উত্তর : ইসলাম এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে গোয়েন্দা বিভাগকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করা এবং ছদ্মবেশ ধারণ বা মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া জায়েয (ইবনুল ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ ৩/৩১০)। উম্মে কুলছূম বিনতে উকবা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে কোন অবস্থায় মিথ্যার অনুমতি দিতে শুনিনি তিনটি অবস্থা ছাড়া, ১. যুদ্ধের সময়, ২. মানুষের মাঝে মীমাংসা/সম্প্রীতি সৃষ্টি করার সময়, ৩. স্বামীর স্ত্রীর সঙ্গে (ভালোবাসার) কথোপকথনে (ছহীহাহ হা/৫৪৫)। যেমন তাবুকের যুদ্ধে যাতায়াতকালে এক পথের কথা বলে আরেক পথে গিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল কাফির ও মুনাফিকদের বিভ্রান্ত করা (ছহীহ মুসলিম হা/২৭৬৯)। অতএব নিম্নোক্ত শর্ত সাপেক্ষে এসব বিভাগে দায়িত্বপালনকারীরা মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারে- ১. এর উদ্দেশ্য হ’তে হবে জনকল্যাণ তথা মুসলমানদের রক্ষা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা। ২. সীমালঙ্ঘন না করা। অর্থাৎ কোন নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসিয়ে দেয়া কিংবা তাকে অন্যায়ভাবে গুম বা হত্যা করা হারাম। উল্লেখ্য যে, মিথ্যা বলা মহাপাপ। এটি সকল গুনাহের মূল। সেজন্য গোয়েন্দা বিভাগে চাকুরীর সুবাদে যেন অন্যায়ভাবে কাউকে হেনস্থা করা বা ক্ষতিগ্রস্ত না করা হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া তার দায়িত্ব। তবে এজন্য কোন অসহায়কে অন্যায়ভাবে বা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা, ‘উপরের আদেশ’ বলে একজন নির্দোষ মানুষকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা ও এভাবে বান্দার হক নষ্ট করার জন্য আল্লাহর নিকট জবাবদিহী করতে হবে।
প্রশ্নকারী : আদনান হোসাইন, ঢাকা।