বিগত ২৮শে ফেব্রুয়ারী ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রাঈলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ভয়াবহ যুদ্ধটি গত ৮ই এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতির মাধ্যমে সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। ৪০ দিনব্যাপী চলা এই যুদ্ধে কোন পক্ষের জয়-পরাজয় নিশ্চিত না হ’লেও বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ সংকট ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ইতিমধ্যে স্পষ্ট। এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং তিন হাযারের বেশী মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান যুক্তরাষ্ট্র এবং ইস্রাঈলী হামলায় ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৩ লাখ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসাথে হামলায় প্রায় ১ লাখ আবাসিক ভবনসহ ১ লাখ ২৫ হাযার ৬৩০টি বেসামরিক অবকাঠামো, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে হামলা চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রাঈলকেও চরম মূল্য দিতে হয়েছে। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ২৮ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা। তবে এ খরচ শেষ পর্যন্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞগণ আশংকা প্রকাশ করছেন। এছাড়া জাতিসংঘের তথ্য মতে এই সংঘাতে আরব দেশগুলোর প্রায় ১৯৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকা) এবং ইস্রাঈলের ১৭.৫ বিলিয়ন ডলারের (সোয়া দুই লাখ কোটি টাকার বেশী) আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বিপুল এই ক্ষয়ক্ষতি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্যই এক চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

জাতিসংঘ আরো জানিয়েছে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্রের শিকার হ’তে পারে। এতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নশীল দেশগুলো। তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রাঈলের প্রথম বিমান হামলার পর জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে গোটা বিশ্ব বর্তমানে জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং মন্থর প্রবৃদ্ধির এক ভয়াবহ ত্রিমুখী সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

[এই যুদ্ধে আমেরিকা ও ইস্রাঈল হ’ল হামলাকারী। অতএব এর সব দায়-দায়িত্ব তাদের। আর সে কারণে তাদের নৃশংসতার জন্য তীব্র সমালোচনা করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে মানবতার শিকারী বলে আখ্যায়িত করেছে। আমরা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহবান জানাই (স.স.)]







আরও
আরও
.