দক্ষিণ এশিয়ায় সম্প্রতি একাধিক মেঘ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা ভয়াবহ প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে এনেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা প্রমাণ করে, কিভাবে মুহূর্তের মধ্যে একটি ছোট এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে। গত আগস্টে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় আকস্মিক মেঘ বিস্ফোরণে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস হয়। এতে নিহত হন অন্তত ৩২০ জন, যার মধ্যে শুধু বুনের যেলাতেই ১৫৭ জন প্রাণ হারান। নিখোঁজ ও আহতের সংখ্যাও অনেক।

একই মাসে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কিসওয়ার যেলার চোসিতি গ্রামে মেঘ বিস্ফোরণে বন্যা হয়। এতে অন্তত ৬৫ জন নিহত, ৩০০ জনের অধিক আহত এবং ২০০ জনের বেশী নিখোঁজ হন। এছাড়া উত্তরাখন্ডের উত্তরকাশীতে মেঘ বিস্ফোরণ ও হিমবাহ ভাঙনের ঘটনায় আকস্মিক বন্যা হয়। এতে ৫ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশী নিখোঁজ হন।

মেঘের বিস্ফোরণ কি? মেঘের বিস্ফোরণ হ’ল এমন এক ধরনের বৃষ্টিপাত, যেখানে খুব অল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে প্রবল বৃষ্টি হয়। সাধারণত ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বা তার বেশী বৃষ্টিপাত হ’লে তাকে মেঘ বিস্ফোরণ ধরা হয়। এর সময়সীমা কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা হ’তে পারে, তবে এর প্রভাব হয় ভয়াবহ।

কেন বা কিভাবে হয়? পাহাড়ি এলাকায় আর্দ্র বাতাস দ্রুত ওপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হয়। এতে স্বল্প জায়গায় প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প জমা হয়। হঠাৎ করে বায়ুমন্ডলের ভারসাম্য নষ্ট হ’লে এই বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্প একসঙ্গে প্রচন্ড বৃষ্টি হিসাবে নেমে আসে, যা দেখে মনে হয় যেন আকাশ ফেটে গেছে।

বাংলাদেশ সমতলভূমি হওয়ায় এখানে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। তবে পাহাড়ি চট্টগ্রাম এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মেঘ বিস্ফোরণের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তাই এই বিষয়ে সচেতনতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্ত্ততি নেয়া যরূরী।






আরও
আরও
.