উত্তর : বিশুদ্ধ মতে মুসাফিরের জন্যও জামা‘আতে ছালাত আদায় করা ওয়াজিব। সুতরাং কোন মাদ্রাসায় অবস্থান করে জামা‘আত ত্যাগ করে ক্বছর ও ছালাত জমা তাক্বদীম-তা‘খীর করার সুযোগ নেই। শায়েখ আব্দুল আযীয বিন বায (রহঃ) বলেন, ‘কোন ব্যক্তির জন্য একা ছালাত আদায় করা বৈধ নয় সে মুসাফির হৌক বা মুক্বীম হৌক। যদি সে এমন স্থানে অবস্থান করে যেখানে জামা‘আত অনুষ্ঠিত হয়। বরং তার কর্তব্য হ’ল লোকদের সাথে মিলিত হয়ে জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করা এবং তাদের সাথে পূর্ণরূপে ছালাত সম্পন্ন করা (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/৩০৭)। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে আযান শুনে, অথচ তাতে সাড়া দিল না, তার কোন ছালাত নেই তবে ওযর থাকলে ভিন্ন কথা’ (ইবনু মাজাহ হা/৭৯৩; মিশকাত হা/১০৭৭, সনদ ছহীহ)। ওছায়মীন বলেন, ‘মুসাফিরের উপর থেকেও জামা‘আতে ছালাতের ফরয (বা ওয়াজিব) আদায় করার বিধান রহিত হয় না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা যুদ্ধ অবস্থায়ও জামা‘আতের নির্দেশ দিয়েছেন (নিসা ৪/১০২)।
সূরা নিসার ১০২ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যুদ্ধকালেও জামা‘আতে ছালাত আদায় করা হয়েছে এবং তা নির্দেশিত হয়েছে। এ কারণে যদি কোন মুসাফির এমন কোন শহরে অবস্থান করে যা তার নিজ শহর নয়, তবে তার উপর মসজিদে জামা‘আতে অংশগ্রহণ করা ওয়াজিব হবে যদি সে আযান শুনতে পায়। অবশ্য ব্যতিক্রম হ’ল যদি সে মসজিদ থেকে দূরে থাকে, অথবা যদি সে আশঙ্কা করে যে, তার সফরসঙ্গীরা চলে যাবে বা সে তাদের হারিয়ে ফেলবে। কারণ আযান বা ইক্বামত শুনলে জামা‘আতে অংশগ্রহণের ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে দলীলসমূহ সাধারণভাবে প্রযোজ্য’ (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৫/২৫২)। তিনি আরো বলেন, ‘এখানে কোন নির্দিষ্ট দলীল নেই যে মুসাফিরকে জামা‘আতের ওয়াজিব আদায় থেকে ছাড় দেওয়া যায়। কেবলমাত্র ব্যতিক্রম হ’ল যদি মসজিদে যাওয়ার কারণে তার সফরে কোন গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা বা প্রয়োজন বিনষ্ট হয় (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৫/৪২২)।
প্রশ্নকারী : আব্দুল লতীফ হাওলাদার, মান্দা, নওগাঁ।