ভূমিকা : আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম বিস্ময় স্মার্টফোন। বিজ্ঞানের যেকোন আবিষ্কারই প্রাথমিকভাবে মানুষের কল্যাণে সাধিত হয়। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখনই, যখন এর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং নেতিবাচক কাজে এর ব্যবহার তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। স্মার্টফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে অত্যন্ত সহজ করলেও এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার আজ এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ আজ এই যন্ত্রের প্রতি এমনভাবে মোহাবিষ্ট যে, ফোন হাতের কাছে না থাকলে তারা চরম মানসিক অস্বস্তিতে ভুগছে। মূলত এই আসক্তি মানুষের অমূল্য সময় ও মেধার এক নীরব ঘাতক। বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে আমরা এই সর্বগ্রাসী স্মার্টফোন আসক্তির কারণ, এর বহুমুখী ক্ষতিকর প্রভাব এবং ইসলামী অনুশাসন ও আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে এর থেকে পরিত্রাণের কার্যকরী উপায়গুলো তুলে ধরার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।
স্মার্টফোন আসক্তি ও নোমোফোবিয়া : অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের এক চরম নেতিবাচক পরিণতি হ’ল ‘নোমোফোবিয়া’ বা ‘নো মোবাইল ফোন ফোবিয়া’। সহজ কথায় মোবাইল ফোন হাতের কাছে না থাকা, হারিয়ে যাওয়া, চার্জ শেষ হওয়া কিংবা ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মানুষের মনে যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়, তাকেই নোমোফোবিয়া বলা হয়। এই মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি ফোনটিকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখের আড়াল করতে পারেন না এবং অবচেতনভাবেই সবসময় তা ব্যবহারের সুযোগ খোঁজেন। আসক্তির এই মাত্রা কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, তা সাম্প্রতিক কিছু পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মানুষের দৈনিক গড় স্ক্রিন টাইম প্রায় ৬ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট। তরুণ ও কিশোরদের ক্ষেত্রে এই হার দিনে গড়ে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা। এর মধ্যে তাদের জীবনের মূল্যবান ৪ থেকে ৫ ঘণ্টাই ব্যয় হয় শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে।[1]
স্মার্টফোন আসক্তির কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন আসক্তি কখনো কখনো মাদকাসক্তির মতোই ভয়াবহ ও ক্ষতিকর হ’তে পারে। মানুষের মধ্যে স্মার্টফোনের প্রতি এই তীব্র আসক্তি তৈরি হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। নিম্নে এর বিশেষ কারণগুলো তুলে ধরা হ’ল-
১. সোশ্যাল মিডিয়া ডিজাইন : বর্তমান অনলাইন সাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারী যথাসম্ভব অতিরিক্ত সময় স্ক্রিনের দিকে ঝুঁকে থাকতে পসন্দ করে। এর পেছনে কাজ করে এক ধরনের অত্যাধুনিক অ্যালগরিদম (Algorithm)[2]। এটি ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করে তার পসন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট বারবার দেখায়। যেমন ব্যক্তি কি ভিডিও দেখছে, কোন পোস্টে বেশী সময় দিচ্ছে, কি লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করছে, কোন ধরনের কনটেন্টে বারবার ফিরে যাচ্ছে এই তথ্য বিশ্লেষণ করে সিস্টেম এমন কনটেন্ট সাজেস্ট করে যা ব্যক্তির আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে ব্যবহারকারী নিজের অজান্তেই আরও বেশী স্ক্রল করতে থাকে। এটিকে অনেক সময় বলা হয় Infinite scroll effect, যেখানে শেষ বলে কিছু নেই। শুধু নতুন কনটেন্ট আসতেই থাকে। এই অতিরিক্ত কন্টেন্ট মানুষের মস্তিষ্কে সাময়িক আনন্দ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ডোপামিন নিঃসরণ’ হিসাবে পরিচিত। এই ক্ষণস্থায়ী ভাল লাগার অনুভূতি মানুষকে বারবার ফোনের দিকে টেনে নেয়। ধীরে ধীরে মানুষ বাস্তব জীবনের চেয়ে ভার্চুয়াল স্বীকৃতির প্রতি বেশী নির্ভরশীল হয়ে পড়ে ও স্ক্রীনের প্রতি আসক্ত হয়ে যায়।
২. একাকীত্ব ও মানসিক চাপ : বিখ্যাত স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এর তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের ১২০ কোটিরও বেশী মানুষ কোন না কোন মানসিক রোগে ভুগছেন। এর মধ্যে মানসিক বিষণ্ণতা ও উদ্বেগ সবচেয়ে বেশী।[3] আধুনিক মনস্তত্ত্ব অনুযায়ী এই মানসিক চাপ ও একাকীত্ব থেকে সাময়িক মুক্তির আকাঙ্ক্ষাই স্মার্টফোন আসক্তির অন্যতম প্রধান অনুঘটক। বাস্তব জীবনের সমস্যা থেকে পালাতে মানুষ অবচেতনভাবেই স্মার্টফোনের ভার্চুয়াল জগতে আশ্রয় নেয়, যা একধরনের ‘পলায়নবৃত্তি’ বা ‘এসক্যাপিজম’। সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক-কমেন্ট একাকীত্বে ভোগা মানুষদের মনে অন্যের সাথে যুক্ত থাকার এক ছদ্ম-সামাজিকীকরণ বা মোহ তৈরী করে। স্ক্রলিংয়ের সময় মস্তিষ্কে নিঃসৃত ডোপামিনস ক্ষণিকের জন্য মানসিক চাপ কমালেও, এর প্রভাব কাটা মাত্রই বাস্তব জগতের শূন্যতা আরও তীব্রভাবে অনুভূত হয়। তখন সেই শূন্যতা ঢাকতে মানুষ পুনরায় দীর্ঘ সময়ের জন্য স্ক্রিনে ডুবে যায়। আর এভাবেই সাময়িক মুক্তির এই চেষ্টা এক ভয়াবহ ও স্থায়ী আসক্তিতে রূপ নেয়।
৩. সুস্থ বিনোদনের অভাব ও অনলাইন গেমের ফাঁদ : বর্তমান সময়ে আগের মতো খোলা মাঠে খেলাধুলা, পারস্পরিক আড্ডা বা শারীরিক পরিশ্রমমূলক সুস্থ বিনোদনের সুযোগ ও পরিসর অনেকটাই সংকুচিত হয়ে গেছে। কংক্রিটের বদ্ধ জীবন ও যান্ত্রিক ব্যস্ততার কারণে মানুষের বিনোদন এবং সামাজিক যোগাযোগের একমাত্র সহজলভ্য আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে হাতের ছোট্ট স্মার্টফোনটি। আর এই সুযোগেই পাবজি, ফ্রি-ফায়ার, কল অব ডিউটির মতো অনলাইন গেমগুলো ব্যবহারকারীর মনোযোগ সহজেই কেড়ে নিচ্ছে। ফলে ব্যবহারকারী অজান্তেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে কাটিয়ে দেয়, যা একপর্যায়ে স্মার্টফোনের স্বাভাবিক ব্যবহারের গন্ডি পেরিয়ে প্রচন্ড আসক্তিতে পরিণত হয়।
৪. ভাইরাল সংস্কৃতি ও সস্তা জনপ্রিয়তা : ডিজিটাল যুগে ‘ভাইরাল’ হওয়া যেন একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রামে অল্প সময়ে বেশী ভিউ, লাইক ও ফলোয়ার পাওয়াকে অনেকেই সাফল্য বা জনপ্রিয়তার মানদন্ড হিসাবে বিবেচনা করছে। ফলে অনেকে গভীর চিন্তা, সৃজনশীলতা বা জ্ঞানের পরিবর্তে সহজ ও তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তা অর্জনের পথে ঝুঁকে পড়ছে। এই ভাইরাল সংস্কৃতির কারণে অনেক ব্যবহারকারী এমন কনটেন্ট তৈরি বা গ্রহণ করতে আগ্রহী হয় যা দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যদিও তা সবসময় মানসম্মত বা অর্থবহ হয় না। ফলে তা ধীরে ধীরে আসক্তির পথে নিয়ে যায়।
৫. পরিবারিক অসচেতনতা : পরিবার থেকেই শিশুর প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে ওঠে। অনেক অভিভাবক সন্তানকে শান্ত রাখার জন্য খুব অল্প বয়সেই স্মার্টফোন হাতে তুলে দেন। আবার বর্তমানে শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। অনলাইন ক্লাস, ই-বুক, শিক্ষামূলক ভিডিও, তথ্য অনুসন্ধান ও যোগাযোগের জন্য শিক্ষার্থীরা স্মার্টফোন ব্যবহার করে। পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ফোন হাতে নেওয়ার পর অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া, গেম, শর্ট ভিডিও বা অপ্রয়োজনীয় ব্রাউজিংয়ে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত। ফলে অজান্তেই শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে কম-বেশী প্রায় সবাই স্মার্টফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে।
৬. অনলাইন মাদক ও জুয়া : বাংলাদেশে শতাধিক অনলাইন জুয়ার সাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ জুয়া খেলেন।[4] স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার কারণে বর্তমানে অনলাইন জুয়া, বেটিং, ক্ষতিকর গেম এবং মাদকসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কনটেন্ট তরুণদের কাছে খুব দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে। অনেকেই প্রথমে কৌতূহলবশত এসবের সাথে জড়িয়ে পড়লেও ধীরে ধীরে তা ভয়ংকর আসক্তিতে পরিণত হয়। অনলাইন জুয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত ও অধিক লাভের প্রলোভন মানুষকে দীর্ঘসময় ফোনে আটকে রাখে।
৭. হাইপার-কানেক্টিভিটি : বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে ই-মেইল হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু, মেসেঞ্জার ইত্যাদি মেসেজিং অ্যাপগুলোতে সবসময় অ্যাকটিভ থাকার একটি অলিখিত সামাজিক ও পেশাগত চাপ রয়েছে। দ্রুত রিপ্লাই না দিলে ক্ষতি হ’তে পারে, এমন অদৃশ্য উদ্বেগের কারণে মানুষ সারাক্ষণ ফোন চেক করতে বাধ্য হয়। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রয়োজনে ফোন হাতে নিলেও নোটিফিকেশনের ফাঁদে পড়ে মানুষ অবচেতনভাবেই অন্য অ্যাপে ঢুকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেয়। সবসময় যুক্ত থাকার এই বাধ্যবাধকতা ও মানসিক চাপই স্মার্টফোন
আসক্তির অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৮. মনোযোগের স্থায়িত্ব হ্রাস : ছোট ছোট রিলস বা শর্ট ভিডিও মানুষের মস্তিষ্কের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে দীর্ঘ কোন কাজ বা পড়াশোনায় মন বসানো কঠিন হয়ে পড়ে এবং মস্তিষ্ক সহজ বিনোদনের জন্য বারবার ফোনের দিকেই ফেরে।
স্মার্টফোনে আসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব
মাত্রাতিরিক্ত কোন কিছুই কখনো সুফল বয়ে আনে না। ঠিক তেমনি স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারকেও মোটেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম করে স্মার্টফোনের এই মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নিম্নে স্মার্টফোন আসক্তির মারাত্মক কিছু ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হ’ল।-
১. শিক্ষা জীবনে নেতিবাচক প্রভাব : স্মার্টফোন আসক্তির সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হচ্ছে আমাদের শিক্ষার্থীরা। একাধিক গবেষণার উদ্বেগজনক তথ্যমতে, বাংলাদেশের প্রায় ৮৬% প্রি-স্কুলগামী শিশু স্মার্টফোনে আসক্ত এবং স্কুলগামী শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা স্মার্টফোনে সময় কাটায়। যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত সীমার চেয়ে অন্তত তিন গুণ বেশী। ব্যবহারের ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিশুদের মধ্যে ৭৯% কার্টুন দেখার জন্য, ৪৯% গেম খেলার জন্য এবং ৪৫% ভিডিও দেখা বা গান শোনার কাজে ফোন ব্যবহার করে। অথচ পড়াশোনার কাজে ব্যবহার করে মাত্র ১৪% শিশু।[5] অনুরূপভাবে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও স্মার্টফোন ব্যবহার করে। এর ফলে তারা দীর্ঘসময় পড়ালেখায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। অনেক শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট বা পরীক্ষার প্রস্ত্ততির পরিবর্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার করে মূল্যবান সময় নষ্ট করে। এতে একদিকে যেমন তাদের সৃজনশীলতা কমে যায় ও পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ হয়, তেমনি ধীরে ধীরে তারা প্রকৃত জ্ঞানার্জনের প্রতিও আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
২. সময় অপচয় ও বেকারত্ব বৃদ্ধি : স্মার্টফোন মানুষের জীবনের মূল্যবান সময় নীরবে গ্রাস করে নিচ্ছে। এতে প্রাত্যহিক গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো পিছিয়ে যায়। কর্মজীবী মানুষদের ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তাদের কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যায় এবং উৎপাদনশীলতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব মানুষকে ক্রমান্বয়ে অলস ও দায়িত্বহীন করে তোলে। যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসাবে সমাজে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।
৩. শারীরিক সমস্যা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি : স্মার্টফোন আসক্তি মানবদেহে দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের জ্যোতি কমে যাওয়া এবং ঝাপসা দেখার সমস্যা তৈরি হয়। একটানা ভুল ভঙ্গিতে ব্যবহারের কারণে ঘাড়, কাঁধ ও মেরুদন্ডের তীব্র ব্যথা দেখা দেয়। অতিরিক্ত ইয়ারফোন ব্যবহারে কানে কম শোনার প্রবণতা বাড়ে। পকেটে রাখা মোবাইলের ক্ষতিকর রেডিয়েশনের প্রভাবে পুরুষদের শুক্রাণু কমে যাওয়ার মতো প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে স্ক্রিনের নীল আলোর প্রভাবে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয়ে মারাত্মক অনিদ্রা দেখা দেয়। অপর্যাপ্ত ঘুম ও আসক্তির কারণে মানুষের মেজায খিটখিটে হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ায় স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। এককথায় স্মার্টফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষকে ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতাহীন ও অসুস্থ করে তুলছে।
৪. মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি : আইসিডিডিআরবি-এর এক গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহাকারী শিশুদের পাঁচটি প্রধান মানসিক সমস্যা দেখা দেয় তা হ’ল, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা বা মন খারাপের প্রবণতা, একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, মনোযোগের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত রাগ বা বিরক্তি।[6] এ সমস্যাগুলো শুধু শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং কমবেশী সকল বয়সের মানুষের মাঝেই দেখা যায়। এছাড়াও অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার মানুষের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় এবং মানসিক চাপ বহুগুণে বৃদ্ধি করে। এর ফলে মানুষ বাস্তব জীবনে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। খুব সামান্য কারণেই তারা হতাশ হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতাও তৈরি হ’তে পারে। এছাড়াও সারাক্ষণ স্ক্রিনে ডুবে থাকার কারণে সৃজনশীল চিন্তাশক্তি হ্রাস পায় এবং মানসিক আতঙ্ক বা উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।
৫. পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি : স্মার্টফোনে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার কারণে মানুষ পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কগুলোও দিনদিন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বসেও প্রত্যেকে নিজ নিজ মোবাইলে ব্যস্ত থাকে। ফলে আন্তরিক আলাপচারিতাও কমে যায়। বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্কগুলোও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। বৈষয়িক জীবনের আবেগ ও অনুভূতির পরিবর্তে মানুষ ভার্চুয়াল প্রতিক্রিয়ার উপর বেশী নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
৬. নৈতিক ও চারিত্রিক অবক্ষয় : ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের অপব্যবহার অনেককে অনৈতিক কর্মকান্ডের দিকে ঠেলে দেয়। অশ্লীল কনটেন্ট দেখা, গুজব ছড়ানো, সাইবার বুলিং, প্রতারণা ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের মতো কাজের প্রবণতা বাড়ে। তরুণ সমাজের মধ্যে শালীনতা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা দেয়, যা সমাজ ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্যই ক্ষতি বয়ে আনে।
৭. সৃজনশীলতা ও চিন্তাশক্তি হ্রাস : অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা কমে যায়। কারণ মানুষ ধীরে ধীরে সবকিছুর জন্য প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অবসর সময়ে বই পড়া, গবেষণা করা ও নতুন কিছু শেখার পরিবর্তে তারা বিনোদনমূলক কনটেন্টে অধিক সময় ব্যয় করে। এতে মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
৮. অশ্লীলতার প্রসার : ইন্টারনেট সুবিধার মাধ্যমে যে কেউ খুব সহজেই বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ছবি, ভিডিও ও কনটেন্টে প্রবেশ করতে পারে। অনেক সময় অজান্তেই বা কৌতূহলবশত এসব কনটেন্ট দেখা শুরু হ’লেও পরে তা আসক্তিতে পরিণত হয়। এ ধরনের কনটেন্ট মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণ বয়সে এটি মানসিক বিকৃতি, ভুল ধারণা এবং অনৈতিক আচরণের প্রবণতা সৃষ্টি করে। ফলে ব্যক্তির শালীনতা, লজ্জাবোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বৈষয়িক জীবনের সম্পর্কের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমে যায়।
৯. সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা হ্রাস : যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস-এর জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, স্মার্টফোন আসক্তি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক সক্ষমতায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা মানুষের সৃজনশীল কাজে চরম বিঘ্ন ঘটায়। বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, স্মার্টফোনে আসক্ত ব্যক্তিদের সৃজনশীল কাজ করার সময় মস্তিষ্কের ‘প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স’ ও ‘টেম্পোরাল এরিয়া’ তেমন সক্রিয় থাকে না।[7] এছাড়া দৈনন্দিন জীবনে কোন সমস্যার মুখোমুখি হ’লে নিজে গভীরভাবে চিন্তা করে সমাধান বের করার পরিবর্তে মানুষ এখন তাৎক্ষণিকভাবে ইন্টারনেটের সাহায্য নিচ্ছে। ফলে মস্তিষ্কের নিজস্ব বিশ্লেষণ ক্ষমতা, চিন্তার গভীরতা ধীরে ধীরে লোপ পাচ্ছে।
স্মার্টফোন আসক্তি থেকে পরিত্রাণের উপায়
সচেতনতা ও কিছু সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে স্মার্টফোন আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। প্রথমেই ফোনে থাকা অ্যাপগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। ১. প্রয়োজনীয় ও সহায়ক অ্যাপ যেমন: ঘড়ি, ক্যালেন্ডার, ডায়ালার, অভিধান, কন্টাক্ট, লেনদেন ইত্যাদি ২. সময় নষ্ট করে এমন অ্যাপ যেমন: সোশ্যাল মিডিয়া- ফেসবুক, ইউটিউব, ম্যাসেঞ্জার, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার, ইমো, গেমস ইত্যাদি। ২নং ধারার অ্যাপগুলোর ক্ষেত্রেই বেশী আসক্তি তৈরী হয়। আর এসব থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কিছু কার্যকর উপায় হ’তে পারে নিম্নরূপ :
১. সময়ের গুরুত্ব অনুধাবন করা : প্রথমেই আমাদেরকে সময়ের গুরুত্ব সম্পর্কে গভীরভাবে সচেতন হ’তে হবে। আল্লাহ প্রদত্ত অমূল্য নে‘মত এই সময়কে কেবল তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন ও কল্যাণকর কাজে ব্যয় করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘দু’টি নে‘মতের ব্যাপারে বহু মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। আর তা হ’ল সুস্থতা ও অবসর’।[8] অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান ব্যতীত কোন আদম সন্তানের পা এক কদমও নড়বে না। যার অন্যতম হ’ল- ‘সে তার জীবনের মূল্যবান সময় কোন পথে ব্যয় করেছে’।[9] উপরোক্ত হাদীছদ্বয় থেকে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষণীয় বিষয় হ’ল, জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডের হিসাব মহান আল্লাহ্র নিকট প্রদান করতে হবে। তাই স্মার্টফোন আসক্তিতে অমূল্য সময় নষ্ট করা থেকে আমাদের অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।
২. ভালো কাজে ব্যস্ত থাকা : কাজের মধ্যে লেগে থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হ’ল এটি আপনাকে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে চালিত করে এবং নতুন কোন দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করে। আপনি যখন কোন বাস্তব বা সৃজনশীল কাজে (যেমন: পড়ালেখা, ফ্রিল্যান্সিং, হাতের কাজ বা ব্যায়াম) নিজেকে নিয়োজিত রাখেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক ফোনের ভার্চুয়াল দুনিয়া থেকে মনোযোগ সরিয়ে বাস্তব অর্জনের দিকে মনোনিবেশ করে। এই প্রক্রিয়াটি আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং অলস সময়ে ফোনের স্ক্রিনে অযথা স্ক্রোল করার ক্ষতিকর অভ্যাস কমিয়ে আনে।
৩. পরিবারে সময় দেওয়া ও সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত থাকা : স্মার্টফোন আসক্তির কারণে বর্তমানে অনেক পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং মানুষ ধীরে ধীরে পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই পরিবার ও সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা স্মার্টফোন আসক্তি থেকে মুক্তির একটি কার্যকর উপায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটালে মানসিক প্রশান্তি ও আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায়। একসঙ্গে খাবার খাওয়া, গল্প করা, সফরে যাওয়া বা পারিবারিক আলোচনায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। এতে মানুষ ভার্চুয়াল জগতের কৃত্রিম আনন্দের পরিবর্তে বৈষয়িক জীবনের সত্যিকারের সুখ অনুভব করতে শেখে। এছাড়া সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক দক্ষতা উন্নত করে।
৪. খেলাধুলা ও শরীরচর্চা : স্মার্টফোন আসক্তি থেকে মুক্ত থাকার অন্যতম কার্যকর উপায় হ’ল নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করা। বর্তমানে অনেক মানুষ অবসর সময় মাঠে খেলাধুলা বা শারীরিক কর্মকান্ডে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে মোবাইলের স্ক্রিনে সময় কাটায়। ফলে শরীর ও মন উভয়ই ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। দৌড়-ঝাঁপ, ব্যায়াম বা বিভিন্ন ধরনের নির্দোষ খেলাধুলার মাধ্যমে শরীরের রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে এটি মানসিক প্রশান্তি ও আনন্দ প্রদান করে। নিয়মিত শরীরচর্চা মানুষের ক্লান্তি, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে, যা স্মার্টফোনের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৫. স্ক্রিন টাইম বা অ্যাপ লিমিট ব্যবস্থা : এই ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী প্রতিদিন কত সময় মোবাইল ব্যবহার করছে তা সহজেই জানতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করতে পারে। 'Digital Wellbeing' বা 'Screen Time' নামক ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের সময় নির্ধারণ করতে পারে। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলে অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় বা সতর্কবার্তা দেয়। এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া, গেম বা বিভ্রান্তিকর অ্যাপ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।
৬. ঘুমের সময় মুঠোফোন দূরে রাখা : অনেকেই ঘুমের সময় মুঠোফোন কাছাকাছি রাখেন। যা স্বাস্থঝুকির একটি বড় কারণ। এ অভ্যাস বাদ দিতে হবে। প্রয়োজনে মুঠোফোন সাইলেন্ট করে ঘুমানোর জায়গা থেকে দূরে রাখতে হবে।
৭. কঠিন আনলক পদ্ধতি : মুঠোফোনের আনলক পদ্ধতি কঠিন করতে হবে। প্রয়োজনে মুঠোফোনের টাচ আইডি বা ফেইস আইডি সুবিধা বন্ধ রাখতে হবে। খোলার পদ্ধতি কঠিন হ’লে বারবার আনলক করে মুঠোফোন ব্যবহার করতে মন চাইবে না।
৮. সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ লুকানো : যারা ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, ইমো বা ইমেইলের মতো অ্যাপগুলোর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার থেকে নিজেকে কিছুতেই বিরত রাখতে পারছেন না, তারা একটি কৌশল হিসাবে অ্যাপগুলো চোখের আড়াল করে রাখতে পারেন। এজন্য অ্যাপগুলোকে স্মার্টফোনের হোম স্ক্রিন থেকে সরিয়ে আলাদা কোন ফোল্ডারে বা পেছনের স্ক্রিনে রাখতে হবে। চোখের সামনে না থাকলে এগুলো ব্যবহারের প্রতি মস্তিষ্কের যে অবচেতন আকর্ষণ তৈরি হয় তা অনেকটাই হ্রাস পাবে।
৯. স্ক্রিন ফ্রি সময় : সপ্তাহে একদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মোবাইল থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত কয়েক ঘণ্টা ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখলে মস্তিষ্ক কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং ভার্চুয়াল জগতের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ কমতে শুরু করে। শোবার ঘর ও খাবার টেবিলে ফোন ব্যবহার কঠোরভাবে পরিহার করতে হবে।
১০. অবসরের সঠিক ব্যবহার : ছুটির দিন, অফিসের বিরতি বা অবসর হ’ল ফোন ব্যবহার করার উর্বর সময়। অবসরেও ফোনের প্রতি নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে। এ সময়গুলোতে মোবাইল ব্যবহার না করে শিক্ষামূলক বা অন্যান্য সৃজলশীল কাজে ব্যয় করা যেতে পারে।
উপসংহার : স্মার্টফোনের লাগামহীন অপব্যবহার মানবজীবনের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে করোনা মহামারীর সময় মানুষ যখন দীর্ঘকাল গৃহবন্দী ছিল, তখন আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা প্রায় সবাই এই যন্ত্রের নিবিড় সংস্পর্শে আসে। মূলত সেই সময় থেকেই স্মার্টফোন আসক্তির এই ব্যাধি সমাজে আরও প্রকটভাবে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। যার তিক্ত পরিণতি আজ আমরা পদে পদে উপলব্ধি করছি। তাই কেবল প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর কাজেই স্মার্টফোনের সীমিত ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রত্যেকের জন্য একান্ত বাঞ্ছনীয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমেই এই সর্বগ্রাসী আসক্তি থেকে আমাদের বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।
-হাসীবুর রশীদ*
শিক্ষার্থী, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।
[1]. www.cdc.gov/nchs/products/databriefs/db513.htm
[2]. অ্যালগরিদম (Algorithm) হ’ল কোন নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধান করার জন্য ধাপে ধাপে সাজানো নির্দেশনা বা নিয়মের সমষ্টি। সহজভাবে বলতে গেলে, কোন কাজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিভাবে সম্পন্ন করা হবে, সেই পরিকল্পিত ধাপগুলোকেই অ্যালগরিদম বলা হয়।
[3]. https://surl.li/lvxfet
[4]. দৈনিক প্রথম আলো, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫। https://www.prothomalo.com/technology/70govsb667
[5]. দৈনিক ইত্তেফাক, সেপ্টেম্বর ২০২৫।www.ittefaq.com.bd/753926.
[6]. ডেইলী স্টার, ২২ মে ২০২৬, https://shorturl.at/lYodd
[7]. দৈনিক প্রথম আলো, ২৮শে নভেম্বর ২০২২, www.surl.li/kkomai
[8]. বুখারী হা/৬৪১২; মিশকাত হা/৫১৫৫।
[9]. তিরমিযী হা/২৪১৬; মিশকাত হা/৫১৯৭; ছহীহাহ হা/৯৪৬।