প্রশ্ন (১/২৮১) : একদল নারী সার্বিক নিরাপত্তা থাকা অবস্থায় মাহরাম ছাড়া ফরয হজ্জে যেতে পারবে কী?

প্রশ্নকারী : কাওছার আহমাদ, ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা। 

উত্তর : স্বামীর অনুমতি ও সার্বিক নিরাপত্তা থাকলে নারীরা নারীদের কাফেলার সাথে ফরয বা নফল যে কোন হজ্জ আদায়ে যেতে পারবে। হযরত ওমর (রাঃ)-এর আমলে ওছমান ও আব্দুর রহমান (রাঃ)-এর তত্ত্বাবধানে রাসূল (ছাঃ)-এর আটজন স্ত্রী মাহরাম ছাড়া হজ্জে গমন করেছিলেন

 (বুখারী হা/১৮৬০; মুসনাদুল ফারূক ১/২৯৯; তোহফাতুল আশরাফ হা/১০৩৮)। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, ‘রাস্তার নিরাপত্তার শর্তে বিশ্বস্ত নারীদের সাথে নারীর সফর জায়েয হওয়ার ব্যাপারে অধ্যায়ের প্রথম হাদীছে দলীল রয়েছে। কারণ এতে যেমন ওমর, ওছমান, আব্দুর রহমান বিন ‘আওফ ও নবী করীম (ছাঃ)-এর স্ত্রীগণের ঐক্যমত রয়েছে, তেমনি অন্যান্য ছাহাবীগণও কোন বিরোধিতা করেননি (ফাৎহুল বারী ৪/৭৬; মির‘আতুল মাফাতীহ ৮/৩৩৬)। উক্ত হাদীছের শিরোনামে হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, নারীদের নিরাপত্তার শর্তে মাহরাম ছাড়া হজ্জের সফরে বের হওয়া জায়েয (মুসনাদুল ফারূক ১/১৯৯)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ) হজ্জের ক্ষেত্রে পাথেয় ও বাহন শর্ত করেছেন মাহরাম শর্ত করেননি। সুতরাং নিরাপত্তার শর্তে অন্যান্য স্বাধীন নারীর সাথে মাহরাম ছাড়া হজ্জে যেতে পারবে (কিতাবুল উম্ম ২/১২৭)। ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন, ‘নারীরা একদল নারীর সাথে হজ্জে যেতে পারবে (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৩/২২৯)। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, ফরয হজ্জ পালনের জন্য মাহরাম শর্ত নয়। সে নারী জামা‘আতের সাথে যাবে বা যে কাফেলায় পূর্ণ নিরাপত্তা আছে তাদের সাথে যাবে (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৩/২২৯)।

আদী ইবনু হাতেম (রাঃ) বলেন, একদিন আমি নবী করীম (ছাঃ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় তার কাছে একজন এসে দরিদ্রতার অভিযোগ করল। এরপর আরেকজন এসে রাস্তায় ডাকাতির অভিযোগ করল। তখন তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আদী! তুমি কি হীরা দেখেছ? (কূফার একটি প্রসিদ্ধ শহর যা বর্তমানে ইরাকের একটি প্রদেশ) যদি তুমি দীর্ঘদিন বেঁচে থাক তাহ’লে অবশ্যই দেখতে পাবে যে, একজন মহিলা হীরা থেকে একাকী মক্কায় গমন করবে এবং কা‘বাগৃহ ত্বাওয়াফ করবে, অথচ এক আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কাউকে ভয় করবে না (বুখারী হা/৩৫৯৫; মিশকাত হা/৫৮৫৭)। উপরোক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় বিদ্বানগণ বলেন, উক্ত হাদীছে কেবল ঘটনা বর্ণনা করা হয়নি বরং নারীদের নিরাপত্তার শর্তে কা‘বাগৃহ ত্বাওয়াফ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে (ইবনু হাজার, ফাৎহুল বারী ৬/৬১৩; ইবনু হাযম, মুহাল্লা ৫/২৪-২৬)। তবে শায়েখ ওছায়মীন, শায়েখ বিন বায ও পূর্ববর্তী একদল বিদ্বান নারীদের মাহরাম ছাড়া বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত হাদীছগুলোর প্রকাশ্য অর্থকে গুরুত্ব দিয়ে মাহরাম ছাড়া হজ্জ সম্পাদন করাকে নাজায়েয বলেছেন। সুতরাং নারী মাহরাম ছাড়া সম্পাদন করতে পারলেও তাদের জন্য উত্তম ও নিরাপদ হ’ল মাহরাম সাথে নিয়ে হজ্জ করা (ছহীহাহ হা/৩০৬৫; ওছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৬১/২৪; বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৭/৪৮)

প্রশ্ন (২/২৮২) : বিবাহের পূর্বে অতীত সম্পর্কের কথা অস্বীকার করলেও পরে স্ত্রীর একাধিক অবৈধ সম্পর্কের অকাট্য প্রমাণ পান স্বামী। বর্তমানে স্ত্রী অনুতপ্ত ও ক্ষমাপ্রার্থী হ’লেও স্বামীর আত্মমর্যাদা তা মেনে নিতে বাধা দিচ্ছে। এমতাবস্থায় শারঈ ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বামীর করণীয় কী?

প্রশ্নকারী : আব্দুল হাফীয, ঢাকা।

উত্তর : বিবাহপূর্ব গুনাহগুলো প্রকাশ করে স্ত্রী চরম ভুল করেছে। সে নিজের পাপের কথা গোপন রাখলে আল্লাহও গোপন রাখতেন। এক্ষণে অবশ্যই স্ত্রীকে তার পূর্ব পাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে তওবা করতে হবে। তওবা করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করতে পারেন এবং শরী‘আতের দৃষ্টিতে তওবার পর সে পবিত্র হিসাবে গণ্য হবে। বিদ্যমান অবস্থায় স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে শারঈ কোন বাধা নেই। তবে স্বামী যদি একান্তই মানসিকভাবে মেনে নিতে না পারেন সেক্ষেত্রে তালাক দিতে পারেন (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ঊল ফাতাওয়া ১৫/৩২০)।

প্রশ্ন (৩/২৮৩) : আমি বিভিন্ন সময়ে জাগতিক নানা কারণে পবিত্র কুরআন স্পর্শ করে একাধিকবার মিথ্যা কসম খেয়েছি। এ কারণে আমাকে কি প্রতিটি কসমের জন্য পৃথক পৃথক কাফফারা দিতে হবে? নাকি সকল পাপের কথা স্মরণ করে তওবা করাই যথেষ্ট হবে?

প্রশ্নকারী : শফীকুল ইসলাম খান, সিলেট।

উত্তর : কুরআন স্পর্শ করে মিথ্যা কসম খাওয়া হারাম। যে ব্যক্তি কুরআনের উপর হাত রেখে মহান আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম খেল, সে এক মহাপাপে লিপ্ত হ’ল। আর এটিই হ’ল ইয়ামীনে গামুস, যা কসমকারীকে জাহান্নামের আগুনে নিমজ্জিত করে। এক্ষেত্রে তার উপর তওবা ও ইস্তিগফার করা আবশ্যক। তবে কিছু বিদ্বানের মতে এর জন্য তাকে একবার কসমের কাফফারাও দিতে হবে। সেই কাফফারা হ’ল- একজন দাস মুক্ত করা, অথবা দশজন মিসকীনকে মধ্যম মানের খাবার খাওয়ানো যা সে সাধারণত তার পরিবারকে খাওয়ায় অথবা তাদের বস্ত্র দান করা। যদি এই তিনটির কোনোটিই করতে সক্ষম না হয়, তবে তাকে তিন দিন ছিয়াম পালন করতে হবে (মায়েদাহ ৫/৮৯)।

প্রশ্ন (৪/২৮৪) : শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন পার্ক বা রিসোর্টে শিক্ষা সফর করা হয়। কিন্তু পার্কে বিভিন্ন প্রাণীর মুর্তি থাকায় সেখানে শিক্ষা সফর করা যাবে কি?

প্রশ্নকারী : মেহেদী হাসান মা‘রূফ, ঢাকা।

উত্তর : পার্ক বা রিসোর্টগুলোতে বৈধ বিনোদনের জন্য বা শিক্ষা সফরে যাওয়া জায়েয, যদি না ভাস্কর্যগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা বা অন্য কোন হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্য না থাকে। কিন্তু যদি মূর্তি, ভাস্কর্য-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন, এগুলোর সাথে ছবি তোলা এবং হারাম বিনোদন, অশ্লীলতা-বেহায়াপনার সাথে জড়িয়ে পড়ার আশংকা থাকে, তবে সেখানে যাওয়া যাবে না।

প্রশ্ন (৫/২৮৫) : আমি একজন পালিত সন্তান। ১ মাস বয়সে আমার বর্তমান পিতা-মাতা আমাকে লালন-পালন করে আসছেন। আমার প্রকৃত বংশপরিচয় আমাদের কারও জানা নেই। বর্তমানে আমার জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সনদসহ সকল দাফতরিক নথিতে তাদের নামই পিতা ও মাতা হিসাবে সংরক্ষিত আছে। এরূপ নিরূপায় অবস্থায় আমার পাপ হবে কি?

প্রশ্নকারী : আখি মনি, কক্সবাজার।

[আরবীতে সুন্দর ও ইসলামী নাম রাখুন! (স.স.)]

উত্তর : এমতাবস্থায় গুনাহগার হবে না। বিশেষত উক্ত পালনকারী পুরুষ ও নারী যে প্রকৃত বাবা-মা নন এ বিষয়ে উভয় পক্ষ স্পষ্ট থাকলে এবং তা অন্যদের অবগতিতে থাকলে কেবল দাফতরিক নথির কারণে তাকে গুনাহগার হ’তে হবে না ইনশাআল্লাহ। কেননা এটি বাধ্যগত অবস্থা (ইবনু মাজাহ হা/২০৪; ছহীহুল জামে‘ হা/১৮৩৬)। তবে সংশোধনের সুযোগ থাকলে বা বিকল্প কোন পন্থা থাকলে তা করে নেয়া উত্তম।

উল্লেখ্য যে, কোন ব্যক্তিকে তার জন্মদাতা পিতা ব্যতীত অন্য কোন পিতার দিকে সম্বন্ধিত করা ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের পালক পুত্রদের তিনি তোমাদের (আসল) পুত্র করেননি; এগুলো তোমাদের মুখের কথা। আর আল্লাহ সত্য কথা বলেন এবং তিনিই সরল পথ প্রদর্শন করেন’ (আহযাব ৩৩/৪)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো’ (আহযাব ৩৩/৫)। জাহেলী যুগে আরবদের মধ্যে এই প্রথা প্রচলিত ছিল এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগেও এটি বিদ্যমান ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নবুঅত লাভের আগেই যায়েদ বিন হারিছাকে পালক পুত্র হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন এবং তাকে যায়েদ ইবনে মুহাম্মদ বলে ডাকা হ’ত। এই অবস্থা চলতে থাকে যতক্ষণ না আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করেন, ‘তোমাদের পালক পুত্রদের তিনি তোমাদের পুত্র করেননি’ (আহযাব ৩৩/৪)। এর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা পালক সন্তান বানানোর প্রথা বাতিল করে দেন এবং নির্দেশ দেন যে, কেউ কাউকে পালক গ্রহণ করলেও তার পিতার পরিচয়েই তাকে ডাকতে হবে। এর মাধ্যমে মানুষকে সত্য গোপন বা পরিবর্তন করা থেকে বিরত রাখা হয়েছে এবং প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের হক বা অধিকার নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা হয়েছে (আল-মাওসূ‘আতুল ফিকবহিয়া ১০/১২১-১২২)।

প্রশ্ন (৬/২৮৬) : বর্তমান ফিৎনা-সংকুল সময়ে নারীরা পর্দা ও নিরাপত্তা বজায় রেখে কিভাবে দ্বীনী শিক্ষা অর্জন করবে এবং ফিৎনার আশঙ্কা থাকলে গায়ের মাহরাম পুরুষ শিক্ষকের কাছে সরাসরি বা অনলাইনে শিক্ষা গ্রহণ করা জায়েয হবে কি-না?

প্রশ্নকারী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, মুর্শিদাবাদ, ভারত।

উত্তর : ইসলামী জ্ঞান অর্জন একটি ইবাদত। এর মাধ্যমে মুসলিমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে এবং পরকালে আম্বিয়া, ছিদ্দীকীন, শুহাদা ও ছালেহীনদের সাথে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থানের আশা রাখে। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, আনছার মহিলারা কতই না উত্তম! লজ্জা তাদেরকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনে বাধা দিতে পারেনি’ (মুসলিম হা/৩৩২; আবুদাউদ হা/৩১৬)। প্রয়োজনে গায়রে মাহরাম শিক্ষকের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা জায়েয। তবে সেক্ষেত্রে আবশ্যকীয় শর্ত হ’ল পূর্ণ পর্দা ও হিজাবের বিধান পালন করা (নূর ২৪/৩১), লজ্জাস্থান হেফাযত করা, ভদ্রতা বজায় রেখে কথা বলা, কমনীয় সুরে কথা না বলা, একান্তে না থাকা, নারী-পুরুষের অপ্রয়োজনীয় মিশ্রণ এড়িয়ে চলা, অনলাইনে ক্যামেরা অফ রাখা এবং প্রয়োজনে মাহরাম বা একজন বিশ্বস্ত নারীর উপস্থিতি থাকা (আহযাব ৩৩/৩২)।

প্রশ্ন (৭/২৮৭) : হজ্জ করার ক্ষমতা থাকা সত্বেও কারো যদি এমন ঋণ থাকে যে তা পরিশোধ করতে তার আজীবন লেগে যাতে। এই ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরয কি?

প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহিল বাকী, বাঘা, রাজশাহী।

উত্তর : যদি কোন ঋণ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করা আবশ্যিক হয়, তাহ’লে হজ্জের উপর ঋণ পরিশোধ প্রাধান্য পাবে। কেননা হজ্জ ফরয হওয়ার আগেই ঋণ হয়েছে। কিন্তু যদি তা দীর্ঘমেয়াদী ঋণ হয়, সেক্ষেত্রে ব্যক্তি যদি মনে করে যে, ঋণ পরিশোধের মেয়াদে সে তা পরিশোধ করতে পারবে এবং তার কাছে হজ্জের জন্য প্রয়োজনীয় খরচাদিও রয়েছে, তাহ’লে ঋণ থাকা সত্ত্বেও তার উপর হজ্জ ফরয হবে। আর যদি সে এ ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়, তাহ’লে ফরয হবে না (উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২১/৮৩)

প্রশ্ন (৮/২৮৮) : মসজিদের মাইকে কি ঈদের তাকবীর দেওয়া যাবে?

প্রশ্নকারী : গোলাম মুর্তাযা, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর।

উত্তর : মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার নিয়তে মাইকে তাকবীর বলা যাবে। আবূ হুরায়রা ও ইবনে ওমর (রাঃ) যিলহজ্জের (প্রথম) দশ দিন বাজারের দিকে বের হ’তেন। তাঁরা সেখানে তাকবীর ধ্বনি দিতেন এবং মানুষও তাঁদের সাথে তাকবীর বলত। তাঁরা কেবল এই তাকবীরের উদ্দেশ্যেই বাজারে আসতেন (ইরওয়া হা/৬৫১)। শায়েখ ওছায়মীন (রহঃ) তাকবীরের জন্য কাউকে নির্ধারণ করাতে কোন বাধা নেই বলে মতপ্রকাশ করেছেন। কারণ উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ ও তা প্রকাশ করা ছাহাবীদের আমল। যাতে গাফেল বা বিস্মৃত ব্যক্তিদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায় (‘মাজমূ‘ ফাতাওয়া (১৩/৯৮৭)।

প্রশ্ন (৯/২৮৯) : পুকুরে চাষ করা মাছের যাকাত দিতে হবে কি এবং যদি দিতে হয় তাহ’লে কিভাবে দিতে হবে?

প্রশ্নকারী : আব্দুল করীম, নওদাপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর : সরাসরি মাছের কোন যাকাত নেই। তবে চাষ করা মাছের বিক্রিত মূল্য এবং পুকুরে থাকা মাছের আনুমানিক মূল্য ধরে তা নিছাব পরিমাণ হ’লে এবং তা নিজ মালিকানায় এক বছর থাকলে তার উপর যাকাত ফরয হবে। ওমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহঃ) ওমানে তাঁর নিযুক্ত প্রশাসক নিকট লিখেছিলেন যে, ‘মাছের ওপর কোন কর বা যাকাত গ্রহণ করবে না, যতক্ষণ না এর মূল্য দুইশত দিরহাম’। বর্ণনাকারী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমার জানা মতে তিনি এটাও বলেছিলেন যে, ‘যখন এটি (মাছের মূল্য) দুইশত দিরহামে পৌঁছবে, তখন তা থেকে যাকাত গ্রহণ কর’ (কাসেম বিন সাল্লাম, আল-আমওয়াল হা/৮৯০)।

প্রশ্ন (১০/২৯০) : ইসলামে প্রাণীর ছবি বা মূর্তি রাখা নিষিদ্ধ। কিন্তু ছোট বাচ্চাদের খেলার জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের পুতুল বা প্লাস্টিকের খেলনা (মানুষ বা প্রাণীর আকৃতির) পাওয়া যায়। শিশুদের বিনোদন বা মেধা বিকাশের উদ্দেশ্যে কি এসব পুতুল কিনে দেওয়া যাবে? ইসলামী শরী‘আতে শিশুদের জন্য এ ধরনের খেলনা ব্যবহারের সুযোগ আছে কি?

প্রশ্নকারী : আশরাফুল ইসলাম, ধানমন্ডী, ঢাকা।

উত্তর : শিশুদের খেলার জন্য সাময়িক ব্যবহার্য খেলনা পুতুল ব্যবহার করা জায়েয (ইবনু তায়মিয়াহ, আল-ফাতাওয়াল কুবরা ৫/৪১৫; ইবনু হাযম, মুহাল্লা মাসআলা নং ১৯১০; আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়া ১২/১২১)। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি নবী করীম (ছাঃ)-এর সম্মুখে পুতুল নিয়ে খেলা করতাম। আর আমার কিছু সাথীও আমার সাথে খেলা করত। যখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) প্রবেশ করতেন তখন তারা আত্মগোপন করত। কিন্তু তিনি তাদেরকে আমার নিকট পাঠিয়ে দিতেন, অতঃপর তারা আমার সাথে খেলত (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত হা/৩২৪৩)। ইমাম নববী বলেন, মেয়েদের খেলনার বিষয়টি স্বতন্ত্র। কারণ এ ব্যাপারে ছাড় রয়েছে। খেলনাটি মানবাকৃতির হৌক বা প্রাণীর আকৃতির হৌক, দেহধারী হৌক বা দেহহীন হৌক, প্রাণীকুলের মধ্যে তার সাদৃশ্য থাক বা না থাক যেমন দু’ডানা ওয়ালা ঘোড়া (ফাৎহুল বারী ১০/৫২৭; তোহফা ৫/৩৫০)। আয়েশা (রাঃ) মাটি দিয়ে নিজ হাতে এই পুতুলগুলো বানিয়েছিলেন। অতএব এভাবে মাটির পুতুল তৈরি করে তাকে কাপড় পরানো ও সেবা-যত্ন করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সন্তান প্রতিপালনের প্রশিক্ষণ নিতে পারে। এতে দোষ নেই। অবশ্য একদল বিদ্বান ছবি ও মূর্তি নিষিদ্ধের আম হাদীছের উপর ভিত্তি করে যাবতীয় আকৃতিবিশিষ্ট খেলনা ব্যবহার করা হারাম বলেছেন (ফাৎওয়াশ শায়েখ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীম ১/১৮০ -১৮৩; তুয়াইজিরী, ই‘লানুন নাকীর ৯৭ পৃ.)। তবে আম হাদীছের বিপরীতে খাছ হাদীছ বর্ণিত হওয়ায় ছোট শিশুদের জন্য যেকোন আকৃতির খেলনা ব্যবহার করা জায়েয (ফিক্বহুস সুন্নাহ ৩/৫০০; ক্বারযাভী, আল-হালাল ওয়াল হারাম ১০৩-১০৪ পৃ.)। উল্লেখ্য যে, এসব খেলনা কেবল খেলনা হিসাবেই ব্যবহার করা যাবে। শোকেসে বা অন্য কোথাও প্রদর্শনীর জন্য তা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ (বিস্তারিত দ্র. হাফাবা প্রকাশিত ‘ছবি ও মূর্তি’ বই)

প্রশ্ন (১১/২৯১) : আমি এ্যাম্বুলেন্স চালাই। এজন্য প্রায় প্রতিদিন রোগী নিয়ে আমাকে দূর-দূরান্তে যেতে হয়। এক্ষেত্রে আমি নিয়মিত ক্বছর ছালাত আদায় করবো কি?

প্রশ্নকারী : মোশাররফ হোসাইন, মাদারীপুর।

উত্তর : একজন গাড়ি চালক যদি প্রতিদিন ক্বছর করার সমপরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করেন তাহ’লে তিনি শরী‘আতের দৃষ্টিতে মুসাফির হিসাবে গণ্য হবেন। তিনি তার সফর ও কর্মকালীন সময়ে চার রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতগুলো (যোহর, আছর ও এশা) ক্বছর করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে জমা (যোহর-আছর এবং মাগরিব-এশা একত্রে আদায়) করতে পারবেন। এমনকি যদি এই সফর প্রতিদিনও হয়। তার জন্য ছালাত পূর্ণ করার চেয়ে ক্বছর করাই উত্তম (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩০/১৯০; দ্র. ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ‘সফরের ছালাত’ অনুচ্ছেদ)।

প্রশ্ন (১২/২৯২) : আমার বিয়েতে প্রথমে আমি রাযী ছিলাম না, তবে কঠোরভাবে বিরোধিতাও করিনি। এভাবে বিয়ের দুই বছর কেটে গেলেও আমি আমার স্ত্রীকে মেনে নিতে পারছি না এবং এতে আমি প্রচন্ডভাবে মানসিক অস্বস্তিতে আছি। এমতাবস্থায় মানসিক প্রশান্তি পেতে আমার করণীয় কি?

প্রশ্নকারী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ঢাকা।

উত্তর : দাম্পত্য জীবনে স্থিতিশীলতা ও মানসিক প্রশান্তি আনার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপায়- (১) বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে তা ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সাথে ধীরে ধীরে উন্নতির চেষ্টা করা। (২) আল্লাহভীতি এবং উত্তম আচরণের মাধ্যমে মানসিক স্থিরতা আনার চেষ্টা করা। (৩) ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা এবং মানুষ হিসাবে স্ত্রীর প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তাদের সাথে সদাচরণ কর। আর যদি তোমরা তাদের অপসন্দ কর, তবে হ’তে পারে তোমরা কোন বস্ত্ত অপসন্দ করছো, কিন্তু আল্লাহ তাতে অনেক কল্যাণ রেখেছেন’ (নিসা ৪/১৯)। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘কোন মুমিন পুরুষ যেন কোন মুমিন নারীকে (নিজের স্ত্রীকে) ঘৃণা না করে। যদি সে তার কোন একটি আচরণ বা চরিত্রে অসন্তুষ্ট হয়, তবে তার অন্য কোন আচরণে সে সন্তুষ্ট হবে’ (মুসলিম হা/১৪৬৯)। তবে স্বামী তাকে কোনভাবেই মেনে নিতে না পারলে সে তাকে তালাক দিতে পারে বা তাকে রেখেই আরেকটি বিবাহ করতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর যদি তারা পৃথক হয়ে যায়, আল্লাহ উভয়কে নিজের অনুগ্রহ থেকে অভাবমুক্ত করে দেবেন (নিসা ৪/১৩০)।

প্রশ্ন (১৩/২৯৩) : কোন নারীর ইদ্দত পালনকালীন যদি তার পিতা মৃত্যুবরণ করে তাহ’লে তিনি পিতার লাশ দেখার জন্য সেখানে যেতে পারবেন কি?

প্রশ্নকারী : তাসনীম, চট্টগ্রাম।

উত্তর : ইদ্দত পালনকারী নারীর জন্য প্রয়োজনে বা বিশেষ উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়া জায়েয। বিশেষ করে নিজের পিতার লাশ দেখতে যাওয়া বা জানাযায় শরীক হওয়া একটি শরী‘আত সম্মত প্রয়োজন হিসাবে গণ্য, যার জন্য ঘর থেকে বের হওয়া তার জন্য বৈধ। তবে এক্ষেত্রে কিছু শর্ত পালন করা যরূরী। যেমন বের হওয়ার সময় সব ধরনের সাজসজ্জা বর্জন করা, পর্দার বিধান মেনে বের হওয়া এবং কাজ শেষে সেই বাড়িতে ফিরে আসা যেখানে তিনি ইদ্দত পালন করছিলেন (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৯/১৬৭)।

প্রশ্ন (১৪/২৯৪) : কাপড় ধোয়ার পরেও যদি বীর্য না ওঠে তাহ’লে ঐ কাপড় পরে ছালাত আদায় করা যাবে কি? 

প্রশ্নকারী : নো‘মান, বগুড়া।

উত্তর : উক্ত অবস্থায় ছালাত আদায় করা যাবে। বীর্য কাপড় থেকে তুলে ফেলবে বা ধুয়ে ফেলবে। চিহ্ন দেখা না গেলে পানি ছিটিয়ে দিবে। এটাই যথেষ্ট হবে (নববী, শরহু মুসলিম ৩/১৯৮; ফাৎহুল বারী ২/৩৩২); ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৫/৩৮১)। জ্যেষ্ঠ তাবেঈ হুমাম বিন হারেছ একদিন আয়েশা (রাঃ)-এর মেহমান হন। এমতাবস্থায় সকালে তিনি কাপড় ধুতে থাকলে আয়েশা (রাঃ)-এর দাসী সেটা দেখেন এবং তাঁকে সেটা অবহিত করেন। তখন আয়েশা (রাঃ) বললেন, তার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট ছিল যে, সে বীর্য দেখলে কেবলমাত্র সে স্থানটি ধুয়ে ফেলবে। আর না দেখা গেলে স্থানটিতে কেবল পানি ছিটিয়ে দিবে। কেননা আমি রাসূল (ছাঃ)-এর কাপড় থেকে শুকনো বীর্য ঘষা দিয়ে তুলে ফেলেছি এবং তিনি সেই কাপড়েই ছালাত আদায় করেছেন’ (মুসলিম হা/২৮৮; আবুদাঊদ হা/৩৭১)।

প্রশ্ন (১৫/২৯৫) : বাজারে কালো মেহেদী নামে যে মেহেদী পাওয়া যায়, তা মেহেদী হ’লেও চুল-দাড়ি কালোর কাছাকাছি রঙ হয়। এটি ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্নকারী : শরীফুল ইসলাম, দৌলতপুর, কুষ্টিয়া।

উত্তর : পাকা চুল বা দাড়িতে মেহেদী ব্যবহার করে রং পরিবর্তন করা জায়েয। তবে শর্ত হ’ল তা যেন সরাসরি কালো রঙের না হয়। যখন আবুবকর (রাঃ)-এর পিতা নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট আসলেন এবং তাঁর মাথা ও দাড়ির চুল ধবধবে সাদা ছিল, তখন নবী করীম (ছাঃ) তাঁকে রঙ করার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, ‘তবে তোমরা কালো রঙ পরিহার কর’ (মুসলিম হা/২১০২; মিশকাত হা/৪৪২৪)। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘শেষ যামানায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে, যারা কবুতরের বুকের মত কালো রঙ দিয়ে চুল/দাড়ি রঞ্জিত করবে; তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না’ (আবূদাউদ হা/৪২১২; মিশকাত হা/৪৪৫২; ছহীহুল জামে‘ হা/৮১৫৩)।

প্রশ্ন (১৬/২৯৬) : জনৈক আলেম তার বক্তব্যে বলেছেন, সুপারী গাছ কেটে ফেলতে হবে। তার এই বক্তব্য কতটুকু শরী‘আতসিদ্ধ?

প্রশ্নকারী :  হেলালুদ্দীন, পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : সুপারী হারাম হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট কোন দলীল নেই। সুতরাং গাছ কেটে ফেলতেই হবে এমন ধারণা ভুল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন পৃথিবীতে যা আছে সবকিছু’ (বাক্বারাহ ২/২৯)। তিনি আরো বলেন, ‘তুমি বলে দাও, আমার নিকট যেসব বিধান অহি করা হয়েছে, সেখানে ভক্ষণকারীর জন্য আমি কোন খাদ্য হারাম পাইনি যা সে ভক্ষণ করে, কেবল মৃত প্রাণী, প্রবাহিত রক্ত ও শূকরের গোশত ব্যতীত। কেননা এগুলি নাপাক বস্ত্ত’ (আন‘আম ৬/১৪৫)। আর খাদ্যসমূহের বিষয়ে মূল বিধান হ’ল সেগুলো হালাল হ’তে হবে। এ বিষয়ে চারটি ফিক্বহী মাযহাবের মধ্যে একমত রয়েছে (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূউ‘ল ফাতাওয়া ২১/৫৩৮)। তবে সুপারীকে জাগ দিয়ে পচানোর পর যদি তাতে মাদকতা আসে, তাহ’লে মাদকতার কারণে তা খাওয়া হারাম হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক নেশাদার বস্ত্তই মাদক এবং প্রত্যেক মাদকই হারাম’ (মুসলিম হা/২০০৩; মিশকাত হা/৩৬৩৮)। এছাড়া সুপারী নিয়মিত বা অতিরিক্ত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী। এটি মুখের ক্যান্সারসহ হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনীর সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। এটি দাঁত ও মাড়ির স্থায়ী ক্ষতি করে। তাই সুপারী বর্জন করাই উত্তম।

প্রশ্ন (১৭/২৯৭) : জনৈক ব্যক্তি জীবিত থাকাবস্থায় ছেলে-মেয়েকে সমান অংশে সম্পদ লিখে দিয়েছেন। তার এই কাজ কি শরী‘আত সম্মত হয়েছে। না হ’লে এমতাবস্থায় করণীয় কী?

প্রশ্নকারী : আব্দুর রহীম, পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : উক্ত লিখে দেয়া শরী‘আত সম্মত হয়নি। কারণ মেয়েরা ছেলেদের অর্ধেক পাবে। উত্তরাধিকার সম্পদ মৃত্যুর পরে বণ্টন হওয়াই ইসলামী শরী‘আতের বিধান, যা সকলের জন্য কল্যাণকর। মৃত্যুর পূর্বে পিতা-মাতা সন্তানদের মাঝে বণ্টন করতে পারেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে সকলকে শরী‘আতে বর্ণিত বণ্টননামা অনুযায়ী প্রদান করতে হবে (বুখারী হা/২৫৮৭; মিশকাত হা/৩০১৯)। পিতার মৃত্যুর পরে শরী‘আতের বিধান অনুযায়ী যাতে বণ্টন করা হয়, সে মর্মে বণ্টননামা অছিয়ত আকারেও লিখে রাখতে পারেন (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৬/১৯৩)।

প্রশ্ন (১৮/২৯৮) : আমার পিতা যাকাত ফরয হওয়া সত্ত্বেও তিনি তা আদায় করেননি। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। এমতাবস্থায় পিতাকে যাকাত আদায় না করার পাপ থেকে রক্ষা করতে সন্তানের করণীয় কি?

প্রশ্নকারী : আতীক হাসান, মুজিবনগর, মেহেরপুর।

উত্তর : মৃত ব্যক্তির যদি নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে এবং তার উপর এক বছর অতিক্রান্ত হয়ে থাকে, তবে ওয়ারিছদের উপর ওয়াজিব হ’ল তাদের মৃত পিতার পক্ষ থেকে যাকাত আদায় করা। কেননা যাকাত তার যিম্মায় একটি ঋণ হিসাবে গণ্য, যা উত্তরাধিকার বন্টনের আগেই তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে পরিশোধ করা আবশ্যক। আর তা আদায় করতে হবে সেই বছরগুলোর যাকাত হিসাব করে কেটে রাখার মাধ্যমে, যে বছরগুলোতে তিনি যাকাত আদায় করেননি (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১/৪৯৩)। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমাদের অছিয়ত পূরণ ও ঋণ পরিশোধের পর’ (নিসা ৪/১১-১২)।

প্রশ্ন (১৯/২৯৯) : সঊদী আরবে কোন কোন খতীব ছাহেব খুৎবার শেষের দিকে দু‘হাত তুলে মুনাজাত করেন। খুৎবার মধ্য এভাবে হাত উঠিয়ে মুনাজাত করার বিধান কি?

প্রশ্নকারী : সাইফুল্লাহ, রিয়াদ, সঊদী আরব।

উত্তর : জুম‘আর খুৎবায় হাত তোলা শরী‘আত সম্মত নয়। ইমামের জন্যও নয়, মুক্তাদীদের জন্যও নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এটি করেননি এবং তাঁর পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলেও এমন ছিল না। তবে ইমাম যদি জুম‘আর খুৎবায় বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেন, তবে তাঁর ও মুক্তাদীদের জন্য হাত তোলা শরী‘আত সম্মত। কেননা নবী করীম (ছাঃ) যখন জুম‘আর খুৎবায় বৃষ্টি প্রার্থনার দো‘আ করেছিলেন, তখন তিনি হাত তুলেছিলেন এবং উপস্থিত লোকেরাও তাদের হাত তুলেছিলেন (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩০/২৪৯-৫০; ফাতাওয়া ইসলামিয়া ১/৪২৭)। শায়েখ ওছায়মীন (রহঃ) বলেন, বৃষ্টি প্রার্থনার দো‘আ ছাড়া অন্য কোন কারণে জুম‘আর খুৎবার সময় হাত তোলা যাবে না’(ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ২৪/০২)।

প্রশ্ন (২০/৩০০) : ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR)ব্যবহার করে কাবা শরীফ বা জান্নাত-জাহান্নামের কাল্পনিক দৃশ্য অনুভব করার চেষ্টার শারঈ বিধান কী?

প্রশ্নকারী : আহমাদ, মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : ভি আর (VR) প্রযুক্তির মাধ্যমে কা‘বা, মসজিদুল হারাম, জান্নাত বা জাহান্নামের দৃশ্য দেখার অর্থ সেটি বাস্তব দেখা নয়, বরং একটি কাল্পনিক অভিজ্ঞতা। শরী‘আতের দৃষ্টিতে, ইবাদতের স্থলাভিষিক্ত না হ’লে এবং হারাম কোন ছবি, সঙ্গীত, নারীর চিত্র বা গুনাহের উপাদান না থাকলে এবং কেবল শিক্ষামূলক বা তথ্যভিত্তিক উদ্দেশ্যে হ’লে, এটি মুবাহ (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৫/৪০৯)। আর জান্নাত ও জাহান্নামের প্রকৃত রূপ আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। VR-এ এগুলোর প্রতিচিত্র দেখানো হয় সম্পূর্ণ মানব কল্পনানির্ভর। তাই এগুলো দেখলে বাস্তব জান্নাত দেখা হবে না, বরং তা কাল্পনিক জিনিস দেখার মত হবে। এটি শরী‘আতে নিষিদ্ধ নয়, যতক্ষণ না তা ভ্রান্ত আক্বীদার সৃষ্টি করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তাদের জন্য যা লুকিয়ে রাখা হয়েছে কোন প্রাণীই তা জানে না’ (সাজদাহ ৩২/১৭)।

প্রশ্ন (২১/৩০১) : আমার একটি ডেকোরেশনের ব্যবসা আছে। মীলাদ বা ওরসের মত বিদ‘আতী অনুষ্ঠানের জন্য আমার ডেকোরেশনের বিভিন্ন সামগ্রী (যেমন- মাইক, ফ্যান, সামিয়ানা ইত্যাদি) ভাড়া দেওয়া শরী‘আত সম্মত হবে কি?

প্রশ্নকারী : নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর : বৈধ কর্মে ভাড়া দিতে হবে এবং যথাসম্ভব শরী‘আত বিরোধী কাজে সহযোগিতা থেকে বিরত থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ ৫/২)। আর মীলাদ বা ওরস প্রভৃতি বিদ‘আতী কর্মকান্ডে জেনেশুনে সহযোগিতা করা গুনাহের কাজ। অতএব যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করবে ও তাঁর উপর ভরসা করবে। যারা আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তা‘আলা বিকল্প পন্থায় তাদের রিযিকের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন (তালাক ৬৫/২; বুখারী হা/৫১৬৪; মুসলিম হা/৩৬৭)। এক্ষণে হালাল এবং শরী‘আত সম্মত অনুষ্ঠান যেমন বিবাহ বা ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন সভা-সম্মেলন ইত্যাদি বৈধ কর্মে ভাড়া দেওয়ার পরে যদি কেউ শরী‘আত বিরোধী কাজ করে, তবে এর জন্য যারা ভাড়া নিয়েছে তারাই গুনাহগার হবে।

প্রশ্ন (২২/৩০২) : হজ্জব্রত পালনকারীদের জন্য ঈদুল আযহার ছালাত আদায় করা যরূরী কি?

প্রশ্নকারী : মাসঊদ, ঢাকা।

উত্তর : হাজীদের জন্য ঈদের ছালাত সুন্নাত নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও খুলাফায়ে রাশেদীন মিনাতে কখনো ঈদুল আযহার ছালাত আদায় করেননি। আর ১০ই যিলহাজ্জ তাকবীর সহ কংকর নিক্ষেপ করা ঈদুল আযহার তাকবীর ও ছালাতের স্থলাভিষিক্ত (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১১/৬৯-৭০; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৬/১৭০; বিস্তারিত দ্রঃ হজ্জ ও ওমরাহ পৃ. ১০৪)

প্রশ্ন (২৩/৩০৩) : বিয়ের আক্বদ তথা ঈজাব-কবুল হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কোন প্রকার নির্জনবাস হয়নি। এমতাবস্থায় যদি তাদের মাঝে তালাক হয়ে যায়, তবে পরবর্তীতে পুনরায় তারা দু’জনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হ’তে পারবে কি? এক্ষেত্রে নতুন করে বিবাহের নিয়ম, ইদ্দত পালন এবং পূর্বের ও বর্তমানের মোহরানা পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।

প্রশ্নকারী : ইয়াসির আরাফাত, চট্টগ্রাম।

উত্তর : সহবাস বা নির্জনবাস হওয়ার পূর্বে তালাক হয়ে থাকলে নারীর উপর কোন ইদ্দত নেই এবং সে নির্ধারিত মোহরের অর্ধেক পাবে। আর যদি মোহর নির্ধারিত না থাকে, তবে স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী সে সান্তনামূলক উপহার পাবে। এক্ষেত্রে স্বামীর জন্য তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার (রাজ‘আত) সুযোগ থাকবে না; বরং নতুন বিবাহ ও নতুন মোহরের মাধ্যমেই পুনরায় সংসার করা সম্ভব। এক্ষণে ছেলে এবং মেয়ে চাইলে শারঈ নিয়মে নতুন বিবাহের মাধ্যমে সংসার করতে পারে।

প্রশ্ন (২৪/৩০৪) : ঈদগাহের মাঠে খেলাধূলা সহ বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি অনুষ্ঠান করা যাবে কি?

প্রশ্নকারী : রাগীব আহসান, কুমিল্লা।

উত্তর : ঈদগাহের মাঠে বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ ও অন্যান্য দিবস পালনার্থে কোন অনুষ্ঠান করা বৈধ নয়। কারণ অমুসলিমদের অনুকরণে পালিত এসব দিবসের সাথে ইসলামের কোনই সম্পর্ক নেই। খেলাধূলা থেকেও দূরে থাকা কর্তব্য। কেননা এতে ঈদগাহের ধর্মীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।

প্রশ্ন (২৫/৩০৫) : ছেলেদের জন্য রূপার আংটি পরিধান করা কি জায়েয?

প্রশ্নকারী : যহীরুল ইসলাম, রাজশাহী।

উত্তর : ছেলেদের জন্য রূপার আংটি ব্যবহার করা জায়েয। রাসূল (ছাঃ) এবং ছাহাবায়ে কেরাম রূপার আংটি ব্যবহার করেছেন (বুখারী হা/৫৮৬৬; ছহীহাহ হা/১১৯২)। নববী (রহঃ) বলেন, পুরুষের জন্য রূপার আংটি ব্যবহার করা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে ইজমা‘ রয়েছে’ (আল-মাজমূ‘ ৪/৪৪৪)। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘রূপার আংটি ব্যবহার করা সকল ইমামের ঐক্যমত্যে বৈধ। কারণ নবী করীম (ছাঃ) থেকে ছহীহভাবে প্রমাণিত যে, তিনি রূপার আংটি গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর ছাহাবীগণও আংটি ব্যবহার করেছিলেন’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া ২৫/৬৩)। উল্লেখ্য যে, পুরুষের জন্য সোনা ভিন্ন অন্য কোন ধাতু দিয়ে তৈরী অলংকার ব্যবহার করা যাবে না, যদি তা নারীদের সদৃশ হয়। যেমন কানের দুল, চেইন, ব্রেসলেট। এছাড়া কোন ভ্রান্ত আক্বীদা নিয়েও আংটি বা ব্রেসলেট ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না।

প্রশ্ন (২৬/৩০৬) : কোন ব্যক্তি যদি বিদেশে থাকেন এবং নিজের দেশে বা অন্য কোন দরিদ্র দেশে টাকা পাঠিয়ে কুরবানী করান, তবে তার কুরবানী আদায় হবে কি?

প্রশ্নকারী : নাজীব, পত্নীতলা, নওগাঁ।

উত্তর : উত্তম হ’ল ব্যক্তি যে দেশে অবস্থান করছে সেখানেই কুরবানী করা এবং নিজের কুরবানী নিজেই সম্পন্ন করা। কারণ নবী করীম (ছাঃ) এরূপ করেছেন। আনাস (রাঃ) বলেন, ‘নবী করীম (ছাঃ) দু’টি ধূসর বর্ণের শিংওয়ালা দুম্বা কুরবানী করেছেন। তিনি সেগুলো নিজ হাতে যবেহ করেছেন, বিসমিল্লাহ পড়েছেন, তাকবীর বলেছেন এবং যবেহ করার সময় নিজের পা সেগুলোর পাঁজরের ওপর রেখেছিলেন’ (বুখারী হা/৫৫৫৮; মিশকাত হা/১৪৫৩)। তবে যদি অন্য কোন দেশে কুরবানী পাঠানোর পিছনে অধিকতর কল্যাণ বা জোরালো কোন কারণ থাকে, তবে তা জায়েয হবে। কুরবানীর নিয়ত করে থাকলে তা কুরবানী হিসাবে আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ (মুসলিম হা/১২১৮; ওয়াহবাতুল যুহায়লী, আল-ফিক্বহুল ইসলামী ৪/২৭৩)।

প্রশ্ন (২৭/৩০৭) : বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান ‘ফুল সার্ভিস কুরবানী’ (পশু কেনা থেকে শুরু করে যবেহ ও প্যাকেটজাত করে পৌঁছে দেওয়া) অফার করে। এক্ষেত্রে পশুর মালিক উপস্থিত না থাকলে বা নিজের হাতে যবেহ না করলে কুরবানীর ছওয়াবে কোন কমতি হবে কি?

প্রশ্নকারী : মাহমূদুল হাসান তাজ, সাতক্ষীরা।

উত্তর : উত্তম হ’ল ব্যক্তি নিজের কুরবানী নিজেই সম্পন্ন করবে। কারণ নবী করীম (ছাঃ) নিজ হাতেই নিজের কুরবানী করতেন (বুখারী হা/৫৫৫৮; মিশকাত হা/১৪৫৩)। তবে নিজ হাতে কুরবানী না করতে পারলে বা উল্লেখিত ফুল সার্ভিস কুরবানী সেবা গ্রহণ করলে কুরবানীর ছওয়াবের কোন কমতি হবে না। তবে কুরবানীদাতার জন্য নিজ কুরবানী যবেহ করার সময় উপস্থিত থাকা মুস্তাহাব (মুসলিম হা/১২১৮; ওয়াহবাতুল যুহায়লী, আল-ফিক্বহুল ইসলামী ৪/২৭৩)।

প্রশ্ন (২৮/৩০৮) : হজ্জে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে বা রাখে না এরূপ ব্যক্তিতে কোম্পানীর পক্ষ থেকে পুরষ্কার স্বরূপ খরচ দিয়ে হজ্জ করানোর কোন ফযীলত আছে কি?

প্রশ্নকারী : আব্দুল লতীফ, নরসিংদী।

উত্তর : কোনরূপ দুনিয়াবী স্বার্থ ছাড়াই বিশুদ্ধ নিয়তে পাঠালে ছওয়াব পাবে ইনশাআল্লাহ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি কোন জিহাদে গমনকারীকে প্রস্ত্তত করে দিল তথা খরচ বহন করল অথবা কোন হজ্জপালনকারীর খরচ বহন করল, অথবা জিহাদে বা হজ্জে গমনকারীর পরিবারের তত্ত্বাবধান করল অথবা কোন ছায়েমকে ইফতার করালো, তার জন্য তা (জিহাদ, হজ্জ বা ছিয়াম) পালনকারীর অনুরূপ নেকী রয়েছে। যা থেকে সামান্য পরিমাণ নেকীও কমতি করা হবে না (ছহীহ ইবনু খুযায়মা হা/২০৬৪; ছহীহ আত-তারগীব হা/১০৭৮)

প্রশ্ন (২৯/৩০৯) : হজ্জ ফরয হওয়া ব্যক্তি কেবল ওমরাহ পালন করলে তার হজ্জের ফরযিয়াত আদায় হয়ে যাবে কি?

প্রশ্নকারী : আব্দুল মান্নান, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : হজ্জ ও ওমরা দু’টি পৃথক ইবাদত। একটি আরেকটির স্থলাভিষিক্ত হবে না। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ ও ওমরাহ পূর্ণ কর’ (বাকারাহ ২/১৯৬)। লাক্বীত ইবনে আমের (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, আমার পিতা এত বেশী বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন যে, তিনি হজ্জ ও ওমরাহ করতে অক্ষম। এমনকি সফর করতেই অক্ষম। তিনি বললেন, ‘তুমি তোমার পিতার পক্ষ হ’তে হজ্জ ও ওমরাহ সম্পাদন কর (ইবনু মাজাহ হা/২৯০৬; আবুদাউদ হা/১৮১০; মিশকাত হা/২৫২৮)। অতএব কেবল ওমরাহ পালন করলে, হজ্জের ফরযিয়াত আদায় হবে না।

প্রশ্ন (৩০/৩১০) : পৃথিবী সমতল নাকি গোলাকার? এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের কোন প্রমাণ আছে কি?

প্রশ্নকারী : আব্দুর রহমান, দিনাজপুর।

উত্তর : সূরা যুমার ৫, ক্বাফ ৯, লোকমান ২৯, নাযি‘আত ৩০ প্রভৃতি আয়াত সমূহ পৃথিবী গোলাকার হওয়ার প্রমাণ বহন করে। উক্ত আয়াত সমূহে আল্লাহ বলেন, يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ ‘তিনিই দিবসের উপর রাত্রিকে এবং রাত্রির উপর দিবসকে আবেষ্টনকারী বানিয়েছেন’ (যুমার ৫)। كَوْرٌ অর্থ গোল বানানো, মাথায় পাগড়ী পেচানো। এটাই পৃথিবী গোল হওয়ার অন্যতম প্রধান কুরআনী দলীল। কারণ এক দেশে যখন সূর্য অস্ত যায়, অন্য দেশে তখন সূর্যের উদয় হয়, এটাই পৃথিবীর গোলত্বের অকাট্য প্রমাণ। যা কুরআন বহু পূর্বে পেশ করেছে। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا ‘আমরা পৃথিবীকে বিস্তৃত করে দিয়েছি’ (ক্বাফ ৭)। অর্থাৎ যা সর্বদা বিস্তৃত ও প্রশস্ত। মানুষ সারা জীবন চলতে থাকলেও পৃথিবীকে প্রশস্তই পাবে। আর এই অব্যাহত প্রশস্ততা কেবল তখনই সম্ভব, যখন পৃথিবী গোল হয়। অন্য কোন আকৃতির হলে তা সম্ভব হবে না। কেননা সে সময় তাকে একটা না একটা সীমান্তে পৌঁছতেই হবে। কিন্তু কোন প্রান্তসীমা পাওয়া বা সেখানে গিয়ে কোন গভীর গহবরে পড়ে যাওয়ার মত কখনো ঘটেনি’। বস্ত্ততঃ ‘পৃথিবী গোলাকার’ এই বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আবিষ্কৃত হওয়ার অন্ততঃ এগারশ’ বছর পূর্বে কুরআন মজীদই সর্বপ্রথম তা উপস্থাপিত করেছে’ (আব্দুর রহীম, স্রষ্টা ও সৃষ্টিতত্ত্ব পৃঃ ২৬৯-২৮০)

ইমাম ইবনু হাযম আন্দালুসী (৩৮৪-৪৫৬ হিঃ) সূরা যুমার ৫ আয়াত থেকে দলীল দিয়ে বলেন, ‘নেতৃস্থানীয় বিদ্বানগণের কেউই পৃথিবী গোলাকার হওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেননি। কিংবা এর বিরুদ্ধে তাদের কারু থেকে কোন বক্তব্য জানা যায়নি। বরং কুরআন ও হাদীছে এর গোলাকার হওয়ার পক্ষেই দলীল এসেছে (ইবনু হাযম, আল-ফিছাল ফিল মিলাল ১/৩৫২ ‘পৃথিবী গোলাকার হওয়া’ অনুচ্ছেদ)

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হিঃ) বিখ্যাত বিদ্বান আবুল হুসায়েন আহমাদ বিন জাফর (রহঃ)-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে কোন মতভেদ নেই। তিনি বলেন, এর প্রমাণ হিসাবে বলা যায়, ‘পৃথিবীর কোন প্রান্তে সূর্য, চন্দ্র বা নক্ষত্ররাজি একই সময়ে উদিত হয় না বা অস্তও যায় না। বরং পশ্চিমের আগে তা পূর্বে উদিত হয়’ (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৫/১৯৫)

প্রশ্ন (৩১/৩১১) : ব্যক্তিগত ইজতিহাদের ভিত্তিতে কারো কুফুরী দেখার পর তাকে কাফির মনে করা বা বলা যাবে কি?

প্রশ্নকারী : সজীব, রাজশাহী।

[আরবীতে সুন্দর ও ইসলামী নাম রাখুন! (স.স.)]

উত্তর : ব্যক্তিগত ইজতিহাদ মোতাবেক কারো বাহ্যিক আচরণ দেখে তাকে নিজ উদ্যোগে কাফির মনে করা বা ঘোষণা করা জায়েয নয়। স্পষ্ট কুফরে লিপ্ত হওয়া, কুরআন এবং সুন্নাহর স্পষ্ট বিষয়কে অস্বীকার করা বা অমান্য করা ইত্যাদি বিষয় পাওয়া গেলে কাফির বলা যেতে পারে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যখন কেউ তার মুসলিম ভাইকে বলে, হে কাফির! এ কথা দু’জনের একজনের দিকে ফিরে যায়’ (বুখারী হা/৬১০৩; মুসলিম হা/৬০)। অর্থাৎ যার দিকে অভিযোগ যদি তা সত্য না হয়, তবে তা অভিযোগকারীর উপর ফিরে আসে যা অত্যন্ত ভয়াবহ। শায়েখ ওছায়মীন (রহঃ) বলেছেন, ‘কাউকে কাফের হিসাবে সাব্যস্ত করার (তাকফীর) রায় দেওয়ার আগে দু’টি বিষয় দেখা ওয়াজিব- ১. কুরআন ও সুন্নাহর দলীল দ্বারা এটি প্রমাণিত হওয়া যে, সংশ্লিষ্ট বিষয়টি কুফরী। যাতে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা না হয়। ২. সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর উক্ত হুকুমটি কার্যকর হয় কি-না তা যাচাই করা। অর্থাৎ তার ক্ষেত্রে তাকফীরের শর্তসমূহ পূর্ণ হ’তে হবে এবং তাকফীরের পথে বাধা প্রদানকারী বিষয়গুলো অনুপস্থিত থাকতে হবে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২/১৩৪)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, আমলের ক্ষেত্রে কেউ ইজতিহাদ করে ভুল করে থাকলে সেটি অপরাধ নয়। কিন্তু আক্বীদাগত মাসআলার ক্ষেত্রে অনেক মানুষ ভুলকারী মাত্রই কাফের সাব্যস্ত করে। অথচ এই ধরনের বক্তব্য ছাহাবী, তাবেঈ কিংবা মুসলিম ইমামগণের কারো থেকে জানা যায় না; বরং এটি বিদ‘আতীদের বক্তব্য (মিনহাজুস সুন্নাহ ৫/২৩৯)। তিনি আরো বলেন, আমি নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে কাফের, ফাসেক বা পাপী হিসাবে সাব্যস্ত করতে কঠোরভাবে নিষেধ করি; যতক্ষণ না এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তার উপর ‘হুজ্জাতে রিসালাত’ (রাসূলের আনীত অকাট্য দলীল) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে (মাজমূউল ফাতাওয়া ৩/২২৯)।

প্রশ্ন (৩২/৩১২) : ঈদুল আযহার দিন ছিয়াম পালনে শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

প্রশ্নকারী : আমীনুল ইসলাম, পাজরভাঙ্গা, নওগাঁ।

উত্তর : উভয় ঈদের দিন ছিয়াম পালন করা নিষিদ্ধ। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) ঈদুল ফিৎর ও ঈদুল আযহার দিন ছিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেন (বুখারী হা/১৯৯১, মুসলিম হা/১১৩৭, মিশকাত হা/২০৪৮)। এছাড়া আইয়ামে তাশরীক্ব তথা ঈদুল আযহার পরবর্তী তিনদিনও ছিয়াম পালন নিষিদ্ধ (মুসলিম হা/১১৪১, মিশকাত হা/২০৫০; আবুদাঊদ হা/২৪১৯)। তবে কুরবানীদাতার জন্য ঈদের দিন কুরবানীর গোশত খাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত না খেয়ে থাকা সুন্নাত (তিরমিযী হা/৫৪২, মিশকাত হা/১৪৪০)।gin

প্রশ্ন (৩৩/৩১৩) : হজ্জ থেকে ফিরে আসা উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা যাবে কি?

প্রশ্নকারী : আহমাদ, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : কোন দীর্ঘ সফর থেকে ফিরে আসার পর এরূপ আয়োজন করা যায়। জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন তিনি একটি উট অথবা একটি গাভী যবহ করেন (বুখারী হা/৩০৮৯; মিশকাত হা/৩৯০৫)। হাদীছটির ব্যাখ্যায় ত্বীবী বলেন, সফর থেকে ফেরার পর সক্ষমতা অনুযায়ী মেহমানদারী করানো সুন্নাত (ত্বীবী, শরহ মিশকাত হা/৩৯০৫-এর ব্যাখ্যা; বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৫/৩৮৮; নববী, আল-মাজমূ‘ ৪/৪০০)। তবে এটিকে রেওয়াজে পরিণত করলে বিদ‘আত হবে। আর হজ্জ ব্যবসায় প্রসারের লক্ষ্যে এটা করলে নেকী থেকে বঞ্চিত হবে।

প্রশ্ন (৩৪/৩১৪) : ছোটবেলায় পিতা-মাতার বিচ্ছেদের পর গত ২৬ বছর যাবৎ মায়ের সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই এবং আমি বাবার সাথেই থাকি। মা এখন অন্যের ঘরসংসার করছেন। এমতাবস্থায় জন্মদাত্রী হিসাবে তাঁর প্রতি আমার কোন শারঈ দায়িত্ব আছে কি?

প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, বরিশাল।

উত্তর : জন্মদাত্রী মা যেখানেই অবস্থান করুক মায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সাধ্যমত তার সেবা করতে হবে। মাতৃত্ব একটি স্থায়ী বংশীয় সম্পর্ক এবং তাঁর প্রতি সদাচরণ করা ওয়াজিব। এর মধ্যে তাঁর খোঁজখবর নেওয়া, তাকে আর্থিক সহায়তা করা অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা পিতামাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতামাতার সাথে সদাচরণ করবে’ (বনু ইস্রাঈল ১৭/২৩)। তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রতি ও তোমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। ফিরে আসা তো আমারই কাছে’ (লোকমান ৩১/১৪)। তিনি আরও বলেন, ‘আর আমি মানুষকে তার পিতামাতার সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি’ (আহক্বাফ ৪৬/১৫)। যখন নবী করীম (ছাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হ’ল হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! মানুষের মধ্যে কে আমার কাছে উত্তম সাহচর্য পাওয়ার বেশী হকদার? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বললেন, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি আবারও বললেন, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বললেন, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার বাবা (মুসলিম হা/২৫৪৮)।

প্রশ্ন (৩৫/৩১৫) : হজ্জ বা ওমরায় গিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর কবর যিয়ারত করা আবশ্যক কি?

প্রশ্নকারী : মেহেদী হাসান, বাড্ডা, ঢাকা।

উত্তর : আবশ্যক নয়। কেননা রাসূল (ছাঃ)-এর কবর যিয়ারত হজ্জ বা ওমরার কোন অংশ নয়। শায়খ বিন বায বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর কবর যিয়ারত করা ওয়াজিব নয় বা হজ্জের কোন শর্তও নয়, যেমনটি সাধারণ মানুষ ধারণা করে থাকে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১৬/১১১)। উল্লেখ্য যে, হজ্জের সময় রাসূল (ছাঃ)-এর কবর যিয়ারতের ব্যাপারে যতগুলি বর্ণনা এসেছে, তার সবগুলি যঈফ অথবা জাল (আলবানী, সিলসিলা যঈফাহ হা/৪৫-৪৭; দ্রঃ ‘হজ্জ ও ওমরাহ’ বই ১৩৯-৪০ পৃ.)

প্রশ্ন (৩৬/৩১৬) : জন্মের কয়েক ঘন্টা পর বাচ্চা মৃত্যুবরণ করলে তার আক্বীক্বা দিতে হবে কি?

প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ আল-রোমেন, সঊদী আরব।

উত্তর : সপ্তম দিনের পূর্বে সন্তান মারা গেলেও তার আক্বীক্বা দেওয়া মুস্তাহাব। কারণ সন্তান মাতৃগর্ভে চার মাসের বেশি অবস্থান করলে জীবন, রিযিক ও আয়ু লাভ করে এবং মানুষ হিসাবে গণ্য হয় (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১১/৪৪৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘প্রত্যেক শিশু তার আক্বীক্বার সাথে বন্ধক থাকে’ (আবুদাউদ হা/২৮৩৯; মিশকাত হা/৪১৫৩)। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.) বলেন, এটি সন্তানের শাফা‘আতের বিষয়ে বলা হয়েছে। তিনি মনে করেন, যদি সন্তানের আক্বীক্বা না করা হয় অতঃপর সে শিশু অবস্থায় মারা যায়, তাহ’লে সে তার পিতা-মাতার জন্য শাফা‘আত করবে না (ফাৎহুল বারী ৯/৫৯৪)। ইবনু হাযম (রহঃ) বলেন, যদি (সন্তান) সপ্তম দিনের আগেও মারা যায়, তার পক্ষ থেকে আক্বীক্বা করতে হবে’ (মুহাল্লা ৬/২৩৫; ওছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২৫/২২৬)।

প্রশ্ন (৩৭/৩১৭) : হজ্জব্রত পালনকালে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাংখীদের সাথে মোবাইলে, ভিডিও কলে যোগাযোগ রাখা যাবে কি?

প্রশ্নকারী : ইমরান হোসাইন, বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : তাদের সাথে যোগায়োগে কোন বাধা নেই। তবে ত্বাওয়াফ ও সাঈ চলাকালীন সময়ে বিরত থাকবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, বায়তুল্লাহর ত্বাওয়াফ ছালাতের মতই। অতএব তোমরা সেখানে অল্প কথা বল (নাসাঈ হা/২৯২২; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৯৫৪)

প্রশ্ন (৩৮/৩১৮) : হজ্জব্রত পালনকালে মহিলারা অলংকার ব্যবহার করতে পারবে কি?

প্রশ্নকারী : আকলিমা, পাঁচরুখী, নারায়ণগঞ্জ।

উত্তর : হজ্জ পালনকালে মহিলাদের অলংকার ব্যবহারে কোন বাধা নেই। তবে এ সময় যেন তা পরপুরুষেরা দেখতে না পায় সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। কারণ অলংকার নারী সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১১/১৯২; উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/২০১)

প্রশ্ন (৩৯/৩১৯) : অসুস্থতা আল্লাহর পক্ষ থেকে নে‘মত না পাপের ফল? এটা বুঝার উপায় কি?

প্রশ্নকারী : আল-আমীন, টাঙ্গাইল।

উত্তর : আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সুখ-দুঃখ এবং সচ্ছলতা-অসচ্ছলতা দিয়ে পরীক্ষা করেন। কখনও তিনি তাদের পরীক্ষা করেন তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য, সুখ্যাতি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এবং নেকী বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। যেমনটি তিনি নবী-রাসূল ও নেককার বান্দাদের ক্ষেত্রে করে থাকেন। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন নবীগণ, তারপর যারা তাদের নিকটবর্তী (মর্যাদাবান), এরপর যারা তাদের নিকটবর্তী’ (তিরমিযী হা/২৩৯৮; মিশকাত হা/১৫৬২, সনদ হাসান)। আবার কখনও আল্লাহ এটি করেন গুনাহ ও পাপাচারের কারণে, যাতে দুনিয়াতেই দ্রুত শাস্তি প্রদান করা হয়। যেমনটি আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘তোমাদের ওপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদেরই কর্মফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন’ (শূরা ৪২/৩০)

সারকথা হ’ল, পরীক্ষা বা বালা-মুছীবত কখনও মর্যাদা বৃদ্ধি ও বিপুল ছওয়াবের জন্য হয়, যেমনটি আল্লাহ নবীগণ এবং একনিষ্ঠ নেককারদের সাথে করেন। আবার কখনও এটি গুনাহ মাফের জন্য হয়, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যে কেউ মন্দ কাজ করবে তাকে তার ফল দেওয়া হবে’ (নিসা ৪/১২৩)। আর নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে কোন দুশ্চিন্তা, দুঃখ-কষ্ট, ক্লান্তি, রোগ, শোক কিংবা যাতনা আসুক না কেন, এমনকি তার গায়ে যদি একটি কাঁটাও ফোটে, তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন’ (আহমাদ হা/১১২০৪, সনদ ছহীহ)। নবী করীম (ছাঃ) আরও বলেছেন, ‘আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে তিনি বিপদে ফেলেন’ (বুখারী হা/৫৬৪৫; মিশকাত হা/১৫৩৬)

আবার কখনও এই পরীক্ষা গুনাহের কারণে এবং দ্রুত তওবা না করার ফলে দ্রুত শাস্তি হিসাবে নেমে আসে। যেমনটি নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ যখন তাঁর কোন বান্দার কল্যাণ চান, তখন দুনিয়াতেই তার (গুনাহের) শাস্তি দিয়ে দেন। আর যখন তিনি তাঁর কোন বান্দার অকল্যাণ চান, তখন তার গুনাহের শাস্তি থেকে তাকে বিরত রাখেন, যাতে ক্বিয়ামতের দিন তাকে পূর্ণ শাস্তি প্রদান করতে পারেন’ (তিরমিযী হা/২৩৯৬; ছহীহুল জামে‘ হা/৩০৮)

প্রশ্ন (৪০/৩২০) : কুরআন মাজীদ মুখস্থ পড়ায় এক হাযার এবং দেখে পড়ায় দুই হাযার নেকী হয়। এর সত্যতা আছে কি?

প্রশ্নকারী : মামূন, নলতা, সাতক্ষীরা।

উত্তর : এ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (বায়হাক্বী, মিশকাত হা/২১৬৭; যঈফুল জামে‘ হা/৪০৮১)। এছাড়া কুরআন দেখে পড়া বা মুখস্থ পড়ার মধ্যে ছওয়াবের পার্থক্যের বিষয়ে কোন ছহীহ দলীল পাওয়া যায় না। এবিষয়ে যত হাদীছ আছে সবগুলিই যঈফ ও জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/৩৫৬, ৪০১১)। মূলতঃ কুরআন অনুধাবন সহকারে পাঠ করতে হবে (ছোয়াদ ৩৮/২৯; মুহাম্মাদ ৪৭/২৪)। যিনি যতবেশী অনুধাবন করবেন এবং তা বাস্তবে আমল করবেন, তিনি ততবেশী নেকীর অধিকারী হবেন ইনশাআল্লাহ।






প্রশ্ন (২৯/২৬৯) : একটি দুঃখজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আর কখনো বিবাহ করব না। এরূপ সিদ্ধান্ত শরী‘আতসম্মত হয়েছে কি? - -নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, রাজশাহী।
প্রশ্ন (৩২/৩৯২) : জনৈকা পাত্রী সব দিক দিয়ে ভালো। কিন্তু সে মূলত জারজ সন্তান। এরূপ নারীকে বিবাহ করা যাবে কি?
প্রশ্ন (৩১/১১১) : আমি ক্রোধবশতঃ স্ত্রীকে বলেছি যে, আগামীতে তুমি নেকাব ছাড়া বাসার বাইরে বের হ’লে আমাদের মধ্যে তালাক হয়ে যাবে। এক্ষণে একথা ফিরিয়ে নেয়ার কোন উপায় আছে কি? সে নেকাব ছাড়া বের হ’লে ১ তালাক হয়ে যাবে কি?
প্রশ্ন (৩১/৪৭১) : তাবলীগ জামাতের লোকেরা বলে, জীবনে অন্তত তিন চিল্লা দিতে হবে। এ সময় আহল-পরিবার ছেড়ে যেতে হয়। এভাবে চিল্লা দেয়া কি জায়েয?
প্রশ্ন (৩/১৬৩) : ছালাতের ভিতরে রাক‘আত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হ’লে যেমন একবার মনে হচ্ছে পূর্ণ হয়েছে, আরেকবার মনে হচ্ছে এক রাক‘আত কম হয়েছে। পরক্ষণেই পূর্ণ হয়েছে মনে হ’লে করণীয় কি?
প্রশ্ন (৬/৪৬) : মুক্বীম অবস্থায় কোন কারণ ছাড়াই ছালাত জমা করায় বাধা আছে কি? - -আব্দুল কাদের, মান্দা, নওগাঁ।
প্রশ্ন (২/১৬২) : পানি উঠার ভয়ে ঈদগাহের প্রাচীর উঁচু করায় শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি? - -মাহবূব হাসানআলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা।
প্রশ্ন (১৬/১৬) : সফর অবস্থায় তাহাজ্জুদ ছালাত আদায়ে কোন বাধা আছে কি? - -শামীম ইসলাম, ঢাকা।
প্রশ্ন (৭/২৪৭) : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছর বয়সী খাদীজা (রাঃ)-কে বিবাহ করেছিলেন মর্মে যে বর্ণনা এসেছে সেটা ছহীহ কি?
প্রশ্ন (১৫/৩৩৫) : সাপ বা যে কোন ক্ষতিকর প্রাণী থেকে বাঁচার জন্য কোন দো‘আ আছে কি?
প্রশ্ন (১০/২৫০) : রাজমিস্ত্রি হিসাবে হিন্দুদের মন্দির তৈরী করা যাবে কি? - আউয়াল আলম মুর্শিদাবাদ, ভারত।
প্রশ্ন (৪০/২৪০) : ‘সত্য কথাই তিতা’। হাদীছটি কি ছহীহ?
আরও
আরও
.