২য় দিন বাদ আছর থেকে পরদিন ফজর পর্যন্ত :
জুম‘আর ছালাতের পর আছর পর্যন্ত বিরতি থাকে। অতঃপর আছর ছালাতের পর থেকে ভোর ৪-টা ৩৫মিনিট পর্যন্ত নির্ধারিত বিষয়বস্ত্ত সমূহের উপর বক্তব্য পেশ করেন যথাক্রমে, (১) ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় পরিচালক মুহাম্মাদ রবীউল ইসলাম (সুসন্তান গড়ে তোলার উপায়সমূহ) (২) ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক জালালুদ্দীন (সমাজ সংস্কারে জামা‘আতবদ্ধ জীবন ও সংগঠনের গুরুত্ব) (৩) চট্টগ্রাম যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক আরজু হোসাইন ছাববীর (তৃণমূল পর্যায়ে আহলেহাদীছ আন্দোলনের প্রসার : আমাদের দায়িত্ব ও করণীয়) (৪) নওদাপাড়া মারকাযের ভাইস-প্রিন্সিপাল ড. নূরুল ইসলাম (প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা) (৫) ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবুল কালাম (জয়পুরহাট) (আহলেহাদীছ আন্দোলনের প্রসারে ছাত্র ও যুবসমাজের ভূমিকা ও তাদেরকে সম্পৃক্ত করার উপায়)। (৬) ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম (নবী-রাসূলগণের আগমনের উদ্দেশ্য ও তাঁদের দাওয়াতী নীতি) (৭) ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সভাপতি মুুুুুুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম (রাজশাহী) (আহলেহাদীছ আন্দোলনের সমাজ সংস্কারের রূপরেখা)। (৮) ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম (তাযকিয়া ও তারবিয়ার নীতি সমূহ (৪ ও ১০ এবং বৈশিষ্ট্য সমূহ : ২ ও ৩)।
বাদ এশা বক্তব্য পেশ করেন, (৯) ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন (ইক্বামতে দ্বীনের প্রকৃত ব্যাখ্যা এবং দ্বীন কায়েমে সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের কর্তব্য)। (১০) মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক সভাপতি ড. মীযানুর রহমান (কাদিয়ানী ও হিজবুত তাওহীদের আক্বীদা)। (১১) সঊদী আরব শাখা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল হাই (তাওহীদের শিক্ষা ও আজকের সমাজ) (১২) নওদাপাড়া মারকাযের শিক্ষক হাফেয আব্দুল মতীন (সন্তানের আক্বীদা ও চরিত্র গঠনে পিতা-মাতার ভূমিকা)। (১৩) খুলনা যেলা ‘আন্দোলন‘-এর সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম (খুলনা) (সমাজে দুর্নীতি, সূদ, ঘুষ ও চাঁদাবাজির অবাধ প্রসার : ইসলামে এর ভয়াবহ পরিণতি ও আমাদের করণীয়)। (১৪) নওদাপাড়া মারকাযের শিক্ষক মাওলানা সোহাইল আহমাদ (জান্নাতের বিবরণ)। (১৫) নরসিংদী যেলা ‘আন্দোলন’-এর প্রচার সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল-মামূন (কবরের আযাব)। (১৬) নারায়ণগঞ্জ যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাবেক সভাপতি মাওলানা শফীকুল ইসলাম (জাহান্নামের ভয়াবহতা) ও (১৭) হাফেয মাওলানা শামসুর রহমান (ঢাকা) (সামাজিক অবক্ষয় ও তার প্রতিকার (জুয়া, লটারী, দিবস পালন ও যৌতুক প্রথাসহ)।
আমীরে জামা‘আতের ২য় দিনের ভাষণ :
ইজতেমার ২য় দিন রাত সাড়ে ১০-টায় মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সূরা নূর ৫৫ আয়াত অবলম্বনে দেশে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি সম্পর্কে সারগর্ভ ভাষণ পেশ করেন। এরপর তিনি সকলের নিকট থেকে আনুগত্যের বায়‘আত গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য যে, গত ২৭শে ফেব্রুয়ারী মারকাযে জুম‘আর খুৎবারত অবস্থায় প্রবল অসুস্থতার কারণে আমীরে জামা‘আতের হঠাৎ ঢলে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক দৃশ্য লাইভে দেখে দেশ-বিদেশের কর্মীদের মধ্যে যেমন হতাশা তৈরী হয়েছিল, ৩৪ দিন পর ইজতেমার উদ্বোধনী ভাষণ এবং ১ম ও ২য় রাতে অজস্বীনী ভাষণ দেওয়ায় কর্মীদের মধ্যে তেমনি উচ্ছাস তৈরী হয়। ফালিল্লাহিল হামদ!
প্রস্তাবনা পাঠ : মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের ভাষণের পর ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম প্রস্তাবনা পাঠ করেন এবং সকলে হাত তুলে তা সমর্থন করেন। প্রস্তাবনা সমূহ নিম্নরূপ-
(১) বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল চেতনা হল ‘ইসলাম’। অতএব বাংলাদেশে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে ইসলামী শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। (২) শিক্ষার সর্বস্তরে বিশুদ্ধ ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। সেই সাথে শিক্ষা কারিকুলাম থেকে নাস্তিক্যবাদ, এলজিবিটি, সহশিক্ষাসহ সকল প্রকার ইসলাম বিরোধী বিষয়সমূহ অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে। (৩) দেশে প্রচলিত বৃটিশ আমলের দীর্ঘসূত্রি বিচারব্যবস্থার বদলে বাদী-বিবাদী ও চাক্ষুস সাক্ষী ভিত্তিক ইসলামী দ্রুত বিচারব্যবস্থা চালু করতে হবে। (৪) সূদভিত্তিক পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার পরিবর্তে যাকাতভিত্তিক ইসলামী অর্থব্যবস্থা চালু করতে হবে। ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। (৫) যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য মদ-জুয়া, নগ্নতা ও বেহায়াপনা সহ সকল প্রকার অনাচার কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। ইন্টারনেটসহ সকল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে বিজাতীয় অপসংস্কৃতির আগ্রাসন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। (৬) সারাদেশে আলেম-ওলামা এবং দ্বীনী সংগঠনগুলো যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে কুরআন ও সুন্নাহর বিশুদ্ধ দাওয়াত প্রচার করতে পারে, সে জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে আহলেহাদীছ মসজিদ বা মাদ্রাসার উপর যেন কোন মহলের বাধা বা আক্রমণ না আসে, সে ব্যাপারে প্রশাসনকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। (৭) এই সম্মেলন মুসলিম দেশগুলির বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইস্রাঈলের হিংস্র ও রক্তক্ষয়ী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে। সেই সাথে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং ওআইসিসহ মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দকে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানাচ্ছে। (৮) এই সম্মেলন শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে অস্বীকারকারী কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছে।
উদ্বোধনপূর্ব বক্তৃতা সমূহ : বৃহস্পতিবার বাদ আছর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইজতেমা শুরু হওয়ার ঘোষণা থাকলেও কর্মী ও সুধীগণ আগে থেকেই আসতে শুরু করেন। ফলে ১ম দিন বৃহস্পতিবার বাদ ফজর থেকে মূল প্যান্ডেলে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। যা যোহর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলে। এসময় বক্তব্য পেশ করেন যথাক্রমে- (১) ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান (ছালাতের গুরুত্ব) (২) ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দাঈ অধ্যাপক আব্দুল হামীদ (দাওয়াতের গুরুত্ব ও দাঈর গুণাবলী) (৩) রাশেদুল ইসলাম (রামাযানের প্রভাব ধরে রাখব কিভাবে?) (৪) ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় অফিস সহকারী মাওলানা আনোয়ারুল হক (আদর্শ পরিবার পরিকল্পনা) (৫) আল-হেরা শিল্পী গোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় পরিচালক রাক্বীবুল ইসলাম (মানবাধিকার) (৬) ঢাকা-উত্তর যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি হাফেয মুহাম্মাদ এরশাদুল্লাহ (ইস্তিগফার) (৭) নাটোর যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ আলী (চরমপন্থার ক্ষতিকর দিকসমূহ) (৮) মেহেরপুর যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক সভাপতি মুহাম্মাদ হায়দার আলী (সাংগঠনিক জীবনে আনুগত্য) (৯) দিনাজপুর-পূর্ব সাংগঠনিক যেলা ‘যুবসংঘে’র সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মাহমূদ (মৃত্যু পরবর্তী শিরকী ও বিদ‘আতী রসম-রেওয়াজ সমূহ) (১০) রংপুর-পশ্চিম যেলা ‘যুবসংঘে’র সভাপতি মতীউর রহমান (আধুনিক মিডিয়ায় দাওয়াতের গুরুত্বব) (১১) ঢাকা-উত্তর যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাবেক সভাপতি মাওলানা সাইফুল ইসলাম বিন হাবীব (ছবরের গুরুত্ব ও মর্যাদা) (১২) জামালপুর-উত্তর যেলা ‘আন্দোলন’-এর প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাবীবুল্লাহ (যুবজীবনের মরণফাঁদ নেশা) (১৩) জামালপুর-উত্তর যেলা ‘যুবসংঘে’র সভাপতি ইসমাঈল বিন আব্দুল গণী (মুসলিম উম্মাহর অধঃপতনের কারণ) (১৪) যশোর যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাবেক সভাপতি হাফেয আব্দুল আলীম (আমল কবুলের শর্তাবলী) (১৫) ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় দাঈ রাক্বীবুল ইসলাম (দাওয়াতী ময়দানে বাধাসমূহ : আমাদের করণীয়) (১৬) জামালপুর-দক্ষিণ যেলা ‘যুবসংঘে’র সভাপতি মুহাম্মাদ মাসঊদ (দ্বীন প্রতিষ্ঠায় যুবকদের আত্মত্যাগ) ও (১৭) বগুড়া যেলা ‘যুবসংঘে’র সাবেক সভাপতি মুহাম্মাদ আল-আমীন (ইত্তেবা ও তাক্বলীদ)।
বিদায়ী ভাষণ ও দো‘আ : ইজতেমার শেষ দিন শনিবার ইজতেমার মূল প্যান্ডেলে নওদাপাড়া মারকাযের হিফয বিভাগের শিক্ষক হাফেয ওবায়দুল্লাহর ইমামতিতে ফজরের জামা‘আত অনুষ্ঠিত হয়। ছালাত শেষে মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের পক্ষে ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বিদায়ী ভাষণ পেশ করেন। অতঃপর তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে মজলিস ভঙ্গের দো‘আ পাঠের মাধ্যমে দু’দিন ব্যাপী ৩৬তম বার্ষিক তাবলীগী ইজতেমা ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।