উত্তর : অনর্থক সময় অপচয়ের জন্য সে অবশ্যই গোনাহগার হবে। আল্লাহ বলেন, ‘যারা তাদের দ্বীনকে খেল-তামাশা ও ক্রীড়ায় পরিণত করেছিল এবং পার্থিব জীবন তাদের ধোঁকায় ফেলে রেখেছিল। সুতরাং আজ আমি তাদের ভুলে যাব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতের কথা ভুলে গিয়েছিল (আ‘রাফ ৭/৫১)। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই’ (বনু ইস্রাঈল ১৭/২৭)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, কিবয়ামতের দিন আদম সন্তানের পা দুই কদমও সরবে না, যতক্ষণ না তাকে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে। (১) তার জীবন সম্পর্কে। তা সে কোন কাজে ব্যয় করেছে। (২) তার যৌবনকাল সম্পর্কে। তা সে কিসে জীর্ণ করেছে। (৩) তার ধন-সম্পদ সম্পর্কে। তা সে কোথা থেকে উপার্জন করেছে এবং (৪) তা সে কিসে ব্যয় করেছে। (৫) সে তার ইল্ম অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে’ (তিরমিযী হা/২৪১৭,সনদ ছহীহ; মিশকাত হা/৯১৫৭)। তিনি বলেন, ‘একজন ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হ’ল, অনর্থক বিষয় পরিহার করা’ (তিরমিযী হা/২৩১৬; মিশকাত হা/৪৮৩৯)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, সময় তরবারির মতো, তুমি যদি তাকে কাজে লাগিয়ে অতিক্রম না করো, তবে সময়ই তোমাকে গ্রাস করবে (ইবনুল ক্বাইয়িম, আল-জাওয়াবুল কাফী..পৃ. ১৫৬)। ইবনুল ক্বাইয়িম বলেন, ‘প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তি তাঁর সময়ের সদ্ব্যবহার করেন। তিনি সময় নষ্ট করলে তাঁর সব কল্যাণই হাতছাড়া হয়ে যায়। কারণ সব কল্যাণই সময় থেকে অর্জিত হয়। আর সময় একবার নষ্ট করলে তা আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না’ (আল-জাওয়াবুল কাফী, পৃ. ১৫৬)। ইমাম মাওয়ার্দী (রহঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার কোন একটি দিন এমনভাবে অতিবাহিত করল যেদিন সে কোন প্রাপ্য অধিকার আদায় করল না, কোন ফরয দায়িত্ব পালন করল না, কোন মহৎ কীর্তি প্রতিষ্ঠা করল না, কোন প্রশংসনীয় কাজ করল না, কোন কল্যাণকর কাজের ভিত্তি স্থাপন করল না এবং কোন জ্ঞান অর্জন করল না, সে মূলত তার দিনটির প্রতি অবিচার করল এবং নিজের উপর যুলুম করল (আদাবুদ্দুনইয়া ওয়াদ দ্বীন পৃ. ৫৫)। উল্লেখ্য যে, ফেসবুক বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া দেখা সরাসরি গোনাহের কাজ নয়, যদি তাতে অশ্লীল কিছু দেখা না হয়। কিন্তু অনর্থক বিনোদনে সময় অপচয় করার জন্য গোনাহ হবে।
প্রশ্নকারী : মু‘আয, ময়মনসিংহ।