হুসায়েন বিন আলী (রাঃ) (শেষ কিস্তি)

পর্ব ১। পর্ব ২। 

হুসায়েন (রাঃ)-কে তাবেঈনে ইযামের নছীহত :

বকর ইবনু আব্দুর রহমান ইবনিল হারেছ ইবনে হিশাম আল-মাখযূমী বলেন, হে চাচাত ভাই! আপনি এমন শহরে যাচ্ছেন যেখানে আমীর-ওমরা রয়েছে, যাদের কাছে বায়তুল মালের সম্পদ রয়েছে। তারা দীনার-দিরহামের (টাকার) গোলাম। তাদেরকে বিশ্বস্ত মনে করি না যে, তারা আপনাকে হত্যা করবে না। যদিও তারা আপনাকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অতঃপর তাঁর জন্য তিনি কল্যাণের দো‘আ করে চলে গেলেন।[1]

ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনে এযামের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিবর্গও হুসায়েন (রাঃ)-এর কূফা গমনের কথা শুনে তাকে নিবৃত্ত করতে পত্র লেখেন। তন্মধ্যে ইয়াযীদ ইবনুল আ‘ছাম ও আহনাফ ইবনু ক্বায়েস উল্লেখ্যযোগ্য।[2]

কূফার উদ্দেশ্যে হুসায়েন (রাঃ)-এর যাত্রা :

এসব অমূল্য উপদেশ হুসায়েন (রাঃ)-এর কূফা গমনের পথে বাধা সৃষ্টিতে কোন প্রভাব ফেলেনি। বরং যাত্রার ব্যাপারে তাঁর প্রতিজ্ঞাকে আরো দৃঢ় করেছে। তিনি তখন তাঁর বংশধরদের মধ্যে ১৭জনকে মদীনায় ফেরত পাঠান, যারা কূফা গমনে আশংকা প্রকাশ করেছিল। হুসায়েন (রাঃ) সকল প্রস্ত্ততি সম্পন্ন করে ৬০ হিজরীর ৮ই যিলহজ্জ স্বীয় পরিবার-পরিজন ও কূফার ৬০জন লোক সমভিব্যহারে কূফার উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে রওয়ানা হন।[3]

আব্দুল্লাহ ইবনু জা‘ফর ধারণা করেন যে, হুসায়েন (রাঃ)-এর মক্কা থেকে কূফা গমনের কারণ হচ্ছে মক্কার গভর্ণর আমর ইবনু সাঈদ ইবনিল আছের ভয়। তখন তিনি গভর্ণরকে অনুরোধ করেন হুসায়েন (রাঃ)-কে নিরাপত্তা দিয়ে পত্র লেখার জন্য। গভর্ণর আব্দুল্লাহ বিন জা‘ফরকে বললেন, তুমি যা ইচ্ছা লিখে নিয়ে এস, আমি সীল-স্বাক্ষর দিয়ে দিব। গভর্ণরের নিরাপত্তা পত্রসহ আব্দুল্লাহ ইবনু জা‘ফর ও ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদকে প্রেরণ করেন। কিন্তু হুসায়েন ফিরে আসতে অস্বীকৃতি জানান।[4] মক্কার গভর্ণর আমর ইবনু সাঈদ ইবনিল আছ স্বীয় ভ্রাতা ইয়াহইয়া বিন সাঈদ ইবনিল আছের নেতৃত্বে ৬০ জনের একটি দল প্রেরণ করেন হুসায়েন (রাঃ)-কে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য। কিন্তু হুসায়েন (রাঃ) তা প্রত্যাখ্যান করেন।[5]

আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হুসায়েন (রাঃ)-এর কূফার পথে তিন মনযিল অগ্রসর হওয়ার পর খবর শুনে সেখানে গমন করে তাকে জিজ্ঞস করলেন, কোথায় যাচ্ছ? হুসায়েন বললেন, ইরাকে। এ সময় তিনি কূফাবাসীর পত্র বের করে দেখালেন। তখন ইবনু ওমর (রাঃ) বললেন, আমি তোমাকে একটা হাদীছ শুনাব যা তোমার পূর্বে অন্য কাউকে শুনাইনি। নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকটে জিব্রীল (আঃ) আসলেন এবং তাঁকে দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্যে কোন একটা বাছাই করে নেওয়ার সুযোগ দিলেন। রাসূল (ছাঃ) আখেরাতকে গ্রহণ করলেন। আর তুমি তাঁরই একাংশ। আল্লাহর কসম! আহলে বায়তের কেউ আল্লাহ তাদের জন্য যাতে কল্যাণ রয়েছে তা ব্যতীত অন্য কিছু এখতিয়ার করেননি। অতএব তুমি ফিরে যাও। তুমি ইরাকবাসীর গাদ্দারীর কথা অবগত এবং তারা তোমার পিতার সাথে কি আচরণ করেছে সেটাও জান। কিন্তু তিনি ফিরে আসতে অস্বীকার করেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর তার সাথে কোলাকুলি করেন এবং বলেন, হে নিহত ব্যক্তি তোমাকে বিদায় জানাচ্ছি।[6]

পথিমধ্যে কবি ফারাযদাক হুসায়নের সাক্ষাৎ পায়। তখন সে তাঁকে সালাম করে বলল, আল্লাহ আপনাকে আপনার প্রার্থিত বিষয় দান করুন এবং কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে কর্তৃত্বাধিকারী করুন। তখন হুসায়েন (রাঃ) তাকে লোকজনের মনোভাব এবং তার দেখে আসা অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করলেন। কবি ফারাযদাক বললেন, মানুষের মন-প্রাণ আপনার সাথে আর তরবারিসমূহ বনী উমাইয়ার সাথে। আর চূড়ান্ত ফায়ছালা তো আসবে আসমান থেকে, আর আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন। তখন তিনি বললেন, তুমি সত্য বলেছ। পূর্বাপর সকল বিষয়ের কর্তৃত্ব আল্লাহর, তিনি যা ইচ্ছা করেন। প্রতিদিন আমাদের প্রতিপালক গুরুত্বপূর্ণ ও নিত্য নতুন দায়িত্বে রত। যদি আমাদের কাঙ্ক্ষিত ভাগ্য বিধান অবতীর্ণ হয় তাহ’লে আমরা আল্লাহর দান ও অনুগ্রহের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করব। আর শোকর আদায়ের জন্য তিনিই সাহায্যের স্থল। আর যদি আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার পথে ভাগ্য অন্তরায় হয়, তাহ’লে যার নিয়ত ও ইচ্ছা সৎ এবং যার গোপনীয় বিষয় তাক্বওয়া ও আল্লাহভীরুতা, সে সীমালঙ্ঘনকারী নয়। তারপর হুসায়েন (রাঃ) তাঁর বাহনকে নাড়া দিয়ে বললেন, আসসালামু আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লাহ! এরপর পৃথক হয়ে গেলেন।[7]

এদিকে কূফাবাসী মুসলিম বিন আক্বীলের সাথে গাদ্দারী করে। মুসলিম বিন আক্বীল উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের নিকটে নীত হন। তাকে হত্যার পূর্বে ইবনু যিয়াদ অছিয়ত করার সুযোগ দেন। ওমর ইবনু সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাছকে মুসলিম বিন আক্বীল-এর পক্ষ থেকে হুসায়েন (রাঃ)-এর প্রতি তাকে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে একটি পত্র প্রেরণের জন্য অনুরোধ করেন। তিনি একটি লোকের মাধ্যমে হুসায়েন (রাঃ)-কে পত্র লেখেন যে, কূফাবাসী প্রতারণা করেছে। সে পত্রে তিনি মুসলিম বিন আক্বীলের প্রসিদ্ধ বক্তব্য উল্লেখ করেন,ارجع بأهلك ولا يغرنك أهل الكوفة قد كذبوك وكذبوني وليس لكاذب رأي، ‘আপনি পরিবার নিয়ে ফিরে যান। কূফাবাসী যেন আপনাকে প্রতারিত না করে। কারণ কূফাবাসী আপনাকে ও আমাকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছে। আর মিথ্যাবাদীর কোন সিদ্ধান্ত (দানের অধিকার) নেই’।[8]

এদিকে ক্বায়স বিন মুসহির আছ-ছায়দাবী হুসায়নের পত্র নিয়ে কূফায় রওনা হ’লেন, তিনি যখন ক্বাদেসিইয়াতে পৌঁছলেন। তখন আল-হুসায়েন বিন নুমায়র তাকে বন্দী করে উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের কাছে পাঠিয়ে দিল। ইবনু যিয়াদ তাঁকে বলল, প্রাসাদের চূড়ায় আরোহণ কর তারপর মিথ্যুকের পুত্র মিথ্যুক আলী বিন আবূ তালিব এবং তার পুত্র হুসায়েনকে গালি দাও। তখন তিনি সেখানে আরোহণ করে হামদ ও ছানা পড়লেন, তারপর লোকদের সম্বোধন করে বললেন, হে লোকসকল! এই হুসায়েন বিন আলী হ’লেন, আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাখলূক। তিনি হ’লেন রাসূলুল্লাহর কন্যা ফাতিমার পুত্র। আর আমি তোমাদের কাছে তাঁর প্রেরিত দূত। আমি ‘যুর-রুম্মাহ’ উপত্যকার ‘হাজের’ নামক স্থানে তাঁর নিকট থেকে বিদায় নিয়ে এসেছি। কাজেই তোমরা তাঁর আহবানে সাড়া দাও এবং তাঁর কথা শোন ও তাঁর আনুগত্য কর।

এরপর তিান উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ ও তাঁর পিতাকে লা‘নত করলেন আর আলী ও হুসায়েনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। এরপর ইবনু যিয়াদের নির্দেশে তাঁকে প্রাসাদের চূড়া থেকে ফেলে দেওয়া হ’ল এবং তাঁর দেহ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল। কারো মতে, তাঁর হাড়গোড় সব ভেঙ্গে প্রাণের শেষ অংশ রয়ে গিয়েছিল, তখন আব্দুল মালিক বিন ওমর আল-বাজালী গিয়ে তাঁকে যবহ করল এবং বলল, আমি তাঁকে যন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি দিতে চেয়েছি। কারণ এই ব্যক্তি আব্দুল মালিক বিন উমায়র নয়, তার মত দেখতে এক ব্যক্তি। অপর এক বর্ণনায় এসেছে, হুসায়নের পত্র নিয়ে যিনি আগমন করেছিলেন, তিনি হ’লেন, তাঁর দুধ ভাই আবদুল্লাহ বিন বাক্তার। এরপর তাঁকেই প্রাসাদ-চূড়া থেকে ফেলে দেয়া হয়।[9] এদিকে হুসায়েন (রাঃ) কূফাভিমুখে অগ্রসর হ’লেন, অথচ তিনি এসময়ের মাঝে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনাই জানতেন না।

কারাবালার মর্মান্তিক ঘটনা :

হুসায়েন (রাঃ) যখন ‘বারাফ’[10] নামক স্থানে পৌঁছে যাত্রা বিরতি করলেন। তখন রাতের শেষ প্রহরে তাঁর সঙ্গীদের বলেন, তোমরা যত বেশী পার পানি সংগ্রহ করে নাও। অতঃপর সারা রাত চলে তারা ‘যূ হাসান’ পৌঁছে যাত্রাবিরতি করেন এবং সেখানে তাঁবূসমূহ খাটান। এরপর হুর বিন ইয়াযীদ আত-তামীমীর নেতৃত্বে এক হাযার অশ্বারোহীর যোদ্ধা দল এসে হাযির হ’ল। এরা ছিল ইবনু যিয়াদের প্রেরিত বাহিনীর অগ্রবর্তী দল। হুসায়েন (রাঃ) সবার সামনে কূফাবাসীদের পত্র ও তাঁর এখানে আসার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করলেন। তখন হুর তাঁকে বলল, আমরা জানি না এই সকল পত্র কী এবং কারা তা দিয়েছে। আপনার কাছে যারা পত্র লিখেছে তাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আর আমাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আপনার সাক্ষাৎ পাওয়ার পর থেকে উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের কাছে আপনাকে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত আমরা যেন আপনার পিছু না ছাড়ি। তখন হুসায়েন (রাঃ) বললেন, এর চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়। হুর তাঁকে বলল, আমাকে আপনার বিরুদ্ধে লড়াই করার নির্দেশ দেয়া হয়নি। আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কৃষ্ণায় ইবনু যিয়াদের কাছে নিয়ে যাওয়ার পূর্বে আপনার পিছু না ছাড়তে। আপনি তার কাছে যেতে না চান তাহ’লে কূফা ও মদীনার পথ ছাড়া তৃতীয় কোন পথ অবলম্বন করুন। হুর-এর এ পরামর্শের পর হুসায়েন (রাঃ) আল-উযায়র ও আল-ক্বাদিসিয়্যার পথ ছেড়ে বাম দিকে অগ্রসর হ’তে লাগলেন।

এদিকে ইবনু যিয়াদ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যেমন ১. হুসায়েন (রাঃ) ও কূফাবাসীর মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া, ২. কূফায় তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা, ৩. সৈন্যদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং নেতাদের মধ্যে বিভেদ তৈরী করা। এরপর সে হুছায়ন বিন তামীম আত-তাহূবীকে ক্বাদেসিয়াতে পাঠায়। সে ক্বাদেসিয়া হ’তে খাফান ও ক্বাদেসিয়া হ’তে ক্বাতক্বাতান ও লা‘লা‘-এর মধ্যবর্তী পথ বন্ধ করে দেয়। সেই সাথে ওয়াক্বিছা হয়ে সিরিয়ার পথে এবং বছরার পথে কাউকে প্রবেশ বা বের হ’তে না দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কেউ জোর করে অতিক্রম করতে চাইলে তাকে বন্দী করার আদেশ দেয়। হুসায়েন (রাঃ) প্রেরিত দূত ক্বায়েস বিন মিসহার ও আব্দুল্লাহ ইবনু বাকত্বারকে ইবনু যিয়াদ হত্যা করে। ফলে মানুষের মাঝে এমন আতঙ্ক সৃষ্টি হয় যে, হুসায়েন (রাঃ)-এর পক্ষ যে নিবে তার পরিণতি হবে মৃত্যু। হুসায়েন (রাঃ) যাবালাহ মতান্তরে শারাফ পৌঁছে মুসলিম বিন আক্বীল, হানী বিন উরওয়াহ ও আব্দুল্লাহ বিন বাক্বতারের মৃত্যু এবং কূফাবাসীর সাহায্য বিমুখ হওয়ার খবর অবগত হন।

অবশেষে হুসায়েন (রাঃ) কারবালা পৌঁছেন এবং ওমর ইবনু সা‘দ, শিমার বিন যিল জাওশান ও হুছাইন বিন তামীমের সাক্ষাৎ পান। ওমর বিন সা‘দ ৪ হাযার সৈন্য নিয়ে উপস্থিত হন। তিনি হুসায়েন (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে না চাইলে উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ তাকে তার পদ থেকে অপসারণের হুমকি দেয় এবং হত্যার ভয় দেখায়। তখন তিনি (নিরুপায় হয়ে) হুসায়নের বিরুদ্ধে অভিযানে রওনা হন।

সেনাপতি ওমর বিন সা‘দ বিন আবু ওয়াক্কাছ-এর নিকট থেকে প্রাপ্ত হুসায়েন (রাঃ)-এর প্রেরিত তিনটি আপোষ প্রস্তাব গভর্ণর ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ খলীফা ইয়াযীদ বিন মু‘আবিয়া-র নিকট পাঠাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিষ্ঠুর হৃদয় শিমার বিন যুল-জওশান তাকে সরোষে বলল, কখনোই না। প্রথমে তিনি আপনার নিকট আত্মসমর্পণ করবেন’। একথা মেনে নিয়ে ইবনু যিয়াদ উক্ত নির্দেশ পালনের জন্য হুসায়েন (রাঃ)-এর নিকট সরাসরি শিমারকে পাঠান। তাকে বলা হয়, সেনাপতি ওমর বিন সা‘দ যদি তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করতে ইতস্তত করেন, তাহ’লে তুমি তার স্থলাভিষিক্ত হবে এবং হুসায়েনকে হত্যা করবে’।[11] হুসায়েন (রাঃ) উক্ত হীনকর প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করলে শিমারের নির্দেশে যুর‘আ বিন শারীক তামীমী প্রথমে তাঁকে তরবারীর আঘাতে ভূপাতিত করে। অতঃপর সিনান বিন আনাস নাখাঈ তাঁকে বর্শা দিয়ে আঘাত করে। অতঃপর সে তাঁর দেহ থেকে মস্তক বিছিন্ন করে। উল্লেখ্য যে, সেনাপতি ওমর-এর পিতা সা‘দ বিন আবু ওয়াকক্বাছ (রাঃ)-এর ন্যায় শিমারের পিতাও ছিলেন একজন বিশিষ্ট ছাহাবী। বলা হয়েছে যে, তাঁর অপর নাম শুরাহবীল।[12] ঐদিন ছিল ১০ই মুহাররম শুক্রবার। যদিও কেউ কেউ বলেছেন, ওটা ছিল ছফর মাস। তবে প্রথমটিই সঠিক।[13] 

হুসায়েন (রাঃ)-এর মৃত্যু :

হুসায়েন (রাঃ) ৬১ হিজরীর ১০ই মুহাররম আশূরার দিন জুম‘আ বারে ৫৪ বছর ৬ মাস ১৫ দিন বয়সে কারবালা প্রান্তরে শাহাদত বরণ করেন।[14]

নিহতদের সংখ্যা ও তালিকা :

হুসায়েন (রাঃ)-এর অন্যতম বৈমাত্রেয় ছোট ভাই মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিইয়াহ (রাঃ) বলেন, ‘হুসায়েন সহ এদিন তাঁর পরিবারের ১৭ জন পুরুষ সদস্য নিহত হন। যাদের মধ্যে ৫ জন হুসায়েন (রাঃ)-এর ভাই- আববাস, জা‘ফর, আব্দুল্লাহ, ওছমান ও মুহাম্মাদ আল-আছগার। হুসায়েন (রাঃ)-এর দুই পুত্র আলী আল-আকবার ও আব্দুল্লাহ। বড় ভাই হাসান (রাঃ)-এর তিন পুত্র আব্দুল্লাহ, ক্বাসেম ও আবুবকর। আক্বীলের ৩ পুত্র জা‘ফর, আব্দুর রহমান ও আব্দুল্লাহ। মুসলিম বিন আক্বীলের ২ পুত্র আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবী সাঈদ ইবনে আক্বীল। আব্দুল্লাহ ইবনু জা‘ফর ইবনে আবী তালেবের ২ পুত্র আওন ও মুহাম্মাদ।[15] আহলে বায়েতের ১৭ জন ছাড়াও ঐদিন হুসায়েন পক্ষে নিহত হন ৭২ জন এবং বিপক্ষে নিহত হয় ৮৮ জন। যাদের সবাইকে কারবালা ময়দানে দাফন করে বনূ আসাদ গোত্রের লোকেরা।[16] তবে ইমাম যাহাবী (৬৭৩-৭৪৮ হি.) বলেন, আলী আল-আকবার হুসায়েন-এর কোলে শহীদ হন। ইনি আব্দুল্লাহ আর-রাযী‘ (দুগ্ধপোষ্য আব্দুল্লাহ) নামে পরিচিত।[17] যদিও শী‘আরা হুসায়েনের কোলে নিহত হওয়া শিশুপুত্রকে আলী আল-আছগার বলে থাকে।

ইয়াযীদের প্রতিক্রিয়া:

হুসায়েন (রাঃ)-এর নিহত হওয়ার খবর রাজধানী দামেষ্কে পৌঁছলে ইয়াযীদ ও তার পরিবার অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং তারা ক্রন্দন করতে থাকেন। এ সময় ইয়াযীদ বলেন,لَعَنَ اللهُ ابْنَ مَرْجَانَةَ يَعْنِىْ عُبَيْدَ اللهِ بْنَ زِيَادٍ، أَمَا وَاللهِ لَوْ كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْحُسَيْنِ رَحِمٌ لَمَا قَتَلَهُ وَقَالَ قَدْ كُنْتُ أَرْضَى مِنْ طَاعَةِ أَهْلِ الْعِرَاقِ بِدُوْنِ قَتْلِ الْحُسَيْنِ- ‘ইবনু মারজানার (ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের) উপর আল্লাহ লা‘নত করুন! আল্লাহর কসম যদি হুসায়েনের সাথে তার রক্তের সম্পর্ক থাকত, তাহ’লে সে কখনোই তাঁকে হত্যা করত না’। তিনি বলেন, ‘হুসায়েনের খুন ছাড়াই আমি ইরাকীদেরকে আমার আনুগত্যে রাযী করাতে পারতাম’।[18]

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ইয়াযীদ আরও বলেন, ‘ইবনু যিয়াদের উপর আল্লাহ লা‘নত করুন! সে হুসায়েনকে কোনঠাসা ও বাধ্য করেছে। তিনি ফিরে যেতে চেয়েছিলেন অথবা আমার নিকটে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সে সবকিছু প্রত্যাখ্যান করে তাঁকে হত্যা করেছে। এর ফলে সে আমাকে মুসলমানদের বিদ্বেষের শিকারে পরিণত করেছে। তাদের হৃদয়ে আমার বিরুদ্ধে শত্রুতার বীজ বপন করেছে। ভাল ও মন্দ সকল প্রকারের লোক হুসায়েন হত্যার মহা অপরাধে আমাকে দায়ী করবে ও আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে। হায়! আমার কি হবে ও ইবনু মারজানার (ইবনে যিয়াদের) কি হবে! আল্লাহ তাকে মন্দ করুন ও তার উপরে গযব নাযিল করুন’![19]

হুসায়েন পরিবারের স্ত্রী-কন্যা ও শিশুগণ ইয়াযীদের প্রাসাদে প্রবেশ করলে প্রাসাদে কান্নার রোল পড়ে যায়। ইয়াযীদ তাদেরকে বিপুলভাবে সম্মানিত করেন ও মূল্যবান উপঢৌকনাদি দিয়ে সসম্মানে মদীনায় প্রেরণের ব্যবস্থা করেন।[20] যে তিন দিন হুসায়েন পরিবার ইয়াযীদের প্রাসাদে ছিলেন, সে তিন দিন সকালে ও সন্ধ্যায় হুসায়েনের দুই ছেলে আলী (ওরফে ‘যয়নুল আবেদীন’) এবং ওমর বিন হুসায়েনকে সাথে নিয়ে ইয়াযীদ খানাপিনা করতেন ও আদর-সোহাগ করতেন’।[21]

হুসায়েন (রাঃ)-এর শাহাদতে আহলে সুন্নাতের অবস্থান :

হুসায়েন (রাঃ) সম্পর্কে আহলে সুন্নাতের অবস্থান এই যে, খেলাফতের হকদার হিসাবে হুসায়েন ও তাঁর অনুসারীদের দাবী নিঃসন্দেহে সঠিক থাকলেও সবকিছুর উপরে আল্লাহর অমোঘ বিধানই কার্যকর হয়েছে। আর তাহ’ল, আল্লাহর বাণী-قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ- ‘তুমি বল, হে আল্লাহ! তুমি রাজাধিরাজ। তুমি যাকে খুশী রাজত্ব দান কর ও যার কাছ থেকে খুশী রাজত্ব ছিনিয়ে নাও। তুমি যাকে খুশী সম্মানিত কর ও যাকে খুশী অপমানিত কর। তোমার হাতেই যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাবান’ (আলে ইমরান ৩/২৬)। আল্লাহ আরও বলেন,وَاللهُ يُؤْتِي مُلْكَهُ مَن يَّشَاءُ وَاللهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ- ‘বস্ততঃ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে রাজত্ব দান করেন। আর আল্লাহ (স্বীয় অনুগ্রহ) প্রশস্তকারী ও সর্বজ্ঞ’ (বাক্বারাহ ২/২৪৭)। বস্ত্ততঃ ইয়াযীদও কাছাকাছি একই কথা বলেছিলেন।[22]

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত হুসায়েন (রাঃ)-এর মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে। কিন্তু তাতে বাড়াবাড়ি করে শী‘আদের ন্যায় ঐদিন শোক দিবস পালন করে না। দুঃখ প্রকাশের ইসলামী রীতি হ’ল ‘ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজে‘ঊন’ পাঠ করা (বাক্বারাহ ২/১৫৫-৫৬) ও মাইয়েতের জন্য দো‘আ করা। 

মুসলমানদের প্রাণপ্রিয় খলীফা ওমর (রাঃ) মসজিদে নববীতে ফজরের ছালাত আদায়রত অবস্থায় মর্মান্তিকভাবে আহত হয়ে পরে শাহাদত বরণ করেছেন। ওছমান গণী (রাঃ) ৮৩ বছরের বৃদ্ধ বয়সে নিজ গৃহে কুরআন তেলাওয়াত রত অবস্থায় পরিবারবর্গের সামনে নিষ্ঠুরভাবে শহীদ হয়েছেন। আলী (রাঃ) ফজরের জামা‘আতে মসজিদে যাওয়ার পথে অতর্কিতে আক্রান্ত হয়ে শাহাদত বরণ করেন। তাঁকে তাঁর হত্যাকারী এবং বিরোধীরা ‘কাফের’ ও ‘আল্লাহর নিকৃষ্টতম সৃষ্টি’ বলতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি।[23] যদিও হোসায়েন (রাঃ)-কে তাঁর হত্যাকারীরা কখনো ‘কাফের’ বলেনি।

আশারায়ে মুবাশশারাহর অন্যতম ব্যক্তিত্ব ত্বালহা ও যুবায়ের (রাঃ) ‘উটের যুদ্ধে’ মর্মান্তিকভাবে শহীদ হন। তাঁদের কারো মৃত্যু হুসায়েন (রাঃ)-এর মৃত্যুর চাইতে কম দুঃখজনক ও কম শোকাবহ ছিল না। কিন্তু কারো জন্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করে মাতম করার ও শোক দিবস পালন করার কোন রীতি কোন কালে ছিল না। ইসলামী শরী‘আতে এগুলি নিষিদ্ধ।

রাসূল (ছাঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী :

উম্মুল ফাযল বিনতুল হারেছ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে প্রবেশ করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমি রাতে একটা দুঃস্বপ্ন দেখেছি। তিনি বললেন, সেটা কি? রাবী বললেন, সে অত্যন্ত কঠিন (স্বপ্ন)। রাসূল (ছাঃ) বললেন, সেটা কি? উম্মু ফাযল বলেন, আমি দেখলাম, আপনার দেহের একটা অংশ আমার ক্রোড়ে রাখা হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বললেন, তুমি ভাল দেখেছ। ফাতিমা একটি পুত্র সন্তান প্রসব করবে ইনশাআল্লাহ, তাকে তোমার কোলে দেওয়া হবে। অতঃপর ফাতেমা (রাঃ) হুসায়েনকে প্রসব করলেন। সে আমার কোলে ছিল যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেছিলেন। একদিন হুসায়েনকে কোলে নিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে গেলাম এবং রাসূল (ছাঃ)-এর কোলে হুসায়েনকে দিলাম। অতঃপর ফিরে আসার সময় আমি রাসূল (ছাঃ)-কে অশ্রুসিক্ত দেখে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক, আপনার কি হয়েছে? তিনি বললেন, আমার নিকটে জিবরীল (আঃ) এসে আমাকে সংবাদ দিল যে, আপনার উম্মত অচিরেই আপনার এই দৌহিত্র হুসায়েনকে হত্যা করবে। আমি বললাম, একে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি আমার জন্য সেখানকার লাল মাটি নিয়ে আসলেন’।[24] আরেকটি বর্ণনায় এসেছে,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم فِيمَا يَرَى النَّائِمُ بِنِصْفِ النَّهَارِ وَهُوَ قَائِمٌ أَشْعَثَ أَغْبَرَ بِيَدِهِ قَارُورَةٌ فِيهَا دَمٌ فَقُلْتُ بِأَبِى أَنْتَ وَأُمِّى يَا رَسُولَ اللهِ مَا هَذَا قَالَ هَذَا دَمُ الْحُسَيْنِ وَأَصْحَابِهِ لَمْ أَزَلْ أَلْتَقِطُهُ مُنْذُ الْيَوْمِ. فَأَحْصَيْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ فَوَجَدُوهُ قُتِلَ فِى ذَلِكَ الْيَوْمِ.

ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, ঘুমন্ত লোক যেভাবে কিছু দেখে, সেভাবে আমি নবী করীম (ছাঃ)-কে দ্বিপ্রহরে স্বপ্নে দেখলাম। তখন তিনি ছিলেন এলোমেলো ও চেহারায় ধূলি মাখা অবস্থায়। তাঁর হাতে ছিল রক্তে পরিপূর্ণ একটি শিশি। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমার পিতামাতা আপনার প্রতি কুরবান হোন। এটা কি? তিনি বললেন, এটা হুসায়েন ও তার সাথীদের রক্ত, যা আমি আজকের দিন অত্র শিশিতে উঠিয়ে রাখছি। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, স্বপ্নের ঐ সময়টি আমি স্মরণে রাখি। পরে দেখতে পেলাম, হুসায়েন ঠিক সে সময়েই নিহত হয়েছেন’।[25]

পরিশেষে বলব, কারবালায় হুসায়েন (রাঃ)-এর শাহাদত ছিল এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা। এই ময়দানে তাঁর শাহাদত নির্ধারিত ছিল বলেই তিনি ছাহাবী-তাবেঈগণের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কূফায় গমন করেন। তাঁর শাহাদতকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের বিভ্রান্তি মুসলিম সমাজে প্রচলিত আছে। এগুলি পরিহার করা কর্তব্য। তেমনি কারবালার ঘটনাকে হক-বাতিলের যুদ্ধ আখ্যায়িত করাও সঠিক নয়। হুসায়েন (রাঃ)-এর শাহাদতের স্মরণে বর্তমানে যেমন তা‘যিয়া মিছিল করা হয় সেটাও ইসলামে সিদ্ধ নয়। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন-আমীন!


[1]. আনসাবুল আশরাফ ৩/১৬১; তাবারী ৫/৩৮২ পৃঃ।

[2]. আল-ক্বাওলুস সাদীদ, পৃঃ ১৪৪।

[3]. আল-ক্বাওলুস সাদীদ, পৃঃ ১৪৪-৪৫।

[4]. আল-ক্বাওলুস সাদীদ, পৃঃ ১৪৬।

[5]. আল-ক্বাওলুস সাদীদ, পৃঃ ১৫০।

[6]. ছহীহ ইবনু হিববান হা/৬৯২৯; তাহযীবুল কামাল ৬/৪১৬ পৃঃ।

[7]. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৯/২৬৬।

[8]. আল-ক্বাওলুস সাদীদ, পৃঃ ১৪৯-৫০।

[9]. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৯/২৬৬।

[10]. আত-তাবারী ৬/২২৬; এর অবস্থান হ’ল ওয়াকিছাহ ও আল- কারআ-এর মধ্যবর্তী, বনূ ওয়াহবের বাসস্থল আল-আহসা থেকে ৮ মাইল দূরে ও শারাফ থেকে ওয়াকিছার দূরত্ব ২ মাইল। দ্রঃ মু‘জামুল বুলদান।

[11]. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৮/১৭২।

[12]. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৮/১৯০।

[13]. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৮/১৭৩, ২০০।

[14]. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৮/১৬০ পৃঃ।

[15]. আল-ক্বাওলুস সাদীদ, পৃঃ ১৬৭।

[16]. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৮/১৯১।

[17]. যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ৩/৩২১।

[18]. ইবনু তায়মিয়াহ, মুখতাছার মিনহাজুস সুন্নাহ (রিয়ায : মাকতাবাতুল কাওছার ১ম সংস্করণ ১৪১১ হি./১৯৯১ খৃ.) ১/৩৫০ পৃ.।

[19]. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৮/২৩৫।

[20]. মুখতাছার মিনহাজুস সুন্নাহ ১/৩৫০।

[21]. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৮/১৯৭।

[22]. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৮/১৯৭

[23]. আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, ৭/৩৩৯।

[24]. সিলসিলা ছহীহাহ হা/৮২১, সনদ ছহীহ।

[25]. আহমাদ হা/২৫৫৩; বায়হাক্বী ৬/৪৭১; মুসনাদে আব্দ ইবনু হুমায়দ ৭১০; তাবারানী, আল-মু‘জামুল কাবীর হা/১২৬৬৬; হাকিম হা/৮২০১।






হুসায়েন বিন আলী (রাঃ) (শেষ কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
আস‘আদ বিন যুরারাহ (রাঃ) - ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন
হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
হোসাইন বিন আলী (রাঃ) - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
হাসান বিন আলী (রাঃ) - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ) - ড. মুখতারুল ইসলাম
উক্কাশা বিন মিহছান (রাঃ) - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
শেরে পাঞ্জাব, ফাতিহে কাদিয়ান মাওলানা ছানাউল্লাহ অমৃতসরী (রহঃ) (৪র্থ কিস্তি) - ড. নূরুল ইসলাম
হাসান বিন আলী (রাঃ)(শেষ কিস্তি) - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
ইসলামের প্রথম দাঈ, ওহোদের ঝান্ডাবাহী শহীদ ছাহাবী মুছ‘আব বিন ওমায়ের (রাঃ) - ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন
আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) - ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম
আরও
আরও
.