ইলম অনুযায়ী আমল করার গুরুত্ব

ভূমিকা :

ইলম ও আমল দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য দু’টি অংশ। এ দু’টি বিষয়ের যথাযথ সমন্বয় ছাড়া মুমিন জীবনের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। অথচ বর্তমানে মুসলমানদের মাঝে ইলম ও আমলের যথার্থ সমন্বয় খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর। আমরা অনেকেই ইসলামকে জানি, কিন্তু সেই ইসলামী জ্ঞানের আলোকে জীবনকে গড়তে পারি না। আমরা কুরআন-হাদীছ পড়ি, ইসলামী বই অধ্যয়ন করি, আলেমদের বক্তব্য শুনি, জুম‘আর খুৎবা শ্রবণ করি, দ্বীনী জ্ঞান চর্চার সাথে কম-বেশী যুক্ত থাকি, কিন্তু অর্জিত জ্ঞানের প্রতিফলন নেই আমাদের দৈনন্দিন আচরণে, ব্যবসা-বাণিজ্যে, দাওয়াতের মায়দানে, রাজনীতিতে কিংবা পারিবারিক জীবনে। আমাদের ইলম যেন বইয়ের পাতায় বন্দী, আর আমল ও ইবাদত যেন কেবল প্রদর্শনী। ফলে দুর্বল হয়ে পড়েছে আমাদের ব্যক্তিত্ব, ভেঙে পড়েছে সামাজিক ভিত্তি, আমরা হারিয়ে ফেলেছি আদর্শিক স্বকীয়তা, খুইয়ে ফেলেছি আধ্যাত্মিক শক্তিমত্তা, আত্মমর্যাদা ও মুসলিম জাতিসত্তা। জ্ঞানের প্রদীপ হাতে থাকলেও আমলে শক্তি না থাকার কারণে আমরা যেন অন্ধকার জগতের এক দিশেহারা পথিক। জীবনের সর্বক্ষেত্রে ফুটে উঠেছে ঈমানী দুর্বলতার সুস্পষ্ট প্রভাব। আমরা যদি এই অবস্থা থেকে বের হয়ে না আসতে পারি, তবে দুনিয়াবী জীবনে লাঞ্ছনা ভোগ করতে হবে, আর পরকালের মর্মন্তুদ শাস্তি তো আছেই। তাই জ্ঞান ও আমলের মাঝে সমন্বয় সাধনের নিমিত্তে এর গুরুত্ব ও ফযীলত জানা প্রয়োজন। বক্ষ্যমান নিবন্ধে ইলম অনুযায়ী আমল করার গুরুত্ব ও ফযীলত আলোচিত হয়েছে।

ইলম অনুযায়ী আমল করার গুরুত্ব

১. ইলম অনুযায়ী আমল করতে পারা তাক্বওয়ার পরিচায়ক :

তাক্বওয়া অর্থ আল্লাহভীতি। আর আল্লাহভীতি প্রকাশ পায় তখনই, যখন মানুষ তার অর্জিত জ্ঞানের আলোকে আমল সম্পাদন করে। শুধু মুখে তাক্বওয়ার দাবী করা যথেষ্ট নয়; বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা, হারাম ও পাপাচার থেকে বেঁচে থাকা, হালালকে অাঁকড়ে ধরা প্রভৃতির মাধ্যমে তাক্বওয়ার স্বরূপ ফুটে ওঠে। ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন এযাম ও সালাফে ছালেহীনের জীবন ছিল ইলম ও আমলের সুন্দর সমন্বয়ে গড়া। ফলে তাঁদের জীবন ছিল তাক্বওয়ায় ভরপুর। ইসলামের চতুর্থ খলীফা আলী ইবনে আবী ত্বালেব (রাঃ) তাক্বওয়ার পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন,التقوى هي الخوف من الجليل والعمل بالتنزيل والقناعة بالقليل والاستعداد ليوم الرحيل، ‘মহান আল্লাহকে ভয় করে চলা, তাঁর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী আমল করা, অল্পে তুষ্ট থাকা এবং মৃত্যুর দিনের জন্য সদা প্রস্ত্তত থাকার সমন্বিত নাম হ’ল তাক্বওয়া’।[1] আলী (রাঃ) আরো বলেন, ‌كونوا ‌لقبول ‌العمل ‌أشد ‌اهتماما ‌منكم ‌بالعمل، فإنّه لن يقلّ عمل مع التّقوى، وكيف يقلّ عمل متقبّل؟ ‘তোমরা আমল করার চেয়ে আমল কবুল হওয়ার ব্যাপারে বেশী গুরুত্ব দাও। কেননা তাক্বওয়ার সাথে সম্পাদিত কোন আমল অল্প হয় না, তাহ’লে কবুলযোগ্য আমল কিভাবে অল্প হবে?’[2] আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেন,لَيْسَ الْعِلْمُ عَنْ كَثْرَةِ الحديث، إنما العلم خشية اللهِ، ‘অনেক বেশী হাদীছ বর্ণনা করার নাম ইলম নয়; বরং আল্লাহভীতিই হ’ল প্রকৃত ইলম’।[3]

মুতাররাফ ইবনে শিখখীর (মৃ. ৯৫হি.) বলেন, ‘আমলের শ্রেষ্ঠত্বের চেয়ে ইলমের মর্যাদা বেশী। আর তোমাদের উত্তম দ্বীন হ’ল পরহেযগারিতা’।[4] মাসরূক্ব (রহঃ) বলেন,بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الْعِلْمِ أَنْ يَخْشَى اللهَ، وَبِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الْجَهْلِ أَنْ يُعْجَبَ بِعِلْمِهِ، ‘কোন ব্যক্তির জ্ঞানী হওয়ার জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, সে আল্লাহ্কে ভয় করবে। আর কোন লোকের মূর্খ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার অর্জিত জ্ঞান নিয়ে গর্ববোধ করবে’।[5] অর্থাৎ অর্জিত ইলম তখনই মূল্যবান হয় যখন তা আমলে রূপান্তরিত হয়, হৃদয়ে তাক্বওয়ার স্ফূরণ ঘটার কারণ শুধুমাত্র জ্ঞানার্জন করা নয়, বরং সেই অনুযায়ী চলাই মানুষের সফলতার মাপকাঠি।

ওমর ইবনু আব্দুল আযীয (রহঃ) বলেন,لَيْسَ تَقْوَى اللهِ بِصِيَامِ النَّهَارِ، وَلَا بِقِيَامِ اللَّيْلِ، وَالتَّخْلِيطِ فِيمَا بَيْنَ ذَلِكَ، وَلَكِنَّ تَقْوَى اللهِ تَرْكُ مَا حَرَّمَ اللهُ، وَأَدَاءُ مَا افْتَرَضَ اللهُ، فَمَنْ رُزِقَ بَعْدَ ذَلِكَ خَيْرًا، فَهُوَ خَيْرٌ إِلَى خَيْرٍ، ‘দিনভর ছিয়াম পালন করা এবং রাত জেগে ছালাত আদায় করার পর হালাল হারামকে মিশিয়ে ফেলার নাম তাক্বওয়া নয়। বরং আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তা পরিত্যাগ করা এবং যা বিধিবদ্ধ করেছেন, তা যথাযথভাবে আদায় করার নামই হ’ল তাক্বওয়া। আর যাকে এই তাক্বওয়ার পরেও উত্তম আমল করার তাওফীক্ব দেওয়া হয়েছে, সেটা তো আরোও ভালো’।[6] ফুযাইল ইবনে ইয়ায (রহঃ) বলেন, رَهْبَةُ العَبْدِ مِنَ اللهِ عَلَى قَدْرِ عِلْمِهِ بِاللهِ، وَزَهَادَتُهُ فِي الدُّنْيَا عَلَى قَدْرِ رَغْبَتِهِ فِي الآخِرَةِ، مَنْ عَمِلَ بِمَا عَلِمَ، اسْتَغنَى عَمَّا لاَ يَعْلَمُ، وَمَنْ عَمِلَ بِمَا عَلِمَ، وَفَّقَهُ اللهُ لِمَا لاَ يَعْلَمُ، وَمَنْ سَاءَ خُلُقَهُ شَانَ دِيْنَهُ، وَحَسَبَهُ، وَمُرُوءتَهُ، ‘বান্দা আল্লাহকে যতটুকু জানে, ততটুকুই তাকে ভয় করে। সে আখেরাতের প্রতি যতখানি উন্মুখ থাকে, দুনিয়ার প্রতি সে ততটাই অনাগ্রহী হ’তে পারে। যে ব্যক্তি ইলম অনুযায়ী আমল করে, অজানা বিষয় থেকে সে অভাবমুক্ত হ’তে পারে। আর যে ব্যক্তি স্বীয় জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে, আল্লাহ তাকে অজানা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের তাওফীক্ব দান করেন। আর যার চরিত্র খারাপ হয়ে যায়, সে তার দ্বীন, সম্মান ও ব্যক্তিত্বকে কলুষিত করে ফেলে’।[7]

ইবনু রজব হাম্বলী (রহঃ) বলেন, وافضلُ ‌الأعمال ‌خشية ‌الله فِي السر والعلانية، وخشية الله فِي السر إنما تصدر عَن قوة إيمان ومجاهدةٍ للنفس والهوى، فإن الهوى يدعو فِي الخلوة إلى المعاصي، ‘সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ আমল হ’ল প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহকে ভয় করা। মূলত ঈমানী শক্তি এবং প্রবৃত্তি ও নফসের বিরুদ্ধে জিহাদের শক্তিমত্তা থেকে গোপনে আল্লাহকে ভয় করার অনুভূতি জাগ্রত হয়। কেননা নির্জনতায় কৃপ্রবৃত্তি সর্বদা পাপের দিকে আহবান জানায়’।[8]

কবি মুহাম্মাদ ইবনে আবূ আলী ইছফাহানী বলেন,

اعْمَلْ بِعِلْمِكَ تَغْنَمْ أَيُّهَا الرَّجُلُ + لَا يَنْفَعُ الْعِلْمُ إِنْ لَمْ يَحْسُنِ الْعَمَلُ

وَالْعِلْمُ زَيْنٌ وَتَقَوَى اللهِ زِينَتُهُ + وَالْمُتَّقُونَ لَهُمْ فِي عِلْمِهِمْ شُغُلُ

وَحُجَّةُ اللهِ يَا ذَا الْعِلْمِ بَالِغَةٌ + لَا الْمَكْرُ يَنْفَعُ فِيهَا لَا وَلَا الْحِيَلُ

تَعَلَّمِ الْعِلْمَ وَاعْمَلْ مَا اسْتَطَعْتَ بِهِ + لَا يُلْهِيَنَّكَ عَنْهُ اللَّهْوُ وَالْجَدَلُ

‘ওহে! ইলম অনুযায়ী আমল কর, তবে তুমি পুরস্কৃত হবে। যার আমল সুন্দর হয় না, তার ইলম উপকারী হয় না। ইলম হ’ল শোভা আর আমল তার অলংকার। আর অর্জিত ইলমের ব্যাপারে মুত্তাক্বীদের দায়িত্ব রয়েছে। হে আলিম! ইলম আল্লাহর চূড়ান্ত হুজ্জাত (দলীল), সুতরাং এ ব্যাপারে কোন ধোঁকাবাজি ও অপকৌশল চলে না। ইলম অর্জন কর এবং সাধ্যানুযায়ী আমল কর। তর্ক ও উদাসীনতা যেন তোমাকে ইলম অনুযায়ী আমল করা থেকে বিরত না রাখে’।[9]

২.আমলহীন ইলমের কোন মূল্য নেই :

যে ইলম আমল উৎপন্ন করে না, তা কেবল বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। কুরআনে বনী ইসরাঈলের সেই আলেমদের উদাহরণ এসেছে, যারা তাওরাত জানত; কিন্তু তাওরাতের বিধান অনুযায়ী আমল করত না। তাদেরকে গাধার সাথে তুলনা করা হয়েছে, যে না বুঝেই শুধু বইয়ের বোঝা বহন করে। আল্লাহ বলেন, مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِ اللَّهِ، ‘যারা তাওরাত বহনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল, অতঃপর তারা তা বহন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত হ’ল গাধার মত, যে কিতাবের বোঝাসমূহ বহন করে। কতই না মন্দ সেই সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত, যারা আল্লাহর আয়াত সমূহে মিথ্যারোপ করে’ (জুমু‘আ ৬২/৫)। বর্তমান মুসলিম সমাজে এমন শিক্ষিত ব্যক্তির অভাব নেই, কিন্তু তাদের অনেকেই ইসলামী নীতি-আদর্শকে জীবনে প্রয়োগ করেন না। ফলস্বরূপ তাদের জ্ঞান সমাজে আলো ছড়ায় না।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, مَثَلُ عِلْمٍ لَا يُعْمَلُ بِهِ كَمَثَلِ كَنْزٍ لَا يُنْفَقُ مِنْهُ فِي سَبِيلِ اللهِ عز وجل، ‘যে ইলম অনুযায়ী আমল করা হয় না, তার উদাহরণ সেই গুপ্তধনের মতো যেখান থেকে আল্লাহর পথে খরচ করা হয় না’।[10] সাহল তুসতারী (রহঃ) বলেন, العِلْمُ ‌كُلُّهُ ‌دُنْيَا، ‌وَالْآخِرَةُ ‌مِنْهُ ‌الْعَمَلُ ‌بِهِ، ‌وَالْعَمَلُ ‌كُلُّهُ ‌هَبَاءٌ ‌إِلَّا ‌الإِخْلَاص، ‘ইলম পুরোটাই দুনিয়াতে সীমাবদ্ধ। এর মধ্যে শুধু সেই আমলই আখেরাতে কাজে আসবে, যে অনুযায়ী আমল করা হয়েছে। আর ইখলাছ ছাড়া সব আমল ধূলিকণায় পরিণত হবে’।[11]

খতীব বাগদাদী (রহঃ) বলেন, كَمَا لَا تَنْفَعُ الْأَمْوَالُ إِلَّا بِإِنْفَاقِهَا، ‌كَذَلِكَ ‌لَا ‌تَنْفَعُ ‌الْعُلُومُ ‌إِلَّا ‌لِمَنْ ‌عَمِلَ ‌بِهَا، ‘দান-ছাদাক্বা ছাড়া যেমন ধন-সম্পদ উপকারী হয় না; তেমনি অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা ব্যতীত ইলমও উপকারী হয় না’।[12] ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) বলেন, صاحبُ الحديث عِندنا من يَستعمل الحديث، ‘আমাদের নিকট আহলেহাদীছ সেই ব্যক্তি, যিনি হাদীছের উপর আমল করেন’।[13]

আববাসী কবি আব্দুল্লাহ ইবনুল মু‘তায (২৪৭-২৯৬হি.) বলেন, عِلْمٌ بِلَا عَمَلٍ كَشَجَرَةٍ بِلَا ثَمَرَةٍ ‘আমল বিহীন ইলম ফলহীন গাছের মতো’।[14] সাঈদ ইবনে আববাস (রহঃ) বলেন, كُنْ عَالِمًا عَامِلًا فَقَدْ عَلِمَ أَقْوَامٌ وَلَمْ يَعْمَلُوا وَلَمْ يَكُنْ عِلْمُهَمْ إِلَّا عَلَيْهِمْ وَالْعِلْمُ وَالْعَمَلُ قَرِينَانِ لَا يَنْفَعُ أَحَدُهُمَا إِلَّا بِصَاحِبِهِ، ‘তুমি জ্ঞানী হও এবং সে অনুযায়ী আমলকারী হও। কেননা এমন কিছু লোক ছিল যারা ইলম অর্জন করেছিল, কিন্তু আমল করেনি। ফলে তাদের জ্ঞান তাদের বিরুদ্ধে গিয়েছিল। ইলম ও আমল পরস্পরের সঙ্গী। একটি ছাড়া অপরটি কোন উপকার করতে পারে না’।[15]

শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে বায (রহঃ) বলেন,ولا ريب أن العلم هو مفتاح كل خير، ‌وهو ‌الوسيلة ‌إلى ‌أداء ‌ما ‌أوجب ‌الله وترك ما حرم الله، فإن العمل نتيجة العلم لمن وفقه الله، وهو مما يؤكد العزم على كل خير، فلا إيمان ولا عمل ولا كفاح ولا جهاد إلا بالعلم، فالأقوال والأعمال التي بغير علم لا قيمة لها، ولا نفع فيها بل تكون لها عواقب وخيمة، وقد تجر إلى فساد كبير، ‘নিঃসন্দেহে সকল কল্যাণের চাবিকাঠি হ’ল ইলম বা জ্ঞান। আল্লাহর ফরযকৃত বিধানের প্রতিপালন এবং তাঁর নিষিদ্ধ বিষয় সমূহ বর্জনের প্রধান মাধ্যম এটাই। আল্লাহ যাকে তাওফীক্ব দান করেন তার জ্ঞানের ফলাফল হ’ল তার আমল। এটা প্রত্যেক কল্যাণকর কাজের সংকল্পকে সুনিশ্চিত করে। ইলমবিহীন ঈমান, আমল, সংগ্রাম ও জিহাদের কোন গুরুত্ব নেই। ইলমবিহীন কথা ও কাজের কোন মূল্য নেই। জ্ঞান বিহীন কোন কিছুতে উপকারিতা তো নেই; বরং রয়েছে মারাত্মক ক্ষতি, যা বড় ফাসাদের দিকে টেনে নিয়ে যায়’।[16] হাস্সান ইবনু সিনান (রহঃ) বলেন, بَادِرِ انْقِطَاعَ عَمَلِكَ، فَإِنَّ الْمَوْتَ إِذَا جَاءَ انْقَطَعَ الْبُرْهَانُ، ‘তোমরা আমলের দরজা বন্ধ হওয়ার আগইে দ্রুত আমল কর। কেননা যখন মৃত্যু এসে যাবে, তখন সব যুক্তি-তর্ক বন্ধ হয়ে যাবে’।[17] আবূ সাঈদ আল-খাররায (রহঃ) বলেন, الْعِلْمُ مَا اسْتَعْمَلَكَ، وَالْيَقِينُ مَا حَمَلَكَ، ‘ইলম সেটাই যা তুমি আমল করেছ। আর ইয়াক্বীন বা দৃঢ় বিশ্বাস হ’ল যা তুমি (নিজের মধ্যে) ধারণ করেছ’।[18]

হাফছ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) বলেন, আমি একবার দাউদ আত-তাঈ (রহ.)-এর কাছে একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করতে গিয়েছিলাম। তিনি ছিলেন নম্র স্বভাবের মানুষ। তিনি বলেন, ‘তুমি কি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কোন যোদ্ধাকে দেখনি? সে যখন যুদ্ধের মুখোমুখি হ’তে চায়, তখন কি সে নিজের অস্ত্র-সরঞ্জাম সংগ্রহ করে না? কিন্তু যদি সে তার পুরো জীবন কেবল অস্ত্র-সরঞ্জাম জোগাড় করতেই ব্যয় করে ফেলে, তবে সে যুদ্ধ করবে কখন? জেনে রেখো, إِنَّ الْعِلْمَ آلَةُ الْعَمَلِ، فَإِذَا أَفْنَى عُمُرَهُ فِي جَمْعِهِ فَمَتَى يَعْمَلُ؟ ‘ইলম হ’ল আমলের অস্ত্র। আর যদি কেউ তার গোটা জীবন কেবল জ্ঞান আহরণেই ব্যয় করে ফেলে, তবে সে আমল করবে কখন?[19] অতএব অর্জিত জ্ঞান তখন ফলপ্রসু ও উপকারী হবে, যখন সেটা আমলে বাস্তবায়ন করা হবে।

৩. শুধু ইলম অর্জন করে আলেম হওয়া যায় না :

যিনি বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থ মুখস্থ করেছেন বা কুরআন-হাদীছ ও ফিক্বহের বিধি-বিধান ও মাসআলা অধ্যয়ন করেছেন, তিনি কেবল তখনই সত্যিকারের আলেম হিসাবে গণ্য হবেন, যখন এইগুলো তার আমলে বাস্তবায়িত হবে। কেননা আমলহীন জ্ঞানী ব্যক্তিকে কখনোই আলেম গণ্য করা হয় না। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,مَثَلُ عِلْمٍ لَا يُنْتَفَعُ بِهِ، ‌كَمَثَلِ ‌كَنْزٍ ‌لَا ‌يُنْفَقُ ‌مِنْهُ ‌فِي ‌سَبِيلِ ‌اللهِ، ‘যেই ইলম অনুযায়ী আমল করা হয় না, সেটা এমন গচ্ছিত সম্পদের মতো যা থেকে আল্লাহর পথে খরচ করা হয় না’।[20] যেমন সমাজের সব মুসলিমই ছালাতের গুরুত্ব জানে, কিন্তু ছালাত আদায় করে না; পাপাচার ও হারামের ভয়াবহতা জানে, কিন্তু তা পরিহার করে না; সততার ফযীলত জানে, কিন্তু লেনদেনে তা অবলম্বন করে না। এই অবস্থাই ঐ গচ্ছিত সম্পদের মতো- তা যত মূল্যবানই হোক, আল্লাহর পথে খরচ না করলে কোন উপকার দেয় না; উপরন্তু সেই সম্পদ ক্বিয়ামতের ময়দানে ব্যক্তির জন্য শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তদ্রূপ ইলম যতই মূল্যবান হোক না কেন, তা আমল ছাড়া আখেরাতে কোন উপকার করবে না; বরং ঐ ইলম তার শাস্তির কারণ হ’তে পারে। আবুদ্দারদা (রাঃ) বলেন,‌لَا ‌يَكُونُ ‌الرَّجُلُ ‌عَالِمًا حَتَّى يَكُونَ مُتَعَلِّمًا، وَلَا يَكُونُ عَالِمًا حَتَّى يَكُونَ بِالْعِلْمِ عَامِلًا، ‘কোন ব্যক্তি আলেম হ’তে পারে না; যতক্ষণ না সে ছাত্র হয়। আর অর্জিত ইলম অনুযায়ী আমল না করা পর্যন্ত কেউ আলেম হ’তে পারে না’।[21]

ইবরাহীম আল-খাওয়াছ (মৃ. ২৯০হি.) বলেন,لَيْسَ الْعِلْمُ بِكَثْرَةِ الرِّوَايَةِ، ‌وَإِنَّمَا ‌الْعَالِمُ ‌مَنِ ‌اتَّبَعَ ‌الْعِلْمَ، ‌وَاسْتَعْمَلَهُ، وَاقْتَدَى بِالسُّنَنِ، وَإِنْ كَانَ قَلِيلَ الْعِلْمِ، ‘অধিক বেশী (হাদীছ) বর্ণনা করার নাম প্রকৃত ইলম নয়। বরং প্রকৃত আলেম হ’ল সেই ব্যক্তি, যে ইলমের অনুসরণ করে, সে অনুযায়ী আমল করে এবং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুন্নাতের অনুসরণ করে, যদিও তার ইলম অতি সামান্য হয়’।[22] অর্থাৎ জ্ঞান শুধু বহুল পরিমাণে তথ্য সংগ্রহ করার নাম নয়, বরং তা অনুসরণ করে জীবনে বাস্তবায়ন করাই প্রকৃত আলেমের পরিচায়ক। যে ব্যক্তি অল্প জ্ঞান অর্জন করলেও তা হৃদয়ে স্থাপন করে, আমলে পরিণত করে এবং নবী কারীম (ছাঃ)-এর সুন্নাতের অনুসরণ করে, সে সত্যিকারের আলেমে দ্বীন।

ফুযাইল ইবনে ইয়ায (রহঃ) বলেন,لَا يَزَالُ الْعَالِمُ جَاهِلًا بِمَا عَلِمَ حَتَّى يَعْمَلَ بِهِ، فَإِذَا عَمِلَ بِهِ كَانَ عَالِمًا، ‘ইলম অনুযায়ী আমল না করা পর্যন্ত জ্ঞানী ব্যক্তি মূর্খই থেকে যায়। যখন আমল করে কেবল তখন সে আলেম হিসাবে গণ্য হয়’। তিনি আরো বলেন, إِنَّمَا يُرَادُ مِنَ الْعِلْمِ الْعَمَلُ، وَالْعِلْمُ دَلِيلُ الْعَمَلِ ‘জ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য হ’ল আমল। আর ইলম আমলের দলীল স্বরূপ’।[23]

মালেক ইবনু দীনার বলেন, আমি হাসান বছরীকে জিজ্ঞাসা করলাম, ما عقوبة العالم إذا أحب الدنيا؟ ‘একজন আলেম দুনিয়া আসক্ত হ’লে তার শাস্তি কি? তিনি উত্তর দিলেন, موت القلب، فإذا أحب الدنيا طلبها بعمل الآخرة، فعند ذلك ترحل عنه بركات العلم ويبقى عليه رسمه، ‘অন্তর মরে যায়। সে দুনিয়া ভালোবেসে ফেললে আখিরাতের আমল দিয়ে দুনিয়া অন্বেষণ করে। তখন তার থেকে ইলমের বরকত উঠে যায়, শুধু আলেম পরিচয়টুকু থেকে যায়’।[24] ইবনুল মুবারক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘আলেমদের কি এমন কোন আলামত আছে, যেগুলো দিয়ে তাদেরকে চেনা যাবে?’ তিনি বলেন,عَلامَةُ العَالِم مَنْ ‌عَمِلَ بعلْمِهِ، واستَقَلَّ كَثيْرَ العِلْمِ مِنْ نَفْسِهِ، ورَغِبَ في عِلْمِ غَيْرِهِ، وقَبِلَ الحَقَّ مِنْ كلِّ مَنْ أَتَاهُ بِهِ، وأَخَذَ العِلْمَ حَيْثُ وَجَدَهُ، فَهذهِ عَلامَةُ العَالِمِ وصِفَتُهُ، ‘আলেমের নিদর্শন হ’ল যে তার ইলম অনুযায়ী আমল করবে, নিজের অধিক জ্ঞানকেও সামান্য মনে করবে, অন্যের ইলমের প্রতি আগ্রহী হবে, হক যেখান থেকেই আসুক, সেটা গ্রহণ করবে, যেখানেই ইলম পাবে কুড়িয়ে নিবে।

এগুলোই হ’ল আলেমের আলামত ও বৈশিষ্ট্য’।[25]

সুফিয়ান ইবনে ‍উয়ায়না (রহঃ) বলেন, أَشَدُّ النَّاسِ حَسْرَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثَلَاثَةٌ: رَجُلٌ كَانَ لَهُ عَبْدٌ فَجَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَفْضَلَ عَمَلًا مِنْهُ وَرَجُلٌ لَهُ مَالٌ فَلَمْ يَتَصَدَّقْ مِنْهُ فَمَاتَ فَوَرِثَهُ غَيْرُهُ فَتَصَدَّقَ مِنْهُ، وَرَجُلٌ عَالِمٌ لَمْ يَنْتَفِعْ بِعِلْمِهِ فَعَلَّمَهُ غَيْرَهُ فَانْتَفَعَ بِهِ، ‘ক্বিয়ামতের দিন তিন প্রকার মানুষ সবচেয়ে বেশী আফসোস করবে- (১) এমন ব্যক্তি, যার একজন ক্রীতদাস ছিল, যে ক্বিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল নিয়ে উপস্থিত হবে, (২) এমন ব্যক্তি, যার সম্পদ ছিল, কিন্তু সে তার জীবদ্দশায় তা থেকে দান-ছাদাক্বাহ করতে পারেনি, তবে সে মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীরা তা থেকে দান করেছে এবং (৩) এমন ব্যক্তি, যে নিজে আলেম ছিল, কিন্তু সে তার ইলম দ্বারা উপকৃত হ’তে পারেনি, তবে সে অন্যদের শিক্ষা দিয়েছিল এবং সে সেই ইলম দ্বারা উপকৃত হয়েছে’।[26]

হাফেয ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, فَلَيْسَ الْعِلْمُ كَثْرَةَ النَّقْلِ وَالْبَحْثِ وَالْكَلَامِ، وَلَكِنْ نُورٌ يَمِيزُ بِهِ صَحِيحَ الْأَقْوَالِ مِنْ سَقِيمِهَا، وَحَقِّهَا مِنْ بَاطِلِهَا، وَمَا هُوَ مِنْ مِشْكَاةِ النُّبُوَّةِ مِمَّا هُوَ مِنْ آرَاءِ الرِّجَالِ، ‘অধিক হাদীছ বর্ণনা করা, অনুসন্ধান করা ও আলোচনা করার নাম ইলম নয়। কেননা ইলম হ’ল আলো, যার মাধ্যমে অশুদ্ধ কথামালার মধ্য থেকে সঠিক কথা পৃথক করা যায় এবং বাতিল কথা থেকে সত্য কথাকে আলাদা করা যায়। আর ইলম কোন মানুষের মতামত থেকে নির্গত ভবিষ্যদ্বাণীর দ্বীপাধার নয়’।[27]

৪.ইলম অনুযায়ী অল্প আমলই যথেষ্ট হয়ে যায় :

আল্লাহর কাছে আমলের পরিমাণের চেয়ে মান ও কোয়ালিটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সামান্য সৎকর্মও ইখলাছ ও আন্তরিকতার সাথে সম্পন্ন হ’লে আল্লাহ তা কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে বান্দাকে জান্নাত দান করেন। নবী করীম (ছাঃ) বলেন,يَا أَيُّهَا النَّاسُ، خُذُوا مِنَ الأَعْمَالِ مَا تُطِيقُونَ، فَإِنَّ اللهَ لاَ يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوا، وَإِنَّ أَحَبَّ الأَعْمَالِ إِلَى اللهِ مَا دَامَ وَإِنْ قَلَّ، ‘হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমল করতে থাক। কারণ আল্লাহ (ছওয়াব দানে) ক্লান্তিবোধ করেন না, যতক্ষণ না তোমরা (আমল সম্পাদনে) ক্লান্ত হয়ে পড়। আর আল্লাহর নিকট ঐ আমল সবচেয়ে প্রিয়, যা অল্প হ’লেও নিয়মিত করা হয়’।[28]

অনেক সময় দেখা যায়, কেউ কোন বিষয়ে ইলম অর্জনের পর শুরুতে প্রবল উৎসাহে বড় বড় আমল শুরু করেন। একসাথে বহু নফল ছালাত আদায়, দীর্ঘ সময় ধরে কুরআন তেলাওয়াত, সুদীর্ঘ ক্বিয়ামুল লায়ল ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ আমল করেন। কিন্তু কিছুদিন পর ব্যস্ততা, ক্লান্তি বা আগ্রহের ঘাটতির কারণে সেই আমল ছেড়ে দেন, ফলে ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে যায়। অথচ অত্র হাদীছের শিক্ষা হ’ল অল্প হ’লেও নিয়মিত আমল আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। কারণ জ্ঞান যখন আমলে রূপ নেয়, তখন তা হৃদয়ে প্রোথিত হয় এবং স্থায়ী প্রভাব ফেলে। যেমন কেউ যদি প্রতিদিন মাত্র দুই রাক‘আত তাহাজ্জুদ ছালাত নিয়মিত আদায় করেন বা প্রতিদিন অনুধাবন করে কুরআনের পাঁচটি আয়াত তিলাওয়াত করেন, তবে তা মাঝে মধ্যে বিশাল আমল করার চেয়ে অধিক মূল্যবান ও গ্রহণযোগ্য হবে। কেননা আল্লাহর নিকট আমলের ইখলাছ ও স্থায়িত্বই আসল, পরিমাণ নয়।

মালেক ইবনু দীনার (রহঃ) বলেন, مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِنَفْسِهِ فَالْقَلِيلُ مِنْهُ يَكْفِي، وَمَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِحَوَائِجِ النَّاسِ فَحَوَائِجُ النَّاسِ كَثِيرَةٌ، ‘যে ব্যক্তি নিজের জন্য ইলম অর্জন করে, তার জন্য অল্প ইলমই যথেষ্ট হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি মানুষের প্রয়োজনে ইলম শিখে, (সে জেনে রাখুক) মানুষের প্রয়োজন অফুরন্ত’।[29]

ইবরাহীম ইবনে আদহাম (রহঃ) বলেন, ‌من ‌طلب ‌العلم ‌خالصا لينتفع به عباد الله وينفع نفسه كان الخمول أحب إليه من التطاول، فذلك الذي يزداد في نفسه ذلا، وفي العبادة اجتهادا، ومن الله خوفا، وإليه اشتياقا، وفي الناس تواضعا، ‘যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে নিজে উপকৃত হওয়ার জন্য এবং আল্লাহর অপর বান্দাকে উপকৃত করার জন্য ইলম শিখে, মানুষের কাছে সুপরিচিত হওয়ার চেয়ে অখ্যাতিই তার কাছে অধিক প্রিয়তর হবে। এই একনিষ্ঠ ইলমের জন্য সে নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে করবে, ইবাদত-বন্দেগীতে পরিশ্রমী হবে, আল্লাহ্কে আরো বেশী ভয় পাবে, তাঁর প্রতি আরও বেশী আগ্রহী হবে এবং মানুষের মাঝে সে হবে সবচেয়ে বিনয়ী প্রকৃতির’।[30]

ইউসুফ ইবনে হুসাইন (রহঃ) বলেন,فِي الدُّنْيَا طُغْيَانَانِ: طُغْيَانُ الْعِلْمِ وَطُغْيَانُ الْمَالِ، وَالَّذِي يُنْجِيَكَ مِنْ طُغْيَانِ الْعِلْمِ الْعِبَادَةُ، وَالَّذِي يُنْجِيَكَ مِنْ طُغْيَانِ الْمَالِ الزُّهْدُ فِيهِ، ‘দুনিয়াতে দুই ধরনের বাড়াবাড়ি রয়েছে- (১) জ্ঞানের বাড়াবাড়ি এবং (২) সম্পদের বাড়াবাড়ি। ইবাদত তোমাকে ইলমের বাড়াবাড়ি থেকে রক্ষা করবে। আর দুনিয়া বিমুখতা তোমাকে সম্পদের বাড়াবাড়ি থেকে মুক্তি দিবে’।[31]

৫.আমলের মাধ্যমে উপকারী ইলমের পথ উন্মোচিত হয় :

উপকারী জ্ঞান বান্দার জন্য নতুন জ্ঞানের দরজা খুলে দেয়। কারণ যদি কেউ কোন কিছু শিখে তা বাস্তবে পালন করতে থাকে, তখন আল্লাহ তার অন্তরে আরও গভীর জ্ঞান ও হেকমত দান করেন। উদাহরণস্বরূপ কেউ ছালাতের গুরুত্ব সম্পর্কে জেনে তা নিয়মিত আদায় শুরু করল। কিছুদিন পর সে ছালাতের মধ্যে খুশূ‘-খুযূ‘ অর্জনের চেষ্টা করবে, আয়াতের অর্থ বুঝতে চাইবে, সঠিকভাবে কুরআন তেলাওয়াত ও তাজবীদ শিখতে আগ্রহী হবে। এভাবে তার আমলই তাকে নতুন নতুন ইলমের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। অনুরূপভাবে কেউ যদি রিযিকের হালাল-হারাম বিষয়ে জেনে তা মেনে চলতে শুরু করে। কিছুদিন পর তার মনে প্রশ্ন জাগবে, আর কোন কোন লেনদেন হারাম? তখন সে ফিক্বহ শিখতে আগ্রহী হবে। অতএব ইলম শুধু মুখস্থ করার জন্য নয়; বরং যখন তা আমলে পরিণত হয়, তখন আল্লাহ তার মাধ্যমে উপকারী জ্ঞানের নতুন নতুন দরজা খুলে দেন। আল্লাহ বলেছেন, وَالَّذِينَ جَاهَدُوْا فِينَا ‌لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِيْنَ، ‘আর যারা আমাদের পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমরা আমাদের পথ সমূহের দিকে পরিচালিত করব। বস্ত্ততঃ আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মশীলদের সাথে থাকেন’ (আনকাবূত ২৯/৬৯)

অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, ‌الَّذِيْنَ ‌يَعْمَلُوْنَ ‌بِمَا ‌يَعْلَمُوْنَ ‌نَهْدِيْهِمْ ‌إِلَى ‌مَا ‌لَا ‌يَعْلَمُوْنَ، ‘যারা অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে, আমি তাদের অজানা বিষয়গুলো সম্পর্কে পথ দেখাবো’।[32] ফুযাইল ইবনে ইয়ায (রহঃ) বলেন, مَنْ عَمِلَ بِمَا عَلِمَ، اسْتَغنَى عَمَّا لاَ يَعْلَمُ، وَمَنْ عَمِلَ بِمَا عَلِمَ، وَفَّقَهُ اللهُ لِمَا لاَ يَعْلَمُ، ‘কোন ব্যক্তি জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে, সে অজানা বিষয় থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যাবে। আর যে ইলম অনুযায়ী আমল করে, তার অজানা বিষয় জানার জন্য আল্লাহ তাকে তাওফীক্ব দান করেন’।[33]

আবু আব্দুল্লাহ রুযবারী (মৃ. ৩৬৯ হি.) বলেন,‌الْعِلْمُ ‌مَوْقُوفٌ ‌عَلَى ‌الْعَمَلِ بِهِ، وَالْعَمَلُ مَوْقُوفٌ عَلَى الْإِخْلَاصِ، وَالْإِخْلَاصُ لِلَّهِ يُورِثُ الْفَهْمَ عَنِ اللهِ عز وجل، ‘ইলম নির্ভরশীল সে অনুযায়ী আমল করার উপর। আর আমল নির্ভরশীল ইখলাছের উপর। আর আল্লাহর জন্য ইখলাছ মানুষকে তাঁর পক্ষ থেকে গভীর প্রজ্ঞা দান করে’।[34]

মাত্বার ইবনে ত্বাহমান আল-ওয়াররাক্ব (মৃ. ২২৯ হি.) বলেন, خَيْرُ الْعِلْمِ مَا نَفَعَ وَإِنَّمَا يَنْفَعُ اللهُ بِالْعِلْمِ مَنْ عَلِمَهُ ثُمَّ عَمِلَ بِهِ، وَلَا يَنْفَعُ بِهِ مَنْ عَلِمَهُ ثُمَّ تَرَكَهُ، ‘শ্রেষ্ঠ ইলম সেটাই যা (তার বাহককে) উপকৃত করে। যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করে এবং তা আমলে পরিণত করে, আল্লাহ তাকে তার ইলমের মাধ্যমে উপকৃত করেন। আর যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করে আমল পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে তার ইলমের মাধ্যমে উপকৃত করেন না’।[35]

৬. দুনিয়া আমলের জায়গা :

দুনিয়া আসলে আমল করার জায়গা। আর আখেরাত হ’ল আমলের ফল ভোগ করার জায়গা। তাই ইলম অর্জনের পর তা বাস্তবে প্রয়োগ করাই মূল উদ্দেশ্য। আল্লাহ বলেন,وَقُلِ اعْمَلُوا فَسَيَرَى اللهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ وَسَتُرَدُّونَ إِلَى عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ، ‘আর তুমি বল, তোমরা কাজ করে যাও। অচিরেই তোমাদের কাজ দেখবেন আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও ঈমানদারগণ। আর সত্বর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে সেই সত্তার নিকটে, যিনি গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়ে অবগত। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন’ (তওবা ৯/১০৫)

আল্লামা আব্দুর রহমান আস-সা‘দী (রহঃ) বলেন, ‘এ আয়াতে রয়েছে কঠোর ভয় প্রদর্শন ও কঠিন সতর্কবাণী তাদের জন্য, যারা নিজেদের মিথ্যা, অবাধ্যতা, পথভ্রষ্টতা ও পাপাচারে অবিচল থাকে। সুতরাং আয়াতের অর্থ হ’ল তোমরা ভালো কিংবা মন্দ যে কাজই কর না কেন, আল্লাহ তা অবগত আছেন। আর আল্লাহ তাঁর রাসূল ও ঈমানদার বান্দাদেরও তোমাদের কাজ সম্পর্কে অবহিত করবেন, যদিও তা গোপনেই সম্পাদিত হয়ে থাকে’।[36]

অতএব আল্লাহর ইবাদতের ফযীলত ও তাঁর অবাধ্যতার ভয়াবহতা জেনে সেই অনুযায়ী আমল না করা তেমনি নিস্ফল যেমন জমিতে বীজ বপন না করেই ফসলের আশা করা নিরর্থক। উদাহরণত কেউ যদি জানে যে, পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করা ফরয, তা জামা‘আতের সাথে আদয় করা অপরিহার্য, কিন্তু সময়মতো ছালাত আদায় করে না, জামা‘আতে ছালাতের ব্যাপারে গাফলতি করে, তাহ’লে তার ইলম তার কোন উপকারে আসবে না। অপরদিকে যে ব্যক্তি অল্প জানে, কিন্তু সে অনুযায়ী আমল করে, তবে সে-ই সফলতার মনযিলে পৌঁছে যাবে। এজন্য ছাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে ছালেহীন ইলম শিখে তাৎক্ষণিকভাবে তা জীবনে বাস্তবায়ন করতেন, যেন আখেরাতে এর ফল লাভ করা যায়।

যেমন আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেন,‌كانَ ‌الرجل ‌مِنَّا ‌إذا ‌تعلَّم ‌عَشْر ‌آياتٍ ‌لم يجاوزهُنّ حتى يعرف معانيهِنَّ، والعملَ بهنَّ، ‘আমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি যখন দশটি আয়াত শিখতেন, তখন সেই আয়াতগুলো অতিক্রম করতেন না যতক্ষণ না এগুলোর অর্থ জানতেন এবং আমল করতেন’।[37] ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন,الْمَطْلُوبُ مِنْ الْقُرْآنِ هُوَ فَهْمُ مَعَانِيهِ، وَالْعَمَلُ بِهِ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ هَذِهِ هِمَّةَ حَافِظِهِ لَمْ يَكُنْ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ وَالدِّينِ، ‘কুরআন পাঠের মূল উদ্দেশ্য হ’ল এর অর্থ অনুধাবন করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। কুরআনের বাহকের যদি এই অভিপ্রায় না থাকে, তবে সে আলেম ও দ্বীনদানদের অন্তর্ভুক্ত হবে না’।[38]

সুফিয়ান ছাওরী (রহঃ) বলেছেন,مَا بَلَغَنِي عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيْثٌ قَطُّ، إِلاَّ عَمِلْتُ بِهِ وَلَوْ مَرَّةً، ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কোন হাদীছ যখনই আমার কাছে পৌঁছেছে, আমি জীবনে একবার হ’লেও তার উপর আমল করেছি’।[39]

৭. ক্বিয়ামতের দিন বান্দা এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে :

বান্দা স্বীয় অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করেছে কি-না সে ব্যাপারে আল্লাহর নিকটে জিজ্ঞাসিত হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,لَا تَزُولُ قَدَمُ ابْنِ آدَمَ يَوْمَ القِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّهِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ، عَنْ عُمُرِهِ فِيمَ أَفْنَاهُ، وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ، وَمَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ، وَمَاذَا عَمِلَ فِيمَا عَلِمَ ‘ক্বিয়ামতের দিন আদম সন্তানের পা তার রবের কাছ থেকে একটুও নড়াতে পারবে না, যতক্ষণ না তাকে পাঁচটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে : (১) তার জীবনকাল সম্পর্কে, তা কোন পথে অতিবাহিত করেছে, (২) তার যৌবনকাল সম্পর্কে, কি কাজে তা বিনাশ করেছে, (৩) তার ধন-সম্পদ সম্পর্কে, কোথা থেকে তা উপার্জন করেছে, (৪) আর তা কোন খাতে ব্যয় করেছে এবং (৫) সে যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছিল সে অনুযায়ী কী আমল করেছে’।[40] এখানে হাশরের মাঠের ভীতিকর জবাবদিহিতার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। পঞ্চম পয়েন্টের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জ্ঞান কেবল স্মৃতিতে ধরে রাখা এবং বইপত্রে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য নয়; বরং তা মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার জন্য, নিজের আমলকে সংশোধন করার জন্য এবং অন্যকে সৎপথে আহবানের জন্য। একজন মানুষ যদি আল্লাহর আদেশ-নিষেধ সম্পর্কে জানে, কিন্তু নিজের জীবনকে সেই অনুযায়ী গড়ে না তোলে, তবে সে জ্ঞান অর্জন করেও ব্যর্থ হয়েছে। অনেকে হারাম-হালালের বিধান জানে, কিন্তু ব্যবসায় মুনাফার লোভে সূদে জড়িয়ে পড়ে; আবার কেউ ইসলামে গীবত নিষিদ্ধ জেনেও প্রতিদিন আড্ডায় গীবত করে সময় কাটায়। এমন আচরণ মূলত জ্ঞানের অপমান এবং ক্বিয়ামতের দিন ভয়াবহ অবস্থার কারণ হবে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে যাবতীয় অজ্ঞতা এবং পরকালের কঠিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হওয়া থেকে রক্ষা করুন।

৮.জান্নাত লাভের মাধ্যম :

ইসলামে জ্ঞানকে উদ্দেশ্য হিসাবে নয়, বরং সঠিক আমলের পথপ্রদর্শক হিসাবে দেখা হয়। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, এক বেদুঈন লোক রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে এসে বলল,يَا رَسُولِ اللهِ، دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ إِذَا عَمِلْتُهُ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ، ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমলের সন্ধান দিন, যা করলে আমি জান্নাতে যেতে পারব। তিনি বললেন,تَعْبُدُ اللهَ لَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ، وَتُؤَدِّي الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، ‘আল্লাহর ইবাদাত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না, ফরয ছালাত আদায় করবে, ফরয যাকাত প্রদান করবে এবং রামাযানের ছিয়াম পালন করবে। এ কথা শুনে লোকটি বলল,وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا شَيْئًا أَبَدًا، وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُ، ‘ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন রয়েছে! আমি এর থেকে বেশীও করব না, কমও করব না’। এ কথা বলে লোকটি যখন চলে যাচ্ছিল, তখন নবী করীম (ছাঃ) তার দিকে ইঙ্গিত করে বললেন,مَنْ سَرَّهُ أَنَّ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَذَا، ‘যে ব্যক্তি জান্নাতী কোন লোককে দেখে আনন্দিত হ’তে চায়, সে যেন এ লোককে দেখে’।[41]

অত্র হাদীছে একটি বড় শিক্ষা রয়েছে। সেটা হ’ল সত্যিকারের সফলতা শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে লাভ করা যায় না, বরং সেই জ্ঞানের উপর নিঃর্শত আমলের মাধ্যমে লাভ করা যায়। এই বেদুঈন লোকটি অল্প কিছু জ্ঞান পেয়েছে, কিন্তু সেটাকে মনে-প্রাণে গ্রহণ করেছে ও বাস্তবায়নের দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছে। আর এই খুলূছিয়াত ও দৃঢ়তার জন্যই তার ব্যাপারে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। আমাদের সবার হৃদয়ে যদি সেই বেদুঈনের মতো দৃঢ় সংকল্পের স্ফূরণ ঘটে, তবে এই নব্য জাহেলিয়াতের পরিবেশে পুনরায় ঈমানী বাতাস প্রবাহিত হবে। তাক্বওয়া ও বরকতের ধারায় সিক্ত এক সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।

উপসংহার :

ইলম ও আমল হ’ল দ্বীনের দু’টি শক্তিশালী বুনিয়াদ। একজন মুমিনের সাফল্য এ দু’টি স্তম্ভের উপরেই দন্ডায়মান। অর্জিত জ্ঞান মানচিত্রের মতো, যা সঠিক পথ দেখায়। আর আমল ও ইবাদত-বন্দেগী হ’ল সেই মানচিত্রের পথ ধরে গন্তব্যের দিকে যাত্রা করার ন্যায়। মানুষ মানচিত্র হাতে রেখেও যাত্রা শুরু না করলে সে কখনো গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে না। আবার কেউ যদি মানচিত্র ছাড়া যাত্রা শুরু করে তবে সে পথ হারিয়ে ফেলবে। সেজন্য বাস্তব জীবনে ইলম ও আমলের সমন্বয় ঘটানো অপরিহার্য। বর্তমান মুসলিম উম্মাহ যদি তাদের হারানো মর্যাদা ফিরে পেতে চায়, আধ্যাত্মিক ও ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান হ’তে চায়, তবে এটিই তাদের জন্য প্রধান উপায়। মহান আল্লাহর দরবারে আকুল প্রার্থনা তিনি যেন আমাদেরকে এমন উপকারী ইলম হাছিলের তাওফীক্ব দেন, যা আমাদের হৃদয়ে ঈমানের নূর পয়দা করে এবং জীবনকে সুশোভিত করে। আর সেই অর্জিত জ্ঞানের আলোকে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত-বন্দেগী ও দাসত্ব করার তাওফীক্ব দান করেন। আমারা যেন জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে জান্নাতের পথে যাত্রা করতে পারি, মহান রব আমাদেরকে সেই খোশ নছীব দান করুন-আমীন!

-আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ

*. এম.ফিল গবেষক, আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়।


[1]. মুহাম্মাদ ছালেহী আশ-শামী, সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ইলমিইয়াহ, ১ম প্রকাশ, ১৪১৪হি./১৯৯৩খৃ.), ১/৪২১; মুহাম্মাদ ইবনে সালেম আল-মাজলীসী, লাওয়ামি‘উদ দুরার (মৌরিতানিয়া : দারুর রিযওয়ান, ১৪৩৬হি./২০১৫খৃ.), ১/১১০।

[2]. আবূ নু‘আইম ইছফাহানী, হিলয়াতুল আওলিয়া ১/৭৫; সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ১১/২৯৯।

[3]. শাত্বেবী, আল-মুওয়াফাক্বাত, মুহাক্কিক্ব : বকর আবূ যায়েদ (মিসর : দারু ইবনে আফ্ফান, ১ম মুদ্রণ, ১৪১৭হি./১৯৯৭খৃ.), ১/১০২।

[4]. ইবনু আব্দিল বার্র, জামি‘উ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহী, মুহাক্কিক্ব : আবুল আশবাল আয-যুহাইরী (সঊদী আরব : দারু ইবনিল জাওযী, ১ম মুদ্রণ, ১৪১৪হি./১৯৯৪খৃ.) ১/১১৩।

[5]. খত্বীব বাগদাদী, আল-ফাক্বীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ (সঊদী আরব : দারু ইবনিল জাওযী, ২য় প্রকাশ, ১৪২১হি.), ২/৫৭।

[6]. ইবনু রজব হাম্বলী, জামে‘উল ‘উলূম ওয়াল হিকাম, তাহক্বীক: শু‘আইব আরনাঊত্ব (বৈরূত : মুআস্সাতুর রিসালাহ, ৭ম সংস্করণ, ১৪২২হি./২০০১খৃ.), ১/৪০০।

[7]. শামসুদ্দীন যাহাবী, সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, মুহাক্বিক্ব : শু‘আইব আরনাউত্ব ও অন্যান্য (বৈরূত : মুআস্সাসাতুর রিসালাহ, ২য় সংস্করণ, ১৪০৫হি./১৯৮৫খৃ.), ৮/৪২৭।

[8]. ইবনু রজব হাম্বলী, ফাৎহুল বারী ৬/৫০।

[9]. খত্বীব বাগদাদী, ইক্বতিযাউল ইলমিল আমল, মুহাক্কিক্ব : নাছিরুদ্দীন আলবানী (বৈরূত : আল-মাকতাবুল ইসলামী, ৫ম মুদ্রণ, ১৪০৪হি./১৯৭৪খৃ.) পৃ. ৩৮।

[10]. ইক্বতিযাউল ইলম আমল, পৃ. ২৪।

[11]. গাযালী, ইহয়াউ উলূমিদ্দীন, ১/৬১।

[12]. ইক্বতিযাউল ইলমিল আমল, পৃ. ১৬।

[13]. ইবনুল জাওযী, মানাক্বিবুল ইমাম আহমাদ, পৃ. ২৮৫।

[14]. ইক্বতিযাউল ইলমিল আমল, পৃ. ৩৮।

[15]. আবূ নু‘আইম ইস্ফাহানী, হিলয়াতুল আওলিয়া ১০/৭২।

[16]. ইবনে বায, মাজমূ‘উ ফাতাওয়া, ৪/৫৯।

[17]. ইবনু আবীদ্দুনইয়া, ক্বাছরুল আমাল, পৃ.১১১।

[18]. ইবনুল ক্বাইয়িম, মাদারিজুস সালেকীন, (রিয়াদ : দারু আত্ব‘আতিল ইলম, ২য় মুদ্রণ, ১৪৪১হি./২০১৯খৃ.) ৩/১৭৭; আর-রিসালাতুল কুশাইরিয়াহ (কায়রো : দারুল মা‘আরেফ, তাবি) ১/৩২১।

[19]. ইক্বতিযাউল ইলমিল আমল, পৃ. ৪৪।

[20]. সুনানে দারেমী হা/৫৭৫; মিশকাত হা/২৮০, সনদ হাসান।

[21]. আবুল লায়েছ সামারকান্দী, তাম্বীহুল গাফেলীন (দামেশক: দারু ইবনি কাছীর, ২য় মুদ্রণ, ১৪২১হি./২০০০খৃ.), পৃ. ৪৩৩।

[22]. শাত্বেবী, আল-ই‘তিছাম (সঊদী আরব : দারু ইবনিল জাওযী, ১ম মুদ্রণ, ১৪২৯হি./২০০৮খৃ.) ১/১৬৭।

[23]. ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাশক্ব, তাহক্বীক: মুছতাফা আব্দুল ক্বাদের আত্বা (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ইলমিইয়াহ, ১ম প্রকাশ, ১৪১৭হি.), ৪৮/৪২৭।

[24]. হাফেয ইবনে কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (দামেশক্ব : দারু ইবনে কাছীর, ৩য় মুদ্রণ, ১৪৩৪হি./২০১৩খৃ.), ১০/১০৯।

[25]. আবুল হাসান ইবনে আবী ইয়া‘লা, ত্বাবাকাতুল হানাবিলাহ (সঊদী আরব : দারাতুল মালেক আব্দুল আযীয, ১৪১৯হি./১৯৯৯খৃ.), ৩/২৬৭।

[26]. হিলয়াতুল আউলিয়া ৭/২৮৮।

[27]. ইবনুল ক্বাইয়িম, ইজতিমা‘উল জুয়ূশ আল-ইসলামিয়্যাহ (রিয়াদ : দারু আত্বাআতিল ইলম, ১৪৪০হি./২০১৯খৃ.), ২/৮৮।

[28]. বুখারী হা/৫৮৬১; মুসলিম হা/৭৮২।

[29]. ইবনু হাম্বল, আয-যুহদ (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ইলমিইয়াহ, ১ম মুদ্রণ, ১৪২০হি./১৯৯৯খৃ.), পৃ. ২৬২; তারীখু দিমাশক্ব, ৫৬/৪৩৩।

[30]. বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, ৩/২৮২।

[31]. তারীখু দিমাশক্ব ৭৪/২২৭; হিলয়াতুল আওলিয়া ১০/২৩৯।

[32]. ইক্বতিযাউল ইলমিল আমাল, পৃ. ৩০।

[33]. সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ৭/৩৯৬।

[34]. খত্বীব বাগদাদী, আয-যুহদু ওয়ার রাক্বায়েক্ব, পৃ. ৭১; তারীখু বাগদাদ ৫/৯৮।

[35]. ইক্বতিযাউল ইলমিল আমাল, পৃ. ৩৩।

[36]. তাফসীরে সা‘দী, পৃ. ৩৫১।

[37]. তাফসীরে ত্বাবারী, ১/৮০।

[38]. ইবনে তাইমিয়াহ, আল-ফাতাওয়াল কুবরা (বৈরূত : দারুল কুতুবিল ইলমিইয়াহ, ১৪০৮হি./১৯৮৭খৃ.), ২/১৩৫।

[39]. সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ৭/২৪২।

[40]. তিরমিযী হা/২৪১৬; মিশকাত হা/৫১৯৭; সনদ হাসান।

[41]. বুখারী হা/১৩৯৭; মুসলিম হা/১৪; মিশকাত হা/১৫।






ইখলাছ মুক্তির পাথেয় (শেষ কিস্তি) - আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান
বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য - ইহসান ইলাহী যহীর
ই‘তিকাফ : গুরুত্ব ও ফযীলত - মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান
ছিয়ামের ফাযায়েল ও মাসায়েল - আত-তাহরীক ডেস্ক
এলাহী তাওফীক্ব লাভের উপায় (শেষ কিস্তি) - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
অল্পে তুষ্টি (৩য় কিস্তি) - আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তাক্বলীদ (৩য় কিস্তি) - মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম মাদানী
তাক্বওয়ার গুরুত্ব ও ফযীলত (পূর্বে প্রকাশিতের পর) - মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদূদ
শোকর (২য় কিস্তি) - মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
হজ্জ ও ওমরাহ সংশ্লিষ্ট ভুল-ত্রুটি সমূহ - কামারুযযামান বিন আব্দুল বারী
অমুসলিমদের নিকটে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সীরাত তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা - মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
মুহাসাবা - মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
আরও
আরও
.