আমরা গত রাতে হঠাৎ বোমার শব্দে জেগে উঠি। দেখি, একটি তাঁবুতে বোমা হামলা হয়েছে। সেই তাঁবুতে কিছু ক্ষুধার্ত শিশু ঘুমিয়ে ছিল। এই হামলা তাদের ঘুমন্ত অবস্থায় মৃত্যুর কোলে নিয়ে গেল চিরতরে। তারা মারা গেল ক্ষুধার্ত অবস্থায়।
গাযার জনসংখ্যার প্রায় ৮০% এখন গাদাগাদি করে বস্তির তাঁবুতে বসবাস করছে খাবার ও পানীয় ছাড়া। অবরোধের কারণে তারা কিছুই খুঁজে পায় না খাওয়ার জন্য কিংবা পান করার মতো। তারা প্রতিনিয়ত ভীত অবস্থায় থাকে এই আশঙ্কায় যে, কখন যেন তারা আকাশ থেকে এলোমেলো গুলিবর্ষণের শিকার হয়! কারণ হেলিকপ্টার থেকে ভারী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দ্বারা গুলি ছোড়া হয়, যেগুলো দূরনিয়ন্ত্রিত।
অথবা তারা আতঙ্কে থাকে এফ-১৬ বা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে বোমা পড়বে না তো? এসব বোমা নিমিষেই তাদের শরীরকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। আর পুরো পরিবারসহ তাদের নাম স্থানান্তরিত হয়ে যায় নগরের রেজিস্ট্রার খাতা থেকে সোজা কবরবাসীর তালিকায়।
সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, আজ নাকি কিছু খাদ্যসামগ্রী সীমান্ত দিয়ে ঢুকবে। অথচ এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইস্রাঈলীরা সেগুলো সীমান্তবর্তী এলাকায় রাখে, যেখানে ট্যাংকগুলো পাহারা দেয়। তারপর কেউ যদি ত্রাণের জন্য সেখানে যেতে চায়, তখনই তারা গুলি ছুঁড়ে দেয়। ফলে মানুষ নির্বিচারে নিহত কিংবা আহত হয়।
আর যদি কেউ ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাদ্য কিনতে চায়, তখন সেটা কিনতে হয় প্রকৃত মূল্যের ২০ গুণ দামে! যেমন- তিন কেজি ময়দার দাম ১০০ ডলার, যেখানে এর প্রকৃত মূল্য মাত্র ২ ডলার।
ইস্রাঈলীরা এখন পুরো উপত্যকার ৮০% অংশ দখল করে রেখেছে। অর্থাৎ গাযার সব মানুষ ঠাসাঠাসি করে বসবাস করছে মাত্র ২০% এলাকায়। এমনকি বসতবাড়িগুলোর অবস্থাও ভয়াবহ। প্রায় ৮০% ঘরবাড়ি ধ্বংস করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গাযা সিটির খুবই সংকীর্ণ একটি এলাকায় জনগণকে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাকি স্থানগুলোতে সাধারণ মানুষের যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেখানে কেউ গেলে সরাসরি যুদ্ধবিমান এসে তাকে হত্যা করে।
এভাবেই কাটছে আমাদের কঠিন দুর্বিষহ জীবন। বিগত প্রায় দু’বছর যাবৎ। কেউ জানে না কোথায় গন্তব্য আমাদের... গাযার ২৩ লক্ষ মাযলূম জনগোষ্ঠীর। বিশ্ববাসীর নীরব দৃষ্টির সামনে মহা সাড়ম্বরে চলছে শতাব্দীর এক নৃশংসতম গণহত্যা...
-ড. হাসান নাছর বাযাযো
২৭.০৭.২০২৫
শিক্ষক ও ইমাম, খান ইউনুস, গাযা।