উত্তর :প্রথমত: পিতা বা বৈধ অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া কোন মেয়ের বিবাহ শুদ্ধ নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করে, সেই বিবাহ বাতিল, বাতিল, বাতিল’ (আবূদাউদ হা/২০৮৩; ছহীহুল জামে‘ হা/২৭০৯)। দ্বিতীয়ত: যে সকল বিবাহ জনপ্রতিনিধি, কাযী বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মাধ্যমে হয়ে থাকে সে সকল বিবাহকে বিদ্বানগণ শিবহে নিকাহ বা বিবাহের সাদৃশ্যপূর্ণ বলে গণ্য করেছেন (ইবনু কুদামা, মুগনী ৭/০৮, ১১/১৯৬; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ৩২/১০৩)। এক্ষণে উক্ত বিবাহ শিবহে নিকাহ হওয়ায় পরবর্তীতে তালাক প্রদান কার্যকর হয়েছে। প্রশ্নালোকে যদি বিধি মোতাবেক তিন মাসে বা তিন বারে তালাক প্রদান করা হয়ে থাকে, তবে তালাকে বায়েন হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে উক্ত মেয়ের অন্যত্র বিবাহ হয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তালাকপ্রাপ্তা না হওয়া পর্যন্ত তাকে দ্বিতীয়বার বিবাহ করার কোন সুযোগ নেই (বাক্বারাহ ২/২৩০)। সুতরাং এই বিবাহ অবিলম্বে বিচ্ছেদ করতে হবে। আর কেউ যদি স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় বা এমন তোহুরে তালাক দেয় যাতে স্ত্রী সহবাস হয়েছে তাহলে সেটি তালাক গণ্য হবে না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে নবী! যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও, তখন তাদেরকে ইদ্দত অনুযায়ী তালাক দাও এবং ইদ্দত গণনা করতে থাক (তালাক ৬৫/০১)। সুতরাং বিষয়টি বিস্তারিত জেনে তিন তালাক সম্পন্ন হয়েছে কিনা সে বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে (বিস্তারিত দ্র. হাফাবা প্রকাশিত ‘তালাক ও তাহলীল’ বই)।
প্রশ্নকারী : ইউসুফ, ঢাকা।