বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘ক্ষুদ্র খাদ্য উৎপাদনকারীদের আয় ও উৎপাদনশীলতা জরিপ ২০২৫’-এর তথ্যমতে, দেশের মোট কৃষকের ৫৩.৬৫ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষক। তাদের বার্ষিক গড় আয় মাত্র ৩৩ হাযার ৬৩৯ টাকা। অন্যদিকে বৃহৎ কৃষকদের গড় আয় ১ লাখ ২৯ হাযার ৯৫৬ টাকা। দেশের আটটি বিভাগের ১২ হাযার ৮৭৯টি পরিবারের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায়, জমির পরিমাণ, গবাদিপশুর সংখ্যা ও কৃষি আয়ের ভিত্তিতে চিহ্নিত নিচের ৪০ শতাংশ ক্ষুদ্র উৎপাদকের গড় জমির পরিমাণ মাত্র ৩৩.৫ শতাংশ, যেখানে বড় কৃষকদের রয়েছে ১২৩.৫ শতাংশ। ফলে জাতীয় গড় আয়ের হিসাব মূলত ক্ষুদ্র কৃষকদের বাস্তব আর্থিক দৈন্যকে আড়াল করে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, বাজার ব্যবস্থার সিন্ডিকেট এবং স্বল্প আয়ের কারণে ক্ষুদ্র কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ও নতুন বিনিয়োগে পিছিয়ে পড়ছেন। ফলে অনেকেই কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। কৃষকদের এই আয় বৈষম্য দূর করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না হ’লে ভবিষ্যতে দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।