পবিত্র ঈদুল আযহার পরদিন ২৯শে মে শুক্রবার বাদ জুম‘আ থেকে ৩রা জুন বুধবার পর্যন্ত ৬দিন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্ল­াহ আল-গালিব সপরিবারে সাতক্ষীরা সফর করেন। পথিমধ্যে কুষ্টিয়া শহরে চৌড়হাস মোড়ে রিযিয়া সাদ ইসলামিক সেন্টারে কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক বাহারুল ইসলামের বাসায় যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে কুষ্টিয়া-পূর্ব যেলা সভাপতি আলী মুর্তযাসহ অন্যান্যগণ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। অতঃপর সেখান থেকে রওয়ানা দিয়ে রাত্রি ১১-টায় তাঁর জন্মস্থান বুলারাটি গ্রামে ভাগিনার বাসায় পৌঁছেন।

সেখানে অবস্থানকালে তিনি যেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈদ পরবর্তী সভা সমূহে কর্মী ও শুভাকাংখীদের সাথে মিলিত হন। তিনি (১) ৩০শে মে শনিবার বাদ আছর যেলা শহরের বাঁকাল দারুলহাদীছ আহমাদিয়া সালাফিইয়াহ মাদ্রাসা মসজিদে; (২) ৩১শে মে রবিবার বাদ মাগরিব নিজ গ্রাম বুলারাটি আহলেহাদীছ জামে মসজিদে; (৩) ১লা জুন সোমবার বাদ আছর বুলারাটি বায়তুল আমান জামে মসজিদে; (৪) বাদ মাগরিব মাহমূদপুর আহলেহাদীছ জামে মসজিদে; (৫) ২রা জুন মঙ্গলবার বাদ আছর কলারোয়া থানা সদরের কলারোয়া আহলেহাদীছ জামে মসজিদে, (৬) অতঃপর বাদ মাগরিব সাতক্ষীরা সদরের পলাশপোল আহলেহাদীছ জামে মসজিদে মতবিনিময় সভা সমূহে যোগদান করেন।

প্রোগ্রামসমূহের তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক এবং ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন শিক্ষা বোর্ড’-এর চেয়ারম্যান ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব, ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও সাতক্ষীরা যেলা সভাপতি মাওলানা আলতাফ হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুফলেহুর রহমান, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক শেখ রফীকুল ইসলাম, ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফায়ছাল মাহমূদ, ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব, ‘আল-‘আওন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাফেয আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির, ‘আন্দোলন’-এর সাবেক কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর নযরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি মাওলানা ফযলুর রহমান, পৌর এলাকার সাধারণ সম্পাদক শরীফুযযামান মুকুল, যেলা উপদেষ্টা ছদরুল আনাম প্রমুখ।

(৭) ৩০শে মে শনিবার বাদ এশা তিনি বাঁকাল দারুল হাদীছ আহমাদিয়া সালাফিইয়াহ মাদ্রাসার অফিসে পরিচালনা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সেখানে মাদ্রাসার পরিচালক সীমান্ত আদর্শ কলেজের প্রিন্সিপাল আযীযুর রহমান, ভাইস প্রিন্সিপাল মহীদুর রহমান এবং অন্যান্য দায়িত্বশীলগণ উপস্থিত ছিলেন।

ফিরতি দিন ৩রা জুন বুধবার সকালে বুলারাটি থেকে রওয়ানা হয়ে মাঝখানে যশোর যেলার সাগরদাঁড়ির ‘মধুপল্লী’তে যাত্রাবিরতি করেন এবং অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও চতুর্দশপদী বা সনেটের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্তের (১৮২৪-১৮৭৩ ইং) পৈত্রিক জমিদারবাড়ী ও জাদুঘরসহ আম্রকাননে ঘেরা সুন্দর নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য যে, কলিকাতা থাকাকালে ১৮ বছর বয়সে তিনি খৃষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেন ও ‘মাইকেল’ নাম ধারণ করেন। ফলে কায়স্থ হিন্দু জমিদার পিতা তাকে ত্যাজ্যপুত্র করেন। অতঃপর ভাগ্যান্বেষণে ফ্রান্স গিয়ে সেখান থেকে ফিরে কলিকাতায় অবস্থানকালে চরম অর্থকষ্টে তিনি মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

অতঃপর যশোর হয়ে রাজবাড়ীতে কনিষ্ঠপুত্র হাফেয আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকিরের শ্বশুর রাজবাড়ী যেলা ‘আন্দোলন’-এর সহ-সভাপতি গাযী মোখতারের বাড়ীতে দু’ঘণ্টা বিরতি দেন। সেখানে তিনি যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মকবুল হোসেন, সেক্রেটারী ইউসুফ আলী খান ও অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে মত বিনিময় করেন। সেখান থেকে রওয়ানা দিয়ে রাত সোয়া এগারটায় মারকাযে ফিরে আসেন। ফালিল্লাহিল হাম্দ।







আরও
আরও
.