উত্তর : যদি মিউচুয়াল ফান্ডটি সম্পূর্ণ শরী‘আত সম্মত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়, হারাম সেক্টরে বিনিয়োগ না করে, সূদের লেনদেন বর্জন করে এবং বিনিয়োগকারী প্রকৃত সম্পদের মালিকানা পায়, তবে এতে বিনিয়োগ জায়েয। মূলত যে কোন কোম্পানীতে বিনিয়োগ করা বৈধ যদি সে কোম্পানী সূদসহ কোন হারাম কাজে লিপ্ত না হয়। কিন্তু যদি কোন কোম্পানী সূদ বা অন্যান্য হারাম লেনদেন করে, তবে সেই কোম্পানীতে বিনিয়োগ করা জায়েয নয়। অতএব উল্লিখিত বিনিয়োগগুলোর মধ্যে যদি কোন বিনিয়োগ এমন কোম্পানীতে থাকে যা সূদ বা অন্য কোন হারাম কাজে জড়িত, তবে সেখান থেকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়া যরূরী এবং যে মুনাফা অর্জিত হয়েছে তা দরিদ্র ও অভাবীদের মধ্যে বিতরণ করে দিতে হবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৪/২৯৯)। এতদ্ব্যতীত ‘যে কোম্পানী সূদ ভিত্তিক লেনদেন করে, তাতে বিনিয়োগ করা হারাম। কারণ এতে পাপ ও অন্যায় কাজে সহযোগিতা করা হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘সৎকর্ম ও তাক্বওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা’ (মায়েদাহ ৫/২)। দ্বিতীয়ত যে ব্যক্তি আগে থেকেই এমন কোন কোম্পানীতে বিনিয়োগ করে থাকে যা সূদ ভিত্তিক লেনদেনে জড়িত, তার করণীয় হ’ল সে কোম্পানীর শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া; আর সূদের মাধ্যমে যা লাভ হয়েছে তা নিজের জন্য রাখা যাবে না; বরং ছাদাকবার কাজে ও কল্যাণমূলক প্রকল্পে ব্যয় করতে হবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৪/৩০০)।
AAOIFI হচ্ছে বাহরায়েন ভিত্তিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার মানদন্ড নির্ধারণকারী একটি স্বীকৃত সংস্থা। এটি মূলত বিশ্বজুড়ে ইসলামী ব্যাংকিং এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিপূর্ণ শরী‘আত অনুসরণের জন্য আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড বা নীতিমালা তৈরি করে থাকে। তবে উক্ত সংস্থা কার্যক্রম কতটুকু স্বচ্ছ এবং শরী‘আতসম্মত তা আমাদের জানা নেই।
প্রশ্নকারী : ছিয়াম, ঢাকা।