২০২৬ সালের জুলাইয়ের বর্ষা মৌসুমে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের ফলে দেশের বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে মারাত্মক বন্যা ও ভুমিধ্বসের ঘটনা ঘটে। আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষ। পানির তোড়ে ভেসে যায় হাস-মুরগী, গবাদীপশু ও পুকুরের মাছ। তলিয়ে যায় ফসলের মাঠ। ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব-এর নির্দেশনায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও তার অঙ্গ সংগঠন সমূহ প্রতিবারের ন্যায় এবারও সাধ্যমত বানভাসী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ত্রাণ তহবিল থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে কেন্দ্রীয় ও যেলা দায়িত্বশীলগণ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী এবং অন্যান্য সাহায্য অসহায় মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পৌছে দেন। বিস্তারিত নিম্নরূপ-
১৪ই জুলাই মঙ্গলবার বাঁশখালী, চট্টগ্রাম : অদ্য বিকাল ৩-টায় ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম যেলা দায়িত্বশীলদের সহযোগিতায় সুরাইয়া নূর ইসলামিক সেন্টারকে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র হিসাবে ঘোষণা করা হয়। সেখান থেকে বাঁশখালী উপযেলাধীন বন্যা প্লাবিত ছনুয়া ইউনিয়নের চকলাপাড়া, ছেনবনগ্রামের ৩০০টি পরিবারের নিকট ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়।
১৫ই জুলাই বুধবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার : অদ্য দুপুর ১-টায় চট্টগ্রাম যেলার সাতকানিয়া উপযেলার ত্রাণ বিতরণ সাব-সেন্টার কেরানীহাটের আনুফকিরের দোকান থেকে মোট ২৫০টি পরিবারের নিকট ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। অতঃপর দায়িত্বশীলগণ রওয়ানা হন পরবর্তী সাব-সেন্টার যেলার লোহাগাড়া উপযেলায়। সেখান থেকে প্রায় ৩০০টি পরিবারের নিকট ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করা হয়। অতঃপর তারা রওয়ানা হন পরবর্তী সাব-সেন্টার কক্সবাজারের চকরিয়া উপযেলার ভাঙারমুখ বাজারে। সেখানেও প্রায় প্রায় ২৫টি পরিবারের নিকট ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। দায়িত্বরত কর্মীবৃন্দ প্লাবিত বানভাসি মানুষদের নিকট সুশৃংখলভাবে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেন।
উক্ত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফায়ছাল মাহমূদ, সাংগঠকি সম্পাদক আহমাদুল্লাহ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান। এছাড়াও চট্টগ্রাম যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি হাফেয শেখ সাদী, যেলা যুবসংঘের সভাপতি জসীমুদ্দীন, কুমিল্লা যেলা ‘আন্দোলন’-এর দফতর সম্পাদক বেলাল হোসাইন, ফেনী যেলা পেশাজীবী ফোরামের সভাপতি ছাদিকুন নূর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, উক্ত ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাবতীয় শিরক ও বিদআত হ’তে বেঁচে থেকে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া হয়। বাঁশখালী উপযেলার ছনুয়া ইউনিয়নের বন্যার্তদের ভাষ্যমতে, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় সকলেই সামনের বানভাসী এলাকায় ত্রাণ দিয়েই ফিরে যায়। তাদের নিকট কেউ আসতে চায় না। ‘আন্দোলন’-এর ত্রাণসামগ্রী তাদের নিকট পৌঁছাতে এলাকাবাসী অনেক খুশী হন ও সংগঠনের জন্য দো‘আ করেন।