কয়েক দশক ধরে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলকে বিশ্বে অমীমাংসিত রহস্যের একটি ভাবা হচ্ছে। আটলান্টিক মহাসাগরে মায়ামি, বারমুডা ও পুয়ের্তো রিকোবেষ্টিত সমুদ্রের বিস্তৃত অঞ্চল বারমুডা ট্রায়াঙ্গলকে রহস্য হিসাবে ভাবা হয়। ভয় আর নানা জল্পনার বিষয়বস্ত্তর কেন্দ্রবিনদুতে আছে এই ট্রায়াঙ্গল। এখানে কোন বিমান বা জাহায প্রবেশ করলে নাকি হারিয়ে যায়। ভিনগ্রহবাসীদের উপস্থিতিসহ নানা ষড়যন্ত্রের প্রসার আছে এ এলাকাকে ঘিরে।
সেসব গল্পকে বৈজ্ঞানিকভাবে উড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছেন একদল বিজ্ঞানী। ফলে একে ঘিরে পৌরাণিক কাহিনী আর ধোপে টিকছে না। কারণ পৃথিবীর অন্যান্য সমুদ্রসীমার মতোই প্রায় একই আনুপাতিক হারে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে এই এলাকায়। এখানে ঘটনার সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ এই ট্রায়াঙ্গল বিশ্বের ব্যস্ততম জাহায ও বিমান করিডোরের মধ্যে একটি।
বিজ্ঞানী ক্রুজেলনিকির মতে, বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের ভূগোল ও আবহাওয়ার ধরন এমন পরিস্থিতি তৈরি করে, যা অভিজ্ঞ নাবিকদের সামনে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। উপসাগরীয় প্রবাহের মতো একটি শক্তিশালী সমুদ্রস্রোত আর আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন এখানে যেকোন দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। হিংস্র আর বড় ঝড় তৈরি হয় বলে এখানে দুর্ঘটনা ঘটতে বেশী সময় লাগে না। এ ছাড়া অসংখ্য দ্বীপ ও বিপজ্জনক প্রবালপ্রাচীর পুরো পরিস্থিতিকে খারাপ করে দেয়।
সাহিত্যের দুনিয়ায় বারমুডা ট্রায়াঙ্গল শব্দটি প্রথম ১৯৬৩ সালে দেখা যায়। লেখক ভিনসেন্ট গ্যাডিস এ শব্দ প্রবর্তন করেন। ১৯৭৪ সালে লেখক চার্লস বার্লিটজ এ বিষয়ে আরেকটি বই প্রকাশ করলে সর্বাধিক বিক্রীত বই হিসাবে আলোচিত হয়। তখন থেকে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের মিথ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭০ সালে বিমানচালক ব্রুস গারনন বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের মধ্য দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় একটি অদ্ভুত সুড়ঙ্গের মতো মেঘের মুখোমুখি হওয়ার কথা জানালে মিথ আরও শক্তিশালী হয়।