সরকারী সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে মহাজনদের উচ্চ সূদের দাদনের ফাঁদে পড়ে আজ প্রায় নিঃস্ব দেশের প্রান্তিক পোলট্রি খামারীরা। প্রতিটি ডিম উৎপাদনে সাড়ে ৯ টাকা খরচ হ’লেও দাদনের কঠিন শর্তে তা মাত্র ৬ টাকায় সেই মহাজনদের কাছেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এই অব্যাহত লোকসান ও ঋণের চাপে পুঁজি হারিয়ে গত পাঁচ বছরে গাযীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের মতো প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ খামারী ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। অনেকেই দিশেহারা হয়ে ফেরারী জীবন কাটাচ্ছেন। এমনকি কেউ কেউ আত্মহত্যার পথও বেছে নিচ্ছেন। এদিকে ডিমের উৎপাদনকারী না হয়েও দাদন ব্যবসায়ীরা মহাজন, দাদনের ফড়িয়া ও পাইকারী বিক্রেতা-এই তিন স্তরের শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। দাদনের শর্তের বেড়াজালে আটকে খামারীরা সরাসরি ঢাকার বড় আড়তে ডিম বিক্রি করতে পারছেন না। খামারী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ও বাজার তদারকির অভাবে প্রান্তিক খামারীরা আজ ধ্বংসের মুখে এবং পুরো পোলট্রি খাতটি ধীরে ধীরে করপোরেট কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া দখলে চলে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সাধারণ ভোক্তাদের জন্যও ডিমের দামে চরম সংকট ডেকে আনবে।
[মাছ-মাংসের এই দুর্মূল্যের গরীবের প্রোটিনের একমাত্র উৎস ডিমকে সূদী কারবারিদের বাঁচানো সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কঠোর ভূমিকা আশা করছি (স.স.)]