উত্তর : ঔষধের প্রচারের জন্য স্যাম্পল প্রদানে এবং গ্রহণে কোন দোষ নেই। কারণ ঔষধ প্রচারের জন্য এটা প্রয়োজন। কিন্তু স্যাম্পল ব্যতীত উপহারের নামে বিভিন্ন দ্রব্যাদি প্রদান করা এবং গ্রহণ করা ঘুষের অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভালো-মন্দ নির্বিশেষে উপহার প্রদানকারী কোম্পানীর ঔষধ রোগীদেরকে লিখে দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করতেই উক্ত উপহার প্রদান করা হয়ে থাকে, যা ঘুষ হিসাবে গণ্য (ফাতাওয়া লাজনাহ দায়েমাহ ২৩/৫৭০)। ফাতাওয়া লাজনা দায়েমায় বলা হয়েছে, চিকিৎসকের জন্য ওষুধ কোম্পানীর পক্ষ থেকে উপহার গ্রহণ করা বৈধ নয়; কারণ এটি ঘুষের অন্তর্ভুক্ত, যদিও সেটিকে ‘উপহার’ বা অন্য কোন নাম দেওয়া হোক না কেন। নাম পরিবর্তন করলে বাস্তবতার পরিবর্তন হয় না এবং এই উপহার গ্রহণের ফলে ডাক্তার ঐ কোম্পানীর প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়েন, যা অন্যান্য কোম্পানীর প্রতি অবিচার এবং ক্ষতিকর (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২৩/৫৭১)। অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘যে কোম্পানীর প্রতিনিধি ডাক্তারদেরকে নিজ কোম্পানীর ওষুধ প্রচারের উদ্দেশ্যে উপহার দেয়, অন্য কোম্পানীগুলোর তুলনায় একচেটিয়াভাবে ব্যবসার উদ্দেশ্যে, সে ব্যক্তি রায়িশ (ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতার মাঝে মধ্যস্থতাকারী) হিসাবে গণ্য হবে। আর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এ তিন শ্রেণীর মানুষকে অভিশাপ দিয়েছেন (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২৩/৫৭২)। তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ ঘুষদাতা, ঘুষগ্রহীতা এবং উভয়ের মাঝে মধ্যস্থতাকারীকে অভিশাপ দিয়েছেন’ (আহমাদ হা/২২৩৯৯)। যদিও এই হাদীছে ‘রায়িশ বা উভয়ের মাঝে মধ্যস্থতাকারী’ অংশটি দুর্বল, তবে মর্ম ছহীহ।
প্রশ্নকারী : ডা. মাহবূব হাসান, সিরাজগঞ্জ।