পরনিন্দাকারী
-মুহাম্মাদ গিয়াছুদ্দীন, ঢাকা।
সামনে পেছনে যারা করে পরনিন্দা,
দুর্ভোগ তাদের নিশ্চিত হয়, না শরমিন্দা।
গুনে গুনে কুক্ষিগত করে বিপুল সম্পদ
তারও ধ্বংস অনিবার্য, হয় মহাবিপদ।
ভাবে সে, এ ধন-সম্পদ থাকবে চিরকাল
সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, খোলা তাদের কপাল;
কক্ষনো নয়! নিক্ষিপ্ত হবে সে হুতামায়,
চিরকাল সেথায় জ্বলবে সে অগ্নিশিখায়।
হুতামা কি? মানুষ জানে কি তার ঠিক অর্থ?
এটি আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুনের গর্ত।
যা অবশ্য ভেদ করে অন্তরের অন্তঃস্থল,
করে ঘেরাও বয়ে আনে সকল অমঙ্গল।
উচ্চ স্তম্ভে তারা থাকবে বাধা অনন্তকাল
দুর্ভোগ পোহাবে শুধু এমন মন্দ কপাল।
নিখোঁজপত্র
-মুনতাহিম আদীব, রাজশাহী।
নিখোঁজপত্রে ছেয়ে গেছে গোটা শহর
অথচ আমি তখনো আছি বর্তমান,
কালো আঁধারে ঢেকেছে যখন নগর
আলোর খোঁজে তখনো তোমরা নিষ্প্রাণ!
সত্য জেনে আলেয়ার পিছে ছুটে
নেই সমাধান কোন মেকি তন্ত্রে মন্ত্রে,
নিশ্চুপে শুধু সম্ভাবনারা যায় টুটে
শাসক তবু আনে না দ্বীন রাষ্ট্রযন্ত্রে।
হারানো বিজ্ঞপ্তিতে শহর দাও ছেয়ে
তবুও আমি হবো না কভু দৃশ্যমান,
ইসলামহীনে ভিনদেশী মই বেয়ে
পাবে না মোরে রইলে কোন পিছুটান।
আমি সমাধান। মোরে খুঁজে পেতে হ’লে
আগে দ্বীনে ফেরো সব তন্ত্র-মন্ত্র ভুলে।
নফসের দিনলিপি
-আমাতুল্লাহ ফারাহ,
নওদাপাড়া, রাজশাহী।
মুহূর্তেরা সরে যায়, নিমেষ এবং পলকও
জীবনীশক্তি ফুরায়, চেহারার ঝলকও!
চলে যায় দিন হায়াতের প্রতিক্ষণ,
আমলবিহীন পাপমগ্ন এমন।
চলে যায় রাত ফের আসে প্রভাত,
বিছানায় হয়ে কাত, আলসেমি করে আঁতাত।
চলে যায় সপ্তাহ চলে যায় মাস,
ভাবে না তো কেহ তার শেষ নিঃশ্বাস!
চলে যায় বছর চলে যায় যুগ,
কতগুলো পুরান কবর খেয়ে ফেলে উচ্ছুগ!
চলে আসে ডাক, শূন্য উত্তরপত্র আমার,
অথচ শেষ ঘণ্টা পিয়ন বাজায় নির্বাক।
নির্লজ্জের মত তবু অবাধ্য নফসখানি,
জানাশোনা উত্তর কভু লেখে না, হবে তার মানহানি।
আজরাঈলের ডাকে অর্পিতে অর্পিতে হাত,
কেন যে ভাবতেই থাকে মু’মিনূনের ৯৯ আয়াত!
কার হুকুমে
-মুহাম্মাদ লাবীবুর রহমান,
দিনাজপুর।
ভোরবেলাতে সূর্য ওঠে, রাত্রিবেলা চাঁদ;
জানো কি ভাই কার হুকুমে হচ্ছে দিনরাত?
কার হুকুমে পাতা গজায়, জীর্ণ পাতা ঝরে?
কার হুকুমে মেঘের থেকে বৃষ্টি ঝরে পড়ে?
মাঠের বুকে ফসল ফলে টক ও মিষ্টি স্বাদ,
কার হুকুমে মাছে ভরে সাগর-নদী খাদ?
কার হুকুমে তারায় তারায় সাজে রাতের আকাশ?
কার হুকুমে মন ছুঁয়ে যায় স্নিগ্ধ শীতল বাতাস?
কার হুকুমে পাখি পেল মিষ্টি সুরের জাদু?
কার হুকুমে ফুল পেল তার সুঘ্রাণ আর মধু?
মৌমাছিরা কার হুকুমে মধুর চাক বোনে?
নিরাময় কে লুকিয়ে রাখে এই মধুরই কোণে?
তিনি মোদের সৃষ্টিকর্তা, আল্লাহ তাঁহার নাম;
সারা বিশ্বের সকল কিছু তাঁর হুকুমের গোলাম।
হ’তে হবে সেরা
-সামীউল ইসলাম, নীলফামারী।
মন থেকে মুছে ফেল সকল সংশয়,
যদি হ’তে চাও তুমি সেরা একজন;
ভয়-ভীতি মাড়ানোর সাহসটা চাই-
কঠোর ও দৃঢ় মন খুব প্রয়োজন।
এই পথে কেউ কারো সহযোগী নয়,
সহজেই মেনে নিতে চাইবে না কেউ;
চারপাশ থেকে শুধু ধেয়ে আসবেই-
শত শত বাধা আর বিভীষিকা-ঢেউ।
মনে রেখো চিরদিন এই পৃথিবীতে,
কেউ তোমায় দেবে না তো জায়গা করে;
বুকে নিয়ে হাযারও আঘাতের কাঁটা-
নিজেকেই নিতে হবে নিজ হাতে গড়ে।
বুকে আজ বেঁধে নাও দৃঢ়তার দানা,
মন থেকে পণ করো বড় যে হওয়ার;
ভুল থেকে শিখে নিয়ে গুটি গুটি পায়ে-
বিজয়ের রথে তুমি হও আজ সওয়ার।
পরকালে বিশ্বাসে এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ,
তলানীতে চীন
পরকালে বিশ্বাসের দিক থেকে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ভ্যালুস সার্ভে’ (২০১৭-২০২২)-এর হালনাগাদ উপাত্তের ভিত্তিতে সংবাদ এজেন্সি ‘সোসিয়া এশিয়া স্ট্যাটস’ সম্প্রতি এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৯৮.৮% মানুষই পরকালীন জীবনে গভীরভাবে বিশ্বাস করেন। এই তালিকায় বাংলাদেশের পরেই রয়েছে যথাক্রমে তুরস্ক ৯১.৮%, ইরান ৯১.৩% ও পাকিস্তান ৮৯.৩%। এছাড়া ফিলিপাইনে ৮৩.৮%, মালয়েশিয়ায় ৮১.৯% এবং ইন্দোনেশিয়ায় ৭৩.৫% মানুষ পরকালে বিশ্বাসী। অন্যদিকে আধুনিক বিজ্ঞান ও বস্ত্তবাদী জীবনধারার প্রভাবে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এই হার তুলনামূলক অনেক কম। থাইল্যান্ডে ৫৭.১%, ভিয়েতনামে ৩৪.১% এবং জাপানে মাত্র ৩২.২% মানুষ পরকালে বিশ্বাসী। আর মাত্র ১১.৫% নিয়ে এই তালিকার একেবারে তলানীতে রয়েছে চীন। বিশ্লেষকদের মতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের কাছে পরকালীন বিশ্বাস দৈনন্দিন জীবনে ন্যায়-অন্যায় বোধ ও নৈতিকতার এক বিশাল চালিকাশক্তি হিসাবে কাজ করে।
গত ৬০ বছরে শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
কমেছে ৫০ শতাংশ
গত ৬০ বছর আগের তুলনায় আধুনিক শাক-সবজিতে পুষ্টি উপাদান উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। জার্নাল অব দ্য আমেরিকান সোসাইটি ফর হর্টিকালচারাল সায়েন্সে প্রকাশিত গবেষণা এবং ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দ্রুত বর্ধনশীল জাতের উদ্ভাবন ও আধুনিক কৃষিপদ্ধতির কারণে ফসলে খনিজ ও ভিটামিনের ঘনত্ব ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে। ১৯৫০ ও ১৯৯৯ সালের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৪৩টি ফসলের পুষ্টিমান তুলনামূলকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে প্রোটিন ৬ শতাংশ, ক্যালসিয়াম ১৬ শতাংশ, আয়রন ১৫ শতাংশ এবং ভিটামিন সি ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিপ সায়েন্স ভেঞ্চারসের মতে ১৯৬০-এর দশকে যে পরিমাণ পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বা কপার পাওয়া যেত, বর্তমানে সেই পরিমাণ খনিজ পেতে দ্বিগুণ সবজি খেতে হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কিছু ফসলে পুষ্টির ঘনত্ব ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অধিক ফলনশীল জাতের সবজি দ্রুত বাড়লেও প্রতি গ্রাম সবজিতে পুষ্টির ঘনত্ব কমে যায়। এর পাশাপাশি মাটির উর্বরতা হ্রাস, রাসায়নিক সারের ব্যবহার এবং সংরক্ষণের ত্রুটির কারণেও ভিটামিন নষ্ট হচ্ছে। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পুষ্টি কিছুটা কমলেও দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা এবং পর্যাপ্ত তাজা ও মৌসুমী শাকসবজি খাওয়ার কোন বিকল্প নেই।
রাজধানীর বুকে ৭৫ টাকায় দুই সন্তানের জন্ম! সস্তায় মিলছে উন্নত চিকিৎসাসেবা
ঢাকা শহরে সন্তান জন্মদানের জন্য অনেকেরই লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। অনেকে সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন বলেও পত্রিকায় রিপোর্ট এসেছে। অথচ মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা এক স্কুলশিক্ষিকার দুই সন্তানের জন্মে খরচ হয়েছে মাত্র ৭৫ টাকা! প্রথমটিতে ১০ টাকা এবং দ্বিতীয়টিতে যরূরী সেবা নিতে হওয়ায় ৬৫ টাকার টিকিট কাটতে হয়েছিল বলে খরচ সামান্য বেড়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত ‘মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার এবং ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতাল’-এর ভেতরে প্রবেশ করলেই পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস, সবুজ মাঠ আর গাছপালা যেন রোগীদের চোখ জুড়িয়ে দেয়। অন্যান্য সরকারী হাসপাতালের চিরচেনা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অপরিচ্ছন্নতা কিংবা দালালদের দৌরাত্ম্য এখানে একেবারেই অনুপস্থিত। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের আন্তরিক ব্যবহারে মুগ্ধ সেবাগ্রহীতারা। হাসপাতালটিতে স্বাভাবিক প্রসবেই বেশী উৎসাহ দেওয়া হয়। তবে কারও অবস্থা সংকটাপন্ন হ’লে তখন চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের কথা ভাবেন। প্রতিদিন প্রায় ৮০০ থেকে এক হাযার রোগী এখান থেকে প্রসূতি, টিকাদান ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুনীরুয্যামান সিদ্দিকী জানান, সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে এখানে কোন অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় না। এর মধ্যে আউটডোর টিকিট ৫ টাকা এবং ভর্তি হ’লে ১০ টাকার টিকিট কাটতে হয়। আর যদি কেবিন ভাড়া নিতে হয় তবে খাবারসহ ২৫০ টাকা। কেবিনে থাকা অবস্থায় যদি স্বাভাবিক প্রসব হয় তাহ’লে কোন চার্জ হবে না। কেবলমাত্র অস্ত্রোপচার হ’লে অপারেশন থিয়েটারের জন্য সরকার নির্ধারিত ২ হাযার টাকা খরচ হয়। অপরদিকে সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা কোন নারীর অস্ত্রোপচারের জন্য কোন খরচ দিতে হবে না, সব ফ্রি। আলট্রাসনোগ্রাম ১২০ টাকা। রাজধানীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য এই হাসপাতালটি এক বড় আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ল্যাপটপ-ট্যাবলেট বাদ দিয়ে পুনরায় বইয়ের যুগে ফিরছে সুইডেন
একসময় ক্লাসরুমে ট্যাবলেট ও ল্যাপটপ ব্যবহারের কারণে সুইডেনের স্কুলগুলোর বেশ প্রশংসা করা হ’ত। ২০০০ সালে ক্লাসরুম আধুনিক করার লক্ষ্যে ডিজিটাল শিক্ষার ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দিয়ে এসব ডিভাইস চালু করা হ’লেও ফল হয়েছে ঠিক উল্টো। এর আগে সুইডেনের শিক্ষার্থীদের পড়ার মান ইউরোপের মধ্যে সেরা থাকলেও, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে তা চরমভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০১২ সালের ‘পিসা’ (PISA) আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পড়ার মান, গণিত ও বিজ্ঞানের দক্ষতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। গবেষণায় দেখা গেছে, ডিভাইসে বেশীক্ষণ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ার ক্ষমতা ও গভীর মনোযোগ কমে যায়। পাশাপাশি হাতে লেখার বদলে কি-বোর্ডে টাইপ করায় তাদের স্মরণশক্তি লোপ পাচ্ছে। এছাড়া পড়াশোনার চেয়ে গেম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিকে ঝোঁক বেড়ে যাওয়ায় ক্লাসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং পরীক্ষার ফলাফলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেও সঠিকভাবে পড়তে বা লিখতে পারছে না। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় গণদাবীর মুখে বই আবার ক্লাসরুমে ফিরে এসেছে এবং এর সুফলও মিলতে শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের পড়ার মান আবারও উন্নত হচ্ছে। পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ১০ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য দেশজুড়ে বই পড়ার প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সবচেয়ে বেশী বই পড়া শিক্ষার্থীর জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিক্ষাখাতে সরকারী বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি স্কুলের লাইব্রেরিগুলোকেও উন্নত করা হচ্ছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হ’ল, ছোট বাচ্চাদের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে কেবল বড় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী এর সীমিত ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
পিতা-মাতার জন্য চাকরী ছাড়লেন মাইক্রোসফটের ভাইস প্রেসিডেন্ট
পেশাগত সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করার পরও নাড়ীর টান যে কতটা গভীর হ’তে পারে, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মার্কিন টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটের প্রকৌশল বিভাগের এই ভাইস প্রেসিডেন্ট কেশবন শানমুগাম। ক্যারিয়ারের মোহ আর সফলতার চাকচিক্যকে তুচ্ছ করে, কেবল বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে সময় দিতে দীর্ঘ ২৩ বছরের চাকরী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিঙ্কডইনে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মাইক্রোসফট ছেড়ে আসাটা ছিল একটি কঠিন সিদ্ধান্ত। কারণ এক্সেল কো-পাইলটের কাজ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করাটা তিনি বেশ উপভোগ করতেন। তবে পিতা-মাতার সঙ্গে আরও বেশী সময় কাটানোকেই তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেছেন। এমন একটি মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তিনি মাইক্রোসফটের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রাক্তন ও বর্তমান সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। ক্যারিয়ার ও বিলাসবহুল জীবনের চেয়ে বৃদ্ধ বাপ-মাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্তের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা তার ভূয়সী প্রশংসা করছেন এবং এটিকে জীবনের অন্যতম সেরা কাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
[আমরাও তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই ঘটনার মধ্যে নামধারী মুসলিম ধনিক শ্রেণীর এবং বৃদ্ধ বাপ-মায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা পোষণকারীদের জন্য শিক্ষণীয় রয়েছে (স.স.)]
বিশ্বে প্রতি পাঁচ প্লেট খাবারের এক প্লেটই অপচয়!
জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউএনইপি-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর ১০৫ কোটি টন খাবার অপচয় হয়। অর্থাৎ পাঁচ প্লেট খাবারের প্রায় এক প্লেটই শেষ পর্যন্ত ডাস্টবিনে ফেলা হয়। অপচয়কৃত এসব খাবারের ৬০ শতাংশই ফেলা হয় বাসাবাড়ি থেকে। এছাড়া রেস্তোরাঁ থেকে ২৮ শতাংশ এবং দোকান থেকে ১২ শতাংশ খাবার ফেলে দেওয়া হয়। এই বিপুল পরিমাণ খাবার বহন করতে ২০ টন ধারণক্ষমতার প্রায় ৫ কোটি ২৫ লাখ ট্রাক প্রয়োজন। বিশ্বে একজন মানুষ বছরে গড়ে প্রায় ১৩২ কেজি খাবার অপচয় করেন। আশ্চর্যের বিষয় হ’ল, মাথাপিছু খাবার অপচয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মালদ্বীপ। দেশটিতে একজন মানুষ বছরে গড়ে প্রায় ২৬০ কেজি খাবার অপচয় করেন, যা বিশ্ব গড়ের প্রায় দ্বিগুণ।
অথচ একদিকে যখন বিপুল পরিমাণ খাবার নষ্ট হচ্ছে, তখন জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৭.৮ শতাংশ বা প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ক্ষুধার মুখে ছিল। এর মধ্যে আফ্রিকাতেই ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। যেখানে প্রতি পাঁচজনে একজন পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার পায় না। বিশ্বের মোট ক্ষুধার্ত মানুষের প্রায় অর্ধেকই এ মহাদেশের বাসিন্দা। এছাড়া এশিয়ায় প্রায় ২৯ কোটি ২০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। খাদ্য নষ্ট ও অপচয়ের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বছরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশী ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি ফেলে দেওয়া খাবারের পচা মিথেন গ্যাস পরিবেশ ও আবহাওয়ার ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
[আল্লাহ বলেন, অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই’ (বনু ইস্রাঈল ১৭/২৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমাদের কারো (খাবারের) লোকমা যদি নিচে পড়ে যায়, তবে সে যেন তা তুলে নেয় এবং তাতে কোন ময়লা লেগে থাকলে তা পরিষ্কার করে খেয়ে নেয়; শয়তানের জন্য তা ফেলে না রাখে’ (মুসলিম হা/২০৩৩; মিশকাত হা/৪১৬৭)। অথচ মুসলমানরাও এটি করে যাচ্ছে অবলীলাক্রমে। বিশেষ করে হোটেল মালিকরা এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। তাদের সাবধান হওয়া উচিৎ (স.স.)]
প্রতিদিন ৫ হাযার সিঁড়ি বেয়ে ছালাত পড়াতে যান
যে তুর্কী ইমাম
প্রতিদিন প্রায় ৫ হাযার সিঁড়ি বেয়ে খাড়া ও দুর্গম পাহাড়ী পথ পাড়ি দিয়ে তুরস্কের ঐতিহাসিক ভান দুর্গের চূড়ায় পৌঁছান ইমাম ছিবগাতুল্লাহ বিলমেজ। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত সুলায়মান খান মসজিদে পৌঁছানোর পর সেখানে আযান দেওয়া, ছালাতের ইমামতি করা এবং তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের সেবা দেওয়াই তার মূল কাজ। স্বেচ্ছায় ও অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে কাজ করছেন জানিয়ে ছিবগাতুল্লাহ বলেন, দুর্গম এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিলে ক্লান্তি আসাটাই স্বাভাবিক, কিন্তু কাজটি তিনি বেশ উপভোগ করেন। নিয়ম অনুযায়ী যোহরের আগেই পাহাড়ী পথ বেয়ে মসজিদে পৌঁছে যান তিনি এবং মাগরিবের ছালাত শেষে নিচে নেমে আসেন। দুর্গম অবস্থানের কারণে যাতায়াত কষ্টকর হওয়ায় এশা ও ফজরে সেখানে জামা‘আত অনুষ্ঠিত হয় না। ১৫৩৪ সালে ওছমানীয় সুলতান সুলায়মান এই মসজিদটি পুনর্নিমাণ করেন, যা মাত্র তিন বছর আগে মুছল্লীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়। ছিবগাতুল্লাহ ইমামতির পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকদের কাছে মসজিদটির ইতিহাস তুলে ধরেন এবং ইসলাম সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। বিশ্বের নানা প্রান্তের পর্যটকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে তার ইংরেজি ভাষারও দারুণ উন্নতি হয়েছে। অক্লান্ত যাত্রার পর দুর্গের চূড়ার নয়নাভিরাম দৃশ্য তার সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। দর্শনার্থীদের ভালোবাসা ও দো‘আই তার জীবনের সেরা প্রাপ্তি বলে জানান ছিবগাতুল্লাহ।
[রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন যে, মুওয়ায্যিনের আযান ধ্বনির শেষ সীমা পর্যন্ত সজীব ও নির্জীব সকল বস্ত্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে ও সাক্ষ্য প্রদান করে। ঐ আযান শুনে যে ব্যক্তি ছালাতে যোগ দিবে, সে ২৫ বা ২৭ ছালাতের সমপরিমাণ নেকী পাবে। মুওয়ায্যিনও উক্ত মুছল্লীর সমপরিমাণ নেকী পাবে এবং তার আযান ও ইক্বামতের মধ্যবর্তী সকল (ছগীরা) গোনাহ মাফ করা হবে’ (আবুদাঊদ হা/৫১৫; নাসাঈ হা/৬৪৫; মিশকাত হা/৬৬৭)। আল্লাহ উক্ত মুওয়ায্যিন ও ইমামের অতুল্য সেবা কবুল করুন এবং অন্যান্য মুওয়ায্যিন ও ইমাম এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন (স.স.)]
কৃত্রিম দাঁত নয়, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত
স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে সাধারণত কৃত্রিম দাঁত বা ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টের ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে দাঁত হারানোর এই চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা জাগিয়েছেন জাপানের একদল গবেষক। তাঁরা ‘টিআরজি০৩৫’ নামের এমন একটি পরীক্ষামূলক ওষুধ নিয়ে কাজ করছেন, যা মানুষের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে নতুন দাঁত গজাতে সাহায্য করবে। গবেষকদের মতে, এই ওষুধটি মূলত ‘ইউএসএজি-১’ নামের একটি প্রোটিনের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে শরীরে নতুন দাঁত গজানোর প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে তোলে। ইতিপূর্বে প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় সফলতা পাওয়ার পর বর্তমানে মানবদেহে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাইয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর ভিত্তি করে ২০৩০ সালের মধ্যে যুগান্তকারী এই চিকিৎসাপদ্ধতিটি সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হ’তে পারে। গবেষণাটি সফল হ’লে কৃত্রিম দাঁত বা ইমপ্ল্যান্টের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দন্ত চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।
সোনামণি কেন্দ্রীয় সম্মেলন ২০২৬
৯ই অক্টোবর শুক্রবার, নওদাপাড়া, রাজশাহী : অদ্য সকাল ৮-টায় রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়াস্থ আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফীর পূর্ব পার্শ্বস্থ ময়দানে ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় পরিচালক মুহাম্মাদ রবীউল ইসলামের সভাপতিত্বে ‘২৪তম বার্ষিক কেন্দ্রীয় সোনামণি সম্মেলন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘সোনামণি’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দিক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-প্রধান চিকিৎসক ডা. মুহাম্মাদ হেলালুদ্দীন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তরুণ হাসান ও ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মাদ আযীযুর রহমান।
সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম, যুববিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশীদ আখতার, দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম, সঊদী আরব শাখার সভাপতি মাওলানা মুশফিকুর রহমান, ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, বর্তমান সভাপতি আহমাদুল্লাহ, ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ড. শিহাবুদ্দীন আহমাদ, নাবীল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর চেয়ারম্যান জাহান বখ্শ, বগুড়া হেরিটেজ আইডিয়াল একাডেমীর প্রিন্সিপাল ড. মীযানুর রহমান ও রাজশাহী মারকায সাংগঠনিক যেলার পরিচালক ফায়ছাল আহমাদ।
প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত বলেন, আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ নিহিত রয়েছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জীবনের মধ্যে। তাঁর সঠিক জীবনাদর্শ জাতির সামনে তুলে ধরার জন্যই আমরা কারাগারের অন্ধ কুঠরীতে বসে সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) লিখেছিলাম। দো’জাহানে মুক্তি পেতে আমাদের সীরাতুর রাসূল (ছাঃ) পড়তে হবে এবং সেই আলোকে জীবন গড়তে হবে। শিশু-কিশোরদের রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর আদর্শে জীবন গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আমরা ১৯৯৪ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর সোনামণি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আজকের সোনামণি আগামী দিনের ‘যুবসংঘ’ ও ‘আন্দোলন’ এবং জাতির কর্ণধার। আমাদের উচিত তাদের যথাযথ সময় দিয়ে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা। যাতে তারা আগামী দিনে সমাজে আলো জ্বালাতে পারে। সবশেষে তিনি সম্মেলনের বিশেষ অতিথিবৃন্দ, ‘আন্দোলন’, ‘যুবসংঘ’, ‘সোনামণি’, আল-‘আওন’ ও ‘পেশাজীবী ফোরাম’-এর সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীল, অভিভাবক ও সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
অতিথিগণ স্ব স্ব ভাষণে সম্মেলনকে স্বাগত জানান এবং সোনামণি বালক-বালিকাদের রাসূল (ছাঃ)-এর আদর্শে গড়ে তোলার এই সুন্দর প্রচেষ্টার জন্য সোনামণি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদকে ধন্যবাদ জানান। অতিথিগণ স্ব স্ব ভাষণে সম্মেলনকে স্বাগত জানান এবং সোনামণি বালক-বালিকাদের রাসূল (ছাঃ)-এর আদর্শে গড়ে তোলার এই সুন্দর প্রচেষ্টার জন্য সোনামণি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পরিষদকে ধন্যবাদ জানান।
সম্মেলনে ২৪টি যেলার নির্বাচিত সোনামণি প্রতিযোগী ছাড়াও বিপুল সংখ্যক সুধী ও সোনামণি সদস্য অংশগ্রহণ করে। সোনামণি বালিকা সদস্যারা ও তাদের অভিভাবিকাগণ মারকাযের বালিকা শাখায় অবস্থান করেন ও সেখানেই তাদের কেন্দ্রীয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং সম্মেলনের পুরা অনুষ্ঠান প্রজেক্টরের মাধ্যমে বালিকা শাখায় সম্প্রচার করা হয়।
সম্মেলনে কুরআন তেলাওয়াত করে সোনামণি হাফেয মুহাম্মাদ হুযায়ফা (পাবনা) এবং জাগরণী পরিবেশন করে শিবলী নো‘মান (রাজশাহী)। সম্মেলনে ১ জন যুবসংঘ সদস্য সহ ‘সোনামণি’ মারকায শাখার ৮ জন সদস্য মিলে ‘জীবনের কর্মফল’ বিষয়ে একটি মনোজ্ঞ ও শিক্ষণীয় ‘সংলাপ’ পরিবেশন করে। যা সকলের প্রশংসা কুড়ায়। সবশেষে বিভিন্ন বিষয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। সম্মেলনে সঞ্চালক ছিলেন ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক আবু রায়হান ও সারওয়ার মিছবাহ।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় ১৫৫ জন বালক ও ১০৫ জন বালিকা সহ ২৬০ জন সোনামণি অংশগ্রহণ করে। তন্মধ্যে ২১ জন বিজয়ীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১ম স্থান অধিকারীকে নগদ ১০,০০০ (দশ হাযার) টাকা, ২য় স্থান অধিকারীকে ৮,০০০ (আট হাযার) টাকা ও ৩য় স্থান অধিকারীকে ৬,০০০ (ছয় হাযার) টাকাসহ ক্রেস্ট, কলম, বার্ষিক সোনামণি ক্যালেন্ডার, চাবির রিং ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়াও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে উৎসাহ পুরস্কার দেওয়া হয়। নিম্নে প্রতিযোগিতার বিষয় ও বিজয়ীদের নাম উল্লেখ করা হ’ল।-
গ্রুপ-ক : বিষয় : দ্বীনিয়াত (হিফযুল কুরআন, হিফযুল হাদীছ, ঈমান, ইসলাম ও আখলাক)।
বালক : ১ম : খন্দকার তালহা জুবায়ের (দারুলহাদীছ সালাফিইয়া মাদ্রাসা, বাইগুনী, গাবতলী, বগুড়া), ২য় : মুবাশশির আল-মুবীন (আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, আনন্দনগর, নওগাঁ), ৩য় : ইব্রাহীম (ইমাম বুখারী (রহঃ) সালাফিইয়াহ মাদ্রাসা, নবীপুর, মুরাদনগর, কুমিল্লা)।
বালিকা : ১ম : শারাফ নওয়ার (আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী (মহিলা শাখা), নওদাপাড়া, রাজশাহী), ২য় : আয়াত বিনতু ওবায়দুল্লাহ (হাদীছ ফাউন্ডেশন ইসলামিক একাডেমী, কাজলা, মতিহার, রাজশাহী), ৩য় : তাছফিয়া আখতার (আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী আব্দুল আযীয আফিয়া মহিলা মাদ্রাসা, কোরপাই, বুড়িচং, কুমিল্লা)।
গ্রুপ-খ : বিষয় : দ্বীনিয়াত (হিফযুল কুরআন, হিফযুল হাদীছ, ঈমান, ইসলাম ও আখলাক)।
বালক : ১ম : মুহাম্মাদ হুযায়ফা (আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহী), ২য় : আব্দুল কাদের জিহাদ (ইমাম বুখারী (রহ.) সালাফিইয়াহ মাদ্রাসা, নবীপুর, মুরাদনগর, কুমিল্লা), ৩য় : তাজবীর হাসান সিজান (আল-হেরা আহলেহাদীছ মাদ্রাসা, খিরশিনটিকর, শাহমখদুম, রাজশাহী)।
বালিকা : ১ম : মুসাম্মাৎ শারিকা আখতার (বাগবাড়ী দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসা ও ইয়াতীমখানা, গাবতলী, বগুড়া), ২য় : মুসাম্মাৎ আমিনা শেখ (আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী (মহিলা শাখা), নওদাপাড়া, রাজশাহী), ৩য় : মুসাম্মাৎ আবিদা সুলতানা মুন্নী (আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী (মহিলা শাখা), নওদাপাড়া, রাজশাহী)।
গ্রুপ-গ : বিষয় : দ্বীনিয়াত (হিফযুল কুরআন, হিফযুল হাদীছ, ঈমান, ইসলাম ও আখলাক)।
বালক : ১ম : মুহাম্মাদ আবুযার (নূর একাডেমী, নওদাপাড়া, রাজশাহী), ২য় : ফরহাদ আহমাদ (শাহপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলারোয়া, সাতক্ষীরা), ৩য় : মুহাম্মাদ আমানুল্লাহ (নিশ্চিন্তপুর নাইট মক্তব, বগুড়া)।
বালিকা : ১ম : ফায়যা ইসলাম (জুনারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেরখাদা, খুলনা), ২য় : সামিরা খাতুন, কাঁকনহাট আইডিয়াল স্কুল, গোদাগাদী, রাজশাহী, ৩য় : নাবীহা নাওয়ার আফরা (লালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাটোর)।
গ্রুপ-ঘ : বিষয় : সোনামণি জাগরণী : বালক : ১ম : শিবলী নো‘মান (আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহী), ২য় : মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল-নাজীব, (আল-হেরা আহলেহাদীছ মাদ্রাসা, খিরশিনটিকর, শাহমখদুম, রাজশাহী), ৩য় : মুহাম্মাদ রুফাইদ তাবীব (দারুলহাদীছ সালাফিইয়াহ মাদ্রাসা, পার্বতীপুর, দিনাজপুর)।
|
প্রশিক্ষণ
‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ‘-এর উদ্যোগে দেশব্যাপী যেলাভিত্তিক কর্মী ও দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণে আন্দোলনের আমেলা ও শূরা সদস্যগণ প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। প্রশিক্ষণের রিপোর্ট নিম্নে পেশ করা হ’ল।-
১২ই সেপ্টেম্বর শনিবার সালথা, ফরিদপুর : অদ্য বাদ আছর যেলার সালথা থানাধীন সালথা আহলেহাদীছ জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক কর্মী ও দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় দাঈ অধ্যাপক আব্দুল হামীদ।
১৯শে সেপ্টেম্বর শনিবার চাঁদপুর : অদ্য বাদ আছর যেলার সদর থানাধীন আল-ইনছাফ একাডেমীতে যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘ’-এর উদ্যোগে এক কর্মী ও দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ এবং যেলা ‘যুবসংঘ’-এর কমিটি পুনর্গঠন উপলক্ষে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি অলিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দাঈ অধ্যাপক আব্দুল হামীদ, ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমাদুল্লাহ ও দফতর সম্পাদক হাফেয আশিকুয্যামান।
২০শে সেপ্টেম্বর রবিবার লক্ষ্মীপুর : অদ্য মাগরিব যেলার সদর থানাধীন পূর্ব বাঞ্ছারামপুর তরীকায়ে মুহাম্মাদী জামে মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘ’-এর উদ্যোগে এক কর্মী ও দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ এবং যেলা ‘যুবসংঘ’-এর কমিটি পুনর্গঠন উপলক্ষে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট আহলেহাদীছ ব্যক্তিত্ব মুহাম্মাদ কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দাঈ অধ্যাপক আব্দুল হামীদ ও ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক হাফেয আশিকুয্যামান।
২১শে সেপ্টেম্বর সোমবার ফেনী : অদ্য বাদ আছর যেলার সদর থানাধীন দারুল হাদীছ সালাফিইয়াহ মাদ্রাসা মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক কর্মী ও দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি সৈয়দ মুহিউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দাঈ অধ্যাপক আব্দুল হামীদ।
২৪শে সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার কাথোরা, গাযীপুর-দক্ষিণ : অদ্য বাদ আছর যেলার সদর থানাধীন কাথোরা আহলেহাদীছ জামে মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘ’-এর উদ্যোগে এক কর্মী ও দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম।
২৫শে সেপ্টেম্বর শুক্রবার খাগড়াছড়ি : অদ্য বেলা সাড়ে ১১-টায় যেলার সদর থানাধীন রসূলপুর সবুজবাগ আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী কমপ্লেক্স মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’-এর আহবায়ক কমিটি গঠন উপলক্ষে এক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আহলেহাদীছ পেশাজীবী ফোরাম’-এর সভাপতি অধ্যাপক জালালুদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় দাঈ অধ্যাপক আব্দুল হামীদ ও শূরা সদস্য হাফেয শেখ সাদী প্রমুখ।
২৫শে সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাঙ্গামাটি : অদ্য বাদ মাগরিব যেলার সদর থানাধীন কলেজ গেট আমানতবাগ যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাস্টার ফযলুল বারীর বাস ভবনে যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক কর্মী ও দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাস্টার ফযলুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দাঈ অধ্যাপক আব্দুল হামীদ।
১লা অক্টোবর বৃহস্পতিবার গোলাকান্দাইল, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ : অদ্য বাদ মাগরিব যেলার রূপগঞ্জ থানাধীন গোলাকান্দাইল আল-আমীন ফাউন্ডেশন জামে মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘ’-এর উদ্যোগে এক কর্মী ও দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ এবং যেলা ‘যুবসংঘ’-এর কমিটি পুনর্গঠন উপলক্ষে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ডা. আ. ন. ম সাইফুল ইসলাম নাঈমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম, শূরা সদস্য কাযী হারূণুর রশীদ, ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক আব্দুর রঊফ ও বর্তমান প্রচার সম্পাদক হাফেয আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ প্রমুখ।
১লা অক্টোবর বৃহস্পতিবার দিনাজপুর-পশ্চিম : অদ্য বিকাল ৪-টায় যেলা সদরে অবস্থিত রেল স্টেশন আহলেহাদীছ জামে মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘ’-এর উদ্যোগে এক কর্মী ও দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ এবং যেলা ‘যুবসংঘ’-এর কমিটি পুনর্গঠন উপলক্ষে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুফীযুদ্দীন আহমাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় যুববিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশীদ আখতার, ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবুল কালাম ও বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিদুর রহমান এবং আল-‘আওনে’র কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আহসান হাবীব প্রমুখ।
২রা অক্টোবর শুক্রবার রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও : অদ্য বাদ আছর যেলার রাণীশংকৈল থানাধীন শান্তিপুর ইত্তেবায়ে সুন্নাহ আহলেহাদীছ জামে মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক কর্মী ও দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ যিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় যুববিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশীদ আখতার ও আল-‘আওনে’র কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আহসান হাবীব। অন্যান্যের মধ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ রঈসুদ্দীন।
৩রা অক্টোবর শনিবার কাঠিগ্রাম, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ : অদ্য সকাল ৯-টায় যেলার কোটালীপাড়া থানাধীন কাঠিগ্রাম আহলেহাদীছ জামে মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘ’-এর উদ্যোগে এক কর্মী ও দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ এবং যেলা ‘যুবসংঘ’-এর কমিটি পুনর্গঠন উপলক্ষে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ ইদ্রীস আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম, শূরা সদস্য কাযী হারূণুর রশীদ, ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক আব্দুর রঊফ ও বর্তমান প্রচার সম্পাদক হাফেয আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ প্রমুখ।
৩রা অক্টোবর শনিবার পাতুলীপাড়া, টাঙ্গাইল : অদ্য সকাল ১১-টায় যেলার সদরের পাতুলীপাড়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘ’-এর উদ্যোগে এক কর্মী ও দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ শামসুল আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন যেলা ‘আন্দোলন’ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মামূন, যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ যাকারিয়া। স্বাগত ভাষণ পেশ করেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর অর্থ সম্পাদক আনোয়রুল ইসলাম।
৪ঠা অক্টোবর রবিবার ত্রিশাল, ময়মনসিংহ-দক্ষিণ : অদ্য সকাল ৯-টায় যেলার ত্রিশাল থানা বাজার আহলেহাদীছ জামে মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক কর্মী ও দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা শফীকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রশিক্ষণে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম।
সুধী সমাবেশ
১৯শে সেপ্টেম্বর শনিবার ছোট শলুয়া, দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা : অদ্য সকাল ১০-টায় যেলার দর্শনা থানাধীন ছোট শলুয়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদে যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘ’-এর উদ্যোগে এক সুধী সমাবেশ ও ‘যুবসংঘ’-এর যেলা কমিটি পুনর্গঠন উপলক্ষে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ সাঈদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম এবং ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ইয়াকূব আলী।
যুবসংঘ
‘তারুণ্যের আত্মপাঠ ও সমাজচিন্তা’ শীর্ষক সেমিনার
৫ই অক্টোবর সোমবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর : অদ্য বিকাল ৩-টায় ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক ময়দানে ‘তারুণ্যের আত্মপাঠ ও সমাজচিন্তা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র আবু সাঈদ ছাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক এবং ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন শিক্ষা বোর্ড’-এর চেয়ারম্যান ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব। সেমিনারে গবেষণাপত্র পাঠ করেন ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ঢাবির এম ফিল গবেষক হাফেয আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ। প্যানেল আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘যুবসংঘে’র সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও রাজশাহীর নওদাপাড়া মারকাযের মুহাদ্দিছ মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, ‘আহলেহাদীছ পেশাজীবী ফোরাম’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. শওকত হাসান, ঢাকা মাদ্রাসাতুল কুরআনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এস. এম. নাহিদ হাসান ও মিসর আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.ফিল গবেষক আব্দুর রহীম প্রমুখ।
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
‘ইসলামে যুদ্ধনীতি ও সমকালীন বাস্তবতা : একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনার
৬ই অক্টোবর মঙ্গলবার নওদাপাড়া, রাজশাহী : অদ্য বাদ মাগরিব নগরীর নওদাপাড়াস্থ আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফীর শিক্ষক মিলনায়তনে ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর গবেষণা বিভাগের উদ্যোগে ‘ইসলামে যুদ্ধনীতি ও সমকালীন বাস্তবতা : একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক মাসিক গবেষণা সেমিনার-৩ অনুষ্ঠিত হয়। ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক এবং ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম। প্যানেল আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, মারকাযের প্রিন্সিপাল হাফেয মুহাম্মাদ আখতার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. আবু নোমান মুহাম্মাদ মাসঊদুর রহমান এবং গবেষণা বিভাগের সিনিয়র গবেষণা সহকারী ও মারকাযের ভাইস প্রিন্সিপাল ড. নূরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর গবেষণা সহকারী সারওয়ার মিছবাহ।
প্রশ্ন (১/৪১) :জনৈক ব্যক্তি অনেকের টাকা নিয়ে পলাতক। সে একটি সমিতির সদস্য এবং সমিতিতে তার কিছু টাকা জমা আছে। আবার সমিতির কয়েকজন সদস্যও তার কাছে টাকা পায়। তাদের একজন অন্যের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তাকে টাকা দিয়েছিল। বর্তমানে ঋণদাতার পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় তার অনুমতি ছাড়া পিতা, কোন সদস্যের যামীনে বা কমিটির অনুমতি নিয়ে তার জমাকৃত টাকা থেকে পাওনা পরিশোধ করতে পারবে কি?
-ছাদিকুর রহমান, দিনাজপুর।
উত্তর : কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে পাওনাদারেরা তাদের প্রাপ্য সম্পদ আনুপাতিকহারে নিয়ে নিতে পারবে। কেউ মওকূফ করে দিলে সেটা তার জন্য ছওয়াবের কাজ হবে। উক্ববাহ বিন আমের (রাঃ) বলেন, আমি নবী করীম (ছাঃ)-কে বললাম, আপনি আমাদেরকে কোন অভিযানে পাঠান। আমরা এমন কোন সম্প্রদায়ের কাছে অবতরণ করি, যারা আমাদের মেহমান হিসাবে গ্রহণ করে না। এ ব্যাপারে আপনি কি মনে করেন? তিনি আমাদের বললেন, তোমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের কাছে অবতরণ করবে, তারা যদি মেহমানের উপযুক্ত আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে, তবে তা গ্রহণ করবে। আর যদি তারা তা না করে, তাহ’লে মেহমানের জন্য তাদের ওপর যে পরিমাণ আপ্যায়ন করা কর্তব্য, তোমরা তাদের কাছ থেকে ততটুকু গ্রহণ করে নেবে (বুখারী হা/৬১৩৭; মুসলিম হা/১৭২৭; মিশকাত হা/৪২৪৫)। এর ব্যাখ্যায় হাফেয ইরাক্বী ও ইবনু বাত্ত্বাল (রহঃ) বলেন, ইমাম বুখারী (রহঃ) এই হাদীছ দ্বারা নিজের প্রাপ্য হক আদায় করার মাসআলার দলীল গ্রহণ করেছেন। তাঁর মতে, কোন ব্যক্তির যদি অন্যের কাছে কোন হক পাওনা থাকে, কিন্তু সে ব্যক্তি তা দিতে অস্বীকার করে, তাহ’লে পাওনাদার তার সম্পদ থেকে যতটুকু নিজের হক বাবদ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়, ততটুকু গ্রহণ করতে পারবে। এজন্য ইমাম বুখারী (রহঃ) অধ্যায়ের শিরোনাম দিয়েছেন; ‘মযলূম ব্যক্তি যখন যালিমের সম্পদ পায়, তখন তার পক্ষ থেকে সমপরিমাণ প্রতিকার গ্রহণ করা (ত্বারহুত তাছরীব ৮/২২৬; মা‘আলিমুস সুনান ৩/৯৯)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুন্নাত এবং আমাদের পূর্ববর্তী যে সকল বিদ্বানের বক্তব্য সংরক্ষিত হয়েছে, তাঁদের ইজমা এটাই প্রমাণ করে যে, কোন ব্যক্তির অন্য কারো নিকট কোন প্রাপ্য হক থাকলে এবং সে ব্যক্তি যদি তা প্রদান না করে, তাহ’লে পাওনাদার তার নিকট থেকে নিজের প্রাপ্য হক গ্রহণ করতে পারবে (কিতাবুল উম্ম ৬/২৬৭-২৬৮)।
প্রশ্ন (২/৪২) :ওয়ায মাহফিলে অনেক বক্তার মুখে শোনা যায় যে, ওমর (রাঃ) বিচারের সময় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর প্রতি অবমাননাকর আচরণকারী এক মুসলিমকে হত্যা করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। এই ঘটনার কোন নির্ভরযোগ্য দলীল আছে কি?
-মুছত্বফা মনোয়ার, হারাগাছ, রংপুর।
উত্তর : প্রথমত ঘটনাটি ছহীহ নয়। বর্ণিত হয়েছে যে, এক মুনাফিক ব্যক্তি এক ইহূদীর সঙ্গে বিবাদে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে বিচারপ্রার্থী হ’ল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ইহূদীর পক্ষে ফায়ছালা দিলেন। কিন্তু মুনাফিক ব্যক্তি তাঁর ফায়ছালায় সন্তুষ্ট হ’ল না। সে বলল, চল আমরা ওমর ইবনুল খাত্ত্বাবের কাছে বিচার নিয়ে যাই। তারা ওমর (রাঃ)-এর কাছে এলে ইহূদী বলল, আমি ও এই ব্যক্তি মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর কাছে বিচারপ্রার্থী হয়েছিলাম। তিনি আমার পক্ষে ফায়ছালা করেছেন; কিন্তু সে তাঁর ফায়ছালায় সন্তুষ্ট হয়নি এবং আপনার কাছে বিচার চাচ্ছে। ওমর (রাঃ) মুনাফিককে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি ঠিক? সে বলল, হ্যাঁ। তখন ওমর (রাঃ) বললেন, তোমরা এখানে অপেক্ষা করো, আমি আসছি। অতঃপর তিনি ঘরে প্রবেশ করে তরবারী নিয়ে বের হ’লেন এবং সেই মুনাফিককে তরবারী দিয়ে হত্যা করলেন’ (ইবনু আশূর, আত-তাহরীর ওয়াত তানভীর ১৮/২৬৯)। বর্ণনাটি তাফসীরের বিভিন্ন গ্রন্থে সূরা নূরের ৪৭ আয়াতের শানে নুযূল হিসাবে ব্যবহার করা হ’লেও এটা ছহীহ নয়। বরং ওছায়মীন বলেন, ঘটনাটি দুর্বল শব্দ দিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে (আল-কওলুল মুফীদ ২/১৭৯)। শায়েখ আব্দুল আযীয আর-রাজিহী বলেন, এই ঘটনাটি প্রমাণিত নয়, এর সনদ মুনক্বাতি‘ (ছিন্নসূত্র)। কারণ শা‘বী ওমর (রাঃ)-এর যুগ পাননি’ (তায়সীরুল হামীদ.. ১/১২৮)। দ্বিতীয়ত কোন ছাহাবী নিজের হাতে আইন তুলে নেননি। বরং তারা যা কিছু করেছেন রাসূল (ছাঃ)-এর অনুমতি নিয়ে করেছেন বা রাসূল (ছাঃ) ঘটনা শুনার পর সেটা ন্যায়সঙ্গত হ’লে তার অনুমোদন দিয়েছেন (বুখারী হা/৪১১৯; আবুদাউদ হা/৩৩৪)।
(৩/৪৩) :অনেকে তামাকজাত দ্রব্য যেমন বিড়ি, সিগারেট, গুল, জর্দা ইত্যাদি খায়। নিষেধ করলে বলে এগুলো মাকরূহ। সঠিক বক্তব্য জানতে চাই।
-আব্দুল্লাহ রাইদ, মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : তামাকজাত দ্রব্য পুরোপুরি হারাম; স্রেফ মাকরূহ নয়। কারণ এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর এবং মানুষকে তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘তিনি তাদের জন্য পবিত্র ও উত্তম বস্ত্তসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র ও ক্ষতিকর বস্ত্তসমূহ হারাম করেন’ (আ‘রাফ ৭/১৫৭)। তিনি আরও বলেন, ‘আর তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না’ (বাক্বারাহ ২/১৯৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্থ হয়ো না এবং ক্ষতি করো না’ (ইবনু মাজাহ হা/২৩৪০; ইরওয়া হা/৮৯৬)। শায়েখ বিন বায (রহঃ) বলেন, শরী‘আতের দলীলসমূহ প্রমাণ করে যে, ধূমপান করা হারাম। কারণ এতে অপবিত্রতা ও বহুবিধ ক্ষতিকর বিষয় রয়েছে’ (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৮/৯৮, ১২/১২৪, ২৩/৪৪)। শায়েখ ওছায়মীন বলেন, হারাম হওয়ার সাধারণ প্রমাণসমূহের ভিত্তিতে ধূমপান হারাম’ (লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ ৫৪/১১১)।
প্রশ্ন (৪/৪৪) : আমার স্ত্রী বার্ধক্যজনিত কারণে খুবই অসুস্থ। সে গত রামাযানে ছিয়াম পালন করতে পারেনি। এখনো ক্বাযা আদায় করার মত তার শারীরিক অবস্থা নেই। এক্ষণে করণীয় কি?
-গিয়াছুদ্দীন, ইব্রাহীমপুর, ঢাকা।
উত্তর : ক্বাযা আদায়ে সক্ষম না হ’লে ফিদইয়া প্রদান করবে। যদি তার অসুস্থতা সাময়িক হয় এবং সুস্থ হওয়ার আশা থাকে, তাহ’লে বর্তমানে ক্বাযা আদায় করা যরূরী নয়। সুস্থ হওয়ার পর রামাযানে ছুটে যাওয়া দিনগুলোর ক্বাযা আদায় করবেন। অসুস্থতার কারণে পরবর্তী রামাযান চলে এলেও, যদি তিনি বাস্তবেই ক্বাযা আদায়ের সুযোগ না পেয়ে থাকেন, তাহ’লে তাঁর ওপর অতিরিক্ত ফিদইয়া আবশ্যক হবে না। সুস্থ হ’লে শুধু ক্বাযা করবেন। আর যদি বিশ্বস্ত চিকিৎসক মনে করেন যে, তাঁর রোগটি দীর্ঘস্থায়ী এবং সুস্থ হয়ে ছিয়াম পালনের সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার আশা নেই, তাহ’লে তিনি প্রতিটি ছুটে যাওয়া দিনের পরিবর্তে একজন মিসকীনকে অর্ধ ছা‘ খাদ্য প্রদান করবেন (ওছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৯/৭৮, ১৯/১১০; বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৬/২২৩; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৯/১১৭)।
প্রশ্ন (৫/৪৫) : আমার বাসায় কমল দাস নামে এক হিন্দু ভাড়া থাকতেন। আমার ইচ্ছা হয়েছিল যে, আমি তাকে ইসলামের দাওয়াত দিব। কিন্তু অলসতা করে একমাস বিলম্ব হয়ে যায়। এরই মধ্যে তিনি দুর্ঘটনায় মারা যায়। এক্ষণে সময়মত ইসলামের দাওয়াত দিতে না পারায় কি আমাকে জবাবদিহি করতে হবে?
-সাঈদুর রহমান, কমরগ্রাম, জয়পুরহাট।
উত্তর : অমুসলিমদের ইসলামের দিকে আহবান করা মূলত ফরযে কিফায়াহ। তবে কোন অমুসলিমকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হ’লে এবং অন্য কেউ তা না দিলে, তা সেই ব্যক্তির জন্য ফরযে ‘আয়েন সমতুল্য হয়ে দাঁড়ায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা আবশ্যক, যারা কল্যাণের দিকে আহবান করবে, সৎকাজের আদেশ দিবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে’ (আলে ইমরান ৩/১০৪)। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া সাধারণ বিচারে ফরযে কিফায়াহ। কিন্তু কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য তার সামর্থ্য অনুযায়ী দাওয়াতের কাজ করা তখন ফরয হয়ে যায়, যখন অন্য কেউ তা পালন না করে’ (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ১৫/১৬৬)। অতএব সৎনিয়তের কারণে ছওয়াব পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। তবে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অলসতাবশত বিলম্ব করা একটি অনুচিত কাজ ও ত্রুটি হয়েছে। এজন্য আল্লাহর দরবারে তওবা ও ইস্তিগফার করা এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা কর্তব্য। মনে রাখা আবশ্যক যে, দাওয়াতের ফযীলত অপরিসীম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমার দ্বারা যদি একজন মানুষও হেদায়াত পায়, তবে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম হবে’ (বুখারী হা/৩৭০১; মুসলিম হা/২৪০৬)।
প্রশ্ন (৬/৪৬) : আমাদের এলাকায় একটি প্রসিদ্ধ মাদ্রাসা রয়েছে। এলাকার মানুষ প্রায়ই মাদ্রাসায় ছাগল ছাদাক্বা করে। ছাগলের গোশত ছাত্র-শিক্ষকরা খেয়ে থাকেন। উক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক হিসাবে এ গোশত খাওয়া আমার জন্য হালাল হবে কি?
-শাহারুল হক, শিবগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
উত্তর : সাধারণ ছাদাক্বা হিসাবে প্রদত্ত ছাগলের গোশত ছাত্র-শিক্ষক সবাই খেতে পারবে। কারণ এটি যাকাত নয়, বরং নফল ছাদাক্বা। আর নফল ছাদাক্বা ধনী-গরীব সবাই খেতে পারবে। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, নফল ছাদাক্বা ধনীদের জন্য জায়েয। এ ব্যাপারে কোন মতপার্থক্য নেই (নববী, আল-মাজমূ‘ ৬/২৩৬)। ইবনু কুদামা (রহঃ) বলেন, ধনীদের জন্য ফরয ছাদাক্বা গ্রহণ করা হারাম। তবে নফল বা সাধারণ ছাদাক্বা জায়েয (ইবনু কুদামা, মুগনী ২/২৭৬)। এক্ষণে মাদ্রাসায় সাধারণ ছাদাক্বা হিসাবে কিছু প্রদান করা হ’লে তা শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মচারীরা খেতে পারে। আর যাকাত বা মানত থেকে দান করা হ’লে কেবল হকদাররাই খেতে পারবে (বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৪/৩০৬; ওছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ৯-১০/০২)।
প্রশ্ন (৭/৪৭) : জনৈক সন্তান তার পিতার পায়ের নলায় রড দিয়ে আঘাত করে। প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হয় এবং পায়ের নলা ফেটে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পিতা মারা যান। এক্ষণে উক্ত সন্তান কি পিতার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে অংশ পাবে?
-ইয়াসমীন সুলতানা, আলাদীপুর, সাতক্ষীরা।
উত্তর : যদি প্রমাণিত হয় যে, সন্তান ইচ্ছাকৃতভাবে এমন আঘাত করেছে যার কারণে পিতার মৃত্যু হয়েছে, তাহ’লে সে তার পিতার হত্যাকারী হিসাবে গণ্য হবে এবং মীরাছ থেকে বঞ্চিত হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকার পাবে না’ (বায়হাক্বী, ছহীহুল জামে‘ হা/৫৪২২)। আর এই মহাপাপের জন্য সন্তানকে আমৃত্যু তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে, নতুবা দুনিয়া ও আখেরাতে তাকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হ’তে হবে। কারণ পিতা-মাতাকে কষ্টদায়ক শব্দ উল্লেখ করতে যেখানে নিষিদ্ধ (বনু ইস্রাঈল ১৭/২৩), সেখানে তাদের গায়ে হাত তোলা বা আঘাত করা এক মারাত্মক ও ভয়াবহ মহাপাপ।
প্রশ্ন (৮/৪৮) : আমি একটি মসজিদের ইমাম। জুম‘আর দিনে বাড়ী থেকে ওযূ করে বের হই। একদিন রাস্তায় ওযূ ভেঙ্গে যায়। মসজিদে গিয়ে ওযূর কথা ভুলে যাই। এ অবস্থায় খুৎবা প্রদান করি এবং ছালাতে ইমামতি করি। আছর ছালাত আদায় করার সময় বিষয়টি মনে পড়ে। এক্ষণে করণীয় কি?
-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বোর্ড বাজার, গাযীপুর।
উত্তর : ইমামের যখনই স্মরণ হবে ওযূ করে যোহরের চার রাক‘আত ছালাত আদায় করবে। কারণ ওযূ ছাড়া ছালাত হয়নি। তবে মুছাল্লীদের ছালাত হয়ে গেছে। কারণ তারা পবিত্র এবং ইমামের ওযূবিহীন থাকার বিষয়টি তারা জানতেন না (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৬/২৬৬)। ইবনু কুদামা (রহঃ) বলেন, কোন ইমাম যদি মুছল্লীদের নিয়ে এমন অবস্থায় ছালাত আদায় করেন যে, তিনি ওযূবিহীন অথবা নাপাক ছিলেন, অথচ নিজের অপবিত্রতার বিষয়টি তিনি জানতেন না তাহ’লে মুছল্লীদের ছালাত ছহীহ হবে; কিন্তু ইমামের ছালাত বাতিল হবে। ওমর (রাঃ) একবার লোকদের নিয়ে ফজরের ছালাত আদায় করলেন। পরে তাঁর কাপড়ে স্বপ্নদোষের চিহ্ন দেখতে পেলেন। তখন তিনি পুনরায় ছালাত আদায় করলেন, কিন্তু মুছল্লীদের পুনরায় ছালাত আদায় করতে বলেননি’ (দারাকুৎনী হা/১৩৭২; ইরওয়া হা/৫৩৩)। ওছমান (রাঃ) লোকদের নিয়ে ফজরের ছালাত আদায় করলেন। পরে সকাল হয়ে সূর্য উপরে ওঠার পর তিনি তাঁর মধ্যে নাপাকীর চিহ্ন দেখতে পেলেন। তখন তিনি পুনরায় ছালাত আদায় করলেন কিন্তু মুছল্লীদের পুনরায় ছালাত আদায় করতে নির্দেশ দিলেন না (আত-তামহীদ লিমা ফিল মুওয়াত্ত্বা ১/১৮২)। আলী (রাঃ) বলেন, ‘কোন নাপাক ব্যক্তি যদি লোকদের নিয়ে ছালাত পূর্ণ করে ফেলে, তাহ’লে আমি তাকে গোসল করে পুনরায় ছালাত আদায় করার নির্দেশ দেব। কিন্তু তাদের পুনরায় ছালাত আদায় করার নির্দেশ দেব না’ (ইবনু আবী শায়বাহ হা/৪৫৭৫)। আর ইবনু ওমর (রাঃ) লোকদের নিয়ে ফজরের ছালাত আদায় করার পর স্মরণ করলেন যে, তিনি ওযূ ছাড়া ছালাত আদায় করেছেন। অতঃপর তিনি নিজে ছালাত পুনরায় আদায় করলেন, কিন্তু মুছল্লীদের পুনরায় আদায় করতে বলেননি (ইবনু কুদামা, মুগনী, ১/৪১৯)।
প্রশ্ন (৯/৪৯) : চাঁদের মধ্যে তারা দেখা গেলে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় মর্মে প্রচলিত কথাটা কি সঠিক?
-ইমদাদুল হক, বড়গাছী, রাজশাহী।
উত্তর : কথাটি সঠিক নয়; বরং লোকমুখে প্রচলিত বচন। যেমন বলা হয় ‘চাঁদের সভার মধ্যে তারা, বর্ষে পানি মূষলধারা’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পুত্র ইব্রাহীমের মৃত্যুর দিন সূর্যগ্রহণ হ’লে লোকেরা বলাবলি করতে থাকে যে, তাঁর মৃত্যুর কারণেই এমনটি হয়েছে। তখন রাসূল (ছাঃ) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ‘নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারও মৃত্যু বা জন্মের কারণে এগুলোতে গ্রহণ লাগে না’ (বুখারী হা/১০৪৩; মুসলিম হা/৯০১; মিশকাত হা/১৪৮২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নক্ষত্রের মাধ্যমে ভাগ্য গণনার বিদ্যা শিখল, সে জাদুবিদ্যার একটি শাখা শিখল। এ বিদ্যা যত বেশী শিখবে, তার অর্জিত জাদুবিদ্যার অংশও তত বাড়বে’ (আবুদাউদ হা/৩৯০৫; ছহীহুত তারগীব হা/৩০৫১)।
প্রশ্ন (১০/৫০) : ছালাতে একটি না কি দু’টি সিজদা করেছি, এ বিষয়ে সন্দেহ হ’লে করণীয় কি?
-রাসেল ইসলাম, রাজশাহী।
উত্তর : জমহূর বিদ্বানের মতে, প্রতি রাক‘আতে দু’টি সিজদাই ছালাতের রুকন। অতএব কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে একটি সিজদা ছেড়ে দিলে তার ছালাত বাতিল হবে। আর ভুলে একটি সিজদা বাদ পড়লে শুধু সহো সিজদা দিলেই যথেষ্ট হবে না; বাদ পড়া সিজদা বা তার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় রাক‘আত আদায় করতে হবে। এক্ষণে যদি বৈঠকের মধ্যেই সন্দেহ হয় যে একটি সিজদা করেছেন, নাকি দু’টি, তাহ’লে যেটি কম সেটি ধরে আরেকটি সিজদা করতে হবে। এরপর ছালাতের শেষে সহো সিজদা দিতে হবে (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১১/৩০)। কিন্তু সিজদা বাদ পড়ার বিষয়টি যদি দাঁড়িয়ে যাওয়ার পর মনে হয় তাহ’লে উক্ত রাক‘আত বাতিল মনে করে অতিরিক্ত এক রাক‘আত ছালাত আদায় করে সহো সিজদা দিবে (ওছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ৩/৩৮৪)। কারণ রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের কেউ ছালাতের মধ্যে সন্দেহে পড়ে গেলে সে তিন রাক‘আত পড়েছে, নাকি চার রাক‘আত, তা নিশ্চিতভাবে মনে করতে না পারলে সে যে সংখ্যাটি নিশ্চিতভাবে পড়েছে, সেটি ধরে ছালাত পূর্ণ করবে। এরপর সালাম ফেরানোর আগে দু’টি সহো সিজদা করবে’ (মুসলিম হা/৫৭১; মিশকাত হা/১০১১৫)। উল্লেখ্য যে, ছালাত শেষ হয়ে যাওয়ার পরে সিজদা নিয়ে কেবল সন্দেহ হ’লে সেটা ধর্তব্য হবে না। তবে একটি সিজদা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হ’লে পুনরায় ছালাত আদায় করতে হবে।
প্রশ্ন (১১/৫১) : ক্বিয়ামতের দিন সূর্য থাকবে না। আল্লাহর নূরে হাশরের ময়দান আলোকিত হবে। একসময় আল্লাহ তাঁর নূর নিভিয়ে দেবেন। তখন কেবল মুমিনেরা আলো পাবে।
উক্ত বক্তব্যের সত্যতা জানতে চাই।
-মুহাম্মাদ সানি, কুষ্টিয়া।
উত্তর : ক্বিয়ামতের শুরুতে সূর্য থাকবে না। এরপর হাশরের ময়দানে সূর্যকে আবার নিয়ে আসা হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন সূর্যকে সৃষ্টির এত কাছে নিয়ে আসা হবে যে, তা তাদের থেকে এক মাইল দূরত্বে থাকবে’ (মুসলিম হা/২৮৬৪; মিশকাত হা/৫০৪০)। এরপর বিচার পরবর্তীকালে সূর্যের আলো থাকবে না বলে ধারণা করা যায়। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যেদিন মুনাফিক পুরুষ ও নারীরা ঈমানদারগণকে বলবে, তোমরা একটু থামো, তোমাদের থেকে কিছু আলো নিয়ে নিই’ (হাদীদ ৫৭/১৩)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তাদের প্রত্যেককে সে মুনাফিক হোক কিংবা মুমিন, একটি নূর দেওয়া হবে। অতঃপর তারা সেই নূরের অনুসরণ করবে। আর জাহান্নামের সেতুর ওপর থাকবে লোহার বাঁকানো আংটা ও কাঁটা, যা আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে ধরে ফেলবে। এরপর মুনাফিকদের নূর নিভিয়ে দেওয়া হবে। তারপর মুমিনরা নাজাত লাভ করবে’ (মুসলিম হা/১৯১)। যাহ্হাক বলেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন এমন কেউ থাকবে না, যাকে কোন নূর দেওয়া হবে না। অতঃপর তারা যখন পুলছিরাতের কাছে পৌঁছবে, তখন মুনাফিকদের নূর নিভিয়ে দেওয়া হবে। তখন মুমিনরা তা দেখে আশঙ্কা করবে যে, মুনাফিকদের নূর যেভাবে নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেভাবে যেন তাদের নূরও নিভিয়ে না দেওয়া হয়। তাই তারা বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন’ (আত-তাহরীম, ৬৬/৮; তাফসীরে ইবনু কাছীর, দারু ইবনুল জাওযী ৭/১৭৬)।
প্রশ্ন (১২/৫২) : কোন পিতা সন্তানের প্রতি যুলুম করার পর সন্তানের বিরুদ্ধে বদদো‘আ করলে সেই বদদো‘আ কবুল হবে কি?
-আব্দুর রহীম, যশোর।
উত্তর : কবুল হ’তে পারে। কারণ সন্তানের জন্য পিতার দো‘আ কবুল হয় (তিরমিযী হা/১৯০৫; ছহীহুত তারগীব হা/১৬৫৫)। তবে পিতার জন্য সন্তানের বিরুদ্ধে বদদো‘আ করা জায়েয নয়। রাসূল (ছাঃ) এ ব্যাপারে নিষেধ করে বলেন, ‘তোমরা নিজেদের জন্য বদদো‘আ করো না, নিজ সন্তানদের বিরুদ্ধে বদদো‘আ করো না এবং নিজেদের অর্থ-সম্পদের ব্যাপারে বদদো‘আ করো না। যাতে তোমরা এমন এক সময়ে না পৌঁছে যাও, যে সময় দো‘আ করা হ’লে তা তোমাদের জন্য কবুল করা হয়’ (মুসলিম হা/৩০০৯, মিশকাত হা/২২২৯)। অর্থাৎ এর ফলে বদদো‘আ লেগে যেতে পারে। উপরন্তু কারো জন্য জাহান্নাম কামনা করা ও ধ্বংস কামনা করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। অন্যদিকে সন্তানের জন্য আবশ্যক হবে যেকোন মূল্যে পিতার নিকট থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া ও তার সন্তুষ্টি অর্জন করা। কারণ আল্লাহর পরে পিতা-মাতা সন্তানের নিকট থেকে সবচেয়ে বেশী আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা পাওয়ার হকদার (লোকমান ৩১/১৪)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পিতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি’ (তিরমিযী হা/১৮৯৯; ছহীহাহ হা/৫১৬; মিশকাত হা/৪৯২৭)। তবে শিরক-বিদ‘আত ও শরী‘আত বিরোধী কোন কাজে পিতা-মাতার আনুগত্য করা যাবে না (লোকমান ৩১/১৫)। এরূপ ক্ষেত্রে পিতা-মাতার অবাধ্য হ’লে এবং তারা বদ-দো‘আ করলে তাদের দো‘আ কবুল হবে না ইনশাআল্লাহ (বুখারী হা/৬৪০১; ফাৎহুল বারী ১১/২০০)।
প্রশ্ন (১৩/৫৩) : কোন ব্যক্তি প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ব্যবহার বা গেম খেলে, তবে হারাম কনটেন্ট দেখে না। এভাবে সময় অপচয় করার কারণে সে গোনাহগার হবে কি?
-মু‘আয, ময়মনসিংহ।
উত্তর : অনর্থক সময় অপচয়ের জন্য সে অবশ্যই গোনাহগার হবে। আল্লাহ বলেন, ‘যারা তাদের দ্বীনকে খেল-তামাশা ও ক্রীড়ায় পরিণত করেছিল এবং পার্থিব জীবন তাদের ধোঁকায় ফেলে রেখেছিল। সুতরাং আজ আমি তাদের ভুলে যাব, যেমন তারা তাদের এই দিনের সাক্ষাতের কথা ভুলে গিয়েছিল (আ‘রাফ ৭/৫১)। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই’ (বনু ইস্রাঈল ১৭/২৭)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, কিবয়ামতের দিন আদম সন্তানের পা দুই কদমও সরবে না, যতক্ষণ না তাকে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে। (১) তার জীবন সম্পর্কে। তা সে কোন কাজে ব্যয় করেছে। (২) তার যৌবনকাল সম্পর্কে। তা সে কিসে জীর্ণ করেছে। (৩) তার ধন-সম্পদ সম্পর্কে। তা সে কোথা থেকে উপার্জন করেছে এবং (৪) তা সে কিসে ব্যয় করেছে। (৫) সে তার ইল্ম অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে’ (তিরমিযী হা/২৪১৭,সনদ ছহীহ; মিশকাত হা/৯১৫৭)। তিনি বলেন, ‘একজন ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হ’ল, অনর্থক বিষয় পরিহার করা’ (তিরমিযী হা/২৩১৬; মিশকাত হা/৪৮৩৯)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, সময় তরবারির মতো, তুমি যদি তাকে কাজে লাগিয়ে অতিক্রম না করো, তবে সময়ই তোমাকে গ্রাস করবে (ইবনুল ক্বাইয়িম, আল-জাওয়াবুল কাফী..পৃ. ১৫৬)। ইবনুল ক্বাইয়িম বলেন, ‘প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তি তাঁর সময়ের সদ্ব্যবহার করেন। তিনি সময় নষ্ট করলে তাঁর সব কল্যাণই হাতছাড়া হয়ে যায়। কারণ সব কল্যাণই সময় থেকে অর্জিত হয়। আর সময় একবার নষ্ট করলে তা আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না’ (আল-জাওয়াবুল কাফী, পৃ. ১৫৬)। ইমাম মাওয়ার্দী (রহঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার কোন একটি দিন এমনভাবে অতিবাহিত করল যেদিন সে কোন প্রাপ্য অধিকার আদায় করল না, কোন ফরয দায়িত্ব পালন করল না, কোন মহৎ কীর্তি প্রতিষ্ঠা করল না, কোন প্রশংসনীয় কাজ করল না, কোন কল্যাণকর কাজের ভিত্তি স্থাপন করল না এবং কোন জ্ঞান অর্জন করল না, সে মূলত তার দিনটির প্রতি অবিচার করল এবং নিজের উপর যুলুম করল (আদাবুদ্দুনইয়া ওয়াদ দ্বীন পৃ. ৫৫)। উল্লেখ্য যে, ফেসবুক বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া দেখা সরাসরি গোনাহের কাজ নয়, যদি তাতে অশ্লীল কিছু দেখা না হয়। কিন্তু অনর্থক বিনোদনে সময় অপচয় করার জন্য গোনাহ হবে।
প্রশ্ন (১৪/৫৪) : দান সম্পদ কমায় না বরং বৃদ্ধি করে। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য জানতে চাই?
-নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।
উত্তর : ছাদাক্বা করার কারণে বান্দার প্রকৃত সম্পদ ও কল্যাণ কমে যায় না। আল্লাহ তাতে বরকত দেন এবং আখেরাতে এর প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি করেন। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, ‘এ ব্যাপারে আলেমগণ দু’টি ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন- প্রথমত এর অর্থ হ’ল ছাদাক্বা করার কারণে সম্পদে বরকত দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন ক্ষতি থেকে তা রক্ষা করা হয়। ফলে বাহ্যিকভাবে সম্পদ যতটুকু কমে, গোপন বরকতের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। এটি বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রচলিত কার্য-কারণের মাধ্যমেও উপলব্ধি করা যায়। দ্বিতীয়ত বাহ্যিক হিসাবে সম্পদ কমে গেলেও, ছাদাক্বার বিনিময়ে যে ছওয়াব নির্ধারিত রয়েছে, তার মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়; বরং তা বহুগুণে বৃদ্ধি পায় (শরহ মুসলিম ৬/১৬৯)। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘ছাদাক্বাকারী ব্যক্তির সম্পদ বাহ্যিক হিসাবে কমে যায়। কিন্তু আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ সূদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং ছাদাক্বাসমূহকে বৃদ্ধি করেন’ (বাক্বারাহ ২/২৭৬; আল-ফাতাওয়াল কুবরা ৬/১৬৯)। তাই ছাদাক্বা সম্পদ হ্রাস করে না; বরং তা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দুনিয়াতে বরকত এবং আখেরাতের ছওয়াব অর্জনের মাধ্যম। বস্ত্তত ছাদাক্বা যেমন সমাজে সমৃদ্ধি আনে, তেমনি আখেরাতে ছওয়াব বৃদ্ধি পায়। শিল্পপতি শিল্পের যাকাত দিলে গরীবরা সে যাকাত দিয়ে শিল্পের উৎপাদন খরীদ করে। ফলে শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি হয়। অন্যদিকে দারিদ্র বিমোচন হয়। এভাবে সমাজে সমৃদ্ধি লাভ হয়। এভাবেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণী সত্য হয়।
প্রশ্ন (১৫/৫৫) : অনলাইনে কোন পণ্য বিক্রির সময় সেরা ও ১০০% কার্যকর, গ্যারান্টি ইত্যাদি দাবী করা যাবে কি?
-রাঈদ আব্দুল্লাহ, ময়মনসিংহ।
উত্তর : যদি কোন পণ্যের কার্যকারিতা বাস্তবিকই ১০০% নিশ্চিত হয় বা বাজারের সেরা হয় তাহ’লে বলা যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা না হ’লে ১০০% কার্যকর বলা জায়েয হবে না। কারণ এটি ক্রেতাকে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া, যার বাস্তব ভিত্তি নেই। বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা ও পণ্যের প্রকৃত অবস্থা গোপন করা নিষিদ্ধ। অনুরূপভাবে ভালো পণ্যের সাথে গ্যারান্টিও দিতে পারে। তবে কোন সন্দেহ থাকলে বা পণ্যের মান অজ্ঞাত থাকলে এরূপ নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে না (ইবনু তায়মিয়াহ, আল-ইখতিয়ারত পৃ, ১২৪; ওছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ৮/২৫৬-২৫৭)। নবী কমীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘ক্রেতা-বিক্রেতা যদি সত্য বলে এবং (পণ্যের বিষয়গুলো) স্পষ্ট করে, তাহ’লে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত দেওয়া হয়। আর তারা যদি মিথ্যা বলে এবং দোষ গোপন করে, তাহ’লে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত তুলে নেওয়া হয়’ (বুখারী হা/২০৭৯; মুসলিম হা/১৫৩২)।
প্রশ্ন (১৬/৫৬) : আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র। আমার আয়ের উৎস টিউশনি করা। আমি একটি মেয়েকে পসন্দ করি। আমাদের উভয় পরিবারের মধ্যে বিয়ের আলোচনা হ’লেও আমার পরিবার এখন বিয়েতে রাযী নয়। তারা আগে চাকুরী করে প্রতিষ্ঠিত হ’তে বলছে। আমি হারাম সম্পর্ক থেকে বাঁচতে হালালভাবে বিয়ে করতে চাই। এমতাবস্থায় পিতা-মাতাকে না জানিয়ে বিয়ে করলে কি গোনাহ হবে?
-ফারূক, ঢাকা।
উত্তর : ছেলে ও মেয়ে উভয়ের উচিৎ অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করা। পাত্রী দ্বীনদার হ’লে পিতার উচিৎ ছেলের বিয়ের ব্যবস্থা করা। পিতা-মাতা প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে বা মেয়ের উপযুক্ত সময়ে বিয়ে না দিলে এবং তারা গোনাহে লিপ্ত হ’লে পিতা-মাতাও গোনাহের ভাগীদার হবেন। এক্ষণে যদি মেয়ে দ্বীনদার হওয়া সত্ত্বেও ছেলের পিতা কোনভাবেই বিয়ের ব্যবস্থা না করেন, তাহ’লে মেয়ের পিতার সম্মতিক্রমে ছেলে উক্ত মেয়েকে বিবাহ করতে পারে। বরং ছেলের কাছে যদি বিয়ের খরচ বহনের মতো কোন অর্থ না থাকে, তাহ’লে পিতার দায়িত্ব হ’ল নিজের সম্পদ থেকে তার ছেলের বিয়ের ব্যবস্থা করা (ওছায়মীন, ফাতাওয়াল মারাতিল মুসলিমাহ ২/৭০৮)।
প্রশ্ন (১৭/৫৭) : আমার পিতা প্রায় ২০ বছর আগে ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে আমার চাচার ২ শতক জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। বর্তমানে ঐ পরিমাণ জমি ফিরিয়ে দেওয়ার মতো কোন জমি তার নেই। এমতাবস্থায় ২ শতক জমির পরিবর্তে টাকা দিলে কি দায় শোধ হবে? যদি হয় তাহ’লে তৎকালীন নাকি বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী টাকা দিতে হবে?
-ছাকিব সরকার, সোনাতলা, বগুড়া।
উত্তর : চাচার বর্তমান ২ শতক জমির ন্যায্য বাজারমূল্য নির্ধারণ করে পারস্পরিক সম্মতিতে টাকা দিয়ে তাঁর কাছ থেকে স্পষ্টভাবে দায়মুক্তি নেয়া কর্তব্য (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৫/২০৯)। কারণ যা বিক্রয় করা হয়েছিল তা অন্যের সম্পদ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা মানুষের প্রাপ্য জিনিস কম দিও না’ (আ‘রাফ ৭/৮৫)। এক্ষণে চাচা অল্পে খুশী হ’লে বা মাফ করে দিলে দায়মুক্তি পাবে (ইবনু মাজাহ হা/২১৮৫; ছহীহুল জামে‘ হা/২৩২৩)। শায়েখ মানছুর আল-বুহূতী (রহঃ) বলেন, ‘কেউ যদি অন্য ব্যক্তির কোন মূল্যবান ও হালাল সম্পদ তার অনুমতি ছাড়া নষ্ট করে, তাহ’লে তাকে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কারণ সে ঐ ব্যক্তিকে তার সম্পদ থেকে বঞ্চিত করেছে। তাই তার ওপর এর ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হয়েছে’ (কাশশাফুল ক্বেনা‘, ৪/১১৭)।
প্রশ্ন (১৮/৫৮) : স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে স্বামীগৃহে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করতে হয়। এখন স্ত্রী যদি বৃদ্ধা হয় তার জন্যও কি একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে? নাকি বয়োবৃদ্ধা হওয়ার কারণে ছাড় আছে?
-আব্দুস সালাম, চারঘাট, রাজশাহী।
উত্তর : স্বামী মারা গেলে স্ত্রী বৃদ্ধা বা বয়স্কা হ’লেও তাকে ৪ মাস ১০ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে। আর গর্ভবতী হ’লে তাকে বাচ্চা জন্মদান পর্যন্ত ইদ্দত পালন করতে হবে (তালাক ৬৫/৪)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রী রেখে যায়, তাদের স্ত্রীরা নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় রাখবে’ (বাক্বারাহ ২/২৩৪)। এ বিধান যুবতী-বৃদ্ধা সবার জন্যই প্রযোজ্য। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে এমন কোন নারীর জন্য কোন মৃত ব্যক্তির ওপর তিন দিনের বেশী শোক পালন করা বৈধ নয়। তবে স্বামীর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে’ (বুখারী হা/১২৮০; মুসলিম হা/১৪৮৬)। ইবনু কুদামাহ (রহঃ) বলেন, বিদ্বানগণ এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, কোন স্বাধীন মুসলিম নারী গর্ভবতী না হ’লে তার স্বামী মৃত্যুবরণ করার পর তার ইদ্দতের মেয়াদ চার মাস দশ দিন। স্বামী তার সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করে থাকুক বা না থাকুক উভয় ক্ষেত্রেই একই বিধান। আর নারী প্রাপ্তবয়স্ক ও বৃদ্ধা হোক কিংবা এমন অপ্রাপ্তবয়স্কা হোক, যে এখনও বালেগা হয়নি, সবার ক্ষেত্রেই একই বিধান প্রযোজ্য’ (মুগনী ৮/১১৫)।
প্রশ্ন (১৯/৫৯) : সির্রি ছালাতে তথা যোহর ও আছরের ছালাতে সূরা ফাতিহা পাঠের পর মুছল্লীরা কি চুপ করে থাকবে? না অন্য সূরা পাঠ করবে?
-আব্দুল লতীফ, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।
উত্তর : সির্রী ছালাতে তথা যোহর এবং আছরে প্রথম দুই দুই রাক‘আতে সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরা পাঠ করবে। ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে নীরবে পাঠ করবেন (বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১১২/৩২১)। আর শেষ দুই রাক‘আতে সূরা ফাতিহার পর অতিরিক্ত ক্বিরাআত পাঠের বিষয়ে আবূ সাঈদ খুদরী (রা.)-এর হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ক্বিরাআতের পরিমাণের বিবরণ এসেছে (মুসলিম, হা/৪৫২)। শায়খ ওছায়মীন (রহঃ) এই বর্ণনার ভিত্তিতে শেষ দুই রাক‘আতেও ফাতিহার পর অতিরিক্ত ক্বিরাআত পাঠ করাকে উত্তম বলেছেন (আল-লিক্বাউশ শাহরী, ২৪/৭১)।
প্রশ্ন (২০/৬০) :বিবাহে আমি নগদ মোহর পরিশোধ করতে চাই। কিন্তু মেয়ের পিতা নগদ মোহরের পরিমাণ কম হওয়ায় বিয়েতে রাযী হচ্ছেন না। তিনি বাকী হ’লেও মোহরের পরিমাণ বেশী করতে আগ্রহী। যা আমার পক্ষে পরিশোধ করা প্রায় অসম্ভব। এমতাবস্থায় মোহরের পরিমাণ বেশী করে পরে আমি যদি আমার স্ত্রীকে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী মোহরের টাকা দিয়ে, বাকী টাকা মাফ করে নেই এবং স্ত্রী যদি আমাকে মাফ করে দেয় তাহ’লে কি এটি জায়েয হবে?
-সেলিম আলী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
উত্তর : মোহরানা পরিশোধ না করার পরিকল্পনা করে মোহরের পরিমাণ বৃদ্ধি করা জায়েয নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন নারীকে কম বা বেশী মোহর নির্ধারণ করে বিয়ে করল, অথচ সে তার মোহর পরিশোধ করার ইচ্ছা রাখে না.... তাহ’লে সে ক্বিয়ামতের দিন একজন যেনাকার হিসাবে উপস্থিত হবে’ (ছহীহুত তারগীব হা/১৮০৭)। তবে সাধারণভাবে স্ত্রী যদি বিয়ের পর নিজের পূর্ণ ইচ্ছা ও সন্তুষ্টিতে মোহরের সম্পূর্ণ বা কিছু অংশ মাফ করে দেয়, তাহ’লে তা জায়েয এবং স্বামীর ওপর থেকে সেই অংশের দায়মুক্তি হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তারা যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে মোহরের কোন অংশ তোমাদের জন্য ছেড়ে দেয়, তাহ’লে তা স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করো’ (নিসা ৪/৪)। রাসূল মোহরের পরিমাণ সহজ করতে উৎসাহিত করেছেন (ছহীহুল জামে‘ হা/৩২৭৯)। অতএব ইচ্ছা করে নয় বরং অজ্ঞতাবসে অতিরিক্ত মোহরানা নির্ধারণ করা হ’লে এবং পরবর্তীতে স্ত্রী তা স্বামীকে ছাড় দিলে তাতে কোন সমস্যা নেই।
প্রশ্ন (২১/৬১) : ব্যাংকে চাকুরী করা যদি সূদী কার্যক্রমে সহযোগিতার কারণে হারাম হয়, তাহ’লে একই সূদভিত্তিক ব্যাংকে জেনেশুনে টাকা রাখা এবং বিভিন্ন লেনদেন ও সেবা গ্রহণ করা হারাম নয় কেন? বিশেষত, আমানতকারীর টাকা ব্যাংক সূদী কাজে ব্যবহার করলে তা কি সূদী কার্যক্রমে পরোক্ষ সহযোগিতা হিসাবে গণ্য হবে না? ব্যাংক ব্যবহার না করেও বিকল্পভাবে চলা সম্ভব হ’লে শুধু প্রচলিত ব্যবস্থা ও সুবিধার কারণে তা বৈধ হওয়ার শারঈ ভিত্তি কি?
-মারূফ হাসান, বুড়িচং, কুমিল্লা।
উত্তর : সূদী ব্যাংকে টাকা জমা রাখা হারাম তা সূদসহ হোক কিংবা সূদ ছাড়া। কারণ ব্যাংক এই অর্থ গ্রহণ করে সূদের ভিত্তিতে ঋণ প্রদান করবে। তবে আলেমগণ একটি বিশেষ পরিস্থিতিকে এর ব্যতিক্রম করেছেন। তা হ’ল কোন ব্যক্তি যদি নিজের সম্পদ নিয়ে আশঙ্কা করেন এবং তার সম্পদ নিরাপদে সংরক্ষণ করার মতো অন্য কোন নিরাপদ স্থান না পান, তাহ’লে বিশেষ প্রয়োজনে সূদী ব্যাংকে টাকা জমা রাখা জায়েয হবে। কারণ শরী‘আতের একটি মূলনীতি হ’ল ‘চরম প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়কে সাময়িকভাবে বৈধ করে’। শায়খ বিন বায (রহঃ) বলেন, ‘সূদবিহীনভাবে ব্যাংকে টাকা জমা রাখার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই, যদি এর প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে যদি ব্যাংক ছাড়া অন্য কোথাও টাকা নিরাপদে জমা রাখার সুযোগ থাকে, তাহ’লে তা অধিক সতর্কতাপূর্ণ ও উত্তম’ (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৯/৪১৩)। এক্ষণে ব্যাংকে চাকুরী এবং প্রয়োজনের কারণে সূদবিহীন ব্যাংকিং সেবা গ্রহণকে একই হুকুমে ফেলা যাবে না। আবার ব্যাংকিং সেবা প্রয়োজনীয় হ’লেই সূদী লেনদেন বৈধ হয়ে যায় এটিও সঠিক নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তির কাজ, অ্যাকাউন্টের ধরন, সূদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং বিকল্প বাস্তবতা বিবেচনা করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় কর’ (তাগাবুন ৬৪/১৬)।
প্রশ্ন (২২/৬২) :বিভিন্ন কারণে বিয়ের ৭ বছর পরও আমি স্বামীর সঙ্গে পিতার বাড়ীতে থাকি। আমার শ্বশুর-শাশুড়ী জীবিত নেই। চাচা-শ্বশুর ও চাচাতো ভাইদের সঙ্গে স্বামীর কোন বিরোধ নেই। তবে সেখানে যাওয়া হয় না। স্বামী মাঝে মাঝে দু’একজনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে আমার তেমন কথা হয় না এবং তাদের স্ত্রী-সন্তানদের সবাইকে ভালোভাবে চিনি না। এ অবস্থায় কি আমি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী হিসাবে গণ্য হব?
-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, রংপুর।
উত্তর : স্বামীর আত্মীয়রা স্ত্রীর রক্তসর্ম্পকীয় আত্মীয় নয়। সেজন্য স্ত্রী তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা না করার কারণে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী হিসাবে গণ্য হবে না। ইসলামে যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা আবশ্যক, তা মূলত নিজের পিতৃ ও মাতৃকূলের আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্কিত। স্বামীর আত্মীয়রা স্ত্রীর জন্য রক্তসম্পর্কিত আত্মীয় নয় (নববী, শরহু মুসলিম ১৬/১১৩; ছান‘আনী, সুবুলুস সালাম)।
প্রশ্ন (২৩/৬৩) :রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর রওযার পাশে যে স্থানটি খালি রয়েছে, সেখানে ঈসা (আঃ)-কে দাফন করা হবে, উক্ত কথা হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত কি?
-সাইফুল ইসলাম আযাদ, চকবাজার, চট্টগ্রাম।
উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর হুজরায় অবশিষ্ট খালি স্থানে ঈসা (আঃ)-কে দাফন করা হবে মর্মে একটি বর্ণনা পাওয়া গেলেও তা ছহীহ নয়; বরং এর সনদ যঈফ। তাই বিষয়টি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয় (আলবানী, যঈফাহ হা/৬৫৬২, সনদ মুনকার)। আব্দুল্লাহ বিন সালাম থেকে কিছু মওকূফ বর্ণনাও পাওয়া যায়, যেগুলি যঈফ (যঈফাহ ৬৯৬২)। অতএব ঈসা (আঃ)-এর দাফন কোন স্থানে হবে, সে বিষয়টি সম্পর্কে আল্লাহ সর্বাধিক অবগত।
প্রশ্ন (২৪/৬৪) : মযী লেগে গেলে তা পুরোপুরি ধৌত করতে হবে কি? কি পরিমাণে লেগে থাকলে ঐ কাপড়ে ছালাত শুদ্ধ হবে?
-তাহাজুল ইসলাম, দিনাজপুর।
উত্তর : কাপড়ের যে অংশে মযী লেগে গেছে কেবল সে অংশ ধৌত করলেই বা পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট হবে (তোহফাতুল আহওয়াযী ১/৩৩৭)। সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) বলেন, ‘মযীর কারণে আমি খুব কষ্ট ও সমস্যায় পড়তাম। তাই আমি বারবার গোসল করতাম। বিষয়টি সম্পর্কে আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এক্ষেত্রে তোমার জন্য ওযূ করাই যথেষ্ট। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাপড়ে যে মযী লাগে, তার কি করব? তিনি বললেন, তোমার জন্য এক অঞ্জলি পানি নেওয়া এবং তোমার কাপড়ের যে স্থানে মযী লেগেছে বলে তুমি মনে করো, সেখানে সেই পানি ছিটিয়ে দেওয়া যথেষ্ট’ (তিরমিযী হা/১১৫; আহমাদ হা/১৬০১৬, সনদ হাসান)।
প্রশ্ন (২৫/৬৫) : শুক্রবারে ফজরের ফরয ও সুন্নাত উভয় ছালাতে কি হাদীছে বর্ণিত বিশেষ সূরা তেলাওয়াত করতে হবে?
-আব্দুল মান্নান, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।
উত্তর : শুক্রবার ফজরের ফরয ছালাতে রাসূল (ছাঃ) মাঝে মধ্যে সূরা আস-সাজদাহ ও দাহর তেলাওয়াত করতেন (মুসলিম হা/৮৮০; মিশকাত হা/৮৩৮)। আবার কখনো তিনি প্রথম রাক‘আতে সূরা জুমু‘আ এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরা মুনাফিকুন পড়েছেন (মুসলিম হা/৮৭৭; মিশকাত হা/৮৩৯)। তবে ফজরের সুন্নাতে রাসূল (ছাঃ) ছোট সূরা পাঠের নির্দেশনা দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ফজরের দুই রাক‘আতে সূরা কাফিরূন ও সূরা ইখলাছ পাঠ করেছেন (মুসলিম হা/৭২৬; মিশকাত হা/৮৪২)। ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বিশবার লক্ষ্য করেছি তিনি মাগরিবের পরের দুই রাক‘আত এবং ফজরের পূর্বের দুই রাক‘আতে সূরা কাফিরূন ও সূরা ইখলাছ পাঠ করতেন (নাসাঈ হা/৯৯২; ছহীহাহ হা/৩৩২৮)। এর হিকমত সম্পর্কে ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, ‘এই দুই সূরা পাঠ করার হিকমত হ’ল এ দু’টিতে তাওহীদের তিনটি প্রকারই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সূরা ইখলাছ-এ তাওহীদুর রুবূবিইয়াহ এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর তাওহীদ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে প্রমাণ রয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা একক ইলাহ। একই সঙ্গে তাঁর সন্তান, পিতা এবং কোন সমকক্ষ বা সাদৃশ্য থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। আর তিনি ছামাদ যাঁর মধ্যে পরিপূর্ণতার সকল গুণ একত্রিত হয়েছে। আর সূরা কাফিরূনে তাওহীদুল ইবাদাহ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ বান্দা একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করবে এবং তাঁর ইবাদতে কাউকে শরীক করবে না। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ফজরের সুন্নাতের মাধ্যমে দিনের সূচনা করতেন এই দুই সূরা দিয়ে এবং মাগরিবের সুন্নাতের মাধ্যমে দিন শেষ করতেন এই দুই সূরা দিয়ে। আরো বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বিতর ছালাতেও এই দুই সূরা পাঠ করতেন। ফলে এগুলো যেমন দিনের আমলের সূচনা, তেমনি রাতের আমলেরও সমাপ্তি হিসাবে থাকত’ (বাদাইউল ফাওয়াইদ ১/১৪৫-১৪৬)।
প্রশ্ন (২৬/৬৬) : নারী-পুরুষ একাকী ফরয ছালাত আদায়ের সময় ইক্বামত দেওয়া যরূরী কি?
-কামারুয্যামান, রাজশাহী।
উত্তর : নারী-পুরুষ একাকী ফরয ছালাত আদায়কালেও ইক্বামত দেওয়া সুন্নাত। শায়খ ওছায়মীন (রহঃ) বলেন, একক ব্যক্তির জন্য আযান ও ইক্বামত সুন্নাত। এগুলো ওয়াজিব নয় (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/১৬১)। তবে নারীদের আযান ও ইক্বামত শরী‘আতসিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশুদ্ধমতে নারীরাও নারীদের পরিবেশে আযান ও ইক্বামত দিতে পারে। তবে না দিলেও ছালাতের কোন ক্ষতি হবে না বা সুন্নাতের খেলাফ হবে না (ইবনু আবী শায়বাহ হা/২৩২২; আলবানী, যঈফাহ হা/৮৮০-এর আলোচনা)।
প্রশ্ন (২৭/৬৭) : যোহরের চার রাক‘আত সুন্নাত ছালাত মাঝে কোন তাশাহহুদ ছাড়া একত্রে এক সালামে পড়া যাবে কি?
-তাওহীদুল ইসলাম, রাজশাহী।
উত্তর : চার রাক‘আত সুন্নাত ছালাত দুই বৈঠকে এক সালামে আদায় করা যায় (ছহীহাহ হা/২৩৭-এর ফিক্বহুল হাদীছ)। যদিও দিন ও রাতের সকল নফল বা সুন্নাত ছালাত দুই দুই রাক‘আত করে আদায় করা মুস্তাহাব (আবুদাউদ হা/১২৯৫; ইবনু মাজাহ হা/১৩২২)।
প্রশ্ন (২৮/৬৮) : লোকমান হাকীম ‘চারশত বা হাযার নবীর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন’ মর্মে কোন ছহীহ হাদীছ আছে কি?
-হুসাইন সাগর, দারুসা, রাজশাহী।
উত্তর : কিছু ঐতিহাসিক ও তাফসীর গ্রন্থে লোকমানের চারশত বা চার হাযার নবীর খেদমত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বক্তব্যটি হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। ইসমাঈল হাক্কী বলেন, ‘কিছু গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, লোকমান বলেছেন, আমি চার হাযার নবীর খেদমত করেছি এবং তাঁদের কথাবার্তা থেকে আটটি কথা নির্বাচন করেছি (তাফসীর রূহুল বায়ান ৭/৫৫, ৪/২১০)। তবে এইসব বর্ণনার কোন ভিত্তি নেই।
প্রশ্ন (২৯/৬৯) : তীব্র গরমের সময় ছেলেরা বাড়ীর মধ্যে অথবা বাড়ীর বাইরে লুঙ্গি পরিধান করে খালি গায়ে থাকতে পারবে কি? মেয়েরা কি বাসার মধ্যে মাহরামদের সামনে ওড়না ছাড়া থাকতে পারবে?
-শাহরিয়ার ইসলাম সবুজ, দিনাজপুর।
উত্তর :প্রথমত পুরুষের সতর হচ্ছে নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত (ছহীহুল জামে’ হা/৫৫৮৩; ইরওয়াউল গালীল হা/২৭১)। এক্ষণে যদি লুঙ্গি এমনভাবে পরা হয় যাতে নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্তযথাযথভাবে ঢাকা থাকে এবং কাপড় পাতলা না হয়, তাহ’লে তাতে দোষ নেই (নববী, আল-মাজমূ‘ ৩/১৭৩)। দ্বিতীয়ত মহিলারা মাহরাম পুরুষদের সামনেও দেহের আকর্ষণীয় অঙ্গগুলো ঢেকে রাখবে। তবে মাথা বা হাত মাহরামদের সামনে খোলা রাখতে পারবে (ওছায়মীন, আল-লিক্বাউশ শাহরী ১১/১৪)।
প্রশ্ন (৩০/৭০) : চিকিৎসাজনিত বা হরমোনগত কারণে চুল উঠে গেলে টাক মাথায় হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা কি জায়েয? এতে কি আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন করা হবে?
-ফিরোয আসীফ, ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।
উত্তর : চিকিৎসার প্রয়োজনে বা চুল পড়ে যাওয়ার ত্রুটি দূর করার জন্য হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা জায়েয। এটিকে আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন হিসাবে গণ্য হবে না। কারণ এর উদ্দেশ্য নতুন সৌন্দর্য সৃষ্টি করা নয়; বরং পড়ে যাওয়া চুল পুনরুদ্ধার করা এবং ত্রুটি দূর করা। শায়খ ওছায়মীনকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, ‘হ্যঁা, তা জায়েয। কারণ এটি আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন তা পুনরুদ্ধার করার এবং ত্রুটি দূর করার অন্তর্ভুক্ত। এটি সৌন্দর্যবর্ধন বা আল্লাহর সৃষ্টির ওপর কিছু সংযোজনের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এটি হারিয়ে যাওয়া বিষয় পুনরুদ্ধার ও ত্রুটি দূর করার অন্তর্ভুক্ত’ (ফাতাওয়া বালাদিল হারাম পৃ. ১১৮৫)।
প্রশ্ন (৩১/৭১) : কট্টর বিদ‘আতী বা কুফরী আক্বীদার কোন আলেম কিংবা ব্যক্তিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে অথবা সমাজ ও দেশে কুরআন-হাদীছের সঠিক কথা ও মাসআলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পবিত্র কুরআন হাতে বা মাথায় রেখে আল্লাহর নামে কসম করা কিংবা মুবাহালা করা কি জায়েয?
-ডা. পারভেয, কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম।
উত্তর : প্রথমত আল্লাহর নামে বা তাঁর গুণবাচক নামে কসম করা যায়। আর কুরআন তাঁর অন্যতম গুণ। সেজন্য কুরআনের কসম করা যায় (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ১০/২০৭; ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম পৃ. ১৫৭)। কিন্তু কুরআন মাথায় রাখা, হাতে রাখা বা তার উপর হাত রেখে কসম করা কসমের শর্ত বা সুন্নাত নয়। দ্বিতীয়ত মুবাহালা একটি শরী‘আতসম্মত বিষয়। কিন্তু এর জন্য কুরআন মাথায় রাখা বা হাতে নেওয়া শর্ত নয় এবং নবী করীম (ছাঃ) থেকে এমন পদ্ধতি প্রমাণিত নয় (ইবনুল ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ ৩/৬৪৩; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৪/২০৩-২০৪)। ‘মুবাহালা’ কেবল এমন গুরুত্বপূর্ণ শারঈ বিষয়ে করা যাবে, যে বিষয়ে সংশয় ও হঠকারিতা সৃষ্টি হয় এবং মুবাহালা ছাড়া তা দূর করার কোন কার্যকর উপায় থাকে না। সুতরাং মুবাহালা করার আগে দলীল-প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সংশয়-সন্দেহ দূর করার চেষ্টা করতে হবে, নছীহত ও সতর্কীকরণ করতে হবে। তাতেও কোন ফল না হ’লে মুবাহালা করা যেতে পারে (আহমাদ ইবনু ইব্রাহীম, শরহ কাছীদাতি ইবনিল ক্বাইয়িম ১/৩৭)।
প্রশ্ন (৩২/৭২) : অনেক মসজিদে প্রথম জামা‘আতের গুরুত্ব বজায় রাখার জন্য প্রথম জামা‘আত ছুটে গেলে দ্বিতীয় জামা‘আত করতে দেওয়া হয় না; বরং একাকী ছালাত আদায় করতে বলা হয়। উক্ত পদ্ধতি কি সঠিক?
-আব্দুর রহমান, জেদ্দা, সঊদী আরব।
উত্তর : প্রথম জামা‘আত ছুটে গেলে শুধু জামা‘আতে ছালাতের গুরুত্ব বজায় রাখার জন্য দ্বিতীয় জামা‘আত নিষিদ্ধ করে মাসবূককে একাকী ছালাত পড়তে বাধ্য করা সঠিক নয়। কারণ প্রয়োজনে বিচ্ছিন্নভাবে মাসবূক জামা‘আত করতে পারে। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এক ব্যক্তিকে একাকী ছালাত আদায় করতে দেখলেন। তখন তিনি বললেন, কে এই ব্যক্তির প্রতি ছাদাক্বা করবে এবং তার সঙ্গে ছালাত আদায় করবে? অতঃপর একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে ছালাত আদায় করলেন’ (আবূদাঊদ হা/৫৭৪; মিশকাত হা/১১৪৬, সনদ ছহীহ)। শায়খ বিন বায বলেন, দ্বিতীয় জামা‘আত শরী‘আতসম্মত। বরং প্রথম জামা‘আত ছুটে গেলে সাধারণ দলীলসমূহের কারণে তা ওয়াজিবও হ’তে পারে। অতএব কোন ব্যক্তি মসজিদে এসে দেখল যে, লোকেরা ছালাত আদায় করে ফেলেছে এবং তার জন্য আরেকটি জামা‘আত পাওয়া সম্ভব, তাহ’লে তার জন্য জামা‘আতের সঙ্গে ছালাত আদায় করাই শরী‘আতসম্মত। আর সে একাকী ছালাত আদায় করবে না (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/১৬৬, ১৬৯)।
প্রশ্ন (৩৩/৭৩) : সফরে বের হওয়ার আগে বাসায় পরবর্তী ওয়াক্তের ছালাত জমা‘ ও ক্বছর আদায় করা যাবে কি?
-আব্দুল করীম, ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।
উত্তর : বাসা থেকে বের হওয়ার আগে ক্বছর করা যাবে না। কারণ ক্বছর করার বিধান সফর শুরু হওয়ার পর প্রযোজ্য; নিজ শহর বা গ্রামের বসতি অতিক্রম করার আগে ব্যক্তি মুসাফিরের হুকুমে প্রবেশ করে না (ওছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ৪/৫১৪; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/২৯০)। তবে ঘর থেকেই দু’ওয়াক্তের ফরয ছালাত পৃথক দুই ইক্বামতের মাধ্যমে জমা করে সফরে বের হওয়া ভাল। তাবূকের অভিযানে রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবীগণ এরূপ করেছিলেন (তিরমিযী হা/৫৫৩; মিশকাত হা/১৩৪৪; দ্র. ‘ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ‘সফরের ছালাত’ অনুচ্ছেদ)।
প্রশ্ন (৩৪/৭৪) : আমি ইউরোপের একটি হোটেলে চাকুরী করি। সেখানে হালাল ও হারাম উভয় ধরনের খাবার পরিবেশন করতে হয়। এ ধরনের চাকুরী করা কি জায়েয হবে?
-মুহাম্মাদ পাভেল, কিশোরগঞ্জ।
উত্তর : যদি চাকুরীর দায়িত্বের মধ্যে মদ বা শূকরের গোশত বিক্রি, পরিবেশন, বহন কিংবা সংশ্লিষ্ট পাত্র-বাসন ধোয়ার কাজ থাকে, তাহ’লে ঐ চাকুরী করা জায়েয নয়। কারণ এতে পাপের কাজে সহযোগিতা করা হয় (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৫/১১০)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ ৫/২)। তবে হোটেলে হারাম খাবার থাকলেও যদি ব্যক্তির দায়িত্ব কেবল বৈধ কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং হারাম কাজে কোন সহযোগিতা করতে না হয়, তাহ’লে শুধু এ কারণে চাকুরী হারাম হবে না। সর্বোপরি হালাল সন্ধানে নিয়োজিত থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উপায় বের করে দেন’। ‘আর তিনি তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে রিযিক প্রদান করে থাকেন’ (তালাক ৬৫/২-৩)।
প্রশ্ন (৩৫/৭৫) : ১০ই অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়। এ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সেমিনার, আলোচনা সভা, র্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। ইসলামের দৃষ্টিতে এ দিবস পালন করা যাবে কি?
-ড. তরুণ হাসান, রাজশাহী বিশবিদ্যালয়।
উত্তর : বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর নির্দিষ্ট দিনে সেমিনার, আলোচনা সভা, র্যালি ও অন্যান্য কর্মসূচি আয়োজন করে বার্ষিক দিবস হিসাবে পালন করা হ’লে তা পরিহার করা উচিত। কারণ শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত ঈদ ও বিশেষ দিবসের বাইরে কোন দিনকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট করে বিশেষ উৎসবের দিন বানানোর অনুমোদন ইসলামে নেই (ইবনু তায়মিয়াহ, ইক্বতিযাউছ ছিরাত্বিল মুস্তাক্বীম ২/১৪০; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৩/৮৯)। তবে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা, চিকিৎসা ও জনকল্যাণমূলক আলোচনা বৈধ। তাই কোন নির্দিষ্ট দিবসকে বিশেষ মর্যাদা না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সারা বছর এ ধরনের সেমিনার, আলোচনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম করা যেতে পারে (ওছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৬/১১৯, ৯/৩৭৬)।
প্রশ্ন (৩৬/৭৬) : বিদেশে খাদ্য সরবরাহকারী হিসাবে শূকরের গোশত অথবা বিসমিল্লাহ ছাড়া যবেহ করা হালাল প্রাণীর গোশত গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো যাবে কি?
-আব্দুল্লাহ রাইসান, আমেরিকা।
উত্তর : শূকরের গোশত এবং বিসমিল্লাহ ব্যতীত যবেহ করা গোশত গ্রাহকদের নিকট সরবরাহ করা এবং এ কাজকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করা জায়েয নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণী, (প্রবাহিত) রক্ত, শূকরের গোশত এবং যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে...’ (মায়েদাহ ৫/৩; আন‘আম ৬/১৪৫)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে সহযোগিতা করলে সে গোনাহগার হবে। কারণ সে পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করেছে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মদ প্রস্ত্ততকারী, প্রস্ত্তত করাতে সহযোগিতাকারী, বহনকারী, যার কাছে তা বহন করে নেওয়া হয়, বিক্রেতা, ক্রেতা, পরিবেশনকারী, পানকারী এবং এর মূল্য ভোগকারীর প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৭৭৬)। এদের অধিকাংশই সরাসরি মদ পান না করলেও তা পান করার কাজে সহযোগিতা করে। একইভাবে, যে অস্ত্র দিয়ে অন্যায়ভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কিংবা ফিৎনার যুদ্ধে লড়াই করা হবে, সে উদ্দেশ্যে অস্ত্র বিক্রি করাও নিষিদ্ধ (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া, ২২/১৪১)।দ্বিতীয়তমুসলিম ও আহ’লে কিতাব অর্থাৎ ইহূদী ও খৃষ্টানদের আল্লাহর নামে যবেহ করা হালাল প্রাণীর গোশত খাওয়া এবং তা গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করার চাকুরী করা জায়েয। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আজ তোমাদের জন্য পবিত্র বস্ত্তগুলো হালাল করা হ’ল। আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে, তাদের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য হালাল’ (মায়েদাহ ৫/৫)। তবে গোশটি হারাম হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ জানা থাকলে তা খাওয়া বা সরবরাহ করা জায়েয হবে না।তৃতীয়ত কোন হালাল প্রাণীর গোশত যবহের সময় বিসমিল্লাহ বলা হয়েছিল কি-না, তা জানা না থাকলে, যদি তা এমন উৎস থেকে আসে, যার যবেহ করা গোশত মূলত বৈধ বলে গণ্য হয়, তাহ’লে তা বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া যাবে। একদল লোক রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিছু লোক আমাদের কাছে গোশত নিয়ে আসে। তারা যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম নিয়েছিল কি-না, তা আমরা জানি না। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘তোমরা বিসমিল্লাহ বলে তা খাও’ (বুখারী হা/২০৫৭; আবুদাঊদ হা/২৮২৯)।
প্রশ্ন (৩৭/৭৭) : আমার হজ্জের জন্য জমানো টাকার যাকাত প্রদান করতে হবে কি?
-কাযী ছানাউল্লাহ, ঢাকা।
উত্তর : যাকাত ফরয হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে নিছাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া এবং সেই অর্থ এক বছর মালিকানায় থাকা। এই দু’টি শর্ত পাওয়া গেলে যেকোন উদ্দেশ্যে জমানো টাকার যাকাত দিতে হবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৯/৩৮১)। শায়খ বিন বায বলেন, ‘বিবাহ, বাসস্থান নির্মাণ কিংবা অন্য কোন প্রয়োজনের জন্য সঞ্চিত অর্থ নিছাব পরিমাণ হ’লে এবং তার উপর এক বছর অতিবাহিত হ’লে তাতে যাকাত ফরয হবে। সে অর্থ স্বর্ণ, রৌপ্য কিংবা কাগুজে মুদ্রা যে ধরনেরই হোক না কেন। কারণ সাধারণ দলীলসমূহ প্রমাণ করে যে, কোন সম্পদ নিছাব পরিমাণে পৌঁছার পর তার উপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হ’লে তাতে যাকাত ফরয হয়। এ বিধান থেকে কোন বিশেষ প্রয়োজনের জন্য সঞ্চিত অর্থকে বাদ দেওয়া হয়নি (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৪/১২৬)।
প্রশ্ন (৩৮/৭৮) : কুকুরের গায়ে কাপড় লাগলে কাপড় অপবিত্র হয়ে যাবে কি? ঐ কাপড় পরিধান করে ছালাত পড়া যাবে কি?
-মাহমূদ আলী, নোয়াখালী।
উত্তর : কুকুরের দেহ বা লোম কাপড়ে লাগলেই কাপড় নাপাক হয়ে যাবে না। বরং বিদ্বানগণ বলেন, কুকুরের লোম ভিজা থাকলে এবং তা কাপড়ের সঙ্গে লাগার কারণে নাপাকী স্থানান্তরিত হ’লে কাপড় নাপাক হবে। সেক্ষেত্রে ঐ স্থান ধুয়ে নিতে হবে। আর কুকুরের লোম শুকনো হ’লে এবং তা শুকনো কাপড়ে লাগলে কাপড় নাপাক হবে না। তাই এ অবস্থায় ঐ পোষাক পরে ছালাত আদায় করা যাবে (ইবনু তায়মিয়াহ, আল ফাতাওয়াল কুবরা ৫/২৬৪; মাজমূউল ফাতাওয়া ২১/৬১৭; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়া ২০/৩৫)।
প্রশ্ন (৩৯/৭৯) : আমাদের এলাকার ওয়াকফকৃত কবরস্থান ফান্ডে কয়েক লক্ষ টাকা জমা আছে। অন্যদিকে মসজিদের ফান্ডে বর্তমানে কোন টাকা নেই এবং যরূরী ভিত্তিতে কিছু অর্থের প্রয়োজন। এমতাবস্থায় কবরস্থানের টাকা মসজিদের কাজে লাগানো যাবে কি?
-আব্দুল আহাদ, হোমনা, কুমিল্লা।
উত্তর : সাধারণত দানের অর্থ সে খাতেই ব্যবহার বা খরচ করতে হয়, যেই খাতের জন্য দাতা দান করেছেন। তবে কবরস্থানের খাতে অতিরিক্ত টাকা থাকলে সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় মসজিদে ব্যয় করা যায়। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ওয়াক্বফকারীর নির্ধারিত শর্তকে পরিবর্তন করে তার চেয়ে অধিক কল্যাণকর শর্তে নেওয়া জায়েয; যদিও সময়ের পরিবর্তনে সেই কল্যাণের ধরনও পরিবর্তিত হয়ে থাকে’ (আল-ফাতাওয়াল কুবরা ৫/৪২৯)। শায়েখ ওছায়মীন বলেন, ‘ওয়াক্বফকারীর নির্ধারিত শর্তকে পরিবর্তন করে তার চেয়ে উত্তম ও অধিক কল্যাণকর খাতে নেওয়া জায়েয। তবে শর্ত হ’ল, ওয়াক্বফটি কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য না হওয়া। যদি ওয়াক্বফটি কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য করা হয়, তাহ’লে সেটিকে অধিক কল্যাণকর অন্য কোন খাতে ব্যয় করা জায়েয হবে না। কারণ এখানে প্রাপক নির্দিষ্ট। ফলে ঐ নির্দিষ্ট ব্যক্তির অধিকার ওয়াক্বফের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। তাই ওয়াক্বফের খাত পরিবর্তন বা স্থানান্তর করা সম্ভব নয় (আশ-শারহুল মুমতে‘ ১১/৩৪, ৯/৫৬০-৫৬১; ফাতওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৬/৭৬-৭৭)।
প্রশ্ন (৪০/৮০) : আমি আল্লাহর নিকট একটি বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প করেছিলাম; কিন্তু তা ওয়াদা হিসাবে বলিনি। পরে সে সংকল্প পূরণ করতে পারিনি। এতে কি আমি গোনাহগার হব এবং আল্লাহ কি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন?
-সিদরাতুল মুনতাহা, কক্সবাজার।
উত্তর : শুধু অন্তরে কোন নেক আমল করার দৃঢ় সংকল্প করলে এবং কোন কারণে তা করতে না পারলে নযর, মানত বা বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার হিসাবে গণ্য হবে না। তাই তা পূরণ করতে না পারলে মানত ভঙ্গের গোনাহ বা কাফফারা আবশ্যক হবে না (বিন বায, ফাতাওয়াদ দুরূস)। তবে মানতের নিয়ত থাকলে তা পালন করতেই হবে। পালন না করলে কাফফারা দিতে হবে। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘কেউ যদি বলে, আমি আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকার করছি যে, এ বছর আমি হজ্জ করব, তাহ’লে এটি একই সঙ্গে নযর, অঙ্গীকার ও কসম হিসাবে গণ্য হবে। আর যদি কেউ বলে, আমি যায়েদ-এর সঙ্গে কথা বলব না, তাহ’লে এটি কসম ও অঙ্গীকার হিসাবে গণ্য হবে; নযর হিসাবে নয়। কেননা কোন কসমের মধ্যে যদি নযরের অর্থ থাকে অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন ইবাদত বা নেক আমল নিজের উপর আবশ্যিক করে নিলে সেই অঙ্গীকার পূরণ করা তার জন্য অবশ্যিক হবে’ (আল-মুস্তাদরাক আলা মাজমূ‘উল ফাতাওয়া ৫/১৪৪)।