং বাজার আহলেহাদীছ জামে মসজিদে এসে শেষ হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা ছফিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আমজাদ হোসাইন, অর্থ সম্পাদক ইউসুফ আহাম, যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক সভাপতি জা‘ফর ইকরাম প্রমুখ।
১৮ই ফেব্রুয়ারী বুধবার ঈশ্বরদী, পাবনা : অদ্য বা‘দ আছর যেলার ঈশ্বরদী বাজারে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ পাবনা যেলার উদ্যোগে মাহে রামাযানের আগমন উপলক্ষে এক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি ঈশ্বরদী সরকারী কলেজ চত্বর থেকে শুরু হয়ে ঈশ্বরদী বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ আলী শাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর অর্থ সম্পাদক আকরাম হোসাইন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হাফীযুর রহমান মাস্টার, যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি শরীফুল ইসলাম ও অর্থ সম্পাদক আরমান হোসাইন প্রমুখ।
হাদীছ ফাউন্ডেশন শিক্ষা বোর্ড
সীরাত সেমিনার ও সীরাত কোর্স ২য় ব্যাচের পুরস্কার বিতরণী
৩রা মার্চ মঙ্গলবার, ঢাকা : অদ্য বাদ আছর ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবের যহূর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন শিক্ষা বোর্ড’ ও ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন অনলাইন একাডেমী’র যৌথ উদ্যোগে সীরাত সেমিনার ও সীরাত বিষয়ক অনলাইন কোর্সের দ্বিতীয় ব্যাচের বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক এবং ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন শিক্ষা বোড’র্-এর চেয়ারম্যান ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর সহযোগী অধ্যাপক ড. ইমাম হোসাইন, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড-এর কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ, শিক্ষা বোর্ডের সচিব শামসুল আলম ও প্রধান পরিদর্শক ড. মুহাম্মদ কাবীরুল ইসলাম, ঢাকা-দক্ষিণ সাংগঠনিক যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ আহসান, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. রফীকুল ইসলাম মেহেদী। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা মুঈনুদ্দীন ও সীরাত কোর্সের শিক্ষক আব্দুন নূর প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে হাদীছ ফাউন্ডেশন অনলাইন একাডেমীর সীরাত বিষয়ক অনলাইন কোর্সের দ্বিতীয় ব্যাচের বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিজয়ীদের মধ্যে ১ম স্থান অধিকার করেন মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম (নাটোর), ২য় স্থান শাকিলা জান্নাতী (সিরাজগঞ্জ) এবং ৩য় স্থান অধিকার করেন ডা. মুহাম্মাদ আকরামুযযামান সোহাগ (বগুড়া)। তারা পুরস্কার হিসাবে ওমরাহ পালনের সুযোগ লাভ করেন। এছাড়াও ১০ জনকে বিশেষ পুরস্কার হিসাবে নগদ ৫০০০ টাকা প্রদান করা হয়। তারা হ’লেন- আসাদুযযামান (সাতক্ষীরা), রিয়াযুল ইসলাম (বরিশাল) হালীমাতুস সা‘দিয়া (ঢাকা), ফারজানা ছিদ্দীকা (ঢাকা), মারূফা খাতুন (রাজশাহী), মাহমূদুল হাসান রববানী (চাঁপাই নবাবগঞ্জ), শামীম আহমাদ সবুজ (ঢাকা) সেলিনা আখতার (গাযীপুর), রাশিদুল হাসান রনি (গাইবান্ধা) ও আব্দুল মুত্তালিব (গাযীপুর)।
অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বর্তমান প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় মোকাবেলায় মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব প্রণীত মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (ছা.)-এর জীবনী গ্রন্থ ‘সীরাতুর রাসূল (ছা.)’ জাতীয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। বক্তাগণ বলেন, এ সমৃদ্ধ পুস্তকটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হ’লে রাসূল (ছা.)-এর আদর্শে তরুণ সমাজ মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসাবে গড়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালক ছিলেন হাদীছ ফাউন্ডেশন অনলাইন একাডেমীর কো-অর্ডিনেটর আবু রায়হান।
মারকায সংবাদ
বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফল
আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহী
৫ম ও ৮ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় ৯৯ জন ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি লাভ : বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালে ৫ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহী-এর ১৭ জন ‘ট্যালেন্টপুলে’ এবং ৫১ জন ‘সাধারণ গ্রেড’ সহ মোট ৬৮ জন এবং ৮ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় ২০ জন ‘ট্যালেন্টপুলে’ এবং ১১ জন ‘সাধারণ গ্রেড’ সহ মোট ৩১ জন ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বমোট ৯৯ বৃত্তি পেয়েছে। ফালিল্লাহিল হাম্দ।
প্রশ্ন (১/২৪১) : শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া বা সেখানে গিয়ে হাত তুলে দো‘আ করার বিধান কি?
-শরীফ আহমাদ, এনায়েতপুর, সিরাজগঞ্জ।
উত্তর : কবরে-মাযারে বা কথিত শহীদ মিনারে বা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করা, পুষ্পমাল্য অর্পণ করা, তার সম্মানে বা কোন মৃত ব্যক্তির সম্মানে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে শরী‘আত বিরোধী এবং অমুসলিমদের অনুকরণে সৃষ্ট প্রথা। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে ব্যক্তি সেই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে’ (আবুদাউদ হা/৪০৩১; মিশকাত হা/৪৩৪৭)। এতদ্ব্যতীত এগুলির মধ্যে শিরক মিশ্রিত আছে। কেননা কোন ব্যক্তির কবর যিয়ারতের সময় কেবল দো‘আ করার কথা এসেছে। কিন্তু কবরে দাঁড়িয়ে বিশেষ সম্মান প্রদর্শন, পুষ্পমাল্য অর্পণ বা আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনের কোন বিধান নেই। আর শহীদ মিনার বা স্মৃতিসৌধের বিষয়টি আরও ভিন্ন। কেননা এগুলো কবর নয়। বরং এগুলি মানুষ নিজেরা প্রতীক হিসাবে তৈরী করে, নিজেরাই পবিত্র ঘোষণা করে এবং নিজেরাই সেখানে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করে বা পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। এ ধরণের রীতি লাশ বিহীন কবর যিয়ারতের শামিল, যা মূর্তিপূজার সমার্থক। আল্লাহ বলেন, তোমরা কি ঐ বস্ত্তর উপাসনা কর, যা তোমরা নিজ হাতে গড়েছ?’ (ছাফফাত ৩৭/৯৫)।
প্রশ্ন (২/২৪২) : আমি তুরস্কের ইমাম হাতিব উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। আমি ও আমার সহপাঠীরা সুন্নাহর অনুসরণে দাড়ি রাখলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাদের দাড়ি নিয়ে প্রতিনিয়ত হেনস্থা করেন। এমনকি দাড়ি না কাটলে ক্লাসে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়। এমতাবস্থায়, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে এবং শিক্ষকের প্রবল চাপে বাধ্য হয়ে আমাদের দাড়ি কাটতে হচ্ছে। দাড়ি কাটার আদেশদাতা হিসাবে প্রধান শিক্ষক গুনাহগার হবেন, না-কি ছাত্র এবং শিক্ষক উভয়ই এই পাপে অংশীদার হিসাবে গণ্য হবে? এক্ষেত্রে ছাত্র হিসাবে আমাদের করণীয় কি?
-তানযীম আহমাদ, সিভাস, তুরস্ক।
উত্তর : উভয়ে গোনাহগার হবে। কেননা দাড়ি রাখা ওয়াজিব এবং এটি ইসলামের নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভুক্ত। এতে বাধা দিলে কর্তৃপক্ষের নিকট বিচার দিতে হবে। তাতে কাজ না হলে বাধ্যগত অবস্থায় অন্যপথ তালাশ করা যেতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘যার উপরে (কুফরীর জন্য) যবরদস্তি করা হয়, অথচ তার হৃদয় ঈমানের উপর প্রশান্ত থাকে, সে ব্যতীত যে ব্যক্তি ঈমান আনার পরে কুফরী করে এবং কুফরীর জন্য হৃদয়কে উন্মুক্ত করে দেয়, তাদের উপর আপতিত হবে আল্লাহর গযব ও তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি’ (নাহল ১৬/১০৬)।
রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, তোমরা গোঁফ অধিক ছোট করবে এবং দাড়ি ছেড়ে দিবে (আহমাদ হা/৭১৩২; ছহীহুল জামে‘ হা/৪৩৯২)। ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে গোঁফ খাটো করতে এবং দাড়ি লম্বা করতে আদেশ করেছেন’ (মুসলিম হা/২৫৯; আবুদাউদ হা/৪১৯৯)।
প্রশ্ন (৩/২৪৩) : আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ক্যাশব্যাক অফার বা পয়েন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে কেনাকাটা করা কি সূদের আওতায় পড়বে?
-মীযান, দিনাজপুর।
উত্তর : ব্যাংক বা কোন প্রতিষ্ঠান যদি গ্রাহককে বোনাস বা বিপণন কৌশল হিসেবে ক্যাশব্যাক বা পয়েন্ট প্রদান করে এবং তা কোন ঋণের ভিত্তিতে না হয়, তবে তা গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু যদি এই অফার ঋণের বিনিময়ে বা ঋণের শর্ত হিসেবে প্রদান করা হয়-যেমন ঋণ নেওয়া বা ঋণ ব্যবহারের কারণে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়, তাহ’লে তা সূদ হিসাবে গণ্য হবে। সর্বোপরি কোন সূদী প্রতিষ্ঠান থেকে এ ধরণের অফার গ্রহণ না করাই বাঞ্ছনীয়। আব্দুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ) বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তির কাছে তোমার কোন পাওনা (ঋণ) থাকে এবং সে তোমাকে এক বোঝা খড় বা এক বোঝা যব বা এক বোঝা পশু-খাদ্য (ঘাস) উপহার দেয়, তবে তুমি তা গ্রহণ করো না। কারণ ওটা সূদ (বুখারী হা/৩৮১৪; মিশকাত হা/২৮৩৩)।
প্রশ্ন (৪/২৪৪) : পরিবারের চাকুরীরত অবিবাহিত মেয়ের মালিকানায় ২.৮ ভরি স্বর্ণ আছে (যা মায়ের যিম্মায় রাখা)। এছাড়া মায়ের নিজের ৩ ভরি স্বর্ণ ও ১ লক্ষ টাকা এবং পিতার ১ লক্ষ টাকা জমানো আছে। পরিবারের সম্পূর্ণ খরচ পিতাই বহন করেন। এক্ষণে এই সম্পদ কি একত্রে মিলিয়ে যাকাত হিসাব করতে হবে, না-কি প্রত্যেকের সম্পদের যাকাত যার যার আলাদাভাবে হিসাব করে আদায় করতে হবে?
-ফাতেমা, কুষ্টিয়া।
উত্তর : যার যার সম্পদ আলাদাভাবে হিসাব করে যাকাত আদায় করতে হবে, একসাথে মিলিয়ে নয়। ইবনু কুদামাহ (রহঃ) বলেন, ‘আর তারা যদি চারণ ভূমির পশু ছাড়া অন্য সম্পদে অংশীদার থাকে, তবে প্রত্যেকের নিজের অংশ অনুযায়ী আলাদা আলাদা হিসাবেই যাকাত নেওয়া হবে, যদি তার অংশে যাকাত ফরয হওয়ার পরিমাণ থাকে। অর্থাৎ তারা স্বর্ণ, রূপা, ব্যবসার পণ্য, শস্য ও ফলমূল এগুলোতে অংশীদার হ’লে তাদের এই অংশীদারিত্ব কোন প্রভাব ফেলবে না। বরং তাদের হুকুম হবে একক মালিকদের হুকুমের মতোই (মুগনী ২/২৫৪; বিস্তারিত দ্র. ‘যাকাত ও ছাদাক্বা’ বই ‘বিবিধ মাসায়েল’-৫)।
প্রশ্ন (৫/২৪৫) : একজন ব্যক্তি কোন কারণে বা ইচ্ছাকৃতভাবে একদিন টানা পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ত্যাগ করার পর যদি আবার ছালাত শুরু করে, তখন তাকে পূর্বের পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের ক্বাযা আদায় করতে হবে কি?
-আব্দুর রহমান, লালবাগ, দিনাজপুর।
উত্তর : এমতাবস্থায় সে ধারাবাহিকভাবে ক্বাযা আদায় করবে। খন্দকের যুদ্ধের দিন বাধ্যগত অবস্থায় পরপর চার ওয়াক্ত ছালাত ক্বাযা হয়ে যায়। তখন রাসূল (ছাঃ) ধারাবাহিকভাবে ক্বাযা আদায় করেন (‘সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) ‘খন্দক যুদ্ধের উল্লেখযোগ্য বিষয় সমূহ’-৯)। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই খন্দকের যুদ্ধের দিন মুশরিকরা নবী করীম (ছাঃ)-কে চার ওয়াক্ত ছালাত (আদায়ে) বাধাগ্রস্ত করেছিল। অতঃপর তিনি বেলালকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি আযান দিলেন। এরপর তিনি এক্বামত দিলেন এবং যোহর পড়লেন। এরপর এক্বামত দিলেন এবং আছর পড়লেন। এরপর এক্বামত দিলেন এবং মাগরিব পড়লেন। এরপর ইকামত দিলেন এবং এশা পড়লেন’ (নাসাঈ হা/৬৬২)। এতে বুঝা যায় যে, পাঁচ ওয়াক্ত ক্বাযা ছালাত এক সাথে পরপর পৃথক এক্বামত দিয়ে পড়া যায় অথবা প্রতি ওয়াক্ত ছালাতের আগে বা পরে পড়া যায়।
ছালাত তরক করাকে হাদীছে ‘কুফরী’ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৬৯)। অতএব যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত ছেড়ে দিবে, তাদের অনুতপ্ত হয়ে খালেছ অন্তরে তওবা করতে হবে এবং কখনই একাজ করব না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হ’তে হবে (ইবনু তায়মিয়াহ, মিনহাজুস সুন্নাহ, ৫/২৩৩; ইবনুল ক্বাইয়িম, আছ-ছালাত ৬৭-১০৯; শাওকানী, নায়লুল আওত্বার ২/২৬)।
প্রশ্ন (৬/২৪৬) : তাসবীহ গণনা করার সময় আংগুলের ডান না বাম দিক থেকে শুরু করতে হবে? আংগুলের রেখা হিসাব করে গণনা করা যরূরী কি?
-সাইফুল ইসলাম, ঢাকা।
উত্তর : ডান হাতের আংগুল দ্বারা তাসবীহ গণনা করা সুন্নাত (তিরমিযী হা/৩৫৮৩, সনদ হাসান)। তা আংগুলের ডগা, গিরা কিংবা রেখা যেভাবে ব্যবহার করলে সহজ হবে সেভাবে গণনা করবে। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে দেখেছি তিনি তাঁর ডান হাতে তাসবীহ গণনা করেছেন (আবুদাউদ হা/১৫০২)। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ডান হাত ছিল তাঁর পবিত্রতা ও খাদ্য গ্রহণের জন্য, আর তাঁর বাম হাত ছিল পায়খানা-প্রস্রাব এবং অন্যান্য অপবিত্রতার কাজের জন্য’ (আবুদাউদ হা/৩৩; মিশকাত হা/৩৪৮)। অতএব তাসবীহ গণনার ক্ষেত্রে ডান হাতের কথা বলা হয়েছে, বুড়ো আংগুল বা কড়ে আংগুল কোন দিকের কথা বলা হয়নি। তবে প্রয়োজনে বাম হাতেও করা যাবে।
প্রশ্ন (৭/২৪৭) : আমি আমার বাসায় একজন ইয়াতীম শিশু প্রতিপালন করি। কেউ যদি তাকে কোন কিছু হাদিয়া প্রদান করে, তাহ’লে সেগুলো আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা ভক্ষণ করতে পারব কি?
-নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।
উত্তর : খাওয়া যাবে। তবে সে সাবালক হয়ে গেলে তার অনুমতি সাপেক্ষে খাওয়া যাবে। কারণ তার জন্য এটি ছাদাক্বা হ’লেও তা অন্যের জন্য হাদিয়া হবে। আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ)-এর কাছে গোশত আনা হ’ল। বলা হ’ল এটি বারীরাহকে ছাদাক্বা করা হয়েছিল। তখন তিনি বললেন, এটি তার জন্য ছাদাক্বা, আর আমাদের জন্য হাদিয়া (বুখারী হা/২৫৭৭; মিশকাত হা/১৮২৫)।
প্রশ্ন (৮/২৪৮) : আমি বালেগ হয়েছি ১৩ বছর বয়সে। কিন্তু আমি ছিয়াম রাখা শুরু করেছি ১৪ বছর বয়স থেকে। অজ্ঞতাবশত আমার বিগত এক বছরের ছুটে যাওয়া ছিয়ামগুলোর ক্ষেত্রে শরী‘আতের বিধান কী? আমাকে কি শুধু ক্বাযা আদায় করতে হবে, না-কি কাফফারাও দিতে হবে?
-রাক্বীবুল হাসান, বাড্ডা, ঢাকা।
উত্তর : যদি কেউ স্রেফ অবহেলা ও অলসতা বশে ইচ্ছাকৃতভাবে রামাযানের ছিয়াম পরিত্যাগ করে, তাহ’লে সে হবে ‘কবীরা গোনাহগার’। বিশুদ্ধচিত্তে তওবা না করা পর্যন্ত তার ঐ পাপের কোন ক্ষমা নেই। তাকে অনুতপ্ত হৃদয়ে তওবা করে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে হবে এবং যথা নিয়মে রামাযানের ছিয়াম পালন শুরু করতে হবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১০/১৪৩)। তার পিছনের ছিয়ামের ক্বাযা আদায়ের প্রয়োজন নেই (ওছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৯/৮৯; দ্র. ‘ছিয়াম ও ক্বিয়াম’ বই)। উমরী ক্বাযা বলে কোন কথা শরী‘আতে নেই। আর অজ্ঞতাবশত আদায় না করে থাকলে উক্ত এক বছরের ৩০টি ছিয়াম ক্বাযা আদায় করবে। এজন্য কোন কাফফারার প্রয়োজন নেই (বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৬/২১৮; উছায়মীন, মাজমূউল ফাতাওয়া ১৯/১৩)।
প্রশ্ন (৯/২৪৯) : আমরা রামাযান মাসে প্রতিদিন ছালাত শেষ করে আমাদের মসজিদের ফ্যান চালু করে দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকি। এটা জনগণের সম্পদ নষ্ট ও খেয়ানত করার শামিল হচ্ছে কি?
-কাবীরুল ফরাজী, গোপালগঞ্জ।
উত্তর : মসজিদের ফ্যান ছালাত বা ইবাদতের সময় চালানো বৈধ এবং ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু যদি কেউ শুধু ব্যক্তিগত আরামের জন্য বা অনর্থক গল্প-গুজব করে দীর্ঘক্ষণ ফ্যান চালু রাখে, তবে এটি মসজিদের সম্পদের অপচয় এবং জনগণের হক নষ্ট করার শামিল হবে। তাই শুধুমাত্র প্রয়োজন অনুযায়ী এবং ইবাদতের সুবিধার জন্য ফ্যান চালানো উচিত। আল্লাহ বলেন, তোমরা খাও ও পান কর। কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালবাসেন না’ (আ‘রাফ ৭/৩১)।
প্রশ্ন (১০/২৫০) : ঈদের ছালাত আদায়ের পর একাধিক ব্যক্তি খুৎবা দিতে পারবেন কি?
-হাসান রাজা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
উত্তর : না। বরং একজন ব্যক্তিই খুৎবা দিবেন। এটাই রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত (মুসলিম হা/৮৮৫, মিশকাত হা/১৪৪৬)। ওযরবশতঃ কাউকে মাঝপথে খুৎবা পরিত্যাগ করতে হ’লে অপরজন প্রথম থেকে খুৎবা শুরু করবেন (ওছায়মীন, শারহুল মুমতে‘ ৫/৫৮)।
প্রশ্ন (১১/২৫১) : আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক ছিয়ামের প্রতিদান প্রদান করার বিষয়টি কি ফরয ছিয়ামের সাথে খাছ না-কি নফল ছিয়ামের জন্যও প্রযোজ্য?
-আব্দুল্লাহ রাইসান, নওদাপাড়া, রাজশাহী।
উত্তর : নফল ছিয়ামের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ কোন হাদীছে উক্ত ফযীলতকে ফরয ছিয়ামের সাথে খাছ করা হয়নি। বরং ব্যাপক অর্থে উক্ত হাদীছ বর্ণিত হয়েছে (বাজী, আল-মুনতাক্বা শরহ মুওয়াত্ত্বা ২/৬০)।
প্রশ্ন (১২/২৫২) : কোন অমুসলিমের জান, মাল বা সম্মানের ক্ষতি করলে এবং তার হক নষ্ট করলে কি কেবল আল্লাহর কাছে তওবা করাই যথেষ্ট হবে, না-কি তার কাছে গিয়ে সরাসরি ক্ষমা চাওয়া বা পাওনা পরিশোধ করা আবশ্যক?
-আহমাদ, নেত্রকোনা।
উত্তর : যারা মুসলমানদের কোন ক্ষতি করে না, এমন অমুসলিমের জান মালের ক্ষতি করা যাবে না। অতএব তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, তার নিকটে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তার পাওনা পরিশোধ করে দিতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি যিম্মীদের (ইসলামী রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিকের) কাউকে হত্যা করবে সে জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি চল্লিশ বছরের পথ দূর থেকেও পাওয়া যায়’ (নাসাঈ হা/৪৭৫৫; ছহীহুত তারগীব হা/২৪৫৩)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, সাবধান! তোমাদের কেউ যদি কোন যিম্মীর উপর অত্যাচার করে বা তার হক নষ্ট করে কিংবা তার সামর্থ্যের বাইরে তার উপর কিছু চাপিয়ে দেয় অথবা জোরপূর্বক তার কোন জিনিস নিয়ে নেয়, তবে আমি ক্বিয়ামতের দিন তার বিপক্ষে বাদী হব’ (আবুদাঊদ হা/৩০৫২; মিশকাত হা/৪০৪৭)।
প্রশ্ন (১৩/২৫৩) : অমুসলিমদের নিকট বিড়ি-সিগারেট বা তামাকজাত পণ্য বিক্রয় করা যাবে কি?
-আহসান, মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : যা খাওয়া হারাম তা থেকে যেকোনভাবে উপকৃত হওয়াও হারাম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন কিছু হারাম করেন, তখন তার মূল্যও (কেনা- বেচা) হারাম করে দেন’ (আহমাদ হা/২৬৭৮, সনদ ছহীহ)।
প্রশ্ন (১৪/২৫৪) : আমি সঊদী আরবে একটি কেএফসি রেস্টুরেন্টে কাজ করি। আমাদের পোষাকে কেএফসি-এর প্রতিষ্ঠাতা ক্লোনেল সান্ডার্স-এর মাথার লোগো আছে। ছালাতের সময় হ’লে এই ডিউটি পোষাক পরেই ছালাত আদায় করা লাগে। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কি?
-আরাফাত, সঊদী আরব।
উত্তর : ছবি-যুক্ত পোষাক পরিহার করা ও ছবি-বিহীন কাপড় পরে ছালাত আদায় করা আবশ্যক। বরং সর্বাবস্থাতেই ছবিমুক্ত পোষাক পরিধানের জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই ফেরেশতাগণ সেই ঘরে প্রবেশ করেন না, যে ঘরে (প্রাণীর) ছবি বা কুকুর থাকে’ (বুখারী হা/৩২২৪; মুসলিম হা/২১০৬)। আর যদি কেউ উক্ত পোষাক পরে ছালাত আদায় করে, তবে তার ছালাত ত্রুটিপূর্ণ হলেও ছালাতের ফরযিয়াত আদায় হয়ে যাবে।
প্রশ্ন (১৫/২৫৫) : আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে ইংল্যান্ডে বসবাস করছি। আমার জন্য ফিৎরা কোথায় প্রদান করা বেশী উত্তম হবে? ইংল্যান্ডে না-কি বাংলাদেশে? যদি বাংলাদেশে দিতে হয় তাহ’লে কিভাবে তা আদায় করব?
-নাজীব, দিনাজপুর।
উত্তর : সঠিক, উত্তম এবং অধিকতর সতর্কতামূলক পন্থা হ’ল ব্যক্তি যেখানে অবস্থান করছেন, সেখানে নিজ এবং নিজ পরিবারের (স্ত্রী, সন্তান ও অধীনস্তদের) পক্ষ থেকে ফিৎরা আদায় করা। কারণ অনেক আলেমই ফিৎরা সেই স্থানে আদায় করা ওয়াজিব মনে করেন, যেখানে ব্যক্তি নিজে অবস্থান করছেন (বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৫/২৮০)। তবে ঐ ব্যক্তি যদি তার পরিবারের ফিৎরাও তার নিজের অবস্থানের দেশে আদায় করে দেয়, তবে তাতে কোন দোষ নেই। কারণ তারা (পরিবার) তার অনুগামী বা তার ওপর নির্ভরশীল’ (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৮/২৭১)।
প্রশ্ন (১৬/২৫৬) : আমি বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রহরী হিসাবে কর্মরত আছি। প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থে আমাকে ছালাতের সময়েও দায়িত্ব পালন করতে হয়। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী?
-নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।
উত্তর : এটি ওযর হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে। শায়েখ বিন বায (রহঃ) বলেন, আপনি যদি একজন নিরাপত্তা প্রহরী হন এবং ছালাতের সময়ে আপনাকে পাহারার স্থান ত্যাগ করার অনুমতি না দেওয়া হয়, তবে আপনার কোন গুনাহ হবে না। কারণ আপনি জীবিকা নির্বাহ এবং আপনার নিয়োগকর্তার সম্পদ রক্ষায় নিয়োজিত থাকার কারণে (জামা‘আতে না যাওয়ার বিষয়ে) অপারগ বা ওযরগ্রস্ত বলে গণ্য হবেন। সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি ঘর, দোকান বা অন্য কোন জিনিসের পাহারায় নিয়োজিত থাকে, তবে তার জন্য নিজের কর্মস্থলে ছালাত আদায় করা বৈধ। তার ওপর থেকে জামা‘আতে শরীক হওয়ার বাধ্যবাধকতা রহিত হবে (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৫/২৮০)। একইরূপ বলেন শায়েখ ওছায়মীন (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৫/৩৪)।
প্রশ্ন (১৭/২৫৭) : মুসলিম উম্মাহর বড় ধরনের কল্যাণে আসবে এরকম কিছু অর্জনের জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া যায় কি?
-মারূফ হোসাইন, বরিশাল।
উত্তর : মিথ্যা বলা মহাপাপ। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে বহু জায়গায় সত্য বলা এবং মিথ্যা পরিহারের অপরিহার্যতা বর্ণনা করেছেন। তবে তিনটি ক্ষেত্রে মিথ্যা কথা বলা যায়। সে তিনটি ক্ষেত্র হ‘ল- দু’ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসার জন্য, (২) যুদ্ধক্ষেত্রে (৩) স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের নিকট (আবু দাঊদ হা/৪৯২১; তিরমিযী হা/১৯৩৭; মিশকাত হা/৫০৩১, ৫০৩৩; ছহীহাহ হা/৫৪৫)। এছাড়া বৃহত্তর কল্যাণের কাজে সাময়িকভাবে মিথ্যার আশ্রয় নেয়া যায়। যেমন মুশরিকরা তাদের উৎসবে শরীক হওয়ার জন্য ইব্রাহীম (আঃ)-কে দাওয়াত দিলে তিনি না যাওয়ার জন্য বলেন, ‘আমি অসুস্থহ’ (ছাফফাত ৩৭/৮৯)। মূর্তি ভাঙ্গার পরে তিনি বড় মূর্তিকে দোষারোপ করে বলেছিলেন, বড়টাই তো একাজ করেছে। তাকে জিজ্ঞেস কর (আম্বিয়া ২১/৬৩)। ইউসুফ (আঃ) ভাইদের রসদপত্রের মধ্যে ওযনের পাত্র লুকিয়ে রেখে ঘোষককে দিয়ে বলেছিলেন, ‘হে কাফেলার লোকজন! তোমরা অবশ্যই চোর’ (ইউসুফ ৭০)। উল্লেখ্য, এগুলো প্রকৃত অর্থে মিথ্যা নয়, বরং ‘তাওরিয়াহ’। যা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য করা হয়ে থাকে।
প্রশ্ন (১৮/২৫৮) : অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্ত্রী মিলনের ফলে আইয়ামে বীযের ছিয়াম ভেঙ্গে গেলে তার ক্বাযা আদায় করতে হবে কি?
-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ঢাকা।
উত্তর : নফল ছিয়াম কোন কারণে ভেঙ্গে গেলে তার জন্য ক্বাযা আদায় করা ওয়াজিব নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘নফল ছিয়াম পালনকারী তার নিজের উপর হুকুমদাতা। ইচ্ছা করলে সে ছিয়াম রাখতে পারে, ইচছা করলে ছাড়তে পারে’ (তিরমিযী, মিশকাত হা/২০৭৮; ‘ছিয়াম ও ক্বিয়াম’ ১১৩-১১৪ পৃ.)। তবে বিদ্বানগণ বলেন, ‘যে ব্যক্তি নফল ছিয়াম শুরু করেছে, তার জন্য তা পূর্ণ করা মুস্তাহাব। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না’ (মুহাম্মদ ৪৭/৩৩)।
প্রশ্ন (১৯/২৫৯) : শরী‘আত ভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ডে ইনভেস্টের বিষয়ে সালাফী আলেমদের অভিমত জানতে চাচ্ছি। এখানে ইনভেস্ট করা কি বৈধ? যদি ইন্টারন্যাশনাল AAOIFIঅনুসরণ করে থাকে?
-ছিয়াম, ঢাকা।
উত্তর : যদি মিউচুয়াল ফান্ডটি সম্পূর্ণ শরী‘আত সম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়, হারাম সেক্টরে বিনিয়োগ না করে, সূদের লেনদেন বর্জন করে এবং বিনিয়োগকারী প্রকৃত সম্পদের মালিকানা পায়, তবে এতে বিনিয়োগ জায়েয। মূলত যে কোন কোম্পানীতে বিনিয়োগ করা বৈধ যদি সে কোম্পানী সূদসহ কোন হারাম কাজে লিপ্ত না হয়। কিন্তু যদি কোন কোম্পানী সূদ বা অন্যান্য হারাম লেনদেন করে, তবে সেই কোম্পানীতে বিনিয়োগ করা জায়েয নয়। অতএব উল্লিখিত বিনিয়োগগুলোর মধ্যে যদি কোন বিনিয়োগ এমন কোম্পানীতে থাকে যা সূদ বা অন্য কোন হারাম কাজে জড়িত, তবে সেখান থেকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়া যরূরী এবং যে মুনাফা অর্জিত হয়েছে তা দরিদ্র ও অভাবীদের মধ্যে বিতরণ করে দিতে হবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৪/২৯৯)। এতদ্ব্যতীত ‘যে কোম্পানী সূদ ভিত্তিক লেনদেন করে, তাতে বিনিয়োগ করা হারাম। কারণ এতে পাপ ও অন্যায় কাজে সহযোগিতা করা হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘সৎকর্ম ও তাক্বওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা’ (মায়েদাহ ৫/২)। দ্বিতীয়ত যে ব্যক্তি আগে থেকেই এমন কোন কোম্পানীতে বিনিয়োগ করে থাকে যা সূদ ভিত্তিক লেনদেনে জড়িত, তার করণীয় হ’ল সে কোম্পানীর শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া; আর সূদের মাধ্যমে যা লাভ হয়েছে তা নিজের জন্য রাখা যাবে না; বরং ছাদাকবার কাজে ও কল্যাণমূলক প্রকল্পে ব্যয় করতে হবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৪/৩০০)।
AAOIFI হচ্ছে বাহরায়েন ভিত্তিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার মানদন্ড নির্ধারণকারী একটি স্বীকৃত সংস্থা। এটি মূলত বিশ্বজুড়ে ইসলামী ব্যাংকিং এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিপূর্ণ শরী‘আত অনুসরণের জন্য আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড বা নীতিমালা তৈরি করে থাকে। তবে উক্ত সংস্থা কার্যক্রম কতটুকু স্বচ্ছ এবং শরী‘আতসম্মত তা আমাদের জানা নেই।
প্রশ্ন (২০/২৬০) : হুন্ডিতে টাকা লেনদেন করা যাবে কি? বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠালে প্রবাসীদের যে প্রণোদনা দেওয়া হয় তা কি সূদের অন্তর্ভুক্ত হবে?
-নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।
উত্তর : হুন্ডিতে ব্যাংকিং সিস্টেমের বাইরে গোপন উপায়ে টাকা পাঠানো ঠিক নয়। কারণ এতে কয়েকটি বিষয় থাকে- (১) অর্থপাচার, (২) সূদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা (৩) জাল লেনদেন ও প্রতারণার ঝুঁকি। (৪) রাষ্ট্র যেসব নিয়ম-কানূন প্রণয়ন করেছে তা যদি শরী‘আত বিরোধী না হয়, তবে মুসলিমের জন্য সেগুলো মানা বাধ্যতামূলক। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘মুসলমানরা তাদের শর্তসমূহের প্রতি দায়বদ্ধ’ (আবুদাঊদ হা/৩৫৯৪)। যেহেতু প্রবাসীরা সরকারের দেওয়া শর্ত গ্রহণ করেছে, তাই তা পূর্ণ করতে হবে। এতে জনস্বার্থ রয়েছে এবং আর্থিক বিশৃংখলা বন্ধ হয়। অতএব বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠালে সরকার কর্তৃক প্রবাসীদের যে প্রণোদনা দেওয়া হয় তা গ্রহণ করা বৈধ এবং এটা সূদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
প্রশ্ন (২১/২৬১) : এক হাদীছে এসেছে সিজদাতে দো‘আ করলে কবূল হয়। অন্য এক হাদীছে এসেছে দরূদ পাঠ না করলে দো‘আ কবূল হয় না। তাহ‘লে কি সিজদাতে দো‘আ করার আগে দরূদ পাঠ করা যাবে?
-রাসেল মন্ডল, কোমখালি, নড়াইল।
উত্তর : সিজদায় দো‘আ করার সময় দরূদ পাঠের প্রয়োজন নেই। কারণ সেখানে এটি বর্ণিত হয়নি। এটি হ’ল সেই প্রকৃতির দো‘আ যা কোন স্থানে প্রবেশ, প্রস্থান বা বিশেষ কোন ঘটনার সময় পাঠ করতে হয়। যেমন টয়লেটে প্রবেশ ও প্রস্থানকালে দো‘আ, ঝড়-ঝঞ্ঝা বা প্রচন্ড বায়ু প্রবাহের সময়ে দো‘আ ইত্যাদি। পক্ষান্তরে যে হাদীছে দো‘আর পূর্বে দরূদ পড়তে বলা হয়েছে, সেখানে দো‘আ করার সাধারণ শিষ্টাচার বর্ণিত হয়েছে (আবুদাউদ হা/১৪৮১; নাসাঈ হা/১২৮৪)।
প্রশ্ন (২২/২৬২) : আমি পেশাব করার পর টিস্যু নেই। এরপর ওযূ করি। কিন্তু যখন ছালাতে দাঁড়াই তখন আমার হালকা ফোঁটা ফোঁটা পেশাব ঝরে। এক্ষেত্রে করণীয় কি?
-জালালুদ্দীন, লক্ষ্মীপুর।
উত্তর : এটা এক প্রকার রোগ। এর চিকিৎসা করতে হবে। তবে এতে ছালাতের কোন ক্ষতি হবে না। আল্লাহপাক মানুষের উপর সাধ্যের অতিরিক্ত কিছু চাপিয়ে দেননি (বাক্বারাহ ২/২৮৬)।
প্রশ্ন (২৩/২৬৩) : আমি একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসাবে এক্সরে করি। বিশেষ কিছু এক্সরে করার ক্ষেত্রে মহিলাদের হিজাব, নিকাব ও বোরকা খোলার প্রয়োজন হয়। আবার কিছু সময় মহিলাদের গায়ে হাত দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিছু কিছু সময় শয়তানের ধোঁকায় মনে খারাপ চিন্তা চলে আসে। এমতাবস্থায় আমি কি করতে পারি।
-ছিয়াম, বরিশাল।
উত্তর : মহিলাদের এক্সরে মহিলাদের মাধ্যমে করা কর্তব্য। কারণ এরূপ ক্ষেত্রে পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের পর্দা বিঘ্নিত হবে। সেজন্য কর্তৃপক্ষকে বলে একজন মহিলা নিয়োগের ব্যবস্থা করবে। যাতে সে মহিলাদের এক্সরে করার সময় সহযোগিতা করতে পারে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৫/৭১)। ইয ইবনু আব্দুস সালাম বলেন, সতর বা গোপন অঙ্গ আবৃত রাখা ওয়াজিব। এটি মনুষ্যত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ এবং সুন্দরতম অভ্যাস। বিশেষত পরনারীদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত যরূরী। তবে বিশেষ প্রয়োজন হ’লে কিছু ক্ষেত্রে তা শিথিল বা জায়েয হ’তে পারে (কাওয়াইদুল আহকাম ২/১৬৫)।
প্রশ্ন (২৪/২৬৪) : একঘন্টা আল্লাহর সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করা সারারাত তাহাজ্জুদ ছালাতের চেয়েও উত্তম। উক্ত কথা কি সঠিক?
-শাহীনুর রহমান, রাজশাহী।
উত্তর : ‘এক ঘণ্টার চিন্তা-ভাবনা করা ষাট বছরের ইবাদতের চেয়েও উত্তম’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/১৭৩)। তবে এ বিষয়ে একাধিক ছাহাবী ও তাবেঈর বক্তব্য রয়েছে (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/১১৭; ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩৫২২৩, সনদ ছহীহ; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূউল ফাতাওয়া ৫/৩৩৪)। কারণ এতে ঈমান বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও যমীনের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি এগুলিকে অনর্থক সৃষ্টি করনি। মহা পবিত্র তুমি, অতএব তুমি আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও’! (আলে ইমরান ৩/১৯১)।
প্রশ্ন (২৫/২৬৫) : আমি একটি মুরগীর খামারে কাজ করি। খামারে কিছু মুরগী অসুস্থ হ’লে সেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে মেরে ফেলতে হয়। এভাবে মুরগী মেরে ফেলা যাবে কি?
-খলীলুর রহমান, সঊদী আরব।
উত্তর : অসুস্থ প্রাণীকে মেরে না ফেলে বরং যবহ করে নিজে বা অন্যকে খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবে। আর খাওয়ার কারণে স্বাস্থ্যগত ক্ষতির আশঙ্কা করলে মেরে ফেলে মাটিতে পুঁতে ফেলবে। ইবনুল কাসেম (রহঃ) বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তির এমন একটি পালিত পশু থাকে যা এতটাই অসুস্থ যে তা থেকে কোনভাবেই আর উপকার পাওয়ার আশা নেই, তবে সেটিকে যবহ করা আমার কাছে ফেলে রাখার চেয়ে বেশী পসন্দনীয়। ইবনে রুশদ (রহঃ) বলেন, ‘কারণ এতে পশুটির আরাম বা কষ্টমুক্তি রয়েছে (আত-তাজ ওয়াল ইকলীল ৪/৩৩৩)।
প্রশ্ন (২৬/২৬৬) : ক্যাথেটার লাগানো অবস্থায় মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করা যাবে কি?
-আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা।
উত্তর : যদি ক্যাথেটারের ব্যাগটি লিক না করে এবং ওযূ ধরে রেখে নিজেকে ও মসজিদকে পবিত্র রাখা যায়, তবে ক্যাথেটার লাগানো অবস্থায় মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায়ে কোন বাধা নেই। যার পেশাব ঝরার রোগ বা এই জাতীয় সমস্যা আছে, তার নিজের ছালাত সঠিক। কারণ আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করো’ (তাগাবুন ৬৪/১৬) এবং ‘আল্লাহ কারু উপরে তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না’ (বাক্বারাহ ২/২৮৬)।
প্রশ্ন (২৭/২৬৭) : মোবাইলে দাবা, লুডু, ক্যারাম, তাস ও অন্যান্য গেমস খেলাগুলোর বিষয়ে শারঈ বিধিমালা জানতে চাই?
-মিনহাজ পারভেয, রাজশাহী।
উত্তর : সাধারণভাবে টেবিল গেম (লুডু) হ’ল সেই ‘নারদ’ যার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। যেমন নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নারদাশির (ছক্কা দিয়ে নারদ) খেলল, সে যেন তার হাত শূকরের মাংস ও রক্তে রঞ্জিত করল’ (মুসলিম হা/২২৬০; মিশকাত হা/৪৫০০)। আলী (রাঃ) বলেন, ‘দাবা (শতরঞ্জ) হ’ল অনারবদের (অমুসলিমদের) জুয়া’ (বায়হাকবী, হা/২০৯২৮; মিশকাত হা/৪৫১০)। নারদাশির হ’ল নারদ বা টেবিল গেম (লুডু জাতীয়)। এটি নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে আরও অনেক হাদীছ রয়েছে এবং অধিকাংশ বিদ্বান এর হারাম হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করেছেন। অনুরূপভাবে তাসের সাথে ঐতিহাসিকভাবে জুয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তাই তাস খেলাও অধিকাংশ বিদ্বানের মতে নিষিদ্ধ। ক্যারাম খেলাও একটি সময় অপচয়কারী ও জুয়ার সাথে সম্পৃক্ত, যার কোন স্বাস্থ্যগত কল্যাণ নেই। অতএব এসব খেলা মুসলমানের জন্য অবশ্য বর্জনীয়। চাই এসব খেলা বাস্তব জীবনে হোক অথবা কম্পিউটার বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে, সবই একই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন (২৮/২৬৮) : আমি একজন মহিলা গাইনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। কোন কোম্পানী যদি তাদের কোন প্রোডাক্ট লেখার জন্য সম্মানী দেয়। আর তা আমি না নিয়ে যদি মসজিদ/মাদ্রাসায় দান করি তাহ’লে কি আমার ছওয়াব হবে?
-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, দিনাজপুর।
উত্তর : নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে এসব উপহার গ্রহণ করলে ঘুষের অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভালো-মন্দ নির্বিশেষে হাদিয়া প্রদানকারী কোম্পানীর ঔষধ রোগীদেরকে লিখে দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করতেই উক্ত হাদিয়া প্রদান করা হয়ে থাকে। যা ঘুষ হিসাবে গণ্য (ফাতাওয়া লাজনাহ দায়েমাহ ২৩/৫৭০)। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঘুষখোর ও ঘুষ প্রদানকারীকে লা‘নত করেছেন (তিরমিযী হা/১৩৩৬; মিশকাত হা/৩৭৫৩)। এক্ষণে চিকিৎসক দান করলেও ছওয়াব হবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হারাম মাল সঞ্চয় করে, অতঃপর তা থেকে ছাদাক্বা করে, তাতে সে ছওয়াব পাবে না এবং এর পাপ তার উপরই বর্তাবে’ (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৩৪৭৭; হাকেম হা/১৪৪০; ছহীহ ইবনু হিববান হা/৩৩৫৬,)।
প্রশ্ন (২৯/২৬৯) : আবুবকর (রাঃ)-এর ছেলে মুহাম্মাদ কি ওছমান (রাঃ)-কে হত্যায় জড়িত ছিলেন?
-মুস্তাক্বীম বিল্লাহ, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।
উত্তর : মুহাম্মদ বিন আবুবকর মূলত ছাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত নন। তাছাড়া ওছমান (রাঃ)-কে হত্যায় বা তাতে উস্কানি দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অংশগ্রহণ বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়। কিছু এমন বর্ণনাও রয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে, তিনি ওছমান (রাঃ)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র থেকে পিছু হটেছিলেন। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেছেন, ‘হাদীছ ও ফিক্বহের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে মুহাম্মাদ বিন আবুবকরের তেমন কোন উল্লেখ নেই’ (মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ ৪/৩৭৫-৩৭৭)। হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেছেন, ‘বর্ণিত আছে যে, মুহাম্মাদ বিন আবুবকর ওছমান (রাঃ)-এর কানের লতি দিয়ে ছুরি চালিয়ে দিয়েছিলেন যা তার কণ্ঠনালী পর্যন্ত পৌঁছেছিল। কিন্তু সঠিক কথা হ’ল, এই কাজটি অন্য কেউ করেছিল। মুহাম্মাদ বিন আবুবকর বরং লজ্জা পেয়ে ফিরে এসেছিলেন যখন ওছমান (রাঃ) তাকে বলেছিলেন, তুমি এমন এক দাড়ি ধরেছ যা তোমার পিতা (আবুবকর) সম্মান করতেন। একথা শুনে তিনি লজ্জিত হন এবং মুখ ঢেকে ফিরে আসেন। এমনকি তিনি ওছমান (রাঃ)- কে রক্ষা করার চেষ্টাও করেছিলেন, কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। আল্লাহর ফায়ছালা অবধারিত ছিল এবং তা কিতাবে পূর্বনির্ধারিত ছিল’ (আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৭/২০৭)। মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ গাববান আল-ছুবহী বলেছেন, ‘মুহাম্মদ বিন আবুবকর ওছমান (রাঃ)-কে হত্যার উস্কানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অথবা তাকে সরাসরি হত্যা করার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করেননি। এ বিষয়ে তাকে অভিযুক্ত করে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তার সবই বাতিল এবং এর কোন সত্যতা নেই’ (ফিতনাতু মাকতালি উছমান ইবনে আফফান ১/২৯০)।
প্রশ্ন (৩০/২৭০) : জনৈক মহিলার স্বামী নয় বছর যাবৎ নিখোঁজ। এক্ষণে তাদের বিবাহ থাকবে কি? এমতাবস্থায় উক্ত মহিলার করণীয় কি?
-শরীফুল ইসলাম, রাজশাহী।
উত্তর : নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রীর ইদ্দত বা অপেক্ষার সময়সীমা কতদিন হবে এ বিষয়ে ফকবীহগণ মতভেদ করেছেন। ইমাম মালেক, মদীনার অধিবাসীগণ, ইমাম আহমাদ, ইসহাক এবং আবু ওবায়েদ বলেছেন, নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী চার বছর অপেক্ষা করবে, অতঃপর সে বিবাহ করতে পারবে। তাঁরা এই মতটি ওমর, ওছমান, আলী, ইবনে ওমর ও ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে সুফিয়ান ছওরী এবং হানাফী ফক্বীহগণ বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি নিখোঁজ হয়, তখন তার স্ত্রী ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে যতক্ষণ না তার মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়। এটি ইমাম শাফেঈরও একটি অভিমত। তাঁরা এই মতটি আলী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন (মারূযী, ইখতিলাফুল ফুক্বাহা ১/২৬৯)। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রীর বিষয়ে বিশুদ্ধতম মত হ’ল ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) ও অন্যান্য ছাহাবীগণের অভিমত। আর তা হ’ল স্ত্রী চার বছর অপেক্ষা করবে, অতঃপর মৃত্যুর ইদ্দত পালন করবে। এরপর তার জন্য বিবাহ করা বৈধ হবে। এমতাবস্থায় সে দ্বিতীয় স্বামীর স্ত্রী হিসাবে গণ্য হবে (আল-ফাতাওয়াল কুবরা ৫/৫১১)।
প্রশ্ন (৩১/২৭১) :জামা‘আতে ছালাত আদায়কালে মাঝখানের কাতারে থাকা অবস্থায় হঠাৎ ওযূ নষ্ট হয়ে গেলে মুছল্লীদের ভিড় ঠেলে সেখান থেকে বের হওয়া বেশ কষ্টকর ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কি?
-আবু সাঈদ ছাকিব, রংপুর।
উত্তর : রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ছালাতরত অবস্থায় তোমাদের কেউ যখন নিঃশব্দে বাতাস বের করে, সে যেন ফিরে গিয়ে ওযূ করে এসে পুনরায় ছালাত আদায় করে নেয়’ (আবুদাউদ হা/২০৫; মিশকাত হা/১০০৬, সনদ হাসান, তারাজু‘আতে আলবানী হা/২৮; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৫/৪৩৮; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১০/১৫৯)। এক্ষণে কেউ কাতারের সামনে থাকলে সে দু‘টি পদ্ধতির যেকোন একটি বেছে নিতে পারে। ১. সে নাক ধরে সুবিধামত স্থান দিয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যাবে এবং ওযূ করে ছালাত আদায় করবে। ২. সম্ভব না হ’লে সে স্বস্থানে বসে বের হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে। যখন সুযোগ পাবে বের হয়ে ওযূ সম্পাদন করত ছালাত আদায় করবে (ছালেহ আল-ফাওযান, আল-মুনতাক্বা ৪৯/৩৫)।
প্রশ্ন (৩২/২৭২) : ক্লাউড সিডিং বা কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি নামানো কি আল্লাহর সৃষ্টিতত্ত্বে হস্তক্ষেপ হিসাবে গণ্য হবে?
-সারওয়ার, কাটাখালী, রাজশাহী।
উত্তর : ক্লাউড সিডিং করা আল্লাহর সৃষ্টিতত্ত্বে হস্তক্ষেপ করা নয়, বরং তার সৃষ্টবস্ত্তকে বিকল্প উপায়ে ব্যবহার করা। এতে নতুন করে পানি সৃষ্টি করা হয় না, বরং আল্লাহর সৃষ্টি করা জলীয় বাষ্পকে বৃষ্টির রূপ দিতে সাহায্য করা হয় মাত্র। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন, অতঃপর তা একত্রে মিলিয়ে দেন এবং পরে তাকে স্তূপীকৃত করেন, অতঃপর তুমি দেখতে পাও যে, তার মধ্য থেকে বৃষ্টি নির্গত হয়...’ (নূর ২৪/৪৩)। অতএব যতই কৃত্রিম উপায় গ্রহণ করা হৌক না কেন মেঘ তৈরি হওয়া এবং বায়ুমন্ডলে বিশাল পরিসরে জলীয় বাষ্পের পূর্ণ হওয়া হ’ল আল্লাহরই সৃষ্টি, যা তিনি তাঁরই সৃষ্ট মাধ্যমগুলোর সাহায্যে সম্পন্ন করেন। তিনিই বাষ্পের স্রষ্টা, সূর্যের তাপের স্রষ্টা এবং বায়ুমন্ডলের শীতলতা ও বায়ুপ্রবাহের নিয়ন্ত্রক। মেঘকে চালিত করা তাঁরই কাজ। তিনিই এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করেন।
প্রশ্ন (৩৩/২৭৩) : অফিসে, ফ্যাক্টরিতে বা মার্কেটে ছালাতের জন্য নির্দিষ্ট ঘর থাকে। সেখানে প্রবেশের জন্য মসজিদে প্রবেশের সময় যে দো‘আ বা তাহিইয়াতুল মসজিদ পড়তে হবে কি?
-মোছতফা যামান, হোতাপারা, গাযীপুর।
উত্তর : ছালাতের জন্য নির্ধারিত কক্ষে বা স্থানে প্রবেশকালে মসজিদে প্রবেশের দো‘আ পড়া মুস্তাহাব। এক্ষেত্রে ডান পা আগে বাড়িয়ে দিয়ে বলতে হবে, ‘আল্লাহুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রাহমাতিক’ (হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাগুলো খুলে দাও)। অনুরূপভাবে তাহিইয়াতুল মসজিদও আদায় করতে পারবে (আবুদাউদ হা/৪৬৫)।
প্রশ্ন (৩৪/২৭৪) : আমি ১৪ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থী। নিয়মিত ছালাত ও ছিয়াম পালনের চেষ্টা করি। বয়ঃসন্ধি কালীন শারীরিক পরিবর্তনের কারণে আমি তীব্র জৈবিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছি, যা নিয়ন্ত্রণ করা আমার জন্য অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ছে। হারাম কাজ ও পাপাচার থেকে বেঁচে থেকে আত্মসংযম বজায় রাখার ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় আমি দিশেহারা হয়ে যাই। কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য করণীয় কি?
-রেযওয়ান, নারায়ণগঞ্জ।
উত্তর : বয়স ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এমন অবস্থায় করণীয় হ’ল- ১. সপ্তাহে অন্তত ২ দিন (সোমবার ও বৃহস্পতিবার) ছিয়াম পালন করবে (বুখারী হা/১৮৯৪)। ২. দৃষ্টির হেফযত করা। মোবাইল বা ইন্টারনেটে অশালীন কিছু দেখা থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা (আন‘আম ৬/১৫১)। ৩. প্রতি ছালাতের সিজদায় এবং শেষ বৈঠকে আল্লাহর কাছে পবিত্র থাকার জন্য সাহায্য চাওয়া। তাছাড়া ছালাত শেষে একাকী দু’হাত তুলে দো‘আ করা (আবুদাউদ হা/১৪৮৮; মিশকাত হা/২২৪৪)। ৪. নেকীর কাজে ব্যস্ত থাকা। সর্বদা পড়াশোনা, শরীরচর্চা বা সমাজসেবামূলক কাজে মনোনিবেশ করা। ৫. নির্জনতা পরিহার করা। ৬. ইসলামী সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে দাওয়াতী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়া (তিরমিযী হা/২৩১৭)। ৭. দ্বীনদার বন্ধুদের সাথে থাকা। যারা ছওয়াবের ও আমলের কথা মনে করিয়ে দিবে (আবুদাউদ হা/৪৮৩৩; মিশকাত হা/৫০১৯)। ৮. যখনই খারাপ চিন্তা আসবে, সাথে সাথে ‘আউযুবিল্লাহ’ পড়ে স্থান পরিবর্তন করা এবং মনে মনে আল্লাহর যিকর ও ইস্তিগফার করা। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর স্মরণেই কেবল হৃদয় প্রশান্ত হয়’ (রা‘দ ১৩/২৮)। ৯. সর্বদা মনে করবে যে, আল্লাহ আমাকে দেখছেন ও সব কথা শুনছেন এবং তিনি আমার মনের জানেন (মুসলিম, মিশকাত হা/২)।
প্রশ্ন (৩৫/২৭৫) : আমার মা ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গত দুই বছর ধরে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ও বাকশক্তিহীন। সুস্থ অবস্থায় তাঁর ইবাদত-বন্দেগীতে কিছু ঘাটতি ছিল। কিন্তু বর্তমানে তাঁর তওবা বা ইবাদত করার মত শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্য নেই। এমতাবস্থায় মায়ের ইবাদতের এই ঘাটতি পূরণ এবং কাফফারার জন্য সন্তান হিসাবে আমি কি আমল করতে পারি?
-আব্দুর রহমান, মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : এমতাবস্থায় তার পক্ষ থেকে আল্লাহর কাছে তওবা-ইস্তিগফার করা যাবে এবং দান-ছাদাক্বা করা যাবে। যদি তার সামান্য হিতাহিত জ্ঞান থাকে তবে তাকে ছালাতের জন্য উৎসাহিত করবে এবং তাঁর ফরয ছিয়ামের ফিদইয়া প্রদান করবে। আর মায়ের মৃত্যুর পর হাদীছে বর্ণিত আমলগুলোও করতে পারে। যেমন আবু উসাইদ (রাঃ) বলেন, আমরা নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এ সময় বনু সালিমা গোত্রের এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করার কোন অবকাশ আছে কি? তিনি বলেন, হ্যাঁ, চারটি উপায় আছে। (১) তাদের জন্য দো‘আ করা, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা (২) তাদের প্রতিশ্রুতিসমূহ পূর্ণ করা এবং (৩) তাদের আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করা, যারা তাদের মাধ্যমে তোমার আত্নীয় ও (৪) তাদের বন্ধু-বান্ধবদের সম্মান করা’ (আবুদাঊদ হা/৫১৪২; মিশকাত হা/৪৯৩৬; ছহীহ ইবনু হিববান হা/৪১৮)।
প্রশ্ন (৩৬/২৭৬) : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ব্যক্তিগত রুচি বা অভ্যাসগত সুন্নাত যেমন প্রিয় খাবার হিসাবে লাউ খাওয়া, পোষাক হিসাবে সাদা রঙের কাপড় পরিধান করা, চোখের যত্নে সুরমা দেওয়া কিংবা ত্বকের পরিচর্যায় যয়তুনের তেল ব্যবহার করা এসব কাজ যদি কেউ শরী‘আতে কোন বাধ্যবাধকতা ছাড়াই শুধুমাত্র তাঁর প্রতি নিবিড় ভালবাসার জায়গা থেকে অনুসরণ করে, তবে কি সে ছওয়াব লাভ করবে? নাকি ইবাদতের সংজ্ঞার বাইরে এসব অভ্যাসগত বিষয়কে দ্বীনী অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত করা বিদ‘আত হিসাবে গণ্য হ’তে পারে?
-আব্দুল্লাহিল কাফী, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।
উত্তর : হ্যাঁ, একজন মুসলিম নবী করীম (ছাঃ)-এর সাধারণ অভ্যাসগত সুন্নাত সমূহ (যেমন তাঁর খাওয়ার পদ্ধতি, ঘুমানোর ধরন এবং পোষাকের ধরন) অনুসরণ করলে ছওয়াব পাবেন, যদি তিনি তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণের নিয়ত করেন। তবে কিছু বিদ্বান মনে করেন যে, সহজাত বা প্রাকৃতিক কাজগুলোর (যেমন হাঁটা বা বসা) জন্য ছওয়াব পাওয়া যাবে না যতক্ষণ না তাতে ভালোবাসা ও অনুসরণের নিয়ত থাকে। আর ছওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে এই কাজগুলো করা মুস্তাহাব বা উত্তম। ইমাম গাযালী (রহঃ) বলেন, জেনে রেখো, সৌভাগ্যের চাবিকাঠি হ’ল সুন্নাহর অনুসরণ এবং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁকে অনুকরণ করা। তা তাঁর বাহিরের কাজ হোক বা ভেতরের, তাঁর নড়াচড়া হোক বা স্থিরতা। এমনকি তাঁর খাওয়ার ধরন, দাঁড়ানো, ঘুমানো এবং কথা বলার পদ্ধতির ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। আমি এ কথা কেবল তাঁর আদব বা শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে বলছি না, বরং এটি মানুষের সকল অভ্যাসগত কাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এর মাধ্যমেই পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ (ইত্তিবায়ে মুতলাক) অর্জিত হয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘বল, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ কর, তবেই আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন’ (আলে-ইমরান ৩/৩১)। সুতরাং এই অনুসরণের ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করে তোমার এমন বলা উচিত নয় যে, এগুলো তো কেবল অভ্যাসগত বিষয়, এখানে অনুসরণের কোন বিশেষ অর্থ নেই। কারণ এমন ভাবনা তোমার জন্য সৌভাগ্যের এক বিশাল দরজা বন্ধ করে দেবে (ইবনুল হাজ্জ, আল-মাদখাল ১/১৪৩)।
প্রশ্ন (৩৭/২৭৭) : আমাদের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন মসজিদের পরিবর্তে তার পাশেই নতুন একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে অব্যবহৃত সেই পুরাতন মসজিদ ভবনটির অবকাঠামো যদি সংস্কার করা হয়, তবে সেখানে কি কোন পরিবার নিয়ে বসবাস করা কিংবা আবাসন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভাড়া দেওয়া শরী‘আসম্মত হবে?
-হাবীবুল্লাহ, বগুড়া।
উত্তর : মসজিদ অন্যত্র স্থানান্তর করা হ’লে পূর্বের জায়গাটি যেকোন বৈধ কাজে ব্যবহার করা যাবে। ওমর (রাঃ)-এর যুগে কুফার দায়িত্বশীল ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)। একদা মসজিদ হ’তে বায়তুল মাল চুরি হ’লে সে ঘটনা ওমর (রাঃ)-কে জানানো হয়। তিনি মসজিদ স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন। ফলে মসজিদ স্থানান্তরিত করা হয় এবং পূর্বের স্থান খেজুর ক্রয়-বিক্রয়ের বাজারে পরিণত হয়’ (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূউল ফাতাওয়া ৩১/২১৬-১৭)। একদা ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল মসজিদ বিক্রি করে অর্থ অন্য মসজিদে লাগানো যায় কি? তিনি বলেন, ‘যদি মসজিদ আবাদকারী কেউ না থাকে, তাহ’লে মসজিদের স্থান বিক্রি করে অর্থ অন্য স্থানে ব্যয় করাতে কোন দোষ নেই’ (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূউল ফাতাওয়া ৩১/২১৬)।
প্রশ্ন (৩৮/২৭৮) : ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে একজন ব্যক্তি আমার কাছ থেকে মূলধন গ্রহণ করতে আগ্রহী। তাঁর দাবী অনুযায়ী, তাঁর ব্যবসায় কোন ধরনের লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই নিশ্চয়তার উপর ভিত্তি করে তিনি আমাকে প্রস্তাব দিয়েছেন যে, অর্জিত মোট মুনাফার ৩০% আমাকে লভ্যাংশ হিসাবে প্রদান করবেন এবং অবশিষ্ট মুনাফা তাঁর থাকবে। এই চুক্তিতে তাকে টাকা দেওয়া যাবে কি?
-শফীকুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ, ঢাকা।
উত্তর : যাবে না। কারণ ব্যবসা লাভ লোকসানের ভিত্তিতে চলে। তবে যদি বলা হয় লাভ হলে ৩০% লভ্যাংশ প্রদান করা হবে এবং লোকসান হ’লে বিনিয়োগ অনুসারে লোকসান নিতে হবে তাহ’লে চুক্তি জায়েয হবে। কারণ শরী‘আতে যৌথ ব্যবসার পদ্ধতি দু’টি- (১) মুশারাকা : দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বিনিয়োগ করবে এবং বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী লাভ-লোকসান বণ্টিত হবে (বুখারী হা/২৪৯৮; আবুদাউদ হা/৩৩৮৩; দারাকুৎনী হা/২৯৩৩)। (২) মুযারাবা : একজনের অর্থে অপরজন ব্যবসা করবে। লভ্যাংশ চুক্তি অনুপাতে উভয়ের মধ্যে বণ্টিত হবে (ইবনু মাজাহ হা/২২৮৯)। ইবনু কুদামা বলেন, এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী লোকসানের ভাগিদার হবে না, কেবল বিনিয়োগকারী হবে। তবে লাভের ক্ষেত্রে উভয়ে সমঝোতা মোতাবেক শরীক হবে। এক্ষেত্রে বিদ্বানগণের মধ্যে কোন মতভেদ আছে বলে আমরা জানি না (মুগনী ৫/২৭-২৮, ৫/৪৯, ৫১)। বিনিয়োগকারী এককভাবে লোকসানের ভাগ বহন করবে এজন্য যে, যদি ব্যবসায়ীকেও লোকসানের ভাগ বহন করতে হয়, তবে তার উপর যুলুম হয়ে যাবে। কেননা এতে সে দু’বার ক্ষতির শিকার হবে।
প্রশ্ন (৩৯/২৭৯) : অমুসলিম রাষ্ট্রে নিযুক্ত একজন মুসলিম রাষ্ট্রদূতের জন্য সেই দেশের সংস্কৃতি বা প্রটোকল রক্ষা করতে গিয়ে ইসলামী লেবাস বা পর্দার বিধান শিথিল করার সুযোগ আছে কি?
-নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।
উত্তর : একজন ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হ’ল সে যেখানেই থাকুক বা অবস্থান করুক না কেন, নিজের দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা। আল্লাহ তা‘আলা ব্যতিরেকে অন্য কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য দ্বীনের কোন বিষয় বিসর্জন দেওয়া তার জন্য জায়েয নয়। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষের সন্তুষ্টি খুঁজবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে মানুষের হাতেই সঁপে দেবেন’। অর্থাৎ মানুষ তাকে অপমানিত করবে এবং সে আল্লাহর সাহায্য থেকে বঞ্চিত হবে (তিরমিযী হা/ ২৪১৪; ছহীহুল জামে‘ হা/৬০১০)। তবে লেবাস পরিবর্তনে বাধ্যবাধ্যকতা থাকলে কেবল সে সময়ের জন্য জায়েয (বুখারী ১৮/৩৭৬)। উল্লেখ্য যে, শরী‘আত বিরোধী পোষাক পরিধান করতে হ’লে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছিল, ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করার পর বলে তোমরা কিসে ছিলে (অর্থাৎ মুসলিম না মুশরিক? তারা বলবে, জনপদে আমরা অসহায় ছিলাম। ফেরেশতারা বলবে, আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যে তোমরা সেখানে হিজরত করে যেতে? অতএব ওদের বাসস্থান হ’ল জাহান্নাম। আর তা অত্যন্ত নিকৃষ্ট স্থান’ (নিসা ৪/৯৭)।
প্রশ্ন (৪০/২৮০) : কোন মসজিদের মূল চত্বরে বা আঙিনায় যদি শৌচাগার এবং ওযূখানা নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকে, তবে নিরুপায় হয়ে মসজিদের বারান্দা বা মসজিদের মূল কাঠামোর সাথে সংযুক্ত অংশে টয়লেট ও ওযূখানা নির্মাণ করা কি শরী‘আতসম্মত হবে?
-মোশাররফ হোসাইন, শেরপুর।
উত্তর : প্রয়োজনে মসজিদের বারান্দায় বা বারান্দার কোন অংশে টয়লেট এবং ওযূখানা নির্মাণ করা জায়েয। তবে শর্ত হ’ল সেগুলোকে মসজিদ থেকে ভালোভাবে পৃথক করতে হবে। সেগুলোর জন্য স্বতন্ত্র প্রবেশপথ থাকতে হবে এবং সেগুলো যেন সরাসরি ছালাতের জায়গার দিকে না হয়। যাতে সেখানে দুর্গন্ধ ও অপবিত্রতা না ছড়ায় এবং মসজিদের পবিত্রতা বজায় থাকে (আহমাদ হা/২৩১৩৮; ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩৮৭; ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৩/২০৬)।