ভূমিকা : আল-কুরআন মুসলিম উম্মাহর নিকটে সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থ। আল্লাহ তা‘আলা নিজেই এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি বলেন, إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ، ‘আমরাই কুরআন নাযিল করেছি এবং আমরাই এর হেফাযতকারী’ (হিজর ১৫/৯)। তিনি এর হরফ, কালিমা, আয়াত, সিজদাসহ সবকিছুই হেফাযতের দায়িত্ব নিয়ে পৃখিবীতে পাঠিয়েছেন। এক্ষণে প্রশ্ন হ’ল, কুরআনের আয়াত সংখ্যা ঠিক কতটি? ক্বিরাআত ও গণনাপদ্ধতির ভিন্নতার কারণে এই সংখ্যা ভিন্ন হ’তে দেখা যায়। যত অভিমত এসেছে, তার সবগুলোই ছয় হাযারের উপরে। তবে বিশুদ্ধ মতে, কুরআনের সর্বমোট আয়াত হচ্ছে ছয় হাযার দুইশত ছত্রিশটি (৬২৩৬) এবং প্রতিটা সূরার প্রথমে ‘বিসমিল্লাহ’ সহ ছয় হাযার তিনশত ঊনপঞ্চাশটি (৬৩৪৯)। আলোচ্য প্রবন্ধে বিষয়টি তাফসীর, হাদীছ, তারীখ, চার মাযহাবের ইমাম ও সালাফী আলেমদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হ’ল।
আয়াতের পরিচয় : آية শব্দের আভিধানিক অর্থ: নিদর্শন, চিহ্ন, প্রমাণ। কুরআনের পরিভাষায় এমন প্রতিটি বাক্য বা বাক্যাংশ যা স্বতন্ত্র অর্থ বহন করে এবং অহী দ্বারা নির্ধারিত, তা হচ্ছে আয়াত। আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়া গ্রন্থে বলা হয়েছে,الآْيَةُ لُغَةً: الْعَلاَمَةُ وَالْعِبْرَةُ، وَشَرْعًا هِيَ جُزْءٌ مِنْ سُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ تَبَيَّنَ أَوَّلُهُ وَآخِرُهُ تَوْقِيفًا. ‘ভাষাগত দৃষ্টিকোণ থেকে আয়াত হ’ল- নিদর্শন ও উপদেশ। আর শরী‘আতের পরিভাষায়, ‘এটি কুরআনের একটি সূরার অংশ, যার শুরু ও শেষ আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত (তাওক্বীফী) হয়েছে’।[1]
আয়াত গণনায় পার্থক্যের কারণ
আয়াত সংখ্যার ভিন্নতা মূলত তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে :
(১) ক্বিরাআতের পার্থক্য : ভিন্ন ক্বিরাআতের ভিত্তিতে বাক্য বিভাজনে ভিন্নতা ঘটে।
(২) ওয়াকফ ও ইবতিদা (থামার জায়গা ও শুরু) : কোথায় একটি আয়াত শেষ হবে তা ভিন্নভাবে নির্ধারিত হ’তে পারে।
(৩) মাক্কী ও কূফী গণনা পদ্ধতি : বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক গণনার নিয়মে পার্থক্য থাকার কারণে সংখ্যায় পার্থক্য হ’তে পারে। এর কারণ সম্পর্কে ইমাম যারকাশী (রহঃ) বলেন, وَاعْلَمْ أَنَّ سَبَبَ اخْتِلَافِ الْعُلَمَاءِ فِي عَدِّ الْآيِ وَالْكَلِمِ وَالْحُرُوفِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عليه وَسَلَّمَ كَانَ يَقِفُ عَلَى رُءُوسِ الْآيِ لِلتَّوْقِيفِ فَإِذَا عُلِمَ مَحَلُّهَا وَصَلَ لِلتَّمَامِ فَيَحْسَبُ السَّامِعُ أَنَّهَا لَيْسَتْ فَاصِلَةً وَأَيْضًا الْبَسْمَلَةُ نَزَلَتْ مَعَ السُّورَةِ فِي بَعْضِ الْأَحْرُفِ السَّبْعَةِ فَمَنْ قَرَأَ بِحَرْفٍ نَزَلَتْ فِيهِ عَدَّهَا وَمَنْ قَرَأَ بِغَيْرِ ذَلِكَ لَمْ يَعُدَّهَا ‘জেনে রাখো, আয়াত, শব্দ ও অক্ষরের গণনায় আলেমদের মাঝে যে মতভেদ হয়েছে, তার কারণ হ’ল: রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আয়াতসমূহের শেষে থামতেন অহীর নির্দেশ মোতাবেক। এরপর যখন আয়াতের স্থান নির্ধারিত হয়ে যেত, তখন তিনি সম্পূর্ণ আয়াত পাঠ করতেন (সংযুক্তভাবে)। ফলে শ্রোতাদের কেউ কেউ ধারণা করত যে এটি পৃথক আয়াত নয়। আর একটি কারণ হ’ল কিছু ক্বিরাআতে (সাত হরফের এক বা একাধিক রূপে) সূরার সাথে ‘বিসমিল্লাহ’ নাযিল হয়েছে। তাই যারা সেই পাঠভেদে ক্বিরাআত করেন তারা এটিকে আয়াত হিসাবে গণ্য করেন, আর যারা অন্যান্য পাঠভেদে পাঠ করেন তারা এটিকে আয়াত হিসাবে গণ্য করেন না’।[2]
ইমাম ফায়রুযাবাদী বলেন,وأَمّا عدد الآيات فإِن صدر الأُمّة وأَئمة السّلف من العلماءِ والقراءِ كانوا ذوى عنايةٍ شديدة فى باب القرآن وعِلمه؛ حتى لم يبق لفظ ومعنى إِلاَّ بحثوا عنه، حتى الآيات والكلمات والحروف، فإِنهم حَصَروها وعدُّوها. وبين القرّاءِ فى ذلك اختلاف؛ لكنَّه لفظى لا حقيقىّ. ‘আয়াতের সংখ্যার বিষয়ে পূর্ববর্তী উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং সালাফদের ইমামগণের মধ্যকার কুরআনের আলেম ও ক্বারীগণ কুরআনের ইলমে গভীরভাবে মনোযোগী ছিলেন। এমনকি কোন শব্দ বা অর্থ এমন নেই, যা নিয়ে তারা আলোচনা করেননি। তারা আয়াত, শব্দ এবং অক্ষর সব গণনা করেছেন। এই গণনায় ক্বারীগণের মধ্যে কিছু মতভেদ রয়েছে, তবে তা শব্দগত (لفظي) মতভেদ, বাস্তবিক অর্থে (حقيقي) কোন মতভেদ নয়’।[3]
আয়াত সংখ্যার মতপার্থক্যের কারণ সম্পর্কে ইমাম আব্দুল আযীম যুুরক্বানী (রহঃ) বলেন, ‘এই মতভেদের মূল কারণ হ’ল নবী করীম (ছাঃ) ছাহাবীদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য কোন আয়াতের শেষে থেমে যেতেন। যাতে তারা বুঝতে পারে যে, এটি একটি পূর্ণ আয়াত। আর যখন তারা সেটা ভালোভাবে শিখে নিত, তখন তিনি অর্থের পূর্ণতা লাভের জন্য ঐ আয়াতকে পরবর্তী আয়াতের সঙ্গে মিলিয়ে পড়তেন। ফলে কেউ কেউ মনে করত, যেখানে রাসূল (ছাঃ) থেমেছিলেন সেটি পূর্ণ আয়াত নয়। তাই তারা পরবর্তী অংশসহ একসাথে পড়ে সেটিকে একটি আয়াত বলে গণ্য করত। আবার কেউ কেউ সেটিকে একটি স্বতন্ত্র আয়াত ধরে সেখানে থেমে যেত এবং পরবর্তী অংশকে নতুন আয়াত বলে গণ্য করত। আর এতে গুরুতর কোন সমস্যা নেই। কারণ এতে কুরআনের মধ্যে না কোন অংশ বেড়ে যায়, না কোন অংশ কমে যায়’।[4]
ইমাম সুয়ূতী (রহঃ) বলেন,سَبَبُ اخْتِلَافِ السَّلَفِ فِي عَدَدِ الْآيِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقِفُ عَلَى رؤوس الْآيِ لِلتَّوْقِيفِ فَإِذَا عُلِمَ مَحَلُّهَا وَصَلَ لِلتَّمَامِ فَيَحْسَبُ السَّامِعُ حِينَئِذٍ أَنَّهَا لَيْسَتْ فَاصِلَةً. ‘আয়াতের সংখ্যায় সালাফদের মধ্যে মতভেদ হওয়ার কারণ হ’ল, নবী করীম (ছাঃ) অহী আসার সময় তাওক্বীফ আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত স্থানে থামার উদ্দেশ্যে আয়াতের শেষে থেমে যেতেন। অতঃপর যখন তিনি সেই নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করতেন তখন আবার পূর্ণ অর্থ বোঝার জন্য বাক্য চালিয়ে যেতেন। ফলে শ্রোতা অনেক সময় ধারণা করতেন যে, সেখানে থামা হ’লেও সেটি কোন আয়াতের শেষ (ফাছিলা) নয়।[5]
আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী (রহঃ) বলেন, فَقَدْ وَقَعَ إِجْمَاعُ الْعَادِّينَ عَلَى أَنَّ الْقُرْآنَ سِتَّةُ آلَافٍ وَمِئَتَا آيَةٍ، ثُمَّ اخْتَلَفُوا فِي الْكَسْرِ الزَّائِدِ عَلَى ذَلِكَ، ‘আয়াত গণনাকারী বিদ্বানদের মধ্যে এ বিষয়ে সর্বসম্মত ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, কুরআনের আয়াত সংখ্যা ছয় হাযার দুইশত। এরপর এর অতিরিক্ত ভগ্নাংশ (অর্থাৎ কত আয়াত তার চেয়ে বেশী) নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।[6]
শায়খ উছায়মীন (রহঃ) বলেন,الاختلاف في عدد الآيات أمر ليس بضار؛ ولهذا في سورة الفاتحة كما تعلمون، ‘আয়াতের সংখ্যার পার্থক্য কোন ক্ষতিকর বিষয় নয়। যেমন তোমরা জানো, সূরা ফাতেহার ক্ষেত্রেও (এই পার্থক্য) রয়েছে’।[7]
ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনে ইযামের দৃষ্টিভঙ্গি :
সরাসরি ছাহাবী ও তাবেঈগণ থেকে কুরআনের মোট আয়াত সংখ্যা সম্পর্কে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে পরবর্তী বিদ্বানগণের আলোচনা থেকে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। ইমাম আবু আমর আদ-দানী (মৃ. ৪৪৪ হি.) বলেন, الاختلاف في عدد آي القرآن إنما هو لاختلافهم في رؤوس الآي، وليس في نفس القرآن، ‘কুরআনের আয়াত সংখ্যার পার্থক্য কেবল আয়াত শুরুর স্থানে মতভেদের কারণে। এছাড়া কুরআনের মধ্যে আর কোন পার্থক্য নেই।[8] তিনি আরো বলেন, أَجْمَعُوا عَلَى أَنَّ عَدَدَ آيَاتِ الْقُرْآنِ سِتَّةُ آلَافِ آيَةٍ ثُمَّ اخْتَلَفُوا فِيمَا زَادَ عَلَى ذَلِكَ فَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ يَزِدْ وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: وَمِائَتَا آيَةٍ وَأَرْبَعُ آيَاتٍ وَقِيلَ: وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَقِيلَ: وَتِسْعَ عَشْرَةَ وَقِيلَ: وَخَمْسٌ وَعِشْرُونَ وَقِيلَ: وَسِتٌّ وَثَلَاثُونَ، ‘তারা এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, কুরআনের আয়াত সংখ্যা ছয় হাযার। এরপর এ সংখ্যার অতিরিক্ত অংশ নিয়ে মতভেদ হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতিরিক্ত কিছু বলেননি। আবার কেউ বলেছেন, আরও ২০৪টি আয়াত আছে। কেউ বলেছেন, আরও ১৪টি। কেউ বলেছেন, আরও ১৯টি। কেউ বলেছেন, আরও ২৫টি। আবার কেউ বলেছেন, আরও ৩৬টি আয়াত রয়েছে’।[9]
চার মাযহাবের ইমাম ও তাঁদের অনুসারীদের মতামত :
চার মাযহাবের ইমামগণ আয়াত সংখ্যা নির্ধারণে সরাসরি মত দেননি, তবে তাঁদের মাযহাবভুক্ত ক্বারী ও তাফসীরকারগণ নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন :
হানাফী মাযহাবের অবস্থান : ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ) বা তার মাযহাবের অভিমত তুলে ধরে ইমাম যারকাশী (রহঃ) বলেন, اعتمد أهل الكوفة على عدد الآيات ٦٢٣٦، وهو ما جرى عليه علماء الحنفية، ‘কুফাবাসীরা ৬২৩৬ আয়াতের গণনার উপরে নির্ভর করতেন। হানাফী আলেমগণ সেটাই গ্রহণ করেছেন’।[10]
মালেকী মাযহাবের অভিমত : ইমাম মালিক (রহঃ) ও তাঁর মাযহাবের বিদ্বানগণ মাদানী গণনার অনুসারী ছিলেন।
العدد المدني الأول: ٦٢١٤، وهو الذي عليه أهل المدينة في أول الأمر، ‘মাদানী প্রথম গণনা অনুযায়ী আয়াত সংখ্যা ৬২১৪, যা ছিল মদীনাবাসীদের প্রাথমিক মত’।[11]
শাফেঈ মাযহাবের অবস্থান : ইমাম শাফেঈ (রহঃ) ও তাঁর মাযহাবের বিদ্বানগণ কূফার গণনাকে গ্রহণ করেছেন। যেমন শাফেঈ মাযহাব সম্পর্কে বলা হয়েছে,وقد اعتمد الشافعية على عدد مقارب لعدد الكوفي، إلا أنهم اعتبروا بعض الوقفات ‘আর শাফেঈরা কূফী সংখ্যার কাছাকাছি আয়াত গণনা গ্রহণ করেছেন, তবে কিছু ওয়াকফ স্থানকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করেছেন।
হাম্বলী মাযহাবের অবস্থান : ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল ও তার মাযহাবের বিদ্বানগণ কূফী গণনা পদ্ধতিকে গ্রহণ করেছেন। যেমন বলা হয়েছে,غالب الحنابلة ساروا على العدد الكوفي لكونه الأوسع انتشارًا ‘হাম্বলীদের অধিকাংশই কূফী গণনাকেই গ্রহণ করেছেন, কারণ সেটাই সবচেয়ে বিস্তৃত (আল-ইতক্বান ফী ঊলূমিল কুরআন)।
আয়াত গণনার পদ্ধতি :
নিম্নের ছকে প্রধান পাঁচটি গণনাপদ্ধতি উল্লেখ করা হ’ল :
পদ্ধতি | আয়াত সংখ্যা | উল্লেখযোগ্য অনুসারী |
কূফী গণনা | ৬২৩৬ | আলী (রাঃ) ও ক্বারী হাফছ, আছেম; এটিই অধিকাংশ মুদ্রণে প্রকাশিত। |
মাদানী (১ম) | ৬২১৭ | পুরাতন মাদানী ক্বারীগণ। |
মাদানী (২য়) | ৬২১৪ | ইমাম ইসহাকের অনুসারীগণ। |
মাক্কী গণনা | ৬২১০ | ছাহাবী উবাই ইবনু কা‘ব ও মাক্কী ক্বারীগণ। |
শামী গণনা | ৬২২৬ | শাম অঞ্চলের ক্বারীগণ। |
বছরী গণনা | ৬২০৪ | ক্বারী আইউব বিন মুতাওয়াক্কিল এর অনুসারীগণ। |
(বিস্তারিত: আবূ আমর ওছমান বিন সাঈদ রচিত, আল-বায়ান ফী আদ্দে আইয়িল কুরআন ১/৭৯-৮১; তাফসীরে কুরতুবী ১/৬৫)।
বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ত্বাহের আল-জাযায়েরী (রহঃ) তার আত-তিবইয়ান গ্রন্থে বলেন, ‘কুরআনের আয়াত সংখ্যা বিষয়ে গণনাকারীগণ একমত যে, তা ছয় হাযার দুইশত আয়াতের কিছু বেশী। তবে এই ‘কিছু বেশী’ অংশটি গণনাকারীদের ভিন্নমতের কারণে ভিন্ন ভিন্নভাবে নির্ধারিত হয়েছে।
* মদীনার প্রথম গণনা মতে (المدني الأول) আয়াত সংখ্যা ৬২১৭। এ মত দিয়েছেন ইমাম নাফে‘।
* মদীনার দ্বিতীয় গণনা মতে (المدني الأخير) আয়াত সংখ্যা ৬২১৪ (শায়বা অনুসারে) ও ৬২১০ (আবু জা‘ফর অনুসারে)।
* মাক্কী গণনা মতে, আয়াত সংখ্যা ৬২২০।
* কূফী গণনা মতে, আয়াত সংখ্যা ৬২৩৬, যা হামযাহ আয-যাইয়াত থেকে বর্ণিত। আর এটিই অধিক প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত।
* বছরার গণনা মতে, আয়াত সংখ্যা ৬২০৫, যা আছেম আল-জাহদারী থেকে বর্ণিত। তাঁর একটি রেওয়ায়াতে ৬২০৪ এবং আইয়ূব ইবনু আল-মুতাওয়াক্কিল আল-বছরী এ মত দিয়েছেন।
* আর এক বর্ণনায় বছরাবাসীরা ৬২১৯ বলেছেন। এটি ক্বাতাদাহ থেকেও বর্ণিত।
* শামী (সিরিয়ান) গণনা মতে, আয়াত সংখ্যা ৬২২৬, যা ইয়াহইয়া ইবনু হারিছ আছ-যিমারী থেকে বর্ণিত।
ইমাম আদ-দানী আরও বলেন, মাক্কী গণনা আব্দুল্লাহ ইবনু কাছীর (সাত ক্বারীর অন্যতম) থেকে সংরক্ষিত, যিনি এটি মুজাহিদ হ’তে, তিনি ইবনু আববাস, তিনি উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) হ’তে বর্ণনা করেছেন।[12]
৬৬৬৬ আয়াত : একটি ভিত্তিহীন প্রচলন :
অনেকে বলেন, কুরআনের আয়াত সংখ্যা ৬৬৬৬টি। কিন্তু এর কোন ভিত্তি পাওয়া যায় না। কেউ কেউ এটা উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ)-এর অভিমত বলেও চালিয়ে দেন। কিন্তু এরও কোন ভিত্তি নেই। তবে একটি দুর্বল সূত্রে ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে একটি বর্ণনা এসেছে, যাতে কুরআনের আয়াত সংখ্যা ৬৬২৬টি বলা হয়েছে।[13] পাকিস্তানী লেখক প্রফেসর আব্দুছ ছামাদ ছারেম (রহ.) তার তারীখুল কুরআন গ্রন্থে উর্দূ ও বাংলাভাষীদের মাঝে এই বিভ্রান্তির সূচনা করেন বলে অনেক বিদ্বান মনে করেন। তিনি তার এই কিতাবে ‘গণনা’ শিরোনামে অক্ষর, শব্দ ও আয়াতসংখ্যা নিয়ে যে আলোচনা করেছেন তার সবচেয়ে বড় দুর্বল দিক হ’ল গ্রন্থ রচনার উৎস। তার উল্লিখিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে আয়াতসংখ্যা সংশ্লিষ্ট কোন গ্রন্থ নেই। অথচ এই গ্রন্থ রচনাকালে (১৯৬৩) এ বিষয়ের অনেক গ্রন্থ মুদ্রিত হয়েছিল। ঐ সময়ে দুনিয়া জোড়া প্রসিদ্ধ ছিল মিসরীয় মুছহাফ। ঐ মুছহাফের শেষেও এ শাস্ত্রের কিছু গ্রন্থের আলোচনা ছিল। তিনি হয়ত এসবের ব্যাপারে অবগত ছিলেন না অথবা তিনি এগুলো পড়ে দেখার প্রয়োজন বোধ করেননি।
দুর্বলতার দ্বিতীয় দিক হ’ল, এ আলোচনায় তিনি শুধু তিনটি কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়েছেন, ইবনুল জাওযী (রহঃ)-এর ফুনূনুল আফনান, সুয়ূতী (রহঃ)-এর ‘আল-ইতক্বান’ এবং আহমাদ উশমূনীর ‘মানারুল হুদা ফিল ওয়াকফি ওয়াল ইবতিদা’।[14] কিন্তু তিনি এ আলোচনায় এমন অনেক বিষয়ের অবতারণা করেছেন, যা এ তিন কিতাবের কোন কিতাবে নেই। এজন্য ভিন্ন কোন উদ্ধৃতিও তিনি ব্যবহার করেননি। অথচ এসব বিষয়ের কিছু সন্দেহযুক্ত, কিছু একেবারে ভুল এবং বাস্তববিরোধী। আর অবাক করা বিষয় হ’ল, আলোচনায় তিনি এমন সব কথাও এনেছেন যা উক্ত তিন কিতাবের পরিপন্থী।
দুর্বলতার তৃতীয় দিক হ’ল, তিনি আলোচনায় সাধারণ বোধ ও স্বাভাবিক বিষয়গুলোর দাবীও সামনে রাখেননি। তাই তার আলোচনায় এমন কিছু কথাও এসেছে যা স্বাভাবিকভাবেই বাতিল হয়ে যায়।
১. ইমাম আল-সাখাভী (মৃ. ৯০২ হি.) বলেন, وأما ما يشتهر على ألسنة الناس من أن عدد آياته ستة آلاف وست مائة وست وستون، فليس له أصل يعتمد عليه ‘মানুষের মুখে প্রচলিত যে, কুরআনের আয়াত সংখ্যা ছয় হাযার ছয়শত ছিষট্টি (৬৬৬৬)-এর কোন নির্ভরযোগ্য সূত্র নেই।[15]
২. ইমাম সুয়ূতী (মৃ. ৯১১ হি.) বলেন,وقد ورد عن ابن عباس أن عدد الآيات ستة آلاف وست مائة وست وستون، ولكنه قول لا يصح سنده، ولم يثبت عن الصحابة ‘ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে আয়াত সংখ্যা ছয় হাযার ছয়শত ছিষট্রি বর্ণিত হ’লেও এর সনদ ছহীহ নয় এবং এটি ছাহাবীদের থেকে প্রমাণিত নয়’।[16]
৩. কোন কোন বিদ্বান বলেন,هذا الرقم ليس له أصل في الأحاديث الصحيحة، بل هو من الأقوال لمشهورة عند الناس فقط، ولا يعتمد عليه. ‘এই সংখ্যার (৬৬৬৬) ছহীহ হাদীছে মূলসূত্র নেই; বরং এটি কেবল সাধারণ মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধ কথা মাত্র। যার ওপর নির্ভর করা যায় না’।[17]
৪. ড. ছালেহ আলে শায়খ বলেন,لا يوجد نص صحيح في تحديد عدد الآيات ــ (٦٦٦٦)، وإنما هو رقم اشتهر عند المتأخرين بدون دليل. (محاضرات علوم القرآن، وزارة الشؤون الإسلامية السعودية) ‘কোন ছহীহ সূত্রে ৬৬৬৬ আয়াত নেই; এটি কেবল পরবর্তী যুগের কিছু মানুষের মাঝে প্রখ্যাত হয়ে গেছে, যার কোন ভিত্তি নেই।
সূরা অনুযায়ী আয়াত সংখ্যার পার্থক্য হওয়ার কারণ
আয়াতসংখ্যা অনুযায়ী সূরাসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত :
প্রথম ভাগ : যেসব সূরার আয়াতসংখ্যার ব্যাপারে মোটেও মতভেদ নেই। এই ভাগে অন্তর্ভুক্ত সূরাগুলোর আয়াতসংখ্যা ও বিভাজন বিষয়ে ক্বারীগণ এবং অঞ্চলভেদে কোনরূপ মতভেদ করেননি। এমন সূরার সংখ্যা ৪০টি। যেমন- সূরা ইউসুফ ১১১ আয়াত, সূরা হুজুরাত ১৮ আয়াত, সূরা নাহল ১২৮ আয়াত, সূরা ফুরক্বান ৭৭ আয়াত প্রভৃতি সূরা।
দ্বিতীয় ভাগ : যেসব সূরার মোট আয়াতসংখ্যার ব্যাপারে মতভেদ নেই, কিন্তু আয়াত বিভাজনের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। এই সূরাগুলোর মোট আয়াতসংখ্যা সকলের নিকট এক হ’লেও, কোন শব্দ বা বাক্যকে আলাদা আয়াত ধরা হবে কি-না এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। এরূপ সূরা ৪টি। যথা সূরা ফাতিহার আয়াত সংখ্যা সাত হওয়ার ব্যাপারে মতপার্থক্য নেই। কিন্তু মতপার্থক্য রয়েছে ‘বিসমিল্লাহ’সহ না কি ছাড়া এ বিষয়ে। অনুরূপ সূরা ক্বাছাছ (৮৮ আয়াত) কূফার গণনাকারীগণ: ‘‘طسم’’ এক আয়াত এবং অন্যরাأمة من الناس يسقون-কে এক আয়াত হিসাবে গণ্য করেছেন। সূরা আনকাবূত (৬৯ আয়াত), কূফীরা : ‘‘الم’’ কে এক আয়াত এবং বছরীরা: ‘‘مخلصين له الدين’’ কে এক আয়াত গণনা করেছেন। শামী ক্বারী : ‘‘وتقطعون السبيل’’ এগুলো আলাদা আয়াত হিসাবে ধরেছেন।
সূরা জিন (২৮ আয়াত) : মাক্কী : ‘‘لن ينجيني من الله أحد’’ পৃথক আয়াত এবং অন্যরা : ‘‘ولن أجد من دونه ملتحدا’’ কে আয়াত ধরেছেন।
সূরা আছর (৩ আয়াত) : মাদানী (শেষ ধারা) :وتواصوا بالحق পৃথক আয়াত, তবে ‘‘والعصر’’ পৃথক আয়াত নয়। অন্যরা বিপরীতভাবে গণনা করেন।
তৃতীয় ভাগ : যেসব সূরার আয়াত সংখ্যা নিয়ে সার্বিকভাবেই মতভেদ রয়েছে (সংখ্যা ও বিভাজন উভয় ক্ষেত্রে) : এই ভাগে থাকা সূরাগুলোর আয়াতের মোট সংখ্যা ও বিভাজন উভয় বিষয়েই মতপার্থক্য রয়েছে। এমন সূরার সংখ্যা: ৭০টি।
উল্লেখ্য যে, আয়াত শব্দের ব্যবহার প্রসঙ্গে কখনও কুরআনের একটি আংশিক বাক্য বা দু’টি আয়াত মিলিয়ে ‘‘এক আয়াত’’ বলে উল্লেখ করা হয়, যা মাজায বা সাধারণ ভাষার প্রয়োগ।
উদাহরণ :
১. আয়াতের একাংশকে আয়াত বলা (মাজায) : ইবনু আববাস (রাঃ) বলেছেন, ‘‘আশাব্যঞ্জক আয়াতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়াত হ’ল : ﴿وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍ لِلنَّاسِ عَلَى ظُلْمِهِمْ﴾ অথচ এটি মূলতঃ সূরা রা‘দ, আয়াত ৬-এর একটি অংশ। এটি একটি দীর্ঘ আয়াতের শেষাংশ।
২. দু’টি আয়াত একত্রে এক আয়াত বলে উল্লেখ করা : যেমন ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেছেন, ‘সবচেয়ে দৃঢ় বিধান সম্পন্ন আয়াত হ’ল :﴿فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ﴾ যদিও বাস্তবে এটি সূরা যিলযাল-এর ৭ ও ৮ নং আয়াত। কিন্তু দু’টি আয়াতকে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।[18]
আয়াত গণনা পদ্ধতি এক হ’লেও আয়াতের সূচনা ও শেষ নির্ধারণে মতভেদ হয়েছে। আরো কিছু উদাহরণ নিম্নরূপ :
সূরা ইখলাছ :
١. قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ، ٢. اللهُ الصَّمَدُ، ٣. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ، ٤. وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ-
সূরা ইখলাছে ৪টি আয়াত আছে, কূফী, বাছরী, মাদানী (১ম ও ২য়)। গণনা পদ্ধতিতে এই সূরাতে ৪টি আয়াত আছে। তবে মাক্কী ও শামী গণনা পদ্ধতিতে এই সূরার আয়াত সংখ্যা ৫টি। যেমন-
١.قُلْ هُوَ اللهُ أَحَد، ٢. اللهُ الصَّمَد، ٣. لَمْ يَلِدْ، ٤. وَلَمْ يُولَدْ، ٥. وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَد
এটি মাক্কী ও শামী গণনা পদ্ধতি অনুযায়ী সূরা ইখলাছ,
যেখানে ৫টি আয়াত দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে, এই গণনাতে একটি আয়াত ২টি গণনা করা হয়েছে। এখানে কূফী, বাছরী ও মাদানী (১ম ও ২য় উভয়) পদ্ধতিতে (لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَد) এই অংশটিকে একটি আয়াত হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। কিন্তু মাক্কী ও শামী গণনায় (لَمْ يَلِدْ) অংশকে ১টি ও (وَلَمْ يُولَد) অংশকে আরেকটি পৃথক আয়াত হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। ফলে ৪টি আয়াতের স্থলে ৫টি আয়াত হয়েছে। আর এটি কোন প্রকার সংযোজন বা বিয়োজনের কারণে ঘটেনি।
সূরা কুরাইশ :
١. لِإِيلَـٰفِ قُرَيْشٍ، ٢. إِلَـٰفِهِمْ رِحْلَةَ ٱلشِّتَآءِ وَٱلصَّيْفِ، ٣. فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَـٰذَا ٱلْبَيْتِ، ٤. ٱلَّذِى أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ وَءَامَنَهُم مِّنْ خَوْفٍ-
কূফী, বাছরী ও শামী এই তিন গণনা পদ্ধতিতে সূরা কুরাইশের আয়াত সংখ্যা চার, যা আমরা উপরে দেখলাম। আর মাক্কী ও মাদানী (১ম ও ২য়) গণনা পদ্ধতিতে এই সূরার আয়াত সংখ্যা ৫টি। যেমন-
١ .لِإِيلَـٰفِ قُرَيْشٍ، ٢. إِلَـٰفِهِمْ رِحْلَةَ ٱلشِّتَآءِ وَٱلصَّيْفِ، ٣. فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَـٰذَا ٱلْبَيْتِ، ٤. ٱلَّذِى أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ- ৫. وَءَامَنَهُم مِّنْ خَوْفٍ-
এই গণনা পদ্ধতিটি মাক্কী ও মাদানীর। এখানে লক্ষ্যণীয় যে, উপরের কূফী, বাছরী ও শামী এই তিন গণনা পদ্ধতিতে (الذي أطعمهم من جوع وآمنهم من خوف) এই অংশটিকে পরিপূর্ণ একটি আয়াত হিসাবে গণ্য করা হ’লেও বাকী দুই পদ্ধতি অর্থাৎ মাক্কী ও মাদানী গণনা পদ্ধতিতে(الذي أطعمهم من جوع) কে একটি ও (وآمنهم من خوف) কে পৃথক আরেকটি আয়াত গণ্য করা হয়েছে। তবে মূল পাঠ সবসময়ই এক ও অভিন্নই রয়েছে। কোন সংযোজন বা বিয়োজনের কারণে এই পার্থক্য হয়নি।
সূরা আছর :
১. وَٱلْعَصْرِ، ٢. إِنَّ ٱلْإِنسَـٰنَ لَفِى خُسْرٍ، ٣. إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا وَعَمِلُوا ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ وَتَوَاصَوْا بِٱلْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِٱلصَّبْرِ-
সূরা আছরের আয়াত সংখ্যা সকল প্রকার গণনা পদ্ধতি অনুসারেই ৩টি। দ্বিতীয় মাদানী গণনা ছাড়া সকল প্রকার গণনা পদ্ধতিতে এভাবেই আয়াতের শুরু ও শেষ বা ফাওয়াছিল (فواصل) নির্ধারণ করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় মাদানী পদ্ধতিতে নিম্নরূপভাবে ফাওয়াছিল (فواصل) নির্ধারণ করা হয়েছে-
١ .وَٱلْعَصْرِ إِنَّ ٱلْإِنسَـٰنَ لَفِى خُسْرٍ، ٢. إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا وَعَمِلُوا ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ وَتَوَاصَوْا بِٱلْحَقِّ، ٣. وَتَوَاصَوا بِٱلصَّبْرِ
এখানে দেখা যাচ্ছে যে, দ্বিতীয় মাদানী ছাড়া অন্যান্য সকল গণনায় (وَٱلْعَصْر) ও (إِنَّ ٱلْإِنسَـٰنَ لَفِى خُسْرٍ)-কে পৃথক আয়াত গণনা করা হয়েছে। তবে মাদানী দ্বিতীয় পদ্ধতিতে দু’টি অংশকে একত্রে একটি আয়াত বলে পরিগণিত করা হয়েছে। আবার মাদানী দ্বিতীয় পদ্ধতিতে (وَتَوَاصَوْا بِٱلْحَقِّ) ও (وَتَوَاصَوا بِٱلصَّبْر)-কে পৃথক আয়াত হিসাবে গণ্য করা হ’লেও অন্যান্য সকল পদ্ধতিতে এই অংশটিকে একটি আয়াত হিসাবেই ধরা হয়েছে (ইমাম সাখাভী, জামালুল কুররা ওয়া কামালুল ইকরা ১/৩১৭-৩১৮)।
তাহ’লে দেখা যাচ্ছে যে, কুরআনের আয়াত সংখ্যার মতপার্থক্য কখনোই কুরআনের মূলপাঠের ভিন্নতা বা আয়াত কম-বেশী হওয়ার কারণে হয়নি। বরং তা নানাবিধ কারণে হয়েছে, যা আলোচ্য নিবন্ধে পর্যালোচনা করা হ’ল।
উপসংহার : কুরআনের আয়াত সংখ্যায় ভিন্নতা মূলত গণনার নিয়মে এবং ক্বিরাআতের পার্থক্যের কারণে হয়েছে। সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য ও প্রচলিত সংখ্যা হ’ল ৬২৩৬ যা কূফী গণনানুসারে হাফছ ক্বিরাআতের কপি। ৬৬৬৬ সংখ্যাটি দলীলভিত্তিক নয়। বরং লোকমুখে প্রচলিত একটি দুর্বল মত। আয়াত সংখ্যার এই পার্থক্য কুরআনের নির্ভরযোগ্যতা, সংরক্ষণ বা তাওহীদের শিক্ষায় কোন প্রভাব ফেলে না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন\
*.সিনিয়র শিক্ষক, রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ।
[1]. আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়া ১/১২৪।
[2]. আল-বুরহানু ফী ঊলূমিল কুরআন ১/২৫১-২৫২।
[3]. বাছায়ের যাভিত-তামীয ফী লাতাইফিল কিতাবিল আযীয ১/৫৫৮।
[4]. মানাহিলুল ইরফান ফী উলূমিল কুরআন ১/৩৪৪।
[5]. আল-ইতক্বান ফী উলূমিল কুরআন ১/২৩১।
[6]. ফুনূনুল আফনান ফী ঊউনি ঊলূমিল কুরআন ২৪২, ২৪৬ পৃ.।
[7]. তাফসীরুল কুরআনিল কারীম, সূরা ফাতিরের ১ আয়াতের তাফসীর দ্র.।
[8]. আল-বায়ান ফী আদাদি আইয়িল কুরআন, পৃ ২৭।
[9]. সুয়ূতী, আল-ইতকান ফী ঊলূমিল কুরআন ১/২৩২।
[10]. যারকাশী, আল-বুরহান ১/২৪২।
[11]. ওছমান ইবনু সাঈদ আদ-দানী, আল-বায়ান ফী আদাদি আইয়িল কুরআন, পৃ. ৬৭-৬৮।
[12]. মানাহিলুল ইরফান ফী উলূমিল কুরআন ১/৩৪৪।
[13]. আল-ইতক্বান ১/২৩১।
[14]. তারিখুল কুরআন ১১৯ পৃ.।
[15]. আল-কাউলুল বাদী‘ ফিছ ছালাতে আলাল হাবীবিশ শাফী‘ পৃ. ৩৪৫; জামালুল কুররা ওয়া কামালুল ইকরা‘ ১/২৭৪।
[16]. আল-ইতক্বান ফী ঊলূমিল কুরআন ১/১২৩।
[17]. ইমাম ইবনু কাছীর, ফাযায়েলুল কুরআন, তাহকীক, শুআইব আরনাউত্ব, (মুআস্সাতুর রিসালাহ, প্রথম প্রকাশ, ১৪১১ হি./১৯৯১ খৃ.), পৃ. ৪৭।
[18]. আব্দুল আযীম যুরক্বানী, মানাহিলুল ইরফান ফী উলূমিল কুরআন ১/৩৪৪; সূয়ূতী, আল-ইতক্বান ফী ঊলূমিল কুরআন ১/২৩৩-২৩৫, ৪/১৪৯-১৫১; যারকাশী, আল-বুরহানু ফী ঊলূমিল কুরআন ১/৪৮৮)।