‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর উত্তরাঞ্চলীয় মারকায হিসাবে ১৯৯৪ সালে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক নারুলী আহলেহাদীছ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সটি গত ১২ই জুন ২০২৬ শুক্রবার দীর্ঘ ২৫ বছর পর দখলমুক্ত হয়েছে। ফালিল্লাহিল হাম্দ।
‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক এবং ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন শিক্ষাবোর্ড’-এর চেয়ারম্যান ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব এদিন জুম‘আর খুৎবা দেন। অতঃপর বাদ আছর থেকে এশা পর্যন্ত সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মশীউর রহমান বেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে আরো উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, কুমিল্লা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মাওলানা মুহাম্মাদ ছফিউল্লাহ, ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুন নূর ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হাফেয আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মুহাম্মাদ ছহিমুদ্দীন, যেলা ‘আন্দোলন’-এর প্রধান উপদেষ্টা হাফেয মোখলেছুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নূরুল ইসলাম, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মীযানুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ আল-আমীন, ‘যুবসংঘে’র সভাপতি রামাযান আলী, বগুড়া পৌরসভার ২০নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জনাব রুস্তম আলী, মসজিদ কমিটির আহবায়ক শফীকুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ‘আন্দোলন’ ‘যুবসংঘ’ ও অঙ্গ সংগঠনসমূহের বগুড়া ও পার্শ্ববর্তী যেলাসমূহের দায়িত্বশীল, কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদান করেন। এছাড়া আহলেহাদীছ পেশাজীবী ফোরামের উপদেষ্টা মুহাম্মাদ মশিউর রহমান, ঢাকা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাসলীম সরকার ও বর্তমান সমাজকল্যাণ সম্পাদক অলী হাসান প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
মুছল্লীদের উচ্ছ্বসিত আবেগ, আল্লাহর শুকরিয়া আদায় এবং দীর্ঘদিনের সংগ্রামের স্মৃতিচারণে পরিবেশ বারবার আবেগঘন হয়ে ওঠে। বহু প্রবীণ কর্মী, যারা এই মসজিদ কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে জড়িত ছিলেন, তারা স্মৃতিচারণ করে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
উল্লেখ্য যে, ২০০১ সালের ২৩শে জুন সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তির চক্রান্তে কমপ্লেক্সটি অবৈধ দখলে চলে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি বগুড়া যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্র হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা, দায়িত্বশীলদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং সর্বস্তরের শুভানুধ্যায়ীদের দো‘আ ও সমর্থনে এই প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় উদ্ধার হ’ল ফালিল্লাহিল হাম্দ।