ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৪ হাযার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গুলি চালানো এবং মানবাধিকার লঙঘনের জন্য সমালোচিত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবার অবৈধ যাতায়াত ও চোরাচালান ঠেকাতে এক অদ্ভূত ও বিতর্কিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম সীমান্তের কিছু অংশে অনুপ্রবেশ রোধে ইতিমধ্যেই বেড়া বিদ্যুতায়িত করা হলেও যেসব দুর্গম নদীপথ ও জলাভূমিতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ বা আধুনিক নযরদারী সম্ভব নয়, সেখানে এবার বিষাক্ত সাপ ও কুমির ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে কাংক্ষিত ফলাফলের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে তারা। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায় বিএসএফের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে ওঠা এই প্রস্তাবের মূল যুক্তি হ’ল হিংস্র সরীসৃপ ছেড়ে দিলে মনস্তাত্ত্বিক ভয়ের কারণে এসব এলাকায় অবৈধ পারাপার কমে আসবে। তবে ভারতের এই অমানবিক পরিকল্পনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষ, পরিবেশবিদ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মাঝে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এসব প্রাণী তো আর নির্দিষ্ট সীমানা মেনে চলবে না। ফলে জীবিকার সন্ধানে নদী বা জলাশয়ে যাওয়া নিরীহ গ্রামবাসীদের প্রাণহানির মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হবে। এছাড়া কৃত্রিমভাবে এসব প্রাণী ছাড়লে স্থানীয় জলজ বাস্ত্ততন্ত্র ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হ’লে তা হবে চরম অমানবিক ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
[আমরা অবিলম্বে ভারত সরকারের প্রতি এই অমানবিক পরিকল্পনা বাতিল করার আহবান জানাই (স.স.)]