সন্তান প্রতিটি পিতা-মাতার হৃদয়ের টুকরো, ভবিষ্যতের উত্তরসূরী এবং সমাজ ও উম্মাহর গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতা। একজন মুসলিম অভিভাবক শুধু সন্তানকে দুনিয়াবী সফলতা নয়; বরং আখেরাতের মুক্তির পথেও পরিচালিত করতে চায়। আর এ উদ্দেশ্যে সন্তানকে সঠিক উপদেশ প্রদান ও চারিত্রিক গঠনে দিকনির্দেশনা দেওয়া অন্যতম দায়িত্ব। ইতিহাসের পাতায় সালাফে ছালেহীনদের জীবনচিত্রে আমরা দেখি- তারা সন্তানদের প্রতি কতটা গভীর ভালোবাসা, প্রজ্ঞা ও দ্বীনদার মনোভাব নিয়ে উপদেশ দিতেন। তাদের প্রতিটি বাক্যে থাকত ঈমানী দরদ, দুনিয়া ও আখেরাতের ভারসাম্য এবং পূর্ণাঙ্গ মানুষ গঠনের প্রয়াস। পবিত্র কুরআনের সূরা লোকমানে বর্ণিত সন্তানের প্রতি লোকমান হাকীমের প্রদত্ত উপদেশমালা তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে আমরা সালাফদের হৃদয়স্পর্শী ও দূরদর্শী উপদেশাবলী থেকে কিছু নির্বাচিত অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করব ইশাআল্লাহ।-
সালাফগণ সন্তানদের উপদেশের জন্য একে অপরকে বলতেন :
সালাফে ছালেহীন পরস্পর স্বীয় সন্তানদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল হওয়ার উপদেশ দিতেন। ওছমান খাতেবী (রহঃ) বলেন,أَدِّبِ ابْنَكَ، فَإِنَّكَ مَسْئُولٌ عَنْ وَلَدِكَ، مَاذَا أَدَّبْتَهُ؟ وَمَاذَا عَلَّمْتَهُ؟ وَأَنَّهُ مَسْئُولٌ عَنْ بِرِّكَ وَطَوَاعِيَتِهِ لَكَ، ‘তোমার সন্তানকে আদব শিক্ষা দাও। কারণ তুমি তোমার সন্তানের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে- তুমি তাকে কিভাবে আদব শিখিয়েছ? তাকে কি কি জ্ঞান দান করেছ? আর সে-ও জিজ্ঞাসিত হবে- সে তোমার প্রতি কেমন সম্মান ও আনুগত্য প্রদর্শন করেছে’।[1] মুক্বাতিল বিন মুহাম্মাদ বিন বুনান (রহ.) বলেন, একবার আমি আমার পিতা ও ভাইয়ের সাথে আবু ইসহাকের (ইব্রাহীম আল-হারবী) কাছে গিয়েছিলাম। ইব্রাহীম আমার পিতাকে দেখে বললেন, এরা তোমার ছেলে? পিতা বললেন, ‘হ্যাঁ’। তিনি বললেন, সাবধান থাকবে, তারা যেন তোমাকে আল্লাহর অবাধ্যতা করতে না দেখে। তাহ’লে তাদের চোখে তুমি তুচ্ছ হয়ে যাবে’।[2] হাফেয ইবনু রজব হাম্বলী (রহঃ) বলেন, মানুষদেরকে অর্থ-কড়ি দান করা বা খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে সাহায্য করার চাইতে তাদের সাথে সুন্দর কথার মাধ্যমে উত্তম আচরণ করা বেশী পসন্দনীয়। লোকমান যেমন তার ছেলেকে বলেছিলেন, ছেলে! তোমার কথা যেন সুন্দর হয়, মুখ যেন হাস্যোজ্জ্বল থাকে। তাহ’লে যারা লোকদেরকে সোনা-রূপা দান করে, তাদের চাইতে তুমি অধিক জনপ্রিয় হবে।[3]
ইবনু কুদামা (রহঃ) বলেন, পিতার করণীয় হ’ল নিজ সন্তানকে অশ্লীল বাক্য বলা থেকে বিরত রাখায় অভ্যস্ত করে তোলা এবং যারা এমন কাজে লিপ্ত হয় তাদের সাথে মেলামেশা করতে না দেওয়া। কারণ বাচ্চাদের রক্ষণাবেক্ষণের মূল জায়গাটা হ’ল তাদেরকে অসৎসঙ্গ থেকে রক্ষা করা। এছাড়াও পিতার করণীয় হ’ল তাকে বেশী কথা না বলা এবং মনোযোগ দিয়ে শুনতে অভ্যস্ত করে তোলা। বিশেষত যদি তার চাইতে মর্যাদাবান কেউ কথা বলে।[4]
ইবনুল জাওযী (রহঃ) বলেন, মেয়ের পিতা-মাতা এবং পরিবারের উচিৎ তারা যেন কখনো মেয়েকে তার স্বামীর উপর নিজেকে প্রাধান্য দিতে না বলে। মেয়ের পিতা-মাতার উচিত তাকে স্বামীর অধিকারসমূহ শিখিয়ে দেওয়া; বিশেষ করে মায়ের উচিত (এ ব্যাপারে) তাকে অধিক পরিমাণে উপদেশ দেওয়া।[5]
সন্তানদের প্রতি সালাফদের উপদেশ
(১) ঈমানের উপদেশ :
একদা ওবাদাহ ইবনু ছামিত (রাঃ) তার ছেলেকে বললেন, يَا بُنَيَّ، إِنَّكَ لَنْ تَجِدَ طَعْمَ حَقِيقَةِ الْإِيمَانِ حَتَّى تَعْلَمَ أَنَّ مَا أَصَابَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَكَ، وَمَا أَخْطَأَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَكَ، ‘হে আমার বৎস! তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে না, যতক্ষণ না তুমি জানবে যে, যা তোমার উপর ঘটেছে তা ভুলেও এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না। আবার যা এড়িয়ে গেছে তা তোমার উপর ভুলেও ঘটবার ছিল না। আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, إِنَّ أَوَّلَ مَا خَلَقَ اللهُ الْقَلَمَ، فَقَالَ لَهُ: اكْتُبْ، قَالَ: رَبِّ وَمَاذَا أَكْتُبُ؟ قَالَ: اكْتُبْ مَقَادِيرَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ، ‘মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম যে বস্ত্ত সৃষ্টি করেছেন তা হচ্ছে কলম। অতঃপর তিনি তাকে বললেন, লেখ! কলম বলল, হে আমার রব! কি লিখব? তিনি বললেন, ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক বস্ত্তর তাক্বদীর লেখ’। ওবাদাহ (রাঃ) বলেন, হে আমার প্রিয় পুত্র! আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, مَنْ مَاتَ عَلَى غَيْرِ هَذَا فَلَيْسَ مِنِّي ‘যে ব্যক্তি এরূপ বিশবাস ছাড়া মারা যায় সে আমার (উম্মতের) অন্তর্ভুক্ত নয়’।[6]
(২) পাপ পরিত্যাগের উপদেশ :
ইবনে মুজাহিদ বলেন, আমি আত্বা ইবনে আবী রাবাহ (রহ.)-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় তাঁর পুত্র ইয়াকূব এসে বলল, ‘আববাজান! আমাদের কিছু সাথী দাবী করে যে, তাদের ঈমান জিবরীল (আ.)-এর ঈমানের মতই’। তখন আত্বা (রহ.) বললেন,يَا بُنَيَّ، لَيْسَ إِيمَانُ مَنْ أَطَاعَ اللهَ كَإِيمَانِ مَنْ عَصَى اللهَ، ‘বৎস আমার! আল্লাহর আনুগত্যকারী ও তাঁর অবাধ্যতাকারী বা পাপী ব্যক্তির ঈমান তো একরকম হ’তে পারে না’।[7]
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় হ’ল- আমাদের যুগের সন্তানরা সাধারণত পিতা-মাতার কাছে বস্ত্তবাদী কোন কিছু দাবী করে। বলে, অমুক তার সন্তানকে এটা কিনে দিয়েছে আমাকেও দিতে হবে। অথচ সালাফদের সন্তানরা এমন পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন যে, তাদের কথাবার্তা, চলাফেরা সবকিছুতে ইসলাম ও ঈমানের প্রভাব বিদ্যমান ছিল। মূলত এখানে আত্বা বিন আবী রাবাহ (রহঃ) স্বীয় সন্তানকে ঈমান শিক্ষা দিয়েছেন যে, ঈমান শুধু মুখে দাবী করার বিষয় নয়; বরং সেটা কর্মে বাস্তবায়নের নাম। আর যারা সর্বদা আল্লাহর অবাধ্যতা ও পাপে নিমজ্জিত থাকে, তাদের ঈমান পূর্ণাঙ্গ থাকে না। এখানে তিনি মেহমানের সামনে সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে সন্তানকে সাইকোলোজিক্যালী সাপোর্ট করেছেন এবং উত্তরে খুবই সূক্ষ্মভাবে আদরের সন্তানকে আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি এবং পাপ বর্জনের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, তিনি সন্তানকে এমন বন্ধুদের সাথে মিশতে দিয়েছেন, যারা খেলাধুলার মাঝে একে অপরের সাথে ঈমান-আমল নিয়ে কথা বলে, গল্প করে। সুবহানাল্লাহ।
(৩) মৃত্যুর প্রস্ত্ততি নেওয়ার উপদেশ :
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর চাচা আববাস ইবনে আব্দুল মুত্ত্বালিব (রাঃ)-এর মৃত্যুর সময় যখন ঘনিয়ে এল, তখন তিনি তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহকে [রঈসুল মুফাসসিরীন আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ)]-কে বললেন, ‘হে আমার প্রিয় পুত্র আব্দুল্লাহ! আমি তোমাকে অছিয়ত করে যাচ্ছি যে, তুমি আল্লাহকে ভালোবাসবে, তাঁর আনুগত্যকে ভালোবাসবে, তাঁকে ভয় করে চলবে এবং তাঁর অবাধ্যতাকে ভয় করবে। যদি তুমি এরকম করতে পার, তবে মৃত্যু যখনই আসুক না কেন, সেই মৃত্যুকে তুমি কখনো অপসন্দ করবে না’।[8] সাঈদ ইবনে যুবায়ের (রাঃ) একদিন তার সন্তানের দিকে মায়াভরা দৃষ্টি দিয়ে বললেন, ‘বৎস! আমি জানি তোমার মাঝে একটা বৈশিষ্ট্য আছে? ছেলে জিজ্ঞেস করে, ‘সেটা কী বাবা!’ তিনি উত্তরে বলেন, ‘আমি জানি, তুমি একদিন মৃত্যুবরণ করবে’।[9]
(৪) ছালাতের উপদেশ :
মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ) স্বীয় সন্তানকে বলেন, يَا بُنَيَّ إِذَا صَلَّيْتَ صَلَاةً فَصَلِّ صَلَاةَ مُوَدِّعٍ؛ لَا تَظُنُّ أَنَّكَ تَعُودُ إِلَيْهَا أَبَدًا، وَاعْلَمْ يَا بُنَيَّ أَنَّ الْمُؤْمِنَ يَمُوتُ بَيْنَ حَسَنَتَيْنِ: حَسَنَةٍ قَدَّمَهَا، وَحَسَنَةٍ أَخَّرَهَا، ‘হে আমার প্রিয় বৎস! যখন তুমি ছালাত আদায় করবে, তখন এমনভাবে আদয় করবে যেন এটি তোমার জীবনের শেষ ছালাত। এমনটা মনে করবে না যে, তুমি পুনরায় ছালাত আদায় করতে পারবে’। আর জেনে রেখো! হে আমার সন্তান! একজন মুমিন মারা যায় দুই কল্যাণের মাঝখানে- একটি কল্যাণ যা সে আগেই করে রেখেছে, আর আরেকটি কল্যাণ যার নিয়ত সে করে রেখেছে’।[10]
(৫) অল্পেতুষ্টির উপদেশ :
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) তাঁর পিতা ওমর (রাঃ)-এর কাছে এসে বললেন, আববা! আমাকে একটি চাদর কিনে দিন। তখন ওমর (রাঃ) বললেন, يَا بُنَيَّ نَكِّسْ إِزَارَكَ وَإِيَّاكَ أَنْ تَكُونَ مِنَ الَّذِينَ يَجْعَلُونَ مَا رَزَقَهُمُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي بُطُونِهِمْ وَعَلَى ظُهُورِهِمْ، ‘হে বৎস! তুমি তোমার কাপড় উল্টিয়ে পরিধান কর। আর তুমি ঐসকল লোকের মতো হয়ো না, যারা আল্লাহর দেওয়া রিযিক পেটেও ব্যবহার করে, পিঠেও ব্যবহার করে’।[11] জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ছাহাবী সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাছ (রাঃ) তার ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বলেন, يا بني! إذا طلبت الغنى فاطلبه بالقناعة، فإنها مال لا يَنْفَدُ؛ وإياك والطمَع فإنه فقر حاضر؛ وعليك باليأس، فإنك لم تيأس من شيء قطُّ إلا أغناك الله عنه، ‘হে বৎস! যদি তুমি প্রাচুর্য চাও, তাহ’লে অল্পে তুষ্টির মাধ্যমে সেটা অন্বেষণ কর। কেননা অল্পে তুষ্টি এমন সম্পদ, যা কখনো নিঃশেষ হয় না। আর তুমি লোভ-লালসা থেকে বেঁচে থাক। কেননা লোভ একটি চাক্ষুষ নিঃস্বতা। আর তুমি অপরের সম্পদ থেকে বিমুখ থাক। কেননা যখনই তুমি কোন কিছু (পার্থিব জৌলুস) থেকে নিবৃত্ত থাকবে, আল্লাহ তোমাকে এর থেকে মুখাপেক্ষীহীন করে দিবেন’।[12]
(৬) আল্লাহওয়ালা আলেমদের মাধ্যমে উপদেশ :
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ)-এর ছেলে ছালেহ (রহঃ) বলেন,كَانَ أَبِي يَبْعَثُ خَلْفِي إِذَا جَاءهُ رَجُلٌ زَاهدٌ أَوْ مُتَقَشِّفٌ لأَنْظُرَ إِلَيْهِ، يُحِبُّ أَنْ أَكُوْنَ مِثْلَهُ، ‘আমার আববার কাছে যখন কোন দুনিয়াবিমুখ-অনাড়ম্বর ব্যক্তি আগমন করতেন, তখন তিনি আমাকে ডেকে পাঠাতেন; যেন আমি মানুষটাকে দেখে শিখতে পারি। তিনি চাইতেন আমি যেন তার মতো হই’।[13]
(৭) সৎ সঙ্গ গ্রহণ ও অসৎ সঙ্গ বর্জনের উপদেশ :
জা‘ফর ইবনে মুহাম্মাদ স্বীয় পুত্র মূসাকে উপদেশ দিয়ে বলেন, يا بني: إذا زرت فزر الأخيار، ولا تزر الفجار، فإنهم صخرة لا يتفجر ماؤها، وشجرة لا يخضر ورقها، وأرض لا يظهر عشبها، ‘হে বৎস! যদি কারো সাথে সাক্ষাত করতেই হয়, তবে ভালো লোকের সাথে সাক্ষাত কর। পাপী লোকদের সাথে সাক্ষাত করো না। কেননা তারা এমন পাথর, যার পানি প্রবাহিত হয় না, এমন গাছ, যার পাতাগুলো সবুজ হয় না এবং এমন ভূমি, যাতে ঘাস উদ্গত হয় না (অর্থাৎ পাপী লোকের সাথে উঠাবসা করা নিরাপদ নয়)’।[14] একজন সালাফ (নেক পূর্বসূরি) তাঁর ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন, يا بني لا تصحب من الناس إلاّ من إنْ افترقت قرب منك، وإذا استغنيت لم يطمع فيك، وإنْ علت مرتبته لم يرتفع عليك، إنْ تذللت له صانك، وإنْ احتجت له مانك، ‘হে বৎস! তুমি মানুষের মধ্যে কেবল তারই সাথে সঙ্গ রাখ- যার সাথে বিচ্ছেদ হ’লেও সে তোমার সান্নিধ্যে আসার চেষ্টা করে, যখন তুমি স্বনির্ভর হয়ে যাও তখন সে তোমার প্রতি লোভী হয় না, যদি তার মর্যাদা উঁচু হয় তবুও সে তোমার ওপর অহংকার দেখায় না। তুমি তার কাছে নিজেকে ছোট করে ধরলেও সে তোমার মর্যাদা রক্ষা করে। আর তুমি যদি তার কাছে কোন প্রয়োজন প্রকাশ করো, তবে সে তোমাকে অপমান করে না’।[15]
আলী ইবনুল হাসান (রহঃ) তাঁর পুত্রকে বলেন,يَا بُنَيَّ، لَا تَصْحَبْ فَاسِقًا، فَإِنَّهُ يَبِيعُكَ بِأَكْلَةٍ وَأَقَلَّ مِنْهَا، يَطْمَعُ فِيهَا ثُمَّ لَا يَنَالُهَا، وَلَا بَخِيلًا; فَإِنَّهُ يَخْذُلُكَ فِي مَالِهِ أَحْوَجَ مَا تَكُونُ إِلَيْهِ، وَلَا كَذَّابًا; فَإِنَّهُ كَالسَّرَابِ يُقَرِّبُ مِنْكَ الْبَعِيدَ وَيُبَاعِدُ عَنْكَ الْقَرِيبَ، وَلَا أَحْمَقَ; فَإِنَّهُ يُرِيدُ أَنْ يَنْفَعَكَ فَيَضُرُّكَ، وَلَا قَاطِعَ رَحِمٍ، فَإِنَّهُ مَلْعُونٌ فِي كِتَابِ اللهِ، ‘হে বৎস! পাপী লোকের সাথে বন্ধুত্ব করো না; সে তোমাকে এক বেলার খাবারের বিনিময়ে বা তার চেয়েও কম মূল্যে বিক্রি করে দেবে। সে এমন কিছুর লোভ করবে যা সে আদৌ পাবে না। আর তুমি কৃপণ ব্যক্তির সঙ্গেও মিশবে না; কারণ যখন তোমার (বিপদাপদে) অর্থ-কড়ির খুব প্রয়োজন হবে, তখন সে তোমাকে নিরাশ করবে। আর তুমি মিথ্যাবাদীর সঙ্গেও থেকো না; সে মরীচিকার মতো দূরের জিনিসকে তোমার কাছে নিয়ে আসবে, আর নিকটবর্তী জিনিস থেকে তোমাকে দূরে ঠেলে দিবে। তুমি মূর্খের সঙ্গেও থেকো না; কেননা সে তোমাকে উপকার করতে চাইবে, কিন্তু শেষমেশ তোমারই ক্ষতি করে বসবে। অতঃপর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর সঙ্গেও মিশবে না; কেননা সে আল্লাহর কিতাবে অভিশপ্ত’।[16]
খাত্তাব ইবনে মু‘আল্লা আল-মাখযূমী (রহঃ) স্বীয় পুত্রকে বলেন,إِيَّاكَ وَإِخْوَانَ السُّوْءِ فَإِنَّهُمْ يَخُونُونَ مَنْ رَافَقَهُمْ وَيَخْرُفُونَ مَنْ صَادَقَهُمْ وَقُرْبُهُمْ أَعْدَى مِنَ الْجَرَبِ وَرَفْضُهُمْ مِنِ اسْتِكْمَالِ الْأَدَبَ وَالْمَرْءُ يُعْرَفُ بِقَرِينِهِ. قَالَ: وَالْإِخْوَانُ اثْنَانِ فَمُحَافِظٌ عَلَيْكَ عِنْدَ الْبَلَاءِ وَصِدِيقٌ لَكَ فِي الرَّخَاءِ فَاحْفَظْ صَدِيقَ الْبَلْبَلَةِ وَتَجَنَّبْ صَدِيقَ الْعَافِيَةِ فَإِنَّهُمْ أَعْدَى الْأَعْدَاءِ، ‘খারাপ বন্ধুদের থেকে সতর্ক থাক, কারণ এরা তাদের বন্ধুদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। যারা এদের সাথে মেশে তার সর্বনাশ করে ছাড়ে। তাদের সান্নিধ্য চর্মরোগের চেয়েও ভয়ানক। তাদের বর্জন করাই প্রকৃত ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের পূর্ণতা। আর মানুষকে তার সঙ্গীর মাধ্যমেই চেনা যায়। এরপর তিনি বলেন, বন্ধু দুই ধরনের হয়ে থাকে- একজন হ’ল সেই, যে বিপদ-আপদে তোমার পাশে দাঁড়ায়। আরেকজন হ’ল তোমার সুখের সময়ের বন্ধু। সুতরাং তুমি দুঃসময়ের বন্ধুকে আঁকড়ে থাক এবং সুসময়ের বন্ধু থেকে দূরে থাকো। কেননা সুসময়ের বন্ধুরা সবচেয়ে বড় শত্রু’।[17]
লোকমান (আঃ) তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন,يَا بُنَيَّ ثَلَاثَةٌ لَا يُعْرَفُونَ إلَّا فِي ثَلَاثَةِ مَوَاطِنَ، لَا يُعْرَفُ الْحَلِيمُ إلَّا عِنْدَ الْغَضَبِ، وَلَا الشُّجَاعُ إلَّا عِنْدَ الْحَرْبِ، وَلَا الْأَخُ إلَّا عِنْدَ الْحَاجَةِ، ‘হে বৎস! তিনটি জিনিস কেবল তিনটি পরিস্থিতিতেই চেনা যায়: (১) সংযমশীল (ধৈর্যশীল) ব্যক্তিকে কেবল রাগের সময়েই চেনা যায়, (২) সাহসী ব্যক্তিকে চেনা যায় কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে, আর (৩) প্রকৃত ভাই বা বন্ধুকে কেবল প্রয়োজনের সময়েই চেনা যায়’।[18]
তিনি আরো বলেন,يَا بُنَيَّ، إِذَا أَتَيْتَ نَادِيَ قَوْمٍ فَارْمِهِمْ بِسَهْمِ الْإِسْلَامِ، يَعْنِي السَّلَامَ، ثُمَّ اجْلِسْ فِي نَاحِيَتِهِمْ، فَلَا تَنْطِقْ حَتَّى تَرَاهُمْ قَدْ نَطَقُوا، فَإِنْ أَفَاضُوا فِي ذِكْرِ اللهِ فَأجِلْ سَهْمَكَ مَعَهُمْ، وَإِنْ أَفَاضُوا فِي غَيْرِ ذَلِكَ فَتَحَوَّلْ عَنْهُمْ إِلَى غَيْرِهِمْ، ‘হে বৎস! যখন কোন কওমের বৈঠকে যাবে, তখন প্রথমেই ইসলামের তীর ছুড়ে দাও, অর্থাৎ তাদেরকে সালাম দাও। তারপর তাদের পাশে এক কোণে চুপচাপ বসে পড়ো। কথা বল না যতক্ষণ না- তারা নিজেরা কথা শুরু করে। যদি তারা আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করে, তাহ’লে তুমিও তাদের আলোচনায় অংশগ্রহণ কর। আর যদি তারা অনর্থক বা অন্য কোন বিষয়ে মশগূল হয়ে পড়ে, তবে তুমি সেই বৈঠক ছেড়ে অন্য কোথাও সরে যাও’।[19]
(৮) শুকরিয়া আদায়ের উপদেশ :
ছালেহ ইবনু জানাহ দিমাশক্বী (রহঃ) তার সন্তানকে উপদেশ দিয়ে বলেন, يا بني إذا مر بك يوم وليلة قد سلم فيها دينك وجسمك ومالك وعيالك فأكثر الشكر لله تعالى فكم من مسلوب دينه ومنزوع ملكه ومهتوك ستره ومقصوم ظهره في ذلك اليوم وأنت في عافية، ‘হে বৎস! যদি তেমার একটি দিন ও একটি রাত এমনভাবে অতিবাহি হয় যাতে তোমার দ্বীন সুরক্ষিত থাকে, তোমার শরীর সুস্থ থাকে এবং তোমার সম্পদ ও পরিবার নিরাপদে থাকে, তাহ’লে তুমি বেশী বেশী আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় কর। ভেবে দেখ, এমন কত মানুষ আছে, এক দিনে যার দ্বীন লুণ্ঠিত হয়েছে, তার সক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তার গোপন দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে এবং তার পৃষ্ঠদেশ ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। অথচ (আল্লাহর দয়ায়) তুমি তখনও সুস্থ ও নিরাপদে আছ’।[20]
খলীফা মানছূর তার পুত্র মাহদীকে উপদেশ দিয়ে বলেন, يا أبا عبد الله، استدم النعمة بالشكر، والقدرة بالعفو، والطاعة بالتألف والنصر بالتواضع، ولا تنس مع نصيبك من الدنيا نصيبك من رحمة الله، ‘হে আবু অব্দুল্লাহ! কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে নে‘মতকে স্থায়ী কর, ক্ষমার মাধ্যমে ক্ষমতা বজায় রাখ, সৌহার্দ্য ও ভালোবাসার মাধ্যমে আনুগত্য লাভ কর, নম্রতার মাধ্যমে বিজয় অর্জন কর; আর দুনিয়ার অংশ লাভ করতে গিয়ে যেন আল্লাহর দয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেও না’।[21]
(৯) অপচয় রোধের উপদেশ :
একবার ওমর ফারূক্ব (রাঃ) তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর ঘরে ঢুকলেন এবং দেখলেন, তার সামনে গোশত রাখা আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা কিসের গোশত?’ আব্দুল্লাহ বললেন, ‘আমার খেতে ইচ্ছে করেছিল, তাই এনেছি’। তখন ওমর (রাঃ) বিস্ময়মাখা কণ্ঠে বললেন, ‘কিছু খেতে মন চাইলেই কি তোমার সেটা খেতে হবে? মনে রেখ, كفى بالمرء سَرَفاً أن يأكل كل ما اشتهاه، ‘মানুষের অপচয়কারী সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তার মন যা চাইবে সে তা-ই খাবে’।[22]
(১০) কথার গোপনীয়তা রক্ষার উপদেশ :
আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বলেন, আমি একদিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছ থেকে বের হয়ে আমার বাড়ীর দিকে যাচ্ছিলাম। পথে কিছু বাচ্চা খেলছিল, তাদের খেলা দেখে ভালো লাগায় আমি দাঁড়িয়ে গেলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সেখানে এসে উপস্থিত হয়ে শিশুদেরকে সালাম দিলেন এবং আমাকে একটি প্রয়োজনীয় কাজে পাঠালেন। ফলে আমি বাসায় ফিরতে দেরি করে ফেললাম। আমার মা জিজ্ঞেস করলেন, ‘বাবা! আজ ফিরতে দেরি হ’ল কেন? আমি বললাম, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে একটি কাজে পাঠিয়েছিলেন’। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোন কাজে?’ আমি বললাম, ‘মা! এটি একটি গোপন বিষয়’। তখন মা বললেন,يَا بُنَيَّ احْفَظْ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سِرَّهُ، ‘বৎস! রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর গোপন কথা গোপন রাখ’। পরে ছাবিত (রহ.) আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কি এখনো সে কথা মনে রেখেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! আমি তা আজও মনে রেখেছি। আর যদি কাউকে বলতাম, তবে তোমাকেই বলতাম, হে ছাবিত![23]
(১১) ইলম অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করা :
খলীফা মানছূর তার সন্তানকে বলেছিলেন, يَا بَنِيَّ لَا تَجْلِسْ مَجْلِسًا إِلَّا وَعِنْدَكَ من أهل الحديث مَنْ يُحَدِّثُكَ، ‘হে আমার সন্তান! তুমি এমন কোন বৈঠকে বসো না, যেখানে তোমাকে হাদীছ শুনানোর জন্য তোমার পাশে আহলেহাদীছ থাকবে না’।[24]
ইবরাহীম ইবনে আদহাম (রহ.) বলেন, আমার পিতা আমাকে বলতেন,يَا بُنَيَّ، اطْلُبِ الْحَدِيثَ، فَكُلَّمَا سَمِعْتَ حَدِيثًا، وَحَفِظْتَهُ، فَلَكَ دِرْهَمٌ فَطَلَبْتُ الْحَدِيثَ عَلَى هَذَا، ‘হে আমার সন্তান! তুমি হাদীছ অন্বেষণ করো বা হাদীছ শিক্ষা করো। যখনই তুমি একটি হাদীছ শুনবে এবং তা মুখস্থ করবে, তখন (আমার পক্ষ থেকে) তোমার জন্য একটি করে দিরহাম উপহার থাকবে’। এভাবে উৎসাহ পেয়ে আমি হাদীছ অন্বেষণ শুরু করি’।[25]
সুফিয়ান ছাওরীর মা স্বীয় সন্তানকে বলেন,يا بَنِي اطلب العلم وأنا أكفيك من مغزلي يا بَنِي إِذَا كتبت عشرة أحاديث فانظر هل ترى فِي نفسك زيادة فِي مشيتك وحلمك ووقارك فَإِن لَمْ تر ذَلِكَ فاعلم أَنَّهُ لا يضرك ولا ينفعك، ‘ছেলে আমার!, তুমি ইলম অর্জন কর; তোমার খরচ আমি চরকায় সুতা কেটে বহন করব। বাছাধন! তুমি যখন দশটা হাদীছ লেখ, তখন দেখবে- তোমার চালচলনে, সহিষ্ণুতায় এবং ব্যক্তিত্বে সেটা কোন কিছু বৃদ্ধি করতে পেরেছে কি-না? তুমি যদি এমন কিছু না পাও তাহ’লে বুঝে নিবে, এই ইলম তোমার কোন ক্ষতি বা উপকারে আসবে না’।[26]
প্রখ্যাত ছাহাবী সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাছ (রাঃ)-এর নাতি ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সা‘দ (রহঃ) বলেন,كَانَ أَبِي يُعَلِّمُنَا مَغَازِيَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَعُدُّهَا عَلَيْنَا، وَسَرَايَاهُ وَيَقُولُ: يَا بَنِيَّ هَذِهِ مَآثِرُ آبَائِكُمْ فَلَا تُضَيِّعُوا ذِكْرَهَا، ‘আমাদের পিতা আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর প্রতিটা যুদ্ধাভিযানের বিবরণ (মাগাযী) শেখাতেন। তারপর বলতেন, ছেলেরা! এগুলো তোমাদের পূর্বপুরুষের কীর্তিগাঁথা। তাই এগুলো স্মরণ করতে ভুলে যাবে না’।[27]
(১২) বিদ‘আতীদের কথা না শোনার উপদেশ :
তাউস (রহঃ) একদিন বসেছিলেন এবং তাঁর ছেলে তাঁর পাশেই ছিল। এমন সময় মু‘তাযিলা ফের্কার এক লোক এসে কিছু কথা বলা শুরু করল। তখন তাউস (রহঃ) তাঁর নিজের দুই কানে আঙুল ঢুকিয়ে দিলেন এবং ছেলেকে বললেন, يا بني أدخل أصبعك فِي أذنيك حتى لا تسمع من قوله شيئا فَإِن هَذَا القلب ضعيف ثم قَالَ أي بني أسدد فما زال يَقُول أسدد حتى قَامَ الآخر، ‘হে আমার বৎস! তুমিও তোমার দুই কানে আঙুল প্রবেশ করাও, যেন তুমি তার কথার কিছুই শুনতে না পাও। কারণ হৃদয় খুবই দুর্বল (ভ্রান্ত আক্বীদায় আক্রান্ত হ’তে সময় লাগে না)। এরপর তিনি ছেলেকে বললেন, ‘হে বৎস! (তোমার কানে) চেপে ধর! সেই বিদ‘আতী ব্যক্তি উঠে চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বলতেই থাকলেন- কান চেপে ধর! কান চেপে ধর![28]
এই ঘটনাটি একজন সৎ ও আল্লাহভীরু আলেমের আক্বীদা সংরক্ষণের প্রতি সতর্কতা এবং এর কুপ্রভাব থেকে সন্তানকেও বাঁচিয়ে রাখার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সুতরাং বাতিল চিন্তা বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য থেকে দূরে থাকা এবং দুর্বল অন্তরকে তার আক্রমণ থেকে রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলিমের ঈমানী দায়িত্ব।
(১৩) আমর বিল মা‘রূফ ও নাহি আনিল মুনকারের উপদেশ :
উমায়ের ইবনে হাবীব মৃত্যু শয্যায় তাঁর ছেলেদের উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘হে আমার সন্তানরা! মূর্খদের সঙ্গে মেশার ক্ষেত্রে সাবধান থাক। কারণ তাদের সঙ্গে ওঠাবসা করা এক ধরনের রোগ। যে ব্যক্তি মূর্খের কটুক্তির প্রতি ধৈর্য ধারণ করে, সে সুখে থাকে। আর যে তাকে জবাব দেয়, সে অনুতপ্ত হয়। যে ব্যক্তি মূর্খের ছোটখাটো অপমান সহ্য করতে পারে না, সে শেষমেশ বড় অপমানও মেনে নিতে বাধ্য হয়। আর তোমাদের কেউ যখন সৎকাজের আদেশ দিতে যাবে বা অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখতে চাইবে, তবে সে যেন আগে থেকেই কষ্ট সহ্য করার মানসিক প্রস্ত্ততি নেয় এবং নিশ্চিত থাকে যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য পুরস্কার রয়েছে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে পাওয়ার দৃঢ় বিশ^াস রাখে, সে মানুষের কষ্টকে তেমনভাবে অনুভব করে না’।[29]
(১৪) সচ্চরিত্র গঠনের উপদেশ :
সাঈদ ইবনুল আছ (রহঃ) স্বীয় পুত্রকে উপদেশ দিয়ে বলেন, يَا بُنَيَّ، إِنَّ الْمَكَارِمَ لَوْ كَانَتْ سَهْلَةً يَسِيرَةً لَسَابَقَكُمْ إِلَيْهَا اللِّئَامُ، وَلَكِنَّهَا كَرِيهَةٌ مُرَّةٌ لَا يَصْبِرُ عَلَيْهَا إِلَّا مَنْ عَرَفَ فَضْلَهَا، وَرَجَا ثَوَابَهَا، ‘হে আমার বৎস! মহৎ গুণাবলী বা সচ্চরিত্র যদি সহজলভ্য হ’ত, তাহ’লে অপদার্থ ও নীচ লোকেরা তোমাদের আগেই তা অর্জন করে ফেলত। কিন্তু এই গুণাবলী কঠিন ও তিক্ত; এগুলো শুধু সেই ব্যক্তি-ই ধারণ করতে পারে, যে এগুলোর মর্যাদা বুঝে এবং এর বিনিময়ে প্রতিদান লাভের প্রত্যাশা করে’।[30]
আহনাফ ইবনে ক্বায়েস (রহঃ) স্বীয় সন্তান শা‘বীকে উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘হে শা‘বী! এমন আট শ্রেণীর মানুষ আছে, তারা যদি অপমানিত-অপদস্থ হয়, তবে যেন নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে দোষ না দেয়। এই আট শ্রেণীর লোক হ’ল-
১. যে ব্যক্তি এমন কোন ভোজসভায় (দাওয়াতে) চলে যায়, যেখানে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
২. যে ব্যক্তি দুইজন লোকের ব্যক্তিগত আলাপে জোর করে ঢুকে পড়ে, অথচ তারা তাকে আলাপে যুক্ত করেনি।
৩. যে নিজের স্বার্থে কারো ঘরে বসেই সেই গৃহস্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
৪. যে ব্যক্তি নিজের প্রভাব খাটিয়ে শাসকের নিকট নিজেকে জোর করে উপস্থাপন করে।
৫. যে ব্যক্তি এমন কোন আসনে বসে, যার সে যোগ্য নয়, অথচ নিজেকে উপযুক্ত ভাবতে থাকে।
৬. যে এমন কাউকে কথা শোনাতে চায়, যে তার কথা শুনতেও চায় না, শুনলেও মূল্য দেয় না।
৭. যে ব্যক্তি কৃপণের দান-উপকারের আশা করে, যার হৃদয়ে উদারতার লেশমাত্র নেই।
৮. আর যে তার দরকারের কথা এমন শত্রুর কাছে প্রকাশ করে, যে তার বিপদেই আনন্দ পায়’।[31]
সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাছ (রাঃ) স্বীয় সন্তানকে উপদেশ দিয়ে বলেন, يَا بُنَيَّ، لَا تُمَازِحِ الشَّرِيفَ فَيَحْقِدَ عَلَيْكَ، وَلَا تُمَازِحِ الدَّنِيءَ فَيَجْتَرِئَ عَلَيْكَ ‘হে আমার বৎস! সম্মানিত ব্যক্তির সঙ্গে ঠাট্টা-তামাশা করো না, কারণ সে তোমার ওপর রাগ পুষে রাখতে পারে। আর নীচু স্বভাবের মানুষের সঙ্গে রসিকতা করো না, কারণ সে তোমার প্রতি দুঃসাহস দেখিয়ে (তোমার সম্মানহানি করে) ফেলতে পারে’।[32] সন্তানকে শিষ্টাচার শেখানোর কি চমৎকার উপদেশ।
(১৫) ঋণ না করার উপদেশ :
ওক্ববা ইবনে আমের (রাঃ) মৃত্যুর প্রাক্কালে স্বীয় পুত্রদের ওছিয়ত করে বলেন, يَا بَنِيَّ، إِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ثَلَاثٍ فَاحْتَفِظُوا بِهَا: لَا تَقْبَلُوا الْحَدِيثَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إلَّا مِنْ ثِقَةٍ، وَلَا تَدَّيَّنُوا وَإِنْ لَبِسْتُمُ الْعَبَاءَ، وَلَا تَكْتُبُوا شِعْرًا تُشْغِلُوا بِهِ قُلُوبَكُمْ عَنِ الْقُرْآنِ ‘হে আমার পুত্ররা! আমি তোমাদের তিনটি বিষয়ে নিষেধ করছি, সেগুলো মনেপ্রাণে ধারণ করে রাখবে- (১) তোমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর হাদীছ নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির নিকট থেকে ছাড়া গ্রহণ করবে না। (২) আবা (এক ধরনের ঢিলে-ঢালা অতি সাধারণ পোষাক) পরিধান করে থাকবে, তবুও কখনো ঋণ করবে না। (৩) আর এমন কবিতা লেখা নিয়ে পড়ে থাকবে না, যা তোমাদের হৃদয়কে কুরআন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়’।[33]
(১৬) সুধারণা পোষণের উপদেশ :
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহঃ)-এর ছেলে বলেন, আমার আববা আমাকে উপদেশ দিয়ে বলতেন, يَا بُنَيَّ إِذَا سَمِعْتَ كَلِمَةً مِنَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ، فَلَا تَحْمِلْهَا عَلَى شَيْءٍ مِنَ الشَّرِّ مَا وَجَدْتَ لَهَا مَحْمَلًا مِنَ الْخَيْرِ ‘হে বৎস! যখন তুমি কোন মুসলিমের কোন কথা শুনবে, তবে সেটা ভালো অর্থে ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকলে কখনোই সেটা খারাপ অর্থে নিও না’।[34]
(১৭) পরিস্থিতি মোক্বাবেলা করার উপদেশ :
আববাসী খলীফা মানছূর স্বীয় পুত্র মাহদীকে উপদেশ দিয়ে বলেন,يَا بُنَيَّ لَيْسَ الْعَاقِلُ مَنْ يَحْتَالُ لِلْأَمْرِ الَّذِي وَقَعَ فِيهِ حَتَّى يَخْرُجَ منه، ولكن العاقل الَّذِي يَحْتَالُ لِلْأَمْرِ الَّذِي غَشِيَهُ حَتَّى لَا يقع فيه، ‘হে আমার বৎস! সে ব্যক্তি প্রকৃত বুদ্ধিমান নয়, যে বিপদে পড়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজে; বরং সত্যিকারের বুদ্ধিমান ঐ ব্যক্তি, যে বিপদ আসার আগেই কৌশল অবলম্বন করে- যাতে সে ঐ বিপদে না পড়ে’।[35]
(১৮) সমাজ সংস্কারের উপদেশ :
আববাসী খলীফা আব্দুল্লাহ মানছূর (৯৫-১৫৮হি.) স্বীয় পুত্র ও পরবর্তী খলীফা মুহাম্মাদ মাহদী (১২৭-১৬৯হি.)-কে উপদেশ দিয়ে বলেন,يَا أَبَا عَبْدِ اللهِ! إِنَّ الْخَلِيفَةَ لا يُصْلِحُهُ إِلا التَّقْوَى، وَالسُّلْطَانَ لا يُصْلِحُهُ إِلا الطَّاعَةُ، وَالرَّعِيَّةَ لا يُصْلِحُهَا إِلا الْعَدْلُ، وَأَوْلَى النَّاسِ بِالْعَدْلِ أَقْدَرُهُمْ عَلَى الْعُقُوبَةِ، وَأَنْقَصُ النَّاسِ عَقْلًا مَنْ ظَلَمَ مَنْ هُوَ دُونِهِ، ‘হে আবূ আব্দুল্লাহ! শুধুমাত্র তাক্বওয়ার মাধ্যমেই খলীফাকে সংশোধন করা যায় এবং সুলতানকে/সালতানাতকে সংস্কার করা যায় আনুগত্যের মাধ্যমে। প্রজাদেরকে সংশোধন করা যায় ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই। ন্যায়বিচারের যোগ্য ব্যক্তি শাস্তি প্রদানে সর্বাধিক সক্ষম। আর বুদ্ধিমত্তার দিক দিয়ে সবচেয়ে নীচু প্রকৃতির মানুষে সেই ব্যক্তি, যে তার অধিনস্তদের প্রতি যুলুম করে’।[36]
(১৯) মুসলিম শাসকের অনুগত্য করার উপদেশ :
আমর ইবনে আছ (রাঃ) তাঁর ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বলেন, يا بنيّ! احفظ عني ما أوصيك به، إمام عدل خير من مطر وبل، وأسدٌ حطوم خيرٌ من إمام ظلوم، وإمام ظلوم غشوم خير من فتنة تدوم، ‘হে আমার বৎস! আমি তোমাকে যা উপদেশ দিচ্ছি, তা মনে রেখো- ন্যায়পরায়ণ শাসক বৃষ্টির চেয়েও উত্তম। একটা হিংস্র সিংহ একজন যালেম শাসকের চেয়েও ভালো। আর একজন যালেম শাসক দীর্ঘস্থায়ী ফিৎনা (অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা)-র চেয়ে উত্তম’।[37]
(২০) নেতৃস্থানীয় সন্তানকে ন্যায়পরায়ণতার উপদেশ :
উমাইয়া খলীফা মারওয়ান ইবনে হাকাম যখন তাঁর পুত্র আব্দুল আযীযকে মিসরের গভর্নর নিযুক্ত করলেন, তখন তিনি উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘হে আমার পুত্র! তোমার প্রহরীকে আদেশ দাও যেন সে প্রতিদিন তোমার দরজায় কে এসেছে তা তোমাকে জানায়, তাহ’লে তুমি নিজেই কাকে অনুমতি দেবে আর কাকে ফিরিয়ে দেবে, তা নির্ধারণ করতে পারবে। যে তোমার কাছে আসে, তাকে হৃদ্যতা ও আলাপচারিতার মাধ্যমে আপন করে নাও, যাতে সে তোমার প্রতি ভালোবাসা ও স্বস্তি অনুভব করে। আর যদি কোন বিষয় স্পষ্ট না হয়, তাহ’লে শাস্তি দিতে তাড়াহুড়ো করো না- কারণ শাস্তি দেওয়া তোমার পক্ষে সহজ হ’লেও, তা ফিরিয়ে নেওয়া তোমার পক্ষে কঠিন’।[38]
একদিন খলীফা আল-মানছূর তাঁর পুত্র মাহদীকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কতগুলো বাহন আছে?’ মাহদী বলল, ‘আমি জানি না’। খলীফা বললেন, এটা তো দায়িত্বে গাফেল হওয়ার লক্ষণ। যদি নিজের বাহনের হিসাবই না রাখো, তবে খেলাফতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তুমি আরও বেশী অবহেলা করবে। তাই হে আমার প্রিয় পুত্র! আল্লাহকে ভয় কর’।[39]
(২১) সব বিষয়ে নিয়ত সৎ রাখার উপদেশ :
আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন, একদিন আমি আমার পিতাকে (ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলকে) বললাম, ‘আববা! আমাকে কিছু উপদেশ দিন’। তিনি বললেন, ‘হে বৎস! সর্বদা কল্যাণের নিয়ত করবে। কেননা যতক্ষণ তুমি কল্যাণের নিয়ত করবে, ততক্ষণ তুমি কল্যাণের মধ্যেই থাকবে’।[40]
(২২) আল্লাহর যিকিরের উপদেশ :
ইমাম ইবনুল জাওযী (রহঃ) তাঁর পুত্রকে একটা উপদেশমূলক চিঠি লিখেন, সেখানে তিনি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর এই হাদীছ উল্লেখ করেন, مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ غُرِسَتْ لَهُ نَخْلَةٌ فِي الْجَنَّةِ، ‘যে ব্যক্তি বলবে, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হবে’। অতঃপর বলেন, ‘দেখো বৎস! যে ব্যক্তি জীবনের সময়গুলোকে অবহেলায় নষ্ট করে দেয়, সে জান্নাতের কত গাছ রোপণের সুযোগ হারাচ্ছে!’[41]
(২৩) যুলুম থেকে সতর্ক করা :
খলীফা হারূণের মন্ত্রী খালেদ ইবনু বারমাক যখন তার ছেলেসহ বন্দী হ’লেন, তখন ছেলে তাকে বলল, ‘আববা! এত শান-শওকত, সম্মান-মর্যাদা পাওয়ার পর আজ আমাদেরকে বন্দিত্ব বরণ করতে হ’ল?’ খালেদ উত্তর দিলেন,يا بني! دعوة مظلوم سرت بليل غفلنا عنها ولم يغفل الله عنها، ‘ছেলে আমার! রাতের অন্ধকারে কোন এক মযলূম হয়ত দো‘আ করেছিল, যেটার ব্যাপারে আমরা গাফেল ছিলাম। কিন্তু
আল্লাহ গাফেল ছিলেন না’।[42]
উপসংহার :
সন্তানদের প্রতি সালাফদের উপদেশাবলী কেবল আবেগের বহিঃপ্রকাশ ছিল না; বরং তা ছিল এক মহান দায়িত্ববোধ ও আখেরাতমুখী দূরদৃষ্টির প্রতিফলন। তারা সন্তানকে কেবল দুনিয়ায় সফল মানুষ নয়; বরং আল্লাহভীরু, আমানতদার ও দ্বীনের খেদমতে নিবেদিত মুমিন গড়তে সচেষ্ট ছিলেন। আজকের সমাজে যখন মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারিবারিক বন্ধনের শৈথিল্য ও তরুণদের চারিত্রিক স্খলনের ধারা ক্রমবর্ধমান, তখন সালাফদের উপদেশ ও তাদের পারিবারিক নীতিমালা থেকে শিক্ষা নেওয়া অত্যন্ত যরূরী। সন্তানকে সৎ, দায়িত্ববান ও দ্বীনদার মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে হ’লে অভিভাবকদের উচিত সালাফদের পথকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করা। তাহ’লেই আমরা একটি সুন্দর পরিবার, আদর্শ সমাজ এবং আলোকিত সমাজ গড়ে তুলতে পারব ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!
. আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
শিক্ষক, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহী;
এম.ফিল গবেষক, আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়।
[1]. বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা ৩/১২০।
[2]. ইবনু আসাকির, তারীখু বাগদাদ ৬/৫২২।
[3]. মাজমুউর রাসাইল ১/১০০।
[4]. ইবনু কুদামা, মুখতাসারু মিনহাজিল কাসিদীন ২০।
[5]. ইবনুল জাওযী, আহকামুন নিসা পৃ. ১০১।
[6]. আবূদাঊদ হা/৪৭০০; তিরমিযী হা/৩৩১৯; সনদ ছহীহ।
[7]. হেবাতুল্লাহ লালকাঈ, শারহু উছূলি ই‘তিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আত ৫/১০২৮।
[8]. বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান ২/১৫।
[9]. মুহিউদ্দীন নববী, বুস্তানুল আরেফীন, পৃ. ৫৫।
[10]. আহমাদ ইবনে হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, পৃ. ১৪৮।
[11]. আহমাদ ইবনে হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, পৃ. ১৫৮।
[12]. ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাশক্ব ২/৩৬৩।
[13]. শামসুদ্দীন যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ১২/৫৩০।
[14]. হাফেয মিয্যী, তাহযীবুল কামাল ৫/৯০।
[15]. কূতুল কুলূব ফী মু‘আমালাতিল মাহবূব ২/১৮৭।
[16]. ইবনু কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১২/৪৮৫।
[17]. খাত্তাবী, আল-উযলাহ, পৃ. ৫০।
[18]. ইবনু মুফলিহ, আল-আদাবুশ শারঈয়াহ ৩/৫৬২।
[19]. তাফসীরে ইবনে কাছীর ৬/৩৪০।
[20]. ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাশক্ব ২৩/৩২৫; যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ৩/২২২।
[21]. তাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক (তারীখুত তাবারী), ৮/৭১।
[22]. মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন উওয়াইযাহ, ফাছলুল খেতাব ফিয যুহদি ওয়ার রাক্বায়েক্ব ওয়াল আদাব ১/৪৬২।
[23]. মুসনাদে আহমাদ হা/ ১৩৩৮০; সনদ ছহীহ।
[24]. ইবনু কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১০/১৩৪।
[25]. খতীব বাগদাদী, শারফু আছহাবিল হাদীছ, পৃ. ৬৭।
[26]. হামযাহ আস-সাহমী, তারীখু জুরজান, পৃ. ৪৯২।
[27]. খতীব বাগদাদী, আল-জামে‘ লি আখলাক্বির রাবী ওয়া আদাবুস সামি‘, ২/১৯৫।
[28]. ইবনুল জাওযী, তালবীসু ইবলীস, পৃ. ১৪।
[29]. আহমাদ যাকী সাফওয়াত, যামহাতু খুতাবিল আরাব ১/১৭১।
[30]. ইবনু আবিদ্দুনয়া, মাকারিমুল আখলাক্ব, পৃ. ৩০।
[31]. ইবনুল জাওযী, আল-মুপ্তাযাম ফী তারীখিল উমাম ৬/৯৪-৯৫।
[32]. ইবনু আবিদ্দুনয়া, আছ-ছামতু ওয়া আদাবুল লিসান, পৃ. ২১১।
[33]. তাবারাণী, আল-মু‘জামুল কাবীর হা/৭৩৭; ১৭/২৬৮।
[34]. আবূ নু‘আইম, হিলয়াতুল আওলিয়া ৫/২৭৮।
[35]. ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১০/১৩৪।
[36]. আহমাদ ইবনু মারওয়ান আদ্দীনওয়ারী, আল-মাজালাসা ওয়া জাওয়াহিরুল ইলম, ৫/৩৯২।
[37]. ইবনু আব্দিল বার্র, বাহজাতুল মাজালিস, পৃ. ৭১।
[38]. শামসুদ্দীন ইবনে মুফলিহ, আল-আদাবুশ শার‘ইয়াহ ১/৩৯৫।
[39]. ইবনু কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১০/১৩৪।
[40]. ইবনুল জাওযী, মানকিবুল ইমাম আহমদ, পৃ. ২৭৪।
[41]. ফাতাওয়া আশ-শাবাকা আল-ইসলামিইয়াহ ৬/৫৩৪।
[42]. খতীব বাগদাদী, তারীখু বাগদাদ ১৪/১৩৬।