রিয়া : কারণ ও প্রতিকার

রিয়া মানব চরিত্রের এক নিকৃষ্ট স্বভাব। আধুনিক আরবী সাহিত্যিক সাইয়েদ আহমাদ আল-হাশেমী বলেন,الرياء خصلة ذميمة تدعو إلى النفاق وسوء الأخلاق، ورداءة التمويه والخداع، ‘মুনাফেকী, অসৎ চরিত্র, নিকৃষ্ট ধোঁকা ও প্রতারণার দিকে আহবানকারী এক নিন্দনীয় স্বভাব হ’ল রিয়া’।[1] অত্যন্ত সন্তর্পণে এটি মানবহৃদয়ে প্রবেশ করে। মানুষ মূলত: তিনটি কারণে এ মনোব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। এছাড়া আরো প্রাসঙ্গিক কিছু কারণেও মানুষ রিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। আলোচ্য প্রবন্ধে রিয়া-র কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হ’ল।-

রিয়া-র কারণ সমূহ :

১. প্রশংসাপ্রেম :

প্রশংসা লাভের মনোবাসনা মানুষের স্বভাবজাত। ভালো-মন্দ, যোগ্য-অযোগ্য সবাই প্রশংসা শুনতে পছন্দ করে। প্রশংসাবৃষ্টিতে ভিজতে চায় না এমন মানুষ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া দুরূহ। কবির ভাষায়-

يَهْوَى الثَّنَاءَ مُبَرِّزٌ وَمُقَصِّرٌ * ‌حُبُّ ‌الثَّنَاءِ ‌طَبِيعَةُ الْإِنْسَانِ-

‘শ্রেষ্ঠ ও ব্যর্থ সবাই প্রশংসা পছন্দ করে। প্রশংসাপ্রেম মানুষের স্বভাবজাত’। এজন্য প্রশংসাপ্রেমকে বিদ্বানগণ রিয়ার প্রধান কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।[2] হাসান বাছরী (রহঃ) বলেছেন, ‌‌‌أَصْلُ ‌الرِّيَاءِ ‌حُبُّ الْمَحْمَدَةِ ‘রিয়ার মূল কারণ হল, প্রশংসাপ্রীতি’।[3]

নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও শাসকগোষ্ঠী সবসময় মানুষের নিকট থেকে আত্মপ্রশংসা শুনতে লালায়িত থাকে। তাদের কাজের প্রশংসা না করা হ’লে তারা অধীনস্তদের প্রতি অসন্তুষ্ট হন; এমনকি তারা তাদের নিপীড়ন ও ক্রোধের শিকার হন। এইসব নেতারা মানুষের প্রশংসা লাভের জন্য নিজেদের কিছু ভালো কাজ জনসম্মুখে প্রকাশ করেন। এটা এক ধরনের প্রতারণা।[4] এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُونَ بِمَا أَتَوْا وَيُحِبُّونَ أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا فَلَا تَحْسَبَنَّهُمْ بِمَفَازَةٍ مِنَ الْعَذَابِ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ‘যেসব লোকেরা তাদের কৃতকর্মে খুশী হয় এবং তারা যা করেনি, এমন কাজে প্রশংসা পেতে চায়, তুমি ভেব না যে, তারা শাস্তি থেকে বেঁচে যাবে। বস্ত্ততঃ তাদের জন্য রয়েছে মর্মান্তিক আযাব’ (আলে ইমরান ৩/১৮৮)। জগদ্বিখ্যাত মুফাস্সির হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,يعني بذلك المرائين المتكثرين بما لم يُعْطَوا، ‘এর মাধ্যমে লৌকিকতা প্রদর্শনকারী ঐ সকল মানুষ উদ্দেশ্য, তাদেরকে যা দেয়া হয়নি তা বেশী দেয়া হয়েছে বলে যারা দাবী করে’।[5] যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, وَمَنِ ادَّعَى دَعْوَى كَاذِبَةً لِيَتَكَثَّرَ بِهَا لَمْ يَزِدْهُ اللَّهُ إِلاَّ قِلَّةً ‘যে ব্যক্তি সম্পদ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে মিথ্যা দাবী করল, তা তার সম্পদের হ্রাসকেই বৃদ্ধি করে দিবে’।[6] তিনি আরো বলেন, الْمُتَشَبِّعُ بِمَا لَمْ يُعْطَ كَلاَبِسِ ثَوْبَىْ زُورٍ ‘যা তোমাকে দেয়া হয়নি, তা দেয়া হয়েছে বলা ঐরূপ প্রতারকের কাজ, যে প্রতারণার জন্য দু’প্রস্থ মিথ্যার পোষাক পরিধান করল’।[7]

বিভিন্ন মজলিসে আজকাল আত্মপ্রশংসা, লৌকিকতা ও গর্বের প্রবণতা বেড়ে গেছে। লোকেরা গর্ব ও অহংকার করে তাদের কীর্তিগুলো জনসম্মুখে তুলে ধরছে। কেউ কোন মসজিদ নির্মাণ করলে সে কিভাবে কাজটি শুরু করেছিল, নির্মাণ সম্পন্ন করতে কোন কোন সমস্যার সম্মুখীন হ’তে হয়েছিল, কিভাবে সেসব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে মসজিদ নির্মাণে সে সফল হয়েছে, সেসব কাহিনী গর্বভরে মানুষকে বলে বেড়াচ্ছে। আবার কোন দানশীল ব্যক্তি কিভাবে ইয়াতীম-অসহায়দের কাছে রোদ-বৃষ্টিতে ঘেমে নেয়ে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে সাহায্য পৌঁছিয়ে দিয়েছে সেসব গল্প মানুষকে শুনাচ্ছে। আবার কোন কোন দাঈকে দেখা যায়, তিনি কত কষ্ট স্বীকার করে আল্লাহর পথে মানুষকে দাওয়াত দিয়েছেন, কত বই বিতরণ করেছেন, দ্বীনী খিদমত আঞ্জাম দিতে গিয়ে কত নির্ঘুম রাত তাকে কাটাতে হয়েছে, সাক্ষাৎপ্রার্থীদের জ্বালায় তিনি অতিষ্ঠ ইত্যাদি ইত্যাদি বলে বেড়ান। উদ্দেশ্য হল, মানুষের কাছে তার এসব কীর্তি তুলে ধরে তাদের প্রশংসা লাভ করা।

মসজিদে নববীর ইমাম ও খতীব শায়খ আব্দুল মালেক আল-কাসেম বলেন, وهكذا يكون اللسان في كثير من المجالس وبالا على صاحبه ‘এভাবে অনেক মজলিসে জিহবা মানুষের জন্য বিপদ ডেকে নিয়ে আসছে’।[8] অথচ আল্লাহ বলছেন, ‘অতএব তোমরা আত্মপ্রসংসা করো না। তিনি সর্বাধিক অবগত কে আল্লাহকে ভয় করে’ (নাজম ৫৬/৩২)

২. মানুষের নিন্দা ও সমালোচনার ভয় :

মানুষের বিশেষ করে সঙ্গী-সাথী ও বন্ধু-বান্ধবের সমালোচনা ও নিন্দার ভয় রিয়ার অন্যতম কারণ। এদের সমালোচনার বিষাক্ত তীর থেকে বাঁচার জন্য সে নিজেকে তাদের সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করে যা তাদেরকে সন্তুষ্ট করে এবং তাদের সমালোচনার মুখ বন্ধ করে দেয়। আর গোপনে আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ-হারাম কাজে লিপ্ত হয়।[9] মহান আল্লাহ বলেন,يَسْتَخْفُونَ مِنَ النَّاسِ وَلَا يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَى مِنَ الْقَوْلِ وَكَانَ اللهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطًا ‘তারা লোকদের থেকে লুকাতে চায়, কিন্তু আল্লাহ থেকে লুকাতে চায় না। তিনি তাদের সঙ্গে থাকেন, যখন রাত্রিতে তারা (আল্লাহর) অপ্রিয় বাক্যে শলা-পরামর্শ করে। বস্ত্ততঃ আল্লাহ তাদের সকল কৃতকর্মকে বেষ্টন করে আছেন’ (নিসা ৪/১০৮)

এ বিপরীতধর্মী প্রবণতাই মানুষকে রিয়ার পথে ধাবিত করে এবং তার ধ্বংস ডেকে আনে। ইবনু কুদামা মাকদেসী বলেছেন, واعلم: ‌أن ‌أكثر ‌الناس إنما هلكوا لخوف مذمة الناس، وحب مدحهم، فصارت حركاتهم كلها على ما يوافق رضى الناس، رجاء المدح، وخوفاً من الذم، وذلك من المهلكات، فوجبت معالجته، ‘জেনে রাখুন! নিশ্চয়ই অধিকাংশ লোক মানুষের নিন্দাবাদের ভয়ে এবং তাদের প্রশংসা লাভের বাসনায় ধ্বংস হয়েছে। প্রশংসা লাভের আশায় এবং নিন্দার ভয়ে তাদের চলাফেরা-উঠাবসা সবকিছুই মানুষের মর্যিমাফিক হয়ে থাকে। আর এটি ধ্বংসকারী বিষয় সমূহের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই অবশ্যই এর চিকিৎসা প্রয়োজন’।[10]

হামদূন আল-কাস্সারকে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘আমাদের কথার চেয়ে সালাফ বা পৃর্বসূরী বিদ্বানদের কথা বেশী উপকারী ও প্রভাব বিস্তারকারী হওয়ার কারণ কি’? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘তাঁরা কথা বলতেন দ্বীনের স্বার্থে, ইসলামের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য, পরকালে নিজেদের মুক্তির লক্ষ্যে এবং আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য’। وَنَحْنُ نَتَكَلَّمُ لِعِزِّ النَّفْسِ وَطَلَبِ الدُّنْيَا وَقَبُولِ الْخَلْقِ، ‘আর আমরা কথা বলি নিজেদের মর্যাদা বৃদ্ধি, দুনিয়াবী স্বার্থসিদ্ধি এবং মানুষকে সন্তুষ্ট করার জন্য’।[11] এজন্য হুসাইন বিন যিয়াদ বলেছেন, إِذَا جَلَسْتَ فَتَكَلَّمْتَ وَلَمْ تُبَالِ مَنْ ذَمَّكَ وَمَنْ مَدَحَكَ مِنَ اللهِ فَتَكَلَّمَ ‘কারো প্রশংসা ও নিন্দার তোয়াক্কা না করে যখন আপনি মজলিসে কথা বলেন, তখনই আপনি আল্লাহর

সন্তুষ্টির জন্য কথা বলেন’।[12]

৩. মান-মর্যাদার লোভ :

ইবনু কুদামা মাকদেসী বলেন, اعلم أن ‌أصل ‌الرياء ‌حب الجاه والمنزلة، ‘জেনে রাখুন! সম্মান-মর্যাদার লোভ রিয়ার মূল কারণ’।[13] তিনি আরো বলেন,اعلم أن ‌أصل الجاه هو حب انتشار الصيت والاشتهار ‘জেনে রাখুন! সুনাম ছড়িয়ে পড়া ও প্রসিদ্ধি লাভের মনোবাসনাই হল মান-মর্যাদা লাভের মূল কথা’।[14] এজন্যই তিনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে বলেছেন, ‌وكم ‌من ‌عابد اعتزل في جبل، وراهب انزوى إلى دير، مع قطع طمعهم من مال الناس، لكنه يحب مجرد الجاه ‘বহু আবেদ নির্জন পাহাড়ে ইবাদতে নিমগ্ন থেকেছে এবং বহু পাদ্রী-সন্ন্যাসী গির্জা ও উপসনালয়ের নিভৃত কোণে অবস্থান করেছে স্রেফ মর্যাদা লাভের জন্য। মানুষের সম্পদের প্রতি তাদের কোন মোহ ছিল না’।[15]

মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়ার প্রবণতাই হল সম্মান-মর্যাদার মোহ। যার অন্তরে মান-মর্যাদা লাভের এই প্রবণতা দানা বাঁধে সে সর্বদা জনতুষ্টবাদী নীতি গ্রহণ করে। মর্যাদা লাভের জন্য সে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘোরাঘুরি করে এবং তাদেরকে দেখিয়ে দেখিয়ে ও জানান দিয়ে সব কাজ করে। মানুষকে দেখানোর ও তাদের ভালোবাসা অর্জনের জন্য সে এমনসব কথা ও কাজ করে, যা তাকে মানুষের নিকট মর্যাদাবান ও মহান করে তুলবে। অথচ এতেই মুনাফেকীর বীজ নিহিত রয়েছে। এটি এক ধ্বংসাত্মক ব্যাধিও বটে। কারণ যে ব্যক্তি মানুষের মনে জায়গা করে নেয়ার বাসনা লালন করে সে তাদের সামনে তার এমনসব গুণ প্রকাশ করে যা আদতে তার মধ্যে নেই। এর ফলে সে ইবাদতের ক্ষেত্রে রিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে, নিষিদ্ধ কাজে প্রবৃত্ত হয় এবং নানা চটকদার কথা ও কৌশলের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করতে সচেষ্ট হয়।[16] এজন্যই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,مَا ذِئْبَانِ جَائِعَانِ أُرْسِلاَ فِى غَنَمٍ بِأَفْسَدَ لَهَا مِنْ حِرْصِ الْمَرْءِ عَلَى الْمَالِ وَالشَّرَفِ لِدِينِهِ ‘দু’টি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে ছাগপালের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া অত বেশী ধ্বংসকর নয়, যত না বেশী মাল ও মর্যাদার লোভ মানুষের দ্বীনের জন্য ধ্বংসকর’।[17]

হাদীছটি দুনিয়ার স্বার্থে দ্বীন নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর দেওয়া অত্যন্ত মূল্যবান একটি উপমা। রাতের বেলা রাখাল বিহীন ছাগপালের খোয়াড়ে ঢুকে দু’টি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘ যেভাবে ইচ্ছামত বকরী মেরে শেষ করে দেয়। যার হামলা থেকে কোন বকরীই রেহাই পায় না। অনুরূপভাবে অর্থ-সম্পদ এবং নাম-যশ ও পদের লোভ মুমিনদের ঈমানের জ্যোতিকে নিভিয়ে দেয় ও তার দ্বীনকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়।[18]

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর একটি হাদীছ থেকে উপরোক্ত তিনটি কারণই প্রমাণিত হয়। আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَرَأَيْتَ الرَّجُلَ يُقَاتِلُ شُجَاعَةً، وَيُقَاتِلُ حَمِيَّةً، ‌وَيُقَاتِلُ ‌رِيَاءً، فَأَيُّ ذَلِكَ فِي سَبِيلِ اللهِ؟ قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ قَاتَلَ لِتَكُونَ كَلِمَةُ اللهِ عز وجل هِيَ الْعُلْيَا، فَهُوَ فِي سَبِيلِ اللهِ عز وجل، ‘একজন ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য জিহাদ করে, কেউ ক্রোধের বশবর্তী হয়ে জিহাদ করে আবার কেউ মানুষকে দেখানোর জন্য জিহাদ করে, এদের মধ্যে কে আল্লাহর পথে জিহাদ করে? রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য জিহাদ করল, সে আল্লাহর পথে জিহাদ করল’।[19]

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বাণী : يُقَاتِلُ شُجَاعَةً ‘বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য জিহাদ করে’ অর্থাৎ মানুষ যেন তার বীরত্বের কথা স্মরণ করে তার কৃতজ্ঞতা আদায় করে এবং তার প্রশংসা ও গুণকীর্তন করে। َيُقَاتِلُ حَمِيَّةً ‘ক্রোধের বশবর্তী হয়ে জিহাদ করে’ অর্থাৎ সে পরাজিত অথবা নিন্দিত হওয়া অপছন্দ করে। َيُقَاتِلُ رِيَاءً ‘মানুষকে দেখানোর জন্য জিহাদ করে’ অর্থাৎ মানুষ যেন তার অবস্থান ও মর্যাদা দেখতে ও বুঝতে পারে’। এগুলোই হল অন্তরে মান-মর্যাদা লাভের লোভ ও আকাঙ্ক্ষা।[20]

ইবনু কুদামা মাকদেসী বলেন, ‌فهذه ‌الأمور ‌الثَّلَاثَةُ ‌هِيَ الَّتِي تُحَرِّكُ الْمُرَائِيَ إِلَى الرِّيَاءِ ‘এই তিনটি বিষয়ই মানুষকে রিয়ার প্রতি ধাবিত ও প্রলুব্ধ করে’।[21]

এই তিনটি কারণের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হল প্রশংসাপ্রেম। কারণ প্রশংসা লাভের জন্য মানুষ নানারকম কৌশল অবলম্বন করে ও এজন্য দেদারসে অর্থ ব্যয় করে। এমনকি প্রশংসাপ্রীতির জন্যই সে মানুষের নিন্দাকে ভয় করে। ফলে যেকোন উপায়ে মানুষের প্রশংসা লাভই রিয়াকারীর কাছে মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) তাইতো বলেছেন, لَا يجْتَمع الْإِخْلَاصُ فِي الْقلب ومحبة الْمَدْح وَالثنَاء والطمع فِيمَا عِنْد النَّاس إِلَّا كَمَا يجْتَمع المَاء وَالنَّار والضب والحوت فَإِذا حدثتك نَفسك بِطَلَب الْإِخْلَاص فَأقبل على الطمع أَولا فاذبحه بسكين الْيَأْس وَأَقْبل على الْمَدْح وَالثنَاء فازهد فيهمَا زهد عشّاق الدُّنْيَا فِي الْآخِرَة فَإِذا استقام لَك ذبح الطمع والزهد فِي الثَّنَاء والمدح سهل عَلَيْك الْإِخْلَاص ‘আগুন ও পানি এবং মাছ ও সাপ যেমন এক জায়গায় থাকতে পারে না, তেমনই যে অন্তরে প্রশংসার মোহ এবং মাল ও মর্যাদার লোভ-লালসা থাকে, সেখানে ইখলাছ থাকতে পারে না। তুমি যদি ইখলাছ অর্জন করতে চাও, তাহলে প্রথমত লোভ-লালসাকে নৈরাশ্যের চাকু দিয়ে যবেহ করে ফেলো। দুনিয়াপ্রেমী যেভাবে আখিরাত থেকে উদাসীন থাকে, তেমনি প্রশংসা ও তোষামোদ থেকে দূরে থাক। তুমি যদি লোভ-লালসাকে যবেহ করতে পারো এবং প্রশংসা শোনা পরিত্যাগ করতে পারো, তবে ইখলাছ অর্জন করা তোমার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে’।[22]

৪. পদের লোভ :

কখনো কখনো পদের লোভ মানুষকে রিয়া ও সুম‘আ তথা প্রদর্শনী ও শ্রুতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। সে নেতৃত্ব ও পদ লাভের জন্য এমন ব্যক্তিদের আস্থাভাজন হওয়ার চেষ্টা করে, যাদের হাতে পদে বসানোর ক্ষমতা রয়েছে। এভাবে রিয়ার মাধ্যমে সে নিজেকে পদের যোগ্য প্রমাণের জন্য নেতার মিথ্যা প্রশংসা, তৈলমর্দন ও তোষামোদী সহ হেন কোন অপচেষ্টা নেই যা করে না।

৫. পরিবারে রিয়ার চর্চা :

সন্তান যদি এমন পরিবারে বেড়ে উঠে, যেখানে লৌকিকতা ও শ্রুতির চর্চা হয় প্রতিনিয়ত, তাহলে পারিবারিক প্রভাবে এই বদ-স্বভাবের অনুকরণ করা ছাড়া তার কোন গত্যন্তর থাকে না। সময়ের পরিক্রমায় এই দুষ্টক্ষত তার অন্তরে এমনভাবে আসন গেঁড়ে বসে যে, রিয়া তার স্বভাবের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়।[23]

৬. আল্লাহর প্রকৃত পরিচয় না জানা :

প্রত্যেক মুসলিমের উপর অবশ্য কর্তব্য হল, আল্লাহর পরিচয়, তাঁর মর্যাদা, ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, ইচ্ছা প্রভৃতি সম্পর্কে অবগতি লাভ করা। ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেন, وليست حاجةُ الأرواح قطُّ إلى شيء أعظمَ منها إلى معرفة بارئها وفاطرها، ومحبته، وذكره، والابتهاج به، وطلب الوسيلة إليه، والزلْفى عنده. ولا سبيل إلى هذا إلّا بمعرفة أوصافه وأسمائه، فكلّما كان العبد بها أعلَم كان بالله أعرَف، وله أطلَب، وإليه أقرَب. وكلّما كان لها أنكَر كان بالله أجهَل، وإليه أكرَه، ‌ومنه ‌أبعَد ‘স্রষ্টার পরিচয় জানা, তাঁকে ভালবাসা, তাকে স্মরণ করা, তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, তার কাছে অসীলা ও নৈকট্য কামনা করার চেয়ে রূহের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় কোন বস্ত্ত নেই। আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর পরিচয় জানা ছাড়া এগুলো অর্জনের কোন উপায় নেই। বান্দা যত বেশী আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর পরিচয় জানবে, সে তত বেশী আল্লাহকে চিনতে পারবে, তার প্রিয় বান্দা হতে পারবে এবং তার নৈকট্য হাছিল করতে পারবে। আর আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে যত কম জানবে, সে আল্লাহ সম্পর্কে তত বেশী অজ্ঞতার মধ্যে ডুবে থাকবে, তার অপ্রিয় বান্দায় পরিণত হবে এবং তার থেকে দূরে সরে যাবে’।[24] সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা অথবা জানার ঘাটতি থাকলে আল্লাহকে যথার্থভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয় না। সেজন্য আল্লাহর পরিচয় ও ক্ষমতা সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তি মনে করে নেয় যে, বান্দা তার কোন উপকার বা ক্ষতি করতে পারে। তখন সে তার প্রত্যেকটি সৎ আমল মানুষকে দেখানো বা শুনানোর জন্য করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। যাতে তার ধারণামতে বান্দার মালিকাধীন কোন বিষয় সে লাভ করতে পারে।[25]

ইয়াহ্ইয়া বিন মু‘আয (২১৫-২৫৮হি.) বলেন,عجبت من ثلاث : رجل يرائي بعمله مخلوقًا مثله ويترك أن يعمله لله، ورجل يبخل بماله وربه يستقرضه منه فلا يقرضه منه شيئًا، ورجل يرغب فى صحبة المخلوقين ومودتهم والله يدعوه إلى صحبته ومودته. ‘আমি তিন শ্রেণীর মানুষকে দেখে বিস্মিত হই। ১. যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমল করার পরিবর্তে তার মতো একজন মাখলূককে দেখানোর জন্য আমল করে। ২. ঐ ব্যক্তি যে তার সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃপণতা করে। তার রব তার কাছে ঋণ চায় অথচ সে তার সম্পদ থেকে আল্লাহকে কোন ঋণ প্রদান করে না। ৩. যে ব্যক্তি মাখলূকের সাহচর্য ও ভালবাসা পেতে চায় অথচ আল্লাহ তাকে তার সাহচর্য ও ভালবাসার দিকে ডাকছেন’।[26]

৭. রিয়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে অজ্ঞতা :

রিয়া অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মানুষের অন্তরে প্রবেশ করে তার আমলকে বিনষ্ট করে দেয়। এটি দাজ্জালের চেয়েও ভয়ংকর ও বিপজ্জনক।[27] সুতরাং রিয়ার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে না

জানার কারণেও অনেকে রিয়ায় জড়িয়ে পড়ে।

৮. মুখলিছ বান্দাদের জন্য আল্লাহর ওয়াদা সম্পর্কে বিশ্বাসের দুর্বলতা :

যে খাঁটি বা নির্ভেজালভাবে আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি প্রদান করে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে না, তাকে মুখলিছ বা একনিষ্ঠ বলে। মুখলিছ বান্দাদের জন্য যে অফুরন্ত ছওয়াব ও প্রতিদানের অঙ্গীকার আল্লাহ করেছেন, সে সম্পর্কে দুর্বল বিশ্বাসের কারণেও মানুষ রিয়ায় লিপ্ত হয়।

৯. আত্মতুষ্টি :

আত্মতুষ্টি এক মারাত্মক ব্যাধি। এ রোগ বহু মানুষকে ধ্বংসের অতল গহবরে নিক্ষেপ করেছে। কোন মানুষ যখন দুনিয়াবী সম্পদ, নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব, পদমর্যাদা প্রভৃতি লাভ করে তখন সে আত্মতুষ্টির ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। এত্থেকেই আত্মঅহংকারের জন্ম হয়।[28]

আত্মতুষ্টি (العُجْبُ) হল, هو ‌استعظام ‌النعمة والركون إليها مع نسيان إضافتها إلى المنعم ‘নিয়ামতকে বড় মনে করা এবং নিয়ামতদাতার কথা ভুলে গিয়ে নিয়ামতের দিকে ঝুঁকে পড়া’।[29]

আবু ওয়াহাব আল-মারওয়াযী বলেন,

سألت ابن المبارك : ما الكبر؟ قال : أن تزدري الناس قال : وسألته عن العجب قال : أن ترى عندك شيئا ليس عند غيرك قال : و لا أعلم في المصلين شيئا شرا من العجب-

‘আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে জিজ্ঞাসা করলাম, অহংকার কি? তিনি জবাবে বললেন, ‘মানুষকে তুচ্ছ-হীন গণ্য করা’। অতঃপর আমি তাকে আত্মতুষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, ‘তোমার কাছে এমন কিছু আছে যা অন্যের কাছে নেই- এমনটি ভাবাই আত্মতুষ্টি’। ইবনুল মুবারক বলেন, ‘আমি মুছল্লীদের মধ্যে আত্মতুষ্টির চেয়ে ক্ষতিকর কোন জিনিস আছে বলে জানি না’।[30]

অনেকে নিজের সুস্থতা, সুস্বাস্থ্য, দেহসৌষ্ঠব, সুন্দর আকৃতি, বিদ্যা-বুদ্ধি, সম্পদ, বংশমর্যাদা, সন্তান-সন্ততি, দান-ছাদাক্বাহ, ইবাদত-বন্দেগী প্রভৃতি নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগেন। অথচ মাসরূক (রহঃ) বলেন, كَفَى بِالْمَرْءِ عِلْمًا أَنْ يَخْشَى اللهَ، وَكَفَى بِالْمَرْءِ جَهْلًا أَنْ يُعْجَبَ بِعِلْمِهِ ‘মানুষ জ্ঞানী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে আল্লাহকে ভয় করে এবং কোন মানুষের মূর্খ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে নিজের আমল নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগে’।[31]

অনেক সময় নিজের আমলের প্রতি মানুষের মুগ্ধতা প্রকাশ রিয়া ও শ্রুতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে মানুষ যেন তার প্রতি আরো বিমুগ্ধ-বিমোহিত হয়, সে চেষ্টা সে করে যেতে থাকে। ইবনুল জাওযী (রহঃ) বলেন,وأما الرياء فلا عذر فيه لأحد ولا يصلح أن يجعل طريقا لدعاية الناس ‘ইসলামী শরী‘আতে প্রদর্শনী বা আত্মপ্রচারের অবকাশ কারো জন্য নেই। আর মানুষকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য রিয়ার পথ অবলম্বন করাও শরী‘আতসম্মত নয়’।[32]

আত্মতুষ্টির ব্যাধি আমলকে ধ্বংস করে দেয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,ثَلاثٌ مُنْجِيَاتٌ، وَثَلاثٌ مُهْلِكَاتٌ، فَأَمَّا الْمُنْجِيَاتُ: فَتَقْوَى اللهِ فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ، وَالْقَوْلُ بِالْحَقِّ فِي الرِّضَا وَالسَّخَطِ، وَالْقَصْدُ فِي الْغِنَى وَالْفَقْرِ
وَأَمَّا الْمُهْلِكَاتُ: فَهَوًى مُتَّبَعٌ، وَشُحٌّ مُطَاعٌ، وَإِعْجَابُ الْمَرْءِ بِنَفْسِهِ، وَهِيَ أَشَدُّهُنَّ ‘তিনটি জিনিস মুক্তিদাতা এবং তিনটি জিনিস ধ্বংসকারী। মুক্তিদাতা তিনটি জিনিস হল, গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা, সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি উভয় অবস্থায় সত্য কথা বলা, ধনাঢ্যতা ও দরিদ্রতায় মিতব্যয়িতা। আর ধ্বংসকারী তিনটি বস্ত্ত হল, প্রবৃত্তির দাস হওয়া, কৃপণতা এবং আত্মতুষ্টি-আত্মঅহংকার। আর এটিই সবচেয়ে মারাত্মক’।[33] আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) বলেন,‌الْهَلَاكُ ‌فِي ‌اثْنَتَيْنِ، الْقُنُوطِ وَالْعُجْبِ ‘দুটি জিনিসে ধ্বংস রয়েছে। নৈরাশ্য ও আত্মতুষ্টি’।[34]

ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, لا شيءَ أفسدُ للأعمال ‌من ‌العُجْب ‌ورؤية ‌النفس ‘আত্মতুষ্টি ও আত্মমুগ্ধতার চেয়ে অধিক আমল বিনষ্টকারী আর কিছু নেই’।[35]

ইমাম নববী বলেন, اعلم أن الإخلاص ‌قد ‌يعرض ‌له ‌آفة ‌العُجب، فمن أعجب بعمله حبط عمله، وكذلك من استكبر حبط عمله، ‘জেনে রাখুন! কখনো কখনো ইখলাছের সামনে আত্মতুষ্টির বিপদ বাঁধ সাধতে পারে। যে নিজের আমল নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগে, তার আমল ধ্বংস হয়ে যায়। অনুরূপ ভাবে যে অহংকার করে, তার আমলও ধ্বংস হয়ে যায়’।[36]

১০. অসৎসঙ্গ :

কারো সঙ্গী বা বন্ধু যদি অসৎ ও রিয়াকার হয়, তাহলে সে তার অন্ধ অনুকরণের ফলে লৌকিকতায় জড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে যদি সে দুর্বল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ও অন্যদের দ্বারা বেশী প্রভাবিত হয়। কালের পরিক্রমায় এই ব্যাধি তার অন্তরে জেঁকে বসে।[37] এজন্য হাদীছে অসৎসঙ্গীকে কামারের হাপরে ফুঁকদানকারীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। যার কাছে গেলে দুর্গন্ধ পাওয়া যায় অথবা সে কাপড় জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেয়।[38] অর্থাৎ অসৎসঙ্গীর কাছ থেকে ক্ষতি ও অকল্যাণ ছাড়া কিছুই আশা করা যায় না। [ক্রমশঃ]


[1]. সাইয়েদ আহমাদ আল-হাশেমী, দীওয়ানুল ইনশা (বৈরূত : আল-মাকতাবাতুল আছরিইয়াহ, ১৪২৫ হি./২০০৪ খৃ.), ১ম খন্ড, পৃ. ১৪১-৪২

[2]. আল-হারিছ আল-মুহাসিবী, আর-রি‘আয়াতু লি হুকূকিল্লাহ, তাহকীক : আব্দুল কাদের আহমাদ আতা (বৈরূত : দারুল কুতুব আল-ইলমিইয়াহ, ৪র্থ সংস্করণ, তাবি), পৃ. ১৬৯; ইবনু কুদামা মাকদেসী, মুখতাছার মিনহাজুল কাছেদীন, পৃ. ২২২

[3]. ইবনু আবিদ দুনয়া, কিতাবুল আওলিয়া ১/৬৯

[4]. সালীম আল-হেলালী, আর-রিয়া, পৃ. ২৬

[5]. তাফসীর ইবনে কাছীর ২/২০১

[6]. মুসলিম হা/১১০, ‘ঈমান’ অধ্যায়

[7]. বুখারী হা/৫২১৯; মুসলিম হা/২১২৯

[8]. মিফতাহু দাওয়াতির রুসুল, পৃ. ২০-২১

[9]. যাহের আশ-শাহরী, আশ-শিরকুল খফী, পৃ. ৩৪

[10]. মুখতাছার মিনহাজুল কাছেদীন, পৃ. ২১২

[11]. ছিফাতুছ ছাফওয়া ২/১২২

[12]. হিলয়াতুল আওলিয়া ৮/৯১

[13]. মুখতাছার মিনহাজুল কাছেদীন, পৃ. ২২২

[14]. ঐ, পৃ. ২০৯

[15]. ঐ, পৃ. ২১৭

[16]. ঐ, পৃ. ২১১

[17]. তিরমিযী হা/২৩৭৬; মিশকাত হা/৫১৮১, সনদ ছহীহ

[18]. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব, মাল ও মর্যাদার লোভ (রাজশাহী : হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ৩য় প্রকাশ, আগস্ট ২০২৩), পৃ. ৫-৬

[19]. বুখারী হা/২৮১০; মুসলিম হা/১৯০৪; আহমাদ হা/১৯৫৪৩; শব্দ সমূহ আহমাদের

[20]. মুখতাছার মিনহাজুল কাছেদীন, পৃ. ২২২; কাহতানী, নূরুল ইখলাছ, পৃ. ৪৪

[21]. মুখতাছার মিনহাজুল কাছেদীন, পৃ. ২২২

[22]. ইবনুল কাইয়িম, আল-ফাওয়াইদ, পৃ. ১৮২

[23]. আশ-শিরকুল খফী, পৃ. ৩০-৩১

[24]. ইবনুল ক্বাইয়িম, নূনিয়াতু ইবনিল ক্বাইয়িম আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ (রিয়াদ : দারু আত্বা‘আতিল ইলম, ৪র্থ সংস্করণ, ১৪৪০ হি./২০১৯ খৃ.), পৃ. ৯

[25]. আশ-শিরকুল খফী, পৃ. ৩০-৩১

[26]. আল-ফাওয়াইদ, পৃ. ১৪৬

[27]. ইবনু মাজাহ হা/৪২০৮, ‘রিয়া ও সুম‘আ’ অনুচ্ছেদ, ছহীহ তারগীব হা/২৭; মিশকাত হা/৫৩৩৩, হাদীছ হাসান

[28]. আব্দুর রায্যাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বাদর, আহাদীছু ইছলাহিল কুলূব, পৃ. ৫৭৪-৭৫

[29]. গাযালী, ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন, ৩/৩৭১

[30]. বায়হাকী, শু‘আবুল ঈমান হা/৮২৬০

[31]. ইবনু আব্দিল বার্র, জামি‘উ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহী (সঊদী আরব : দারু ইবনিল জাওযী, ১ম প্রকাশ, ১৪১৪হি./১৯৯৪খৃ.), ১/৫৬৯; যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ৪/৬৮

[32]. তালবীসু ইবলীস, পৃ. ১১৬

[33]. বায়হাকী, শু‘আবুল ঈমান হা/৭৩১; মিশকাত হা/৫১২২; সনদ হাসান

[34]. ইবনু হাজার হায়তামী, আয-যাওয়াজির আন ইকতিরাফিল কাবায়ের, ১/১২১, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব, আল-কাবায়ের, পৃ. ৫

[35]. আল-ফাওয়াইদ, পৃ. ১৮৬-৮৭।

[36]. মাওসূ‘আতুল আখলাক আল-ইসলামিয়াহ ২/৩৪৫

[37]. আশ-শিরকুল খফী, পৃ. ৩০

[38]. বুখারী হা/৫৫৩৪






শরী‘আহ আইন বনাম সাধারণ আইন : একটি পর্যালোচনা - ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব
চুল ও দাড়িতে কালো খেযাব ব্যবহারের বিধান - মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম
দ্বীনের পথে ত্যাগ স্বীকার (৫ম কিস্তি) - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
ইয়াতীম প্রতিপালন - ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন
জামা‘আতবদ্ধ জীবন যাপনের আবশ্যকতা (২য় কিস্তি) - মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম
আশূরায়ে মুহাররম - আত-তাহরীক ডেস্ক
হজ্জ : ফযীলত ও উপকারিতা - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
ঈদায়ন সম্পর্কিত কতিপয় ত্রুটি-বিচ্যুতি - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
আল্লামা আলবানী সম্পর্কে শায়খ শু‘আইব আরনাঊত্বের সমালোচনার জবাব (৪র্থ কিস্তি) - আহমাদুল্লাহ - সৈয়দপুর, নীলফামারী
কুরআন ও হাদীছের আলোকে ‘সোনামণি’র ৫টি নীতিবাক্য - ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম
ইলম অনুযায়ী আমল না করার পরিণাম - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
আল্লাহর জন্য কাউকে ভালবাসা - মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদূদ
আরও
আরও
.