অধিকাংশ সরকারী কর্মকর্তা চোর, ভারত আমাদের করদ রাজ্য বানাতে চায়
-স্পিকার হাফিজ উদ্দীন
গত ১৩ই সেপ্টেম্বর ভোলার তজুমদ্দিন উপযেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দীন আহমদ বলেন, আমাদের এ দেশ... অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারী কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরী, লুটপাট এসব করে। ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। বিগত সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা জনগণের টাকা লুট করে বিদেশে শত শত বাড়ী করেছেন। সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী; লন্ডনেই তাঁর ৩৬০টা বাড়ী পাওয়া গেছে। দুবাইয়ে বাড়ী আছে, আমেরিকায় বাড়ী আছে। সব বাংলাদেশের সম্পদ, আপনার-আমার টাকা, জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে তারা এভাবে নিয়ে গেছে।
ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে স্পিকার বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি চায় না বাংলাদেশ ভালো থাকুক। বরং তারা আমাদেরকে একটি করদ রাজ্য বানানোর চেষ্টা করছে। বিগত ১৬-১৭ বছরে পূর্ববর্তী সরকার দেশের স্বার্থ না দেখে বিনা শুল্কে ট্রানজিট সুবিধা, চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় জাহাযকে অগ্রাধিকার প্রদান ইত্যাদি অসম চুক্তির মাধ্যমে প্রতিবেশীর স্বার্থই রক্ষা করেছে। এখানে তারা বিনা শুল্কে কিংবা নামমাত্র শুল্কে তাদের পণ্য পরিবহন করছে। এর ফলে আমাদের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ সারা বিশ্বব্যাপী শুল্ক দিয়ে মালামাল নিতে হয়। আমাদের সীমান্তে প্রতিদিন তো লোক হত্যা করছে তারা। পাকিস্তানের সঙ্গেও তাদের বর্ডার আছে। ওখানে তো কাউকে কোন দিন গুলি চালানো হয় না’।
এছাড়াও গত ১৫ই সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরে সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, আমাদের রাজনীতিবিদদের কাজ হ’ল বক্তৃতা দেওয়া। আর সরকারী চাকুরীজীবীদের কাজ হ’ল কিছু চুরি করা, কিছু কাজ করা’।
[জনগণের নির্বাচিত মন্ত্রীদের যদি কাজ হয় কেবল বক্তৃতা দেওয়া ও সরকারী কর্মতাদের সমালোচনা করা, তাহ’লে এদের সামলাবে কে? মন্ত্রীরা যদি অপারগ হন, তাহ’লে তাদের উচিত পদত্যাগ করা। জনগণের পয়সায় মন্ত্রীত্ব করে জনস্বার্থে কাজ করতে না পারা তাদের জন্য লজ্জার বিষয় নয় কি? (স.স.)]
দেশে বছরে গড়ে ১৫ হাযার আত্মহত্যা হচ্ছে, শীর্ষে যশোর
বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে দেশে ৭৬ হাযার ৩৬১ জন আত্মহত্যা করেছে। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে অন্তত ১৫ হাযারের বেশী মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন যা দৈনিক প্রায় ৪০ জন। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমিত হিসাবের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশী। গত ২৩শে আগস্ট আইসিডিডিআরবি, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘লাইভ লাইফ : সুইসাইড প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৩ ও ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ১৬ হাযার ৮৮৬টি আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়। যেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশী যশোরে। এর পরেই রয়েছে ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর ও বগুড়া। পারিবারিক কলহ, বিষণ্ণতা, সামাজিক ও মানসিক চাপ এবং পরীক্ষার ফলের কারণে মূলত তরুণ ও উঠতি বয়সীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশী দেখা যাচ্ছে।
[আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা আত্মঘাতি হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়াশীল’ (নিসা ৪/২৯)। তিনি বলেন, ‘আর তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না’ (বাক্বারাহ ২/১৯৫)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, এরা জাহান্নামী’ বুখারী হা/৩০৬২, ৪২০৩-০৪ বিস্তারিত দ্র. ‘জিহাদ ও ক্বিতাল’ বই (স.স.)]
দেশে প্রথমবারের মত কনুইসহ সম্পূর্ণ বাহু সফলভাবে প্রতিস্থাপন
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পূর্ণ বাহুর হাড় বা ‘টোটাল হিউমেরাস’ (কনুইয়ের জয়েন্টসহ) প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। গত ৯ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর আলোক হেলথ কেয়ার অ্যান্ড হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের নেতৃত্বে এবং অধ্যাপক ডা. শাহ্ মুহাম্মাদ আমান উল্লাহর তত্ত্বাবধানে চার ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জিত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্যান্সারে আক্রান্ত অঙ্গ কেটে ফেলার পরিবর্তে অঙ্গটি সংরক্ষণ করে চিকিৎসা করার পদ্ধতিকে ‘লিম্ব স্যালভেজ’ বা অঙ্গ বাঁচানোর চিকিৎসা বলা হয়। এ ধরনের অস্ত্রোপচারে ক্যান্সার আক্রান্ত অংশ সম্পূর্ণ অপসারণের পাশাপাশি আশপাশের সুস্থ টিস্যু ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যথাসম্ভব সংরক্ষণ করা হয়। চিকিৎসকদের মতে এ পদ্ধতিতে আক্রান্ত অঙ্গ না কেটেই ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্ভব, যা দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘লিম্ব স্যালভেজ’-এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এর আগে ২০১৯ সালে একই চিকিৎসক দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘টোটাল ফিমার’ প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। বিদেশে এ ধরনের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হ’লেও দেশে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে ‘মেড টু অর্ডার’ ইমপ্লান্টের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ইমপ্লান্টের ওপর কর প্রত্যাহার করা হ’লে দেশের অসচ্ছল রোগীরাও এ আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ আরও সহজে পাবে বলে চিকিৎসকরা আশা প্রকাশ করেছেন।
অনলাইন জুয়ার ঝুঁকিতে ২ কোটি মানুষ
বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার বিস্তার বর্তমানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখের বেশী মানুষ অনলাইন জুয়ায় যুক্ত এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতি বছর ৪.৭ থেকে ৬.১ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাওয়া এই জুয়ার বাজারটিতে মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বছরে হাযার কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তথ্যমতে, গত অর্থবছরে জুয়া সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলোতে প্রায় ৩ হাযার ৪০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হ’ল এতে চাকরিজীবী, গৃহিণী, কৃষক ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশী জড়িয়ে পড়ছেন। জুয়াড়িরা এমএফএসে আসা অর্থ স্থানীয় এজেন্টদের সাহায্যে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করছে। সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পুলিশের অভিযানে চীন ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের বহু নাগরিক বিপুল পরিমাণ ল্যাপটপ, মোবাইল ও অত্যাধুনিক সিম মডিউলসহ গ্রেফতার হয়েছে। বিদেশী এই চক্রগুলো দেশীয় এজেন্টদের যোগসাজশে প্রযুক্তির সাহায্যে জুয়া, সাইবার অপরাধ ও অর্থ পাচারের বিশাল সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। ভয়াবহ এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় রুখতে প্রযুক্তিগত নযরদারী বৃদ্ধি ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
বিদেশ
আফগানিস্তানে নিষিদ্ধ করা হ’ল বিক্ষোভ
আফগানিস্তানে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে নতুন আইন পাস করেছে দেশটির সরকার। এ বিষয়ে তালেবান সরকারের মুখপাত্র যাবীহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, বিক্ষোভ হ’ল গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্রের জন্য প্রযোজ্য; ইসলামী আইনে এর কোন স্থান নেই। গত ২রা সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যবস্থায় মানুষ রাস্তায় বিক্ষোভ করার বদলে সরাসরি শাসকের কাছে গিয়ে তাদের দাবী-দাওয়া পেশ করতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের সময় নষ্ট হবে না এবং ব্যক্তিগত সম্পদ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে। ২০২১ সালে তালেবানরা পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশটিতে বিক্ষোভের ঘটনা উলেলখযোগ্যভাবে কমে যায়। উল্লেখ্য, গত জুনে একটি বিক্ষোভে দু’জন নিহত হওয়ার পর দেশটিতে আর বড় ধরনের কোন বিক্ষোভ দেখা যায়নি।
২৫ বছরে মার্কিন যুদ্ধে নিহত ৪৫ লাখ, বাস্ত্তচ্যুত ৩ কোটি ৮০ লাখ
২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে প্রকাশিত ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রজেক্ট ও আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে আমেরিকার ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে’র ভয়াবহ মানবিক ও আর্থিক ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আড়াই দশকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একাধিক যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিশ্ব জুড়ে ৪৫ লাখেরও বেশী মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষ সামরিক হামলায় প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাযার এবং যুদ্ধজনিত মহামারি ও খাদ্যাভাবের কারণে পরোক্ষভাবে আরও ৩৬ থেকে ৩৮ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লিবিয়া ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখের বেশী মানুষ বাস্ত্তচ্যুত হ’তে বাধ্য হয়েছেন। এর মধ্যে আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধে অন্তত ১ লাখ ৭৬ হাযার এবং ইরাকে ৩ লাখ ১৫ হাযারের বেশী মানুষ প্রাণ হারান। বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি ফেরানোর প্রতিশ্রুতিতে শুরু হওয়া এই ‘অনন্ত যুদ্ধ’ মানবজাতির ইতিহাসে অন্যতম বড় সংকট ও চরম মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ২৭০ কোটি মানুষ : বছরে মৃত্যু ১৭ লাখ
সম্প্রতি চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিশ্বে শিশুসহ ২৭০ কোটির বেশী মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে। এর ফলে ২০২৩ সালে আনুমানিক ১৬ লাখ ৬০ হাযার মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সার্বিকভাবে তামাকজনিত কারণে উক্ত বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়া এই বিপুল জনসংখ্যার মধ্যে ৭৬ কোটি ৭০ লাখই শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু। এর বিষাক্ত প্রভাবে কেবল ২০২৩ সালেই শিশুদের শ্বাসতন্ত্রে প্রায় ৫২ লাখ সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। গবেষণায় বলা হয়, জ্বলন্ত তামাক থেকে সরাসরি নির্গত ধোঁয়া কোন ছাঁকনি ছাড়াই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ধূমপায়ী যে ধোঁয়া গ্রহণ করে, তার চেয়েও বেশী বিষাক্ত ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান গ্রহণ করে আশপাশের অধূমপায়ীরা। এই প্রক্রিয়ায় নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
[আমরা বলি, উন্মুক্ত স্থান হৌক বা যেখানেই হৌক সর্বত্র ধুমপান নিষিদ্ধ করা আবশ্যক (স.স.)]
মুসলিম জাহান
বিশ্বের অন্যতম স্মার্ট স্থাপনায় পরিণত হচ্ছে মক্কার মাসজিদুল হারাম
সমন্বিত ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে মক্কার পবিত্র মসজিদে হারামকে বিশ্বের অন্যতম স্মার্ট স্থাপনায় পরিণত করার উদ্যোগ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। হজ্জ ও ওমরাহ পালনকারীদের সেবা প্রদান এবং পরিচালনা ব্যবস্থায় গতি আনতে ‘স্মার্ট মোবিলিটি প্লাটফর্ম’-এর মতো আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিন বছর আগে যেখানে যাতায়াত সেবার জন্য প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হ’ত, সর্বশেষ হজ্জ মৌসুমে সেই সময় কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ মিনিটে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়াও এখন ৮ দিনের পরিবর্তে মাত্র ৮ মিনিটে সম্পন্ন হচ্ছে। এছাড়া জাতীয় দাতব্য প্লাটফর্ম ‘ইহসান’-এর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মাসজিদুল হারামে ৩ কোটি ৮০ লাখের বেশী ইফতার বিতরণ করা হয়েছে, যার অর্থমূল্য প্রায় ৫০ কোটি রিয়াল। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানে ‘রাফেদ’ প্লাটফর্মের মাধ্যমে ১৮টি সরকারী সংস্থাকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় যুক্ত করা হয়েছে। সঊদী কর্তৃপক্ষের মতে, এই যুগান্তকারী ডিজিটাল রূপান্তরের মূল লক্ষ্য হ’ল ২০৩০ সালের মধ্যে মাসজিদুল হারামকে বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক ও স্মার্ট স্থাপনায় পরিণত করে হাজী ও ওমরাকারীদের জন্য দ্রুত, নিরাপদ ও সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করা।
বই পড়লে স্মৃতিশক্তি বাড়ার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেরও সুরক্ষা হয়
মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে বই পড়ার অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনের খোরাক জোগাতে এবং মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে বই পড়ার অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত বই পড়লে স্মৃতিশক্তি বাড়ার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। তবে আধুনিক যুগে মানুষের বই পড়ার অভ্যাস আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক পাঁচটি জরিপ এবং আটটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার বা ধূসর পদার্থের পরিমাণ বাড়ায়। এর ফলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হয়। বুদ্ধিবৃত্তিক সঞ্চয় বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে শৈশবে যারা বই পড়া শুরু করে, তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণের অংশগুলো বেশী পরিপক্ক হয়। বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির প্রেক্ষাপটে এ অভ্যাস বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বই পড়লে মানসিক চাপ কমে এবং একা থাকার অনুভূতি দূর হয়। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়মিত বই পড়া ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। কল্পকাহিনীর বই মানুষকে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ঘটনার জন্য মানসিকভাবে প্রস্ত্তত করে তোলে।
নেদারল্যান্ডসের ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের গবেষক ফক হুয়েটিগ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার কারণে মানুষ এখন বইপড়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে তাই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনা একান্ত যরূরী।
বার্ষিক কর্মী সম্মেলন ২০২৬
হকপন্থীদের আন্দোলনই হ’ল আহলেহাদীছ আন্দোলন!
-মুহতারাম আমীরে জামা‘আত
২৭ ও ২৮শে আগস্ট শুক্র ও শনিবার নওদাপাড়া, রাজশাহী : ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর দুই দিন ব্যাপী বার্ষিক কর্মী সম্মেলন ২০২৬-এর উদ্বোধনী ভাষণে সম্মেলনের সভাপতি মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব উপরোক্ত কথা বলেন। সূরা আ‘রাফের ১৮১ আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, প্রত্যেক নবীর উম্মতের মধ্যে হকপন্থী একদল উম্মত চিরদিন ছিলেন, আজও আছেন; যদিও তারা সংখ্যায় কম হন। এই হকপন্থীদের আন্দোলনই হ’ল আহলেহাদীছ আন্দোলন। এটি প্রচলিত অর্থে কোন মাযহাব বা মতবাদের নাম নয়; এটি একটি পথের নাম। এ পথের শেষ ঠিকানা হ’ল জান্নাত। তাই তিনি সকলকে এই হকপন্থী আন্দোলনে শরীক হয়ে জামা‘আতবদ্ধভাবে কাজ করার উদাত্ত আহবান জানান। অতঃপর তিনি সবাইকে দু’দিনব্যাপী কর্মী সম্মেলনে সুশৃংখলভাবে অবস্থানের আহবান জানিয়ে আল্লাহর নামে কর্মী সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
১ম দিন শুক্রবার সকাল ৯-টায় সম্মেলন শুরু হয়। ১ম অধিবেশনের পরিচালক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলামের পরিচালনায় ও কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আলতাফ হোসাইনের সঞ্চালনায় চট্টগ্রাম যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি হাফেয শেখ সাদীর অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সম্মেলন শুরু হয়। অতঃপর আল-হেরা শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান (জয়পুরহাট) জাগরণী পরিবেশন করে। স্বাগত ভাষণ পেশ করেন কর্মী সম্মেলনের আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম।
উদ্বোধনী ভাষণের পর বিষয়ভিত্তিক ধারাবাহিক বক্তব্য শুরু হয়। প্রথমে (১) ‘কর্মীদের পারস্পরিক সদাচরণের গুরুত্ব’ বিষয়ে বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম (মারকায), অতঃপর (২) ‘রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত আত্মগঠন’ বিষয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক এবং ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন শিক্ষা বোর্ড’-এর চেয়ারম্যান ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব (মারকায), (৩) ‘কর্মী গঠনে তা‘লীমী বৈঠকের গুরুত্ব (মহিলা সংস্থার গুরুত্বসহ)’ বিষয়ে কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম (মারকায), (৪) ‘সাংগঠনিক জীবনের অন্তরায় হিংসা ও অহংকার’ বিষয়ে কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক শেখ রফীকুল ইসলাম (সাতক্ষীরা), (৫) ‘নৈতিক অবক্ষয় প্রতিরোধে আমর বিল মা‘রূফ ও নাহি আনিল মুনকার’ বিষয়ে মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল (পাবনা) বক্তব্য পেশ করেন।
বাদ আছর (৬) ‘কাদিয়ানী ফিৎনা প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’ বিষয়ে আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়ার ভাইস-প্রিন্সিপাল ড. নূরুল ইসলাম (মারকায), (৭) ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন-এর প্রচার-প্রসারে পেশাজীবী ফোরামের ভূমিকা’ বিষয়ে আহলেহাদীছ পেশাজীবী ফোরামের সভাপতি ডা. শওকত হাসান বক্তব্য রাখেন।
তারপর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রণীত ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন কি ও কেন?’ বইয়ের আলোকে প্রশ্নোত্তর আকারে সংকলিত প্রচারপত্রের উপর গ্রুপভিত্তিক পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। কর্মীগণ গুরুত্বের সাথে পাঠচক্রে অংশগ্রহণ করেন এবং অনেকেই তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ মুখস্থ করেন।
বাদ মাগরিব যেলা সংগঠন সমূহের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধিতে যেলা সভাপতি ও প্রতিনিধিগণের মধ্য হ’তে পরামর্শমূলক বক্তব্য পেশ করেন (৮) শেরপুর যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ এনামুল হক, (৯) ভোলা যেলা সভাপতি কামরুল হাসান, (১০) বরিশাল-পশ্চিম সাংগঠনিক যেলা সভাপতি মাওলানা ইব্রাহীম কাওছার সালাফী, (১১) নোয়াখালী যেলার কর্মী শহীদুল ইসলাম সজীব, (১২) কুষ্টিয়া-পশ্চিম যেলার কর্মী আব্দুল মুক্বীত প্রমুখ।
অতঃপর (১৩) ‘তরুণ সমাজে দ্বীনের দাওয়াত প্রসারে আমাদের করণীয়’ বিষয়ে ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, (১৪) ‘মাল ও মর্যাদার লোভ সাংগঠনিক উন্নতির অন্তরায়’ বিষয়ে ঢাকা-দক্ষিণ যেলার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদূদ এবং বাদ এশা (১৫) ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন কি চায়, কেন চায়, কিভাবে চায়?’ বিষয়ে জামালপুর-দক্ষিণ যেলার সাধারণ সম্পাদক কামারুয্যামান বিন আব্দুল বারী বক্তব্য রাখেন।
২য় দিন শুক্রবার বাদ ফজর মারকাযের পশ্চিম পার্শ্বস্থ মসজিদে ‘দ্বীনের পথে আত্মত্যাগ’ বিষয়ে দরস পেশ করেন আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়ার প্রিন্সিপাল হাফেয মুহাম্মাদ আখতার। একই সময়ে পূর্ব পার্শ্বস্থ মসজিদে সূরা আছরে বর্ণিত ৪টি গুণ বিষয়ে দরস পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা দুররুল হুদা।
দরস শেষে সামান্য বিরতির পর বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য শুরু হয়। (১) ‘সাংগঠনিক অগ্রগতি অর্জনে আমানতদারিতার গুরুত্ব’ বিষয়ে বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম (মেহেরপুর), (২) ‘সাংগঠনিক মযবূতি বৃদ্ধিতে কর্মীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য’ বিষয়ে কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আলতাফ হোসাইন (সাতক্ষীরা), (৩) ‘আহলেহাদীছের পরিচয়’ বিষয়ে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন (মারকায), (৪) ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন-এর চার দফা কর্মসূচী’ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম (যশোর), (৫) ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন-এর পাঁচটি মূলনীতি’ বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুববিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশীদ আখতার (কুষ্টিয়া) বক্তব্য রাখেন।
নাশতার বিরতির পর (৬) ‘আদর্শ ও চরিত্রবান শিশু-কিশোর গঠনে সোনামণি সংগঠনের ভূমিকা’ বিষয়ে ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক নাজমুন নাঈম (সাতক্ষীরা), (৭) ‘মানবসেবার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা (আল-‘আওনের ভূমিকাসহ) বিষয়ে ‘আল-‘আওন-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ আবুদাঊদ (রাজশাহী), (৮) ‘ফিরক্বায়ে নাজিয়ার বৈশিষ্ট্য সমূহ’ বিষয়ে রাজশাহী-সদর সাংগঠনিক যেলা সভাপতি মাওলানা দুররুল হুদা, (৯) ‘পারস্পরিক দ্বন্দ্ব নিরসনে করণীয়’ বিষয়ে কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক জালালুদ্দীন (১০) ‘সংগঠনের অগ্রগতিতে আর্থিক মযবূতির গুরুত্ব ও পদ্ধতি (ইনফাক্ব ফী সাবীলিল্লাহ)’ বিষয়ে খুলনা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্য পেশ করেন (১১) অতঃপর বিগত ২০২৫-২৬ বছরের বার্ষিক সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। কর্মী সম্মেলন উপলক্ষে ‘কর্মীদের প্রতি আমীরে জামা‘আতের আহবান’ পাঠ করে শুনান কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম। অতঃপর ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর ২০২৬-২৮ সেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নাম ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় যুববিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশীদ আখতার। সবশেষে আমীরে জামা‘আত তাদেরসহ উপস্থিত সকলের আনুগত্যের বায়‘আত গ্রহণ করেন।
কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য ও উপদেষ্টা সম্মেলন : সম্মেলনের ২য় দিন শুক্রবার সকাল ৯-টা থেকে পৌনে ১১-টা পর্যন্ত মারকাযের পূর্ব পার্শ্বস্থ মসজিদের নীচ তলায় মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের সভাপতিত্বে ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য ও উপদেষ্টা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলামের উদ্বোধনী বক্তব্যের পর সভাপতির নির্দেশক্রমে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কেন্দ্রের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের অডিটকৃত হিসাব পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম (কুষ্টিয়া)। সংগঠনের ২০২৫-২৬ বছরের কেন্দ্রীয় বাজেট ও পরিকল্পনা পাঠ করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। অতঃপর সংগঠনের অগ্রগতি সম্পর্কে পরামর্শমূলক বক্তব্য পেশ করেন রাজশাহী-সদর যেলার উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট জারজিস আহমাদ, ড. মুহাম্মাদ মুহসিন (সাতক্ষীরা), জয়পুরহাট যেলার সহ-সভাপতি আব্দুল মুন‘ঈম ও কুমিল্লা যেলা সভাপতি মাওলানা ছফিউল্লাহ প্রমুখ। সবশেষে কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে হেদায়াতী ভাষণ প্রদান করেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত।
সম্মেলনের অন্যান্য রিপোর্ট : দু’দিন ব্যাপী কর্মী সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে কুরআন তেলাওয়াত করেন হাফেয মুহাম্মাদ শেখ সাদী (চট্টগ্রাম), হাফেয লুৎফর রহমান, হাফেয ওবায়দুল্লাহ ও হাফেয যাকারিয়া (মারকায) এবং হাফেয আব্দুল্লাহ আল-ফাহীম (কুষ্টিয়া)। জাগরণী পরিবেশন করেন আল-হেরা শিল্পী গোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় পরিচালক রাক্বীবুল ইসলাম (মেহেরপুর), সদস্য মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান (জয়পুরহাট), কেরামত আলী (পাবনা), যিল্লুর রহমান ও মুবাশশিরুল ইসলাম (রাজশাহী), আসাদুল্লাহ মিলন (নারায়ণগঞ্জ), জিহাদুল ইসলাম (রংপুর), এনামুল হক (নওগাঁ) প্রমুখ।
আল-আওন : সম্মেলনে প্রথমদিন সকাল ৯-টা থেকে পরদিন জুম‘আ পর্যন্ত মারকাযী জামে মসজিদের মূল গেইটের বাইরে উত্তর পার্শ্বে রাজশাহী-সদর সাংগঠনিক যেলা ‘আল-আওন’-এর উদ্যোগে ব্লাড গ্রুপিং ও রক্তদাতা সদস্য সংগ্রহ ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত ক্যাম্পিংয়ে ১৯ জনের ব্লাড গ্রুপিং ও ১১ জন রক্তদাতা সদস্য বা ‘ডোনর’ তালিকাভুক্ত হন।
উল্লেখ্য, এবারের কর্মী সম্মেলনে ৬৬টি সাংগঠনিক যেলার ১৫৬৯ জন বাছাইকৃত কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
১৫ই আগস্ট শনিবার পার্বতীপুর, দিনাজপুর : অদ্য দুপুর ১২-টায় হাদীছ ফাউন্ডেশন শিক্ষা বোর্ড অধিভুক্ত দিনাজপুর যেলার পার্বতীপুর থানাধীন মধ্য আটরাই আল-ফুরক্বান আস-সালাফিইয়াহ মাদ্রাসার উদ্যোগে পরিদর্শন পরবর্তী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অত্র মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহাম্মাদ মুনযূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে কেন্দ্রীয় মেহমান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা মুহাম্মাদ মুস্তাফীযুর রহমান, মুহাম্মাদ মোবারক হোসাইন, মুহাম্মাদ আখতারুয্যামান ও মাদ্রাসা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাহমূদ। উল্লেখ্য যে, সভার পূর্বে কেন্দ্রীয় মেহমান অত্র মাদ্রাসার বালক ও বালিকা শাখা পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য সম্মেলন ২০২৬
২৭শে সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাজশাহী : অদ্য বাদ আছর আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফীর পূর্ব পাশ্বস্থ মসজিদের ২য় তলায় ‘যুবসংঘ’র কাউন্সিল সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘যুবসংঘ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্যদের পৃথক পৃথক মতামতের ভিত্তিতে ‘যুবসংঘ’-এর ২০২৬-২০২৮ সেশনের সভাপতি হিসাবে মনোনীত হন আহমাদুল্লাহ (কুমিল্লা)। পরদিন জুম‘আর পূর্বে ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় কর্মী সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে ‘যুবসংঘ’-এর নিম্নোক্ত নব মনোনীত পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।-
২০২৬-২০২৮ সেশনের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ তালিকা
পদবী | নাম | শিক্ষাগত যোগ্যতা | যেলা |
সভাপতি | আহমাদুল্লাহ | কামিল, এম.এ | কুমিল্লা |
সহ-সভাপতি | আসাদুল্লাহ আল-গালিব | দাওরায়ে হাদীছ, এম.এ | রাজশাহী |
সাধারণ সম্পাদক | ফায়ছাল মাহমূদ | দাওরায়ে হাদীছ, কামিল | সাতক্ষীরা |
সাংগঠনিক সম্পাদক | সাজিদুর রহমান | বি.এ (অধ্যয়নরত) | দিনাজপুর |
অর্থ সম্পাদক | নাজমুন নাঈম | দাওরায়ে হাদীছ, বি.এ (অনার্স) | সাতক্ষীরা |
প্রচার সম্পাদক | হাফেয আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ | এম.এ | বগুড়া |
প্রশিক্ষণ সম্পাদক | অব্দুল্লাহ আল-মুছাদ্দিক | কামিল, এমএস | কুমিল্লা |
ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক | মুহাম্মাদ ফেরদাঊস | এম-এড; কামিল | রাজশাহী |
মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক | কামাল হোসাইন | কামিল | রাজশাহী |
তথ্য ও প্রকাশনা সম্পাদক | আবু তাহের মিছবাহ | দাওরায়ে হাদীছ, কামিল | নওগাঁ |
সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক | ইয়াকূব আলী | কামিল | মেহেরপুর |
সমাজকল্যাণ সম্পাদক | ওবায়দুর রহমান | বি.এ (অনার্স) | যশোর |
দফতর সম্পাদক | হাফেয আশিকুয্যামান | বি.এ (অনার্স) (অধ্যয়নরত) | সাতক্ষীরা |
১. ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ বগুড়া যেলার উপদেষ্টা ও শাহজাহানপুর উপযেলার সাবেক সভাপতি মুহাম্মাদ রামাযান আলী (৯০) গত ১৫ই মে বুধবার সকাল ১০-টায় ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজে‘ঊন। মৃত্যুকালে তিনি ৬ পুত্র ও ৪ কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও সাংগঠনিক সাথী রেখে যান। ঐদিন বিকাল ৫-টায় যেলার শাহজাহানপুর উপযেলাধীন বৃ-কুষ্টিয়া দারুলহাদীছ সালাফিইয়াহ মাদ্রাসা ময়দানে তার জানাযার ছালাত অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাবেক প্রচার সম্পাদক হাফেয নাজীবুল ইসলাম। জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। জানাযায় ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুর রঊফ, যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মশীউর রহমান বেলালসহ যেলা ‘আন্দোলন’, ‘যুবসংঘ’, ‘সোনামণি’র দায়িত্বশীল ও কর্মীবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
২. ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ কুষ্টিয়া-পশ্চিম সাংগঠনিক যেলার সাবেক প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল বাকী (৭২) গত ২৮শে আগস্ট রোজ শুক্রবার রাত ১২-টায় হঠাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তার জামাইয়ের বাড়ী রাজবাড়ী যেলার সদর থানাধীন কুমোরপাড়ায় মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজে‘ঊন। মৃত্যুকালে তিনি ২ পুত্র ও ২ কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও সাংগঠনিক সাথী রেখে যান। পরদিন সকাল ১০-টায় কুষ্টিয়া যেলার দৌলতপুর থানাধীন দৌলতপুর পারিবারিক গোরস্থান সংলগ্ন ময়দানে তার জানাযার ছালাত অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন তার ভাগ্নে ও ‘আন্দোলন’-এর কর্মী মাওলানা শাহজাহান আলী। জানাযা শেষে তাকে উক্ত গোরস্থানে দাফন করা হয়। জানাযায় যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ মুহসিন, সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ মাজীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আশিকুর রহমানসহ যেলা ‘আন্দোলন’, ‘যুবসংঘ’ ও ‘সোনামণি’র দায়িত্বশীল ও কর্মীবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
৩. ‘আন্দোলন’ কুষ্টিয়া-পশ্চিম সাংগঠনিক যেলার সাবেক সভাপতি
মানছূরুর রহমান (৫৯) গত ১২ই সেপ্টেম্বর রোজ শনিবার ভোর ৫-টায় কিডনী জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজে‘ঊন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র ও ১ কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও সাংগঠনিক সাথী রেখে যান। ঐদিন সকাল সাড়ে ১০-টায় কুষ্টিয়া যেলার দৌলতপুর থানাধীন রেযওয়ানুল উলূম আলিম মাদ্রাসা ময়দানে তার ১ম জানাযার ছালাত অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন কুষ্টিয়া-পশ্চিম সাংগঠনিক যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ মাজীদুল ইসলাম। অতঃপর দুপুর আড়াইটায় তার নিজগ্রাম মেহেরপুর যেলার গাংনী থানাধীন হাড়াভাঙ্গা হাজীপাড়া ঈদগাহ ময়দানে তার ২য় জানাযার ছালাত অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে তাকে হাড়াভাঙ্গা সামাজিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। জানাযায় ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম, যুববিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশীদ আখতার, যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ মুহসিন, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আশিকুর রহমান, মেহেরপুর যেলা সভাপতি মুহাম্মাদ তরীকুয্যামান, কুষ্টিয়া-পূর্ব সাংগঠনিক যেলা সভাপতি ডা. মুহাম্মাদ আলী মুর্তাযা চৌধুরীসহ যেলা ‘আন্দোলন’, ‘যুবসংঘ’ ও ‘সোনামণি’র দায়িত্বশীল ও কর্মীবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
[আমরা তাদের রূহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি- সম্পাদক]
প্রশ্ন (১/১) : পিতা জীবিত অবস্থায় তার ছেলেকে একটি জমি হেবা করলেন এবং বললেন, জমিটি তোমাকে দিলাম। তবে আমি জীবিত থাকা পর্যন্ত তুমি এটি বিক্রি করতে পারবে না। আমার মৃত্যুর পর তুমি ইচ্ছা করলে বিক্রি করতে পারবে। এভাবে শর্তসাপেক্ষে হেবা করা শরী‘আত সম্মত কি?
-আব্দুল মালেক, নওদাপাড়া, রাজশাহী।
উত্তর : পিতা-মাতা নিজেদের ভরণ-পোষণের শর্তে সন্তানকে তাদের সম্পত্তি হেবা করতে পারবেন। এটিকে হেবা বিল-‘এওয়ায (هِبَةٌ بِعِوَضٍ) বা বিনিময়যুক্ত হেবা বলা হয়। চার মাযহাবে এর বৈধতা স্বীকৃত (ইবনু নাজীম, আল-বাহরুর রায়েক্ব, ৭/২৯৫; ইবনু আবেদীন, হাশিয়াহ, ৩/৭২০; ইবনু আব্দিল বার্র, আল-কাফী, ২/১০০৬; নববী, রওযাতুত তালেবীন, ৫/৩৮৪; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, ৬/৬৭)।
হেবা মূলত স্বেচ্ছায় সম্পত্তি প্রদান। কিন্তু এর সঙ্গে যদি সুস্পষ্ট ও বৈধ কোন বিনিময় বা প্রতিদানের শর্ত যুক্ত করা হয়, তাহ’লে তা বিনিময়যুক্ত হেবা হিসাবে গণ্য হবে এবং উক্ত শর্তও কার্যকর হবে। ইবনু কুদামাহ (রহঃ) বলেন, ‘হেবার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ও জানা কোন বিনিময়ের শর্ত করা হলে তা ছহীহ হবে’ (আল-মুগনী ৬/৬৭)।
এক্ষেত্রে পিতা-মাতা বলতে পারেন, ‘আমরা অমুক সম্পত্তি তোমাকে হেবা করলাম এই শর্তে যে, তুমি আমাদের জীবদ্দশায় ভরণ-পোষণ, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করবে।’ সন্তান এ শর্তে সম্মত হয়ে হেবা গ্রহণ করলে তার উপর উক্ত দায়িত্ব পালন করা আবশ্যক হবে।
ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি এমন হেবা করে, যার মাধ্যমে সে বিনিময় বা প্রতিদান পাওয়ার আশা করে, সে কাঙ্ক্ষিত প্রতিদান না পেলে হেবা ফিরিয়ে নিতে পারে (বায়হাক্বী হা/১২০২৮; ইরওয়াউল গালীল, হা/১৬১৩; মুওয়াত্ত্বা মালেক, হা/৪২)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘কোন ব্যক্তিকে যদি কোন কারণের ভিত্তিতে হেবা দেওয়া হয়, তাহ’লে সেই হেবার বিধান ওই কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত হবে। কারণটি বিদ্যমান থাকলে হেবাটিও বহাল থাকবে; কারণটি বিলুপ্ত হ’লে হেবাটিও বিলুপ্ত হবে’ (আল-ফাতাওয়াল কুবরা ৫/৪৭২)।
অতএব পিতা-মাতা নিজেদের জীবদ্দশায় ভরণ-পোষণ ও প্রয়োজনীয় সেবাযত্নের শর্তে সন্তানকে সম্পত্তি হেবা করতে পারবেন। সন্তান শর্ত মেনে যথাযথভাবে তাদের ভরণ-পোষণ করলে পরবর্তীতে পিতা-মাতা হেবা প্রত্যাহার করতে পারবেন না। পক্ষান্তরে সন্তান যদি চুক্তিবদ্ধ শর্ত অনুযায়ী তাদের ভরণ-পোষণ ও সেবাযত্ন না করে, তাহ’লে বিষয়টি বিনিময়যুক্ত হেবার বিধান অনুযায়ী বিবেচিত হবে এবং পিতা-মাতার হেবা প্রত্যাহার বা প্রতিকার চাওয়ার অধিকার সৃষ্টি হ’তে পারে (মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়াহ, মাদ্দাহ ক্রমিক ৮৫৫, পৃ. ১৬৪)।
প্রশ্ন (২/২) : ফরয ছালাতে ছানার পরে কোন কোন দো‘আ পড়তে হবে?
-মোফাখখারুল ইসলাম, আদিতমারী, লালমণিরহাট।
উত্তর : হাদীছে বর্ণিত ছানাগুলির যেকোন একটি পাঠ করে নিম্নের দো‘আটি পাঠ করতে পারে,أَعُوذُ بِاللهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، مِنْ هَمْزِهِ، وَنَفْخِهِ، وَنَفْثِهِ، আ‘ঊযু বিল্লাহিস -সামী‘ইল-আলীমি মিনাশ-শায়ত্বানির-রাজীম, মিন হামযিহি, ওয়া নাফখিহি, ওয়া নাফছিহি। অর্থ: ‘আমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তার প্ররোচনা, ফুঁক ও কুমন্ত্রণা থেকে’ (আবুদাউদ হা/৭৭৫; তিরমিযী হা/২৪২; মিশকাত হা/১২১৭)। তবে সংক্ষেপে ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রজীম’ পড়লেও যথেষ্ট হবে (ইরওয়া হা/৩৪২)। অতঃপর বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে।
প্রশ্ন (৩/৩) :কিছু ইসলামী সংগঠনে কর্মীদের নিজেদের আমল-আখলাকের হিসাব সংরক্ষণের জন্য দৈনন্দিন রিপোর্ট বই লিপিবদ্ধ করতে হয় এবং তা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের নিকট জমা দিতে হয়। এক্ষেত্রে নিজের আমল অন্যের কাছে প্রকাশ করার কারণে তা কি রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে?
-তানভীর হাসান আবীর, যশোর।
উত্তর : এটা রিয়া হবে না বরং নেক আমল বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তবে অবশ্যই রিয়ার উদ্দেশ্য থাকা যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, তোমরা কাজ করে যাও। অচিরেই আল্লাহ তোমাদের কাজ দেখবেন এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনগণও (দেখবেন) (তাওবাহ, ৯/১০৫)। এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, মানুষের দৃষ্টিগোচর হ’লেই কোন কাজ রিয়ার প্রমাণ নয়। বরং রিয়ার মূল বিষয় হ’ল, মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে আমল করা। অতএব অন্তরের নিয়ত সর্বদা পরিশুদ্ধ রাখতে হবে। আল্লাহ বলেন, আর প্রত্যেকের উচিৎ ভেবে দেখা যে, সে আগামী দিনের জন্য কি অগ্রিম প্রেরণ করছে? (হাশর ৫৯/১৮)। তিনি আরো বলেন, ‘যাদের মনে আল্লাহর ভয় রয়েছে, তাদের উপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে সাথেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনা শক্তি জাগ্রত হয়ে উঠে’ (আ‘রাফ ৭/২০১)। ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর নিকট হিসাব দেওয়ার আগে নিজেদের হিসাব নিজে নাও’ (তিরমিযী হা/২৪৫৯; ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩৪৪৫৯)। হাসান বছরী (রহঃ) বলেন, ‘মুমিন ব্যক্তিকে স্বীয় আত্মার পরিচালক হিসাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আত্মসমালোচনা করতে হবে। যারা দুনিয়াতে আত্মসমালোচনা করবে, ক্বিয়ামতের দিন অবশ্যই তাদের হিসাব হালকা হবে। আর যারা এ থেকে বিরত থাকবে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের হিসাব কঠিন হবে’ (ইবনুল ক্বাইয়িম, ইগাছাতুল লাহফান ১/৭৯)।
প্রশ্ন (৪/৪) : আমি একটি গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিতে ফ্যাশন ডিজাইনার হিসাবে কর্মরত। এখানে বিদেশী বায়ারদের চাহিদা অনুযায়ী অনেকক্ষেত্রে শালীনতাবিরোধী পোষাক ও ডিজাইন করতে হয় এবং থ্রিডি (3D) মডেলে মানবদেহের অবয়বের উপর এসব পোষাক পরিয়ে ডিজাইন পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করতে হয়। এভাবে পোষাকের ডিজাইন করা এবং ডামিতে পরিয়ে তা পরীক্ষা করাতে আমি গোনাহগার হব কি?
-আব্দুল্লাহ আল-আনাম, আশুলিয়া, ঢাকা।
উত্তর : গোনাহগার হ’তে হবে। কারণ এর মাধ্যমে দু’টি পর্যায়ে পাপ হয়। ১. অশ্লীল পোষাক তৈরি করা ২. অশ্লীল মূর্তির গায়ে পোষাক পরিয়ে পরীক্ষা করা। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ ৫/২)। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘আর এমন পোষাক, যা সম্পর্কে প্রবল ধারণা থাকে যে, তা কোন পাপ কাজে ব্যবহার করা হবে, এমন ব্যক্তির কাছে তা বিক্রি করা এবং তার জন্য তা সেলাই করা জায়েয নয় (শরহুল ঊমদাহ ৪/৩৮৬)। শায়েখ বিন বায (রহঃ) বলেন, ‘হ্যাঁ, তার গোনাহ হবে; কারণ সে পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করছে... অশ্লীলতা ও তার উপকরণে সহযোগিতা করা তার জন্য বৈধ নয়, সেলাইয়ের মাধ্যমে নয়, ডিজাইন/কাটিংয়ের মাধ্যমেও নয়’ (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৮/৪২৩)। অতএব জেনে-শুনে অশালীন ও সতর-প্রকাশকারী পোষাকের ডিজাইন করা, বিশেষত তার বাজারজাতকরণে সরাসরি সহযোগিতা করা জায়েয নয় বরং হারাম (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৩/১০৯)।
প্রশ্ন (৫/৫) : আমি সরকারী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক। অবসরের সময় সরকার থেকে পাওয়া টাকা জীবদ্দশায় আমার তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে বণ্টন করে দিতে চাই। ছোট ছেলে এখনও পড়াশোনা করছে এবং সে অন্যদের তুলনায় অসচ্ছল। তাকে অন্য সন্তানদের তুলনায় কিছু বেশী দেওয়া কি জায়েয হবে?
-মুহাম্মাদ লতীফুর রহমান, দাউদকান্দি, কুমিল্লা।
উত্তর : জীবদ্দশায় অবসরকালীন প্রাপ্ত টাকা সন্তানদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে মূলনীতি হ’ল সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করা (মুসলিম হা/১৬২৩)। তবে কোন সন্তানের প্রয়োজন বেশী হ’লে, প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে কিছু বেশী দেওয়া জায়েয হ’তে পারে (ইয বিন আব্দুস সালাম, কাওয়াইদুল আহকাম ফী ইছলাহিল আনাম ২/১৪০)। ফাতাওয়া লাজনা দায়েমায় বলা হয়েছে, সন্তানদের সম্পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে শরী‘আতসম্মত নিয়ম হ’ল তাদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা। তবে কোন শারঈ কারণ থাকলে কাউকে বেশী দেওয়া জায়েয (আল-ফাতাওয়াল কুবরা ৫/৪৩৫-৩৬)। যেমন কোন সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়া, তার পরিবার বড় হওয়া, ইলম অর্জনে ব্যস্ত থাকা ইত্যাদি (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৬/১৯৩)।
প্রশ্ন (৬/৬) : আমার কিছু হিন্দু শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা আমাকে আদাব দিয়ে সম্বোধন করে। আমি এর কোন উত্তর না দিয়ে হ্যাঁ বলার মত মাথা নাড়ি। এক্ষেত্রে আমার করণীয় কি? আর এভাবে মাথা নাড়ার মাধ্যমে তাদের অভিবাদনের প্রতি সম্মতি প্রকাশ করা যাবে কি?
-মাহমূদুল হাসান, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।
উত্তর : ‘আদাব’ সাধারণত উপমহাদেশে প্রচলিত একটি সৌজন্যমূলক সম্ভাষণ। এর মাধ্যমে সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। অতএব কোন অমুসলিম শিক্ষার্থী শিক্ষককে সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ‘আদাব’ বললে, তার জবাবে সৌজন্যসূচকভাবে মাথা নাড়ানো বা ‘হ্যাঁ’ বলার মতো স্বাভাবিক ইঙ্গিত করা জায়েয। এতে তার ধর্মীয় বিশ্বাস বা উপাসনাকে সমর্থন করা হয় না (ওছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩/৩৪)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি... তাদের সঙ্গে সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না’ (মুমতাহিনাহ ৬০/৮)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আহ’লে কিতাবের কোন ব্যক্তি তোমাদের সালাম দিলে তোমরা বলবে, ওয়া আলাইকুম অর্থাৎ তোমাদের ওপরও’ (বুখারী হা/৬২৫৮; মুসলিম হা/২১৬৩; মিশকাত হা/৪৬৩৭)। উল্লেখ্য যে, ‘আদাব’ বলে সম্মান প্রদর্শন করায় শিরক নেই। কিন্তু নমস্কার বলার মধ্যে শিরক রয়েছে (বিস্তারিত দ্র. ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) বই)।
প্রশ্ন (৭/৭) : মসজিদের মেহরাব কি মসজিদের অংশ? ইমাম যদি মেহরাবের মধ্যে দাঁড়িয়ে ইমামতি করেন, তাহ’লে তাঁর ছালাত হবে কি?
-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, চারঘাট, রাজশাহী।
উত্তর : মেহরাব মসজিদেরই অংশ। ইমাম মেহরাবে দাঁড়িয়ে ইমামতি করলে ছালাত ছহীহ হবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৬/২৫২-২৫৩)। তবে সুন্নাত হ’ল ইমাম এমনভাবে দাঁড়াবেন, যাতে তাঁর দেহের কিছু অংশ মেহরাবের বাইরে থাকে এবং মুক্তাদীরা তাঁকে সহজে দেখতে ও তাঁর অনুসরণ করতে পারে। শায়েখ ওছায়মীন (রহঃ) বলেন, ইমামের জন্য মেহরাবের ভিতরে দাঁড়ানোতে কোন সমস্যা নেই; তবে মেহরাব এমন সংকীর্ণ হ’লে যাতে ইমাম ও মুক্তাদীদের মধ্যে পর্দার মতো হয়ে যায় এবং তাঁকে দেখা বা অনুসরণ করা কঠিন হয়, তখন সেটি অপসন্দনীয় হবে (আশ-শারহুল মুমতে‘ ৪/৩০২; মাজমূ ‘ফাতাওয়া ১২/৩২৬-৩২৭)। শায়েখ বিন বাযেরও অনুরূপ মত রয়েছে (ফাতাওয়াদ দুরূস)।
প্রশ্ন (৮/৮) : আমাদের কলেজের সম্মুখের মসজিদে দুপুর ১-টায় যোহরের আযান হয় এবং ১-টা পনের মিনিটে জামা‘আত হয়। আমরা দূর থেকে আসি। এজন্য ১২-টা ৪৫ মিনিটে আমরা কয়েকজন মিলে আযানের পূর্বেই জামা‘আত করে ছালাত আদায় করি। এক্ষণে এভাবে ছালাত করলে ছালাত আদায় হবে কি?
-ড. আযীযুল্লাহ, নওদাপাড়া, রাজশাহী।
উত্তর : ছালাতের ওয়াক্ত শুরু হয়ে গেলে আযান হওয়ার পূর্বেও ছালাত আদায় করা জায়েয। কারণ ছালাতের জন্য আযান শর্ত নয়; বরং নির্ধারিত ওয়াক্ত শুরু হওয়াই শর্ত। অতএব যোহরের ওয়াক্ত হওয়ার পর প্রয়োজনে কয়েকজন মিলে জামা‘আত করে যোহরের ছালাত আদায় করলে ছালাত আদায় হয়ে যাবে। তবে কোন ওযর ছাড়া নিয়মিতভাবে আগে জামা‘আত করে মসজিদের জামা‘আত পরিত্যাগ করা উচিত নয়। কেননা, এতে মসজিদে জামা‘আতে ছালাত আদায়ের ফযীলত থেকে বঞ্চিত হ’তে হয়। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখন ছালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন কোন ব্যক্তি ছালাত আদায় না করা পর্যন্ত বের হবে না’ (মুসলিম হা/৬৫৫; ইবনু মাজাহ হা/৭৩৩; বায়হাকী, শুআবুল ঈমান হা/২৬০৩)। শায়েখ বিন বায বলেন, নিয়মিত ইমামের অনুমতি ছাড়া প্রচলিত নির্ধারিত সময়ের পূর্বে কারো জন্য ইমামের আগে এগিয়ে যাওয়া বৈধ নয় (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১২/১৪৩-১৪৪)। অতএব সম্ভবপর মসজিদের জামা‘আতে অংশগ্রহণ করাই উত্তম।
প্রশ্ন (৯/৯) : পিতা-মাতার নিকট থেকে পাওয়া হাতখরচের টাকা থেকে দান করলে এর ছওয়াব পিতা-মাতা পাবেন কি, না কেবল সন্তান পাবে?
-যাকারিয়া, পিরোজপুর সদর, পিরোজপুর।
উত্তর : পিতা-মাতা সাধারণ হাতখরচ হিসাবে টাকা দিলে এবং সন্তান সেই টাকা থেকে ছাদাক্বা করলে সন্তান ছাদাক্বার ছওয়াব পাবে এবং পিতা-মাতাও ছওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ। বিশেষত তাঁরা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সন্তানকে সেই অর্থ দিয়ে থাকেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘কোন নারী যদি স্বামীর ঘর থেকে খাদ্য দান করে এবং এতে অপচয় বা ক্ষতি করার উদ্দেশ্য না থাকে, তাহ’লে তার জন্য তার ছওয়াব রয়েছে, তার স্বামীর জন্যও অনুরূপ ছওয়াব রয়েছে এবং খাদ্য সংরক্ষণকারীর জন্যও অনুরূপ ছওয়াব রয়েছে। স্বামী তার উপার্জনের কারণে এবং নারী তার ব্যয়ের কারণে ছওয়াব পাবে’ (বুখারী হা/১৪৪০; মুসলিম হা/১০২৪)। তিনি আরো বলেন, ‘কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহর কাছে ছওয়াবের আশায় তার পরিবারের জন্য অর্থ ব্যয় করে, তবে সেই ব্যয় তার জন্য ছাদাক্বা হিসাবে গণ্য হবে’ (বুখারী হা/৫৫; নাসাঈ হা/২৫৪৫)।
প্রশ্ন (১০/১০) : আমি একটি শো-রুমে চাকরী করি। মালিক সেখানে নিয়মিত বাজনাসহ গান বাজান। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কি?
-শিহাব হোসাইন, জয়পুরহাট।
উত্তর : দায়িত্বের মধ্যে যদি গান চালু করা, গান নির্বাচন করা, সাউন্ড সিস্টেম পরিচালনা করা বা গান প্রচারে সহযোগিতা করা থাকে, তাহ’লে সেই কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ হারাম কাজে সহযোগিতা করা জায়েয নয়। কিন্তু যদি গান শুধু মালিক নিজে বাজান এবং কাজের সঙ্গে এর কোন প্রত্যক্ষ সম্পর্ক না থাকে, তাহ’লে ব্যক্তি নিজের জীবিকার স্বার্থে চাকরী অব্যাহত রাখতে পারে। তবে গান-বাজনা এড়িয়ে চলবে এবং মালিককে নছীহত করবে (বিন বায, ফাতাওয়া ইসলামিয়াহ ৪/৩৮৯)। সেই সাথে বিকল্প প্রতিষ্ঠানের সন্ধান করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন। আর তাকে এমন স্থান থেকে রিযিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করে না’ (তালাক ৬৫/২-৩)।
প্রশ্ন (১১/১১) : মসজিদের ভিতরে চেয়ার-টেবিল দিয়ে সুন্দর ডেকোরেশন করে কোন সভা-সম্মেলন বা অনুষ্ঠান করা যাবে কি?
-নাহিদ হাসান, কুশখালী,সাতক্ষীরা সদর।
উত্তর : মসজিদের ভেতরে প্রয়োজনীয় সভা, বৈঠক, দ্বীনী আলোচনা, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ ও সম্মেলন করা জায়েয। নবী (ছাঃ)-এর যুগেও মসজিদ শুধু ছালাতের জন্য নয়; শিক্ষা, আলোচনা, পরামর্শ ও অন্যান্য বৈধ কল্যাণমূলক কাজের স্থান ছিল। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন এতে কোনভাবে ছালাত আদায়ে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় (নববী, আল-মাজমূ‘ ২/১৭৭; ওছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ৮/২)।
প্রশ্ন (১২/১২) : নফস ও রূহের মধ্যে পার্থক্য কি? সূরা ফজরের শেষ চার আয়াতে নফসুল মুতমাইন্নাহ দ্বারা নফসকে বোঝানো হয়েছে, নাকি রূহকে?
-কাওছার, কুমিল্লা।
উত্তর :প্রথমত, রূহ ও নফসের মধ্যে প্রকৃত অর্থে কোন পার্থক্য নেই। যদিও পারিভাষিক অর্থে পার্থক্য আছে। যেমন প্রাণীকে ‘নফস’ বলা হয়। কিন্তু ‘রূহ’ বা আত্মা বলা হয় না। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে’ (আলে ইমরান ৩/১৮৫)। এতে বুঝা যায় যে, দেহ ও আত্মার মিলিত সত্তাকে ‘নফস’ বলা হয়। আর শুধুমাত্র আত্মাকে ‘রূহ’ বলা হয়। একদা ইহূদীরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে নবী! আপনি বলুন, রূহ হ’ল আমার প্রতিপালকের একটি আদেশ মাত্র’ (ইসরা ১৭/৮৫)। যার প্রকৃতি মানুষের জ্ঞানের বাইরে। এমনকি আম্বিয়ায়ে কেরামও এর প্রকৃতি জানতেন না (শাওকানী, যুবদাতুত তাফাসীর, ইসরা ৮৫ আয়াতের ব্যাখ্যা)। আর নফস সেটাই, যা আল্লাহ মানব দেহে ফুঁকে দিয়েছেন। মৃত্যুর সময় যা দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই যখন রূহ কবয করা হয়, তখন তার চোখ তা দেখতে থাকে’ (মুসলিম হা/৯২০; মিশকাত হা/১৬১৯ ‘জানায়েয’ অধ্যায়)। অন্য হাদীছে এসেছে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা কি দেখনি যে, মৃত্যুর সময় মানুষের চোখ তাকিয়ে থাকে? ছাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি বললেন, তা তো ঐ সময় যখন তার চোখ তার নফসকে দেখতে থাকে’ (মুসলিম হা/৯২১)। সুতরাং রূহ দেহে প্রাণ সঞ্চারকারী সত্তা। সেই রূহ যখন দেহের সঙ্গে যুক্ত থেকে ব্যক্তির সত্তা, অনুভূতি, ইচ্ছা ও কর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তখন তাকে নফস বলা হয়। তাই একই মানবিক সত্তাকে কখনো রূহ, কখনো নফস বলা হয়। তবে উভয় শব্দের পৃথক ব্যবহারও রয়েছে। দ্বিতীয়ত, সূরা ফজরের النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ দ্বারা নফসই উদ্দেশ্য, তবে সেই নফসের অর্থ রূহ থেকে আলাদা কোন দ্বিতীয় সত্তা নয়। বরং মুমিনের সেই রূহ, যা ঈমানের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি প্রশান্ত ও সন্তুষ্ট হয়েছে। ইমাম ইবনু জারীর ত্বাবারী (রহঃ) বলেন, নফসে মুত্বমাইন্নাহ বলতে এমন নফসকে বুঝানো হয়েছে, যা আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতির ওপর প্রশান্ত হয়েছে, যা তিনি ঈমানদারদের আখেরাতে সম্মানের জন্য দিয়েছেন’ (তাফসীরে ত্বাবারী, অত্র আয়াতের তাফসীর ২২৪/৪২২)।
প্রশ্ন (১৩/১৩) : সন্তান থাকা সত্ত্বেও স্বামী কি তার স্ত্রীকে জীবদ্দশায় নিজের সম্পত্তি হেবা বা দান করে দিতে পারবেন?
-আবু সাঈদ, পাঁচবিবি, জয়পুরহাট।
উত্তর : সন্তান থাকা অবস্থাতেও স্বামী তার জীবদ্দশায় নিজের মালিকানাধীন সম্পত্তির কিছু অংশ স্ত্রীকে হেবা করতে পারবেন। তবে সন্তানদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে কৌশল হিসাবে করা যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমার উত্তরাধিকারীদের স্বচ্ছল রেখে যাওয়া উত্তম তাদের অভাবী অবস্থায় রেখে যাওয়ার চাইতে, যাতে পরে তারা মানুষের কাছে হাত পেতে বেড়ায়’ (বুখারী হা/২৭৪২; মিশকাত হা/৩০৭১)। তাছাড়া একাধিক স্ত্রী থাকলে এবং তাদের হেবা করতে চাইলে ন্যায়বিচার ও সমতা রক্ষা করা কর্তব্য।
প্রশ্ন (১৪/১৪) : ছাহাবায়ে কেরাম বলতেন, মৃত্যুর ৪০ দিন আগে থেকেই রূহের দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক আলগা হ’তে শুরু করে। অথচ আমরা দিব্যি খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি, প্ল্যান করছি... কিছুই টের পাই না। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা এতটাই দয়ালু যে, বান্দাকে খালি হাতে নেন না। যাওয়ারআগে তিনি একটি চুপচাপ ইশারা পাঠান। এই বক্তব্য কি সঠিক?
-জাবের, টিকরামপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
উত্তর : এমন কোন শারঈ দলীল নেই যাতে প্রমাণিত হয় যে, মৃত্যুর ৪০ দিন পূর্ব থেকেই মানুষের দেহে মৃত্যুর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। তবে আল্লাহ তা‘আলার সুস্পষ্ট বক্তব্য হ’ল মৃত্যুর ফেরেশতা আসার মাধ্যমে যে মৃত্যু সংঘটিত হয়, তা নির্ধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার পরই ঘটে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ কখনোই কাউকে অবকাশ দিবেন না যখন তার নির্ধারিত সময়কাল এসে যাবে। বস্ত্তত আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম বিষয়ে খবর রাখেন’ (মুনাফিকূন ৬৩/১১)। সুতরাং সর্বদা আমলে ছালেহ করার মাধ্যমে মৃত্যুর জন্য প্রস্ত্তত থাকতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা স্বাদ বিনষ্টকারী বিষয় অর্থাৎ মৃত্যুকে অধিকহারে স্মরণ কর’ (তিরমিযী হা/২৩০৭; মিশকাত হা/১৬০৭, সনদ ছহীহ )। ইবনু ওমর (রাঃ) বলতেন, ‘সন্ধ্যায় উপনীত হ’লে সকালের অপেক্ষা কর না; আর সকালে উপনীত হ’লে সন্ধ্যার অপেক্ষা কর না (বুখারী হা/৬৪১৬; মিশকাত হা/১৬০৪)।
প্রশ্ন (১৫/১৫) : প্রায় এক বছর যাবৎ আমি একটি হারাম সম্পর্কে জড়িত ছিলাম। এ সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করলে মেয়েটি খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং আত্মহত্যা করতে চায়। এমতাবস্থায় এ হারাম সম্পর্ক থেকে বের হওয়ার জন্য আমার করণীয় কি? সে আত্মহত্যা করলে আমার কোন পাপ হবে কি?
-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বগুড়া।
উত্তর : হারাম সম্পর্কের জন্য উভয়ে খালেছ নিয়তে আল্লাহর নিকটে তওবা করবে এবং অবৈধ সম্পর্ক হ’তে বিরত থাকবে। কাউকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করা কবীরা গোনাহ ও গুরুতর অপরাধ। এক্ষণে যদি উভয়ের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে বিবাহের ইচ্ছা থাকে এবং বিবাহের সামর্থ্য ও উপযুক্ততা থাকে, তাহ’লে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের মাধ্যমে শারঈ পদ্ধতিতে বিবাহের ব্যবস্থা করবে। আবুবকর ছিদ্দীক (রাঃ), ইবনু আববাস (রাঃ) প্রমুখ ছাহাবী এমন পাপীদের মধ্যে বৈধ বিবাহকে উৎসাহিত করেছেন’ (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/১২৭৯৫, ১২৭৯০)।
প্রশ্ন (১৬/১৬) : আমরা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে চাকুরী করলে পর্দা, সন্তানদের লালন-পালন ও পারিবারিক দায়িত্বে কোন ক্ষতি হ’লে এর হুকুম কি?
-জাহিদ হাসান, খিলক্ষেত, ঢাকা।
উত্তর : স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব স্বামীর উপরে। আল্লাহ তা‘আলা নারীর ওপর পুরুষকে দায়িত্বশীল ও কর্তৃত্বশীল করেছেন দু’টি কারণে। এর একটি হ’ল আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত বিশেষ মর্যাদা আর অপরটি হ’ল পুরুষের নিজস্ব উপার্জন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘পুরুষেরা নারীদের অভিভাবক। এজন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যকে প্রাধান্য দান করেছেন এবং এজন্য যে, তারা (নারীদের ভরণ-পোষণের জন্য) তাদের মাল-সম্পদ হ’তে ব্যয় করে থাকে’ (নিসা ৪/৩৪)। এক্ষণে স্বামীর দ্বারা পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়লে বাধ্যগত অবস্থায় স্ত্রী পর্দার বিধান মেনে নিরাপদ পরিবেশে চাকরী করতে পারে। তবে অবশ্যই স্বামীর অধিকার সংরক্ষণ, সন্তান পালনে যথাযথ ভূমিকা রাখা এবং ইসলামী পরিবেশের গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ অর্থ উপার্জন গুরুত্বপূর্ণ হ’লেও সন্তানদের ঈমান, চরিত্র ও তারবিয়াতের ক্ষতি করে অর্জিত অতিরিক্ত অর্থ প্রকৃত কল্যাণ বয়ে আনবে না। এক্ষেণে স্বামী পরিবারের খরচ বহনে সক্ষম হওয়ার পরেও স্ত্রীকে পর্দাহীন পরিবেশে চাকুরী করতে দিলে এবং পারিবারিক হক আদায়ে ক্ষতি হ’লে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে দায়ী থাকবেন।
প্রশ্ন (১৭/১৭) : আমি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একজন ডুবুরী (ডাইভার)। আমাদের ডাইভিং ভাতার সরকারী হার খুবই কম। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও সম্মতিতে অনেক সময় প্রকৃত ডাইভিং বা প্রাকটিস ডাইভের চেয়ে বেশী সংখ্যা দেখিয়ে অতিরিক্ত ভাতা দেওয়া হয়। এমনকি কখনো বাস্তবে প্রাকটিস ডাইভ না করেও অনুমতি অনুযায়ী তা হিসাবভুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সম্মতি ও স্বাক্ষরও থাকে। এভাবে প্রকৃত সময় বা ডাইভের চেয়ে বেশী দেখিয়ে অতিরিক্ত ভাতা গ্রহণ করা কি জায়েয?
-তাওছীফ আহমাদ, চট্টগ্রাম।
উত্তর : এই অতিরিক্ত ভাতা সরকারী বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত হ’লে তা গ্রহণ করা জায়েয। কিন্তু বিধির বাইরে গিয়ে প্রকৃত ডাইভের সংখ্যা বা সময় বাড়িয়ে দেখিয়ে অতিরিক্ত সরকারী অর্থ গ্রহণ করা জায়েয নয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর থাকা তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন তিনি আইন ও সরকারী বিধির আওতায় সেই অর্থ অনুমোদন করবেন। অন্যথায় তাঁর পূর্ণ সম্মতি বা স্বাক্ষর অবৈধ কাজকে বৈধ করবে না। কারণ এটা আমানতের খেয়ানত (ওছায়মীন, লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ ২২/১১৪; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৪/৪০৪-৪০৬)। যদি পূর্বে এভাবে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা হয়ে থাকে এবং পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তা বিধিসম্মত ছিল না, তাহ’লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি যাচাই করে অবৈধভাবে গৃহীত অর্থ সরকারী কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে (নিসা ৪/৫৮)। এতে অপারগ হলে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করবে এবং ভবিষ্যতে কখনই এরূপ করবে না। বরং অল্প হালাল রূযীতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ কোন একটি বৈধ পথে রূযীর ব্যবস্থা করে দিবেন (তালাক ৬৫/২-৩)।
প্রশ্ন (১৮/১৮) : আমি বড় অঙ্কের টাকা ঋণ নিতে চাই। পিতাকে যদি বলি, আমি ঋণ পরিশোধের আগেই মারা গেলে আপনি আপনার সম্পত্তি থেকে আমার ঋণ পরিশোধ করে দিবেন এবং তিনি আমার মৃত্যুর পর তা পরিশোধ করেন, তাহ’লে কি এটাকে আমার প্রতি উপহার হিসাবে গণ্য করা হবে? সেক্ষেত্রে কি তিনি অন্য ভাই-বোনদেরও সমপরিমাণ অর্থ দিতে বাধ্য? নাকি আমার ঋণ পরিশোধের কারণে তাদের প্রতি যুলুম করা হবে?
-মো‘আয্যাম হোসাইন, দেবিদ্বার, কুমিল্লা।
উত্তর : প্রথমত, কারো উপর নির্ভর করে ঋণ করা যাবে না। ঋণ তখনই করবে যখন কোন উপায় থাকবে না। দ্বিতীয়ত, পিতা সন্তানের ঋণ পরিশোধে বাধ্য নন। এক্ষণে ঋণগ্রস্ত সন্তানের হঠাৎ মৃত্যু হ’লে পিতা নিজের সম্পদ থেকে যদি তার ঋণ পরিশোধ করেন, তাহ’লে এটি হেবা হিসাবে গণ্য হবে না। বরং এটি সন্তানের ওপর পিতার পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও ইহসান হিসাবে গণ্য হবে। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘যখন সন্তানদের একজনের এমন বিশেষ প্রয়োজন দেখা দেয়, যা অন্যের নেই; যেমন তার ওপর আরোপিত কোন ক্ষতিপূরণের ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া, তার মোহর পরিশোধ করে দেওয়া...ইত্যাদি। অনুরূপ যদি একজনের প্রয়োজন থাকে, অন্যজনের প্রয়োজন না থাকে, তাহ’লে তার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করা যাবে (আল-ইখতিয়ারাত পৃ. ৫১৬)। এমনকি পিতা তার যাকাতের সম্পদ থেকেও সন্তানের ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন (ওছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৮/৪১৬)।
প্রশ্ন (১৯/১৯) : পর্দার ক্ষেত্রে নারীদের মুখমন্ডল ঢেকে রাখা অর্থাৎ নিক্বাব পরিধান করার শারঈ বিধান কি? নারীদের শরীরের কোন কোন অঙ্গ আওরাতের অন্তর্ভুক্ত?
-ফারীহা তাসনীম, সিলেট।
উত্তর : নারীদের সর্বাঙ্গ সতরের অন্তর্ভুক্ত। তাদের মুখমন্ডল ঢেকে রাখা ওয়াজিব। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘নারী হ’ল গোপন বস্ত্ত। যখন সে বের হয়, তখন শয়তান তার দিকে চোখ তুলে তাকায়’ (তিরমিযী হা/১১৭৩; মিশকাত হা/৩১০৯, সনদ ছহীহ)। তাই তার মুখমন্ডলসহ সমগ্র শরীর আবৃত করা আবশ্যক। আর মুখ ঢাকার জন্য নিক্বাব একটি শারঈ পদ্ধতি। আসমা বিনতে আবুবকর (রাঃ) বলেন, ‘আমরা পুরুষদের থেকে আমাদের মুখমন্ডল আবৃত রাখতাম..’(ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ হা/২৬৯০; মুওয়াত্ত্বা মালেক হা/১০৫০; ইরওয়া হা/১০২৩)। ফাতিমা বিনতে মুনযির বলেন, ‘আমরা আসমা বিনতে আবুবকর (রাঃ)-এর সঙ্গে ইহরাম অবস্থায় আমাদের মুখমন্ডল আবৃত করতাম (মুওয়াত্ত্বা মালেক হা/১৬.১০৫০; ইরওয়া হা/১০২৩, সনদ ছহীহ)। অর্থাৎ ইহরাম আবস্থায় নিক্বাব নিষিদ্ধ থাকলেও পরপুরুষের সামনে মুখমন্ডল আড়াল করা মহিলা ছাহাবী ও সালাফদের আমল দ্বারা প্রমাণিত। অতএব ইহরামের বাইরে সাধারণ অবস্থায় মুখমন্ডল আবৃত করার গুরুত্ব আরও অধিক। শায়েখ ওছায়মীন (রহঃ) বলেন, ইহরাম অবস্থায়ও নারীদের পাশ দিয়ে যখন পর-পুরুষ অতিক্রম করবে, তখন নারীদের জন্য তাদের মুখমন্ডল আবৃত করা ওয়াজিব’ (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/১৮৮)। শায়েখ বিন বায (রহঃ) বলেন, নারীর জন্য গায়ের মাহরাম পুরুষদের থেকে নিজের মুখমন্ডল আবৃত করা ওয়াজিব, এমনকি সে ইহরাম অবস্থায় থাকলেও (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩/৩৫৬)। উল্লেখ্য যে, নারীর মুখমন্ডল ও হাতের কব্জি সতরের অন্তর্ভুক্ত কি না এ বিষয়ে ফক্বীহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে ফিৎনার আশঙ্কা থাকলে গায়ের মাহরাম পুরুষের সামনে মুখমন্ডল আবৃত করা ওয়াজিবএ বিষয়ে সর্বযুগের বিদ্বানগণ একমত। অতএব পর্দার ক্ষেত্রে গায়ের মাহরাম পুরুষের সামনে নারীর মুখমন্ডলসহ সমগ্র শরীর আবৃত রাখা কর্তব্য।
প্রশ্ন (২০/২০) :ফাইনাল পরীক্ষার কারণে রামাযানে ছিয়াম পালন না করে পরে ক্বাযা করা যাবে কি?
-ইমরান হোসাইন, যশোর।
উত্তর : রামাযানের ছিয়াম পালন ইসলামের পাঁচটি ন্তম্ভের অন্যতম (বুখারী হা/৮, মুসলিম হা/১৬)। ইচ্ছাকৃতভাবে যা পরিত্যাগ করা কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৫/২২৫)। এক্ষণে যেসব কারণে ফরয ছিয়াম ক্বাযা করা যায়, পরীক্ষা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। অতএব পরীক্ষার অজুহাতে ছিয়াম ক্বাযা করা হারাম (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১০/২৪০)।
প্রশ্ন (২১/২১) : ইন্ডিগো, ব্ল্যাক মেহেদী বা অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে চুল কালো করা কি জায়েয? এক্ষেত্রে রাসায়নিক রং ও প্রাকৃতিক রঙের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে কি? ইন্ডিগো ব্যবহারে চুল বাদামী বা কালচে-বাদামী হ’লে এর বিধান কি? এটি কালো কলপ নয়, তাই হালালএ যুক্তি কতটুকু সঠিক?
-ইয়ামীন, পাবনা।
উত্তর : পাকা চুল বা দাড়িতে মেহেদী ব্যবহার করে রং পরিবর্তন করা মুস্তাহাব। তবে শর্ত হ’ল তা যেন সরাসরি কালো রঙের না হয়। যখন আবুবকর (রাঃ)-এর পিতা নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট আসলেন এবং তাঁর মাথা ও দাড়ির চুল ধবধবে সাদা ছিল, তখন নবী করীম (ছাঃ) তাঁকে রঙ করার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, ‘তবে তোমরা কালো রঙ পরিহার কর’ (মুসলিম হা/২১০২; মিশকাত হা/৪৪২৪)। এক্ষণে যদি ইন্ডিগো বা মেহেদী ব্যবহারে খাঁটি কালো না হয়ে বাদামী, লালচে-বাদামী, অথবা কালো ও লালের মাঝামাঝি রং হয়, তাহ’লে তা নিষিদ্ধ কালো রং হিসাবে গণ্য হবে না। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সামনে দিয়ে গেলেন, তিনি মেহেদী দ্বারা খিযাব করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, এটি কতই না সুন্দর! অতঃপর আরেক ব্যক্তি গেলেন, তিনি মেহেদী ও কাতাম দ্বারা খিযাব করেছিলেন। তিনি বললেন, এটি এর চেয়ে সুন্দর। এরপর আরেক ব্যক্তি গেলেন, তিনি হলুদ রং দ্বারা খিযাব করেছিলেন। তিনি বললেন, এটি এ সবগুলোর চেয়ে সুন্দর (আবুদাউদ হা/৪২১১; মিশকাত হা/৪৪৫৪, সনদ জাইয়েদ)। আনাস বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন মদীনায় আগমন করলেন তখন তাঁর ছাহাবীদের মধ্যে আবুবকর (রাঃ) ছিলেন সবচেয়ে বয়স্ক। তিনি মেহেদী ও কাতাম দ্বারা তাঁর চুল রঞ্জিত করেছিলেন, ফলে চুলের রং গাঢ় হয়ে উঠেছিল (বুখারী হা/৩৯২০; মুসলিম হা/২৩৪১)। ইমাম যুহরী বলেন, বিভিন্ন রং ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে। আর তার মধ্যে সবচেয়ে গাঢ় রং আমাদের কাছে অধিক পসন্দনীয় (মুসানদে আহমাদ হা/৮০৬৯-এর আলোচনা)। অতএব উপাদান প্রাকৃতিক হৌক বা কেমিক্যাল হৌক সরাসরি কালো খেযাব ব্যবহার করা যাবে না।
প্রশ্ন (২২/২২) : তাহাজ্জুদের সময় ছালাত ও ওযূ না করে গভীর রাতে শুধু দু‘হাত তুলে দো‘আ করা যাবে কি?
-আসাদুয্যামান, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।
উত্তর : ছালাত ও ওযূ ছাড়াও হাত তুলে দো‘আ করা যাবে। কারণ দো‘আর জন্য ওযূ শর্ত নয় (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৬/১৩৩)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘রাতে এমন একটি সময় রয়েছে, কোন মুসলিম সে সময়ে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন’ (মুসলিম হা/৭৫৭; মিশকাত হা/১২২৪)।
প্রশ্ন ২৩/২৩) : যদি কোন এলাকায় ছহীহ আক্বীদাভিত্তিক কোন মসজিদ না থাকে, কিন্তু সেখানে শিরক ও বিদ‘আত মিশ্রিত মসজিদ বিদ্যমান থাকে, তাহ’লে ছহীহ আকীবদার ভিত্তিতে একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য কি যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে?
-আমানুল্লাহ, ডালাস, আমেরিকা।
উত্তর : যাকাতের অর্থ দিয়ে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা যাবে না। যদিও সেখানে ছহীহ আকবীদাভিত্তিক মসজিদ না থাকে এবং শিরক-বিদ‘আতমিশ্রিত মসজিদে ছালাত আদায় করতে হয়। কারণ আল্লাহ তা‘আলা যাকাতের আটটি খাত নির্ধারণ করেছেন যার মধ্যে মসজিদ নেই (বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৫/৩৬০)। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, মসজিদসমূহ আয়াতে বর্ণিত আটটি খাতের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যাকাত ব্যয় করা উক্ত আটটি খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ (ফাতাওয়া ইসলামিয়াহ ২/৯১)।
প্রশ্ন (২৪/২৪) : নিজ নাতনীকে নিজ ভাগ্নের সাথে বিবাহ দেওয়া যাবে কি?
-আব্দুল লতীফ, রাজপুর, সাতক্ষীরা।
উত্তর : নিজের নাতনীকে নিজের ভাগ্নে তথা বোনের ছেলের সঙ্গে বিবাহ দেওয়া জায়েয। কারণ তারা পরস্পরের মাহরাম নয়। শরীআ‘তে যেসব নারীর সঙ্গে বিবাহ হারাম করা হয়েছে, তাদের তালিকায় এ সম্পর্কের উল্লেখ নেই (নিসা ৪/২৩)। আর যেখানে মামাতো বোনকেই বিয়ে করা জায়েয, সেখানে মামাতো বোনের মেয়ের সম্পর্ক আরো দূরবর্তী (নিসা ৪/২৩; ওছায়মীন, আশ-শারহুল মুমতে‘ ১২/৫৩)।
প্রশ্ন (২৫/২৫) : আমি একটি ছাত্রাবাসে থাকি এবং পাশের একটি হানাফী মসজিদে ছালাত আদায় করি। মাঝে মাঝে ফজরের ছালাত ওয়াক্তের শেষ দিকে আদায় করতে গেলে কয়েকজন তাবলীগের ভাই ছালাতরত অবস্থায় এসে বলেন, ছালাতের নিয়ত ছেড়ে দিন, এখন আর ছালাত হবে না। তাদের এ কথা এবং এভাবে ছালাত ছেড়ে দিতে বলা কি সঠিক?
-মোতাহার হোসাইন, মিরপুর, ঢাকা।
উত্তর : এভাবে ছালাত ছেড়ে দিতে বলা সঠিক হয়নি। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যদি সূর্য ওঠার আগে ফজরের ছালাতের একটি সিজদা পেয়ে যায়, তাহ’লে সে যেন তার ছালাত পূর্ণ করে’ (বুখারী হা/৫৫৬; মিশকাত হা/৬০২)। ঘুমের কারণে বা ছালাতের কথা ভুলে গেলে যখনই স্মরণ হবে তখনই ছালাত আদায় করবে। এক্ষেত্রে নিষিদ্ধ সময় ধর্তব্য নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন ছালাতের সময় ঘুমিয়ে থাকে অথবা তা ভুলে যায়, সে যখন স্মরণ করবে তখনই তা আদায় করবে’ (বুখারী হা/৫৯৭; ছহীহাহ হা/৩৯৬)। এর ব্যাখ্যায় বিদ্বানগণ বলেন, ‘যদি কোন মুসলিমের ঘুম বা ভুলে যাওয়ার মতো ওযর থাকে এবং সে ওয়াক্তের মধ্যে ছালাত আদায় করতে না পারে, তাহ’লে ওযর দূর হওয়ার পর তাকে ছালাত কাযা করতে হবে, যদিও তা নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে হয়’ (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ২/৮০, ৫১৫)।
প্রশ্ন (২৬/২৬) : আমি একটি মুদি দোকান করি। আমার এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী লোকজন বসবাস করে এবং তারা অনেক সময় মোমবাতি, আগরবাতি ও বাতাসা কিনতে চায়। শুনেছি এগুলো তারা পূজার কাজে ব্যবহার করে থাকে। তাদের নিকট এসব পণ্য বিক্রি করা হালাল হবে কি?
-শাকিল আহমেদ, দেলদুয়ার, টাঙ্গাইল।
উত্তর : সাধারণভাবে যেকোন হালাল ও বৈধ পণ্য হিন্দুদের কাছে বিক্রি করা যাবে। শুধু তারা অমুসলিম এ কারণে তাদের সঙ্গে বৈধ বেচাকেনা নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু যদি বিক্রেতা জানেন যে নির্দিষ্ট পণ্যটি তারা পূজার কাজে ব্যবহার করবে অথবা পরিস্থিতি এমন যে তা পূজায় ব্যবহারের প্রবল ধারণা হয়, তাহ’লে সেই নির্দিষ্ট ব্যবহারে সহযোগিতা করা নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নেকী ও তাকবওয়ার কাজে পরস্পর সহযোগিতা কর; আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পর সহযোগিতা কর না’ (মায়েদাহ ৫/২)। শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘মুসলিমরা যদি অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবের জন্য এমন খাদ্য, পোষাক, সুগন্ধি ইত্যাদি বিক্রি বা উপহার দেয়, যা দ্বারা তারা তাদের হারাম উৎসব পালন করতে সহযোগিতা পায়, তাহ’লে এতে তাদের হারাম উৎসব প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করা হবে (ইকতিযাউছ ছিরাতিল মুস্তাকীম ২/১৫)। তিনি আরও বলেন, যে উদ্দেশ্যে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালনে সহযোগিতা হয়, সে উদ্দেশ্যে এমন পণ্য বিক্রি করা বৈধ নয় (মাজমূউল ফাতাওয়া ২৫/৩২৯)।
প্রশ্ন (২৭/২৭) : আমি পাইল্সের রোগী হওয়ায় পায়খানার রাস্তা দিয়ে মাঝে মাঝেই রক্ত বের হয়। এতে আমার ছিয়াম ভেঙ্গে যাবে কি?
-তসলীমা, সাতক্ষীরা।
উত্তর : ছিয়াম ভঙ্গ হবে না। কারণ রক্ত বের হওয়া ছিয়াম ভঙ্গের কোন কারণ নয়। আর রাসূল (ছাঃ) ছিয়ামরত অবস্থায় তাঁর দেহে শিঙ্গা লাগিয়েছেন (বুখারী হা/১৯৩৮; মিশকাত হা/২০০২)।
প্রশ্ন (২৮/২৮) : মহিলারা সর্বোচ্চ কত বছর বয়সের বালকের সাথে বিনা পর্দায় দেখা করতে পারবে?
মাইসারা, আন্দারকিল্লা, চট্টগ্রাম।
উত্তর : নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ নাবালকদের সাথে মহিলারা বিনা পর্দায় সাক্ষাৎ করতে পারে (নূর ২৪/৩১)। আবহাওয়াগত ভিন্নতার কারণে সাবালক হওয়ার বয়সে ভিন্নতা দেখা দেয়। অতএব শিশুর মধ্যে সাবালক হওয়ার আলামত পাওয়া গেলে তার থেকে পর্দা করতে হবে।
প্রশ্ন (২৯/২৯) :যুবক অবস্থায় চুল বা দাড়ি পেকে গেলে সেই পাকা চুল বা দাড়ি তুলে ফেলা যাবে কি?
-ওমর ফারূক *রুবেল, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
*[শুধু ওমর ফারূক নাম রাখুন। (স.স.)]
উত্তর : যুবক অবস্থায় মাথার চুল বা দাড়ি পেকে গেলেও তা উপড়ে ফেলা যাবে না। কারণ রাসূল (ছাঃ) পাকা চুল উপড়ে ফেলতে নিষেধ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) পাকা চুল উপড়ে ফেলতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই এটি মুসলিমের জন্য নূর’ (তিরমিযী হা/২৮২১; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৯৮১)। তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা পাকা চুল উপড়ে ফেলো না। কোন মুসলিম ইসলামের অবস্থায় একটি চুল পাকালে কিবয়ামতের দিন সেটি তার জন্য নূর হবে’ (আবুদাঊদ হা/৪২০২; ছহীহুত তারগীব হা/২০৯১)। অতএব, বয়স কম হ’লেও মাথার চুল বা দাড়ি পেকে গেলে তা উপড়ে ফেলা উচিত নয়; বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এ নিদর্শনকে রেখে দেওয়া সুন্নাত। হাদীছে পাকা চুল উপড়ে না ফেলার জন্য নেকীর সুসংবাদও এসেছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন পাকা চুল উপড়ে ফেলবে না, আল্লাহ তার জন্য এর বিনিময়ে একটি নেকী লিখবেন এবং এর দ্বারা তার একটি গোনাহ মুছে দেবেন’ (আবুদাউদ হা/৪২০২)।
প্রশ্ন (৩০/৩০) : সেনাবাহিনীর ট্রেনিংয়ের সময় ট্রেনিং এর অংশ হিসাবে সাপ, ব্যাঙ, শিয়ালের গোশত রান্না করে খেতে হয়। এসময় এগুলো খাওয়া জায়েয হবে কি?
-মিনহায পারভেজ, রাজশাহী।
উত্তর : সাপ, ব্যাঙ ও শিয়ালের গোশত সাধারণ অবস্থায় খাওয়া হারাম। তাই শুধু সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হওয়ায় এগুলো খাওয়া জায়েয হওয়ার জন্য উপযুক্ত কারণ নয়। একজন চিকিৎসক রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে এমন একটি ব্যাঙ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, যেটি তিনি ঔষধে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। তখন নবী করীম (ছাঃ) তাকে ব্যাঙ হত্যা করতে নিষেধ করলেন (আবুদাউদ হা/৩৮৭১; মিশকাত হা/৪৫৪৫, সনদ ছহীহ)। অন্যদিকে সাপ ও শিয়াল হিংস্র প্রাণী হওয়ায় তা খাওয়া নিষেধ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘দাঁত দিয়ে শিকারকারী প্রত্যেক হিংস্র প্রাণীর মাংস খাওয়া হারাম’ (বুখারী হা/৫৫৩০; মুসলিম হা/১৯৩২; মিশকাত হা/৪১০৫)।
প্রশ্ন (৩১/৩১) :ব্যাংকে কর্মরত ব্যক্তি দানের অর্থে মসজিদের ছাদ করা হয়েছে। অথচ তাদের উপার্জন হালাল নয়। এক্ষণে উক্ত মসজিদে ছালাত আদায় করা যাবে কি?
-মোযাম্মেল হক, বগুড়া।
উত্তর : এরূপ মসজিদে ছালাত আদায়ে কোন বাধা নেই। কেননা একজনের পাপের বোঝা অন্যে বহন করবে না’ (নাজম ৩৮)। এছাড়া রাসূল (ছাঃ) কাফেরদের হাদিয়া গ্রহণ করেছেন (বুখারী হা/২৬১৫-২৬১৮)।
প্রশ্ন (৩২/৩২) : হিন্দু ব্যক্তি মারা গেলে তার মৃত্যুর খবর শুনে ইন্না লিল্লাহ... পাঠ করা ও তার লাশ দেখতে যাওয়া যাবে কি?
-সেলিম রেযা, রাজশাহী।
উত্তর : কোন হিন্দু মারা গেলে তার মৃত্যুসংবাদ শুনে ইন্না লিল্লাহ...إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون (আমরা আল্লাহর জন্যই এবং আমরা তার নিকটই প্রত্যাবর্তনকারী) বলা জায়েয। মানবিক সমবেদনা প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে তার লাশ দেখতে যাওয়াও জায়েয। তবে তার জন্য মাগফিরাতের দো‘আ করা যাবে না এবং হিন্দুদের ধর্মীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা যাবে না। শায়েখ বিন বায বলেন, কোন কাফের মারা গেলে ইন্না লিল্লাহি..বলায় কোন দোষ নেই। কারণ সকল মানুষই আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে এবং সকল মানুষই আল্লাহর মালিকানাধীন। তবে তার জন্য মাগফিরাতের দো‘আ করা যাবে না (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৪/৩৬৫)।
প্রশ্ন (৩৩/৩৩) : নাভির নীচের ও বগলের লোম ৪০ দিনের মধ্যে না কাটলে গোনাহ হবে কি? ৪০ দিনের বেশী হয়ে গেলে ছালাত কবুল হবে না কথাটি সঠিক কি?
-নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।
উত্তর : ৪০ দিনের অধিক সময় বগলের লোম ও গুপ্তাঙ্গের লোম না কাটা সুন্নাতবিরোধী কাজ। আনাস (রাঃ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) গোঁফ কাটা, নখ কাটা, বগলের লোম উপড়ানো এবং গুপ্তাঙ্গের লোম পরিষ্কারের ক্ষেত্রে ৪০ দিনের বেশী সময় না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন’ (মুসলিম হা/২৫৮; মিশকাত হা/৪২২)। তবে ৪০ দিনের সীমা অতিক্রম করা পরিচ্ছন্নতার সুন্নাত লঙ্ঘনের বিষয় হ’লেও এই কারণে ছালাত বাতিল হয়ে যায় না (ফাতাওয়া লাজনা দাযেমাহ ৫/১২৬; বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ৯/২৫৪)।
প্রশ্ন (৩৪/৩৪) : মসজিদের পাশে অবস্থিত আবাসিক মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মসজিদে না গিয়ে মাদ্রাসায় জামা‘আতে ছালাত আদায় করলে তা কি জায়েয হবে?
-আবু মূসা, ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।
উত্তর : মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করতে হবে, যদি মসজিদটি নিকটবর্তী হয় এবং স্বাভাবিকভাবে মাইকের সাহায্য ছাড়া আযান শোনা যায়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আযান শুনল, অতঃপর জামা‘আতে উপস্থিত হ’ল না, তার ছালাত নেই, তবে কোন ওযর থাকলে ভিন্ন কথা’ (ইবনু মাজাহ হা/৭৯৩; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৩০০)। শায়েখ বিন বায (রহঃ) বলেন, ‘তোমরা যদি মাইক্রোফোন ছাড়া স্বাভাবিক কণ্ঠে আযানের শব্দ শুনতে পাও...তাহ’লে তোমাদের জন্য মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করা আবশ্যক’ (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১১/১৩২-১৩২)। অতএব ছাত্রদের কর্তব্য হ’ল মসজিদে গমন করা। কারণ মসজিদে জামা‘আতে ছালাতের বিশেষ ফযীলত রয়েছে। যেমন মসজিদে যাতায়াতের প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে ছওয়াব, মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময়ের যিকরসহ অন্যান্য ফযীলত। আল্লাহ বলেন, ‘এগুলো এমন ঘর, যেগুলোকে সমুন্নত করার এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করার অনুমতি আল্লাহ দিয়েছেন; সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করা হয়’ (নূর ২৪/৩৬)। তবে ছোট শিশুদের জন্য রাস্তা যদি নিরাপদ না হয় বা মসজিদে জায়গা সংকুলান না হয় বা শিশুরা মসজিদে গিয়ে মুছাল্লীদের বিরক্ত করে, তাহ’লে তাদের নিয়ে মাদ্রাসার মুছাল্লায় ছালাত আদায় করা যাবে।
প্রশ্ন (৩৫/৩৫) :আমি একটি জুতার কারখানায় কাজ করি। জুতা তৈরির সময় যথাসাধ্য চেষ্টা করা সত্ত্বেও অনেক সময় জুতা নষ্ট হয়ে যায়। এসব ক্ষতির কথা সবসময় মালিককে জানানো হয় না। এভাবে অনিচ্ছাকৃতভাবে মালামাল নষ্ট হ’লে ক্বিয়ামতের দিন কি এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে?-
-বোখারী ছাবিদ, কালাই, জয়পুরহাট।
উত্তর : যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের পরেও অনিচ্ছাকৃতভাবে জুতার ক্ষতি হ’লে কর্মচারীর ওপর ক্ষতিপূরণ নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা অনিচ্ছাকৃতভাবে যে ভুল কর, তাতে তোমাদের কোন গোনাহ নেই; তবে তোমাদের অন্তর যা ইচ্ছাকৃতভাবে করে, তা ভিন্ন’ (আহযাব ৩৩/৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং যে কাজে তাদেরকে বাধ্য করা হয়েছে তা ক্ষমা করেছেন’ (ইবনু মাজাহ হা/২০৪৩; ছহীহুল জামে‘ হা/১৭৩১)। অতএব যথাযথ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার পরেও অনিচ্ছাকৃতভাবে মালামাল নষ্ট হ’লে কর্মচারীর কোন গোনাহ বা ক্ষতিপূরণের দায় নেই।
প্রশ্ন (৩৬/৩৬) : হাদীছে বর্ণিত নিষিদ্ধ সময়ে তাহিইয়াতুল মসজিদ ছালাত আদায় করা যাবে কি?
-মুয্যাম্মেল হক, নলডাঙ্গা হাট, নাটোর।
উত্তর : নিষিদ্ধ সময়েও মসজিদে প্রবেশ করলে দু’রাক‘আত তাহিয়াতুল মসজিদ ছালাত আদায় করা যাবে। কারণ তাহিয়াতুল মসজিদ যাতুল-আসবাব বা কারণযুক্ত নফল ছালাত। সাধারণ নিষিদ্ধ সময়ের নফলের মতো নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে সে যেন দুই রাক‘আত ছালাত আদায় না করা পর্যন্ত না বসে’ (বুখারী ১১৬৭; মুসলিম হা/৭১৪)।
প্রশ্ন (৩৭/৩৭) :পিতা-মাতা আমার কল্যাণের জন্য মাযারে ছাগল মানত করেছেন। কিন্তু আমি এতে বিশ্বাস করি না। এক্ষণে আমার করণীয় কি?
-রামাযান শেখ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
উত্তর : প্রশ্ন অনুযায়ী এজন্য পিতা-মাতা গুনাহগার হবেন, সন্তান নয়। এক্ষণে সন্তানের জন্য কর্তব্য হবে পিতা-মাতাকে উক্ত শিরকী কাজ থেকে ফেরানোর জন্য প্রতিনিয়ত নছীহত করা।
প্রশ্ন (৩৮/৩৮) :হজ্জব্রত পালনকালে মহিলারা গহনা ব্যবহার করতে পারবে কি?
-আসমা, নোয়াখালী।
উত্তর : হজ্জ পালনকালে মহিলাদের গহনা ব্যবহারে কোন বাধা নেই। তবে এ সময় যেন তা পরপুরুষেরা দেখতে না পায় সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। কারণ অলংকার নারী সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/২০১)।
প্রশ্ন (৩৯/৩৯) : এনবিআরের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিস চলাকালীন দাফতরিক দায়িত্বের বাইরে করদাতার আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার কাজ করে ১,০০০ টাকা পারিশ্রমিক গ্রহণ করার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করা জায়েয হবে কি?
-নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।
উত্তর : কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকলে তা হারাম হবে। কারণ চাকরীর নির্ধারিত সময় ও দায়িত্ব কর্মচারীর কাছে আমানত। সে সময়ের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান তাকে বেতন প্রদান করে। অতএব সেই সময়ে ব্যক্তিগত উপার্জনের কাজে নিয়োজিত হওয়া চাকরীর চুক্তি ও আমানতের খেলাফ। কাজেই করদাতার সঙ্গে তার সরকারী দায়িত্বের সম্পর্ককে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত পারিশ্রমিক গ্রহণ করলে তা ঘুষ বা অবৈধ সুবিধার পর্যায়ে চলে যায়। সরকারী কর্মচারীকে তার দায়িত্বের কারণে প্রদত্ত অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের ব্যাপারে ইসলামী শরী‘আত কঠোর নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ করেছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমরা যাকে কোন কাজে নিয়োগ করি এবং তাকে তার জন্য নির্ধারিত পারিশ্রমিক প্রদান করি, এরপর সে অতিরিক্ত যা গ্রহণ করে, তা খেয়ানত বা ঘুষ (আবুদাউদ হা/২৯৪৩; মিশকাত হা/৩৭৪৮, সনদ ছহীহ)।
প্রশ্ন (৪০/৪০) : প্রাপ্তবয়স্ক চাচাতো, মামাতো বা ফুফাতো ভাই একজন কন্যাশিশুকে কত বছর পর্যন্ত কোলে নিয়ে আদর করতে বা চুমু খেতে পারবে?
-নাজমুছ ছাকিব, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ।
উত্তর: ছোট কন্যা শিশু যার মধ্যে যৌন আকর্ষণ নেই, তাকে স্নেহবশে কোলে নেওয়া ও চুম্বন করা জায়েয। তবে চুম্বনটি মুখে না হয়ে কপাল বা মাথায় হওয়া উত্তম। অনুরূপভাবে চুম্বনকারীর মধ্যেও কামভাব থাকা যাবে না। কামভাব নিয়ে ছোট শিশুকে চুম্বন দিলেও গোনাহ হবে। শরী‘আতে ৫, ৬ বা ৭ বছর এমন সার্বজনীন নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারিত নেই। বয়সের পাশাপাশি শিশুর শারীরিক গঠন, বোধশক্তি ও আকর্ষণীয়তার বিষয়টিও বিবেচ্য। বিশেষ করে চাচাতো, মামাতো, ফুফাতো ভাই যেহেতু গায়ের মাহরাম, তাই মেয়েটি এমন বয়সে পৌঁছালে যখন তার প্রতি স্বাভাবিক যৌন আকর্ষণের সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখন কোলে নেওয়া, জড়িয়ে ধরা ও চুম্বন করা থেকে বিরত থাকতে হবে (ওছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৯/২; বিন বায, ফাতাওয়াল মারা’তিল মুসলিমা ৩/৭৮-৮৯, ৭/৮৪৫)।