বিশ্বজুড়ে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়জয়কার। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনসাইড হায়ার’ পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ কলেজ শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনায় এআই ব্যবহার করছে। শিক্ষকেরা বলছেন, অনেক শিক্ষার্থী নিজেরা কোন পড়াশোনা না করেই হুবহু চ্যাটবটের লেখা জমা দিচ্ছে। এর ফলে আমাদের তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। চাকরি বাজারে যখন এই তরুণেরা প্রবেশ করছে, তখন তারা বড় ধরনের সমস্যায় পড়ছে। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যেকোন জটিল সমস্যার সমাধান করতে হ’লে নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়, যা এআই শিখিয়ে দিতে পারে না।
এই প্রেক্ষাপটে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জামীল জাকি হাতে লিখে অনুশীলনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এটি মূলত তিনটি কারণে অপরিহার্য। প্রথমত, এআই-এর লেখায় তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও গভীরতা ও মানবিক আবেগের অভাব থাকে, যাকে ‘টেক্সট পলিউশন’ বলা হয়। দ্বিতীয়ত, এআই-এর উপর অতি-নির্ভরশীলতা মস্তিষ্ককে অলস করে ফেলে, যাকে মনোবিজ্ঞানীরা ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’ বা চিন্তার আত্মসমর্পণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। তৃতীয়ত, একটি সাদা পাতায় নিজের চিন্তাকে শব্দে রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়াই মানুষের বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখে।
প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজতর করলেও নিজস্ব চিন্তার ক্ষমতাকে তার কাছে বন্ধক রাখা কখনোই কাম্য নয়। শারীরিক সুস্থতার জন্য যেমন ব্যায়ামের প্রয়োজন, তেমনি সচল মস্তিষ্কের জন্য নিয়মিত হাতে লেখার চর্চা করা যরূরী।