জ্বালানী সংকট ও লোডশেডিংয়ের দুশ্চিন্তা দূর করতে ঠাকুরগাঁওয়ের সোলেমান আলী তৈরি করেছেন এক অনন্য ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচযন্ত্র, যা কৃষি খাতে আশার আলো দেখাচ্ছে। মাত্র প্রথম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করা সোলেমান নিজের কারিগরী দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ২ হাযার ৫০০ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই সৌর প্যানেল ও পাম্পের কাঠামোটি উদ্ভাবন করেছেন। এই যন্ত্রের সাহায্যে ৩ হর্সপাওয়ারের পানির পাম্প চালিয়ে দিনে প্রায় ১০ একর জমিতে অনায়াসেই সেচ দেওয়া সম্ভব। চাকাযুক্ত হওয়ায় যন্ত্রটি সহজেই এক জমি থেকে অন্য জমিতে স্থানান্তর করা যায়। এর ফলে সেচ খরচ বিঘাপ্রতি ৭-৮ হাযার টাকা থেকে কমে মাত্র ৩ হাযার টাকায় নেমে এসেছে। এ পর্যন্ত তিনি শতাধিক সৌর সেচযন্ত্র তৈরি করে বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি ছয়টি সেচযন্ত্র নিজে ব্যবহার করছেন এবং ভাড়ায় খাটছে আরও ২০টি সেচযন্ত্র। সোলেমান কেবল কৃষিতেই নয়, বরং নিজের বাড়ীর ফ্রিজ, এসি এবং খামারের ভারী যন্ত্রপাতিও সৌরশক্তিতে চালিয়ে মাসিক বিদ্যুৎ বিল ২০-২৫ হাযার টাকা থেকে কমিয়ে এক হাযার টাকার নিচে নামিয়ে এনেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে সোলেমানের এই টেকসই উদ্ভাবন ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশের জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি কৃষিকাজে সেচের খরচ বহুগুণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
[সরকারীভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে এদেরকে উৎসাহিত করা উচিত। যাতে ভবিষ্যতে আরো বিজ্ঞানী সৃষ্টি হয় (স.স.)]