ডায়াবেটিস রোগীর জন্য নিরাপদ ফলমূল

পাকা আম থেকে মিষ্টি ছফেদা দেখে জিভে পানি এসে গেলে খেতে পারেন না ডায়াবেটিস রোগীরা। এ ফলগুলো যে একেবারে খাওয়া যায় না, তা নয়। কিন্তু খেতে গেলে ক্যালরির হিসাব কষা দরকার। কারণ সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীকে এমন খাবার খেতে বলা হয়, যেসবে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকে। অর্থাৎ যে খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় না। কিন্তু আম থেকে আঙুর, আনারসের মতো ফলের পুষ্টিগুণ থাকলেও সেগুলোতে শর্করার মাত্রাও যথেষ্ট থাকে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও নেহাত কম নয়। এসব ফল নিয়মিত খাওয়া ঠিক নয়, বিশেষত ভরপেট খাওয়ার পর।

যেকোন রসালো ফল ডায়াবেটিস রোগীরা খেলেও তা খেতে হবে মেপে। সাধারণত ভাত-রুটি খাওয়ার পরেই রসালো ফল খেতে বারণ করা হয়। এতে ক্যালোরির মাত্রা বেড়ে যায়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে দু’টি খাবার খাওয়ার মাঝের সময়টিতে তা খাওয়া যেতে পারে। কারণ ক্যালরির হিসাব এ ক্ষেত্রে যরূরী এবং খেতেও হয় পরিমিত।

রসালো ফলের বদলে ডায়াবেটিস রোগীরা যে ফল খাবেন।-

আমের বদলে বেরি : ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর আমে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ রয়েছে, যা আসলে শর্করা। একটি মাঝারি আকারের আমে ৪০-৫০ গ্রাম শর্করা মেলে। আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫১-৬০ অর্থাৎ মধ্যম থেকে উচ্চমাত্রার। ফাইবার থাকলেও গোটা বড় আম ডায়াবেটিস রোগীরা খেয়ে ফেললে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। কয়েক টুকরো খাওয়ায় আপত্তি নেই। একটি মাঝারি আম খেলে অন্য খাবার খাওয়া কমাতে হবে। এর বদলে যে কোন বেরি জাতীয় ফল নির্দ্বিধায় খাওয়া যায়। স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, আমলকী জাতীয় ফল খেতে পারেন ডায়াবেটিস রোগীরা। এই ফলগুলোর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম অথচ পুষ্টিগুণ যথেষ্ট।

পাকা কলার বদলে পেয়ারা : পাকা কলাতেও ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু নিয়ম জেনে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যায়। তবে কলার বদলে পেয়ারা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ভালো। ফাইবার সম্পন্ন ফলটি ভিটামিন সি এবং নানা রকম খনিজে পূর্ণ। ১০০ গ্রাম পেয়ারায় মাত্র ৫ গ্রাম শর্করা মেলে। তাছাড়া এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও বেশ কম।

আঙুরের বদলে বেদানা : ১০০ গ্রাম আঙুরে ১৬-২০ গ্রাম পর্যন্ত শর্করা মেলে। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৬০-এর কাছাকাছি। এর বদলে বেদানা খাওয়া যেতে পারে। এতে শর্করার মাত্রা কম, গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও কম। এতে মেলে পলিফেনলস-এর মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। প্রদাহের কারণেও ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বেড়ে যায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

আনারসের বদলে পেঁপে : আনারসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৬৬-৯৪। ফলে আনারস কয়েক টুকরো খেলেই রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত হারে বাড়তে পারে। এর বদলে খাওয়া যেতে পারে পাকা পেঁপে। ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফাইবারপূর্ণ ফলটি খেতে পারেন ডায়াবেটিস রোগীরা।

ছফেদার বদলে আপেল : রসালো মিষ্টি ছফেদা খেতে ভালো হ’লেও একটি ফলেই শর্করার মাত্রা থাকে অনেক। এই ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৬৫-৭০। বিশেষত রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশী থাকলে, এই ফল এড়িয়ে চলা দরকার। ভাত-রুটি খাওয়ার পর তা খাওয়া অনুচিত। এর বদলে নির্দ্বিধায় খেতে পারেন আপেল। এই ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যেমন কম, তেমনই প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। ডায়াবেটিসের চিকিৎসকরা বলেন, ডায়াবেটিস রোগীদের খাবারে ফাইবার থাকা খুব যরূরী। কারণ সেটি ছাঁকনির কাজ করে। চট করে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে না।

\ সংকলিত \






লাল না সাদা ডিম; মুরগী, হাঁস না কোয়েলের ডিম? কোন্টির পুষ্টিগুণ বেশী?
ফল ও সবজিতে রাসায়নিক পদার্থ : করণীয় কি?
দুধ চায়ের বদলে পান করতে পারেন যেসব স্বাস্থ্যকর চা - আত-তাহরীক ডেস্ক
নীরব প্রহরী কিডনী : সুস্থ রাখতে করণীয়
রামাযানে ছায়েমদের বিশেষ স্বাস্থ্য পরামর্শ - ডা. মহিদুল হাসান মা‘রূফ
তীব্র গরমে স্বাস্থ্য সতর্কতা - ডা. মেহেদী হাসান মনিম
সফরকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা - ডা. মহিদুল হাসান মা‘রূফ
ডায়াবেটিস রোগীর জন্য নিরাপদ ফলমূল
এলার্জি ও এজমা রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ - ডা. মহিদুল হাসান মা‘রূফ
শীতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়
সাপে কাটলে ভুলেও প্রচলিত এই ভুলগুলো করবেন না
সন্ধ্যা ৭-টার মধ্যে রাতের খাবার খাবেন যে কারণে
আরও
আরও
.