উত্তর : উভয় পক্ষের নিহত ছাহাবীদের ব্যাপারে শাহাদাতের আশা করা যায়। তবে ষড়যন্ত্রকারী খারেজীদের ব্যাপারে নয়। কারণ ছাহাবীরা উভয় পক্ষই নিজেদের ইজতিহাদের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে সঠিক মনে করেছিলেন। সেজন্য আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত এই বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, ওছমান (রাঃ)-এর শাহাদাতের পর ছাহাবীদের মধ্যে যেসমস্ত ফিৎনা ও যুদ্ধবিগ্রহ সংঘটিত হয়েছিল, সেগুলো নিয়ে তাদের সমালোচনা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। উভয় পক্ষের নিহতদের জন্য মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তাঁদের সবার প্রতি আল্লাহর রহমত কামনা করা আবশ্যক। সেই সাথে ছাহাবীগণের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, ঈমানের ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রগামী হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা এবং তাঁদের গুণাবলী ও প্রশংসা উম্মতের মাঝে প্রচার করা কর্তব্য। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের এবং আমাদের ভাইদের ক্ষমা কর, যারা আমাদের পূর্বে ঈমান এনেছে। আর ঈমানদারগণের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখো না (হাশর ১০)

ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, উষ্ট্র ও ছিফফীনের যুদ্ধের দিন যা ঘটেছিল, তার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। কারণ আলী (রাঃ) এই যুদ্ধগুলোর ফলাফল বা রক্তপাতে বিন্দুমাত্র আনন্দ প্রকাশ করেননি; বরং তাঁর থেকে গভীর দুঃখ ও অনুশোচনা প্রকাশ পেয়েছিল। তিনি পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করেছিলেন যে, তিনি তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদ বা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের আলোকেই এই যুদ্ধ করেছিলেন (মাজমূউল ফাতাওয়া ২০/৩৯৫)। তিনি আরো বলেন, উষ্ট্রের যুদ্ধের দিন এই সমস্ত ছাহাবীগণের কারোরই যুদ্ধ করার কোন উদ্দেশ্য ছিল না; বরং এই যুদ্ধবিগ্রহ ও রক্তপাত তাঁদের নিজেদের ইচ্ছা বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তৃতীয় পক্ষ ঘাতকদের গোপন হামলার কারণে ঘটে গিয়েছিল (মিনহাজুস সুন্নাহ ৪/৩১৬)। ইবনে হাযম (রহঃ) বলেন, ‘আর উষ্ট্রের যুদ্ধে ছাহাবীগণের শরীক হওয়ার ব্যাপারটি হ’ল তাঁরা কখনোই আলী (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ইচ্ছা বা সংকল্প করেননি এবং আলী (রাঃ)ও তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নিয়ত করেননি। তাঁরা মূলত মদীনা থেকে বছরায় সমবেত হয়েছিলেন ওছমান (রাঃ)-এর হত্যাকারীদের বিষয়ে একটি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য এবং তাদের ওপর আল্লাহর হদ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ওছমান হত্যাকারীরা নিজেদের ওপর আল্লাহর হদ কার্যকর হওয়ার ভয়ে ভীত ছিল আর তাদের সংখ্যাও ছিল বিশাল। তারা গোপনে অতর্কিত হামলা চালায়। ফলে উভয় পক্ষই যখন দেখল যে তলোয়ার তাদের ওপর আঘাত হানতে শুরু করেছে, তখন তারা প্রত্যেকেই পরিস্থিতির শিকার হয়ে স্রেফ নিজেদের জীবন রক্ষার্থে যুদ্ধে লিপ্ত হ’তে বাধ্য হন (আল-ইহকাম ফী উছুলিল আহকাম ২/৮৫)

প্রশ্নকারী : শোয়াইব মুনীরী, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।








বিষয়সমূহ: বিবিধ
প্রশ্ন (১৫/১৭৫) : সংসারবিমুখ নববধু রাজধানীতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারী চাকুরীতে ব্যস্ত থাকে এবং স্বামী দেশের বাড়িতে রান্না-বান্না সহ যাবতীয় কাজ আঞ্জাম দেয়। এক্ষণে স্বামীর জন্য করণীয় কি? - -আব্দুল্লাহ, লালমণিরহাট।
প্রশ্ন (৩৯/২৩৯) : আমার সন্তান ৪২ দিনের মাথায় ইন্তেকাল করেছে। এক্ষণে সে কি জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্ত থাকবে এবং হাদীছ অনুযায়ী পরকালে তার কারণে আল্লাহ তা‘আলা তার পিতা-মাতাকে জান্নাতে দিতে বাধ্য থাকবেন?
প্রশ্ন (৬/৬) : ভাই-বোনে পৃথক পরিবার। তারা কি একত্রে কুরবানী দিতে পারবে?
প্রশ্ন (৩২/৩৯২) :কালো জাদু কি? কালো জাদু থেকে রক্ষা পেতে হ’লে করণীয় কি?
প্রশ্ন (১৬/৫৬) : ছালাতরত অবস্থায় কোন বিশেষ কারণে কয়েক ধাপ স্থান পরিবর্তন করতে হ’লে ছালাত হবে কি?
প্রশ্ন (১৫/২৫৫) : গর্ভবতী স্ত্রীর সাথে মিলনে বাধা আছে কি? - -আল-আমীন, নওদাপাড়া, রাজশাহী।
প্রশ্ন (৩৪/১৯৪) : ওয়ায মাহফিল, ইসলামী ক্লাস ইত্যাদি চলা অবস্থায় আযানের জবাব দেওয়া বা আযানের দো‘আ পাঠ করার বিধান কি? - -আব্দুল কাদেরগোদাগাড়ী, রাজশাহী।
প্রশ্ন (৩৩/৩৯৩) : পিতা মেয়েদের অনুমতি ও পূর্ণ সম্মতিক্রমে ছেলেদেরকে বেশী পরিমাণে সম্পদ লিখে দিয়েছেন এবং মেয়েদের এ নিয়ে কোন দাবী নেই। এটা পিতার জন্য জায়েয হয়েছে কি? ছেলেদের জন্য তা ভোগ করা জায়েয হবে কি?
প্রশ্ন (২/৪০২): শরী‘আতের বিভিন্ন মাসআলার ক্ষেত্রে সালাফী আলেমগণের মাঝে মতপার্থক্য দেখা যায়। সাধারণ মানুষ কিভাবে অনুসরণ করবে?
প্রশ্ন (১৬/৯৬) : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বর ও কনের মাঝে কিভাবে বিবাহ পড়াতেন?
প্রশ্ন (৩৭/৩৫৭) : আমরা ৬ ভাই। ২ ভাই পিতার সংসারে থাকাকালীন সময়ে পিতার নিকট থেকে কিছু জমি ক্রয় করে নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন। এটা কি সঠিক হয়েছে? না হ’লে এখন করণীয় কি?
প্রশ্ন (১০/৪১০) : ঈদগাহের সামনের দিকে সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার একটি প্রাচীর আছে এবং প্রাচীরের মাঝামাঝিতে একটি মেহরাব বানানো আছে। এভাবে ঈদগাহে স্থায়ী মেহরাব বানিয়ে রাখা জায়েয হবে কি?
আরও
আরও
.