উত্তর : মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না (আলে ইমরান ৩/১০৩)। পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শনে ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে মৌলিক আক্বীদা ও ইসলামবিরোধী মত (যেমন: কুফর, বিদ‘আত, গোমরাহী) না হ’লে শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে পারস্পরিক সহনশীলতা প্রদর্শন করবে। আর আক্বীদা বিরোধী হ’লে স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান এবং হিকমতের সাথে প্রতিরোধ করতে হবে। আর ছোটখাটো অপ্রধান ইখতিলাফ বা ব্যক্তিগত অভিমতে মতপার্থক্য দেখা দিলে তা উপেক্ষা করা এবং ঐক্য অটুট রাখা কর্তব্য। ছাহাবীগণ নিজেদের মধ্যেই বহু ফিক্বহী বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, তবুও কেউ কাউকে বিদ‘আতী, গোমরাহ বা বাতিল বলে আক্রমণ করেননি। যেমন ইবনু ওমর (রাঃ) ও আবু হুরায়রা (রাঃ) সাহরীর শেষ সময় ও ইফতারের সময় নিয়ে পরষ্পর বিরোধী ছিলেন (মুসলিম হা/১০৯৯)। ইবনু মাসউদ (রাঃ) কুনুত পড়তেন না, আলী (রাঃ) পড়তেন তবুও কেউ কাউকে বাতিল বলেননি। উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য রক্ষায় করণীয় হ’ল- ১. ছহীহ হাদীছের আলোকে মতভেদ দূর করা। ২. মাসআলাগত মতবিরোধকে সামাজিক বিভাজনের কারণ না বানানো। ৩. হিকমত, দয়া ও নম্রতার সাথে মতপ্রকাশ করা। ৪. ‘আমি ঠিক, তুমি ভুল’ এরূপ মনোভাব পরিহার করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করা। ৫. একমত না হ’লেও ভালোবাসা ও দো‘আ বজায় রাখা।
প্রশ্নকারী : জসীম, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।