দীর্ঘ রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই ও দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পর গত ১২ই ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৩০০টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয়লাভ করে এককভাবে সরকার গঠন করেছে। এই বিপুল বিজয়ের ম্যান্ডেট নিয়ে গত ১৭ই ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবৎ হাসিনা ও খালেদার নারী শাসনের পর বাংলাদেশ একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেল। এ নির্বাচনে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসাবে গণ্য হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ বা এনসিপি প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। উপনেতা হয়েছেন দলটির নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং চিফ হুইপ হয়েছেন ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির’ বা এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম।
নির্বাচনের দিন সাধারণ ভোটের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কার বিষয়ক যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাতেও দেশের প্রায় ৬৮% মানুষ ইতিবাচক রায় দিয়েছেন। ফলে নতুন সরকার প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা এবং দুই মেয়াদের বেশী প্রধানমন্ত্রী না হওয়ার বিধান কার্যকরের ম্যান্ডেটও পেয়েছে।
[আপাতত ঘোষিত ২৫ জন মন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী ও ১০ জন উপদেষ্টা নিয়ে ৫৯ জনের বিশাল বহর এবং সরকারী ও বিরোধী দলের মোট ৩৫০ জন এমপি-র প্রটোকল দেওয়া বিশাল আইন শৃংখলা বাহিনী, সেই সাথে তাদের জন্য দেশ-বিদেশে সর্বত্র ভিআইপি মর্যাদায় চলাচলের ব্যবস্থা ও রাজকীয় ব্যবস্থাপনার বিশাল বোঝা এই দরিদ্র দেশটির উপরে গণতন্ত্রের নামে নতুন ভাবে চাপানো হ’ল। এছাড়াও নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারী ব্যয় হয়েছে ৩ হাযার ১৫০ কোটি টাকা। ইতিপূর্বেকার তিক্ত অভিজ্ঞতা সমূহের আলোকে বলা যায় যে, এর মাধ্যমে দেশের কল্যাণের চাইতে অকল্যাণই বেশী হবে। বিগত ২০০৭ ও ২০০৮ সালে মাত্র ১৬ জন উপদেষ্টা নিয়ে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে সুনামের সাথে দেশ চালিয়েছেন, কোন গণতান্ত্রিক সরকার এযাবৎ তার ধারে-কাছেও যেতে পারেনি। তবুও আমরা আল্লাহর বাণী উল্লেখ করে সান্তনা পেতে চাইব, যেখানে তিনি বলেছেন, ‘এই পৃথিবীর মালিকানা আল্লাহর। তিনি তার বান্দাদের মধ্যে যাকে চান এর উত্তরাধিকারী করেন। আর শুভ পরিণাম কেবল আল্লাহভীরুদের জন্যই’ (আ‘রাফ ৭/১২৮) (স.স.)।]