বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে (ইউজিসি) বিলুপ্ত করে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে একটি শক্তিশালী ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসাবে বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠনের উদ্যেগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া প্রকাশ করেছে, যা কার্যকর হ’লে ১৯৭৩ সালের ইউজিসি আইন বাতিল হয়ে যাবে।
খসড়া অনুযায়ী কমিশনের নেতৃত্বে থাকবেন একজন চেয়ারম্যান, যার পদমর্যাদা হবে একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমান। এছাড়াও থাকবেন আটজন কমিশনার এবং ১০ জন খন্ডকালীন সদস্য। কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি। চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দিতে তিন সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি বা অবসরপ্রাপ্ত আপিল বিভাগের বিচারপতির নেতৃত্বে এ কমিটি গঠন করা হবে। তারা যোগ্য ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করবেন। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিকীকরণ নিশ্চিত করতে কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রতি তিন বছর অন্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং প্রকাশ, বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি, শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিন্ন নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন এবং অনিয়মের দায়ে বরাদ্দ স্থগিত বা শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
বুয়েটের উপ-উপাচার্য ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী এবং ইউআইইউ-এর উপাচার্য ড. মুহাম্মাদ আবুল কাশেম মনে করেন, কেবল নাম পরিবর্তন বা অবকাঠামোগত বদল যথেষ্ট নয় বরং মানসিকতার পরিবর্তন ও গুণগত মান নিশ্চিত করা যরূরী। অন্যদিকে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মাদ আনোয়ার হোসাইন আশা প্রকাশ করেন যে নতুন কমিশন গঠিত হ’লে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং কাজের গতি ও সক্ষমতা উভয়ই বাড়বে।