উত্তর : দ্বীনী জ্ঞানার্জন ও তাহাজ্জুদের ছালাত উভয়টিই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে ক্ষেত্র বিশেষে জ্ঞানার্জন করাই অধিক ফযীলতপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে প্রশ্ন করা হ’ল বনু ইস্রাঈলের দুই ব্যক্তির ব্যাপারে তাদের একজন ছিলেন আলেম, যিনি ফরয ছালাত আদায় করার পর বসে মানুষকে কল্যাণকর জ্ঞান শিক্ষা দিতেন। অন্যজন ছিলেন আবেদ, যিনি দিনের বেলা ছিয়াম রাখতেন এবং রাতভর ছালাত আদায় করতেন। এ দু’জনের মধ্যে কে উত্তম? রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘এই আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব (যে ফরয ছালাত আদায় করে তারপর বসে মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দেয়) ঐ আবেদ-এর উপর (যে ছিয়াম রাখে ও রাতভর ইবাদত করে) ঠিক তেমন যেমন আমার শ্রেষ্ঠত্ব তোমাদের মধ্যে সর্বনিম্নের উপর’ (দারেমী হা/৩৪০; মিশকাত হা/২৫০)। তবে ইলম অর্জনের পাশাপাশি রাতের ছালাতও আদায় করার চেষ্টা করবে। কারণ এতে অনেক উপকারিতা রয়েছে। যেমন- (১) এটি গুনাহকে ঝরিয়ে ফেলে, যেমন প্রবল বাতাস শুকনো পাতা গাছ থেকে ঝরিয়ে ফেলে। (২) এটি অন্তরকে আলোকিত করে। (৩) এটি আলস্য দূর করে এবং দেহকে সতেজ ও কর্মক্ষম করে। (৪) এটি দেহকে সুস্থ রাখে। (৫) রাতের ক্বিয়ামের স্থান ফেরেশতারা আসমান থেকে দেখতে পান, যেমন আমরা আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র দেখতে পাই (ইবনুল হাজ্জ মাক্কী, আল-মাদখাল ২/১৩৭)।
প্রশ্নকারী : সিরাজুল ইসলাম, ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ।