উত্তর : এ দু’টির মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কারণ ‘দ্বীনের ব্যাপারে যবরদস্তি নেই’ (বাক্বারাহ ২/২৫৬) আয়াতটি কাউকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য না করার নীতি বর্ণনা করে। আর মুরতাদের শাস্তি হ’ল এমন ব্যক্তির ব্যাপারে, যে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করার পর ইসলাম ত্যাগ করেছে। তাই বিষয় দু’টি ভিন্ন (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ২১/২৩১-২৩৪)। বিষয় দু’টি হ’ল : (১) ইসলামে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোন অমুসলিমকে বাধ্য করা যাবে না। (২) ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেলে একজন মুসলিম যেমন একদিকে আল্লাহদ্রোহী হয়, অপরদিকে সে ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিক চুক্তি লঙ্ঘন করে। যা ধর্মদ্রোহ এবং দেশদ্রোহিতার শামিল, যার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে, তোমরা তাকে হত্যা করো’ (বুখারী, মিশকাত হা/৩৫৩৩)।

উক্ত আয়াতের তাফসীরে ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, দ্বীনে প্রবেশ করার জন্য কাউকে বাধ্য করা যাবে না। কারণ এই দ্বীন অত্যন্ত স্পষ্ট। এর প্রমাণ ও নিদর্শনসমূহ অতিশয় প্রকট। সুতরাং এতে প্রবেশের জন্য কাউকে বাধ্য করার কোন প্রয়োজন নেই। বরং আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইসলামের দিকে হেদায়াত দান করেন, যার বক্ষকে উন্মুক্ত করে দেন এবং যার অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করেন, সে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে এতে প্রবেশ করে। আর আল্লাহ যার অন্তরকে অন্ধ করে দিয়েছেন এবং তার কান ও চোখের উপর আবরণ টেনে দিয়েছেন, তাকে বাধ্য বা যবরদস্তি করে দ্বীনে প্রবেশ করালে সে অন্তরে মুনাফিকই থেকে যাবে, যা কোন উপকারে আসে না (তাফসীর ইবনু কাছীর)।

আর মুরতাদের শাস্তির পেছনে মূল হিকমত হ’ল ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষা করা। যদি ধর্মত্যাগের কোন শাস্তি না থাকত, তবে লোকেরা সহজে ইসলামে প্রবেশ করত এবং পরক্ষণেই বের হয়ে যেত। এতে দ্বীনের ভাবমূর্তি নষ্ট হ’ত এবং মুসলিম সমাজে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙন তৈরী হ’ত। সুতরাং এই আইনটি মূলত একটি ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’, যা মানুষকে দ্বীন নিয়ে খামখেয়ালী কর্ম করতে বাধা দেয় এবং মুসলিম সমাজের সংহতি রক্ষা করে। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) এ বিষয়ে বলেন, মুরতাদ ব্যক্তিকে যদি হত্যা করা না হ’ত, তবে লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করে আবার তা থেকে ইচ্ছামত বের হয়ে যেত। সুতরাং তাকে হত্যা করার বিধান মূলত দ্বীন এবং দ্বীনদারদের হেফাযত করার মাধ্যম। কারণ এই বিধান দ্বীনের মধ্যে কোন ঘাটতি বা ভাঙন তৈরী হওয়া রোধ করে এবং মানুষকে দ্বীন থেকে বের হয়ে যেতে বাধা দেয়। তবে যে ব্যক্তি আদৌ দ্বীনে প্রবেশই করেনি, তার বিষয়টি এর বিপরীত অর্থাৎ তাকে বাধ্য করা হয় না’ (মাজমূউল ফাতাওয়া ২০/১০২)। মোটকথা ইসলামী শরী‘আতে কাউকে মুসলিম হ’তে বাধ্য করার বিধান যেমন নেই, তেমনি মুসলিম হওয়ার পর কাউকে ইসলামের ভিত্তি ও সমাজ কাঠামোকে ভেঙে ফেলার কোন অধিকারও দেওয়া হয় না।

উল্লেখ্য যে, ‘দ্বীনের ব্যাপারে যবরদস্তি নেই’-এর অর্থ এই নয় যে, মুসলিমরা দ্বীন প্রচারে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। বরং এর অর্থ হ’ল দ্বীন গ্রহণে কাউকে জোর করা যাবে না; তবে যুক্তি, সুন্দর আচরণ ও ভালোবাসার মাধ্যমে অমুসলিমদের কাছে ইসলামী সত্যতার দাওয়াত পৌঁছানোর কাজ সবসময় জারী রাখতে হবে।

প্রশ্নকারী : ইব্রাহীম, ফার্মগেট, ঢাকা।








প্রশ্ন (১৮/৩৩৮) : আমাদের সমাজ অন্য গ্রামে হওয়ায় পিতার অছিয়ত অনুযায়ী আমি সেখানেই জুম‘আর ছালাত আদায় করি। গ্রামে জুম‘আ আদায় না করায় গ্রামের লোকজন অসন্তুষ্ট। এভাবে নিজ গ্রামের মসজিদ ছেড়ে নিয়মিতভাবে অন্য মসজিদে জুম‘আ আদায় করায় কোন বাধা আছে কি? - -আবুল কাসেম, নরদাশ, বাগমারা, রাজশাহী।
প্রশ্ন (৪০/৩৬০) : আলমে বরযখ কী? বরযখ এবং আখেরাতের জীবন কি একই?
প্রশ্ন (১৬/৪৫৬) : ‘সত্য কথাই তিতা’। হাদীছটি কি ছহীহ?
প্রশ্ন (২৩/১০৩) : টিভি, ইন্টারনেট তথা মিডিয়া বর্তমানে সমাজকে অশ্লীল কাজে উদ্বুদ্ধ করার প্রধানতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে এগুলি ধর্মীয় জ্ঞানার্জনেরও অন্যতম মাধ্যম। এক্ষণে এ ব্যাপারে আমাদের করণীয় কি?
প্রশ্ন (১/৩২১) : ‘সকল বিধান বাতিল কর, অহি-র বিধান কায়েম কর’ কেবল এই শ্লে­াগান দিলেই কি দ্বীন কায়েম হয়ে যাবে? না দ্বীন কায়েমের জন্য আরো কিছু করণীয় আছে? বুলেট বা ব্যালট ব্যতীত কেবল দাওয়াতের মাধ্যমে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কোন সম্ভাবনা আছে কি?
প্রশ্ন (৩/২৪৩) : আমার দাদা এক বিহারীর নিকট জমি বিক্রয় করে। কিন্তু যুদ্ধের সময় বিহারী সপরিবারে মারা যায়। ১৯৭১ সালে রেকর্ডমূলে তা আমার দাদার নামে রেকর্ড হয়। এক্ষণে উক্ত জমির মালিক বিহারী হ’লে আমাদের করণীয় কী? আর দান করতে হ’লে বিহারীর নামে আমার দরিদ্র ছেলেকে দান করা যাবে কি? - -দেলোয়ারা বেগম, ডিঙ্গাডোবা, রাজশাহী।
প্রশ্ন (২৬/৪২৬) : সিজদায়ে তেলাওয়াতের নিয়ম কি? ওযূবিহীন অবস্থায় সিজদায়ে তেলাওয়াতের আয়াত পাঠ করলে সিজদা দেওয়া যাবে কি? এসময় নারীদের পর্দার পোষাক পরিধান করতে হবে কি? - -রফীকুল ইসলাম, নিয়ামতপুর, নওগাঁ।
প্রশ্ন (১৩/২১৩) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, পৃথিবী একদিন মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে আসবে। সেদিন ইহুদীরা প্রাণের ভয়ে গাছের আড়ালে লুকালে গাছও তাদেরকে ধরিয়ে দিবে। তবে একটি কাঁটাযুক্ত গাছের আড়ালে লুকালে তারা বেঁচে যাবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?
প্রশ্ন (১০/৪৫০) : আমার ভাই আমার কাছে কিছু টাকা আমানত হিসাবে জমা রেখেছে। আমি ঐ টাকা কোন হালাল ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করলে এতে আমানতের খেয়ানত হবে কি?
প্রশ্ন (২৪/৩০৪) : জনৈক ইমাম সঠিক পথে ফিরে আসায় চাকুরী হারানোর ফলে পুনরায় হক ছেড়ে দিয়ে মাযহাবী আমল শুরু করে চাকুরী ফিরে পেয়েছেন এবং বলছেন, ধীরে ধীরে মানুষকে হকের পথে আনতে হবে। এক সময় সবাই ছহীহ হাদীছের অনুসারী হয়ে গেলে আমিও ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী আমল শুরু করব। দাওয়াতের এ পদ্ধতি কি শরী‘আতসম্মত?
প্রশ্ন (৮/৮): পিল খেয়ে হায়েয বন্ধ করে ছিয়াম পালন করা জায়েয কি? হায়েয অবস্থায় ওয়ায মাহফিলে যাওয়া অথবা মাইয়েতকে দেখা যাবে কি? পুরুষ-মহিলা উভয়কেই কি নাভীর নীচের ও বগলের লোম কেটে ফেলতে হবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১৯/৪৫৯) : আমাদের মসজিদে জুম‘আর পূর্বে বয়ান করা হয়। তারপর সুন্নাত ছালাতের জন্য সময় দেওয়া হয়। এটা কি শরী‘আতসম্মত?
আরও
আরও
.