উত্তর : যাকাতের টাকা দিয়ে বই পত্র প্রকাশ বা ক্রয় করে সবার মাঝে বিতরণ করা বা দাওয়াতী কাজে ব্যবহার করার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে ইজতিহাদী মতভেদ রয়েছে। জমহূর বিদ্বানদের মতে, এটা জায়েয হবে না। কারণ যাকাতের হকদার নির্দিষ্ট (তওবাহ ৯/৬০)। তাদের নিকট যাকাতের ‘ফী সাবীলিল্লাহ’ খাতটি শুধুমাত্র জিহাদের জন্য নির্দিষ্ট (নববী, আল-মাজমু‘ ৬/২১২)। তবে সমকালীন বিদ্বানদের অনেকেই জিহাদের বিষয়টি আরো ব্যাপক অর্থে গ্রহণ করেছেন (সাইয়েদ সাবেক, ফিকহুস সুন্নাহ ১/৩৯৪, ৩৭০; দ্র. যাকাত ও ছাদাক্বা বই পৃ. ৩০-৩৮)। যার ধারাবাহিকতায় মক্কায় মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের ফিক্বহ কাউন্সিল ১৪০৬ হিজরী (১৯৮৬ খৃ.)-এর রজব মাসে অনুষ্ঠিত ৯ম অধিবেশনে পূর্ববর্তী ৮ম অধিবেশনের সিদ্ধান্ত (قرارات المجمع الفقهي الإسلامي للرابطة مكة সিদ্ধান্ত নং-৪, পৃ. ১৭৩-৭৪) পুনর্ব্যক্ত করে উল্লেখ করে যে, আল্লাহর পথে দাওয়াত এবং দাওয়াতকে সহায়তা করে এমন কাজ এবং দ্বীন প্রচারের কার্যক্রমসমূহ ‘ফী সাবীলিল্লাহ’ খাতের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ যাকাতের আটটি খাতের একটি ‘ফী সাবীলিল্লাহ’-এর মধ্যে এসব কাজও অন্তর্ভুক্ত হ’তে পারে। তারা বলেন, ইসলামে জিহাদ শুধু অস্ত্রের যুদ্ধ নয় বরং এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হ’ল দাওয়াত, বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম, সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ধৈর্যধারণ প্রভৃতি। এমনকি যবান ও সম্পদের মাধ্যমেও জিহাদ হয়। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর তোমাদের মাল, জান ও যবানের মাধ্যমে’ (আবূদাঊদ হা/২৫০৪)। অর্থাৎ সম্পদের মাধ্যমে, কলম ও বক্তব্যের মাধ্যমে, মিডিয়া ও শিক্ষার মাধ্যমে দ্বীনের সংগ্রামও জিহাদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং দ্বীনী দাওয়াত, ইসলামী শিক্ষা, মাদ্রাসা, ইসলামী মিডিয়া প্রভৃতি যদি বিশুদ্ধ ইসলামের সংরক্ষণ ও প্রচারের জন্য হয়, তাহলে তা ‘ফী সাবীলিল্লাহ’ খাতের অন্তর্ভুক্ত হ’তে পারে। তবে শর্ত হ’ল, তা অবশ্যই প্রকৃত অর্থে ইসলামী ও অলাভজনক উদ্দেশ্যে এবং বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় পরিচালিত হ’তে হবে (সিদ্ধান্ত নং-৫, পৃ. ১৯৬)। সুতরাং এই দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে যাকাতের টাকা দিয়ে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক বই সমূহ বিতরণ করা যাবে। মারদাভী বলেন, শায়েখ ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) পসন্দ করেছেন যে, যাকাতের অর্থ দিয়ে এমন ইলমী কিতাব কেনা জায়েয যা দ্বারা দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ সাধিত হয় এবং যা শিক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা তার রয়েছে। আর এটাই সঠিক অভিমত (আল-ইনছাফ ৩/২১৮; বিস্তারিত দ্র. হাফাবা প্রকাশিত ‘যাকাত ও ছাদাক্বা’ বই)।

 প্রশ্নকারী : হারূনুর রশীদ, ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।








বিষয়সমূহ: যাকাত ও ছাদাক্বা
প্রশ্ন (৩৭/১৫৭) : সফরে বের হওয়ার পূর্বে যোহরের সময় যোহর-আছর একত্রে জমা ও ক্বছর করে বের হওয়া যাবে কি? - -মুহাম্মাদ ফখরুল ইসলাম, মাহিলাড়া, বরিশাল।
প্রশ্ন (১৭/২৫৭) : সকল নবী-রাসূল কি হজ্জ পালন করেছেন?
প্রশ্ন (২২/২২) : তাহাজ্জুদের সময় ছালাত ও ওযূ না করে গভীর রাতে শুধু দু‘হাত তুলে দো‘আ করা যাবে কি?
প্রশ্ন (১৮/২১৮) : নারীরা সৌন্দর্য প্রকাশার্থে মাথার চুল উঁচু করে বাঁধে। এটা জায়েয হবে কি? - -আবুবকর ছিদ্দীক, কালাই, জয়পুরহাট।
প্রশ্ন (৯/৩৬৯) : বর্তমানে অনেক মসজিদে মিম্বরের সামনে খতীবের খুৎবা দেওয়ার জন্য স্টান্ডসহ ডায়াস ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে শারঈ কোন বাধা আছে কি?
প্রশ্ন (১৬/১৬): জনৈক আলেম বলেন যে, নবী (ছাঃ) গর্ভে থাকাকালে মা আমেনা পেটের দিকে চেয়ে দেখেন একটা জ্যোতি বের হচ্ছে। এ সময় আমেনা কূয়া থেকে পানি আনতে গিয়ে দেখেন কূয়ার পানিই উপরে উঠে আসে। আল্লাহ বলেন, নবীকে নিয়ে পানি তুলতে আমেনা কষ্ট পাবে তাই কূয়ার পানি উপরে উঠে আসে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (২৭/৪৬৭) : জনৈক আলেম বলেন, আয়েশা (রাঃ)-এর অনুমতিক্রমে আবুবকর ও ওমর (রাঃ)-কে রাসূলের পাশে কবর দেওয়া হয়েছিল। এর সত্যতা জানতে চাই। - -আব্দুল্লাহ, নওদাপাড়া, রাজশাহী।
প্রশ্ন (৫/৪৫) : কিস্তিতে ফ্ল্যাট কিনলে তা কি সূদের অন্তর্ভুক্ত হবে? উল্লেখ্য, সেখানে এককালীন মূল্য পরিশোধে বড় অংকের ছাড় দেয়া হয়। - -শামসুল আলম, নওদাপাড়া, রাজশাহী।
প্রশ্ন (৩১/১৯১) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, ছোট বাচ্চাদের কপালে টিপ দিলে মানুষের বদ নযর থেকে তারা রক্ষা পায়। উক্ত বক্তব্যের সত্যতা জানতে চাই। - -নাজমুল হুদা, চরমোহনপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
প্রশ্ন (১৬/৪১৬) : আমি ধান চাষ করার জন্য ২ বিঘা জমি ৪০ হাযার টাকা দিয়ে ভাড়া নিয়েছি। উক্ত জমিতে উৎপন্ন ফসলের মূল্য দিয়েও যদি ভাড়ার টাকা পরিশোধ না করা যায়, তারপরেও কি ওশর দিতে হবে?
প্রশ্ন (৩০/৪৭০) : বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট তথা যা মানুষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়, তা আল্লাহর কাছে চাওয়া যাবে কি?
প্রশ্ন (৭/৩৬৭) : জেনারেল শিক্ষিত ১২০ জন মহিলা নিয়ে হোয়াটসএ্যাপে আমার একটি ইসলামিক গ্রুপ আছে। যেখানে আমি দাওয়াতী কাজ করি এবং তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেই। সেখানে মাঝে মাঝে অডিও কনফারেন্স হয়, যেখানে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কাউকে কথা বলার সুযোগ দেই না। এভাবে মেয়েদের মধ্যে দাওয়াতী কাজ করা জায়েয হবে কি?
আরও
আরও
.