. চাঁপাই নবাবগঞ্জ ১৯শে মার্চ মঙ্গলবার :  অদ্য আল-‘আওনের একজন রক্তদাতা সদস্য নওগাঁর নেয়ামতপুরের রক্তদাতা আব্দুর রহীম চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদরের বাসিন্দা জনৈক দ্বীনী ভাইয়ের আবেদনে রক্ত দিয়েছেন। আবেদনকারীর স্ত্রীর রক্তের চাহিদা ছিল AB(-) । এই গ্রুপের রক্ত অত্যন্ত বিরল। এটা সংগ্রহ করতে তাঁকে একমাস খুঁজতে হয়েছে। দীর্ঘ একমাস পর তিনি আল-‘আওনের সন্ধান পান এবং আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে আল-‘আওন কর্তৃক বিরল গ্রুপের রক্ত পেয়ে তিনি যারপর নাই আনন্দিত হন। অতঃপর তিনি আল-‘আওনের উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করেন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য দো‘আ করন। সেই সাথে আল-‘আওনকে সার্বিকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নওপাড়া শাখায় চিকিৎসাধীন রোগী রক্ত পেয়ে  নিজে ও তার বাচ্চা উভয়েই সুস্থ আছে। ফালিল্লা-হিল হাম্দ।   

২. নাটোর ১২ই জুন বুধবার : অদ্য আল-‘আওনের একজন রক্তদাতা সদস্য রাজশাহী মেডিকেলে রোগী দেখে বেরিয়ে আসছিলেন। সেই মুহূর্তে নাটোরের এক ব্যক্তির সাথে তার দেখা হ’ল। তিনি জানতে পারলেন তার মুমূর্ষ বোনের জন্য A(-)  গ্রুপের রক্ত দরকার। ১লা জুন থেকে চেষ্টা করেও এই গ্রুপের রক্ত সংগ্রহ করতে পারেননি। এমতাবস্থায় আল-‘আওন-এর ঐ দাতা তখনই এক ব্যাগ রক্ত দেন। রক্ত পেয়ে তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশে এই প্রথম এমন কোন সংস্থা দেখলাম, যারা মুমূর্ষ রোগী খুঁজে বের করে রক্ত দেয়। তিনি আরো বলেন, রক্ত যে মাদক মুক্ত হয় এটাও আমি আগে জানতাম না। অতঃপর তিনি আল-‘আওনকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ।

৩. নাটোর ৩রা মে’১৮ বৃহস্পতিবার : অদ্য আল-‘আওন অফিসে ফোন আসে। ওপার থেকে কান্নাজড়িত কন্ঠে রক্তের আবেদন শুনতে পান আল-আওনের দায়িত্বশীল। তিনি বলেন, শত্রুতার কারণে রক্ত দেওয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এই মুমূর্ষ রোগীকে এলাকার কেউ রক্ত দিচ্ছে না। অবশেষে তারা অনেক খুঁজাখুঁজি করে আল-‘আওনের সন্ধান পান। তার চাহিদা ছিল AB(+) গ্রুপের রক্ত। আল-‘আওন ঐ মুমূর্ষু রোগীকে এক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে দেয়। তারা রক্ত পেয়ে অত্যন্ত খুশি হন এবং মন্তব্য করেন, বাংলাদেশে এ রকম মাদকমুক্ত রক্তদাতা সংস্থা আছে তা আমাদের জানা ছিল না, যারা নিঃস্বার্থভাবে রক্ত দিয়ে থাকেন। দেশে এরকম সংগঠন টিকে থাকা একান্ত প্রয়োজন। তারা আল-‘আওনের সকলের জন্য প্রাণখোলা দো‘আ করেন।

৪. রাজশাহী : গত বছর রাজশাহী মেডিকেলের জনৈকা মহিলা ডাক্তার ক্যান্সারের অপারেশন করেছিলেন। অপারেশনের পরে ঐ রোগীর হঠাৎ ব্লিডিং শুরু হ’লে ডাক্তার আল-‘আওনের কাছে রাত ১২-টায় ২ ব্যাগ B(+) রক্ত চান। ঐ গভীর রাত্রে রক্ত সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। ফলে আল-‘আওনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. আব্দুল মতীন ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এহসান এলাহি যহীর রক্ত প্রদান করেন। ২ ব্যাগ মাদকমুক্ত রক্ত পেয়ে রোগীর অবস্থা দ্রুত উন্নতি হয়। এই মহতী কাজের জন্য ঐ ব্যক্তি আল-‘আওনের জন্য দো‘আ করেন। এমনকি তিনি এখনও আল-‘আওনের খোঁজ-খবর নেন ও এর অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঐ রোগী বর্তমানে সুস্থ আছেন ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।

৫. রংপুর : রংপুর যেলা আল-‘আওনের সভাপতি আবুল বাশার A(+) রক্ত দিতে জনৈক ডোনরকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। রক্ত দিচ্ছেন ঠিক সেই মুহূর্তে আরেক ভাই O(+) রক্ত খুঁজছিলেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের সবাই আল-‘আওনকে চেনে। তাই তারা আল-‘আওনের সভাপতির কাছে যেতে বলেন। সভাপতি পূর্ব থেকে B(+) রক্ত খুঁজছিলেন। এসময় আবেদনকারী এসে তার মুমূর্ষু রোগীর জন্য যরূরী ভিত্তিতে O(+) রক্ত চান। সভাপতি শুনে নিজেই রক্ত দিতে চাইলেন। অতঃপর তিনি আবেদনকারীকে বললেন, আপনার রক্তের গ্রুপ কী? তিনি বলেন B(+)। সভাপতি বললেন, আমার B(+) রক্ত দরকার। কিন্তু কোনভাবেই জোগাড় করতে পারছি না। অপনি কি এক ব্যাগ রক্ত দিবেন? তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই রাযী হ’লেন। এভাবে এক ব্যাগ রক্ত দিতে গিয়ে যথাক্রমে A(+), B(+) ও O(+) এই তিন ব্যাগ রক্ত তিনজন রোগীকে দেওয়া হ’ল। এ মহতী কাজের কারণে সকলেই তাদের জন্য দো‘আ প্রাণখোলা দো‘আ করল।






আরও
আরও
.